মুহম্মদ বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের সালকে বাংলায় মধ্যযুগের শুরু বলা হয়। ইতিহাসে এক যুগ থেকে অন্য যুগে প্রবেশ করতে হলে বিশেষ কতকগুলো যুগান্তকারী পরিবর্তন দরকার। বাংলায় ১২০৪ থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত সময়কে মধ্যযুগ বলা হয়।
সেন বংশের আমলে বৌদ্ধ সমাজ ও সংস্কৃতিতে দুর্দশা নেমে আসে। ব্রাহ্মণদের প্রভাবে সাধারণ হিন্দু সমাজ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রাচীন বাংলার এ বিশৃঙ্খলার সুযোগে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মুসলমান সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে প্রাচীন যুগের অবসান হয় এবং মধ্যযুগের সূচনা হয়।
বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন বখতিয়ার খলজি। তাঁর বাল্য পরিচয় সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা যায় না। উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দাসত-ই মার্গ) এর বাসিন্দা মুহাম্মদ বখতিয়ার ছিলেন জাতিতে তুর্কি, বংশে খলজি এবং বৃত্তিতে ভাগ্যান্বেষী সৈনিক। তিনি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা বিজয় করে বাংলার শাসক হন।
বখতিয়ার খলজি ছিলেন একজন ভাগ্যান্বেষী সৈনিক। তিনি সব সময় স্বীয় কর্মশক্তিতে বিশ্বাস করতেন। তিনি ছিলেন উচ্চাভিলাষী। ভাগ্যের সন্ধানে তিনি একস্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াতেন। আর এ ভাগ্য অন্বেষণে তিনি নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে ১১৯৫ খ্রিস্টাব্দে গজনিতে চলে আসেন।
বিহার থেকে বাংলায় প্রবেশ করতে হলে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড়- এই দুই গিরিপথ দিয়ে আসতে হতো। এ গিরিপথ দুটো ছিল সুরক্ষিত। বখতিয়ার খলজি প্রচলিত্ব পথে অগ্রসর হলেন না। কিন্তু অরণ্যময় এলাকার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে বখতিয়ারের সৈন্যদল খণ্ড খণ্ডভাবে অগ্রসর হয়।
বখতিয়ার খলজি প্রচলিত পথে অগ্রসর না হয়ে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে বাংলায় আক্রমণ করেন। অকস্মাৎ আক্রমণে চারদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। প্রাসাদ অরক্ষিত রেখে সুকলে প্রাণভয়ে পালিয়ে যায়। যার ফলে লক্ষণ সেন বখতিয়ার খলজির আক্রমণ প্রতিহত করতে পারেননি।
বখতিয়ার খলজি প্রচলিত পথে অগ্রসর না হয়ে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে বাংলায় আক্রমণ করেন। এ অরণ্যময় এলাকার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে বখতিয়ারের সৈন্যদল খন্ড খণ্ডভাবে অগ্রসর হয়। এ কৌশলে বখতিয়ার খলজি নদীয়ার দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হন।
তেরো শতকের প্রথমদিকে বখতিয়ার খলজি নদীয়া আক্রমণ করেন। তিনি প্রচলিত পথ দিয়ে না এসে হঠাৎ করে নদীয়া প্রবেশ করে। অকস্মাৎ আক্রমণে চারদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। ইতোমধ্যে বখতিয়ারের দ্বিতীয় দল নগরের মধ্যে এবং তৃতীয় দল তোরণ-স্বারে এসে উপস্থিত হয়। এ অবস্থায় রাজা লক্ষণ সেন নগরীর পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
মুসলিম আমলে লখনৌতিতে রাজধানী স্থাপিত হয়। বখতিয়ার খলজি নদীয়া ত্যাগ করে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসর হন। তিনি লক্ষণাবতী জয় করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন। লক্ষণাবতীই মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
বুলগাকপুর অর্থ বিদ্রোহের নগরী। বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা থেকে অর্থাৎ ১২০৪-১৩৩৮ সাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল খুবই গোলযোগপূর্ণ। মুসলমান শাসনের এ সময়কাল, ছিল বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ। তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলার নাম দিয়েছিলেন বুলগাকপুর।
