ইতিহাস হচ্ছে অতীতের ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির অনুসন্ধান ও বিবরণ। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল কেবল তা-ই নয়; এর সাথে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেনি-এ দুই মিলেই ইতিহাস। ইতিহাসের প্রামাণ্য সংজ্ঞায় হেরোডোটাস বলেন, "ইতিহাস হলো যা সত্যিকার অর্থে ছিল বা সংঘটিত হয়েছিল তা অনুসন্ধান করা ও লেখা।"
ইতিহাস' শব্দটির উৎপত্তি 'ইতিহ' শব্দ থেকে। যার অর্থ ঐতিহ্য। গ্রিক শব্দ Historia থেকে ইংরেজি History শব্দটির উৎপত্তি। যার বাংলা প্রতিশব্দ ইতিহাস। গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস প্রথম Historia শব্দটি ব্যবহার করেন্। তিনি ইতিহাসের জনক হিসেবে খ্যাত।
Historia শব্দটির প্রথম ব্যবহার করেন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস। তিনিই সর্বপ্রথম তার গবেষণাকর্মের নামকরণে এ শব্দটির ব্যবহার করেন। যার আভিধানিক অর্থ হলো সত্যানুসন্ধান বা গবেষণা। তিনি প্রথম ইতিহাস এবং অনুসন্ধান, এ দুটি ধারণাকে সংযুক্ত করেন।
হেরোডোটাসের নামের সাথে ইতিহাসের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। কারণ তিনিই প্রথম 'হিস্টরিয়া' শব্দ ব্যবহার করেন। যার বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ইতিহাস। তিনি সর্বপ্রথম তার গবেষণাকর্মের নামকরণে এ শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনিই প্রথম ইতিহাস এবং অনুসন্ধান এ দুটি ধারণাকে সংযুক্ত করেন। তাছাড়া তিনি ইতিহাসের জনক।
হেরোডোটাস প্রথম হিস্টরিয়া শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ইতিহাস হলো যা সত্যিকার অর্থে ছিল বা সংঘটিত হয়েছিল তার অনুসন্ধান করা ও লেখা। হেরোডোটাসই প্রথম ইতিহাস ও. অনুসন্ধান এ দুটি ধারণাকে সংযুক্ত করেন। এভাবেই হেরোডোটাসের হাত ধরে ইতিহাস গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অতীতের ক্রমবিবর্তন ও ঐতিহ্যের বস্তুনিষ্ঠ বিবরণই হলো ইতিহাস। ইতিহাস বিরামহীনভাবে অতীতের ঘটনাবলি বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌছে দেয়। এই রিবরণে মানবসমাজের সর্বদিক আলোচিত হয়। তাই মানবসমাজের অনন্ত ঘটনাপ্রবাহই হলো ইতিহাস।
মূলত লিখিত ও অলিখিত উপাদানের মাধ্যমে আমরা ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারি। অনেক ক্ষেত্রে অলিখিত বা প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের মাধ্যমে ইতিহাস সম্পর্কে জানা সম্ভব হয় না। কিন্তু ঐ প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের ছবি ও তথ্য বইয়ে পড়ে ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়। আর এ কারণেই ইতিহাসকে লিখিত দলিল বলা হয়।
ইতিহাস সত্য ঘটনার একনিষ্ঠ দলিল। ইতিহাসে মিথ্যা বা কল্পনার কোনো জায়গা নেই। অতীতে যা কিছু ঘটেছে, যেভাবে মানবজাতি রাষ্ট্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে তাই ইতিহাস তুলে ধরে। ইতিহাস মানে মানবসমাজের অতীতের প্রতিচ্ছবি।
আধুনিক ইতিহাসের জনক লিওপোল্ড ফন র্যাংকে। তিনি জার্মানির অধিবাসী ছিলেন। এ ইতিহাসবিদ মনে করেন, প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তার অনুসন্ধান ও তার সত্য বিবরণই ইতিহাস।
হেরোডোটাসের আগে কেউ ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেনি। হেরোডোটাসই প্রথম ইতিহাস এবং অনুসন্ধান। এ দুটি ধারণাকে সংযুক্ত করেন। ফলে ইতিহাস পরিণত হয় বিজ্ঞানে, পরিপূর্ণভাবে হয়ে ওঠে তথ্যনির্ভর এবং গবেষণার বিষয়ে।
আধুনিক ইতিহাসের জনক লিওপোল্ড ফন র্যাংকে মনে করেন, প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তার অনুসন্ধান এবং সত্য বিবরণই ইতিহাস। সুতরাং ইতিহাস হচ্ছে মানবসভ্যতার বিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন! কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক ও সত্যনিষ্ঠ বিবরণ। তাই বলা যায়, সঠিক ইতিহাস সবসময় সত্যকে নির্ভর করে রচিত।
