রাষ্ট্র হলো এমন একটি সংগঠন যার একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌম ক্ষমতা আছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র হলো অল্প বিস্তার বা বহু সংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত একটি জন সমাজ, যার নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে তারা স্থায়িভাবে বসবাস করে, বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণমুক্ত, যার একটি সরকার আছে, যার প্রতি সমগ্র অধিবাসী আনুগত্য প্রকাশ করে।
প্রাচীন গ্রিসের এক একটি নগরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি রাষ্ট্রই নগররাষ্ট্র। এটিকে ছোট স্বাধীন দেশ হিসেবেও বর্ণনা করা যায়। এটি সাধারণত একটি শহর এবং এর উপর নির্ভরশীল অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় আধুনিক রাষ্ট্র বলতে বোঝায় এমন একটি সংগঠিত জনসমষ্টি, যার কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সার্বভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন নিজস্ব সরকারের অধীনে বসবাস করে।
রাষ্ট্র গঠনের চারটি উপাদান রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-জনসমষ্টি, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। যেকেনো একটি উপাদানের অভাবে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।
একটি রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী জনসাধারণকেই জনমষ্টি বলে। রাষ্ট্রের অন্যতম উপাদান হলো জনসমষ্টি। জনসমষ্টি ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। রাষ্ট্রের জনসংখ্যা কম বা বেশি এমনকি বিশালও হতে পারে।
রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান হলো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড। ভূখণ্ড বলতে জল, স্থল ও তার উপরিস্থিত আকাশসীমাকে বোঝায়। তবে ভূখণ্ডের আয়তন কতটুকু হবে তার কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই। অর্থাৎ একটি রাষ্ট্রে ভূখন্ড আয়তনে অনেক বড়ো হতে পারে। আবার অনেক ছোটোও হতে পারে।
সরকার বলতে ব্যাপক অর্থে শাসকগোষ্ঠীর সকলকে বোঝায়, যার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের ক্ষমতা সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়।
রাষ্ট্র গঠনের আরেকটি অন্যতম উপাদান হলো সরকার। সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল কাজ পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সরকার আইন প্রণয়ন করে এবং আইন অনুযায়ী জনগণকে পরিচালনা করে। জনগণ সরকারের সকল বৈধ আদেশ মেনে চলে এবং সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।
রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব। এ ক্ষমতাবলে রাষ্ট্র তার অভ্যন্তরে যে কাউকে যেকোনো নির্দেশ দিতে পারে। তাকে সে আদশে পালনে বাধ্য করতে পারে। সার্বভৌমত্বের কারণে রাষ্ট্র অন্য কোনো দেশ বা শক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত থাকে।
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক সংগঠন। চারটি উপাদানের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠিত হয়। এগুলো হচ্ছে- জনসমষ্টি, ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। যেকোনো একটি উপাদানের অভাবে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।
ঢাকাকে রাষ্ট্র বলা যায় না। রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা হওয়ার জন্য যেসব উপাদান দরকার তার কমতি রয়েছে। ঢাকাতে ভূখণ্ড, জনসমষ্টি থাকলেও সরকার ও সার্বভৌমত্বের অভাব রয়েছে।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। একটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য যেসব উপাদান দরকার তার সবগুলোই বাংলাদেশে রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশকে রাষ্ট্র বলা যাবে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিশাল। এর সংখ্যা বর্তমানে ১৬ কোটি ৯৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৯শ ১১ জন (২০২২-এর আদমশুমারি অনুযায়ী)। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং অর্ধেক পুরুষ। জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ শিশু। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম জনবহুল রাষ্ট্র।
বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড রয়েছে। উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘলায় ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ভারত ও মিয়ানমার, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূখণ্ড বিস্তৃত।
বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত। এর নাম 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার'। এটি একটি গণতান্ত্রিক সরকার। এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সরকারের সকল নিয়ম-কানুন ও আদেশ-নিষেধ জনগণ মেনে চলে।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। এ ক্ষমতাবলে রাষ্ট্র দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ ও অন্য দেশের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত থেকে দেশ শাসন করে। এ কারণেই অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