বখতিয়ার খলজির সহযোদ্ধা তিনজন খলজি মালিকের নাম জানা যায়। তারা হচ্ছেন- মুহম্মদ শিরান খলজি, আলি মর্দান খলজি এবং হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি। তার মৃত্যুর পর তার সহযোদ্ধাদের মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব।
গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি একজন সুযোগ্য শাসন ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, নদীমাতৃক বাংলায় শক্তিশালী নৌবাহিনী ছাড়া শুধু অশ্বারোহী বাহিনী দিয়ে রাজ্য বিস্তার করা সম্ভব নয়। এ কারণেই গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি বাংলায় নৌবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন।
ইওজ খলজি শিল্প ও সাহিত্যের একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তারই পৃষ্ঠপোষকতায় গৌড়ের জুমা মসজিদ এবং আরও কয়েকটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। তার আমলে পারস্য থেকে বহু সুফি ও সুধীগণ' বঙ্গদেশে ইসলাম প্রচারে যথেষ্ট সহায়তা করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় লখনৌতি অভিজাত মুসলমানদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রে পরিণত হয়।
ইওজ খলজির মৃত্যুর পর থেকে ১২৮৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ষাট বছর বাংলা দিল্লির মুসলমান শাসকদের একটি প্রদেশে পরিগণিত হয়। এ সময় পনেরো জন শাসনকর্তা বাংলা শাসন করেন। তাদের দশজন ছিলেন দাস। দাসদের আরবি ভাষায় 'মামলুক' বলা হয়। এ কারণে ষাট বছরের বাংলার শাসনকে অনেকে দাস শাসন বা মামলুক শাসন বলে অভিহিত করেন।
স্বাধীন সুলতানি শাসন বলতে বাংলায় ১৩৩৮ সালের পর দুইশ বছরব্যাপী চলমান স্বাধীন সুলতানি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। ১৩৩৮ ৭ সালে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ নাম নিয়ে এ স্বাধীন শাসনামলের সূচনা করেছিলেন যা চলমান ছিল পরবর্তী ২০০ বছর পর্যন্ত। ইতিহাসে এটিই স্বাধীন সুলতানি শাসনামল নামে পরিচিত।
১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যুর পর তার বর্মরক্ষক 'ফখরা' স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁওয়ের সিংহাসনে বসেন। আর এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের আলাউদ্দিন আলি শাহকে পরাজিত ও নিহত করে হাজি ইলিয়াস 'শামসুদ্দিন ইলয়াস শাহ' নাম নিয়ে বাংলায় একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। এই রাজবংশের নাম ইলিয়াস শাহি বংশ। এরপর ইলিয়াস শাহের বংশধরগণ অনেক দিন বাংলা শাসন করেন।
ইলিয়াস শাহি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তার প্রকৃত নাম হাজী ইলিয়াস। তিনি লখনৌতির শাসনকর্তা আলাউদ্দিন আলী শাহের দুধভাই ছিলেন। তিনি আলী শাহকে হত্যা বাংলায় এক নতুন রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করলে বাংলায় ইলিয়াস শাহি বংশের সূচনা হয়।
ইলিয়াস শাহের হাতে ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ সোনারগাঁয়ে পরাজিত হলে তিনি সমগ্র বাংলার অধিকার সম্পন্ন করেন। তাই বলা হয়, ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতার সূচনা করলেও ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে প্রকৃত স্বাধীনতা সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন।
ইলিয়াস শাহ বঙ্গ অধিকার করে গোটা ভূখন্ডকে একত্রিত করে আঞ্চলিক বৃহত্তর বাংলা সৃষ্টি করেন। এ সময় থেকেই বাংলার সকল অংশের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়। যার ফলে ইলিয়াস শাহ 'শাহ-ই বাঙ্গালা' ও 'শাহ-ই-বাঙালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করে।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের যথেস্ট সুখ্যাতি ছিল। কবি-সাহিত্যিকগণকে তিনি সমাদর ও 'শ্রদ্ধা করতেন। তিনি কাব্যরসিক ছিলেন এবং বাংলার সুলতান হলেও নিজে ফার্সি ভাষায় কবিতা রচনা করতেন। পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তার পত্রালাপ হতো।