ইতিহাস বিদ্যমান তথ্য ও প্রমাণ যাচাই সাপেক্ষে লেখা হয় বটে তবে সব সময়ই নতুন তথ্য প্রমাণ ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলের সাপেক্ষে ইতিহাস পুনর্লিখিত হাবার সুযোগ থাকে।
যেসব তথ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব তাকেই ইতিহাসের উপাদান বলে। অর্থাৎ যে সকল তথ্য ও বিষয়ের মাধ্যমে ইতিহাস সঠিকভাবে লেখা যায় তাকে ইতিহাসের উপাদান বলা হয়।
ইতিহাসের উপাদান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা-
১. লিখিত উপাদান লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র ইত্যাদি।
২. অলিখিত বা প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান: অলিখিত হচ্ছে সেসব বস্তু বা
উপাদান যা থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই।
ইতিহাসের যেসব তথ্য প্রমাণ লিখিত আকারে পাওয়া যায় তাকে ইতিহাসের লিখিত উপাদান বলা হয়। পান্ডুলিপি, গ্রন্থ, তালপাতায় লেখা, ধর্মগ্রন্থ লিখিত আকারে পাওয়া যায় বিধায় এগুলো ইতিহাসের লিখিত উপাদান।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিদেশি পর্যটক বাংলায় আসেন। তাদের মধ্যে পঞ্চম থেকে সপ্তম শতকে আগত চৈনিক পরিব্রাজক ফা-হিয়েন, - হিউয়েন সাং ও ইৎসিং অন্যতম। তাছাড়া আফ্রিকান পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় আসেন।
বিদেশি পর্যটকদের ৪ টি গ্রন্থের নাম হলো-
১. মেগাস্থিনিসের 'ইন্ডিকা'; ২. ফা-হিয়েনের 'ফো-কুয়ো-কি';
৩. হিউয়েন সাং-এর 'সি-ইউ-কি'; ৪. ইবনে বতুতার 'রিহালা'।
পর্যটকরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করেন। ভ্রমণকালে তারা সেসব জায়গার মানুষের আচার-অনুষ্ঠানের বিবরণ দিয়ে যান। তারা কল্পনার আশ্রয় না নিয়ে সঠিক অবস্থা তুলে ধরেন। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে এ বিবরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যেসব বন্ধু-বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই, সেই বস্তু বা উপাদানই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এই নিদর্শনসমূহ মূলত অলিখিত উপাদান।
লিপিমালা অলিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত। সরকারি লিপি থেকে যুদ্ধবিগ্রহ; ভূমিদান, রাজার আদেশ, রাজার নাম, রাজ্য জয়, রাজত্বকাল, ধর্মবিশ্বাস প্রভৃতি সম্পর্কে জানা যায়। আর মন্দিরের গায়ে বেসরকারি লিপি থেকে মন্দিরের তথ্য পাওয়া যায়।
মুদ্রায় রাজার নাম, সন-তারিখ, রাজার মূর্তি, নানা দেব-দেবীর মূর্তি খোদাই করা থাকত। যা থেকে রাজার সময়কাল, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সমাজব্যবস্থা ও ধর্মবিশ্বাস প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের ফলে সে সময়ের অধিবাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া প্রাচীন অধিবাসীদের সভ্যতা, ধর্ম, জীবনযাত্রা, নগরায়ণ, নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র, ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা, কৃষি উপকরণ ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
ইতিহাস প্রতিনিয়ত অতীতের ঘটনাপ্রবাহকে মানুষের নিকট তুলে ধরছে। অতীত বা বর্তমানে সংঘটিত হওয়া সকল ঘটনাই কোনো না কোনোভাবে সম্পর্কিত। সমাজে সব ঘটনাই মানুষকে ঘিরে আবর্তিত হয়। 'এজন্য ইতিহাসকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা কঠিন।
পঠন পাঠন, আলোচনা ও গবেষণাকর্মের সুবিধার্থে ইতিহাসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) ভৌগোলিক অবস্থানগত ইতিহাস ও (খ) বিষয়বস্তুগত ইতিহাস।
