দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রত্যেকটি কাজেই সঠিক পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। যেমন- বাজার থেকে চাল কিংবা ডাল কিনতে; জামা-কাপড় তৈরি করতে কিংবা সময়মতো ক্লাস শুরু ও শেষ করতে আমাদের যথাযথ পরিমাপ দরকার। তরকারি রান্নার সময় পরিমাণমতো বিভিন্ন বিভিন্ন প্রকার মসলা ব্যবহার করা খুবই জরুরি। জীবন বাঁচানোর যে ঔষধ তাও তৈরি করতে হয় পরিমাণমতো এবং খেতেও হয় পরিমাণমতো। এক কথায়, দৈনন্দিন জীবনে প্রায় প্রতিটি কাজই সঠিকভাবে করার জন্য সঠিক পরিমাপের প্রয়োজন।
পরিমাপ সঠিক না হলে একটি শ্রেণিকক্ষে কয় জোড়া টেবিল-বেঞ্চ রাখা যাবে; বাড়ির নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে কয়টি ঘর তৈরি করা যাবে, এমনকি কোন কক্ষের আকৃতি কী রকম হবে তা বলা মুশকিল হবে। এভাবে, পরিমাপ সঠিক না হলে দৈনন্দিন কোনো কাজ বা হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যাবে না।
মৌলিক একক মোট সাতটি। যথা:
১. মিটার দৈর্ঘ্যের একক
২. সেকেন্ড: সময়ের একক
৩. কিলোগ্রাম: ভরের একক
৪. কেলভিন তাপমাত্রার একক
৫. অ্যাম্পিয়ার: বিদ্যুৎ প্রবাহের একক
৬. ক্যান্ডেলা: আলোক ঔজ্জ্বল্যের একক
৭. একক মোল: পদার্থের পরিমাণের।
বড় কোনো রাশির পরিমাপে এককের গুণিতক ও ছোট রাশির পরিমাপে এককের ভগ্নাংশের ব্যবহার প্রয়োজন হয়।
যেমন- ভরের একক কিলোগ্রাম, দৈর্ঘ্যের একক মিটার প্রভৃতি।
আমরা যখন কম দৈর্ঘ্যের কোনো কিছু যেমন- টেবিলের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করতে যাই তখন মিটার ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু আমরা যখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব পরিমাপ করতে যাই তখন কিলোমিটার ব্যবহার করি। আবার ছোট একটি পেন্সিলের দৈর্ঘ্য মাপতে গিয়ে ব্যবহার করি সেন্টিমিটার। এখানে কিলোমিটার ও সেন্টিমিটার যথাক্রমে মিটারের গুণিতক ও মিটারের ভগ্নাংশ। কারণ ১ কিলোমিটার = ১০০০ মিটার; আবার, ১ সেন্টিমিটার = মিটার।
আমরা জানি, ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য প্রস্থ
এবং আয়তন = দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা= ক্ষেত্রফল উচ্চতা
অর্থাৎ, ক্ষেত্রফলের সাথে উচ্চতা গুণ করলে আয়তন পাওয়া যায়।
সুতরাং, পরিমাপের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রফল নির্ণয়ে শুধুমাত্র দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রয়োজন হয়। কিন্তু আয়তন নির্ণয়ে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রয়োজন হয়। এটিই ক্ষেত্রফল ও আয়তনের মূল পার্থক্য।
বিজ্ঞান হলো প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞান যা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা হতে পাওয়া বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা সমর্থিত। বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রকৃতির ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা অনুসন্ধান এবং পরীক্ষণের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে জ্ঞান সৃষ্টি করে। তাই বলা যায় বিজ্ঞান মূলত প্রাকৃতিক জ্ঞান।
বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে করা যায়। বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াগুলো হলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিযুক্ত চিন্তা। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনের জন্য বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে।
বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি বলতে বিজ্ঞানমনস্কতাকে বুঝায়। অর্থাৎ যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করা, অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, অপরের মতামত মূল্য দেওয়া এবং নিজের ভুল স্বীকার করা ইত্যাদিকে বোঝায়। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃতি সমন্ধে যেকোনো জ্ঞানকে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বলা যাবে না। কারণ কোনো জ্ঞান বিজ্ঞান হতে হলে তা পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণ হতে পাওয়া তথ্য দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণ হলো একধরনের প্রক্রিয়া। এর হতেও জ্ঞান তৈরি হয় এবং জ্ঞান যাচাই করা হয়। তাই বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনে প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞান বলতে বোঝায় কোন কিছু যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করার মনোভাব, অন্যের মতামত মূল্য দেওয়া এবং নিজের ভুল স্বীকার করা। বিজ্ঞানে বিজ্ঞানমনষ্কতা হওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ বিজ্ঞানমনস্ক না হলে আমরা যেকোনো তথ্যকে বিজ্ঞান বলবো আবার অন্যের কথা না শুনে নিজের জ্ঞানকে সত্য মনে করব। যা বিজ্ঞানচেতা হওয়ার অন্তরায়।
বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া হচ্ছে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনের উৎস। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, যুক্তিযুক্ত চিন্তা, অনুসন্ধান হচ্ছে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। এগুলোর মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয় এবং কোন জ্ঞান যাচাই-বাছাই করা হয় এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন হয়।
বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ধাপগুলো নিম্নরূপ:
১. সমস্যা নির্ধারণ।
২. জানা তথ্য সংগ্রহ।
৩. অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
৪. পরীক্ষণের পরিকল্পনা।
৫. পরীক্ষণ।
৬. উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং
৭. ফল প্রকাশ।
পরীক্ষণ হলো বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন বা পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। কারণ এই পদ্ধতিতে কোন বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য একজন বিজ্ঞানী প্রথমে জানা বা বিদ্যমান তথ্যের আলোকে একটি আনুমানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি পরীক্ষণের মাধ্যমে ঐ অনুমিত সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে কি না যাচাই করেন।
কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করাই হলো পরিমাপ। দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপের উপর আমরা নানাভাবে নির্ভরশীল। যেমন বাজার হতে তেল কেনার সময়, একটি বইয়ের দৈর্ঘ্য মাপার জন্য আমরা পরিমাপ করে থাকি।
কোন কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য আমরা পরিমাপ করে থাকি। পরিমাপ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট অংশকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। এই জানা আদর্শ অংশের পরিমাণই পরিমাপের একক। যেমন-দৈর্ঘ্য, ভর প্রভৃতি পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য বা ভরকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ যে নির্দিষ্ট পরিমাণের সাথে তুলনা করে কোন ভৌত রাশির পরিমাপ করা হয় তাই পরিমাপের একক।
দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপ একটি সাধারণ ঘটনা। মূলত এটি ছাড়া চলতেই পারব না। যেমন সকাল কয়টায় ঘুম থেকে উঠব? কতটুকু চাল আজ রারী হবে? বা আমার বাড়ির ছাদের ক্ষেত্রফল কত? সবই পরিমাপের মাধ্যমে করে থাকি। তাই দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
আমরা যা কিছু পরিমাপ করি তাকে রাশি বলে। যেমন টেবিলের দৈর্ঘ্য একটি রাশি। কোনো একক দ্বারা কোনো কিছুকে যদি সরাসরি পরিমাপ করা যায় অর্থাৎ অন্য কোনো এককের প্রয়োজন হয় না, সেই একককে বলে মৌলিক একক। যেমন- দৈর্ঘ্যের একক, সময়ের একক প্রভৃতি।
কোনো রাশিকে যদি পরিমাপ করার জন্য একাধিক এককের প্রয়োজন হয় তাকে যৌগিক বা লব্ধ একক বলে। যেমন- ক্ষেত্রফল রাশিকে পরিমাপ করার জন্য দৈর্ঘ্যের দুটি এককের গুণফলের উপর নির্ভর করতে হয়।
কোনো কিছু পরিমাপ করার জন্য একক ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘকাল ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন একক পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে। অর্থাৎ একই রাশি বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন একক ব্যবহার করা হতো। এই অসুবিধা দূর করার জন্য ১৯৬০ সালে পৃথিবীর সমগ্র দেশে একটি সাধারণ পরিমাপের পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। এই পদ্ধতিতে সারা বিশ্বে একই রাশি পরিমাপে একই একক ব্যবহার করা হয়। যেমন- দৈর্ঘ্যর একক মিটার।
আমরা জানি, ১ কি.মি. = ১০০০ মিটার
∴ ৪৭০ কি.মি. = ৪৭০ × ১০০০
= ৪৭০০০০ মিটার = ৪৭ × ১০৪ মিটার
ঢাকা হতে রংপুরের দূরত্ব ৪৭ × ১০৪ মিটার।
কোনো রাশিকে যখন একটি একক দিয়ে সরাসরি পরিমাপ করা যায় তখন তাকে মৌলিক একক বলে। যেমন- একটি বইয়ের দৈর্ঘ্য। যখন একটি রাশিকে পরিমাপ করার জন্য একের অধিক এককের অন্যক্ষেত্রে দুইয়ের অধিক এককের প্রয়োজন হয় তাকে লব্ধ বা যৌগিক একক বলে। যেমন- বইটির আয়তন একটি লব্ধ একক। এটি পরিমাপ করার জন্য তিনটি দৈর্ঘ্যের মৌলিক একক প্রয়োজন।
দৈর্ঘ্য পরিমাপের SI একক হলো মিটার। ১৮৭৫ সালে বিজ্ঞানীরা প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম নাম মিশ্রিত ধাতুর তৈরি দণ্ডের দুই প্রান্তে দাগ দেন। শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াম তাপমাত্রায় ঐ দুটি নির্দিষ্ট দাগের মধ্যকার দূরত্বকে 1 মিটার হিসেবে নির্ধারণ করেন।
আমরা জানি, ১ মেট্রিক টন = ১০ কুইন্টাল,
১ কুইন্টাল = ১০০ কেজি
∴ ১০ কুইন্টাল = ১০ × ১০০ কেজি = ১০০০ কেজি
১ মেট্রিক টন = ১০০০ কেজি।
আমরা জানি, ১ ঘণ্টা = ৬০ মিনিট
১ মিনিট = ৬০ সেকেন্ড।
∴ ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট = ৬০+৩০ ৯০ মিনিট।
১ মিনিট = ৬০ সেকেন্ড
∴ ৯০ মিনিট = ৬০ × ৯০ = ৫৪০০ সেকেন্ড।
∴ ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট = ৫৪০০ সেকেন্ড।
একটি কয়েনের প্রস্থ ০.৫ মিমি
∴ ৫০টি “ ” ০.৫ × ৫০ মিমি = ২৫ মিমি
২৫ মিমি = মি = .০২৫ মি
∴ ৫০টি কয়েনের প্রস্থ একত্রে ০.২৫ মি হবে।
আমরা জানি, ১০০০ মিলিগ্রাম = ১ গ্রাম
∴ ৫০০০ " = ৫ গ্রাম
আবার, ১০০০ গ্রাম = ১ কেজি
∴ ৫ " কেজি = ০.০০৫ কেজি
∴ ৫০০০ মিলিগ্রাম দুধ কেজিতে প্রকাশ করলে ০.০০৫ কেজি হবে।
আমরা জানি,
১০০ সেন্টিমিটার = ১ মিটার
∴ ৮ " = = ০.০৮ মিটার
আবার, আয়তাকার বস্তুর ক্ষেত্রফল দৈর্ঘ্য × প্রস্থ
= (৭ × ০.০৮) বর্গমিটার
= ০.৫৬ বর্গমিটার
আমরা জানি, ঘনকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা একই হয়।
∴ ঘনকের আয়তন = দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা
= ৭ ৭ ৭ = ৩৪৩ ঘনমিটার
আমরা জানি, ১ লিটার = ১০০০ মিলিলিটার = ১০০০ সিসি
