যে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়মকানুন আয়ত্ব হয়, তাকে নৈতিক শিক্ষা বলে। নৈতিক শিক্ষার মধ্যে রয়েছে সত্যবাদিতা, ক্ষমা, কর্তব্যনিষ্ঠা, গুরুভক্তি, ভ্রাতৃপ্রেম ইত্যাদি।
সত্যকথা বলার অভ্যাস গঠনে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মা-বাবা পরিবারের প্রধান তাই তাদেরকেই এ বিষয়ে অধিক সচেতন হতে হয়। মা-বাবাকে পরিবারের সকল কাজকর্মে সত্যকথা বলার অভ্যাস করতে হবে। পরিবারে সত্যকথা বলার পরিবেশ সৃষ্টি হলেই সন্তানের আচরণে তা প্রতিভাত হবে। সন্তান কোনো কাজে কোনো কারণে সত্য বলা থেকে বিরত থাকলে মা-বাবা এক্ষেত্রে তার ভুল সংশোধনের সুযোগ দিয়ে সত্য বলতে উৎসাহিত করবেন।
ধর্মের বাহ্য লক্ষণ রয়েছে দশটি। এগুলো হলো- সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয়-সংযম, শুভবুদ্ধি, জ্ঞান, সত্য ও অক্রোধ।
'নীতি' শব্দ থেকে 'নৈতিক' শব্দের উৎপত্তি। আর নীতি বিষয়ক শিক্ষণ বা জ্ঞান হলো নৈতিক শিক্ষা। যে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়মকানুন আয়ত্ত হয়, তাকে 'নৈতিক শিক্ষা' বলা হয়।
যে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়মকানুন আয়ত্ত হয় তাকে বলা হয় 'নৈতিক শিক্ষা'। হিন্দু ধর্মগ্রন্থসমূহে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যানের মধ্য দিয়েও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে সত্যবাদিতা, ক্ষমার ধারণা জন্মে। আর এজন্যই নৈতিক শিক্ষাকে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলা হয়।
গোপন না করে অকপটে সবকিছু প্রকাশ করার নামই 'সত্যবাদিতা'। সত্যবাদিতা মানব চরিত্রের একটি বিশেষ মহৎ গুণ। এ গুণ যার থাকে, তিনি সমাজে বিশেষভাবে সম্মানিত হন। সত্যবাদিতা হলো ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
গোপন না করে অকপটে সবকিছু প্রকাশ করার নামই 'সত্যবাদিতা'। সত্য মানবজীবনের স্বরূপ বিকশিত করে। সত্যের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। সত্যবাদী কখনো খারাপ কাজ করতে পারে না। সকলের উচিত সত্য কথা বলা, সৎপথে চলা। আর এসব ধর্মেরই নির্দেশ। তাই সত্যবাদিতা ধর্মের অঙ্গ।
সত্যবাদী লোককে চেনার উপাসমূহ হলো-
১. সত্যবাদী লোক কোনো কিছু গোপন না.করে অকপটে প্রকাশ করবেন।
২. তিনি কখনো খারাপ কাজ করবেন না।
৩. সবসময় সত্য কথা বলবেন এবং সৎ পথে চলবেন।
৪. সত্য প্রকাশ করাই হবে তাঁর জীবনের ব্রত।
সত্যবাদী সত্যকাম ঋষি গৌতমের কাছে ব্রহ্মবিদ্য শিক্ষার জন্য প্রার্থনা জানালে ঋষি তাকে তার গোত্র জিজ্ঞাসা করলেন। তখন সত্যবাদী সত্যকাম সরলভাবে এই সত্য বলেন যে, তার গোত্র সে নিজে এবং তার মা কেউই অবগত নন। তাই ঋষি বালকটির সরল সত্যকথায় প্রসন্ন হয়ে তাকে শিষ্যত্বে বরণ করেন।
সত্যবাদী সত্যকাম তার গুরুদেবের কাছে সরলভাবে সত্যকথা প্রকাশ করেন। কোনো ছল বা কপটতার আশ্রয় নেয়নি। তাই আমরা এই উপাখ্যান থেকে শিখতে পারি যে, সত্য সর্বদা প্রকাশিত। সত্য প্রকাশ করা উচিত। সত্য কখনো গোপন করা যায় না।