মুসলমান শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ বঙ্গের ইতিহাসে এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছেন। তার রাজত্বকালেই শাহ্ মুহম্মদ সগীর 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্য রচনা করেন।
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের পূর্ব পুরুষরা' যুদ্ধ বিগ্রহ ও স্বাধীনতা রক্ষায় নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু গিয়াসউদ্দিনের কৃতিত্ব ছিল অন্যত্র। তিনি কোনো যুদ্ধে না জড়িয়েও পিতা ও পিতামহের গড়া বিশাল রাজত্ব অটুট রাখতে পেরেছিলেন। তিনি তার প্রজারঞ্জক ব্যক্তিত্বের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন।
গণেশ বাংলার সুলতান আজম শাহের একজন উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী ছিলেন। সুলতানের দরবারে চাকরি নিয়ে গোপনে শক্তি সঞ্চয় করতে থাকেন। শিহাবউদ্দিন বায়েজিদ শাহ ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে নিহত হওয়ার পর সুযোগ বুঝে হিন্দু অভিজাত রাজা গণেশ বাংলার ক্ষমতা দখল করেন।
গণেশ ক্ষমতা নিয়ে মুঘলমানদের অত্যাচার করেন। তার হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষা করার জন্য দরবেশদের নেতা নূর কুতুব-উল-আলম জৌনপুরের সুলতান ইব্রাহিম শর্কির নিকট আবেদন জানান। ইব্রাহিম শর্কি সসৈন্যে বাংলায় উপস্থিত হলে গণেশ ভয় পেয়ে যান। এভাবে ইব্রাহিম শর্কি মুসলমানদের রক্ষা করেন।
গণেশের ক্ষমতা গ্রহণের ফলে ইলিয়াস শাহি বংশের শাসনে ছেদ পড়ে। অতঃপর ১৪৫২ খ্রিস্টাব্দে নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহের বংশধরগণ পুনরায় স্বাধীন রাজত্ব শুরু করেন। তাই এ যুগকে বলা হয় 'পরবর্তী ইলিয়াস শাহি যুগ'।
বরবক শাহই প্রথম অসংখ্য হাবসি ক্রীতদাস সংগ্রহ করে সেনাবাহিনী ও রাজপ্রাসাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন। নিয়োগকৃত এ হাবসি ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল আট হাজার। তিনি সম্ভবত রাজ্যে একটি নিজস্ব দল গঠনের উদ্দেশ্যে এই হাবসিদের নিয়ে বাহিনী গঠন করেছিলেন। ফলে তারা প্রাধান্য বিস্তার করে।
সুলতান রুকনউদ্দিন বরবক শাহ একজন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। বিভিন্ন শিলালিপিতে তার নামের পাশে নিজ নামে এবং বিভিন্ন রাজকীয় 'আল-ফাজিল' ও 'আল-কামিল' এ দুই উপাধির উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, বরবক শাহ শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উপাধি লাভ করেছিলেন।
বরবক শাহের ছোট ভাই জালালউদ্দিন ফতেহ শাহের সময় হাবসি ক্রীতদাসরা অনেক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফতেহ শাহ এদের দমন করার চেষ্টা করায় তারা একজোট হয়ে সুলতানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। হাবসি নেতা সুলতান শাহজাদা রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরে ফতেহ শাহকে হত্যা করে ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে হাবসি রাজত্বের সূচনা করে।
বাংলায় হাবসি শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দ) স্থায়ী ছিল। এ সময় বাংলা অঞ্চলের ইতিহাস ছিল অন্যায়, অবিচার, বিদ্রাহ, ষড়যন্ত্র আর হতাশায় পরিপূর্ণ। এ সময়ে চারজন হাবসি সুলতানের সবাইকে হত্যা করা হয়।
হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন সৈয়দ হুসেন। ১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান হয়ে তিনি 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। এভাবেই বাংলায় নতুন বংশের শাসনপর্ব শুরু হয়।