যে বিষয়টি ইতিহাসে স্থান পেয়েছে তা কোন প্রেক্ষাপটে রচিত স্থানীয়, জাতীয় না আন্তর্জাতিক? এর ওপর ভিত্তি করে একে আরও তিন ভাগে ভাগ করা যায়। আঞ্চলিক ইতিহাস, জাতীয় ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক ইতিহাস।
বিষয়বস্তুগত ইতিহাসকে বিভিন্ন বিষয়ের আলোকে ৫ ভাগে বাগ
করা যায়। যথা- ১. রাজনৈতিক ইতিহাস; ২. সামাজিক ইতিহাস;
৩. অর্থনৈতিক ইতিহাস;
৪. সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও ৫. সাম্প্রতিক ইতিহাস।
ইতিহাসের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. তথ্যের সাহায্যে অতীতের বর্ণনা ও ব্যাখ্যাদান করাই ইতিহাসের বৈশিষ্ট্য।
২. ইতিহাসের আলোচনার বিষয় হচ্ছে মানবসমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতির ধারাবাহিক তথ্যনির্ভর বিবরণ।
ইতিহাস সবসময় সত্য ঘটনা উপস্থাপন করে। এখানে কোনো কল্পনার আশ্রয় নেওয়া হয়নি। ইতিহাসে পক্ষপাতিত্ব করার কোনো অবকাশ নেই। শুধু প্রকৃত ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়। একারণেই ইতিহাসে আবেগ ও অতিকথনের কোনো ঠাঁই নেই।
চৌদ্দ শতকের ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন মানুষের গোষ্ঠী জীবন, সংস্কৃতি, উৎপাদন প্রণালীকে ইতিহাসের পাঠ্যবিষয়ে পরিণত করেন। এভাবে একের পর এক বিষয় ইতিহাসভুক্ত হচ্ছে আর সম্প্রসারিত হচ্ছে ইতিহাসের পরিধি ও পরিসর।
ইতিহাসের মূল আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের জীবনযাত্রা। মানুষ কর্তৃক সম্পাদিত সব বিষয়ই ইতিহাসের আওতাভুক্ত। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন, স্থাপত্য, রাজনীতি, যুদ্ধ, ধর্ম, আইন এসবই মানবজীবনকে ঘিরে বিস্তৃত।
প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তার অনুসন্ধান এবং সত্য বিবরণই ইতিহাস। সুতরাং ইতিহাস হচ্ছে মানবসভ্যতার বিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক ও সত্যনিষ্ঠ বিবরণ। তাই বলা যায়, সঠিক ইতিহাস সবসময় সত্যকে নির্ভর করে রচিত।
ইতিহাস হলো ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও ধারাবাহিক বর্ণনা। যিনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন তিনিই বিজ্ঞানী। বিজ্ঞান হলো বিশেষভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার জ্ঞান। যেহেতু ইতিহাস চর্চায়, -গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসৃত হচ্ছে, তাই ইতিহাসবিদ একজন বৈজ্ঞানিক পর্যায়ভুক্ত হবেন।
মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের গবেষণালব্ধ সত্যের উপল্লাপনই ইতিহাস। ইতিহাস পাঠ মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনুমান করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে আমরা মানবসমাজের ক্রমবিকাশ ও সভ্যতার বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জানতে পারি।
ইতিহাস হলো অতীতের সত্যনিষ্ঠ, বর্ণনা, যা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশ-জাতির সফল সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্যের, তাহলে তা মানুসকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সাথে ব্যক্তিকে আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে।
ইতিহাস মানবসভ্যতার অতীত সম্পর্কে আমাদেরকে জ্ঞানদান করে। ইতিহাস একটি জাতির ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে। সমাজ ও জাতির অগ্রগতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে ইতিহাস সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। এ কারণেই জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব অসীম।
ইতিহাস পাঠের গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, তেমনি ইতিহাসের ব্যবহারিক গুরুত্বও অপরিসীম। মানুষ ইতিহাস পাঠ করলে অতীত ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারে, ইতিহাস আমাদের দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষা দেয় বলে ইতিহাসকে শিক্ষণীয় দর্পণ বলা হয়।