যে ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রে প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে, রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে ও রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে তাকে নাগরিক বলে।
নাগরিকের প্রধান বৈশিষ্ট্য চারটি। যথা-
১. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য,
২. রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য,
৩. রাষ্ট্র থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার লাভ,
৪. রাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা।
নাগরিকত্ব হলো রাষ্ট্রের অধিবাসী বা ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়। রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি এ পরিচয় লাভ করে। অর্থাৎ নাগরিকত্ব হলো রাষ্ট্রের আইনস্বীকৃত সদস্য হিসেবে পাওয়া কোনো ব্যক্তির পদমর্যাদা।
একটি রাষ্ট্রে নিজ দেশের অধিবাসী ছাড়া ভিন্ন দেশের অনেক লোকও বাস করে। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদি নানা কারণে তারা অবস্থান করে। এরা বিদেশি হিসেবে পরিচত। যেমন-একজন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে বিদেশি হিসেবে গণ্য হবে।
বিদেশিরা যে রাষ্ট্রে বসাবাস করে সে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে না। কেবল বসবাসকারী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সামাজিক অধিকার ভোগ করে, কিন্তু তারা বিদেশে বসবাসকারী দেশের সরকারের কিংবা রাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে না। তাই বিদেশিরা রাষ্ট্রের নাগরিক নয়।
নাগরিকত্ব লাভের দুটি প্রধান উপায় হলো-
১. জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ।
২.. অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ।'
জন্মসূত্র নীতি অনুযায়ী মা-বাবা যে রাষ্ট্রের নাগরিক, সন্তান সে রাষ্ট্রের নাগরিক হবে। কোনো মা-বাবার সন্তান বিদেশে জন্মগহণ করলেও সে সন্তান মা-বাবার দেশের নাগরিক হবে। পৃথিবীর বেশির
ভাগ দেশ এ নীতি অনুসারে করে থাকে।
জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী, মা-বাবা যে দেশেরই হোক না কেন সন্তান যে দেশে জন্মগ্রহণ করবে সন্তান সে দেশের নাগরিক হবে। এ নীতি জন্মস্থানের উপর নির্ভর করে। এ নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের মা-বাবার কোনো সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলে সে আমেরিকার নাগরিক হবে এবং সে দেশের নাগরিকত্ব লাভ করবে।
শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও নানা. কারণে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশে বসবাস করতে হয়। এরূপ বসবাসকারী ব্যক্তির ঐ দেশের নাগরিকত্বের প্রয়োজন হয়। তখন রাষ্ট্রে কাছে ঐ ব্যক্তি আবেদন করে। আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্র শর্তসাপেক্ষে স্থায়ীভাবে নাগরিকত্ব প্রদান করে। নাগরিকত্ব লাভের পর ঐ ব্যক্তি সে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে।
একই ব্যক্তি দুইটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলে তাকে দ্বৈত-নাগরিকত্ব বলে। কোনো বাংলাদেশি মা-বাবার সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলে সে স্বাভাবিক নিয়মে ঐ দেশের নাগরিক হয়। অন্যদিকে মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় সে বাংলাদেশেরও নাগরিক। একে বলা হয়, দ্বৈত-নাগরিকত্ব।
নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি বেশকিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যেমন- রাষ্ট্র প্রদত্ত শিক্ষা লাভ, রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা, আইন মেনে চলা, নিয়মিত কর প্রদান করা, ভোট প্রদান করা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা ও সদ্ব্যবহার করা ইত্যাদি।
কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আন্তরিক হলে সে সুনাগরিক বলে বিবেচিত হয়। তার দ্বারা দেশের অধিক উন্নয়ন সাধন হয়। একজন সুনাগরিক বুদ্ধিমান, বিবেকবান, আত্মসংযমী এবং নিবেদিত হয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের তিনটি শর্ত হলো-
১. ঐ রাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে,
২. ঐ রাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে বিয়ে করে,
৩. ঐ রাষ্ট্রের ভাষা জেনে।
আধুনিক রাষ্ট্রে নাগরিকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মালিক। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নসহ সবকিছুই নাগরিকের যথাযথ ভূমিকা রয়েছে।