হাবসি গোষ্ঠীর দুঃশাসনের ফলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিটি সুলতানের হত্যার পেছনে হাবসিদের হাত ছিল। তাই হুসেন শাহ সিংহাসনে বসার পর হাবসিদের এরূপ কার্যকলাপ বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু হাবসিরা তার কথা অমান্য করলে তিনি তাদের হত্যার আদেশ দেন।
শাসনকার্য পরিচালনা ও প্রজাপালনের ক্ষেত্রে হুসেন শাহ জাতি ও ধর্মের কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করেননি। একজন গোঁড়া সুন্নি মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে যোগ্যতা অনুসারে শাসনকার্যে নিয়োগ করেছিলেন। হিন্দুদের উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদের বিভিন্ন উপাধিও প্রদান করতেন।
বাংলা সাহিত্যের উন্নতি ও বিকাশ হ্রসেন শাহের শাসনকালকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। তার উদার পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক কবি কাব্য রচনা করেন এবং অনেকে বিভিন্ন গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন। তিনি আরবি ও ফারসি ভাষারও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
শ্রীচৈতন্য দেব ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক। আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনকালেই আবির্ভাব ঘটে বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক, ভক্তি আন্দোলনের নেতা, মানবতাবাদী শ্রীচৈতন্য দেবের। তিনি ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনকালেই আবির্ভাব ঘটে বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক, ভক্তি আন্দোলনের নেতা, মানবতাবাদী শ্রীচৈতন্য দেবের। হুসেন শাহ তার প্রতি উদার মনোভাব পোষণ করতেন এবং তাকে সবধরনের সহযোগিতা করেন।
আলাউদ্দিন হুসেন শাহের রাজত্বকালে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু মসজিদ নির্মিত হয়। এ সমস্ত মসজিদের মধ্যে গৌড়ের 'ছোট সোনা মসজিদ' সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। তিনি অনেকগুলি খানকাহ্ ও মাদ্রাসাও নির্মাণ করেন। তিনি গৌড়ে একটি দুর্গ ও তোরণ, মালদহে একটি বিদ্যালয় ও একটি সেতু নির্মাণ করেন।
শেরশাহ ১৫৪০ সালে মুঘল শাসনকর্তা আলী কুলিকে পরাজিত করে তিনি বাংলা দখল করেন। তিনি সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করলে বাংলা আবার দিল্লির শাসনে চলে আসে। শেরশাহ আফগান শূর বংশের ছিলেন বলে এ সময়ের বাংলার শাসন ছিল শুর আফগান বংশের শাসন।
সম্রাট আকবরের সময়ে বাংলার কররানি শাসন ছিল। ১৫৭৬ সালে রাজমহলের নিকট মুঘল ও আফগানদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ কররানির চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে। পরে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এভাবে বাংলায় আফগান কররানি শাসনের অবসান ঘটে।
১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর বাংলা বিজয় সম্পন্ন করলেও বাংলার বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি। জমিদারগণ তাদের নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন এবং তারা স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তারা একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। বাংলার ইতিহাসে এ জমিদারগণকে বারো ভূঁইয়া বলা হয়।
বাংলার বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে ঈসা খান ও মুসা খান অন্যতম ছিলেন। তারা ঢাকা জেলার অর্ধাংশ, প্রায় সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা এবং পাবনা, বগুড়া ও রংপুর জেলার কিছু অংশের শাসক ছিলেন। তারা আমৃত্যু স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন।
