ওয়ারলেস ইন্টারনেট সার্ভিস হলো এমন একটি সেবা যার মাধ্যমে কোনো তারের সংযোগ ছাড়াই ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়া যায়। এটি সাধারণত Wi-Fi, 4G, 5G বা অন্যান্য বেতার প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে। এই সেবাটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং অন্যান্য ডিভাইসগুলোকে ইন্টারনেটে সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
ইন্টারনেট বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। খবর পড়া, যোগাযোগ করা, পথনির্দেশনা পাওয়া, অফিসের কাজ করা, অনলাইন ক্লাস করা, বিনোদনসহ প্রায় সব কাজেই ইন্টারনেটের ভূমিকা অপরিসীম। আজকাল অনেকে ইন্টারনেট ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনাও করতে পারে না।
আগে মানুষ খবরের কাগজ পড়ত, কিন্তু এখন প্রায় সব সংবাদপত্র অনলাইনে পাওয়া যায়। ফলে একজন পাঠক চাইলেই একাধিক সংবাদপত্র পড়তে পারে। এমনকি রেডিও ও টেলিভিশনের খবরও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজলভ্য হয়ে গেছে, যা খবরের কাগজের প্রচলিত ধারণাকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
GPS বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম হলো একটি স্যাটেলাইট পথ নির্দেশক ব্যবস্থা যা পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত স্মার্টফোন, গাড়ির ন্যাভিগেশন সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিভাইসগুলোতে ব্যবহৃত হয়। GPS এর সাহায্যে আমরা নিজেদের অবস্থান জানতে পারি, দিক নির্ধারণ করতে পারি এবং একটি স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য পথ নির্ধারণে সহায়তা পেতে পারি।
বর্তমান কালে অফিস বা কর্মক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ভূমিকা অপরিসীম। ইন্টারনেট অফিসে যোগাযোগ, ডকুমেন্ট শেয়ারিং, ইমেইল আদান-প্রদান, ভিডিও কনফারেন্স, অনলাইন রিসার্চ, সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ সহজ করে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা দূরত্বের বাধা দূর করে এবং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
আগে আমরা টেলিফোনে শুধু কথা বলতাম, ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ (bandwidth) বেড়ে যাওয়ায় আজকাল শুধু কথায় আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয় না। আমরা যার সাথে কথা বলছি তাকে দেখতেও পাই ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে। একসময় কেউ যখন বিদেশ যেত, হাতে লেখা চিঠি ছিল যোগাযোগের একমাত্র উপায়। এখন ভিডিয়ো কলে সামনাসামনি দেখে কথা বলা খুব প্রচলিত বিষয় হয়ে গেছে।
আগে যোগাযোগের জন্য চিঠি ব্যবহার করা হতো, যা অনেক্ সময়সাপেক্ষ ছিল। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন মুহূর্তেই ইমেইল পাঠানো, ভিডিয়ো কল করা, মেসেজ পাঠানো সম্ভব। ফলে মানুষ বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে বসেই সহজে পরিবারের সদস্য বা বন্ধুবান্ধরের সাথে কথা বলতে পারে। এভাবেই ইন্টারনেট দূরত্বের বাধা দূর করে মানুষকে আরও কাছে নিয়ে এসেছে।
ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদানের সর্বোচ্চ হার। এটি সাধারণত বিট প্রতি সেকেন্ড (bps) বা মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড (Mbps) এককে পরিমাপ করা হয়। উচ্চ ব্যান্ডউইথ মানে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ যা দিয়ে ভিডিয়ো স্ট্রিমিং, ফাইল ডাউনলোড এবং অনলাইন গেম খেলার মতো কাজগুলো দ্রুত করা যায়।
আগে আমরা শুধু টেলিফোনে কথা বলতাম, ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইডথ বেড়ে যাওয়ায় আজকাল শুধু কথায় আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয় না। যার সাথে কথা বলছি তাকে দেখতেও পাই। একসময় কেউ যখন বিদেশ যেত, হাতে লেখা চিঠি ছিল যোগাযোগের একমাত্র উপায়। এখন ব্যান্ডউইডথ ব্যবহারের ফলে সামনা-সামনি দেখে কথা বলা খুব প্রচলিত বিষয়। এছাড়া ব্যান্ডউইডথ ব্যবহারের ফলে আউটসোর্সিং কাজ করা সম্ভব হয়েছে এবং ওয়েবসাইট ভিজিট করা দ্রুতগতি ও সহজ হয়েছে। এসকল কারণে বর্তমান ডিজিটাল সময়ে ব্যান্ডউইডথ ব্যবহারের গুরুত্ব অনেক বেশি।