ইতিহাসের মূল আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের জীবনযাত্রা। মানুষের চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা, কার্যক্রম যত শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত ইতিহাসের সীমাও ততদূর বিস্তৃত। মানব সমাজের দীর্ঘ সংগ্রামের পরিপূর্ণ চিত্র তুলে -ধরে ইতিহাস। আর এভাবেই ইতিহাসের সাথে মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কিত।
মানবসভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক ও সত্যনিষ্ঠ বিবরণকে ইতিহাস বলে।
খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতাব্দী থেকে আজ অব্দি লিখিত ইতিহাসের বয়স হয়েছে ২৫০০ বছর।।
'ইতিহাস' শব্দটির উৎপত্তি 'ইতিহ' শব্দ থেকে।
ইতিহাসের সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে ইতিহ+ আস।
ইতিহাস শব্দের অর্থ 'ঐতিহ্য'।
অতীতের অভ্যাস, শিক্ষা, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত থাকে তাকে ঐতিহ্য বলে।
ইতিহাস ঐতিহ্যকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে পৌছে দেয়।
ই. এইচ. কারের ভাষায়, ইতিহাস হলো বর্তমান ও অতীতের মধ্যে এক অন্তহীন সংলাপ।
ঐতিহাসিক জনসনের মতে, "ঘটে যাওয়া ঘটনাই ইতিহাস।"
গ্রিক শব্দ 'হিস্টরিয়া' (Historia) থেকে ইংরেজি 'হিস্ট্রি' (History) শব্দটির উৎপত্তি ঘটেছে।
হিস্টরিয়া শব্দটির প্রথম ব্যবহার করেন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস (খ্রি. পূ. পঞ্চম শতক)।
'হিস্টরিয়া' (Historia) শব্দের অর্থ হলো সত্যানুসন্ধান বা গবেষণা!
ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের মতে, ইতিহাস হলো যা সত্যিকার অর্থে ছিল বা সংঘটিত হয়েছিল তা অনুসন্ধান করা ও লেখা।
ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস।
র্যাপসনের মতে, ইতিহাস হলো ঘটনার বৈজ্ঞানিক এবং ধারাবাহিক বর্ণনা।
আধুনিক ইতিহাসের জনক লিওপোল্ড ফন র্যাংকে।
লিওপোল্ড ফন র্যাংকে মনে করেন, প্রকৃতপক্ষে'যা ঘটেছিল তার অনুসন্ধান ও তার সত্য বিবরণই ইতিহাস।
"ইতিহাস হলো ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও ধারাবাহিক বর্ণনা।"-উক্তিটি করেছেন ঐতিহাসিক র্যাপসন।
সমাজজীবনই ইতিহাস - উক্তিটি টয়েনবির।
টয়েনবির মতে, সমাজের জীবনই ইতিহাস।
যেসব তথ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব তাকে ইতিহাসের উপাদান বলা হয়।
ইতিহাসের উপাদান দুটি।
ইতিহাসের উপাদানকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-লিখিত উপাদান ও অলিখিত উপাদান।
রাজতরঙ্গিনীর লেখক কলহন।
আইন-ই-আকবরী আবুল ফজল রচিত একটি গ্রন্থ।
আইন-ই-আকবরী গ্রন্থটির লেখক হচ্ছেন আবুল ফজল।
চৈনিক পরিব্রাজকদের বাংলায় আগমন ঘটে ৫ম থেকে ৭ম শতকে।
তবকাত-ই-নাসিরী প্রন্থের লেখক মিনহাজ-উস-সিরাজ।
ইৎসিং ছিলেন একজন চৈনিক পরিব্রাজক।
হিউয়েন সাং ছিলেন একজন চীনা পরিব্রাজক।
হিউয়েন সাং চীন দেশের পরিব্রাজক ছিলেন।
ফ্রা-হিয়েন চীন দেশের পরিব্রাজক ছিলেন।
আফ্রিকার পরিব্রাজক ছিলেন ইবনে বতুতা।
ইবনে বতুতা একজন আফ্রিকান পরিব্রাজক।
মুদ্রা ইতিহাসের অলিখিত বা প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান।
যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই, সেই বস্তু বা উপাদানই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার উয়ারী বটেশ্বরে প্রত্নতত্ত্ব আবিষ্কৃত হয়।
উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলায় অবস্থিত।
ইতিহাসকে প্রধান দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 'যথা-ভৌগোলিক অবস্থানগত ও বিষয়বস্তুগত ইতিহাস।
ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে ইতিহাসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
