ধানের ২টি স্থানীয় জাত হলো-
১. দুধসর ও ২. লতিশাইল।
ধানের ৪টি স্থানীয় উন্নতজাতের নাম হলো-১. কটকতারা, ২. কালিজিরা, ৩. নাইজারশাইল ও ৪. বিনাশাইল।
উচ্চ ফলনশীল ধান বা উফশী ধানের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
১. গাছ মজবুত ও পাতা খাড়া।
২. শীষের ধান পেকে গেলেও সবুজ থাকে।
৩. গাছ খাটো ও হেলে পড়ে না।
৪. খড়ের চেয়ে ধানের উৎপাদন বেশি।
৫. অধিক কুশি গজায়।
উফশী ধানে যখন প্রয়োজনীয় বিশেষ গুণাগুণ যেমন-রোগবালাই সহনশীলতা, স্বল্প জীবনকাল, চিকন চাল, খরা, লবণাক্ততা ও জলমগ্নতা সহিষ্ণু ইত্যাদি সংযোজিত হয় তখন তাকে আধুনিক ধান বলা হবে। তাই সকল উফশী ধানই আধুনিক ধান নয়। কিন্তু সকল আধুনিক ধানই উফশী গুণে গুণান্বিত।
ধানের মৌসুম তিনটি। যথা-
১: আউশ, ২. আমন ও ৩. বোরো।
শুধু আউশ মৌসুমেই চাষ হয় এমন জাত হলো ১৩টি। তন্মধ্যে ২টি জাত হলো বিআর ২০ (নিজামী) এবং বিআর ২১ (নিয়ামত)।
আমন মৌসুমে চাষ হয় এরূপ ধানের ৪টি জাতের নাম
নিম্নরূপ-
১. বিআর ৫ (দুলাভোগ)।
২. বিআর ১১ (মুক্তা)।
৩. ব্রি ধান ৫৬।
৪. ব্রি ধান ৫৭।
বোরো মৌসুমের ধানের ৪টি জাত হচ্ছে-
১. বিআর ১৮ (শাহজালাল),
২. ব্রি ধান ২৮,.
৩. ব্রি ধান ২৯ ও
৪. ব্রি ধান ৫০ (বাংলামতি)।
আউশ ও বোরো উভয় মৌসুমেই চাষ হয় এরূপ দুটি ধানের
জাত হলো-
১. বিআর ১ (চান্দিনা) ও
২. বিআর ২ (মালা)।
ধানের চারা তৈরির জন্য সুস্থ সবল বীজ ব্যবহার করতে হবে কারণ বীজের সুস্থতার উপরই ধানের চারার সুস্থতা নির্ভর করে। বীজ যদি রোগাক্রান্ত ও নষ্ট হয় তাহলে উৎপাদিত চারাও দুর্বল ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে যা থেকে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না এবং কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
দুটি বীজতলার মাঝে নালা কাটার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বেড যাতে শুকিয়ে না যায় সেজন্য দুই বেডের মাঝের নালায় পানি রাখার ব্যবস্থা করতে হয়। এরপর নালা থেকে প্রয়োজনীয় বেডে সেচ দিতে হয়। নালা বেড থেকে নিচু হওয়ায় এটির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনেও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
কমপক্ষে তিনবার ধানের জমিতে আগাছা দমন করতে হয়।
যেমন-
১. চারা রোপণ করার ১০ ১৫ দিনের মধ্যে।
২. প্রথম আগাছা দমনের পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে।
৩. থোড় বের হওয়ার পূর্বে।
ধানক্ষেতের ৪টি আগাছা হলো-
১. আরাইল, ২. গইচা, ৩. শ্যামা ও ৪. হলদে মুথা।
ধানক্ষেতে সাধারণত আরাইল, গইচা, শ্যামা প্রভৃতি আগাছার উপদ্রব হয়। এগুলো সরাসরি হাত বা নিড়ানি দ্বারা ও ঔষধ প্রয়োগ করে দমন করতে হবে।
ধানে আক্রমণ করা ৪টি পোকা হলো-
১। মাজরা পোকা,
২। পামরী পোকা,
৩। গান্ধি পোকা ও
৪। গলমাছি।
ধান গাছে মাজরা পোকা আক্রমণের ২টি লক্ষণ নিম্নরূপ-
১। ধান গাছের মাঝ ডগা ও শীষের ক্ষতি করে।
২। কুশি অবস্থায় আক্রমণ করলে মাঝ ডগা সাদা হয়ে যায়।
ব্লাস্ট রোগের ২টি লক্ষণ নিম্নরূপ-
১। পাতায় ডিম্বাকৃতির দাগ পড়ে।
২। দাগের চারদিকে গাঢ় বাদামি এবং মাঝের অংশ সাদা ছাই বর্ণের হয়।
ধানের ব্লাস্ট রোগ দমনের ২টি উপায় নিম্নরূপ-
১। বীজ শোধন করে বোনা।
২। রোগপ্রতিরোধী জাত যেমন- বিআর ৩, বিআর ১৪, ব্রি ধান ২৮ রোপণ করা।
ধানের টুংরো রোগ একটি ভাইরাসজনিত রোগ যার বাহক হলো পাতা ফড়িং। অর্থাৎ পাতা ফড়িং এর মাধ্যমেই ধান গাছের এই রোগটি ছড়ায়। এ কারণেই পাতা ফড়িং দমন করতে হয়।
টুংরো ধানের ভাইরাসজনিত একটি রোগ। এ রোগে আক্রান্ত
হলে-
১. আক্রমণের প্রথমে পাতার রং হালকা সবুজ, পরে আস্তে আস্তে হলদে হয়ে যাবে।
২. কুশি হয় না।
ধানের টুংরো রোগ দমনের ২টি পদ্ধতি নিম্নরূপ-
১. যেহেতু পাতা ফড়িং এ রোগ ছড়ায়, তাই পাতা ফড়িং দমন করতে হবে।
২. ম্যালাথিয়ন ৫৭ স্প্রে করা।
ধান ফসলের চারটি রোগের নাম হলো-
১. ব্লাস্ট রোগ,
২. টুংরো রোগ,
৩.' উফরা রোগ ও
৪. বাকানি রোগ।
শীষে ধান পেকে গেলেই ফসল কাটতে হবে। কারণ অধিক পাকা অবস্থায় ফসল কাটলে অনেক ধান ঝরে পড়ে, শীষ ভেঙে যায়, শীষকাটা লেদা পোকা এবং পাখির আক্রমণ হতে পারে। শীষের উপরের দিকে শতকরা ৮০ ভাগ ধানের চাল শক্ত ও স্বচ্ছ এবং নিচের অংশের ২০ ভাগ ধানের চাল আংশিক শক্ত ও স্বচ্ছ হলে ধান ঠিকমতো পেকেছে বলে বিবেচিত হয়।
দেশি পাটের ২টি জাত হচ্ছে-
১. সিভিএল-১ (সবুজ পাট) ও
২. সিভিই-৩ (আশু পাট)।
তোষা পাটের ২টি জাত হচ্ছে-
১.ও-৪
২. ও-৯৮৯৭ (ফাল্গুনি তোষা)
দেশি পাট ও তোষা পাটের মধ্যে ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
দেশি পাট | তোষা পাট |
১. পাতার বর্ণ হালকা সবুজ, তিতা। | ১. পাতার বর্ণ গাঢ় সবুজ, স্বাদে তিতা নয়। |
২. শেষ দিকে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। | ২. জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। |
পাটের বীজ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বোনা হয়ে থাকে কারণ পাট পাতা চারা অবস্থায় শাক হিসেবে খাওয়া হয়। চারা গজানোর ১৫-২০ দিন পর চারা পাতলা করার জন্য কিছু চারা তুলে ফেলা হয়। যা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং বাজারে বিক্রি করে কিছু বাড়তি উপার্জন করা যায়। এতে করে মূল গাছের কোনো রকম ক্ষতি হয় না।
সঠিক সময়ে পাটের বীজ বপন না করলে গাছে অসময়ে ফুল আসে এবং ফলন কম হয়, পাটের গুণগত মানও কমে যায়। পাট জাতভেদে ১৫ই ফেব্রুয়ারি হতে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত বোনা হয়।
পাটের বিছা পোকা দমনের ২টি উপায় নিম্নরূপ-
১. পাটের পাতায় ডিমের গাদা দেখলে গাছসহ পাতা তুলে ধ্বংস করতে হবে।
২. আক্রমণের প্রথম পর্যায়ে যখন ডিম থেকে বের হওয়া কীড়াগুলো দলবদ্ধভাবে থাকে তখন পোকাসহ পাতাটি তুলে পায়ে পিষে গর্তে চাপা দিয়ে অল্প কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে মারতে হবে।
ঘোড়া পোকা পাট গাছের কচি ডগা ও পাতা আক্রমণ করে। ফলে কচি ডগা নষ্ট হয়ে যায় এবং শাখা-প্রশাখা বের হয়। ফলে পাটের ফলন ও আঁশের মান কমে যায়।
পাটক্ষেতে দুই ধরনের মাকড় দেখা যায়। যথা- হলদে মাকড় ও লাল মাকড়।
পাটের কান্ডপচা রোগে পাতা ও কান্ডে গাঢ় বাদামি রঙের দাগ দেখা দেয়। এ দাগ গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত যে কোনো অংশে দেখা দিতে পারে। দাগগুলোতে অসংখ্য কালো বিন্দু দেখা যায়। এ কালো বিন্দুগুলোতে ছত্রাক জীবাণু থাকে। কখনো কখনো আক্রান্ত স্থানে গোটা গাছই ভেঙে পড়ে।
কালোপট্টি রোগের লক্ষণ হচ্ছে-
