যে সকল পদার্থ জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H') উৎপন্ন করে তাদেরকে বলা হয় এসিড। এসিড সাধারণত টক স্বাদের হয় এবং নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে। এসিড বিভিন্ন ধরনের হয়, যেমন হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI), সালফিউরিক এসিড , নাইট্রিক এসিড ইত্যাদি।
যে সকল এসিড জলীয় দ্রবণে আংশিকভাবে আয়নিত হয় তাদের মৃদু এসিড বলা হয়। অর্থাৎ, এটি পানিতে দ্রবীভূত হলে এর সব অণু হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে না। ফলে এদের জলীয় দ্রবণের অম্লতা তীব্র এসিডের তুলনায় কম হয়। উদাহরণস্বরূপ অ্যাসিটিক এসিড (সিরকা), কার্বনিক এসিড (কোমল পানীয়তে থাকে), সাইট্রিক এসিড (লেবুতে থাকে) ইত্যাদি মৃদু এসিড।
যে সকল এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাদেরকে বলা হয় তীব্র এসিড। অর্থাৎ, এটি পানিতে দ্রবীভূত হলে এর সকল অণুই হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে। ফলে এদের জলীয় দ্রবণের অম্লতা মৃদু এসিডের তুলনায় অনেক বেশি হয়। উদাহরণস্বরূপ হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI), সালফিউরিক এসিড নাইট্রিক এসিড () ইত্যাদি তীব্র এসিড।
এসিডের জলীয় দ্রবণে পানির পরিমাণ যদি এসিডের তুলনায় অনেক বেশি হয়, তবে তাকে লঘু এসিড বলে। উদাহরণস্বরূপ, 1 লিটার পানিতে 3.65 গ্রায় HCI দেওয়া হলে 0.1 M এসিড দ্রবণ তৈরি হয়, যা একটি লঘু এসিড।
জানা আছে, এসিডের স্বাদ টক হয়। তেঁতুলের মধ্যে টারটারিক এসিড নামক দুর্বল জৈব এসিড থাকে। এজন্য তেতুঁল টক হয়
যে এসিড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণ (100%) রূপে বিয়োজিত হয়, তাকে তীব্র এসিড বলে। যেমন HCI পানিতে নিম্নরূপে সম্পূর্ণভাবে বিয়োজিত হয়। তাই এটি তীব্র এসিড।
এ তীব্র এসিডের দ্রবণে H' আয়নের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। সুতরাং বলা যায়, যে এসিড যত বেশি জলীয় দ্রবণে দ্রবণীয়, সে এসিড তত বেশি তীব্র হবে।
একটি সবল এসিড। কারণ আমরা জানি, যে সকল এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ বিয়োজিত হতে পারে তাদেরকে সবল এসিড বলে। জলীয় দ্রবণে 100% বিয়োজিত হয়ে ' আয়ন প্রদান করে বলে একটি সবল এসিড।
জানা আছে, অক্সোএসিডসমূহের অর্থাৎ অক্সিজেন পরমাণুযুক্ত এসিডসমূহের কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা যত বেশি ঐ এসিডের তীব্রতা তত বেশি হয়। এখানে এসিডের কেন্দ্রীয় পরমাণু সালফার (S) এর জারণ সংখ্যা হলো+ 6। কিন্তু এসিডের কেন্দ্রীয় পরমাণু ক্লোরিন (CI)এর জারণ সংখ্যা হলো: +7। .. এসিডের তীব্রতার ক্রম: তাই বলা যায়, অপেক্ষায় অধিক তীব্রতর।
একটি দুর্বল অম্ল। কারণ এটি জলীয় দ্রবণে খুবই কম মাত্রায় বা আংশিক বিয়োজিত হয়ে H' আয়ন প্রদান করে। পরীক্ষায় দেখা যায়, 25 °C তাপমাত্রায় 1000 টি অণুর মধ্যে মাত্র 4টি অণু বিয়োজিত হয়। বাকি 996 টি অণু অবিয়োজিত অবস্থায় দ্রবণে থেকে যায়। এজন্য একটি দুর্বল অম্ল।
যে সকল এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ বিয়োজিত না হয়ে আংশিক বিয়োজিত হয় তাদেরকে মৃদু এসিড বলা হয়। কার্বনিক এসিডএকটি মৃদু এসিড, কারণ এটি জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়। এ এসিডের প্রোটন ত্যাগের ক্ষমতা খুবই কম
যেসব পদার্থ জলীয় দ্রবণে গলিত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে তাদেরকে বলা হয় 'তড়িৎবিশ্লেষ্য পরিবাহী। লঘু এসিডসমূহ জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ আয়নিত হয়। ফলে দ্রবণে বিদ্যুৎ চালনা করলে আয়নসমূহের স্থানান্তর ঘটে এবং সাথে সাথে বিদ্যুৎ পরিবহন করে lতাই সকল লঘু এসিড বিদ্যুৎ পরিবাহী।
এসিডের সাথে ধাতব কার্বনেটের বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
সোডিয়াম কার্বনেট () লঘু নাইট্রিক এসিড () এর সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম নাইট্রেট () লবণ, পানি () ও কার্বন ডাইঅক্সাইড () গ্যাস উৎপন্ন করে।
এসিড এবং ধাতুর মধ্যে বিক্রিয়া ঘটলে সাধারণত লবণ এবং হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, যখন জিংক ধাতুকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সাথে মিশ্রিত করা হয়, তখন জিংক ক্লোরাইড নামক লবণ এবং হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াটি
নিম্নরূপ :
ধাতু এসিড এসিড হাইড্রোজেন গ্যাস
লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও লঘু নাইট্রিক এসিড চুনাপাথর বা ক্যালসিয়াম কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম লবণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। কিন্তু লঘু এর সাথে এর বিক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম কার্বনেটের উপরিতলে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম সালফেটের আস্তরণ সৃষ্টি হয় বলে এদের বিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত অগ্রসর হয় না।
চুনের পানিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড চালনা করলে চুনের পানি ঘোলা হয়ে যায়। কারণ চুনের পানি কার্বন ডাই-অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে একটি অদ্রবণীয় সাদা পদার্থ, ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি করে। এই ক্যালসিয়াম কার্বনেটই চুনের পানিকে ঘোলাটে করে তোলে। এই বিক্রিয়াটি নিম্নরূপে সংঘটিত হয়।
চুনের পানিতে প্রথমে কার্বন ডাই অক্সাইড চালনা করলে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি হয়, যা পানিকে ঘোলাটে করে। কিন্তু অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড চালনা করলে এই ক্যালসিয়াম কার্বনেট আবার দ্রবণীয় ক্যালসিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেটে পরিণত হয়। ফলে পানি আবার পরিষ্কার হয়ে যায়।
দ্রবণীয়
জানা আছে, এসিডের জলীয় দ্রবণ নীল লিটমাস পেপারকে লাল করে। কোনো অনার্দ্র এসিডের ক্রিস্টালের উপর শুষ্ক নীল লিটমাস পেপার স্পর্শ করালে কোনো পরিবর্তন ঘটে না। কারণ কোনো অনার্দ্র এসিডের ক্রিস্টাল জলীয় দ্রবণে আয়নিকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে। এ অবস্থায় নীল লিটমাস পেপার এসিডের সংস্পর্শে আনলে তা লাল বর্ণ ধারণ করবে। কাজেই এসিডের লিটমাস পরীক্ষায় পানির উপস্থিতি আবশ্যক।
গলিত NaCl এর তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় অ্যানোডে উৎপন্ন গ্যাস একটি টেস্টটিউবে সংগ্রহ করে তার মুখে ভিজা নীল লিটমাস পেপার ধরলে লিটমাস পেপারের বর্ণ লাল বর্ণে পরিণত হবে এবং ক্লোরিন গ্যাসের উপস্থিতি প্রমাণ করবে।
এসিডের চারটি বৈশিষ্ট্য হল:
(i) এসিড যখন নীল লিটমাস পেপারের মধ্যে যোগ করা হয়, তখন এটি লাল রঙে পরিবর্তিত হয়।
(ii) এসিড অনেক ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে।