সম্রাট জাহাঙ্গীর বারো ভূঁইয়াদের দমনের জন্য ইসলাম খানকে বাংলার সুবেদার নিযুক্ত করেন। 'বারো ভূঁইয়ারা মুসা খানের নেতৃত্বে কয়েক বার সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার পর সর্বশেষ ইসলাম খানের নিকট আত্মসমর্পণ করলে বারো ভূঁইয়াদের শাসনের অবসান ঘটে।
সুবাদার ইসলাম খান বারো ভূঁইয়াদের থেকে ১৬০৯ সালে ঢাকা অধিকার করে ১৬১০ সালে ঢাকায় প্রবেশ করেন। এসময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী। তখন দিল্লির সম্রাট ছিলেন জাহাঙ্গীর। সম্রাটের নামানুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীর নগর'।
সুবাদার ইসলাম খান বারো ভূঁইয়াদের থেকে ঢাকা অধিকার করে দিল্লির সম্রাটের নামে নামকরণ করেন 'জাহাঙ্গীর নগর'। ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় প্রবেশ করেন। এসময়' থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী। তখন দিল্লির সম্রাট ছিলেন জাহাঙ্গীর। সম্রাটের নামানুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীর নগর'।
মুঘল সুবাদার ইসলাম খান শাসনভার গ্রহণ করে বুঝতে পারেন যে, বারো ভূঁইয়াদের নেতা মুসা খানকে দমন করতে পারলেই তার পক্ষে অন্যান্য জমিদারকে বশীভূত করা সহজ হবে। সেজন্য তিনি রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানীতে স্থানান্তর করেন।
মুঘল শাসনামলে প্রদেশগুলো 'সুবা' নামে পরিচিত ছিল। বারো | ভূঁইয়াদের পরাজিত করার পর সমগ্র বাংলা অঞ্চলে মুঘল সুবাদারি । প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ছিল মুঘলদের অন্যতম সুবা। সুবার শাসনকর্তাকে - সুবাদার বলা হতো। সুবাদাররা সম্রাট কর্তৃক নিযুক্ত হতেন।
দেশের অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে শেরশাহ অভাবিত সমৃদ্ধি আনয়ন করেছিলেন। জনকল্যাণকর শাসনকার্যের জন্য শুধু বাংলায় নয়, সমগ্র ভারতবর্ষেও তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। কথিত আছে, তার সময়ে দ্রব্যমূল্য এত সস্তা ছিল যে, টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত!
শায়েস্তা খানের শাসনকাল বাংলার স্থাপত্য শিল্পের জন্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য। বিচিত্র সৌধমালা, মনোরম সাজে সজ্জিত তৎকালীন ঢাকা নগরী স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তার গভীর অনুরাগের - সাক্ষ্য বহন করে। স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় । মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা যায়।
বাংলার বিখ্যাত সুবাদার শায়েস্তা খানের আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির মাজার, হোসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ঢাকার প্রায় সকল বিখ্যাত স্থাপত্য তার সময়ে নির্মিত।
মুঘল আমলে সম্রাটের অনুমোদন নিয়ে যারা স্বাধীনভাবে সুবা বাংলা শাসন করতেন তাদেরকে নবাব বলা হতো। নবাব । মুর্শিদকুলি খানের সময় হতেই বাংলা সুবা প্রায় স্বাধীন হয়ে পড়ে। তাই । আঠারো শতকের বাংলায় মুঘল শাসনের ইতিহাস নিজামত বা নবাবি মামলবুপে পরিচিত।
মুর্শিদ কুলি খানের মাধ্যমে বাংলায় নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। মুর্শিদ কুলি খান ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে দেওয়ান হিসেবে বাংলায় আসলেও ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সুবাদার পদ লাভ করে নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং নবাব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
মুর্শিদ কুলি খান ঢাকা থেকে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন, সম্রাটের অনুমোদনক্রমে এর নামকরণ করা হয় 'মুর্শিদাবাদ'। এভাবে মুর্শিদাবাদ বাংলার রাজধানীতে পরিণত হয়।
নবাব মুর্শিদ কুলি খানের সময় থেকেই বাংলা সুবা প্রায় স্বাধীন হয়ে পড়ে। এ সময় সুবাকে বলা হতো 'নিজামত' আর সুবাদারের বদলে পদবি হয় 'নাজিম'। নাজিম পদটি হয়ে পড়ে বংশগত। তাই আঠারো শতকের বাংলায় মুঘল শাসনের ইতিহাস নিজামত বা নবাবি আমলরূপে পরিচিত।