১.. কান্ডে কালো রঙের বেষ্টনীর মতো দাগ পড়ে।
২. আক্রান্ত স্থানে ঘষলে হাতে কালো গুঁড়ার মতো দাগ লাগে, যেখানে অসংখ্য কালো বিন্দু দেখা যায়।
৩. গাছ শুকিয়ে মারা যায়।
পাটের কালোপট্টি রোগ দমনের দুটি ব্যবস্থা হলো-
১. পাট কাটার পর জমির আগাছা, আবর্জনা ও পরিত্যক্ত গাছের গোড়া উপড়িয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
২. বীজ বপনের আগে বীজ শোধন করতে হবে।
পাট জাগ দেওয়ার কারণ হচ্ছে-
১. সহজে আঁশ ছাঁড়ানো
২. আঁশের রং ভালো হওয়া
৩. আঁশের গুণগত মান ভালো হওয়া।
পাট এক প্রকার আঁশ জাতীয় ফসল। বাংলাদেশে উৎপাদিত অর্থকরী ফসলগুলোর মধ্যে পাটের স্থান শীর্ষে। পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এজন্য পাটকে সোনালি আঁশ বলা হয়।
সরিষা চাষের জন্য বেলে দোআঁশ অথবা পলি দোআঁশ মাটি উপযোগী। তাই সহজে পানি নিকাশ করা যায় এরূপ বেলে দোআঁশ বা পলি দোআঁশ মাটি নির্বাচন করতে হবে।
সরিষার অনুমোদিত ৪টি জাত হলো-
১. টরি-৭,
২. কল্যাণিয়া,
৩. রাই সরিষা ও
৪. বারি সরিষা-৮।
সরিষার বীজ সাধারণত ছিটিয়ে বোনা হয়। বীজ ছোট বিধায় বোনার সময় জমিতে সমানভাবে ছিটানো কষ্টকর হয়। এজন্য বালি বা ছাই এর যে কোনো একটি বীজের সাথে মিশিয়ে বীজ ছিটালে জমিতে সমভাবে পড়ে। এতে জমির কোনো জায়গায় গাছ ঘন এবং কোনো জায়গায় পাতলা হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
যখন সরিষা গাছের শতকরা ৭০-৮০ ভাগ ফল খড়ের রং ধারণ করে এবং গাছের পাতা হলদে হয় তখনই সরিষা ফসল সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। সকালে ঠান্ডা আবহাওয়ায় শিশির ভেজা অবস্থায় ফসল সংগ্রহ করা উত্তম।
সরিষা বীজ রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। তবে রোদে শুকানো বীজ গরম অবস্থায় সংরক্ষণ করা উচিত নয়। কারণ, গরম অবস্থায় বীজ সংরক্ষণ করলে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই রোদে শুকানো বীজ ঠাণ্ডা করে প্লাস্টিক পাত্রে, টিনে বা ড্রামে রেখে মুখ ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে।
সরিষার জমিতে কৃত্রিম উপায়ে অত্যন্ত অল্প খরচে মৌমাছি পালন করে মধু সংগ্রহ করা যায়। মৌমাছি সরিষার ফুল থেকে নেকটার সংগ্রহ করে মৌবাক্সে রাখা চাকে জমা করে। এ কারণে সরিষাকে মধু উদ্ভিদ বলা হয়।
মাষকলাইয়ের ২টি উফশী জাতের নাম হলো-
১. বিনা মাস-১ ও
২. শরৎ।
বীজের জন্য মাষকলাই চাষে বীজহার নিম্নরূপ হবে-
বপন পদ্ধতি | বীজহার (কেজি/হেক্টর) |
ছিটিয়ে | ৩৫-৪০ |
সারিতে | ২৫-৩০ |
মাষকলাই-এর দুটি রোগ হলো-
১. পাউডারি মিলডিউ রোগ।
২. পাতার দাগ রোগ।
মাষকলাইয়ের পাতার দাগ রোগটি পরিত্যক্ত ফসলের অংশ, বায়ু ও বৃষ্টির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। অধিক আর্দ্রতা ও উচ্চতাপে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
দুটি ছত্রাকের নাম নিম্নরূপ-
১. সারকোস্পোরা ও
২. ওইডিয়াম।
মাষকলাইয়ের পাউডারি মিলডিউ রোগ দমনের ২টি উপায় হলো-
১. রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে।
২. বিকল্প পোষক ও গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
সরিষা ফসলের প্রধান রোগ অল্টারনারিয়া ব্লাইট বা পাতায় দাগ পড়া রোগ। এ রোগ দেখা দিলে গাছের পাতায় প্রথমে বাদামি এবং পরে গাঢ় রঙের গোলাকার দাগ দেখা যায়। এ রোগের আক্রমণ হতে ফসল রক্ষা করতে হলে প্রতিরোধ হিসেবে সঠিক নিয়মে বপন করা দরকার
ভেষজ হিসেবে শাকসবজির ২টি গুণাগুণ হলো-
১. শসা হজমে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার কাজ করে।
২. রসুনে বাত রোগ সারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে শাকসবজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শাকসবজি চাষ করে পারিবারিক চাহিদার উদ্ধৃত্তাংশ বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। এছাড়া শাকসবজি চাষ করে পতিত জমির ব্যবহার করা যায়, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, বেকার সমস্যার সমাধান, নতুন শিল্পের সৃষ্টি ও বিকাশ ঘটে এবং মহিলা ও পারিবারিক | শ্রমশক্তিকে কাজে লাগানো যায়।
শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি ও সি থাকে। এছাড়া আমিষ, ক্যালরি ও খনিজ পদার্থের উৎস হিসেবেও শাকসবজি গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি ভেষজ গুণাগুণ সম্পন্ন। শসা হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। রসুন বাত রোগ উপশমে সহায়তা করে। তাই সুস্থ ও সবলভাবে বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত ও পরিমিত পরিমাণে সবজি খাওয়া অপরিহার্য।
শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি ও সি থাকে। এছাড়া আমিষ, ক্যালরি ও খনিজ পদার্থের উৎস হিসেবেও শাকসবজি গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি ভেষজ গুণাগুণ সম্পন্ন। শস্য হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। রসুন বাত রোগ উপশমে সহায়তা করে। তাই সুস্থ ও সবলভাবে বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত ও পরিমিত পরিমাণে সবজি খাওয়া অপরিহার্য।
শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। যা দেহের বৃদ্ধি, পুষ্টি সাধন ও দৃষ্টি শক্তির জন্য প্রয়োজনীয়। তাই দেশের বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে শাকসবজির উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করা আবশ্যক।
উৎপাদন মৌসুমের উপর ভিত্তি করে শাকসবজিকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১. শীতকালীন শাকসবজি, যেমন- টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি ইত্যাদি।
২. গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, যেমন- করলা, ঝিঙা, পটোল ইত্যাদি।
৩. বারমাসি শাকসবজি। যেমন- বেগুন, ঢেঁড়স, পেঁপে ইত্যাদি।
শাকসবজিতে প্রচুর পুষ্টি বিদ্যমান। খাদ্য, ভিটামিন, খনিজ ও অর্থকরী ফসল হিসেবে শাকসবজি চাষ করা খুবই জরুরি। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষ করে উচ্চ ফলন ও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না। এতে উৎপাদন কমে যায় ও চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। তাই পারিবারিক চাহিদা মেটানো ও শাকসবজি বিক্রি করে বাড়তি আয়ের জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষ করা উচিত।