একসময় ইন্টারনেটের জন্য বড়ো ডেস্কটপ কম্পিউটারের দরকার হতো, তারপর সেটি একটু ছোটো হয়ে ল্যাপটপ হয়ে গেল। তারপর আরও 'ছোটো হয়ে নেটবুক হলো, আরও ছোটো হয়ে ট্যাব/প্যাড হলো। এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্যে স্মার্টফোন হলেই যথেষ্ট এবং তার দাম এত কমে এসেছে যে অনেকেই এটি কিনতে পারে। এভাবে ইন্টারনেট সবার কাছে সহজলভ্য হয়েছে।
ইন্টারনেট ছাড়া বর্তমানে বিনোদন কল্পনা করা কঠিন হয়ে গেছে। প্রায় সব বই এখন ঘরে বসে ই-বুক হিসেবে পাওয়া সম্ভব। শুধু বই নয়, গান বা চলচ্চিত্রও ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা যায়। ব্যান্ডউইথ যদি বেশি হয়, তখন আর ডাউনলোড করতে হয় না, সরাসরি দেখা বা শোনা সম্ভব। বিনোদনের জন্য অনেকেই কম্পিউটার গেম খেলতে পছন্দ করে। ইন্টারনেট ব্যবহার সেই গেম খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইন্টারনেট আমাদের জীবনের যে সকল স্তরে প্রভাব ফেলছে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. বিনোদনের ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের ব্যবহার আছে। রেডিও, টেলিডিশন এখন ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে গেছে। এখন ইচ্ছে করলে ইন্টারনেটে রেডিও, টেলিভিশন শোনা এবং দেখা যায়।
২.কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো স্থানের অবস্থান জানতে ইন্টারনেটভিত্তিক জিপিএস সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। গাড়িতে লাগানো GPS (Global Positioning System) ব্যবহারে ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে।
৩. দৈনন্দিন যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট ভূমিকা রাখে। যেমন: ই-মেইল, স্কাইপি, ফেইসবুক, টুইটার, চ্যাটিং, ভিডিও কনফারেন্সিং প্রভৃতি মাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেটের প্রতি আসক্ত হয়ে বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা বন্ধু, পরিবার ও প্রকৃতির সাথে সময় কাটানোর পরিবর্তে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় ব্যয় করছে। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখা জরুরি, যাতে তারা বাস্তব জীবনের আনন্দ, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে।
আমাদের জীবনের সবক্ষেত্রেই যেহেতু ইন্টারনেটের প্রভাব রয়েছে তাই শিক্ষাক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের, একটি বড় প্রভাব রয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে সকল পাঠ্যবই এনসিটিবির ওয়েবসাইট থেকে সহজে ডাউনলোড করতে পারে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানা যায় এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে একজন শিক্ষার্থী সহজেই ভর্তির আবেদন করতে পারে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কোনো বিষয়ে বুঝতে না পারলে ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে পারবে। বর্তমানে অনলাইন ক্লাসরুম ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্লাসে পাঠদানের সময় সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে পাঠদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। এসব কিছুই ইন্টারনেট ব্যবহার করে করা সম্ভব। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেটের প্রভাব অনেক বেশি।
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি ইন্টারনেট থেকে বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা পেতে পারি। যেমন-
১. হঠাৎ যদি আমি কোনো টেক্সট বই হারিয়ে ফেলি, তাহলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে এনসিটিবিতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত বইটি ডাউনলোড করে নিতে পারব।
২. পরীক্ষার ফলাফল সরাসরি ইন্টারনেট থেকে জেনে নিতে পারব।
৩. পাঠ্য বিষয়ের কোনো কিছু বুঝতে না পারলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন রেফারেন্স বইয়ের সাহায্য নিয়ে সেটি জানতে পারব।