মুর্শিদ কুলি খান রাজস্ব সংস্কারের জন্য বিখ্যাত। তিনি ভূমি জরিপ করে রায়তদের সামর্থ্য অনুযায়ী রাজস্ব নির্ধারণ করেন। রাজস্ব আদায়কে নিশ্চিত ও নিয়মিত করার জন্য তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি কর্মচারীদের সাহায্যে ভূমির প্রকৃত উৎপাদিকা শক্তি ও বাণিজ্য করেন সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতেন।
মুর্শিদ কুলি খান দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়-বাণিজ্যে প্রসারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলায় একটি নতুন ভূমি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। - তার প্রবর্তিত এ ব্যবস্থাটি 'মালজামিনি' ব্যবস্থা
মুর্শিদ কুলি খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না। তাই তার কন্যা জিনাত-উন-নিসার স্বামী সুজাউদ্দিন খানকে ১৭২৭ সালে সম্রাট, ফররুখ শিয়ার বাংলার সুবাদার নিয়োগ করেন। সুজাউদ্দিন একজন স্বাধীন নবাবের মর্যাদা নিয়ে সিংহাসনে বসেন।
নবাব সুজাউদ্দিন বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা-তিন প্রদেশেরই নবাব হয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাসভাজনদের প্রাসাদে নিয়োগ দিলেও প্রাসাদের অনেক কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ফলে সুজাউদ্দিনের শেষ জীবন সুখে কাটেনি।
সরফরাজ খানের অযোগ্যতার কারণে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সুযোগ বিহারের নায়েব-ই-নাজিম আলিবর্দি খান সরফরাজকে আক্রমণ করেন। ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে গিরিয়ারস যুদ্ধে সরফরাজ পরাজিত ও নিহত হন। এরপর আলিবর্দী খান মুর্শিদাবাদের - সিংহাসন দখল করেন।
নবাব আলিবর্দী খানের কোনো উত্তরাধিকারী ছিল না। কেননা আলিবর্দি খান অপুত্রক ছিলেন। তাই তিনি তার কনিষ্ঠ কন্যা আমেনা বেগমের পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে বাংলার পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। সিরাজউদ্দৌলা আলিবর্দি খানের সম্পর্কে দৌহিত্র ছিলেন।
মুসলমান শাসনের সূচনাকালকে বাংলায় মধ্যযুগের শুরু বলা হয়।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের অধিবাসী ছিলেন।
বাংলায় প্রথম মুসলিম শাসনের সূত্রপাত করেন বখতিয়ার খলজি
বাংলায় সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ বখতিয়ার খলজির নদীয়া জয় করেন।
বখতিয়ার খলজি ঝাড়খণ্ডের দুর্ভেদ্য বনের মধ্য দিয়ে বাংলায় প্রবেশ করেন।
লক্ষণাবতী মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
তিব্বত অভিযান ছিল বখতিয়ার খলজির জীবনের শেষ সমর অভিযান।
'বুলগাকপুর' কথাটির অর্থ বিদ্রোহের নগরী।
ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানি বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন 'বুলগাকপুর'।
খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি।
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে ইওজ খলজি নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেছিলেন।
সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি বসনকোট নামক স্থানে দুর্গ নির্মাণ করেন।
ইওজ খলজির পর ১০ জন শাসন কর্তা বাংলা শাসন করেন।
সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি আব্বাসীয় খলিফা আল-নাসিরের নিকট হতে স্বীকৃতিপত্র লাভ করেন।
দাসদের আরবি ভাষায় মামলুক বলা হয়।
দিল্লির সুলতানগণ ২০০ বছর বাংলাকে অধিকারে রাখতে পারেনি
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহারাম খানের মৃত্যু হয়
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের মাধ্যমে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের শুরু হয়।
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের শুরু হয়