শাকসবজি চাষে বিবেচ্য বিষয়গুলো হচ্ছে ভালো বীজ, বীজতলার জমি নির্বাচন ও তৈরি, বীজ বপন ও বীজতলার যত্ন, মূল জমি নির্বাচন ও জমি তৈরি, বীজ বপণ ও রোপণ, পানিসেচ ও নিকাশ, আগাছা দমন ও মালচিং, পোকামাকড় ও রোগ দমন এবং সময়মতো ফসল সংগ্রহ।
শাকসবজি চাষের দুটি পদ্ধতি হলো-
১. পর্যায়ক্রমিক চাষ পদ্ধতি।
২. মিশ্র ফসল পদ্ধতি।
পালংশাকের জাতের ৪টি জাতের নাম-
১. পুষা জয়ন্তী,
২. কপি পালং,
৩. সবুজ বাংলা,
৪. পুষ্প জ্যোতি।
পালংশাকের যে অংশ সবজি হিসেবে আমরা খাই তাহলো পাতা ও ডাঁটা। চারা গজানোর ৮-১০ দিন পর পাতা ও ডাঁটার বৃদ্ধি শুরু হয়। এ সময় ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করা হলে পাতা ও ডাঁটার বৃদ্ধি অনেক ভালো হয়। ফলে বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যায়। এজন্য পালংশাক চাষে ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করা হয়।
গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য মাটিতে বেশি দিন রস ধরে রাখা এবং মাটিতে যাতে সহজে আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে সেজন্য প্রতিবার সেচের পর আঁইল / জমির উপরের মাটি আলগা করে দিতে হবে।
জায়গাভেদে পালংশাক বীজের পরিমাণ নিম্নরূপ:
প্রতি আইলে | ৩৫ - ৪০ গ্রাম |
প্রতি শতকে | ১১৭ গ্রাম |
প্রতি এককে | ৯- ১১ কেজি |
প্রতি হেক্টরে | ২৫-৩০ কেজি |
পালংশাকের চারটি ক্ষতিকর পোকার নাম হলো-
১. পিপীলিকা, ২. উরচুঙ্গা, ৩. উঁইপোকা এবং ৫. পাতাছিদ্রকারী পোকা।
পুঁইশাক চাষে সারের পরিমাণ নিম্নরূপ-
সারের নাম | শতক প্রতি |
গোবর | ৪০ কেজি |
ইউরিয়া | ১ কেজি |
টিএসপি | ৫০০ গ্রাম |
এমওপি | ৫০০ গ্রাম |
পুঁইশাকের ডগা লম্বা হতে শুরু করলেই ডগা কেটে সংগ্রহ করতে হবে। ডগা কেটে সংগ্রহ করলে নতুন ডগা গজাবে। নতুন ডগা কয়েকবার কেটে ফসল সংগ্রহ করা যায়। এ কারণেই পুঁইশাকের ডগা কেটে ফেলা হয়।
বেগুনের দুটি বিদেশী জাত হচ্ছে-
১. ব্ল্যাক বিউটি ও
২. ফ্লোরিডা বিউটি।
বেগুনের দুটি রোগ প্রতিরোধী জাতের নাম হলো-
১. বারি বেগুন-১ (উত্তরা) ও
২. বারি বেগুন-৫ (নয়নতারা)।
বেগুন চাষে সারের পরিমাণ নিচে উল্লেখ করা হলো-
সারের নাম | শতক প্রতি |
গোবর | ৪০ কেজি |
ইউরিয়া | ১ কেজি |
টিএসপি | ৫০০ গ্রাম |
এমওপি | ৫০০ গ্রাম |
ফেরোমন ফাঁদ হচ্ছে এক ধরনের কীটপতঙ্গ দমন ফাঁদ যাতে ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করতে সেক্স ফেরোমন ব্যবহার করা হয়
বেগুন অতি পরিচিত একটি সবজি। যা প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। চারা রোপণের ৩০-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে। বেগুনের ফল বীজ শক্ত হওয়ার আগেই সংগ্রহ করতে হয়। বেগুন সংগ্রহের পর ঠান্ডা ও খোলা জায়গায় কয়েকদিন সংরক্ষণ করা যায়। বেগুন যেহেতু নরম সবজি। তাই বেশিক্ষণ বস্তায় রাখা ঠিক নয়। বেশিক্ষণ বস্তায় রাখলে বেগুনের স্বাভাবিক রং নষ্ট হতে পারে এবং
বেগুন পচে যেতে পারে। এতে বেগুনের বাজার মূল
মিষ্টিকুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'এ' থাকে। এর ফল কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায়ই খাওয়া যায়। তবে এর প্রধান ব্যবহার পাকা অবস্থায়। কুমড়ার পাতা ও কচি ডগা খাওয়া যায়।
মিষ্টি কুমড়ায় প্রাকৃতিকভাবে পরাগায়ন খুব কম হয়। তাই ফল ধরানোর জন্য ফুল ফোটার পর পর পুরুষ জাতীয় ফুল নিয়ে স্ত্রী ফুলের গর্ভকেশরের গায়ে বুলিয়ে দিয়ে কৃত্রিম পরাগায়ন ঘটাতে হয়।
মিষ্টিকুমড়া কচি অবস্থা থেকে শুরু করে পরিপূর্ণ পাকা অবস্থায় খাওয়া যায়। তাই কচি অবস্থা থেকেই ফসল সংগ্রহ শুরু হয়। কুমড়া বেশ পাকিয়ে সংগ্রহ করলে অনেকদিন ঘরে রাখা যায়।
যেসব সবজির কান্ড ও শিকড় বেশি ছড়ায় এরূপ সবজির জন্য ফাঁক ফাঁক করে গর্ত বা মাদা তৈরি করে সবজি রোপণ করা হয়। বেড তৈরি করেও বেডের উপর মাদা তৈরি করা হয়। চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, লাউ ইত্যাদি সবজির জন্য মাদা তৈরি করতে হয়।
চালকুমড়ার ২টি ব্যবহার নিম্নরূপ-
১. কচি ফল (জালি) তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. পরিপক্ক ফল মোরব্বা ও হালুয়া তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
চালকুমড়ার প্রতি মাদায় নিম্নলিখিত পরিমাণে সার দিতে হবে-
গোবর- ১০০ কেজি,
টিএসপি- ২০০ গ্রাম ও
এমওপি- ৫০ গ্রাম।
পাউডারি মিলডিউ ও ডাউনি মিলডিউ রোগের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
পাউডারি মিলডিউ | ডাউনি মিলডিউ |
১. পাতার উপরে হয়। | ১. পাতার নিচে হয়। |
২. সাদা পাউডার দেখা যায়। | ২. ধূসর বেগুনি রং দেখা যায়। |
চালকুমড়ার পাতা বেশ রসালো ও নরম। তাই মাটি শুকিয়ে গেলে গাছ ঝিমিয়ে পড়ে এবং কচি ফল ও কুঁড়ি ঝরে যায়। এ কারণে সময়মতো উপযুক্ত পরিমাণে সেচ দিতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে ৫ ৬ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। প্রতিবার সেচের পর গাছের গোড়ার মাটি চটা বেঁধে গেলে চটা ভেঙে দিতে হবে।
লাউ-এর দুটি উন্নত জাতের নাম হলো-
১. বারি লাউ ১
২. বারি লাউ ২
লাউ ফসল তোলা বা সংগ্রহ করার উপযুক্ত সময় হবে যখন-
১. ফলের গায়ে প্রচুর শুংয়ের উপস্থিতি থাকবে।
২. ফলের গায়ে নখ দিয়ে চাপ দিলে খুব সহজেই নখ ডেবে যাবে।
৩. পরাগায়নের ১২- ১৫ দিন পর ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়
শিমের ৪টি জনপ্রিয় জাতের নাম নিম্নরূপ-
১. বারি শিম-১,
২. বারি শিম-১০,
৩. ইপসা শিম ও
৪. মৃত কাল্গুন।
শিম গাছের প্রতিটি মাদা পচা আবর্জনা সার দিয়ে পূরণ করতে হবে। তারপর প্রতিটি মাদায় খৈল গুঁড়া, ছাই, টিএসপি, মিউরেট অব পটাশ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। মাদাটি এমনভাবে ভরতে হবে যেন মাটি থেকে ভরাটকৃত মাদার উচ্চতা ১০ সেমি হয়। শিম ফসলটিতে নাইট্রোজেন সারের দরকার হয় না। কারণ এটি লিগুম পরিবারের ফসল। এদের শিকড়ে নডিউল বা গুটি তৈরি হয় যাতে - প্রচুর বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন জমা থাকে।
শিম গাছ ঠিকমতো বাড়ার জন্য মাচা দিতে হবে। গাছের গোড়ার মাটি শক্ত হলে নিড়ানি দিয়ে তা আলগা করতে হবে। মাটিতে রসের অভাব হলে পানি সেচ দিতে হবে। বর্ষায় যাতে গাছের গোড়ায় পানি না জমে সে জন্য গোড়ায় মাটি উঠিয়ে দিতে হবে। চারা বড় হতে থাকলে ১৫-২০ দিন পর পর ২-৩ কিস্তিতে ৬০ গ্রাম টিএসপি ও ৬০ গ্রাম এমওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