(iii) এসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন করে।
(iv) এসিডের স্বাদ টক হয়।
এসিডের বৈশিষ্ট্যসূচক ধর্ম প্রদর্শনের জন্য এসিডে এর H পরমাণুকে -এ রূপান্তরিত হওয়া প্রয়োজন, যা জলীয় দ্রবণে সম্ভব। কিন্তু বিশুদ্ধ এসিড আণবিক অবস্থায় থাকে। এতে হাইড্রোজেন পরমাণু আয়নে (')-এ রূপান্তরিত হয় না। অর্থাৎ বিশুদ্ধ' অনুপস্থিত থাকায় অম্লধর্ম প্রদর্শন করে না।
বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিড বর্ণহীন তরল। বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিড আণবিক অবস্থায় থাকে। এটি আয়নিত নয় অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়ন উপস্থিত নেই। তাই বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিড নীল লিটমাসের বর্ণ পরিবর্তন করে না।
তীব্র এসিড অত্যন্ত ক্ষয়কারক এবং বিপজ্জনক। তীব্র এসিড ত্বক, চোখ এবং শ্বাসনালীতে গুরুতর জ্বালা ও ক্ষতি করতে পারে। এছাড়াও, তীব্র এসিড ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে বিস্ফোরক হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করতে পারে। তীব্র এসিড নিয়ে কাজ করার সময় সর্বদা সুরক্ষা সরঞ্জাম যেমন, হ্যান্ডগ্লাভস, সেফটি গগলস, অ্যাপ্রোন ব্যবহার করতে হবে।
হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড বলে। তুলনামূলক কম পরিমাণ পানিতে অধিক পরিমাণে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস দ্রবীভূত করে গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) তৈরি করা হয়। গাঢ় HCI দ্রবণ যে বোতলে রাখা হয় সেই বোতলের মুখ খুললেই হালকা কুয়াশার মতো সৃষ্টি হয় এবং তীব্র ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়া যায়।
নাইট্রিক এসিড যে কাচের বোতলে রাখা হয় সেই কাচের বোতলের মধ্যে যদি আলো প্রবেশ করে তবে বোতলের মধ্যের আলোর উপস্থিতিতে ভেঙে যায়। যাতে আলোর উপস্থিতিতে বোতলের মধ্যে ভেঙে না যায় সেজন্য কে বাদামি বোতলের মধ্যে রাখা হয়। কারণ বাদামি বোতলের মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে না।
সালফার ট্রাই-অক্সাইড গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে। যদি কম পরিমাণ পানিতে অধিক পরিমাণ গ্যাস দ্রবীভূত করা হয় তবে গাঢ় সালফিউরিক এসিড তৈরি হয়।
উত্তর: ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারক বলে। এরা বাধ্যতামূলকভাবে পানিতে দ্রবণীয় নয়। ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO), - অ্যামোনিয়া ইত্যাদি ক্ষারকের উদাহরণ।
ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সাইড যৌগ, যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। এরা নীল লিটমাসকে লাল করে। ক্ষার সাধারণত স্বাদে তিক্ত এবং স্পর্শে সাবানের মতো পিচ্ছিল মনে হয়। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ইত্যাদি ক্ষারের উদাহরণ।
অ্যামোনিয়া ক্ষারধর্মী। কারণ-
১. এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
২. এটি হাইড্রোক্লোরিক এসিডের (HCI) সাথে বিক্রিয়া করে প্রোটন গ্রহণ করতে পারে।
৩. এর জলীয় দ্রবণ হাইড্রক্সিল আয়ন ( দান করতে পারে।
ফসফিন ক্ষারধর্মী। কারণ-
১. এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাস পেপারকে, নীল করে-
২. এটি ' আয়ন গ্রহণ করতে পারে।.
৩. , জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন দান করতে পারে।
৪. এর জলীয় দ্রবণ এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে।
ক্ষার এসিড লবণ পানি
ক্ষার ও ক্ষারকের মধ্যে ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ:
ক্ষারক | ক্ষার |
১. ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের অম্লত্ব বিনষ্ট করে। | ১. পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকই হচ্ছে ক্ষার। |
২. যৌগে OH মূলক আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয় তাই এটি ক্ষার নয় শুধু ক্ষারক। | ২. NaOH যৌগে OH মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। তাই এটি ক্ষার আবার, এটি ক্ষারকও। |
ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
বিক্রিয়া: এসিড + ক্ষারক লবণ + পানি
অন্যদিকে, পানিতে দ্রবীভূত ক্ষারকই হচ্ছে ক্ষার। অর্থাৎ পানিতে অদ্রবণীয় ক্ষারকগুলো ক্ষার নয়। তাই বলা যায়, সকল ক্ষারই ক্ষারক, কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়। যেমন- উভয়েই ক্ষারক, কিন্তু ক্ষার নয়।
সাধারণত ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারক বলে। MgO একটি ক্ষারক। কারণ এটি এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করেl
ক্ষারক এসিড লবণ পানি
আবার MgO যৌগে মূলক নেই বলে এটি ক্ষার নয়, বরং ক্ষারক।
এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। কারণ জলীয় দ্রবণে বিযোজিত হয়ে NaOH নামক তীব্র ক্ষার এবং নামক দুর্বল এসিড উৎপন্ন করে।
বিক্রিয়া :
তীব্র ক্ষার দুর্বল এসিড
জলীয় দ্রবণে NaOH সম্পূর্ণরূপে আয়ন ও আয়নে বিয়োজিত থাকে, কিন্তু মৃদু বলে খুব অল্প পরিমাণে বিয়োজিত হয়। তাই এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির।
এসিড ও ক্ষারের মধ্যকার দুটি পার্থক্য :
| এসিড | ক্ষার |
| ১. দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন দেয়। | ১. দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন দেয়। |
| ২. নীল লিটমাসকে লাল করে। | ২. লাল লিটমাসকে নীল করে। |
একটি টেস্টটিউবে ; এর দ্রবণ নিয়ে এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা লঘু NaOH দ্রবণ যোগ করলে এর লালচে বাদামি বর্ণের অধঃক্ষেপ উৎপন্ন হয় এবং সোডিয়াম নাইট্রেট , পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
সংশ্লিষ্ট বিক্রিয়া:
অধঃক্ষেপ
একটি টেস্টটিউবে এর দ্রবণ নিয়ে এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা লঘু NaOH দ্রবণ যোগ করলে কপার হাইড্রোক্সাইড এর হালকা নীল বর্ণের অধঃক্ষেপ উৎপন্ন হয় এবং সোডিয়াম নাইট্রেট , পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
সংশ্লিষ্ট বিক্রিয়া:
অধঃক্ষেপ
লঘু ক্ষারের বৈশিষ্ট্য হলো:
এরা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে OH উৎপন্ন করে।
লঘু ক্ষার নীল লিটমাসকে গাঢ় নীল করে।
স্পর্শে সাবানের মতো সামান্য পিচ্ছিল মনে হয়।
এরা তীব্র ক্ষারের মতো ত্বকে জ্বালা করে না।
ধাতুর সাথে ধীরগতিতে বিক্রিয়া করে।
লঘু ক্ষার যেমন KOH, NaOH ইত্যাদি কোনো দ্রবণে উপস্থিত ধাতব আয়নকে অধঃক্ষেপ হিসেবে পৃথক করতে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ধাতুর হাইড্রোক্সাইডের রং ও গঠন ভিন্ন হওয়ায়, অধঃক্ষেপের রং ও গঠন পর্যবেক্ষণ করে ধাতব আয়নকে সনাক্ত করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, লঘু NaOH দ্রবণে যোগ করলে নীল রঙের কপার হাইড্রোক্সাইডের অধঃক্ষেপ পাওয়া যায়, যা কপার আয়নের উপস্থিতিকে নির্দেশ করে।
নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড জলীয় দ্রবণে নিম্নরূপে আয়নিত হয়-
জলীয় দ্রবণে বিদ্যমান ' ও আয়নদ্বয় পরস্পর যুক্ত হয়ে দুর্বল ক্ষার এবং আয়নদ্বয় পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে শক্তিশালী HCI উৎপন্ন করে। এ কারণে এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় না হয়ে অম্লীয় হয়।
ক্ষারের রাসায়নিক ধর্ম প্রদর্শনে পানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি ক্ষারকে দ্রবীভূত করে হাইড্রোক্সাইড আয়ন উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। এই হাইড্রোক্সাইড আয়নই ক্ষারের ক্ষারীয় ধর্মের জন্য দায়ী। বিশুদ্ধ অবস্থায় ক্ষার হাইড্রোক্সিল আয়ন সৃষ্টি করতে পারে না বিধায় এর রাসায়নিক ধর্ম কেবল পানির উপস্থিতিতেই প্রদর্শন সম্ভব।
জানা আছে, সাধারণত এসিডে প্রতিস্থাপিত হাইড্রোজেন আয়ন এবং ক্ষারকে অক্সাইড ও হাইড্রোক্সাইড আয়ন থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন ভ্রাম্যমাণ থাকে। অপরদিকে ক্ষারে ভ্রাম্যমাণ হাইড্রোক্সাইড আয়ন উপস্থিত থাকে। ভ্রাম্যমাণ হাইড্রোক্সাইড আয়নের উপস্থিতির জন্য ক্ষার বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
কুইক লাইম বা চুন হলো ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), যা সাদা, ক্ষারীয়, স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ। এটি উচ্চ তাপমাত্রায় চুনাপাথরকে পোড়ানোর মাধ্যমে তৈরি হয়। কুইক লাইম পানির সাথে বিক্রিয়া করে তীব্র তাপ উৎপন্ন করে এবং ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (স্লেকেড লাইম) তৈরি করে। সিমেন্ট, কাগজ, এবং রাসায়নিক পদার্থ তৈরীতে কুইক লাইমের ব্যবহার করা হয়।
লাইম ওয়াটার হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর পানিতে দ্রবণ। এটি একটি ক্ষারীয় দ্রবণ যা সাধারণত সাদা এবং দুধের মতো ঘন দেখতে হয়। লাইম ওয়াটার, কুইক লাইম (ক্যালসিয়াম অক্সাইড) কে পানিতে মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এটি বিভিন্ন শিল্প প্রক্রিয়ায়, যেমন চামড়া শোধন, কাগজ তৈরি এবং পানি শোধনে ব্যবহৃত হয়।
মিল্ক অফ ম্যাগ্নেসিয়াম হলো ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর একটি সাসপেনশন, যা পানিতে অসম্পূর্ণরূপে দ্রবীভূত হয়। এটি একটি এন্টাসিড এবং রেচক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মিল্ক অফ ম্যাগ্নেসিয়াম অতিরিক্ত পাকস্থলীর অ্যাসিড নিরপেক্ষ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এটি সাদা, ঘন তরল যা দুধের মতো দেখতে হয়।
রাজঅম্ল বা অ্যাকোয়া রেজিয়া হল একটি খুব শক্তিশালী এসিড মিশ্রণ। এটি গাঢ় নাইট্রিক এসিড এবং গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের একটি 3 : 1 অনুপাতের মিশ্রণ। রাজঅম্ল সোনা, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামসহ অনেক অত্যন্ত স্থিতিশীল ধাতুকে দ্রবীভূত করতে পারে, যা অন্যান্য এসিড করতে পারে না। এই কারণেই একে রাজ অর্থাৎ এসিডদের রাজা বলা হয়।
রাজঅম্ল হলো HCI এবং , এর একটি মিশ্রণ, যা সোনাকে দ্রবীভূত করতে পারে। এই মিশ্রণে সোনাকে আক্রমণ করে এবং সোনার পৃষ্ঠে একটি সোনার নাইট্রেটের পাতলা আস্তরণ তৈরি করে। এরপর HCI এই আস্তরণকে দ্রবীভূত করে টেট্রাক্লোরো এসিডতৈরি করে। এভাবে রাজঅম্ল সোনাকে বিগলিত করে।
রাসায়নিক সক্রিয়তা সিরিজে Cu ধাতুর অবস্থার H-এর নিচে হওয়ায় তা লঘু হতে H পরমাণুকে প্রতিস্থাপিত করতে পারে না। তবে গাঢ় ব্যবহার করলে তা জারণ ধর্ম প্রদর্শন করে বিক্রিয়ার মাধ্যমে ও পানি উৎপন্ন করে।
বিক্রিয়া:
গাঢ় এসিডে পানি যোগ করলে প্রচণ্ড তাপ নির্গত হয়। যদি গাঢ় এ সরাসরি পানি যোগ করা হয় তাহলে বিস্ফোরণ হতে পারে এবং এসিড ছিটকে মুখে বা চোখে পড়তে পারে। ফলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই কারণেই গাঢ় এ সরাসরি পানি যোগ করা নিরাপদ নয়।
গাঢ় এসিড ক্ষয়কারক পদার্থ। এগুলো ত্বক এবং কাপড়কে ক্ষয় করতে পারে। এসিডের মতো গাঢ় ক্ষারও ক্ষয়কারী ও বিপদজনক। এসিডের তুলনায় ক্ষার ত্বক ও চোখের বেশি ক্ষতি করে। তাই গাঢ় এসিড ও ক্ষার উভয়ই ক্ষতিকর।
কোনো দ্রবণের pH হলো ঐ দ্রবণের উপস্থিত হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। অর্থাৎ, pH হলো কোনো দ্রবণের অম্লতা বা ক্ষারীয়তার পরিমাপ। এটি 0 থেকে 14 পর্যন্ত একটি স্কেলের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। 7 এর চেয়ে কম pH মান অম্লীয়, pH মান 7 নিরপেক্ষ এবং 7 এর চেয়ে বেশি pH মান ক্ষারীয় দ্রবণকে নির্দেশ করে।
দ্রবণের এর pH মান 7 এর কম হলে নীল লিটমাস পেপার লাল বর্ণে পরিবর্তিত হয় এবং দ্রবণের pH এর মান 7 এর বেশি হলে লাল লিটমাস পেপার নীল বর্ণে পরিবর্তিত হয়।
বিভিন্ন এসিড-ক্ষার নির্দেশকের মিশ্রণ হলো ইউনিভার্সাল নির্দেশক (Universal Indicator)। ভিন্ন ভিন্ন pH মানের দ্রবণে ইউনিভার্সাল নির্দেশক ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ প্রদান করে। কোনো দ্রবণে কয়েক ফোঁটা ইউনিভার্সাল নির্দেশক যোগ করলে দ্রবণ যে বর্ণ ধারণ করে এই বর্ণ ইউনিভার্সাল নির্দেশক কালার চার্টের বর্ণের সাথে মিলিয়ে দ্রবণের pH পরিমাপ করা হয়।
pH পেপার হলো একটি বিশেষ ধরনের কাগজ, যা কোনো দ্রবণের অম্লতা বা ক্ষারীয়তা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এই কাগজে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক নির্দেশক থাকে যা দ্রবণের pH এর উপর নির্ভর করে বিভিন্ন রঙ ধারণ করে। এই রঙের পরিবর্তনের সাথে একটি তালিকা মিলিয়ে দ্রবণের pH নির্ধারণ করা হয়।
pH মিটার হলো একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা কোনো দ্রবণের pH মান সরাসরি পরিমাপ করে। এই যন্ত্রের একটি ইলেকট্রোড থাকে, যা দ্রবণের সাথে যোগাযোগ করে এবং একটি ডিজিটাল ডিসপ্লেতে pH মান দেখায়। pH মিটার pH পেপারের তুলনায় আরও সঠিক এবং দ্রুত ফলাফল দেয়। এটি ল্যাবরেটরি এবং শিল্প ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
লিটমাস পেপার হলো একটি বিশেষ ধরনের কাগজ, যা বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো দ্রবণ অম্লীয় না ক্ষারীয় তা নির্ণয় করতে সক্ষম। এই কাগজে লাইকেন থেকে নিষ্কাশিত বিভিন্ন রঞ্জক থাকে, যা দ্রবণের অম্লতা বা ক্ষারীয়তার উপর নির্ভর করে রঙ পরিবর্তন করে। লাল লিটমাস কাগজ ক্ষারীয় দ্রবণে নীল হয়ে যায় এবং নীল লিটমাস কাগজ অম্লীয় দ্রবণে লাল হয়ে যায়।
বিশুদ্ধ পানির pH মান 7 হয়। কারণ এক লিটার বিশুদ্ধ পানিতে ' এর পরিমাণ' মোল।
বিশুদ্ধ পানির
সুতরাং, বিশুদ্ধ পানির pH = 7
, একটি সবল অম্ল।
এখানে,
সুতরাং 2 দ্রবণের pH মান 1.
