ত্রিপিটকের অন্তর্গত সূত্রপিটকে মূলত নীতিগাথাসমূহ সংরক্ষিত আছে।
ধর্মপদের অর্থ সঠিক পথ বা ধর্মের পথ। এ গ্রন্থের গাথাগুলো মানুষকে ধর্মের পথে বা সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাই এ গ্রন্থের নাম ধর্মপদ।
'দণ্ড' অর্থ শান্তি। অন্যায় বা অপরাধ করলে শাস্তি দেওয়া হয়। ধর্মপদের দশম অধ্যায়ে 'দণ্ডবর্গ' বর্ণিত হয়েছে।
মাতা-পিতার সেবা করা, স্ত্রী ও পুত্রদের উপকার করা এবং নিষ্পাপ ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা উত্তম মঙ্গল।
'খুদ্দকপাঠ' শব্দের অর্থ হচ্ছে ক্ষুদ্র বা সংক্ষিপ্ত পাঠ। বুদ্ধের ধর্মোপদেশসমূহ ত্রিপিটকের বিভিন্ন গ্রন্থে সংরক্ষিত আছে। খুদ্ধকপাঠ হচ্ছে সেই সূত্রপিঠকের অন্তর্গত খুদ্দক নিকারের প্রথম গ্রন্থ। যেখানে বিভিন্ন মঙ্গলসূত্র পাওয়া যায়। এখানের মঙ্গলসূত্রগুলোতে শুভ-অশুভের জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে।
ধর্মপদ হচ্ছে সূত্রপিঠকের অন্তর্গত খুদ্দক নিকারের দ্বিতীয় গ্রন্থ। ধর্মপদে বুদ্ধ ভাষিত বিভিন্ন গাথা পাওয়া যায়। ধর্মপদের অর্থ সঠিক পথ বা ধর্মের, পথ। এ গ্রন্থের গাথাগুলো মানুষকে ধর্মের পথে বা সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাই এ গ্রন্থের নাম ধর্মপদ। এখানে ২৬টি অধ্যায়ে ৪২৩টি গাথা রয়েছে।
'মঙ্গল' শব্দের অর্থ শুভ বা ভালো। আমরা নিজের ও অন্যের শুভবা ভালো হোক কামনা করে থাকি। একে মঙ্গল কামনা বলে। যেমন আচরণ বা কর্ম কারও. ক্ষতির কারণ না হয়ে বরং হিতসাধন করে থাকে তাই মঙ্গল। যেমন- কোনো কাজ শুরুর পূর্বে ঈশ্বরের স্মরণ করা।
মানুষের পাশাপাশি দেবতাদের মধ্যেও মঙ্গল নিয়ে তর্ক-বির্তক হলে ইন্দ্র একজন দেবপুত্রকে মর্ত্যে বুদ্ধের কাছে পাঠান। তখন ভগবান বুদ্ধদেব দেবতা ও মানুষের উপকারের জন্য 'মঙ্গলসূত্র' দেশনা করেন। তিনি মঙ্গলসূত্রে আটত্রিশ প্রকার মঙ্গলের কথা বলেন। এভাবেই 'মঙ্গলসূত্রের' উৎপত্তি হয়।
একটি মঙ্গলসূত্রের বাংলা অনুবাদ :
বহু দেবতা ও মানুষ স্বস্তি কামনা করে কীসে মঙ্গল হয় তা নিয়ে চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু কীসে মঙ্গল হয় তা কেউই সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে নি। আপনি দয়া করে দেবতা ও মানুষের মঙ্গলসমূহ ব্যক্তি করুন।
ইহজাগতিক লাভ-অলাভ, যশ-অযশ, নিন্দা-প্রশংসা, সুখ-দুঃখ এই আট প্রকার লোকধর্মে অবিচল থাকতে পারলে মঙ্গল সাধিত হয়। শোক-পরিতাপ, লোড, দ্বেষ, মোহ- এ সবই ক্ষতিকর। এসব থেকে. মুক্ত থাকতে পারলেই মঙ্গল সাধিত হবে।
'দণ্ড' অর্থ শাস্তি। কেউ অন্যায় বা অপরাধ করলে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। তবে এই 'দণ্ড' বা শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে তার সেই অপরাধ করার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা। অপরাধের তুলনায় যাতে শাস্তির পরিমাণ বেশি হয়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়।