শিম লিগিউম পরিবারের ফসল। এদের শিকড়ে নডিউল বা গুটি তৈরি হয় যাতে প্রচুর বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন জমা থাকে। এ নাইট্রোজেনই শিমে গাছের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে। এ কারণে শিম ফসলে নাইট্রোজেন জাতীয় সারের প্রয়োজন হয় না।
শিম গাছে জাব পোকা, থ্রিপস, পড বোরার ইত্যাদির আক্রমণ হতে পারে। জাব পোকা নতুন ডগা, পাতা, ফুল ও ফল ইত্যাদির রস চুষে খায়। নিমের বীজের শাঁস পিষে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করে এদের দমন করা যায়। ভাইরাস আক্রান্ত গাছগুলো মাটিসহ উঠিয়ে গভীর গর্তে পুঁতে দিতে হয়।
ফুল চাষে সঠিক পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে। কারণ নিয়মিত সেচ এবং আগাছা দমনের ব্যবস্থা না করতে পারলে ফুল গাছ দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ফুলও ভালো হবে না। তাছাড়াও পোকার আক্রমণ, দমন ও গাছ ছাঁটাইকরণের প্রয়োজনীয়তাও অনেক। গাছ বড় হলে বেস দেওয়ারও প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ ফুলের উন্নত চাষের জন্য সঠিক পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষকৃত দুটি ফুল হলো-
১. রজনীগন্ধা ও
২. প্লাডিওলাস
গোলাপের ২টি জাতের নাম হলো-
১. রানি এলিজাবেথ (গোলাপি) ও
২. ব্ল্যাক প্রিন্স (কালো)।
গোলাপ ফুলকে ফুলের রানি বলা হয়ে থাকে। এর কারণ গোলাপের রয়েছে মনমাতানো রং এবং মিষ্টি সুবাস। পৃথিবীর সব দেশের সব মানুষের কাছেই এর কদর অত্যন্ত বেশি। তাই একে ফুলের রানি বলা হয়।
গোলাপের বংশবিস্তারের জন্য অবস্থাভেদে শাখা কলম, দাবা কলম, গুটি কলম ও চোখ কলম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য বীজ উৎপাদন করে তা থেকে চারা তৈরি করা হয়।
গোলাপ গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। অতিরিক্ত পানির কারণে গোলাপ গাছের মূল পচে গিয়ে গাছ মারা যেতে পারে। এ কারণে কোনো সময়ই গোলাপের কেয়ারিতে পানি জমতে দেওয়া উচিত নয়।
বা রোপণের পর চারাটি একটি শক্ত খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হয়। যাতে করে চারাটি হেলে না পড়ে এবং উপযুক্ত ডালপালাসহ সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
প্রুনিং হলো গাছের ডালপালা ছাঁটাই করা। গোলাপ গাছে প্রুনিং না করলে গাছের গঠন কাঠামো সুন্দর ও সুদৃঢ় হয় না এবং অধিক হারে ফুল ফোটে না। তাই গাছের কাঠামো সুন্দর করা এবং অধিক হাড়ে ফুল ধরানো নিশ্চিত করতে গোলাপ গাছে প্রুনিং করা জরুরি।
গোলাপ গাছে যেসব 'পোকা দেখা যায় তন্মধ্যে ২টি প্রধান
পোকা হচ্ছে-
১. রেড স্কেল ও ২. বিটল।
রেড স্কেল পোকার ২টি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. এ পোকা দেখতে অনেকটা মরা চামড়ার মতো।
২. এ পোকা গাছের বাকলের রস চুষে খায়।
গোলাপ গাছের ২টি রোগ হলো-
১. কালো দাগ পড়া রোগ ও
২. ডাইব্যাক।
গোলাপ গাছকে ডাইব্যাক মুক্ত রাখাতে আক্রান্ত কাণ্ড বা ডালের বেশ নিচ থেকে কেটে পুড়ে ফেলতে হবে। এছাড়া ডাল ছাঁটাইয়ের জন্য ব্যবহৃত চাকু জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে ডাল ছাঁটাই করতে হবে এবং কর্তিত স্থানে স্পিরিট দিয়ে মুছে দিতে হবে।
গোলাপের কালো দাগ পড়া রোগের ২টি লক্ষণ নিম্নরূপ-
১. রোগাক্রান্ত গাছের পাতায় গোলাকার কালো রঙের দাগ পড়ে।
২. আক্রান্ত গাছের পাতা ঝরে গিয়ে গাছ পত্রশূন্য হয়ে যায়।
বাংলাদেশে তিন জাতের বেলি ফুল দেখা যায়। যথা-
১. সিঙ্গেল আকারের ও অধিক গন্ধযুক্ত,
২. মাঝারি আকার ও ডবল ধরনের এবং
৩. বৃহদাকার ডবল ধরনের।
বেলি ফুলে খুব চমৎকার ঘ্রাণ আছে। তাই বাংলাদেশের অধিকাংশ উৎসব অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ফুলের তোড়া, ফুলের মালাতে সুগন্ধী ফুল হিসেবে বেলির কদর আছে। তাই উৎসব ও অনুষ্ঠানে বেলিফুল ব্যবহৃত হয়।
বেলি ফুল গাছে তেমন ক্ষতিকারক কীট দেখা যায় না। তবে মাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। এদের আক্রমণে পাতায় সাদা আস্তরণ পড়ে। আক্রান্ত পাতাগুলো কুঁকড়ে যায় ও গোল হয়ে পাকিয়ে যায়।
দেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষকৃত কলার ২টি জাতের নাম হচ্ছে-
১. অমৃতসাগর ও
২. সবরি।
কলার উৎপাদন প্রযুক্তি বলতে মাটি ও জমি তৈরি, রোপণের সময় ও চারা রোপণ, সার প্রয়োগ পদ্ধতি, অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা ইত্যাদিকে বোঝায়।
বছরে তিন মৌসুমে কলা চাষ করা হয় বা কলার চারা রোপণ
করা হয়। যথা-
১. আশ্বিন-কার্তিক,
২. মাঘ-ফাল্গুন ও
৩. চৈত্র-বৈশাখ।
কলা চাষে সাধারণত দু'ধরনের তেউড় দেখা যায়। যথা: অসি তেউড় ও পানি তেউড়। কলা চাষের জন্য অসি তেউড় সবচেয়ে উপযোগী। কারণ অসি তেউড়ের গোড়া বেশ মোটা হয় কিন্তু আগায় তরবারির মতো লম্বা পাতা থাকে। মাতৃগাছের ঠিক গোড়া থেকে অসি তেউড় বের হয়। এদের পাতা সরু, সুচালো এবং শক্ত ধরনের।
অসি তেউড়-এর বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. চারাটির গোড়ার দিকে মোটা এবং ক্রমশ উপরের দিকে সরু হতে থাকে।
২. চারাটির পাতা সরু, সুচালো এবং অনেকটা তলোয়ারের মতো
অসি তেউড়-এর বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. চারাটির গোড়ার দিকে মোটা এবং ক্রমশ উপরের দিকে সরু হতে থাকে।
২. চারাটির পাতা সরু, সুচালো এবং অনেকটা তলোয়ারের মতো।
অসি তেউড় ও পানি তেউড়ের মধ্যে পার্থক্য হলো-
| অসি তেউড় | পানি তেউড় |
| ১. অসি তেউড়ের গোড়ার দিকে মোটা এবং ক্রমশ উপরের দিকে সরু হতে থাকে। | ১. পানি তেউড়ের আগা গোড়া সমান থাকে। |
| ২. অসি তেউড়ের পাতা সরু, সুচালো এবং অনেকটা তলোয়ারের মতো। | ২. পানি তেউড়ের পাতা প্রশস্ত। |
কলা চাষে পানি নিকাশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কলাগাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। অতিরিক্ত পানি সরবরাহ কিংবা দণ্ডায়মান পানির প্রভাবে কলাগাছ মারা যায়। এজন্য বর্ষাকালে যেন অতিরিক্ত পানি জমতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় নালা কেটে দিতে হয়।
কলা গাছে থোড় আসার পর গাছ ভারী হয়। এমতাবস্থায় গাছ যেন বাতাসে ভেঙে না যায় সেজন্য বাতাসের বিপরীত দিক থেকে কলাগাছে ঠেস দেওয়া জরুরি। এ কারণেই কলাগাছে বাঁশ বা গাছের ডাল দিয়ে খুঁটি বেঁধে দেওয়া হয়।
কলাগাছের সিগাটোগা রোগের ২টি লক্ষণ হলো-
১. পাতার উপর গোলাকার বা ডিম্বাকৃতির গাঢ় বাদামি রঙের দাগ পড়ে।
২. আক্রমণ ব্যাপক হলে পাতা ঝলসে যায় এবং সমস্ত পাতা আগুনে পুড়ার মতো দেখায়।
কলার ছত্রাকজনিত একটি রোগ হলো পানাম রোগ। এর লক্ষণগুলো হলো- এ রোগের আক্রমণে গাছের পাতা হলদে হয়ে যায়।
