প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বস্তুগুলো নিয়ে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। আমাদের চারপাশে অনেক বস্তু রয়েছে যা মানুষ তৈরি করতে পারে না। যেমন- চাঁদ, তারা, মাটি, নদী, সমুদ্র, পাহাড়, মানুষ, পশুপাখি ইত্যাদি। এসব কিছু প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান।
মানুষ তার প্রয়োজনে ঘর-বাড়ি, বাস-ট্রাক, নৌকা, রাস্তাঘাট, সেতু, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ইত্যাদি তৈরি করে। এগুলোকে মানুষের তৈরি পরিবেশ বলে। এটি এমন এক অবকাঠামো যা মানুষের জীবনের প্রয়োজন মেটাতে এবং আরামদায়ক জীবন যাত্রা নিশ্চিত করতে তৈরি হয়েছে।
উপাদান অনুসারে পরিবেশকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- জীব উপাদান ও জড় উপাদান। পরিবেশের যে সকল উপাদান সজীর তাদের জীব উপাদান বলে। অন্যদিকে এই জীব উপাদানকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সকল উপাদান হলো জড় বা অজীব উপাদান।
মাটি, পানি, বায়ু, আলো, জলবায়ু ইত্যাদি অজীব বা জড় উপাদান। এগুলো বিভিন্নভাবে পরিবেশের প্রতিটি জীবের স্বভাব এবং বিস্তৃতিকে প্রভাবিত করে। এসব উপাদানের প্রাপ্যতার উপর জীবের জীবনধারা নির্ভর করে। সুতরাং জড় উপাদান ছাড়া জীব বাঁচতে পারে না।
উদ্ভিদ তার জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন- ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ফসফেট, আয়রন, নাইট্রোজেন, পটাশ ইত্যাদি মাটি থেকে গ্রহণ করে। এসব উপাদানের অভাব হলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
প্রাণীর জন্য জীবনের অপর নাম পানি। প্রাণী পানি পান করে তৃষ্ণা মেটায়। পানি খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া দৈনন্দিন কাজে পানির ব্যবহার অপরিসীম। তাই প্রাণীর জন্য পানি, অপরিহার্য।
উদ্ভিদ সজীব উপাদান য্য জীব উপাদান নামেও পরিচিত। উদ্ভিদের 'আবাসস্থল অর্থাৎ এরা বনজ পরিবেশে, স্থলজ পরিবেশে এবং জলজ পরিবেশে ভালো জন্মে। যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, পদ্ম, গোলপাতা ইত্যাদি।
পরিবেশে জীব উপাদান হলো উদ্ভিদ ও প্রাণী। এগুলো বেঁচে থাকার জন্য কিছু মৌলিক উপাদান প্রয়োজন। বেঁচে থাকার জন্য উদ্ভিদের প্রয়োজন পানি, বায়ু, খাদ্য ও সূর্যের আলো। প্রাণীদের বেঁচে থাকতে পানি, বায়ু, খাদ্য, বাসস্থান, তাপমাত্রা এবং শত্রু থেকে নিজেদের রক্ষা করা প্রয়োজন।
সময়ের সাথে যে প্রজাতিটির টিকে থাকার ক্ষমতা যত বেশি, সে তত দিন টিকে থাকতে পারে। অর্থাৎ, বিবর্তনের ধারায় যে যত বেশি পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে সে টিকে যাবে। এজন্য ডাইনোসর লোপ পেয়েছে কিন্তু তেলাপোকা এখনো টিকে আছে।
বর্তমানে পৃথিবীতে জনসংখ্যা বাড়ছে। বাড়তি মানুষের চাহিদা মেটাতে বনজঙ্গল কেটে ঘরবাড়ি, চাষের জমি, কলেজ, রাস্তা ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। এছাড়া মানুষ বিভিন্নভাবে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত করছে। এজন্য উদ্ভিদ ও প্রাণী তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। এভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী এবং উভয় প্রকার জীব ও জড় পদার্থের মধ্যে শক্তি ও বস্তুর আদান প্রদান ঘটে। বেঁচে থাকার জন্য এরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। কোন অঞ্চলে জীব উপাদান ও জড় উপাদানের নির্ভরশীলতার সম্পর্ককে ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র বলে।