এখন, ১ লিটার = ১০০০ সিসি
৫ " = ৫০০০ সিসি
∴ ৫ লিটার পানি ৫০০০ সিসি পানির সমান।
তরল পদার্থের আয়তন মাপন সিলিন্ডার বা মাপচোঙের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। মাপন সিলিন্ডারে বিভিন্ন মানের যেমন- 5, 10, 15 ml বা L এককে দাগাঙ্কিত থাকে। এই দাগের মাধ্যমে আমাদের যতটুকু তরল পদার্থ প্রয়োজন তা পরিমাপ করা যায়।
জ্বর নির্ণয়ে ২টি থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়, তা হলো-
১. সেলসিয়াস থার্মোমিটার।
২. ফারেনহাইট থার্মোমিটার।
দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়। এগুলো হলো, তোমার উচ্চতা কত? তোমার ওজন কত? এখন কয়টা বাজে? আজকে বাতাসের তাপমাত্রা কত? ইত্যাদি। এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের জন্য দরকার উচ্চতা, ওজন, সময় এবং তাপমাত্রার মাপজোখের। দৈনন্দিন জীবনে এই মাপজোখের উপর আমরা নানাভাবে নির্ভরশীল। এই মাপজোখের মাধ্যমে আমরা মূলত কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করে থাকি। আর এই কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করাই হলো পরিমাপ। দৈনন্দিন জীবনে নানাবিধ ঘটনায় এই পরিমাপের সাথে আমরা পরিচিত। যেমন, বাজার থেকে চাল কিনে আনতে, রান্নার জন্য তেলের ব্যবহারের সময়, জামাকাপড় তৈরি করার সময়।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
- বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া এবং পরীক্ষণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা এবং এককের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- মৌলিক ও যৌগিক একক ব্যাখ্যা করতে পারব।
- দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় পরিমাপ করতে পারব।
- বিভিন্ন আকারের কঠিন বস্তুর আয়তন পরিমাপ করতে পারব।
- তরল পদার্থের আয়তন পরিমাপ করতে পারব।
- তাপমাত্রা পরিমাপ করতে পারব।
Related Question
View Allআমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কারণ জীবনধারণের জন্য প্রতিনিয়তই আমাদেরকে বিভিন্ন জিনিসের আদান-প্রদান করতে হয়। যেমন- কেনাকাটা, কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করা, এমনকি বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও পরিমাপের প্রয়োজন। কারণ পরিমাপ ব্যতীত এ কাজগুলো কোনোভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পরিমাপের প্রয়োজন হয়।
উদ্দীপক থেকে পাই,
ফারহানের পড়ার ঘরের ক্ষেত্রফল = ৪০ বর্গমিটার
এবং দৈর্ঘ্য = ১০ মিটার
আমরা জানি,
ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য প্রস্থ
প্রস্থ= ক্ষেত্রফল/দৈর্ঘ্য
= ৪০ বর্গমিটার/১০ মিটার== ৪ মিটার
অতএব, ফারহানের পড়ার ঘরের প্রস্থ ৪ মিটার।
উদ্দীপক থেকে পাই,
ফারহানের পড়ার ঘরের ক্ষেত্রফল = ৪০ বর্গমিটার
পড়ার টেবিলের দৈর্ঘ্য = ১ মিটার
পড়ার টেবিলের প্রশ্ন = ৫০ সে. মি.
মি. [ ১০০ সে. মি. = ১ মি.]
= ০.৫ মি
পড়ার টেবিলের ক্ষেত্রফল = (দৈর্ঘ্য প্রস্থ) বর্গএকক
= (১ ০ ০.৫) বর্গমিটার
= ০.৫ বর্গমিটার
অতএব, একটি টেবিলের ক্ষেত্রফল = ০.৫ বর্গমিটার
ঘরের ফাঁকা জায়গার ক্ষেত্রফল = (৪০ ১) বর্গমিটার
= ৩৯ বর্গমিটার
অতএব, টেবিল দুটি রাখার পর ঘরে ৩৯ বর্গমিটার ফাঁকা জায়গা থাকবে
যেসব একক একাধিক মৌলিক এককের সমন্বয়ে গঠিত - তাদেরকে যৌগিক একক বলে। যেমন, আয়তনের একক ঘনমিটার, যা তিনটি মৌলিক দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার একক মিটার এর গুণফল। -তাই আয়তনের একক একটি যৌগিক একক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!