কোনো বিশেষ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে ইতিহাস রচিত হয় তাকে বিষয়বস্তুগত ইতিহাস বলে।
বিষয়বস্তুগত ইতিহাস পাঁচ প্রকার।
বর্তমান সময়কালের পক্ষে প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলির ঐতিহাসিক বিবরণকে সাম্প্রতিক ইতিহাস বলে
১৯৭১ সালে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধে আমাদের মূল প্রেরণা ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা ইতিহাসের বৈশিষ্ট্য।
সময়ের বিবর্তনে, সভ্যতার অগ্রগতির কারণে মানুষের কর্মকান্ডের পরিধি বেড়েছে।
একের পর এক বিষয় ইতিহাসভুক্ত হচ্ছে আর সম্প্রসারিত হচ্ছে ইতিহাসের পরিধি ও পরিসর।
Related Question
View Allহিউয়েন সাং চীনের পরিব্রাজক।
সময়ের বিবর্তনে মানুষের কর্মকাণ্ডের পরিধি বৃদ্ধির ফলে ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।
সভ্যতার অগ্রগতি ও সময়ের বিবর্তনে ইতিহাসচর্চায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসৃত হচ্ছে। ফলে ইতিহাস বিষয়ে শাখা-প্রশাখার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এভাবেই ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।
সজল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে ইতিহাসের লিখিত উপাদান দেখতে পায়।
ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে সাহিত্য, নথিপত্র, জীবনী, রূপকথা, কিংবদন্তি, গল্পকাহিনি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাহিত্য কর্মেও তৎকালীন সময়ের অনেক তথ্য পাওয়া যায়। এসব সাহিত্য কর্মের মধ্যে রয়েছে অর্থশাস্ত্র, তবকাত-ই-নাসিরী, আইন-ই- আকবরী ইত্যাদি।
এছাড়াও ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে বৈদেশিক বিবরণসমূহও অন্তর্ভুক্ত। এ লিখিত উপাদানগুলোর মাধ্যমে আমরা সমকালীন সময়ের অনেক তথ্য পেয়ে থাকি।
উদ্দীপকের সজল গণগ্রন্থাগারে বিভিন্ন বইপত্র পড়ে। সে বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও বিভিন্ন উৎস থেকে ইতিহাসের বইপত্র সংগ্রহ করে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সজলের পঠিত বিষয়গুলো ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
না, সজলের বন্ধুর মানসিকতার সাথে আমি একমত নই। কেননা নিজেকে বিকশিত করতে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজন আছে।
ইতিহাস পাঠের তাৎপর্য অনেক। কেননা এটি মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ অনুমান করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষের পক্ষে নিজ সম্পর্কে ও নিজ দেশ সম্পর্কে মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়াও ইতিহাস পাঠ মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশ, জাতির সফল সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্যের, তাহলে তা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। তাছাড়াও ইতিহাস পাঠ মানুষকে সচেতন করে তোলে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালো- মন্দের পার্থক্য সহজেই বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। সর্বোপরি মানুষ ইতিহাস পাঠ করে অতীত ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
পরিশেষে বলা যায় যে, ইতিহাস সম্পর্কে সজলের বন্ধুর নেতিবাচক মন্তব্যটি গ্রহণযোগ্য নয়।
ইতিহাসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই সে সব বস্তু বা উপাদানই ইতিহাসের অলিখিত উপাদান। ইতিহাসের অলিখিত উপাদানকে আবার প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানও বলে। মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি ইত্যাদি হলো ইতিহাসের অলিখিত উপাদানের উদাহরণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!