বিম্বিসার ছিলেন রাজা মহাপদ্মের পুত্র এবং মগধ রাজ্যের বিখ্যাত রাজা।
জীবক ছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষের একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক। রাজা বিম্বিসারের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন জীবক।
বিম্বিসার ছিলেন মগধ রাজ্যের বিখ্যাত রাজা এবং হর্ষঙ্ক বংশের খ্যাতিমান নৃপতি। তাঁর নামের সাথে 'শেনিয়' বা 'শ্রেণিক' বিশ্লেষণ যুক্ত হয়ে তিনি 'মগধরাজ শ্রেণিক বিম্বিসার' নামে খ্যাত ছিলেন। এটি ছিল তার বংশের উপাধিবিশেষ। বিম্বিসারের রাজত্বকাল থেকেই মগধের অগ্রগতি শুরু হয়।
বুদ্ধের সময়কালে প্রাচীন ভারতবর্ষ ছোট ছোট ষোলোটি রাজ্যে বিভক্ত ছিল। রাজ্যের রাজারা ছিরেন অনেক ক্ষমতাধর। তবে গৌতম বুদ্ধের সাথে তাঁদের সুসম্পর্ক ছিল। অনেক রাজা যুদ্ধের বাণ ও উপদেশ গ্রহণ করে রাজ্যে প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ করেছিলেন। এমনকি যজ্ঞের নামেও পশুহত্যা নিষিদ্ধ করেছিলেন। অর্থাৎ জীব ও জনকল্যাণে বুদ্ধ রাজাদের উপদেশ দিতেন।
রাজা বিম্বিসার সুশাসক ছিলেন। তিনি ন্যায় ও ধর্মের সঙ্গে রাজ্য শাসন করতেন। তিনি প্রজাদের খুব ভালোবাসতেন। সব সময় প্রজাদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করতেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন শান্তিপ্রিয় ও উত্তম সংগঠক। প্রতাপশালী হলেও পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেন।
রাজা বিম্বিসারের সময়কালে তাঁর রাজ্যে বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম সমসাময়িককালে বিকাশ লাভ করেছিল। মহাবীর জৈন, গৌতম বুদ্ধ ও রাজা বিম্বিসার প্রায় সমকালীন ব্যক্তিত্ব। রাজা বিম্বিসার বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করলেও জৈনধর্মসহ সে সময়ে প্রচলিত অন্যান্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।
বুদ্ধত্ব লাভের পর বিম্বিসার বুদ্ধের দর্শন পেলে তিনি তাঁর কাছে ধর্মের বাণী শোনার প্রার্থনা করেন। তখন ভগবান বুদ্ধ রাজাকে দান, শীল ও স্বর্গ সম্বন্ধে সরলভাবে উপদেশ দেন। তারপর চতুরার্য সত্য, আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ সম্বন্ধে উপদেশ দেন এবং রাজা বুদ্ধের গৃহী শিষ্য হন।
রাজা বিম্বিসারের কামনা পাঁচটি হলো-
১. আমি ভবিষ্যতে রাজপদে অভিযুক্ত হব।
২. আমার রাজ্যে অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ অবতীর্ণ হবেন।
৩. আমি সেই বৃদ্ধকে সেবা ও পরিচর্যা করব।
৪. সেই ভগবান বুদ্ধ আমাকে ধর্মোপদেশ দান করবেন।
৫. আমি বুদ্ধের ধর্ম উপলব্ধি করব।
বুদ্ধের উপাসক হওয়ার পর থেকে রাজা বিম্বিসার নানাভাবে বৌদ্ধধর্মের প্রচারে সহযোগিতা করতেন। তিনি বুদ্ধর মাধ্যমে মগধবাসীর উদ্দেশ্যে ধর্মদেশনা করান। ভিক্ষুসংঘ কর্তৃক গৃহীদের পঞ্চশীল ও অষ্টশীল দেয়ার প্রচলন করেন। বিভিন্ন দান, ব্রত, ভিক্ষুদের চিকিৎসাসেবা করেন। এভাবে ছত্রিশ বছর বুদ্ধ ও তাঁর ধর্মের সেবা করেন।
ভিক্ষুরা আগে পুরাতন ও পরিত্যক্ত কাপড় ধুয়ে শুকিয়ে সেলাই করে পরতেন। এতে ভিক্ষুদের অনেক রকম রোগ হতো। চিকিৎসক জীবক ভিক্ষুদের নীরোগ জীবন চিন্তা করে নতুন কাপড় পরিধানের পরামর্শ দেন ও আবেদন জানান। একারণেই রাজা বিম্বিসার ভিক্ষুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নতুন কাপড় দান করতেন।