৪. ইন্টারনেট ব্যবহার করে পৃথিবীর বিভিন্ন লাইব্রেরি থেকে বই পড়তে পারব।
শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে পরীক্ষার ফরম পূরণ থেকে শুরু করে ফলাফল দেখা পর্যন্ত সকল কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্ভব। এছাড়াও ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ের উপর অসংখ্য তথ্য পেতে পারে, অনলাইন কোর্স করতে পারে এবং শিক্ষামূলক সফটওয়্যার ব্যবহার করে নিজেদের শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে
বর্তমানে এনসিটিবির ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাঠ্যবই সংরক্ষিত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় তাদের বই ডাউনলোড করতে পারে। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে গুগল, ইউটিউব বা শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট থেকে সহজেই তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, যা পড়াশোনাকে আরও সহজ করেছে।
বর্তমানে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল সরাসরি ইন্টারনেট থেকে পাওয়া যায়। এছাড়া, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি আবেদন ও ফলাফল প্রকাশও অনলাইনে করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না, তারা ঘরে বসেই সহজে তাদের ফলাফল জানতে পারে।
করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে সংযুক্ত হয়ে ভার্চুয়াল ক্লাস করেছে। এতে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।
ই-বুক প্রচলিত বইয়ের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। ই-বুক সহজে বহনযোগ্য, যে কোনো জায়গায় যে কোনো সময় পড়া যায়। এতে অনুসন্ধানের সুবিধা আছে, বড় বড় লাইব্রেরিতে যেতে হয় না। এছাড়া ই-বুকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মাল্টিমিডিয়া উপাদান যোগ করা যায় যা শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
ইন্টারনেট দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে পারে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন, বাণিজ্যসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই ইন্টারনেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তথ্য অনুসন্ধান, অনলাইন সহায়তা কেন্দ্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মানুষ প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পেতে পারে, যা সমস্যার সমাধানে সহায়ক।
দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধানে ইন্টারনেটের পাঁচটি ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো:
১. পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় ইন্টারনেটে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন যেমন- পিপীলিকা, গুগল ইত্যাদি ব্যবহার করে সহজেই সমাধান করা যায়।
২. তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রশ্নের সমাধান চেয়ে বন্ধুর সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে চ্যাটিং করা যায়।
৩. ফেসবুক ব্যবহার করে সামাজিক, পারিবারিক ও লেখাপড়া সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান ও সমস্যা সমাধান করা যায়।
৪. দৈনন্দিন চলাফেরায় পথ ভুলে গেলে জিপিএস এর মাধ্যমে পথ চেনা যায়।
ইন্টারনেট হলো বিশাল এক তথ্যের ভান্ডার। এখান থেকে তথ্য খুঁজে বের করার জন্য আমরা সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করি। গুগল, বিং, ইয়াহ্ ইত্যাদি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। আমরা যে বিষয়ে তথ্য খুঁজতে চাই, সেটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ বাটনে ক্লিক করলেই ইঞ্জিনটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ব্লগ, নিউজ আর্টিকেল ইত্যাদি থেকে আমাদের প্রশ্নের সাথে মিলানো তথ্য খুঁজে বের করে দেয়। সার্চ ইঞ্জিনগুলো সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট শব্দ বা কীওয়ার্ড ব্যবহার করে এই তথ্য খুঁজে বের করে।
দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা সমাধানের প্রথম হাতিয়ার হচ্ছে তথ্য। ইন্টারনেটে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা, পরিবহন, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সরকার, সরকারপদ্ধতি এবং রাজনৈতিক হালচালের প্রায় সকল ধরনের তথ্যই সেখানে রয়েছে। ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেটি ব্যবহার করে অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়।
ইন্টারনেটে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকগুলো শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট রয়েছে। একটি বিশেষ ওয়েবসাইট ওলফ্রামআলফা (www.wolframalpha.com)। এ সাইটে বিভিন্ন গণনার কাজ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন গাণিতিক সমস্যারও সমাধান এখানে পাওয়া যায়। উল্লেখ্য www.khanacademy.com এমন একটি ওয়েবসাইট যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা প্রায় সকল বিষয়েরই প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারে।
ইন্টারনেট শুধু তথ্য সংগ্রহের মাধ্যম নয়, এটি তথ্য প্রকাশের সুযোগও দেয়। বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা বা সমস্যার সমাধান ব্লগ, ওয়েবসাইট, ফোরাম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে। অন্যরা এগুলো দেখে উপকৃত হয় এবং নিজেদের সমস্যার সমাধান খুঁজে নিতে পারে।
ইন্টারনেট কেবল তথ্য প্রাপ্তিতে সহায়তা করে এমন নয় বরং কারো তথ্য প্রকাশেও সমানভাবে সহায়তা করে। ফলে, অনেকেই তাদের সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতা নিজেদের ওয়েবসাইট, ব্লগ বা সামাজিক যোগাযোগের সাইটে প্রকাশ করে। এভাবে ইন্টারনেটে তথ্যের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সহজাত প্রবৃত্তি তৈরি হয়। অনেক ইন্টারনেট গেম এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, সেগুলোতে জিততে হলে ব্যবহারকারীকে অনেক ছোটো ছোটো সমস্যার সমাধান করতে হয়। এ সকল গেম খেলার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি হয়।
বিভিন্ন ইন্টারনেটভিত্তিক গেম এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যে, সেগুলোতে জিততে হলে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে হয়। এসব গেম খেলতে গিয়ে শিশু-কিশোরদের চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা বাড়ে। ফলে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানেও তারা দক্ষ হয়ে ওঠে, যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করে।
ই-মেইল কথাটির মানে হলো 'ইলেক্ট্রনিক মেইল' বা ইলেক্ট্রনিক চিঠি। ই-মেইলের মাধ্যমে কোনো লেখা বা ছবি অন্য যেকোনো ই-মেইল ঠিকানায় ইলেক্ট্রনিকভাবে পাঠানো যায়। যাদের ই-মেইল ঠিকানা থাকে তাদের প্রত্যেকের একটি করে মেইল বক্স থাকে। কোনো ঠিকানা থেকে ই-মেইল এলে তা মেইল বক্সে জমা হয়। ঠিকানাটি যার, সে মেইল বক্স থেকে ই-মেইলটি যখন ইচ্ছা খুলে পড়তে পারে।
ই-মেইল খোলার ব্যাপারে কিছু সতর্কতা জরুরি। যেমন অপরিচিত বা সন্দেহজনক ই-মেইল এলে তা খোলা উচিত নয়। কারণ এর সাথে ভাইরাস এসে আইসিটি যন্ত্রটিকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। অতএব অপরিচিত উৎস থেকে ই-মেইল অথবা সন্দেহভাজক লিংক যুক্ত ই-মেইল খোলার ব্যাপারে সাবধান থাকা উচিত।
ই-মেইল হলো দ্রুত ও সহজে তথ্য আদান-প্রদানের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। 'ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও ব্যবসায়িক কাজে ই-মেইল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে আমরা ডেটাবেজ, ছবি, ভিডিয়ো ইত্যাদি শেয়ার করতে পারি, মিটিংয়ের সূচিপত্র পাঠাতে পারি, প্রকল্পের আপডেট দিতে পারি এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্যের আদান-প্রদান করতে পারি। এছাড়াও শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের আপডেট ই-মেইলের মাধ্যমে প্রদান করে থাকে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ই-মেইলের মাধ্যমে গ্রাহকদের নানা রকম তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
