সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে অর্থের মূল্যের পরিবর্তনকে অর্থের সময়মূল্য বলে। আজকের ১০০ টাকার মূল্য ১ বছর পরের ১০০ টাকার সমান নয়। অর্থাৎ আজকের ১০০ টাকা অধিক মূল্যবান। এটাই অর্থের সময়মূল্যের ধারণা।
সুদ-আসলের ওপর যে সুদ প্রদান করা হয় তাকে চক্রবৃদ্ধি সুদ বলে। চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের শেষে প্রাপ্ত সুদাসলকে পরবর্তী নির্দিষ্ট সময়ে আসল ধরে তার ওপর সুদ ধার্য করা হয়।
বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর প্রতি বছর যে হারে সুদ অর্জিত হয় তাকে সুদের হার বলা হয়। অর্থের সময়মূল্যের পরিবর্তনের মূল কারণ সুদের হার। সুদের হারের পরিবর্তনের সাথে অর্থের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মূল্যের পরিবর্তন হয়।
ঋণগ্রহীতা প্রকৃতপক্ষে যে হারে সুদ প্রদান করে তাকে প্রকৃত সুদের হার বলে। বছরে একাধিকবার চক্রবৃদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে প্রকৃত সুদের হার নির্ণয় করতে হয়। চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রকৃত 'সুদের হার বৃদ্ধি পায় এবং চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা হ্রাস পেলে প্রকৃত সুদের 'হার হ্রাস পায়।
কোনো একটি প্রকল্পে বিনিয়োগের ফলে অন্য কোনো প্রকল্পের আয়ের সুযোগ ত্যাগ করাকে সুযোগ ব্যয় বলে। ধরা যাক, জমিতে বিনিয়োগের ফলে ব্যাংকে স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ সম্ভব হয়নি। এক্ষেত্রে স্থায়ী আমানতে ব্যাংক প্রস্তুত্ত ১০% সুদের হার হলো জমি ক্রয়ের সুযোগ ব্যয়।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে অর্থের মূল্য পরিবর্তনকে অর্থের সময়মূল্য বলে। আজকের ১০০ টাকার মূল্য ১ বছর পরের ১০০ টাকার সমান নয়। অর্থাৎ আজকের ১০০ টাকা অধিক মূল্যবান। এটাই অর্থের সময়মূল্যের ধারণা। অর্থের সময়মূল্য মূলত সময়ের পরিবর্তনের সাথে অর্থের মূল্য হ্রাস বা বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে অর্থের মূল্যের পরিবর্তনের মূল কারণ হলো সুদের হার। সুদের হারের কারণেই মূলত অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য ও বর্তমান মূল্যের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যদি সুদের হার ১০% হয়, তাহলে ১ বছর পরের ১০০ টাকার বর্তমান মূল্য হবে ৯০.৯১ টাকা। কিন্তু সুদের হার ২০% হলে একই ১০০ টাকার বর্তমান মূল্য হবে ৮৩.৩৩ টাকা। অতএব, সুদের হারের কারণেই সময়ের - পরিবর্তনের সাথে অর্থের মূল্যের পরিবর্তন হয়।
সমপরিমাণ অর্থ ভবিষ্যতের কোনো তারিখে পাওয়ার চেয়ে বর্তমান সময়ে পাওয়া বেশি পছন্দনীয়। একে অর্থের সময় পছন্দ বলে। আজকের ১০০ টাকা এক বছর পরের ১০০ টাকার সমান নয়। কারণ অর্থের সময়মূল্য আছে। কোনো ব্যক্তি অবশ্যই এক বছর পরের তুলনায় আজকের ১০০ টাকা, রেশি পছন্দ করবে। কারণ এতে কোনো বুঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা নেই। আবার সেই অর্থ বিনিয়োগ করারও সুযোগ আছে।
সমপরিমাণ অর্থের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অপেক্ষা বর্তমান নগদ টাকার মূল্য বেশি। বর্তমানে প্রাপ্ত নগদ অর্থ নির্দিষ্ট মুনাফার হারে বিনিয়োগের সুযোগ থাকে। এছাড়া মুদ্রাস্ফীতির ফলে ভবিষ্যতে প্রাপ্য অর্থের ক্ষয়ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। ফলে বর্তমান নগদ অর্থ দ্বারা কোনো পণ্য ভোগের সুবিধা পাওয়া যায়। তাছাড়া বর্তমান নগদ অর্থ গ্রহণে ঝুঁকি হ্রাস পায়। তাই ভবিষ্যৎ অপেক্ষা বর্তমান নগদ টাকার মূল্য বেশি।