পাতা বোঁটার কাছে ভেঙে ঝুলে যায় এবং কান্ড অনেক সময় ফেটে যায়।
আনারসের ২টি জাত হচ্ছে-
১. হানিকুইন-ও
২. জায়েন্ট কিউ।
আনারসের চার ধরনের চারার নাম হলো-
১. মুকুট চারা, ২. বোটা চারা, ৩. পার্শ্ব চারা ও ৪. ভূঁয়ে চারা।
আনারসের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ পর্যন্ত। চারা রোপণের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৪০ সে. মি. এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৩০ ৪০ সে. মি. বজায় রাখতে হবে।
সিলুরিফরমিস বর্গের অন্তর্ভুক্ত মাছ যাদের শরীরে আঁশ নেই এবং মুখে বিড়ালের ন্যায় লম্বা গোঁফ বা শুঁড় আছে তাদেরকে ক্যাটফিশ বলে। প্রাকৃতিক জলজ পরিবেশ বিপর্যয় ও অত্যধিক আহরণের কারণে বর্তমানে ক্যাটফিশ জাতীয় মাছের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে।
ক্যাটফিশ জাতীয় মাছের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এ মাছের দুজোড়া গোঁফ থাকে। এর মধ্যে এক জোড়া বেশ লম্বা।
২. এ ধরনের মাছ আঁইশবিহীন হয়।
শিং ও মাগুর মাছের মধ্যে ২টি মিলগত বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. দেহ লম্বাটে।
২. সামনের দিক নলাকার, পিছনের দিক চ্যাপ্টা ও আঁইশবিহীন।
শিং ও মাগুর মাছের ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
শিং মাছ | মাগুর মাছ |
১. আকারে ছোট। | ১. শিং মাছের তুলনায় বড়। |
২. গায়ের রং ছোট অবস্থায় বাদামি এবং বড় অবস্থায় ধূসর কালচে। | ২. গায়ের রং ছোট অবস্থায় বাদামি খয়েরি ও বড় হলে ধূসর বাদামি। |
শিং মাছের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ফুলকা ছাড়াও অতিরিক্ত একটি শ্বসনতন্ত্র আছে যার মাধ্যমে এরা বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নিতে পারে। ফলে এরা অল্প অক্সিজেনযুক্ত পানি বা পানি ছাড়াও দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে।
শিং মাছের মাথার দুই পাশে দুটি কাঁটা আছে। পার্শ্বীয় এ কাঁটা দুটি বিষাক্ত হয়। এজন্যই শিং মাছের কাঁটা খেলে আক্রান্ত স্থানে ব্যথা অনুভব হয়।
শিং ও মাগুর চাষের ২টি সুবিধা নিম্নরূপ-
১. এদের চাষ পদ্ধতি সহজ।
২. অল্প পানিতে ও অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায়।
মাগুর মাছ সামান্য বৃষ্টি বা বন্যা হলে প্রায়ই হেঁটে (গড়িয়ে) পুকুর থেকে বাইরে চলে যায়। মাগুর মাছের এ চলে যাওয়া রোধ করতেই পুকুরের চারদিকে বেষ্টনী দিতে হয়। এছাড়া বেষ্টনী দেওয়ার ফলে পুকুরে সাপ বা ব্যাঙ প্রবেশ করে মাছের ক্ষতি করতে পারে না।
শিং ও মাগুর মাছে সাধারণত কোনো রোগ হয় না। তবে মাঝে মাঝে শীতকালে ক্ষতরোগ দেখা যায়। এ রোগ হলে পুকুরে ১- ১.৫ মিটার গভীরতায় শতকে ১ কেজি হারে চুন ও ১ কেজি লবণ প্রয়োগ করলে আক্রান্ত মাছগুলো ২ সপ্তাহের মধ্যে আরোগ্য লাভকরে। আগাম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে শীতের শুরুতে একই হারে চুন ও লবণ প্রয়োগ করলে শীতকালে এ রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
মাছের পেট ফোলা রোগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এ
রোগ হলে-
১. মাছের পেট ফুলে যায়।
২. মাছ ভারসাম্যহীনভাবে চলাচল করে ও পরিশেষে মৃত্যু ঘটে।
পাবদা মাছের ২টি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. দেহ চ্যাপ্টা ও সামনের দিকের চেয়ে পিছনের দিক ক্রমাগত সরু।
২. মুখ বেশ বড় ও বাঁকানো।
গুলশা মাছের ২টি দৈহিক বৈশিষ্ট্য হলো-
১. দেহ পার্শ্বীয়ভাবে চ্যাপ্টা।
২. পিঠের অংশ বাঁকানো।
পাবদা ও গুলশা মাছের ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ:
পাবদা | গুলশা |
১. মুখ বেশ বড়। | ১. মুখ বেশ ছোট। |
২. মুখে দুই জোড়া গোঁফ আছে। | ২. মুখে চার জোড়া গোঁফ আছে। |
মাছ চাষের দুটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব হচ্ছে-
১. পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়।
২. আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মাছ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় প্রায় ৬০% আমিষের যোগান দেয় মাছ। বিভিন্ন জাতের ছোট মাছ যেমন- মলা, ঢেলা, কাচকি মাছে প্রচুর ভিটামিন 'এ' পাওয়া যায়। মাছের কাঁটায় প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায়, যা দেহের হাড় গঠনে সাহায্য করে।
বাংলাদেশে অনেক পতিত পুকুর, ডোবা ও নালা রয়েছে যা দিনের পর দিন অব্যবহৃত থাকছে অর্থাৎ মাছ চাষ করা হয় না। যদি এসব জলাশয়ে মাছ চাষ করা হয় তাহলে একদিকে যেমন গ্রামের গরিব ও স্বল্প আয়ের লোকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে অন্যদিকে দেশের আর্থিক অগ্রগতিও সাধিত হবে। এভাবে মাছ চাষের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।
সমন্বিত চাষে ফসল নির্বাচনে ২টি বিবেচ্য বিষয় নিম্নরূপ-
১. পাড়ে বড় গাছ লাগানো যাবে না।
২. বড় শাখাযুক্ত গাছ লাগানো যাবে না।
সমন্বিত চাষ পদ্ধতিতে একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল চাষ বা উৎপাদন করা যায়। অর্থাৎ প্রতিটি ফসল চাষের জন্য আলাদা সময়ে আলাদা যে জায়গার প্রয়োজন হয় তা সমন্বিত চাষ পদ্ধতিতে থাকে না। যদি ফসলগুলোর কোনো একটি নষ্ট হয়ে যায় অথবা উৎপাদন ব্যাহত হয় তবুও অন্য ফসলের উৎপাদন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। অর্থাৎ সমন্বিত চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।
সমন্বিত চাষাবাদ পদ্ধতিতে একই সাথে কয়েকটি ফসল চাষ করা হয়। যদি এসব' ফসলের কোনো একটি নষ্ট হয়ে যায় অথবা উৎপাদন ব্যাহত হয় তবুও অন্য ফসলের উৎপাদন কার্যক্রমের মাধ্যমে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। তাই সমন্বিত চাষাবাদ পদ্ধতিতে ঝুঁকি কম।
হাঁস পুকুরে সাঁতার কাটার সময় বাতাস থেকে অক্সিজেন পানিতে মিশে যায়। এ অক্সিজেন মাছের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। খাদ্যের অন্বেষণে হাঁস পানিতে ডুব দিয়ে পুকুরের তলার মাটি নাড়াচাড়া করে মাটির সারবস্তু পানিতে মিশিয়ে দেয়। ফলে পানির উৎপাদিকা শক্তি বেড়ে যায়। হাঁস যখন পুকুরের তলার মাটি নাড়াচাড়া করে তখন সেখানকার মাটিতে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বের হয়ে
আসে। এর ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