ই-মেইল ব্যবহারের সুবিধা অনেক। সামান্য প্রশিক্ষণেই ই-মেইল ঠিকানা খোলা যায়। ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত একটি আইসিটি যন্ত্র থাকলেই বিনামূল্যে ই-মেইল ঠিকানা খোলা যায়। ই-মেইল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাঠানো যায়। ই-মেইল গ্রহণের জন্য আইসিটি যন্ত্রটি খোলা থাকার কোনো প্রয়োজন হয় না। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো সময় ই-মেইল পাঠানো যায় আবার পড়াও যায়। এছাড়াও একই চিঠি একসাথে অনেককে পাঠানোর সুবিধাও রয়েছে।
ই-মেইল ব্যবহারের পূর্বশর্ত হলো:
১. ই-মেইল সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে।
২. নিজস্ব ই-মেইল একাউন্ট থাকতে হবে।
৩. ইন্টারনেট কানেকশন যুক্ত ডিভাইস থাকতে হবে, যেমন-স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, নোটপ্যাড, ডেস্কটপ কম্পিউটার।
৪. ই-মেইল ব্যবহার করার জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৫. ব্রাউজিং সফটওয়্যার ব্যবহার জানতে হবে।
ইন্টারনেটে অনেকগুলো ই-মেইল খোলার সাইট রয়েছে। বিশ্বব্যপী জনপ্রিয় সাইটগুলোর অনেকগুলোই সবার পরিচিত। যেমন-ইয়াহ্-মেইল, জি- মেইল, হট-মেইল ইত্যাদি সার্ভিস খুবই জনপ্রিয়। তবে এদের মধ্যে জি-মেইল বর্তমানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
ইয়াহু ওয়েব সার্ভারে ই-মেইল খুলতে হোম পেইজে গিয়ে Mail লেখার উপর ক্লিক করতে হবে। এরপর Create Account লেখাটির উপর ক্লিক করলে একটি ফরম আসবে। ফরমটি পূরণ করে সাবমিট করলে ই-মেইল একাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে।
পাসওয়ার্ড তৈরির ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৩২টি বর্ণ, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্নের মধ্যে পাসওয়ার্ডের দৈর্ঘ্য সীমাবন্ধ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ইংরেজি Small Letter ও Capital Letter আলাদা বর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। জায়গার নাম, ব্যক্তির নাম বা ইয়াহু আইডি পাসওয়ার্ড হিসেবে না রাখাই ভালো। পাসওয়ার্ডকে সুরক্ষিত করতে পাসওয়ার্ডে বর্ণ, সংখ্যা, বিশেষ ক্যারেকটার (যেমন-৫) এবং Small Letter ও Capital Letter এর মিশ্রণ ব্যবহার করা শ্রেয়।
ইয়াহুতে ই-মেইল পাঠানোর নিয়ম নিচে দেওয়া হলো-
১. প্রথমে ব্রাউজার চালু করে ইয়াহু সাইটে Mail লেখা যায়গায় ক্লিক করে ID, পাসওয়ার্ড লিখে sign In করতে হবে।
২. Compose লেখা জায়গায় ক্লিক করতে হবে।
৩. 'To' বক্সে গ্রহীতার ই-মেইল ঠিকানা, 'Subject' বক্সে ই-মেইলের বিষয় এবং সাদা জায়গায় কাঙ্খিত বার্তা লিখে 'Send' বাটনে ক্লিক, করলে ই-মেইল প্রেরিত হবে।
ই-মেইল একাউন্ট খুলতে বেশ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে দেশের নাম, মোবাইল নাম্বার, নিজের নাম, জন্ম তারিখ, জেন্ডার ইত্যাদি। এছাড়াও আরও অতিরিক্ত কিছু তথ্যাদি সরবরাহ করতে হয়। যেমন রিকভারি নাম্বার, উক্ত নাম্বার ব্যবহারকারীর সাথে সম্পর্ক ইত্যাদি।
একটি আগত ই-মেইল খোলার পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:
১. প্রথমে নিজস্ব ই-মেইল আইডি দিয়ে ই-মেইল সাইটে প্রবেশ করতে হবে। এজন্য আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
২. তারপর মেইলের ইনবক্সে ক্লিক করতে হবে।
৩. ইনবক্স-এ আগত মেইলটি দেখতে পাব।
৪. তারপর আগত মেইলের উপর মাউস ক্লিক করলে, মেইলটি খুলে যাবে।
ইয়াহু ই-মেইল থেকে সাইন আউট করার জন্য প্রথমে ই-মেইল একাউন্টের উপরের ডানদিকে নিজের নাম বা প্রোফাইল ছবির উপর ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি ড্রপডাউন মেনু খুলে যাবে।
সেখান থেকে "সাইন আউট" অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। সাইন আউট করার পর ব্যবহারকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইয়াহু ই-মেইল থেকে বের হয়ে যাবেন এবং অ্যাকাউন্ট লগ আউট হয়ে যাবে।