বর্তমান মূল্য ও ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
| বর্তমান মূল্য | ভবিষ্যৎ মূল্য |
| ১. ভবিষ্যতে প্রাপ্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের আজকের মূল্য হলো বর্তমান মূল্য। | ১. বর্তমানে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সুদসহ মেয়াদ শেষে যে অর্থ দাঁড়ায় তাকে বলা হয় ভবিষ্যৎ মূল্য। |
| ২. বর্তমান মূল্য নির্ণয়ের হয়। প্রক্রিয়াকে বাট্টাকরণ বলা | ২. ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ণয়ের প্রক্রিয়াকে চক্রবৃদ্ধিকরণ বলা হয়। |
সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অর্থের সময়মূল্য নিরূপণ করা 'হয়। সময়ের পরিবর্তন ও সুদের হারের কারণে অর্থের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা জানতে ভবিষ্যতে প্রাপ্ত কোনো নগদ প্রবাহকে বর্তমান মূল্যে রূপান্তর করার প্রয়োজন অথবা বর্তমান মূল্যকে ভবিষ্যৎ মূল্যে রূপান্তর করার প্রয়োজন হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক সিদ্ধান্ত (আয় সিদ্ধান্ত, ব্যয় সিদ্ধান্ত, ঋণ সিদ্ধান্ত) সঠিকভাবে গ্রহণ করা যায়।
রুল ৭২ বলতে বার্ষিক চক্রবৃদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে যেকোনো পরিমাণ বিনিয়োগকৃত অর্থ কত বছরে বা কত % সুদে দ্বিগুণ হবে তা সংক্ষেপে নির্ণয় করার কৌশলকে বোঝায়। টাকা দ্বিগুণ হলে ৭২ কে 'মেয়াদ দিয়ে ভাগ করলে সুদের হার পাওয়া যায়। আবার ৭২ কে সুদের হার দ্বারা ভাগ করলে মেয়াদ পাওয়া যায়।
কোনো একটি প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করার ফলে অন্য কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ ত্যাগ করাকেই বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বলে। প্রত্যেকটি প্রকল্পেরই সুযোগ ব্যয় থাকে। কারণ একজন বিনিয়োগকারীর একই সাথে একাধিক প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু একটি প্রকল্পে বিনিয়োগের কারণে অন্য একটি প্রকল্পে বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত আয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে হয়।
দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের বর্তমান ব্যয়ের সাথে ভবিষ্যৎ আয়ের বর্তমান মূল্যের তুলনা করে লাভজনক প্রকল্প বাছাই করাকে প্রকল্প মূল্যায়ন বলে। এক্ষেত্রে লাভজনক প্রকল্প নির্বাচন করে উক্ত প্রকল্পে 1. বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা বিচার করাকে প্রকল্প মূল্যায়ন বলা হয়। অর্থের বর্তমান মূল্য ও ভবিষ্যৎ মূল্য সমান নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্প থেকে ভবিষ্যৎ বছরে সম্ভাব্য নগদ আন্তঃপ্রবাহের বর্তমান মূল্য নির্ণয় করতে হয়। অতঃপর উক্ত প্রকল্পের বর্তমান ব্যয়ের সাথে তুলনা করে প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে হয়। এ প্রক্রিয়াতে প্রকল্প মূল্যায়ন করা হয়।
ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষমতা বিবেচনা করে ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়াকে ঋণগ্রহণ সিদ্ধান্ত বলা হয়। এক্ষেত্রে অর্থের সময়মূল্যের সূত্র প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণের বিভিন্ন মেয়াদি কিস্তি বের করে ঋণ গ্রহণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নগদ আন্তঃপ্রবাহ বলতে প্রতিষ্ঠানে নগদ আর্থের আগমন এবং নগদ বহিঃপ্রবাহ বলতে নগদ বহিঃগমনকে বোঝায়। সাধারণত বিক্রয় থেকে প্রতিষ্ঠানে নগদ আন্তঃপ্রবাহ ঘটে। অপরদিকে, কাঁচামাল ক্রয়, মজুরি প্রদান এবং অন্যান্য ব্যয়ে নগদ বহিঃপ্রবাহ' ঘটে।
বর্তমানে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কোথাও বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট সময়ের শেষে সুদসহ যে অর্থ পাওয়া যাবে তাকে ভবিষ্যৎ মূল্য বলে। ধরা যাক, মিসেস সালমা আজকে একটি সঞ্চয়ী হিসারে শতকরা ১০% হার সুদে ১,০০০ টাকা জমা রেখেছে। ৫ বছর পর তিনি যে পরিমাণ টাকা ফেরত পাবেন, তাই হলো অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য।
সুদ-আসলের ওপর যে সুদ প্রদান করা হয় তাকে চক্রবৃদ্ধি সুদ বলে। চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের শেষে প্রাপ্ত সুদাসলকে পরবর্তী নির্দিষ্ট সময়ে আসল ধরে তার ওপর সুদ ধার্য করা হয়। সুদের হারের চক্রবৃদ্ধি বছরে একবার বা একাধিকবার হতে পারে।
কেবল আসলের ওপর সুদ ধার্য করাকে সরল সুদ বলা হয়।
যেমন: জনাব রহিম ২০,০০০ টাকা ১০% সুদে ৫ বছরের জন্য ব্যাংকে জমা রাখলে সেক্ষেত্রে প্রথম বছর সরল সুদ হবে
(২০,০০০ × ১০%) ২০০ টাকা। এভাবে মেয়াদকাল পর্যন্ত প্রতিবছর ২০০ টাকা করেই সুদ প্রাপ্য হবে। অর্থাৎ সরল সুদে প্রতিবছর সুদের পরিমাণ সমান থাকবে।
সুদ-আসলের ওপর যে সুদ প্রদান করা হয় তাকে চক্রবৃদ্ধি সুদ বলে। চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের শেষে প্রাপ্ত সুদাসলকে পরবর্তী নির্দিষ্ট সময়ে আসল ধরে তার ওপর সুদ ধার্য করা হয়। সুদের হারের চক্রবৃদ্ধি বছরে একবার বা একাধিকবার হতে পারে।
সরল সুদ ও চক্রবৃদ্ধি সুদের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
সরল-সুদ | চক্রবৃদ্ধি সুদ |
১. সরল সুদের ক্ষেত্রে কেবল আসল টাকার ওপর সুদ ধার্য করা হয়। | ১. চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষেত্রে সুদাসলের ওপর সুদ ধার্য করা হয়। |
২. সরল সুদের ক্ষেত্রে প্রতিবছর সুদের পরিমাণ সমান থাকে। | ২. চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষেত্রে প্রতি বছর সুদের পরিমাণ বাড়ে। |
চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষেত্রে সুদ ও আসলের ওপর সুদ প্রদান করা হয়। অন্যদিকে সরল সুদে কেবল আসলের ওপর সুদ দেওয়া হয়। তাই চক্রবৃদ্ধি সুদে ভবিষ্যৎ মূল্যের পরিমাণ সরল সুদে ভবিষ্যৎ মূল্য অপেক্ষা বেশি হয় বিধায় গ্রাহকের কাছে চক্রবৃদ্ধি সুদ অধিক পছন্দনীয়।
চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষেত্রে সুদাসলের ওপর সুদ প্রদান করা হয় বিধায় সরল সুদ অপেক্ষা চক্রবৃদ্ধি সুদের পরিমাণ বেশি হয়। সরল সুদের ক্ষেত্রে শুধু আসলের ওপর সুদ ধার্য করা হয়। তাই প্রতি বছর সুদের পরিমাণ সমান হয়। কিন্তু চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষেত্রে প্রথম বছর যে সুদ পাওয়া যায় পরবর্তী বছর সে সুদের ওপরও সুদ ধার্য করা হয়। ফলে সুদের পরিমাণ প্রতি বছর বাড়ে। তাই সরল সুদ অপেক্ষা চক্রবৃদ্ধি সুদের, পরিমাণ বেশি হয়।