দণ্ড বিষয়ে বুদ্ধের ধর্মোপদেশ 'দণ্ডবর্গ' নামে পরিচিত। এখানে তিনি বলেন, শাস্তির জন্য শাস্তি প্রদান নয়, বরং চিত্তশুদ্ধি আনয়ন করতে পারলে অন্যায় অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। তিনি শাস্তি প্রদানের সময় শাস্তিভোগকারীর কষ্ট ও মনোবেদনা উপলব্ধি করার কথা বলেছেন।
দণ্ডবর্গের একটি বাংলা অনুবাদ: জল সেচনকারী যেমন জলকে ইচ্ছামতো চালিত করেন, শর-নির্মাতা যেমন শরকে সোজা করেন, কাঠমিস্ত্রি যেমন কাঠের টুকরোকে ইচ্ছামতো আকার দান করেন, ব্রতচারী ব্যক্তিও তেমনি নিজেকে দমন করে থাকেন, সংযত জীবনযাপন করেন।
বুদ্ধ বলেছেন, শত্রুতা দ্বারা শত্রুতা প্রশামিত হয় না। মৈত্রী বা ভালোবাসা দ্বারা প্রশমিত হয়। যিনি নিজের সুখের জন্য অপর সুখকাতর জীবের প্রতি শত্রুতা করেন না, দন্ড প্রয়োগ করেন না, তিনি মৃত্যুর পর পার্থিব ও স্বর্গীয় সুখ উপভোগ করেন। এজন্য দন্ড ত্যাগ করা করা উচিত।
মঙ্গলসূত্র হতে আমরা নানাবিধ শিক্ষা পাই। মঙ্গলসূত্রে জ্ঞানী লোকের সেবা ও সকলকে সম্মানের কথা বলা হয়েছে। ধর্মীয় ও নৈতিক পথে জীবনযাপনের শিক্ষা, সংযত জীবনযাপন, সুশিক্ষা অর্জন 'কাম-ক্রোধ, লোড, মোহ প্রভৃতি ত্যাগের শিক্ষা পাই এবং নির্বাণ লাভের পথে অগ্রসর করে।
দণ্ডবর্গ হতে আমরা শিক্ষা পাই যে, দন্ড প্রয়োগ বা শাস্তি দ্বারা অন্যায় প্রবণতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা যায় না। অন্যায়কারীকে সৎপথে পরিচালিত করতে পারলেই অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পায়। কারও প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে শাস্তি প্রদান করা উচিত নয়। মৈত্রী ও ক্ষমা অনুশীলন করা উচিত।
Related Question
View Allত্রিপিটকের অন্তর্গত সূত্রপিটকে মূলত নীতিগাথাসমূহ সংরক্ষিত আছে।
ধর্মপদের অর্থ সঠিক পথ বা ধর্মের পথ। এ গ্রন্থের গাথাগুলো মানুষকে ধর্মের পথে বা সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাই এ গ্রন্থের নাম ধর্মপদ।
'দণ্ড' অর্থ শান্তি। অন্যায় বা অপরাধ করলে শাস্তি দেওয়া হয়। ধর্মপদের দশম অধ্যায়ে 'দণ্ডবর্গ' বর্ণিত হয়েছে।
মাতা-পিতার সেবা করা, স্ত্রী ও পুত্রদের উপকার করা এবং নিষ্পাপ ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা উত্তম মঙ্গল।
'খুদ্দকপাঠ' শব্দের অর্থ হচ্ছে ক্ষুদ্র বা সংক্ষিপ্ত পাঠ। বুদ্ধের ধর্মোপদেশসমূহ ত্রিপিটকের বিভিন্ন গ্রন্থে সংরক্ষিত আছে। খুদ্ধকপাঠ হচ্ছে সেই সূত্রপিঠকের অন্তর্গত খুদ্দক নিকারের প্রথম গ্রন্থ। যেখানে বিভিন্ন মঙ্গলসূত্র পাওয়া যায়। এখানের মঙ্গলসূত্রগুলোতে শুভ-অশুভের জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে।
ধর্মপদ হচ্ছে সূত্রপিঠকের অন্তর্গত খুদ্দক নিকারের দ্বিতীয় গ্রন্থ। ধর্মপদে বুদ্ধ ভাষিত বিভিন্ন গাথা পাওয়া যায়। ধর্মপদের অর্থ সঠিক পথ বা ধর্মের, পথ। এ গ্রন্থের গাথাগুলো মানুষকে ধর্মের পথে বা সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাই এ গ্রন্থের নাম ধর্মপদ। এখানে ২৬টি অধ্যায়ে ৪২৩টি গাথা রয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