মানুষ অনেক আগে জন্ম নিলেও প্রাচীন পৃথিবীতে কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল না। ছিল না কোনো নাগরিকত্বের ধারণা। সময়ের পরিবর্তন ও বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার বছর আগে নদী ও সমুদ্রের তীরে প্রাচীন কিছু নগররাষ্ট্র গড়ে ওঠে। নগররাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে প্রাচীনকালে রাষ্ট্রের ধারণার উৎপত্তি ঘটেছে। ধীরে ধীরে আধুনিক রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছে। বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় আট শ'কোটি। এ বিপুল জনসংখ্যার সবাই কোনো না কোনো রাষ্ট্রের অধিবাসী বা নাগরিক। যেমন, আমরা সবাই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অধিবাসী এবং নাগরিক। রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়, কীভাবে একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়, নাগরিক বলতে কী বোঝায়, কীভাবে একটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করা যায়-এ অধ্যায় পাঠে এ সম্পর্কে আমরা জানব।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- রাষ্ট্রের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বাংলাদেশ কেন একটি রাষ্ট্র তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- নাগরিক ও নাগরিকতার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বাংলাদেশে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
- বিভিন্ন দেশের নাগরিকতা অর্জন পদ্ধতির তুলনা করতে পারব;
- দেশের উন্নয়নে নাগরিকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- দেশের উন্নয়নে নাগরিকের সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্ব উপলব্ধি করব।
Related Question
View Allনাগরিক রাষ্ট্রের পরিচয়ে নাগরিকত্ব লাভ করে।
একটি রাষ্ট্রে নিজ দেশের অধিবাসী ছাড়াও ভিন্ন দেশের অনেক লোক বাস করে। শিক্ষা, ব্যবসায় বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদি নানা কারণে তারা অবস্থান করে। এরা বিদেশি হিসেবে পরিচিত। তারা এদেশের সরকারের বা রাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকলেই নাগরিক নয়।
জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
অনুমোদনসূত্রে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসায় বাণিজ্য ছাড়াও নানা কারণে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশে বসবাস করতে হয়। এরূপ বসবাসকারী ব্যক্তির ওই দেশের নাগরিকত্বের প্রয়োজন হয়। তখন রাষ্ট্রের কাছে ওই ব্যক্তি আবেদন করেন। আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্র শর্তসাপেক্ষে স্থায়িভাবে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
অনুমোদন সূত্রে নাগরিকত্ব লাভের কিছু শর্ত আছে।
উদ্দীপকে জাকির সাহেব আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন কেননা, জাকির সাহেব ওই রাষ্ট্রের সম্পত্তি কিনেছেন, তিনি এবং তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, তিনি ওই রাষ্ট্রে চাকরিরত আছেন, তিনি ওই দেশের ভাষা জানেন, তিনি ভালো চরিত্রের অধিকারী ও তিনি উন্নততর দক্ষতার অধিকারী হয়েছেন। অনুমোদন সূত্রে নাগরিকত্ব লাভকারী ব্যক্তি উপরের শর্তগুলোর এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন। আর এভাবেই জাকির সাহেব আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
উদ্দীপকে জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করেছে।
অন্যদিকে স্বনন দ্বৈত-নাগরিকত্ব লাভ করেছে। এ দুই নাগরিকতার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।
এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করে ওই রাষ্ট্রের অনুমোদন সাপেক্ষে নাগরিকত্ব লাভকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ বলে। আবার একই ব্যক্তি দুটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলে তাকে দ্বৈত-নাগরিকত্ব বলে।
উদ্দীপক অনুযায়ী জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিক। আর জাকির সাহেব আমেরিকায় থাকা অবস্থায় স্বনন জন্মলাভ করেছে। সেক্ষেত্রে স্বনন আমেরিকার নাগরিক। আবার মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় স্বনন বাংলাদেশেরও নাগরিক। অর্থাৎ সে দ্বৈত-নাগরিকত্ব লাভ করেছে।
জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। স্বনন আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেছে বিধায় সে জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক। জাকির সাহেব প্রায় ২০ বছর যাবৎ আমেরিকাতে বসবাস করছেন বিধায় তিনি আমেরিকার নাগরিক। প্রাপ্তবয়স্ক হলে স্বনন ইচ্ছা করলে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবে। জাকির সাহেব নিয়মিত আয়কর দেন। দেশের আইনকানুন মেনে চলেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি তহবিল পরিচালনা করেন। স্বননের নাগরিকত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তেমন কিছুই করার প্রয়োজন নেই। তরে ইচ্ছা করলে সে দুটি রাষ্ট্রেরই নাগরিকত্ব রাখতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের জাকির সাহেব ও তার সন্তান স্বননের
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের - মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়।
একই ব্যক্তি দুটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলে তাকে দ্বিনাগরিকত্ব বলে। কোনো বাংলাদেশি বাবার সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলে সে স্বাভাবিক নিয়মে ওই দেশের নাগরিক হয়। অন্যদিকে মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় সে বাংলাদেশেরও নাগরিক। এক্ষেত্রে সে প্রাপ্তবয়স্ক হলে ইচ্ছা করলে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারে। তবে ইচ্ছা করলে সে দুটি রাষ্ট্রেরই নাগরিকত্ব রাখতে পারে, এটিই দ্বৈত-নাগরিকত্ব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!