সমন্বিত চাষে পুকুরের উপর ঘর তৈরি করে হাঁস-মুরগি পালন করা হয়। হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি পুকুরে পড়ে যা মাছ চাষের জন্য উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে কাজ করে। এ কারণেই এ ধরনের চাষে সার প্রয়োগের দরকার হয় না।
শিম জাতীয় গাছ হলো লতানো উদ্ভিদ এবং এদের অনেক ডালপালা হয়ে ছড়িয়ে যায়। তাই শিম জাতীয় গাছের ক্ষেত্রে বাঁশ দিয়ে খুঁটি বা মাচা দেওয়ার প্রয়োজন হয়। মাচার উপরে উঠে গাছ ডালপালা বিস্তার করে বড় হয় এবং ফল দেয়।
পুকুর পাড়ে ফসল ফলানোর ২টি সুবিধা নিম্নরূপ-
১. পুকুরের পাড় সাধারণত পুকুরের তলায় মাটি দ্বারা গঠিত হয়, তাই এটি যেকোনো ধরনের ফসলের জন্য খুব উর্বর।
২. উৎপাদিত ফসলের মূল পাড়ের মাটি আটকে রাখে ও ক্ষয়রোধে সাহায্য করে।
ধান ক্ষেতে চিংড়ি চাষে ডোবা ও নালা তৈরির সুবিধা হচ্ছে-
১. ক্ষেতের পানি কমে গেলে বা খুব গরম হয়ে গেলে চিংড়ি মাছ গর্ত ও নালার অপেক্ষাকৃত গভীরে ঠান্ডা পানিতে আশ্রয় নিতে পারে।
২. আগাছা পরিষ্কার বা মাছ ধরার প্রয়োজন হলে জমির পানি শুকিয়ে মাছগুলোকে নালা বা ডোবায় এনে তা সহজেই করা যায়।
ধানের সাথে মাছ ও চিংড়ির সমন্বিত চাষের ক্ষেত্রে ধানের চারা সারিবদ্ধভাবে রোপণ করতে হবে। এতে মাছ ও চিংড়ির চলাচলে সুবিধা হয় এবং পানিতে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পড়তে পারে ফলে দ্রুত মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হতে পারে।
ধান ক্ষেতে পানি ও অক্সিজেন কম থাকায় উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে ও কম অক্সিজেনে বাঁচতে পারে এমন মাছ নির্বাচন করতে হবে। যেমন- কার্পিও, সরপুঁটি, তেলাপিয়া উপযুক্ত মাছ এবং এগুলো ধান চাষকালীন সময়ের মধ্যেই খাওয়ার উপযোগী হয়। তবে গ্রাস কার্প ধান গাছ খেয়ে ফেলে বলে ধান ক্ষেতে ছাড়া উচিত নয়।
যেহেতু ধান ক্ষেতে খুব বেশি পানি থাকে না তাই কম পানিতে ও কম অক্সিজেনে বাঁচতে পারে, উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এবং সেই সাথে ধান চাষকালীন সময়ের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয় এরূপ দ্রুত বর্ধনশীল মাছ নির্বাচন করতে হবে। যেমন- কার্পিও, সরপুঁটি, তেলাপিয়া ইত্যাদি। তবে গ্রাস কার্প ছাড়া যাবে না কারণ এরা ধান গাছ খেয়ে ফেলতে পারবে।
সরপুঁটি মাছ দ্রুত বর্ধনশীল। এটি ধান চাষকালীন সময়ের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়। এছাড়া সরপুঁটি মাছ কম পানিতে ও কম অক্সিজেনে বাঁচতে পারে, উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এ কারণে ধানের সাথে সরপুঁটি মাছের সমন্বিত চাষ করা হয়।
হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষে ৮ ১২ সেমি আকারের মাছের পোনা ছাড়তে হয়।
ধানক্ষেতে মাছ চাষে গ্রাসকার্প ছাড়লে, সেই মাছ ধান গাছের কুশি ও ধান গাছ খেয়ে ফেলতে পারে। এতে করে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ধানক্ষেতে মাছ চাষে গ্রাসকার্প মাছ ছাড়া উচিত নয়।
ধানের সাথে মাছ চাষ করলে কীটনাশক দেওয়া উচিত নয়। কারণ এই কীটনাশকের প্রভাবে মাছ/মাছের পোনা মারা যাবে। তবে কীটনাশক প্রয়োগ অত্যাবশ্যক হলে ক্ষেতের পানি কমিয়ে মাছকে ডোবা/নালায় আটকিয়ে তা করতে হবে।
গোয়াল ঘর হলো পশুর বাসস্থান। গোয়াল ঘরের অনেক সুবিধা রয়েছে। গোয়াল ঘরে একক বা দলগতভাবে পশু পালন করলে ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হয় ও উৎপাদন খরচ কমে আসে।
চারটি উন্নত জাতের গাভীর নাম নিম্নরূপ-১. হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান, ২. জার্সি, ৩. শাহিওয়াল ও ৪. সিন্ধি
স্বাস্থ্যসম্মত লালনপালনের ২টি ব্যবস্থা নিম্নরূপ-
১. বাসস্থান নির্মাণে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা ও দুর্যোগ নিবারণ করা।
২. খাদ্য ও পানির পাত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
গাভী তড়কা, বাদলা, ক্ষুরা রোগ, গলাফোলা, রিন্ডারপেস্ট, ম্যাস্টাইটিস, পরজীবী ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যদি গাভীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয় তাহলে অসুস্থ গাভীকে শনাক্ত করা যায় এবং তার চিকিৎসা করা সম্ভব হয়। এছাড়াও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গাভীর উপযুক্ত খাদ্য, পুষ্টি ও প্রতিষেধক টিকার ব্যবস্থা করা যায়।
গর্ভকালীন সময়ে গাভির ভেতরে বাচ্চা বড় হয়ে উঠে। এ সময়ে গাভির প্রতি সামান্য অবহেলায় বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি গাভি প্রজনন ও গর্ভধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। এসব কারণেই গর্ভকালীন সময়ে গাভির বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত।
শাল দুধ বাছুরের জন্য খুবই উপকারী। শাল দুধে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে। এতে করে বাছুরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।
বাচ্চা প্রসবের পর পরই যে দুধ প্রথম ওলানে আসে তাকে শাল দুধ বলে। বাছুর প্রসবের পরপরই বাছুরকে গাভীর শাল দুধ খেতে দিতে হবে। শাল দুধ খেলে বাছুরের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। প্রথম ৩ সপ্তাহ বাছুরকে প্রচুর দুধ খাওয়াতে হয়।
বাছুরের জন্মের পরপরই করণীয় প্রধান দুটি কাজ হলো:
১. বাছুর জন্মের পর পরই তাকে শুকনো খড় বা ছালার উপর রেখে নাক মুখের শ্লেষ্মা পরিষ্কার করে দিতে হবে যাতে বাছুরের শ্বাস-প্রশ্বাসে সুবিধা হয়।
২. বাছুর প্রসবের পরপরই তাকে গাভীর শাল দুধ খেতে দিতে হবে। শাল দুধ খেলে বাছুরের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
সাধারণত জন্মের পর থেকে এক বছরের বেশি বয়সের গরু মহিষের বাচ্চা বাছুর নামে পরিচিত। দুগ্ধ খামারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে বাছুরের সন্তোষজনক অবস্থার উপর। কেননা আজকের বাছুরই ভবিষ্যতের দুধ উৎপাদনশীল গাভী, উন্নতমানের প্রজনন উপযোগী বাঁড় কিংবা মাংস উৎপাদনকারী গরু। এ কারণেই, পশুপালন বিজ্ঞানে বাছুর পালন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাছুরের বাসস্থানের জায়গা এমন হতে হবে যেন ঘরে প্রচুর পরিমাণে আলো ও বাতাস প্রবেশ করে। বাছুরের বাসস্থান কাঁচা বা পাকা হতে পারে, তবে এতে মলমূত্র নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাছুরের খোপে খড় বিচালি দিয়ে বিছানা তৈরি করতে। হবে। মেঝে পাকা হলে তা যেন কর্দমাক্ত ও স্যাঁতসেঁতে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