KOH এর pH এর মান 11 -14 বলতে বুঝায়, KOH যৌগটি তীব্র ক্ষারীয় যৌগ। এটি এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
ক্ষার অম্ল লবণ পানি
তাছাড়া লাল লিটমাস পেপারের বর্ণ পরিবর্তন করে নীল করে।
পানির pH মান কমে গেলে অর্থাৎ পানি এসিডিক হয়ে গেলে মাছের শরীরে ঘা এর সৃষ্টি হয়। তাই এসিডিয় মাটি ও পানির pH-মান বৃদ্ধির জন্য অর্থাৎ ক্ষারীয় করার জন্য চুন ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ পানির pH মান বৃদ্ধির জন্য চিংড়ি ঘেরে মাঝে মাঝে চুন যোগ করা হয়।
প্রোটিনকে হজম করার জন্য পাকস্থলীতে pH মান 2 অর্থাৎ এসিডিক অবস্থা প্রয়োজন। আবার খাদ্যকে অধিকতর হজম করার জন্য ক্ষুদ্রান্ত্রে pH মান ৪ অর্থাৎ ক্ষারকীয় অবস্থা প্রয়োজন। রক্তের pH মান 7.35 থেকে 7.45 এবং প্রস্রাবের pH মান 6 থাকা প্রয়োজন। তাই স্বাস্থ্যরক্ষায় pH স্কেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাটির pH উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান শোষণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। একটি নির্দিষ্ট pH মানে উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোকে সহজে শোষণ করতে পারে। যদি মাটি খুব অম্লীয় বা খুব ক্ষারীয় হয়, তাহলে উদ্ভিদ অনেক পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারে না এবং ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়। এছাড়া, মাটির pH মাটিতে উপস্থিত ক্ষতিকর জীবাণু ও ছত্রাকের বৃদ্ধিকেও প্রভাবিত করে।
মাটির pH এর মান 6.0-8.0 হলে সবচেয়ে ভালো। আবার, মাটির pH এর মান 3.0 এর কম বা 10. এর বেশি হলে মাটির উপকারী অণুজীব মারা যায়। মাটির pH এর মান কমে গেলে পরিমাণমতো চুন (CaO) ব্যবহার করা হয়। আবার মাটির pH এর মান বেড়ে গেলে, ইত্যাদি সার পরিমাণমতো ব্যবহার করলে মাটির pH কমানো হয়।
মানুষ ত্বক, পরিষ্কার করতে, ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায়, চুল পরিষ্কার করতে এবং বিভিন্ন কাজে প্রসাধনী ব্যবহার করে। ত্বকের pH 4.8 থেকে 5.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক অম্লীয় প্রকৃতির যা ত্বকে জীবাণুর আক্রমণ বা বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। তাই প্রসাধনীর pH 4.8 থেকে 5.5 থাকা ভালো। সুতরাং শরীরের সৌন্দর্য্য রক্ষায় pH এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার - বিক্রিয়াকে বলে প্রশমন বিক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ, হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) এবং সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) মিশ্রিত হলে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ এবং পানিউৎপন্ন হয়। যেমন,
বিক্রিয়া
এসিড ক্ষার লবণ
খাদ্য হজম করতে পাকস্থলীতে HCI নিঃসৃত হয়। গ্যাস্ট্রিক বা অম্লরোগের সময় এই HCI এসিডের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যায়। এই এসিডকে প্রশমিত করার জন্য ডাক্তার এন্টাসিড খাওয়ার পরামর্শ দেন। এন্টাসিডে ক্ষার জাতীয় পদার্থ থাকে। এগুলো পেটের অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিডকে প্রশমিত করে। এজন্য গ্যাস্ট্রিক বা অম্লরোগে ডাক্তার এন্টাসিড খাওয়ার পরামর্শ দেন।
মানুষের মুখে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের মুখে লেগে থাকা খাবার খায় এবং এসিড উৎপন্ন করে। এই এসিড দাঁতের এনামেলকে (ক্যালসিয়াম যৌগ) আক্রমণ করে এবং দাঁতের ক্ষয় হয়। কিন্তু ব্রাস করার সময় টুথপেস্টের ক্ষার মুখের এসিডকে প্রশমিত করে। ফলে দাঁতের সুরক্ষা হয়।
মানুষের মুখে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই, ব্যাকটেরিয়া মানুষের মুখের ভেতর লেগে থাকা বিভিন্ন খাদ্য খায় এবং এসিড উৎপন্ন করে। উৎপন্ন এসিড দাঁতের এনামেলকে আক্রমণ করে। ফলে দাঁত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
আমোনিয়াম যৌগ যেমন, NH4Cl এর সাথে ক্ষার যেমন, এর বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হয়।
বিক্রিয়া:
অম্ল ক্ষার লবণ পানি অ্যামোনিয়া
বর্ষাকালে পাকা বাড়ির ছাদ পিচ্ছিল হলে বালু দেওয়ার কারণ, বর্ষাকালে পাকা বাড়ির ছাদে পিচ্ছিলধর্মী পদার্থ জমা হয় যা মূলত ক্ষারধর্মী। এ সমস্যা দূর করতে এতে অম্লধর্মী পদার্থ বালু যোগ করা হয়। ফলে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে পিচ্ছিলতা দূর হয়ে যায়।
বিক্রিয়া: পিচ্ছিল কারক পদার্থ + বালু → লবণ +পানি
(ক্ষারধর্মী) (অম্ল ধর্মী) নিরপেক্ষ পদার্থ
মৌমাছি পোকার কামড়ের ক্ষতস্থানে পোকার শরীর থেকে যে বিষ প্রবেশ করে তাতে অম্লীয় উপাদান থাকে। মানুষ পোকার কামড়ের জ্বালাযন্ত্রণা নিবারণ করার জন্য ক্ষতস্থানে চুন ব্যবহার করে। কারণ, চুন ক্ষারকধর্মী পদার্থ। এটা অম্লীয় উপাদানের সাথে প্রশমন বিক্রিয়া করে। তাই মৌমাছি পোকার কামড়ের ক্ষতস্থানে চুন প্রয়োগ করা হয়।
পরিপাকের প্রয়োজনে পাকস্থলিতে এসিড সৃষ্টি হয়।। প্রয়োজনের অতিরিক্ত এসিড পাকস্থলিতে ক্ষতের সৃষ্টি করে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য এন্টাসিড জাতীয় ঔষধে ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রোক্সাইড, বা অ্যালুমিনিয়াম, হাইড্রোক্সাইড থাকে। এই ক্ষারগুলো পাকস্থলির এসিডকে প্রশমিত করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন করে।
যে সকল পদার্থ ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে বা পানির সাথে বিক্রিয়া করে অম্ল তৈরি করে তাদেরকে অম্লীয় পদার্থ বলে। পানির সাথে বিক্রিয়ায় এসিড এবং ক্ষারের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। সুতরাং অম্লীয়।
যেমন-
একটি উভধর্মী অক্সাইড। কারণ এটি এসিড যেমন HCI এবং ক্ষার NaOH এর সাথে পৃথকভাবে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
ক্ষারকরূপে
এসিডরূপে
সোডিয়াম অ্যালুমিনেট
উদ্ভিদ যখন মাটি থেকে বিভিন্ন ধাতব আয়ন যেমন- ইত্যাদি শোষণ করে তখন মাটি অম্লীয় হয়ে যায়। তাতে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে চুন ব্যবহার করতে হয়। চুন মাটির অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমিত করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। তাই বলা যায়, কৃষিক্ষেত্রে প্রশমন বিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এসিড লবণ বলতে বোঝায়, লবণের জলীয় দ্রবণের প্রকৃতি অম্লীয়। অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন করে। লবণের ধনাত্মক আয়নটি ক্ষার থেকে আসে বলে একে ক্ষারীয় মূলক বলে। আর লবণের ঋণাত্মক আয়নটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে বলে একে অম্লীয় মূলক বলে। যেমন- তীব্র এসিড ও দুর্বল ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণের প্রকৃতি অম্লীয়। কারণ, লবণের ঋণাত্মক আয়ন আসে তীব্র এসিড থেকে।
দুর্বল এসিড এবং শক্তিশালী ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণকে ক্ষারীয় লবণ বলে। একটি ক্ষারীয় লবণ পানিতে দ্রবীভূত হলে ক্ষারীয় দ্রবণ তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, সোডিয়াম অ্যাসিটেট একটি ক্ষারীয় লবণ। এটি অ্যাসিটিক এসিড (একটি দুর্বল, অ্যাসিড) এবং সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (একটি শক্তিশালী ক্ষার) এর বিক্রিয়ায় তৈরি হয়।
শক্তিশালী এসিড এবং শক্তিশালী ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণকে নিরপেক্ষ লবণ বলে। উদাহরণস্বরূপ, সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি নিরপেক্ষ লবণ। এটি হাইড্রোক্লোরিক এসিড (একটি শক্তিশালী অ্যাসিড) এবং সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (একটি শক্তিশালী ক্ষার) এর বিক্রিয়ায় তৈরি হয়।