সত্য ব্যক্তিজীবনকে সুন্দর করে। সত্যবাদীকে সকলে ভালোবাসে, বিশ্বাস, সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। সত্যবাদী সকলের আস্থার পাত্র। সত্যবাদীর সাহস সর্বদাই অধিক। এই সাহসের মূলে রয়েছে ব্যক্তির সৎ চিন্তা এবং পরিপূর্ণ বিবেকবোধ। তাই ব্যক্তিজীবনে সত্য কথা বলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সত্যকথা বলার মাধ্যমে পরিবারে পরস্পর পরস্পরের কাছাকাছি আসা সহজ হয়। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ হয়। পরিবারে একে অন্যের উপর নির্ভর করা যায়। যেকোনো জটিলতা সহজে কাটিয়ে উঠা যায়। এভাবে সত্যকথা বলার মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায় বলে পারিবারিক জীবনে সত্য কথা বলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যালয়ে শিক্ষক, সহপাঠীসহ অন্যান্য সকলের সাথে বিভিন্ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সত্য কথা বলার গুরুত্ব অধিক। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী সবাই সত্যবাদীকে খুব পছন্দ করে। সত্যবাদী সর্বদা স্পষ্টভাষী ও সৎসাহসী হয়ে থাকে। এজন্য সত্যবাদীকে সকলে বিভিন্ন কাজে দায়িত্ব প্রদান করে।
সমাজে সত্যবাদীকে সকলে বিশ্বাস করে। সত্যবাদী সমাজের আদর্শ। সমাজে সত্যবাদী ব্যক্তির আদর্শকে অনেকেই অনুসরণ করে। সমাজের বিভিন্ন বিরোধ, দ্বন্দ্বসহ নানা সমস্যা সমাধানে সত্যবাদী ব্যক্তিই এগিয়ে আসেন। তাই সমার্জজীবনেও সত্যবাদিতার গুরুত্ব রয়েছে।
সত্যকথা বলার অভ্যাস গঠনে মা-বাবাকে পরিবারের সকল কাজকর্মে সত্যকথা বলার অভ্যাস করতে হবে। সন্তান কোনো কাজে কোনো কারণে সত্যকথা বলা হতে বিরত থাকলে মা-বাবা এক্ষেত্রে তার ভুল সংশোধনের সুযোগ দিয়ে সত্য বলতে উৎসাহিত করবেন। এক্ষেত্রে মা-বাবাকে সন্তানের সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করতে হবে।
পরিবারের বিভিন্ন কাজের সময় মা-বাবা ও অন্যান্য সদস্যগণ সত্যবাদীর গল্প কিংবা ঘটনা বলে তাদের জীবনবোধে সাড়া জাগাতে পারেন। ধর্মগ্রন্থে সত্যবলার অনেক কাহিনি রয়েছে। এসব গল্প কিংবা সত্যবলার পুরস্কারের উপর কোনো ঘটনা বা এলাকার কোনো সত্য ঘটনার অবতারণা করেও শিশুদেরকে সত্যকথা বলতে উৎসাহিত করা যায়।
ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। অনুতপ্ত অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে, ছেড়ে দেওয়াকে 'ক্ষমা' বলে। শাস্তি দেওয়ার মতো শক্তি সাহস এবং ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অপরাধী বা অন্যায়কারীর উপর প্রতিশোধ না নিয়ে বা বলপ্রয়োগ না করে তাকে পরাভূত বা পর্যুদস্ত না করে ছেড়ে দেওয়াকেই ক্ষমা করা বলে।
'ক্ষমা' দ্বারা অপরাধীর মনে অনুশোচনা হয়। এতে তার আত্মশুদ্ধির সুযোগ ঘটে। ফলে ভবিষ্যতে অন্যায়কারী বা অপরাধী পুনরায় অপরাধ করা থেকে বিরত থাকে। তখন তার বিবেক তাকে এসব খারাপ কাজ করা থেকে নিবৃত্ত করে।
'ক্ষমা' দ্বারা শত্রুকে তার শত্রুতা থেকে নিবৃত্ত করা সম্ভব। 'ক্ষমা' দ্বারা অন্যায়কারী পুনরায় অপরাধ করা থেকে বিরত হয়। পৃথিবীতে যত মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছেন তাঁরা সকলেই এই ক্ষমা গুণের দ্বারা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই ক্ষমা গুণটি অবশ্যই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
'ক্ষমা' গুণটি দ্বারা অপরাধীর আত্মশুদ্ধি ঘটে। শত্রুকে তার শত্রুতা থেকে নিবৃত্ত করা যায়। সমাজে এই গুণের দ্বারাই মহান ব্যক্তিগণ শান্তি আনয়ন করেছেন। ক্ষমা করলে আমাদের ব্যক্তিজীবন ও সমাজ শৃঙ্খলামণ্ডিত হবে। সেজন্য আমরা ক্ষমাশীল হব।