মালিক ফিরুজ ইতগিন সুলতান হিসেবে 'সুলতান শামসুদ্দিন ফিরুজ শাহ' নাম ধারণ করেন।
ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন।
ইলিয়াস শাহের একটি উপাধির নাম শাহ-ই বাঙ্গালা।
ইলিয়াস শাহ 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' ও 'শাহ-ই-বাঙ্গালি' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ তার প্রজারঞ্জক ব্যক্তিত্বের জন্য খ্যাতি। অর্জন করেন।
ইউসুফ-জুলেখা' কাব্য কবি শাহ্ মুহম্মদ সগীর রচনা করেন।
নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
সুলতান রুকনউদ্দিন বরবক শাহ একজন মহাপন্ডিত ছিলেন।
বরবক শাহ ১৪৭৪ খ্রিষ্টাব্দে পরলোক গমন করেন।
রাজা গণেশ সুলতান আজম শাহের উচ্চপদস্থ অমাত্য ছিলেন।
ইব্রাহিম শর্কি গণেশকে দমন করেন।
বাংলায় হাবসি শাসন ৬ বছর স্থায়ী ছিল।
হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সৈয়দ হোসেন বাংলার সিংহাসনে বসেন।
হুসেন শাহি বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।
বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সাথে পারস্যের রুবি হাফিজের পত্রালাপ হতো।
হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ।
পুরন্দর খান' হুসেন শাহের মন্ত্রি গোপীনাথ বসুর উপাধি ছিল।
বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক ছিলেন শ্রীচৈতন্য।
ছোট সোনা মসজিদ' হুসেন শাহের আমলে নির্মিত হয়।
হুসেন শাহের শাসনকালকে বঙ্গের মুসলমান শাসনের ইতিহাসের 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।
বাগেরহাটের 'মিঠা পুকুর' সুলতান নুসরত শাহের আমলে খনন করা হয়।
শেরশাহ গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহকে প্ররাজিত করে বাংলা দখল করেন।
বাংলায় শেষ আফগান শাসক ছিলেন দাউদ খান কররানি।
তাজ খান বাংলায় কররানি বংশের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
ষোল শতকের মাঝামাঝি থেকে সতেরো শতকের মধ্যবর্তী সময়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে যে সকল জমিদার স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছেন, ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে তারাই 'বারো ভূঁইয়া'।
প্রথম ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বাংলার রাজধানী হয়।
মুঘল প্রদেশগুলো 'সুবা' নামে পরিচিত ছিল।
মুঘল আমলে প্রদেশগুলো সুবা নামে পরিচিত ছিল।
গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য একে বলা হতো জান্নাতাবাদ।
সুবাদারি ও নবাবি এ দুই পর্বে বাংলায় মুঘল শাসন অতিবাহিত হয়।
হুসেন শাহি যুগ হতে বাংলায় পর্তুগিজরা বাণিজ্য করত।
শায়েস্তা খান মগদের উৎপাত হতে বাংলার জনগণের জানমাল রক্ষা করেন।
শায়েস্তা খানের সময়ে টাকায় আট মণ চাউল পাওয়া যেত।
রাজস্ব সংস্কার মুর্শিদকুলী খানের সর্বাধিক স্মরণীয় কীর্তি।
মাল-জামিনী প্রথা প্রবর্তন করেন মর্শিদকুলি খান।
আলিবর্দি খান বর্গীদের দেশ ছাড়া করতে সক্ষম হন।
নবাব আলিবর্দি খাঁর প্রথম কন্যার নাম ঘসেটি বেগম।
কোনো জাতি বা গোষ্ঠী ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদেরকে ও সমাজের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন মনে করার মানসিকতাই কৌলিন্যবাদ
১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন পলাশি যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
Related Question
View Allরাজা গণেশ দিনাজপুরের ভাতুলিয়া অঞ্চলের রাজা ছিলেন।
ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে এর প্রকৃত স্বাধীনতা সূচনা করেন। তাই তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রবক্তা বলা হয়।