পৃথিবীর সকল অঞ্চলে উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে। প্রত্যেকটি অঞ্চলের জলবায়ু, মাটি, পানি, আলো ও অন্যান্য উপাদান ভিন্ন। জলবায়ু, মাটি, পানি, আলো ও অন্যান্য উপাদানের ভিন্নতাই উদ্ভিদ ও প্রাণিকূলের বৈচিত্র্যতার কারণ।
যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদকোষ সূর্য রশ্মির উপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈব যৌগ জারিত হয়। ফলে জৈব যৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তিতে পরিণত হয় তাকে শ্বসন্ন বলে। এই প্রক্রিয়ায় শর্করা, আমিষ, চর্বি ইত্যাদি জারিত হয়।
কোনো কোনো উদ্ভিদের বংশবিস্তার ঘটে কীট পতঙ্গের মাধ্যমে। আবার বিভিন্ন প্রাণীর মাধ্যমেও উদ্ভিদের বংশবিস্তার হয়। অপরদিকে, অনেক উদ্ভিদ আছে যারা বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর আশ্রয়স্থল। এভাবেই উদ্ভিদ ও প্রাণী পরস্পরের উপর নির্ভরশীল।
পরিবেশের উপাদানসমূহের মধ্যে যদি কোনো কারণে কোনো পরিবর্তন ঘটে তবে জীবের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। এ স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হওয়াকেই দূষণ বলে। যেমন- বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ, পানি দূষণ ইত্যাদি। এগুলোর যেকোনো একটি দূষিত হলে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের জড় ও জীব উপাদানকে সঠিকভাবে রক্ষা করাই হলো পরিবেশ সংরক্ষণ। পরিবেশের জড় উপাদান যেমন-মাটি, পানি, বায়ু ইত্যাদি দূষণ রোধ করে এবং জীবজ উপাদান-গাছপালা, পশু, পাখি নিধন বন্ধ করে পরিবেশ সংরক্ষণ করা সম্ভব।
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বস্তুগুলো নিয়ে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ।
পরিবেশের উপাদান দুটি। যথা- ১. জীব উপাদান ও ২. অজীব বা জড় উপাদান।
পরিবেশের সকল সজীব উপাদানকে জীব উপাদান বলে।
জড় পরিবেশের মূল উপাদান ৩টি।
মাটি প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণীর নাম নীল তিমি।
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম জীব হলো ব্যাকটেরিয়া।
পরাগধানী হতে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে ফুলের গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।
বায়ুর স্বাভাবিক উপাদান পরিবর্তন হওয়াকে বায়ু দূষণ বলে।
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এবং মানুষের তৈরি বস্তুর তালিকা দেওয়া হলো-
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট : মানুষ, গরু, ছাগল, মাটি, নদী, সূর্য, পাহাড়, গাছপালা ইত্যাদি।
মানুষের তৈরি বস্তু: ঘরবাড়ি, মসজিদ, পুকুর, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, বাজার, স্কুল ইত্যাদি।
কোনো কোনো বিজ্ঞানীর ধারণা ডাইনোসর যখন পৃথিবীতে ছিল তখন পৃথিবী অনেক গরম ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে পৃথিবী অনেক ঠান্ডা হয়ে যায়। এ ঠাণ্ডা সইতে না পেরে তারা সবাই মারা যায়। আর এভাবেই ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটে।
আবার অনেক বিজ্ঞানী বলেন, পৃথিবীর পরিবেশে তখন এমন সব পরিবর্তন ঘটে, যার সাথে ডাইনোসররা নিজেদেরকে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
বড় বড় গাছ যখন দীর্ঘ সময় ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকে তখন সেগুলো পচে গিয়ে কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিণত হয়। এগুলো জীবদেহ থেকে তৈরি হয় বলে কয়লা ও পেট্রোলিয়ামকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয়।