'ক্ষমা' কেবল একটি মহৎ গুণই নয়, এটি ধর্মেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সনাতন হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে ধর্মের দশটি স্বরূপ বা বাহ্য লক্ষণের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যার মধ্যে 'ক্ষমা' অন্যতম। 'ক্ষমা' দ্বারা শত্রুকে শত্রুতা থেকে নিবৃত্ত করা যায়। ফলে সমাজ থেকে অশান্তি দূরীভূত হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্ষমার দ্বারা অর্ধামিক ধার্মিকে পরিণত হয়। তাই ক্ষমা ধর্মের অঙ্গ একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
সনাতন হিন্দুধর্ম শাস্ত্রে ধর্মের দশটি স্বরূপ বা বাহ্য লক্ষণের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ১. সহিষ্ণুতা, ২. ক্ষমা, ৩. দয়া, ৪. চুরি না করা, ৫. শুচিতা, ৬. ইন্দ্রিয়-সংযম, ৭. শুভবুদ্ধি, ৮. জ্ঞান, ৯. সত্য ও ১০. অক্রোধ।
প্রায় পাঁচশত বছর আগের কথা। সে সময় জাতিভেদ, বর্ণভেদ সমাজকে কলুষিত করেছিল। সমাজের এই ভেদাভেদ দূর করে সমাজকে কলুষমুক্ত করতে, ধর্মীয় গোঁড়ামি ভেঙে দিয়ে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানকে সরল করে দিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। এই সরল পদ্ধতিটি হলো পবিত্র কৃষ্ণনাম সংকীর্তন।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রধান সহচরগণের নাম- শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু, শ্রীঅদ্বৈত আচার্য, শ্রীহরিদাস, শ্রীরূপ, শ্রীসনাতন, শ্রীজীব, শ্রীগোপাল ভট্ট, শ্রীরঘুনাথদাস প্রমুখ।
শ্রীগৌরাঙ্গ বা শ্রীগৌরসুন্দরই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। তিনি তাঁর সহচরগণকে বলেন, কৃষ্ণনাম কর। জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলকে হরিনাম বিলাও। যাকে দেখ তাকেই কৃষ্ণনামের কথা, কৃষ্ণভজনের কথা বলার নির্দেশ দেন।
শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর একজন অন্যতম সহচর। তিনি মহাপ্রভুর নির্দেশ পেয়ে কৃষ্ণনাম সংকীর্তনে মেতে উঠেন। যাকেই দেখতে পান, তাকেই কৃষ্ণনামের কথা বলেন, কৃষ্ণভজনের কথা বলেন।
মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের সময় নবদ্বীপে জগাই-মাধাই নামে দুই ভাই বাস করত। তারা ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও সবসময় পাপ কাজে মত্ত ছিল। মদ খেয়ে মাতাল হয়ে মানুষের প্রতি অত্যাচার করাই ছিল তাদের দৈনন্দিন কাজ। কিন্তু শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর কৃপায় মহাপ্রভু তাদেরকে মহাসাধকে পরিণত করেছিলেন।
চৈতন্য ভাগবতে উল্লিখিত নিত্যানন্দ প্রভুর উপদেশ ছিল-
'বল কৃষ্ণ ভজকৃষ্ণ কহ কৃষ্ণ নাম।
কৃষ্ণ মাতা কৃষ্ণ পিতা কৃষ্ণধন প্রাণ।
তোমা সব লাগিয়া কৃষ্ণের অবতার।
হেন কৃষ্ণ ভজ সবে ছাড় অনাচার।'
নিত্যানন্দ প্রভু জগাই-মাধাইকে যখন কৃষ্ণনাম করার জন্য উপদেশ দিলেন, তখন তাঁর মুখে হরিনাম বা কৃষ্ণনাম শুনে জগাই-মাধাই ভীষণ ক্ষেপে গেল। আর তাদের এই রকম অধঃপতিত অবস্থা দেখে নিত্যানন্দ প্রভুর হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে গেল। তখন তাদের প্রতি করুণায় তাঁর চোখ থেকে অশ্রু পড়তে লাগল।
শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে মাধাই কলসির কানা দিয়ে আঘাত করেছিল। যখন নিত্যানন্দ প্রভু জগাই-মাধাইকে তাদের দুরবস্থাপূর্ণ অধঃপতিত জীবন থেকে উদ্ধারের জন্য হরিনাম করতে বলেন, তখন তারা ক্রোধে জ্বলে উঠল আর মাধাই একটি কলসির কানা দিয়ে নিত্যানন্দ প্রভুর মাথায় আঘাত করল।
শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে মাধাই একটি কলসির কানা দিয়ে আঘাত করেছে- এই সংবাদ শোনামাত্র মহাপ্রভু শিষ্যগণসহ সেখানে উপস্থিত হন। তখন নিত্যানন্দের ঐ রক্তাক্ত অবস্থা দেখে জগাই-মাদাইয়ের প্রতি মহাপ্রভু ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।
শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে মাধাইয়ের কলসির কানা দিয়ে আঘাতের ঘটনায় মহাপ্রভু জগাই-মাধাইয়ের প্রতি অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হলে নিত্যানন্দ তাঁকে নিরস্ত করেন। আর এভাবে নিত্যানন্দের অসমী করুণা ও ক্ষমাসুলভ গুণ দেখে জগাই-মাধাই মহাপাপী থেকে মহাসাধকে পরিণত হন।
ক্ষমার আদর্শ উপাখ্যানটিতে নিত্যানন্দ মাধাইকে ক্ষমা করে দেন। এর থেকে আমরা শিক্ষা পাই, ক্ষমা দ্বারা অসৎ মানুষকে সৎ মানুষে পরিবর্তন করা যায় এবং দূর্জয় শত্রুকেও বশ করা যায়। ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ।
পারিবারিক জীবনে অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ হয়। তখন আমাদের ক্ষমাশীল হওয়া দরকার। কারণ ক্ষমার দৃষ্টান্ত পরস্পরের মধ্যে মানসিক দূরত্ব কমিয়ে দেয়। ক্ষমাবোধ আমাদের আচরণকে পরিশীলিত করে। ক্ষমা মানুষকে মহৎ করে তোলে। ক্ষমশীল সদস্যের প্রতি পরিবারের সকলের শ্রদ্ধাবোধ অধিক থাকে।
বিদ্যালয়ে আমাদের বন্ধুদের সাথে অনেক ক্ষেত্রেই মতবিরোধ হয়। কিন্তু ক্ষমার দ্বারা পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। ক্ষমা শিক্ষার্থীর। জীবন সুন্দর করে তোলে। ক্ষমার গুণ বিদ্যালয়ের পরিবেশকে সুন্দর করে তোলে। এভাবে ক্ষমা গুণটি বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খলা রক্ষা করতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
হ্যাঁ, সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমার গুরুত্ব অধিক। ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। ক্ষমাশীল ব্যক্তি সমাজে সমাদৃত এবং শ্রদ্ধার পাত্র। ক্ষমাশীলতার দ্বারা আমাদের সমাজ অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। এর ফলে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধিত হয়।
যে পরিবারে মা-বাবা ক্ষমাশীল আচরণ করে সে পরিবারে সন্তানের মধ্যেও এই গুণটি পরিলক্ষিত হয়। সন্তানকে সংশোধনের ক্ষেত্রে মা-বাবাকে অত্যন্ত সচেতন, ধৈর্যশীল ও সহনশীল হতে হয়। ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য সন্তানের নিকট তুলে ধরতে হয়। যারা ক্ষমাশীলতার জন্য সমাজে শ্রদ্ধাভাজন হয়েছেন তাদের কথা গল্পের ছলে বলা ইত্যাদির মাধ্যমে ক্ষমার আদর্শ গঠন করা যায়।
'নীতি' শব্দটি 'নৈতিক' শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে।
হিন্দু-ধর্মগ্রন্থসমূহে নৈতিক শিক্ষা দু'ভাবে দেওয়া হয়েছে।
সত্যবাদিতা মানবচরিত্রের একটি মহৎ গুণ।
গোপন না করে সবকিছু অকপটে প্রকাশ করার নামই সত্যবাদিতা।
সত্যবাদীকে সকলে ভালোবাসে, সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে।
গৌতম প্রাচীনকালের একজন ঋষি।