ভবিষ্যতে প্রাপ্য অর্থের আজকের যে মূল্য তাকে বর্তমান মূল্য বলে। সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে অর্থের মূল্যেরও পরিবর্তন ঘটে। অর্থের সাথে সুদ যোগ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য পাওয়া যায়। আবার ভবিষ্যৎ মূল্য থেকে সুদ বিয়োগ করলে যে মান পাওয়া যায় তাকে বর্তমান মূল্য বলে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পরিমাণ ভবিষ্যতের টাকার আজকের মূল্যকে বর্তমান মূল্য বলে।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে অর্থের মূল্য পরিবর্তিত হওয়ার ধারণাকে অর্থের সময়মূল্য বলে। অন্যান্য বিষয় স্থির থেকে সময় বৃদ্ধি পেলে অর্থের বর্তমান মূল্য হ্রাস পায় এবং সময় হ্রাস পেলে অর্থের বর্তমান মূল্য বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ সময় ও বর্তমান মূল্যের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
সুদের হার বর্তমান মূল্যের ওপর ঋণাত্মক প্রভাব ফেলে। অন্যান্য বিষয় যেমন: বিনিয়োগের সময় ও পরিমাণ স্থির থেকে সুদের হার হ্রাস পেলে নগদ প্রবাহের বর্তমান মূল্য বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, সুদের হার বৃদ্ধি পেলে নগদ প্রবাহের বর্তমান মূল্য হ্রাস পায়। অর্থাৎ সুদের হার ও বর্তমান মূল্যের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
বাট্টার হারের পরিবর্তন বর্তমান মূল্যের ওপর ঋণাত্মক প্রভাব ফেলে। বাট্টার হারের সাথে বর্তমান মূল্যের বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।-অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থেকে রাষ্ট্রার হার বৃদ্ধি পেলে বর্তমান মূল্য হ্রাস পায়। অপরদিকে বাড়ার হার হ্রাস পেলে বর্তমান মূল্য বৃদ্ধি পায়।
চক্রবৃদ্ধিকরণ বলতে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ণয় করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। চক্রবৃদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে সুদের ওপর সুদ ধার্য করা হয়। অর্থাৎ প্রথম বছরের সুদ দ্বিতীয় বছরের আসলের সাথে যোগ হয়ে সুদ-আসলের ওপর পরবর্তী বছরের সুদ ধার্য করা হয়
চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা বাড়লে বছরে বেশিসংখ্যক বার সুদ পাওয়া যাবে। ফলে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য বেড়ে যাবে। কেননা বর্তমান মূল্যের সাথে সুদ যোগ হয়ে ভবিষ্যৎ মূল্য দাঁড়ায়। তাই বেশি সুদে প্রাপ্তিতে ভবিষ্যৎ মূল্যও বেশি, হয়।
সুদের হার ও সময়ের কারণে বর্তমান মূল্য অপেক্ষা ভবিষ্যৎ মূল্য অধিক হয়। যদি সুদের হার না থাকে তবে যা বর্তমান মূল্য তাই ভবিষ্যৎ মূল্য হবে। আবার সুদের হার বাড়লে ভবিষ্যৎ মূল্য বাড়বে। অর্থাৎ সুদের হারের সাথে ভবিষ্যৎ মূল্যের ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। অন্যদিকে, সময় যত বাড়তে থাকবে বর্তমান অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য তত বাড়তে থাকবে। অর্থাৎ সময়ের সাথেও ভবিষ্যৎ মূল্যের ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান।
বাট্টাকরণ পদ্ধতি ও চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতির মধ্যে দুটি পার্থক্য
নিম্নরূপ:
| বাট্টাকরণ পদ্ধতি | চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতি |
| ১. বাট্টাকরণ পদ্ধতিতে অর্থের বর্তমান মূল্য নির্ণয় করা হয়। | ১. চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতিতে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ণয় করা হয়। |
| ২. বাট্টাকরণ পদ্ধতিতে চক্রবৃদ্ধির পরিমাণ বাড়লে অর্থের বর্তমান মূল্য কমতে থাকে। | ২. চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতিতে চক্রবৃদ্ধির পরিমাণ বাড়লে ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধি পায়। |
অর্থের বর্তমান মূল্য নির্ণয়ের প্রক্রিয়াকে বাট্টাকরণ প্রক্রিয়া বলা হয়। বর্তমানে প্রাপ্ত অর্থ আর ভবিষ্যতে প্রাপ্ত, একই পরিমাণ অর্থ সমান মূল্য বহন করে না। এক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ মূল্য অপেক্ষা বর্তমান মূল্য অধিক মূল্যবান। এজন্য ভবিষ্যতে যে অর্থ পাওয়া যাবে- তা বর্তমান মূল্যে রূপান্তর করে আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর বাট্টাকরণ প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যৎ মূল্য থেকে বর্তমান মূল্য নির্ণয় করা হয়।
ঋণগ্রহীতা প্রকৃতপক্ষে ঋণদাতাকে যে হারে সুদ প্রদান করে তাকে প্রকৃত সুদের হার বলে। ব্লুছরে একাধিকবার 'চক্রবৃদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে প্রকৃত সুদের হার নির্ণয় করতে হয়। চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রকৃত সুদের হার বৃদ্ধি পায় এবং চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা হ্রাস পেলে প্রকৃত সুদের হার হ্রাস পায়।
সুদের হারের কারণে অর্থের বর্তমান মূল্য ও ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যদি সুদের হার ১০% হয় তাহলে ১ বছর পরের ১০০ টাকায় বর্তমান মূল্য হবে ৯০.৯১ টাকা। কিন্তু সুদের হার ২০% হলে ঐ একই ১০০ টাকার বর্তমান মূল্য হবে ৮৩.৩৩ টাকা। সুতরাং অর্থের পরিবর্তনের মূল কারণ হচ্ছে সুদের হার।
নামিক ও প্রকৃত সুদের হারের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
নামিক সুদের হার | প্রকৃত সুদের হার |
১. একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি ঋণ বা বিনিয়োগের ওপর প্রযোজ্য সুদের হারকে নামিক সুদের হার বলে। | ১. বছর একাধিকবার চক্রবৃদ্ধি হলে ঋণগ্রহীতা প্রকৃতপক্ষে যে হারে সুদ প্রদান করে তাকে প্রকৃত সুদের হার বলে।- |
২.-সামিক সুদের হারের ক্ষেত্রে চক্রবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনা করা হয় না। | ২. প্রকৃত সুদের হারের ক্ষেত্রে 'চক্রবৃদ্ধির প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়। |
সুদ হলো অর্থ জমাদাতা ও জমাগ্রহীতার মধ্যে নির্দিষ্ট চুক্তিবদ্ধ হার কিন্তু মুনাফা কোনো পূর্বনির্ধারিত হার নয়। সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে সুদ প্রযোজ্য, অন্যদিকে ইসলামি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে কিংবা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মুনাফা প্রযোজ্য। সুদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে | নিশ্চয়তা থাকলেও মুনাফার ক্ষেত্রে একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করে, । কারণ মুনাফার সাথে ঝুঁকি জড়িত থাকে।
Related Question
View Allবছরে একাধিকবার চক্রবৃদ্ধিতে ঋণগ্রহীতা প্রকৃতপক্ষে যে হারে সুদ প্রদান করে তাকে প্রকৃত সুদের হার বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