পরিবেশে কোনো জীবই এককভাবে বেঁচে থাকতে পারে না। বেঁচে থাকার জন্য জীব বিভিন্নভাবে তার পরিবেশের উপর নির্ভর করে। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করতে হয়। এসব উপাদান যদি কোনো কারণে নষ্ট হয়ে যায় তবে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এজন্য পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকা প্রয়োজন।
Related Question
View Allআমাদের চারপাশে যা কিছু আছে, সবকিছু নিয়েই পরিবেশ।
পরিবেশের উপাদানসমূহের মধ্যে যদি কোনো কারণে কোনো পরিবর্তন ঘটে তবে জীবের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। এ স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হওয়াকেই দূষণ বলে। যেমন- বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ, পানি দূষণ ইত্যাদি। এগুলোর যেকোনো একটি দূষিত হলে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকের ছকে X কলামের উপাদানগুলো হলো মাটি, পানি বায়ু ও আলো। এগুলো পরিবেশের জড় উপাদান। এগুলোর উপর 'Y কলামের উদ্ভিদ ধানগাছ বিভিন্নভাবে নির্ভরশীল। যেমন-
১. ধান গাছ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রক্রিয়া সংঘটনে পানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও আলো সবগুলোই প্রয়োজন হয়।
২. ধান, গাছের জীবনধারণের জন্য পানি প্রয়োজন। এ পানি গাছটি মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে শোষণ করে। শোষণকৃত পানি দ্বারা নানা জৈবনিক কাজগুলো সম্পন্ন করে।
৩. ধানগাছ মাটিতে আবদ্ধ থাকে। মাটি থেকে জীবনধারণের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করে।
এভাবে X কলামের উপাদানগুলো ধানগাছকে টিকে থাকতে সহায়তা করে। উক্ত উপাদানগুলো ছাড়া ধানগাছ বাঁচতে পারবে না।
Z কলামের মানুষ বেঁচে থাকার জন্য X ও Y কলামের উভয়ের উপর নানাভাবে নির্ভরশীল। যেমন-
১. মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন খাদ্য। এ খাদ্য মানুষ নিজে তৈরি করতে পারে না। Y কলামের ধানগাছ অর্থাৎ উদ্ভিদ প্রজাতি X কলামের উপাদানগুলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে। মানুষ উদ্ভিদ কর্তৃক তৈরিকৃত এসব খাদ্য নানাভাবে খেয়ে থাকে। যেমন- ধানগাছ থেকে উৎপাদিত ধানকে চালে রূপান্তর করে তা খেয়ে থাকে। এখানে খাদ্যের জন্য মানুষকে X ও Y উভয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
২. মানুষ নিঃশ্বাসের সাথে বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। বায়ুতে এ অক্সিজেন আসে উদ্ভিদের মাধ্যমে।
৩. পানি ও আলো ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে না। পানি X কলামের একটি উপাদান।
৪. মানুষ মাটিতে নানা উদ্ভিদ যেমন- ধানগাছ জন্মিয়ে নানা চাহিদা মেটায়। এক্ষেত্রেও মানুষকে X ও Y কলামের ওপর নির্ভর করতে হয়।
উপরের উদাহরণগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, মানুষ বেঁচে থাকার জন্য X ও Y- উভয়েরই উপর নির্ভরশীল।' করে
আমাদের পরিবেশের মাটি, পানি, বায়ু, আলো, ঘরবাড়ি ইত্যাদি, অজীব উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত হয় তাই জড় পরিবেশ।।
প্রতিকূল পরিবেশে জীব টিকে থাকতে না পেরে আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়াকে জীবের বিলুপ্তি বলে। যেমন- বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন ডাইনোসর যখন পৃথিবীতে ছিল তখন পৃথিবী অনেক উত্তপ্ত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পৃথিবী অনেক ঠান্ডা হয়ে যায়। এ ঠান্ডা সইতে না পেরে তারা সবাই মারা যায় অর্থাৎ এদের বিলুপ্তি ঘটে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!