বাছুর জন্মের পরপরই বস্তার উপর রেখে নাক-মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এরপর শরীর পরিষ্কার করার জন্য গাভীর সামনে দিতে হবে। বাছুরের নাভী রজ্জু ঝরে না গেলে নাভী থেকে ৫ সেমি দূরে ব্লেড দিয়ে কেটে স্যাভলন বা টিংচার আয়োডিন লাগাতে হবে।
ভেড়া পালন লাভজনক। কারণ ভেড়ার প্রজনন ক্ষমতা বেশি, ১৫ মাসে ২ বার বাচ্চা দেয়। তাই ভেড়া পালন শুরু করলে কয়েক বছরের মধ্যে - খামারের আকার বড় হয়ে ওঠে এবং ব্যবসায় লাভবান হওয়া যায়। এরা শুধু ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে, অল্প পরিমাণ দানাদার খাদ্য লাগে। তাই পালন খরচ কম। ভেড়ার মাংস ও পশমের জন্য পালন করা হয়।
ভেড়ার পশমের ২টি ব্যবহার নিম্নরূপ :
১. ভেড়ার পশম দিয়ে কম্বল, শাল, সোয়েটার, জ্যাকেট তৈরি করা হয়।
২. মোটা পশম কার্পেট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।
ভেড়া মূলত পশম ও মাংসের জন্য পালন করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে ভেড়ার তেমন কোনো ভালো জাত নেই। বাংলাদেশের ভেড়া মোটা পশম উৎপাদন করে বিধায় তা পশম উৎপাদনের জন্য জনপ্রিয় নয়।
ভেড়া একটি অর্থনৈতিক গুণাগুণসম্পন্ন প্রাণী। ভেড়া পালন শুরু করলে কয়েক বছরের মধ্যে খামারের আকার বড় হয়ে ওঠে এবং ব্যবসায় লাভবান হওয়া যায়। এরা শুধু ঘাস খেয়েই বেঁচে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে চারণভূমি ও উদ্যোগের অভাবে ভেড়ার পালন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে নি।
ভেড়ার জন্য বাসস্থান তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ এরা খাবারের জন্য সারাদিন মাঠে ঘুরে বেড়ায়। তবুও রাতের বেলায় বিশ্রাম নেওয়া, বন্যপ্রাণীর হাত থেকে রক্ষা, ঝড় ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা, বেশি উৎপাদনক্ষম বেড়ার দুগ্ধ দোহন করা ইত্যাদি কাজের জন্য ভেড়ার বাসস্থান প্রয়োজন হয়।
ভেড়ার ঘর দক্ষিণমুখী হওয়ার কারণ হচ্ছে এতে সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করবে। ফলে ঘরটি শুকনো থাকবে এবং বায়ু চলাচলের সবিধা হবে।
ভেড়া পালনের জন্য তিন ধরনের ঘর ব্যবহার করা হয়।
যথা-
১. উন্মুক্ত ঘর,
২. আধা উন্মুক্ত ঘর ও
৩. আবদ্ধ ঘর।
উন্মুক্ত ঘরের নির্দিষ্ট স্থানের এক কোণে কিছু জায়গা যখন ছাদসহ তৈরি করা হয় তখন তাকে আধা-উন্মুক্ত ঘর বলে। যেসব এলাকায় মাঝে মধ্যে বষ্টি হয়, সেখানে আধা উন্মুক্ত ঘর ব্যবহার করা হয়।
উন্মুক্ত ঘর ও আবন্ধ ঘরের ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
| উন্মুক্ত ঘর | আবদ্ধ ঘর |
| ১. এ ধরনের ঘরে ছাদ থাকে না। | ১. এ ঘরের পুরো অংশেই ছাদ থাকে। |
| ২. কম বৃষ্টিপাত অঞ্চলে এ ধরনের ঘর উপযোগী। | ২. প্রচুর বঝড় বৃষ্টি অঞ্চলে আবদ্ধ ঘর বেশি উপযোগী। |
ভেড়াকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য এবং এদের দেহ থেকে বেশি উৎপাদন পাওয়ার জন্য পরিচর্যা করা আবশ্যক। এজন্য নিয়মিত ব্রাশ দিয়ে ভেড়ার পশম পরিষ্কার করতে হবে। এতে পশমের ময়লা বেরিয়ে আসবে। ভেড়ার দেহে মাঝে মধ্যে বহিঃপরজীবীনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
হাঁস পালনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। যেমন-
১. উন্মুক্ত পদ্ধতি,
২. অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতি,
৩. আবদ্ধ পদ্ধতি ও
৪. ভাসমান পদ্ধতি।
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালনের ২টি সুবিধা নিম্নরূপ-
১. শ্রমিক কম লাগে।
২. খাদ্য খরচ কম।
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁসকে কোনো খাবার দেওয়া হয় না। কারণ, এরা সারাদিন প্রাকৃতিক উৎস থেকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য যেমন- ছোট মাছ, শামুক, জলজ উদ্ভিদসহ বিভিন্ন দানাশস্য ও কীটপতঙ্গ নিজেরাই সংগ্রহ করে খায়। এই পদ্ধতিটি হচ্ছে হাঁস পালনের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এ পদ্ধতিতে হাঁস পালন করা হয়ে থাকে।
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালনের দুটি অসুবিধা নিম্নরূপ-
১. অনেক পতিত জমি ও জলমহলের প্রয়োজন হয়।
২. বন্য পশুপাখি দ্বারা হাঁসের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আবদ্ধ পদ্ধতিতে হাঁস পালনের দুটি সুবিধা:
১. খাদ্য গ্রহণ সমভাবে হয়।
২. সহজে রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতিতে হাঁস পালনের সুবিধা:
১. হাঁস সাঁতার কাটার সুযোগ পায়।
২. দৈহিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়।
৩. শ্রমিক কম লাগে।
৪. খাদ্য গ্রহণ সমভাবে হয়।
অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতিতে হাঁস পালনের দুটি সুবিধা নিম্নরূপ-
১. এখানে হাঁস সাঁতার কাটার সুযোগ পায়।
২. খাদ্য গ্রহণ সমভাবে হয়।
ভাসমান পদ্ধতিতে হাঁস পালনের সুবিধা অনেক। যেমন-খাদ্য খরচ কম, শ্রমিক কম লাগে, পরিবেশের সাথে অভিযোজন ভালো হয়, হাঁস সাঁতার কাটার সুযোগ পায়, নিচু ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় এ পদ্ধতি খুবই সুবিধাজনক। এসকল কারণে ভাসমান পদ্ধতিতে হাঁস পালন করা হয়।
বাংলাদেশে যত ফল আছে তন্মধ্যে স্বাদের দিক থেকে আমের অবস্থান প্রথম। এবং আম নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ফসল যা আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে মিলে যায়। আর বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ আম উৎপাদনে অষ্টম। আমের স্বাদ আর উৎপাদনের প্রচুরতার জন্য আমকে ফলের রাজা বলা হয়।
নারিকেলের ২টি ব্যবহার নিম্নরূপ-
১. নারিকেল ফলের ভিতরের অংশ মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
২. নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে দড়ি, মাদুর প্রভৃতি তৈরি হয়।
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায়ই কম বেশি আম জন্মে। তবে বেশি আম উৎপাদনকারী জেলাগুলো হচ্ছে- বৃহত্তর রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও খুলনা। মোট আমের শতকরা ৮০ ভাগের বেশি বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় উৎপাদন হয়।
বাঁশ শিল্পকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যথা-
১। কাগজ শিল্প,
২। নির্মাণ শিল্প ও
৩। ক্ষুদ্র হস্তশিল্প।
যারা গরিব তাদের সামর্থ্য নেই যে কাঠ দিয়ে ঘর এবং ঘরের আসবাব তৈরি করবে। তাদের একমাত্র ভরসা বাঁশ। বাঁশ দামে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় এর মাধ্যমেই তারা ঘর এবং আসবাব তৈরি করে। এ কারণেই বাঁশকে গরিবের কাঠ বলা হয়।