একটি অম্ল এবং একটি ক্ষারের মধ্যকার বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন আয়নিক যৌগটিকে লবণ বলা হয়। আমরা যে লবণ খাই তা হল সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), যা সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এবং হাইড্রোক্লোরিক এসিডের (HCI) বিক্রিয়ায় উৎপন্ন। এছাড়াও, সোডিয়াম বাইকার্বনেট (খাবার সোডা), পটাশিয়াম নাইট্রেট (পটাসিয়াম সল্টপিটার) ইত্যাদিও লবণের উদাহরণ।
তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষার বা ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির। ক্ষারক এবং HCI এসিডের প্রশমন বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন হয়।
মৃদু ক্ষারক তীব্র এসিড লবণ
, মৃদু ক্ষারক এবং HCI তীব্র এসিড হওয়ায় এর জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির।
প্রায় 3000 °C তাপমাত্রায় বিক্রিয়া করে NO উৎপন্ন করে, যা দ্বারা জারিত হয়ে উৎপন্ন করে। আবার দহনের ফলে উৎপন্ন গ্যাস ইত্যাদি বৃষ্টির পানির সাথে মিশে ইত্যাদি এসিড তৈরি করে। এই এসিড বৃষ্টির পানির সাথে মাটিতে পতিত হলে সেই বৃষ্টিকে বলে এসিড বৃষ্টি। বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 এর নিচে থাকলে তা এসিড বৃষ্টি
তেল শোধনাগার, সালফিউরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিড উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ব্যাপক হারে 'নির্গত হয়ে বায়ুতে মিশছে। সারের ব্যাপক ব্যবহারে তার বেশ কিছু অব্যবহৃত অংশ বিয়োজিত হয়ে নাইট্রোজেন অক্সাইড উৎপন্ন করে, যা বায়ুতে মিশে যাচ্ছে। নাইট্রোজেন এবং সালফার এর এসব অক্সাইড বৃষ্টির পানিতে মিশে তৈরি করছে এসিড। এসিড মিশ্রিত এ বৃষ্টিই এসিড বৃষ্টি।
শিল্প এলাকায় বৃষ্টির শুরুতে বৃষ্টির পানি খুব অম্লীয় হয়। কারণ শিল্প কারখানার জ্বালানি পুড়ে বায়ুমণ্ডলে গ্যাস ইত্যাদি নির্গত হয়। ফলে বৃষ্টির পানির সাথে নির্গত গ্যাসের বিক্রিয়ায় এসিড উৎপন্ন হয়। তাই বৃষ্টির পানি এসিডিক হয়ে যায়।
কার্বনিক এসিড
নাইট্রিক এসিড নাইট্রাস এসিড
এসিড বৃষ্টির ফলে মাটির pH মান কমে যায়। ফলে ফসল এবং গাছপালার বিরাট ক্ষতি হয়। এছাড়া জলাশয়ের পানির pH মান কমে যায়। ফলে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যায় এবং মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। এছাড়াও এসিড বৃষ্টির কারণে দালানকোঠা, ধাতুর তৈরির বিভিন্ন স্থাপনা, মারবেল পাথর দিয়ে তৈরি স্থাপত্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যে পানিতে Ca বা Mg এর ক্লোরাইড, সালফেট, কার্বনেট, বাই-কার্বনেট ইত্যাদি লবণ দ্রবীভূত থাকায় সাবানের সাথে সহজে ফেনা উৎপন্ন করে না, সে পানিকে বলে খর পানি। খর পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের লবণ অধিক পরিমাণে দ্রবীভূত থাকে। এই লবণগুলো সাবানের সাথে বিক্রিয়া করে ফেনা উৎপন্ন করতে বাধা দেয়।
পানির খরতার কারণ পানিতে আয়নের উপস্থিতি। পানিতে এ আয়নসমূহ এদের কার্বনেট ও সালফেট বা ক্লোরাইড লবণ আকারে থাকে। পানিতে ধাতব আয়নসমূহের কার্বনেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে পানির অস্থায়ী খরতা সৃষ্টি হয়। অপরদিকে এদের ক্লোরাইড ও সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে পানির স্থায়ী খরতা সৃষ্টি হয়।
খর পানি | মৃদু পানি |
১. খর পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এর ক্লোরাইড বা সালফেট দ্রবীভূত থাকে। | ১. মৃদু পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এর বাইকার্বানট লবণ দ্রবীভূত থাকে। |
২. খর পানিতে সাবানের ফেনা তৈরি হয় না। | ২. মৃদু পানিতে সাবানের ফেনা তৈরি হয়। |
পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, প্রভৃতি ধাতুর ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে যে খরতার সৃষ্টি, হয় তাকে স্থায়ী খরতা বলে। এই ধরনের খরতা পানি ফুটালে দূর হয় না। স্থায়ী খরতার কারণে পানির ব্যবহার উপযোগিতা কমে যায় এবং বিভিন্ন শিল্প প্রক্রিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়।
পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি ধাতুর বাইকার্বনেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে যে খরতার সৃষ্টি হয় তাকে বলে অস্থায়ী খরতা। এই ধরনের খরতা পানি ফুটালে দূর করা যায়। ফুটানোর সময় এই লবণগুলো বিযোজিত হয়ে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের কার্বনেট তৈরি করে, যা পানির তলদেশে জমে যায়।
পানিতে উপস্থিত বিভিন্ন লবণ যেমন- , বা অনার্দ্র উপস্থিত থাকার কারণে পানি সাধারণত খর হয়। পানি চক্রের মাধ্যমে পানির স্থানান্তরে তথা প্রবাহিত হওয়ার সময় বিভিন্ন খনিজ লবণের সংস্পর্শে এসে খর হয়। আবার বৃষ্টির পানিতে উপস্থিত কার্বনিক এসিড চুনাপাথর, ডলোমাইট সমৃদ্ধ শিলার উপর দিয়ে গড়িয়ে যাওয়ার সময় ধীরে ধীরে বিক্রিয়া করে এবং এদের দ্রবীভূত করে। ফলে পানির খরতার সৃস্টি হয়।
অস্থায়ী খর পানিকে শুধু উত্তপ্ত করলেই অদ্রবণীয় কার্বনেট লবণ উৎপন্ন হয়। এ লবণ পাত্রের নিচে তলানি আকারে জমা হয়। এই তলানি থেকে ছাঁকনির মাধমে পানিকে সহজেই পৃথক করা যায়। ফলে অস্থায়ী খরতা দূর হয় এবং অস্থায়ী খর পানি মৃদু পানিতে পরিণত হয়।
বিক্রিয়া:
স্থায়ী খর পানির মধ্যে সোডিয়াম কার্বনেট যোগ করলে সোডিয়াম কার্বনেট ক্যালসিয়াম আয়ন ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেটের অধঃক্ষেপ উৎপন্ন করে। ফলে পানি থেকে ক্যালসিয়াম আয়ন- এবং ম্যাগনেসিয়াম আয়ন অপসারিত হয় অর্থাৎ স্থায়ী খরতা দূর হয়।
বিক্রিয়া:
খর পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের লবণ দ্রবীভূত থাকে। ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন সাবানের সাথে বিক্রিয়ায় অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সাবান উৎপন্ন করে যা পানির উপর পাতলা সরের মত ভাসতে থাকে। ফলে ময়লা কাপড় পরিষ্কার হয় না। তাই খর পানিতে সাবানের অপচয় হয়।
খর পানিতে সাধারণত আয়ন থাকে। এসব আয়নের হাইড্রোজেন কার্বনেট, ক্লোরাইড ও সালফেট লবণ সাবানের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় গাদ তৈরি করে। এ কারণেই মূলত সাবানের ফেনা হয় না।
সাবান
R-COO
খর পানির উপাদান অদ্রবণীয় গাদ (ম্যাগনেসিয়াম অ্যাসিটেট)
পানির স্থায়ী খরতা ও অস্থায়ী খরতার মধ্যে ২টি পার্থক্য
নিম্নরূপ-
| অস্থায়ী খরতা | স্থায়ী খরতা |
| ১. Ca, Mg, Fe প্রভৃতি - লবণের বাইকার্বনেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে তাকে বলে অস্থায়ী খরতা। | ১. পানিতে Ca, Mg. Fe প্রভৃতি লবণের ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে তাকে বলে স্থায়ী খরতা। |
২. শুধু উত্তপ্ত-করলেই অস্থায়ী খরতা দূর করা যায়। | ২. বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানির স্থায়ী খরতা দূর করা হয়। যেমন: আয়ন-রেজিন পদ্ধতি, পারমুটিট পদ্ধতি ইত্যাদি। |
পানিতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ মিশে যাওয়ায় পানির প্রাকৃতিক অবস্থা হারিয়ে ফেলার প্রক্রিয়াকে পানি দূষণ বলে। এই ক্ষতিকর পদার্থগুলো হতে পারে রাসায়নিক পদার্থ, কঠিন পদার্থ, জৈব পদার্থ, বা ক্ষতিকর জীবাণু। ফলে পানি আর পানীয় বা অন্যান্য ব্যবহারের জন্য উপযোগী থাকে না এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
পানিদূষণের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প কারখানার বর্জ্য, কৃষিক্ষেত্র থেকে আসা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক, ঘরোয়া বর্জ্য, মল-মূত্র, তেল ও তেলজাত পদার্থ এবং প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য। এই সব কিছুই পানিতে মিশে পানিকে দূষিত করে।
পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প কারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে ফেলা, কৃষিতে জৈব সার ব্যবহার করা, ঘরোয়া বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্কাশন করা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, এবং সচেতনতা সৃষ্টি করা। এই সব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পানি দূষণকে অনেকটা কমানো সম্ভব।
পানির ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলো হল:
- এর কোনো বর্ণ নেই।
- এর কোনো স্বাদ ও গন্ধ নেই।
- এর pH মান 7।
কোনো কারণে পানির তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বেশি হলে তাপ দূষণ হয়েছে বলা যায়। সাধারণত শিল্প কারখানা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপন্ন উত্তপ্ত পানি জলাশয়ে নিষ্কাশনের ফলে এই দূষণ ঘটে। উচ্চ তাপমাত্রার পানি জলাশয়ের অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে জলজ প্রাণীদের শ্বাসকষ্ট হয় এবং অনেক সময় মৃত্যু হয়। এছাড়াও, উচ্চ তাপমাত্রা জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে।
BOD এর পূর্ণ রূপ হলো Biological Oxygen Demand অর্থাৎ BOD এর বাংলা অর্থ হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা।। এক লিটার পানিতে উপস্থিত পচনযোগ্য জৈব দূষককে ব্যাকটেরিয়ার মতো অণুজীব দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির BOD বলে। কোনো পানির BOD এর মান যত বেশি হয়, সে পানি তত বেশি দূষিত হয়।
COD এর পূর্ণরূপ হলো Chemical Oxygen Demand i অর্থাৎ COD এর বাংলা অর্থ হলো রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। এক লিটার পানিতে উপস্থিত জৈব ও অজৈব দূষককে রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। কোনো পানির COD এর মান যত বেশি হয়, সে পানি তত বেশি দূষিত হয়।
COD (Chemical Oxygen Demand) মানে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। পানিতে মোট কতটুকু রাসায়নিক দ্রব্য আছে তা বুঝানোর জন্য COD মান ব্যবহার করা হয়। নদী-নালা-খালের পানিতে জৈব দূষক এর মাত্রা মেপে পানির গুণাগুণ বিশ্লেষণ করা হয়। এজন্যে COD মান জানা প্রয়োজন। এর মান বেশি হলে পানি দূষণের মাত্রাও বেশি হয়।
COD (Chemical Oxygen Demand) হলো রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। পানিতে মোট কতটুকু রাসায়নিক দ্রব্য আছে তা বুঝানোর জন্য COD. মান ব্যবহার করা হয়। সাধারণত নদী-নালা-ঝিলের পানিতে উপস্থিত জৈব দূষকের মাত্রা পরিমাপ করে পানির গুণগত বিশ্লেষণ করা হয়। নমুনা পানির COD মান বেশি হলে তাতে দূষণের মাত্রা বেশি পরিলক্ষিত হয়।
BOD ও COD এর মধ্যে ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
BOD COD | |
১. BOD হলো কোনো নমুনা পানিতে উপস্থিত সকল জৈব বস্তুকে বায়ুর উপস্থিতিতে ভাঙতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন। | ১. COD হলো কোনো নমুনা পানিতে মোট কতটুকু রাসায়নিক দ্রব্য আছে তা পরিমাপের মানদণ্ড। |
২. BOD এর মান COD অপেক্ষা কম হয়। | ২. COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হয়। |
পানিতে উপস্থিত শুধু জৈব বস্তুকে ভাঙতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ হলো BOD। অপরদিকে, সকল জৈব ও অজৈব দূষক তা অণুজীব দ্বারা পচনযোগ্য হোক বা না হোক তাদের রাসায়নিকভাবে সম্পূর্ণরূপে জারিত করতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। সুতরাং একই পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হবে।
পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ক্লোরিনেশন। পানিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার যোগ করলে উৎপন্ন জায়মান ক্লোরিন জীবাণুকে জারিত করে মেরে ফেলে।
বিক্রিয়া:
জীবাণু + 2[CI] → জারিত জীবাণু
থিতানো হলো পানি বিশুদ্ধকরণের একটি প্রাচীন পদ্ধতি। - এক বালতি পানিতে ১ চামচ ফিটকিরি গুঁড়া যোগ করে আধা ঘণ্টা রেখে দিলে পানির সব অপদ্রব্য থিতিয়ে বালতির তলায় জমা হয়। তারপর উপর থেকে পানি ঢেলে পৃথক করা - হয়। এভাবে অদ্রবণীয় দূষক দূর হয়।
যেসব যৌগ জলীয় দ্রবণে আয়ন দান করতে পারে তাদেরকে অম্ল বলে।
যেসব এসিড পানিতে সম্পূর্ণরূপে (100%) বিযোজিত হয় তাদেরকে সবল এসিড বলে।
যে সমস্ত এসিড পানিতে সামান্য পরিমাণে তথা আংশিক বিয়োজিত হয় তাদেরকে মৃদু এসিড বলে।
তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে।
এসিডের জলীয় দ্রবণে পানির পরিমাণ যদি এসিডের তুলনায় অনেক বেশি হয় তবে তাকে লঘু এসিড বলে।
নাইট্রাস এসিডের সংকেত হলো
সফট ড্রিংকসে কার্বনিক এসিড থাকে।
যে এসিডে পানির পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে সেই এসিডকে গাঢ় এসিড বলে।
ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সাইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।
ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন। করে তাকে ক্ষারক বলে।
চুনের সংকেত হলো- CaO।
চুনের সংকেত হলো- CaO।
ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড ক্ষারীয় প্রকৃতির।
চুনাপাথর বা মার্বেল পাথরের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম কার্বনেট (
অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড অধঃক্ষেপের বর্ণ সাদা।
অ্যামোনিয়াগ্যাসের জলীয় দ্ররণ ক্ষারীয় প্রকৃতির।
ক্ষারে ভ্রাম্যমাণ হাইড্রোক্সাইড আয়নের (OH) উপস্থিতির জন্য বিদ্যুৎ পরিবহনে অংশ নেয়।
pH এর আভিধানিক অর্থ হলো জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের ক্ষমতা।
ত্বকের pH মানের আদর্শ সীমা হলো 4.8 - 5.5।
কোনো দ্রবণের pH হলো ঐ দ্রবণের উপস্থিত হাইড্রোজেন আয়নের (H') ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম।
বিভিন্ন এসিড-ক্ষার ইন্ডিকেটর বা নির্দেশকের মিশ্রণকে ইউনিভার্সাল ইন্ডিকেটর বা ইউনিভার্সাল নির্দেশক বলে।
যেসব পদার্থ নিজেদের বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে অম্ল-ক্ষার বিক্রিয়ার সমাপ্তি বিন্দু নির্দেশ করে তাদেরকে নির্দেশক বলে।
এন্টাসিড হলো , এর মিশ্রণ।
এসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার বিক্রিয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড এসিডের সাথে প্রশমন বিক্রিয়া দেয়।
পাকস্থলীর দেয়াল থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয়।
বৃষ্টির পানিতে ইত্যাদি অক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে এসিড উৎপন্ন করে এবং এ এসিডযুক্ত বৃষ্টিকে এসিড বৃষ্টি বলে।
যে পানিতে Ca বা Mg এর ক্লোরাইড, সালফেট, কার্বনেট, বাই-কার্বনেট ইত্যাদি লবণ দ্রবীভূত থাকায় সাবানের সাথে সহজে ফেনা উৎপন্ন করে না, সে পানিকে খর পানি বলে।
পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, প্রভৃতি ধাতুর ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে যে খরতার সৃষ্টি হয় তাকে স্থায়ী খর পানি বলে।
পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি ধাতুর বাইকার্বনেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে যে খরতার সৃষ্টি হয় তাকে অস্থায়ী খরতা বলে।
পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, প্রভৃতি ধাতুর ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে যে খরতার সৃষ্টি হয় তাকে স্থায়ী খরতা বলে।
লিটার পানিতে উপস্থিত জৈব ও অজৈব দূষককে রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD (Chemical Oxygen demand) বলে।
COD এর পূর্ণরূপ: Chemical Oxygen Demand.
পানিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার [Ca(OCl)CI] যোগ' করলে উৎপন্ন ক্লোরিন জারিত করার মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে ক্লোরিনেশন বলা হয়।
ফিটকিরির সংকেত: l
লিটার পানিতে উপস্থিত পচনযোগ্য জৈব দূষককে ব্যাকটেরিয়ার মতো অণুজীব দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির BOD (Biological, Oxygen Demand) বলে।
হাইড্রোজেন আয়ন (H+) কে প্রোটন আয়ন আয়ন বলা হয়l
এসিড অণু পানিতে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন /প্রোটন আয়ন প্রদান করে
সবল এসিডের বিয়োজন মাত্রা 100%l
25 °C তাপমাত্রায় 1000 টি অণুর মধ্যে পানিতে 4টি বিয়োজিত হয়l
এসিড ও পানির দ্রবণে এসিডের পরিমাণ বেশি হলে তাকে গাঢ় এসিড বলা হয়l
তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে l
ধাতব অক্সাইড যৌগের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে l
দুধের মধ্যে ল্যাকটিক এসিড থাকে l
কমলালেবুতে সাইট্রিক এসিড থাকেl
চায়ে ট্যানিক এসিড থাকেl
পাকস্থলীতে খাদ্যকণা ভাঙতে সাহায্যে করে হাইড্রোক্লোরিক এসিড l
পাকস্থলীতে নিঃসৃত অতিরিক্ত HCI এর ক্ষতিকর দিক পেপটিক আলসারl
এসিডের স্বাদ টক l
এসিডযুক্ত খাবারের স্বাদ টক l
এসিডের মধ্যে এক খণ্ড লোহার পাত রাখলে পাতটির পৃষ্ঠতল ক্ষয় হবে ঘটবে l
এসিড লিটমাসের বর্ণ কীরূপে পরিবর্তন করে নীল লিটমাসকে লাল করে l
ও HCI এর বিক্রিয়ায় গ্যাস গ্যাসের বুদবুদ উৎপন্ন হয়
চুনের পানিকে ঘোলা করার মূল কারণ অদ্রবণীয়
ঘোলা চুনের পানিতে অতিরিক্ত চালনা করলে উৎপন্ন হবে l
বিক্রিয়ায় A
যৌগটি- l
ধাতুর হাইড্রোক্সাইডের সাথে এসিডের বিক্রিয়া প্রশমন বিক্রিয়া ধরনের বিক্রিয়া l
লঘু এর সাথে CuO বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে
পানিতে এসিড যোগ করে এসিডের দ্রবণ তৈরি করলে সে দ্রবণকে লঘু এসিড দ্রবণ বলে l
অনার্দ্র অক্সালিক এসিড লিটমাস পেপারের বর্ণ পরিবর্তন করে না হাইড্রোজেন আয়ন অনুপস্থিত l
অনার্দ্র অক্সালিক এসিড পানিতে বিয়োজিত হয়ে ' আয়ন আয়ন প্রদান করে l
বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড সাধারণত বর্ণহীন তরল অবস্থায় থাকে l
বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড বিদ্যুৎ পরিবহন আয়নিত নয় বলে করে না
দুর্বল এসিড জলীয় দ্রবণে কীরূপে আয়তিক আংশিক হয়l
অনার্দ্র এসিডসমূহ পানি যৌগের উপস্থিতিতে এসিড ধর্ম প্রদর্শন করে l
এবং HCI এর মধ্যে HCI (সবল এসিড) দ্রবণে H বেশি ঘটে l
এসিডে পানির পরিমাণ কম থাকলে সে এসিড ধরনের গাঢ় হয় l
গাঢ় এসিডে কীসের পরিমাণ পানি থাকে l
গাঢ় HCI দ্রবণের বোতলের মুখ খুললে তীব্র ঝাঁঝালো ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়l
নাইট্রিক এসিড বাদামি বর্ণের কাচের বোতলে রাখা হয় l
আলোর উপস্থিতিতে এ ; ভেঙে যায় ঘটেl
ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড ও হাইড্রোক্সাইড যৌগগুলো মূলত ক্ষারক l
CaO, NaOH এর মধ্যে CaO ক্ষারক l
হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোকে ক্ষার বলে l
টয়লেট ক্লিনারের মূল যৌগ NaOH l
গ্লাস ক্লিনারে ক্ষার ব্যবহার করা হয় l
ক্ষার দ্রবণে লিটমাসের বর্ণের নীল লিটমাস লাল বর্ণের পরিবর্তন হয় l
ধাতব লবণের সাথে লঘু ক্ষার বিক্রিয়া করে সংশ্লিষ্ট ধাতব হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে l
; এর দ্রবণে কয়েক ফোঁটা লঘু NaOH যোগ করলে যৌগ অধঃক্ষিপ্ত হবে l
, পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে l
NaOH এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন অধঃক্ষেপের বর্ণ সবুজ l
এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন যৌগ লালচে বাদামি বর্ণের এবং এর বর্ণ l
এর বর্ণ হালকা নীলl
দ্রবণীয় অবস্থায় অবস্থায় সোডিয়াম ও হাইড্রোক্সাইড আয়ন মুক্ত থাকে l
শুধুমাত্র হাইড্রোক্সাইড (OH-) ঋণাত্মক আয়ন দ্রবণে চার্জ বহন করে l
কপার (II) সালফেট দ্রবণে অ্যামোনিয়া দ্রবণ যোগ করলে গাঢ় নীল বর্ণের বর্ণের উৎপাদ পাওয়া যাবেl
এসিড ও ক্ষারক গাঢ় অবস্থায় অত্যন্ত ক্ষয়কারক l
ইথানয়িক এসিড মৃদু এসিড ধরনের এসিড l
জলীয় দ্রবণে অধিক পরিমাণ বিদ্যুৎপরিবহনের জন্য অধিক পরিমাণে H+ প্রয়োজন l
দ্রবণে কম পরিমাণ OH- প্রদান করার কারণ মৃদু ক্ষার l
, যৌগ দুটির মধ্যে মৃদু ক্ষার
ল্যাবরেটরিতে এসিড ও ক্ষার ব্যবহারে আমাদের অবশ্যই নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে l
তীব্র এসিড এসিড বেশি পরিমাণে H' (প্রোটন) উৎপন্ন করে l
দ্রবণে উপস্থিত হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রায় ঋণাত্মক লগারিদমকে দ্রবণের pHবলে l
H' আয়নের ঘনমাত্রা যত বেশি হবে pH এর মান তত কমবে হবেl
' আয়নের ঘনমাত্রা প্রকাশ করা হয় l
লিটার বিশুদ্ধ পানিতে H' এর পরিমাণ মোল l
বিশুদ্ধ পানির pH 7 l
ক্ষারীয় দ্রবণের pH এর মান l
এসিড দ্রবণের pH এর মান l
ব্যবহারিক ক্ষেত্রে pH এর মান বিবেচনা করা হয় l
সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH মান
সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষারের pH মান l
ইউনিভার্সল নির্দেশক ব্যবহারের উদ্দেশ্য pH পরিমাপন l
কোনো দ্রবণের pH সরাসরি জানা যায় pH মিটার যন্ত্রের মাধ্যমে l
pH অনুমান করার জন্য সহজলভ্য উপকরণ লিটমাস পেপার l
মাটির pH মান 6.0 - 8.0 এর মধ্যে হলে তা উদ্ভিদের জন্য ভালো l
মাটির pH মান 3.0 এর কম বা 10 এর বেশি হলে উপকারী অণুজীব মারা যায় ঘটে l
মাটির pH কমানোর জন্য সার ব্যবহার করা হয় l
মানুষের রক্তের প্রয়োজনীয় pH মান l
মানুষের ত্বকের pH মান l
অগ্ন্যাশয় রসের pH ৪ . 1l
এক মোল সালফিউরিক এসিড দুই মোল সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডকে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করে l
প্রশমন বিক্রিয়ায় মূলত আয়নের বিক্রিয়া ঘটে l
পেটের এসিডিটির জন্য দায়ী HCI যৌগ l
এন্টাসিডে যৌগ বিদ্যমান l
মাটির অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমনে CaO যৌগ ব্যবহার করা হয়?
এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় মূলক প্রকৃতির l
লবণের ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয় বলে l
যে স্থানে বজ্রপাত হয় সেখানে বায়ুর তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়l
অধাতব অক্সাইড পানির সাথে বিক্রিয়ায় এসিড উৎপন্ন করে l
বৃষ্টির পানির pH মান l
সালফার ও নাইট্রোজেন মৌলের উপস্থিতিতে জ্বালানি অবিশুদ্ধ হয় l
এসিড বৃষ্টির পানির pH 4 বা তারও কম l
3000 °C তাপমাত্রায় বায়ুতে NO যৌগটি উৎপন্ন হয় l
Ca, Mg, Fe, Mn ধাতুর লবণের উপস্থিতিতে পানি খর হয় l
পানির খরতা দুই প্রকার l
সাবানের সংকেত l
অস্থায়ী খর পানিতে Ca, Mg, Fe এর লবণ দ্রবীভূত থাকে l
পানির অস্থায়ী খরতা দূর করা যায় পানি ফুটিয়ে l
ভারী ধাতুগুলো মানুষের শরীরে ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি করতে পারে l
অতিরিক্ত খননের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক (As) মৌল পাওয়া যায় l
গ্রীষ্মকালে প্রাকৃতিক পানির তাপমাত্রা হয় l
তাপ দূষণে ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বেশি হয় l
BOD এর পূর্ণরূপ
COD এর পূর্ণরূপ Chemical Oxygen Demand l
ফিটকিরির সংকেত l
পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় ক্লোরিনেশন l
পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে 15-20 মিনিট সময় ফুটাতে হয় l
রসায়ন গবেষণাগারে আমরা নানা ধরনের যৌগ ব্যবহার করে থাকি। তাদের মধ্যে এসিড, ক্ষারক আর লবণ অন্যতম। রসায়নের শিক্ষার্থী হিসেবে তোমাদেরকেও এসিড, ক্ষারক এবং লবণ সম্পর্কে জানতে হবে। ল্যাবরেটরিতে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য গাঢ় এসিদ্ধ বা পাঢ় ক্ষারের পরিবর্তে শহু এসিড বা লঘু ক্ষারই বেশি ব্যবহার করে থাকি। খাদ্যের মাধ্যমে আমরা এসিড, ক্ষারক ও লবণ পেয়ে থাকি, যা আমাদের শরীরের জন্য আবশ্যক। এসিডকে ক্ষারক দ্বারা প্রশমিত করে লবণ তৈরি করা হয় অথবা ক্ষারককে এসিড দ্বারা প্রশমিত করে লবণ তৈরি করা হয়। কোনো প্রবণ এসিডধর্মী না ক্ষারধর্মী তা আমরা ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারি। এদের মধ্যে লিটমাস পরীক্ষা, pH মান পরীক্ষা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। প্রয়োজনীয় এসব এসিড, ক্ষারক এবং লবণ আমাদের পরিবেশকে আবার বিভিন্নভাবে দূষিতত্ত্ব করছে। এসব বিষয়ই এই অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- অম্ল, ক্ষার ও লবণের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিচিত পরিবেশের পদার্থগুলোর মধ্য থেকে অম্ল, ক্ষার ও লবণকে শনাক্ত করতে পারব৷
- ক্ষারক ও ক্ষার জাতীয় পদার্থের পার্থক্য করতে পারব।
- ব্যবহার্য পদার্থের ওপর অম্ল ও ক্ষারের প্রভাব বর্ণনা করতে পারব।
- গৃহস্থালি পদার্থের ওপর অম্ল ও ক্ষার জাতীয় দ্রব্যের প্রভাবের আর্থিক গুরুত্ব মুল্যায়ন করতে পারব।
- pH এর ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- pH পরিমাপের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অম্ল-ক্ষার সমতার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারব।
- এসিড বৃষ্টির কারণ, ক্ষতিকর দিকসমূহ এবং তা থেকে রক্ষার উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানিচক ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানির খরতা ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- এর পানি ব্যবহারের সুবিধাসমূহ উল্লেখ করতে পারব।
- খর পানি ব্যবহারের আর্থিক ক্ষতি ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানি দূষণের কারণ ও পরিশোধনের উপায়সমূহ বর্ণনা করতে পারব।
- আর্সেনিকযুক্ত পানি পানের ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করতে পারব।
- pH পরিমাপের মাধ্যমে গৃহের / ল্যাবের/লবণাক্ত পানির প্রকৃতি নির্ণয় করতে পারব।
- যৌগসমূহের দ্রবণের pH মান নির্ণয় করে বা লিটমাস বা ইউনিভার্সাল ইন্ডিকেটর ব্যবহার করে যৌগের প্রকৃতি তুলনা (এসিড, ক্ষার) করতে পারব।
- দূষণযুক্ত পানি ব্যবহারে আগ্রহ প্রদর্শন করতে পারব।
- এসিড সন্ত্রাসের ভয়াবহ দিক সম্পর্কে সচেতনতার পরিচয় দিতে পারব এবং অন্যদের সচেতন করতে করতে পারব।
- ব্যবহার্য পদার্থের ওপর অম্ল ও ক্ষারের প্রভাব পরীক্ষার মাধ্যমে দেখাতে পারব।
- অম্ল ও ক্ষার জাতীয় পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবহারের পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।
Related Question
View AllpH হলো হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। pH = - log [H+]। কোনো দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে হয়। আমরা জানি, কোনো দ্রবণের pH মান 7 এর কম হলে দ্রবণটি অম্লীয় আবার 7-এর বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয়। কোনো দ্রবণের pH মান 7 হলে দ্রবণটি প্রশম। চুনের পানি যেহেতু ক্ষারীয় সেহেতু চুনের পানির pH এর মান 7 থেকে বেশি হবে।
উপরের চিত্র অনুযায়ী NH4Cl ও CaO কে একসাথে তাপ দিলে NH3 গ্যাস, CaCl2 ও H2O উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ 'X' গ্যাসটি হলো NH3 গ্যাস। এক্ষেত্রে তীব্র এসিড HCI এবং মৃদু ক্ষার NH3 এর বিক্রিয়া অম্লধর্মী লবণ (NH4Cl) উৎপন্ন হয়।
গ্যাসের জলীয় দ্রবণ হলো NH4OH (aq)।
এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারধর্মী। তাই এটি এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
ধাতব লবণ যেমন দ্রবণে দ্রবণ যোগ করলে প্রথমে ক্ষারীয় কপার সালফেটের নীল অধঃক্ষেপ পড়ে। পরে অতিরিক্ত দ্রবণ যোগে দ্রবণীয় টেট্রামিন কপার সালফেটের গাঢ় নীল দ্রবণ সৃষ্টি হয়।
(নীল অধঃক্ষেপ)
(গাঢ় নীল দ্রবণ) ট্রেট্টা অ্যামিন কিউপ্রিক সালফেট
CuSO4 এর জলীয় দ্রবণ অম্লধর্মী হওয়ায় এখানে NH4OH এর ক্ষারধর্ম প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের X গ্যাসটি হলো অ্যামোনিয়া এর সাথে HCI এর বিক্রিয়া করলে এর সাদা ধোঁয়া উৎপন্ন হবে। এক্ষেত্রে তীব্র এসিড HCI এবং মৃদু ক্ষার এর বিক্রিয়া অম্লধর্মী লবণ উৎপন্ন হয়।
অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড এর বাণিজ্যিক নাম নিশাদল।
আভিধানিক অর্থে pH মানে হলো হাইড্রোজেন আয়নের ক্ষমতা। কোনো দ্রবণে pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে হয়। দ্রবণের pH মান 7-এর কম হলে দ্রবণটি অম্লীয় আবার 7-এর বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয়। কোনো দ্রবণের pH মান 7 হলে দ্রবণটি প্রশম হবে।
উদ্দীপকের জলাশয়ের বর্জ্য পদার্থের মধ্যে সালফিউরিক এসিড (H2SO4) মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। তাই জলাশয়ের pH মান 7 এর কম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!