ইলিয়াস শাহ ফিরোজাবাদের সিংহাসনে আরোহণের মাধ্যমে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন। তারপর তিনি সোনারগাঁও, সাতগাঁও, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ইত্যাদি জয় করে বৃহত্তর বাংলার সৃষ্টি করেছিলেন। এ সময় থেকেই বাংলার সকল অঞ্চলের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়। আর এ কারণেই ইলিয়াস শাহকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা বলা হয়।
উদ্দীপকে বিজয়ী সেনাপতির যুদ্ধ কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে।
বখতিয়ার খলজি বিহার বিজয় করার পর নদীয়া আক্রমণ করার মনোস্থির করেন। রাজা লক্ষণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন। বিহার হতে বাংলায় প্রবেশ করতে হলে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে আসতে হতো। কিন্তু এ গিরিপথ দুটি সুরক্ষিত থাকায় বখতিয়ার খলজি এ পথে না এসে ঝাড়খণ্ডের অরণ্যময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে তার সৈন্যদল খণ্ড খণ্ড ভাবে অগ্রসর হয়। মাত্র ১৭/১৮ জন সৈনিক নিয়ে বখতিয়ার খলজি মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া বিজয় করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, রোমান যোদ্ধারা একইভাবে উপদলে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল পথে বিপক্ষদলের প্রাসাদ আক্রমণের পরিকল্পনা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিজয়ী সেনাপতির কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের বখতিয়ার খলজির যুদ্ধকৌশলে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বখতিয়ার খলজির যুদ্ধকৌশল প্রতিফলিত হয়েছে। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি প্রথম জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও ভাগ্য ও কর্মশক্তির সংমিশ্রণ তাকে সফলতা এনে দেয় বলে আমি মনে করি।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশত-ই-মার্গের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। এখানে তিনি শিহাবউদ্দিন ঘোরীর সৈন্য বিভাগে চাকরিপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। গজনিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের দরবারে গিয়েও চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। এরপর বদাউনের শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিন তাকে মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত করেন। কিন্তু উচ্চাভিলাষী বখতিয়ার এ ধরনের সামান্য বেতনে সন্তুষ্ট না হয়ে বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যায় যান। সেখানকার শাসনকর্তা তার সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ভাগবত ও ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গীর দান করেন। বিহার জয় করে বখতিয়ার খলজি অনেক ধনরত্নের মালিক হন। এরপর তিনি রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া দখল করেন। তারপর তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন।
তাই বলা যায়, প্রাথমিক জীবনে ব্যর্থ হলেও বখতিয়ার খলজি ভাগ্য ও কর্মের সমন্বয়ে পরবর্তীতে সফলতা লাভ করেন।
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।
বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হওয়াতে বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বলা হয়েছিল।
বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা থেকে অর্থাৎ ১২০৪ সাল থেকে ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল খুবই গোলযোগপূর্ণ। বাংলার শাসকগণ দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীন হতে চাইলে দিল্লির আক্রমণের মুখে তা ব্যর্থ হয়। ফলে মুসলমান শাসনের এ সময় ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলাময়। তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাকে 'বুলগাকপুর' অর্থাৎ বিদ্রোহের নগরী বলে আখ্যায়িত করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!