বাঁশের দুটি জাতের নাম হচ্ছে-
১। মুলি বাঁশ ও ২। সোনালি বাঁশ।
বেত পাম জাতীয় উদ্ভিদ হলেও তাল ও নারিকেল গাছের মতো শক্ত নয়। এটা মূলত লতা জাতীয় উদ্ভিদ। অন্যান্য লতা জাতীয় উদ্ভিদের মতো এর আরোহণের জন্য অন্য গাছের সাহায্য অপরিহার্য।
বেতের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. কাঁটাযুক্ত লতা ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ।
২. এর ফল হয় যা বেত ফল নামে পরিচিত।
বেতের হালকা নির্মাণশিল্প বলতে বোঝায় মোটা বেতের আসবাবপত্র যা হালকা ভার বহন করতে পারে। হালকা নির্মাণশিল্পের প্রধান উদাহরণ হচ্ছে- সোফাসেট, চেয়ার, খাট, পার্টিশন, শেলফ, টেবিল ইত্যাদি।
ছেলে মেয়েদের পেটের অসুখ, বিশেষ করে বদহজম ও আমাশয় রোগ নিরাময়ে থানকুনি, খুব বেশি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া থানকুনি আয়ুবর্ধক, স্মৃতিবর্ধক, আমরক্তনাশক, চর্মরোগনাশক।
তুলসীর ২টি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। তুলসী বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ।
২। পাতা সরল, প্রতিমুখ, ডিম্বাকার, সুগন্ধযুক্ত।
অর্জুন একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এর ছাল খেলে বিভিন্ন রোগের উপশম হয়। যেমন- এর ছাল ভালোভাবে বেটে তার রস চিনি ও দুধের সাথে প্রত্যহ সকালে সেবন করলে যাবতীয় হৃদরোগ ভালো হয়। ছালের রস সেবনে উদরাময় ও অর্শ রোগের উপশম হয়। নিম্ন রক্তচাপ থাকলে অর্জুনের ছাল সেবনে উপকার হয়। রক্ত আমাশয়ে অর্জুনের ছালের চূর্ণ দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে নিরাময় হয়।
চারটি ভেষজ উদ্ভিদের নাম নিম্নরূপ
১. থানকুনি,
২. তুলসী,
৩. হরীতকী ও
৪. সর্পগন্ধা।
বহেড়ার ২টি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. পাতা একক, বোঁটা লম্বা।
২. ফুল সবুজাভ সাদা, ডিম্বাকার।
আয়ুর্বেদিক ঔষধ ত্রিফলার অন্যতম ফল হরীতকী। হরীতকী ফল চূর্ণ করে একটু লবণ মিশিয়ে সেবন করলে অর্শ রোগ নিরাময় হয়। যে কোনো ক্ষতে হরীতকী পোড়া ছাইয়ের সাথে মাখন মিশিয়ে লগালে ঘা সেরে যায়। এছাড়াও হরীতকীর ফল রক্তশূন্যতা দূর করে।
কালোমেঘ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. এটি একটি ছোট বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ।
২. সাধারণত ২০ সে. মি. থেকে ১ মি. উঁচু হয়।
৩. পাতা সরল প্রতিমুখ, কিছুটা লম্বা ধরনের।
৪. পাতা তিতা হয়।
আমলকী ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ এবং ত্রিফলার একটি ফল। এর ফলের রস যকৃৎ, পেটের পীড়া, অজীর্ণতা, হজম ও কাশিতে বিশেষ 'উপকারী। এছাড়াও আমলকীর ফল ত্রিফলার সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে রক্তহীনতা, জন্ডিস, চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, চুল পড়া প্রভৃতি রোগের উপশম হয়। এসব ঔষধি গুণাগুণের কারণেই আমলকীর ফল খাওয়া হয়।
Related Question
View Allপালংশাকের একটি জাতের নাম হলো সবুজ বাংলা।
ইউরিয়া নাইট্রোজেনঘটিত রাসায়নিক সার যা পালংশাক চাষে ব্যবহৃত হয়।
ইউরিয়া সার গাছকে সবল, সতেজ ও ঘন সবুজ করে। এমনকি সালোকসংশ্লেষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান তৈরি করে। চারা গজানোর ৮-১০ দিন পর থেকে শুরু করে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ কিস্তিতে ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করলে গাছ রসালো হয় এবং দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এতে বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়। তাই পালংশাক চাষে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হয়।
আয়শা বেগম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বাড়ির আঙিনায় পালংশাক চাষ করেন।
জৈব সারকে মাটির প্রাণ বলা হয়। সাধারণত পচা গোবর, হাঁস মুরগির বিষ্ঠা, কম্পোস্ট, কচুরিপানা, খড়কুটা, আবর্জনা পচা ইত্যাদি জৈব সার হিসেবে জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়া ছাড়া সকল সার জমি প্রস্তুতির শেষে দিতে হয়। শুধুমাত্র জৈব সার জমি তৈরির প্রথমে প্রয়োগ করতে হয়। আয়শা বেগম ৫ শতক জমিতে পালংশাক চাষ করেছিলেন। পালংশাকে শতক প্রতি ৪০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। সে অনুযায়ী আয়শা বেগমের জমিতে ৪০×৫=২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োজন।
অর্থাৎ, আয়শা বেগম তার জমিতে ২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করেছিলেন।
আয়শা বেগম তার বিলে অবস্থিত জমিগুলোর উঁচু আইলে পালংশাক চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। তার এই পরিকল্পনা কৃষি কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।
কৃষি প্রধান এ বাংলাদেশে জনসংখ্যার আধিক্যে ফসলি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কৃষি জমি খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার কারণে জমির মাঝখান দিয়ে আইল উঠছে। আইলগুলো ফসলহীন থাকার কারণে কৃষি জমির একটা সিংহভাগ অব্যবহৃত থাকছে।
আয়শা বেগমের বাড়ি বিল অঞ্চলে। এ সব অঞ্চলে সাধারণত শাক- সবজি করার মতো উঁচু জমির যথেষ্ট অভাব। এ ক্ষেত্রে জমির উঁচু আইল সহায়ক ভূমিকা পালন করে। উঁচু আইলে আগাম পালংশাকের বীজ বপন করা যায়। জমির আইলে পালংশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করলে তা একদিকে যেমন আয়শার পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে অন্যদিকে দেশের শাকসবজির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপরন্তু আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন আয়েশা বেগম।
পরিশেষে বলা যায়, আয়শা বেগমের পরিকল্পনা কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।
একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে সমন্বিত চাষ বলে।
সমন্বিত চাষে একই ভূমিতে একই সার্থে অনেকগুলো ফসল একত্রে পরিকল্পনামাফিক চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সমন্বিত চাষের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ফসলের জন্য পৃথক কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। যেমন- পুকুরে মাছ ও হাঁস চাষ। এতে অপচয় কম হওয়ায় জমির ব্যবহার সর্বোচ্চ হয়। কেননা জমির পতিত অংশ বা ফাঁকা অংশ কম থাকে বলে এ ধরনের চাষে ভূমির ব্যবহার দ্বিগুণ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!