বুদ্ধের ধর্মপ্রচারের সময়কালে প্রাচীন ভারতবর্ষ ১৬টি রাজ্যে বিভক্ত ছিল ।
বিম্বিসার মগধ রাজ্যের বিখ্যাত রাজা ছিলেন।
বিম্বিসারের রাজ্যে আশি হাজার শহর ছিল ।
বিম্বিসারের পুত্রের নাম অজাতশত্রু।
রাজা বিম্বিসার অত্যন্ত শ্রদ্ধাচিত্তে তার রাজ্যের অতি মনোরম বেণুবন উদ্যান বুদ্ধ ও তার ভিক্ষুসংঘকে দান করেন।
বুদ্ধ ভিক্ষান্নে জীবনধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে যেতেন। এভাবে তিনি বৈশালী থেকে রাজগৃহে পৌঁছান। উপযুক্ত গুরুর সন্ধান ও ভিক্ষান্ন সংগ্রহই ছিল তার লক্ষ্য। সৌমশান্ত অপূর্ব সুন্দর এক যুবক ভিক্ষা করছেন এ খবর নগররক্ষীরা পৌঁছে দেন রাজা বিম্বিসারের কাছে। রাজা নিজে এসে তার সাথে দেখা করে ভিক্ষা করার কারণ জানতে চান এবং তাকে এ কঠিন ব্রত ছেড়ে রাজসুখ ভোগ করার আহ্বান জানান। এভাবেই বিম্বিসারের সাথে বুদ্ধের দেখা হয়।
রাজা বিম্বিসার সুশাসক ছিলেন। তিনি ন্যায়ের সঙ্গে রাজ্য শাসন করতেন এবং প্রজাদের খুব ভালোবাসতেন। সবসময় প্রজাদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করতেন। রাজা বিম্বিসার মগধ রাজ্যের বিখ্যাত রাজা ছিলেন এবং তার রাজ্য মগধ খুবই শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধিশীল ছিল। এছাড়া রাজা বিম্বিসার বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
Related Question
View Allবিম্বিসার ছিলেন রাজা মহাপদ্মের পুত্র এবং মগধ রাজ্যের বিখ্যাত রাজা।
জীবক ছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষের একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক। রাজা বিম্বিসারের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন জীবক।
বিম্বিসার ছিলেন মগধ রাজ্যের বিখ্যাত রাজা এবং হর্ষঙ্ক বংশের খ্যাতিমান নৃপতি। তাঁর নামের সাথে 'শেনিয়' বা 'শ্রেণিক' বিশ্লেষণ যুক্ত হয়ে তিনি 'মগধরাজ শ্রেণিক বিম্বিসার' নামে খ্যাত ছিলেন। এটি ছিল তার বংশের উপাধিবিশেষ। বিম্বিসারের রাজত্বকাল থেকেই মগধের অগ্রগতি শুরু হয়।
বুদ্ধের সময়কালে প্রাচীন ভারতবর্ষ ছোট ছোট ষোলোটি রাজ্যে বিভক্ত ছিল। রাজ্যের রাজারা ছিরেন অনেক ক্ষমতাধর। তবে গৌতম বুদ্ধের সাথে তাঁদের সুসম্পর্ক ছিল। অনেক রাজা যুদ্ধের বাণ ও উপদেশ গ্রহণ করে রাজ্যে প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ করেছিলেন। এমনকি যজ্ঞের নামেও পশুহত্যা নিষিদ্ধ করেছিলেন। অর্থাৎ জীব ও জনকল্যাণে বুদ্ধ রাজাদের উপদেশ দিতেন।
রাজা বিম্বিসার সুশাসক ছিলেন। তিনি ন্যায় ও ধর্মের সঙ্গে রাজ্য শাসন করতেন। তিনি প্রজাদের খুব ভালোবাসতেন। সব সময় প্রজাদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করতেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন শান্তিপ্রিয় ও উত্তম সংগঠক। প্রতাপশালী হলেও পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেন।
রাজা বিম্বিসারের সময়কালে তাঁর রাজ্যে বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম সমসাময়িককালে বিকাশ লাভ করেছিল। মহাবীর জৈন, গৌতম বুদ্ধ ও রাজা বিম্বিসার প্রায় সমকালীন ব্যক্তিত্ব। রাজা বিম্বিসার বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করলেও জৈনধর্মসহ সে সময়ে প্রচলিত অন্যান্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!