ই-মেইলে অ্যাটাচমেন্ট পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রথমে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মেইল লেখা শেষ করতে হবে। এরপর Send বাটন-এর পাশে এটাচমেন্ট আইকনটিতে ক্লিক করতে হবে। কাঙ্খিত ফাইলটি যে Location-এ আছে তা নির্বাচন করতে হবে। এরপর Open Button-এ Click করলে ফাইলটি ই-মেইলের মাঝে যুক্ত (Attach) হয়ে যাবে। ফাইলটি এটাচ হওয়ার পর আগের নিয়মে Send করলেই ফাইলটিসহ ই-মেইলটি কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।
ই-মেইল পাঠাতে অবশ্যই যা প্রয়োজন হবে নিচে সেগুলো
উল্লেখ করা হলো:
১. কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্র
২. ইন্টারনেট সংযোগ
৩. ই-মেইল ঠিকানা
দৈনন্দিন জীবনে আমরা ইন্টারনেটকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারি।
তবে ইন্টারনেটের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বিভিন্ন রকম তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে। শুধু তথ্য নয় যদি কখনো কোনো সম্পূর্ণ বই হারিয়ে যায় সেটি ইন্টারনেট ব্যবহার করে ডাউনলোড করা যেতে পারে। তাই আমার বিজ্ঞান বইটি হারিয়ে গেলে তা খুব সহজেই আমি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করতে পারি। ইন্টারনেটে, বিভিন্ন ধরনের বই ডাউনলোড করার জন্য বিভিন্ন রকম ওয়েবসাইট রয়েছে। আর এসব বই নামানোর জন্য রয়েছে ডাউনলোড অপশন। শুধু একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ার জন্য মডেম ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটে গিয়ে বইটি নামিয়ে আনা যায়। তেমনি আমার বিজ্ঞান বইটি পাওয়ার জন্য সরকারি ওয়েবসাইট www.ebook.gov.bd-এ গিয়ে সার্চ অপশনে বিজ্ঞান বইয়ের নামটি লিখতে হবে। এরপর বিজ্ঞান বইটি পাওয়া গেলে ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করলেই কিছুক্ষণের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞান বইটি আমার কম্পিউটারে চলে আসবে। তাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞান বইটি সহজেই নতুন করে ফিরে পাওয়া সম্ভব।
তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন উপাদান আমাদের নানা রকম সমস্যা সমাধানে নানাভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে। তেমনি বিভিন্ন রকম তথ্য অনুসন্ধানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপাদান ইন্টারনেট আমাদের সাহায্য করে। কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে হলে ইন্টারনেটে সে বিষয় সম্পর্কে সার্চ করতে হয়। যে বিষয়ে সার্চ করা হয় সে বিষয়ের তথ্য আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়। তেমনি প্লুটো সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার জন্য ইন্টারনেটে প্লুটো লিখে সার্চ করতে হবে।
অথবা গ্রহ সম্পর্কিত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গিয়ে এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালালে প্লুটো যে গ্রহ নয় এ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে। ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে যা আমাদের সঠিক তথ্য প্রদান করে। এসব ওয়েবসাইটে গ্লুটো সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান করলে গ্লুটো যে গ্রহ নয় এ সম্পর্কে তথ্য এবং প্রমাণ পাওয়া যাবে। এভাবেই 'গ্লুটো গ্রহ নয়' এ বিষয়ে তথ্য পেতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাকে সাহায্য করবে।
দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারের গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো:
১. দৈনন্দিন জীবনের একটি অতি পরিচিত কাজ খবরের কাগজ পড়া। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারে অনলাইনে খবরের কাগজ পড়া যাচ্ছে।
২. বিনোদনের ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের ব্যবহার আছে। রেডিও, টেলিভিশন এখন ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে গেছে। এখন ইচ্ছে করলে ইন্টারনেটে রেডিও, টেলিভিশন শোনা এবং দেখা যায়।
৩. কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো স্থানের অবস্থান জানতে ইন্টারনেটভিত্তিক জিপিএস সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। গাড়িতে লাগানো GPS (Global Positioning System) ব্যবহারে ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে
৪. দৈনন্দিন যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট ভূমিকা রাখে। যেমন : ই-মেইল, স্কাইপি, ফেইসবুক, টুইটার, চ্যাটিং, ভিডিও কনফারেন্সিং প্রভৃতি মাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে।
৫. ইন্টারনেট ব্যবহারে বিভিন্ন বই ডাউনলোড করে ই-বুক পদ্ধতিতে সত্যিকার বইয়ের মতো পড়া যায়।
একটি ই-মেইল পাঠানোর জন্য নিচের প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে হয়।
১. ইন্টারনেট ব্রাউজার চালু করে যে ওয়েবসাইটে ই-মেইল ঠিকানায় রয়েছে সেটিতে প্রবেশ করতে হবে।
২. মাউস Click করে মেইল ঠিকানায় যেতে হবে।
৩. নিজের মেইল ঠিকানা টাইপ করে এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ব্যক্তির নিজ ই-মেইল ঠিকানায় প্রবেশ করতে হবে।
8. "Compose" লেখা জায়গায় মাউস Click করে একটু অপেক্ষা করলে একটি সাদা পাতা দেখা যাবে যেখানে চিঠিটি কী-বোর্ড ব্যবহারে টাইপ করে লিখতে হবে।
৫. লেখা শেষে উপরের দিকের ই-মেইল ঠিকানা লেখার জায়গায় প্রাপকের ঠিকানাটি লিখতে হবে।
৬. এবার Send লেখায় মাউস Click করলেই ই-মেইলটি প্রাপকের e-mail ঠিকানায় পৌছে যাবে।
Related Question
View Allওয়ারলেস ইন্টারনেট সার্ভিস হলো এমন একটি সেবা যার মাধ্যমে কোনো তারের সংযোগ ছাড়াই ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়া যায়। এটি সাধারণত Wi-Fi, 4G, 5G বা অন্যান্য বেতার প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে। এই সেবাটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং অন্যান্য ডিভাইসগুলোকে ইন্টারনেটে সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
ইন্টারনেট বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। খবর পড়া, যোগাযোগ করা, পথনির্দেশনা পাওয়া, অফিসের কাজ করা, অনলাইন ক্লাস করা, বিনোদনসহ প্রায় সব কাজেই ইন্টারনেটের ভূমিকা অপরিসীম। আজকাল অনেকে ইন্টারনেট ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনাও করতে পারে না।
আগে মানুষ খবরের কাগজ পড়ত, কিন্তু এখন প্রায় সব সংবাদপত্র অনলাইনে পাওয়া যায়। ফলে একজন পাঠক চাইলেই একাধিক সংবাদপত্র পড়তে পারে। এমনকি রেডিও ও টেলিভিশনের খবরও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজলভ্য হয়ে গেছে, যা খবরের কাগজের প্রচলিত ধারণাকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
GPS বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম হলো একটি স্যাটেলাইট পথ নির্দেশক ব্যবস্থা যা পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত স্মার্টফোন, গাড়ির ন্যাভিগেশন সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিভাইসগুলোতে ব্যবহৃত হয়। GPS এর সাহায্যে আমরা নিজেদের অবস্থান জানতে পারি, দিক নির্ধারণ করতে পারি এবং একটি স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য পথ নির্ধারণে সহায়তা পেতে পারি।
বর্তমান কালে অফিস বা কর্মক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ভূমিকা অপরিসীম। ইন্টারনেট অফিসে যোগাযোগ, ডকুমেন্ট শেয়ারিং, ইমেইল আদান-প্রদান, ভিডিও কনফারেন্স, অনলাইন রিসার্চ, সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ সহজ করে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা দূরত্বের বাধা দূর করে এবং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
আগে আমরা টেলিফোনে শুধু কথা বলতাম, ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ (bandwidth) বেড়ে যাওয়ায় আজকাল শুধু কথায় আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয় না। আমরা যার সাথে কথা বলছি তাকে দেখতেও পাই ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে। একসময় কেউ যখন বিদেশ যেত, হাতে লেখা চিঠি ছিল যোগাযোগের একমাত্র উপায়। এখন ভিডিয়ো কলে সামনাসামনি দেখে কথা বলা খুব প্রচলিত বিষয় হয়ে গেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!