ধর্মের স্বরূপ বা বাহ্য লক্ষণ দশটি।
অনুতপ্ত অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দেওয়াকে ক্ষমা বলে।
শ্রীগৌরাঙ্গই হলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু।
সত্যকথা বলার মাধ্যমে সবার মধ্যে সুসম্পর্ক বিরাজ করে। তাছাড়া সত্য বলার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের জটিলতা থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। তাই পরিবারের প্রত্যেকের সত্য কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
যে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়ম-কানুন আয়ত্ত হয়, তাকে নৈতিক শিক্ষা বলা হয়। নৈতিক শিক্ষা ধর্মের অঙ্গ। আর মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্য নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সত্যবাদিতা একটি বিশেষ গুণ। এ গুণ যার থাকে, তিনি সমাজে বিশেষভাবে সম্মানিত হন। গোপন না করে অকপটে সবকিছু প্রকাশ করার নামই হলো সত্যবাদিতা। সত্য মানবজীবনের স্বরূপ বিকশিত করে। তাছাড়া সত্যবাদী কখনও মন্দকাজ করতে পারে না।
পৃথিবীতে যত মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছেন তাঁরা সকলেই ক্ষমা গুণের অধিকারী ছিলেন। এ ক্ষমা গুণই তাঁদেরকে মহান বলে সকলের নিকট পরিচিত করিয়েছে। তাঁদের দ্বারাই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর তাই আমরা ক্ষমাশীল হব।
Related Question
View Allযে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়মকানুন আয়ত্ব হয়, তাকে নৈতিক শিক্ষা বলে। নৈতিক শিক্ষার মধ্যে রয়েছে সত্যবাদিতা, ক্ষমা, কর্তব্যনিষ্ঠা, গুরুভক্তি, ভ্রাতৃপ্রেম ইত্যাদি।
সত্যকথা বলার অভ্যাস গঠনে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মা-বাবা পরিবারের প্রধান তাই তাদেরকেই এ বিষয়ে অধিক সচেতন হতে হয়। মা-বাবাকে পরিবারের সকল কাজকর্মে সত্যকথা বলার অভ্যাস করতে হবে। পরিবারে সত্যকথা বলার পরিবেশ সৃষ্টি হলেই সন্তানের আচরণে তা প্রতিভাত হবে। সন্তান কোনো কাজে কোনো কারণে সত্য বলা থেকে বিরত থাকলে মা-বাবা এক্ষেত্রে তার ভুল সংশোধনের সুযোগ দিয়ে সত্য বলতে উৎসাহিত করবেন।
ধর্মের বাহ্য লক্ষণ রয়েছে দশটি। এগুলো হলো- সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয়-সংযম, শুভবুদ্ধি, জ্ঞান, সত্য ও অক্রোধ।
'নীতি' শব্দ থেকে 'নৈতিক' শব্দের উৎপত্তি। আর নীতি বিষয়ক শিক্ষণ বা জ্ঞান হলো নৈতিক শিক্ষা। যে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়মকানুন আয়ত্ত হয়, তাকে 'নৈতিক শিক্ষা' বলা হয়।
যে শিক্ষা দ্বারা মানুষের মনে নীতিবোধ জন্মে, কিছু আচার ও নিয়মকানুন আয়ত্ত হয় তাকে বলা হয় 'নৈতিক শিক্ষা'। হিন্দু ধর্মগ্রন্থসমূহে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যানের মধ্য দিয়েও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে সত্যবাদিতা, ক্ষমার ধারণা জন্মে। আর এজন্যই নৈতিক শিক্ষাকে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলা হয়।
গোপন না করে অকপটে সবকিছু প্রকাশ করার নামই 'সত্যবাদিতা'। সত্যবাদিতা মানব চরিত্রের একটি বিশেষ মহৎ গুণ। এ গুণ যার থাকে, তিনি সমাজে বিশেষভাবে সম্মানিত হন। সত্যবাদিতা হলো ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!