গৃহকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল করে তুলতে গৃহ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গৃহে আমাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা বা উদ্দেশ্যগুলো পূরণ করতে বিভিন্ন রকম কাজ করতে হয় যা গৃহ ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করে থাকে। এ কারণে গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন।
গৃহ ব্যবস্থাপনার কাজগুলো গৃহেরই বিভিন্ন সদস্য যৌথভাবে সম্পন্ন করতে হয় এবং এজন্য সময়, বুদ্ধি, টাকা-পয়সা, শ্রম ইত্যাদি সম্পদ ব্যবহার করে কাজগুলো করতে হয়। আর এ কাজগুলো জীবনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গৃহের মানুষগুলো তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বপ্রথমে তারা তাদের লক্ষ্য ঠিক করবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শরু করবে। এ কাজগুলো পরিবারের সদস্যরা মিলে সম্পন্ন করবে। সবশেষে কাজের ভালো-মন্দ ফলাফল যাচাই করে দেখবে, কাজটাতে সফলতা এলো কিনা।
গৃহ ব্যবস্থাপনা হলো একটি ধারাবাহিক কর্মপদ্ধতি, যা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়। গৃহ ব্যবস্থাপনার ধাপ হলো ৪টি। এই পদ্ধতিগুলোই গৃহের সকল কর্মকান্ডকে সচল রাখে। ধাপগুলো হলো- পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন।
গৃহ ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গৃহ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রথম ধাপ হলো পরিকল্পনা। কোনো কাজ করার আগে কাজটি কেন করা হবে, কে করবে এবং কীভাবে করবে ইত্যাদি সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করাই হলো পরিকল্পনা। আর এই পরিকল্পনা করার ফলে কাজটি সঠিক ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।
সংগঠন ও নিয়ন্ত্রণ এ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যেমন-সংগঠন হলো বিভিন্ন কাজের মধ্যে সংযোগ সাধন করা অর্থাৎ কাজ, কর্মী ও সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাই হলো সংগঠন। অন্যদিকে গৃহীত পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ও সংগঠনের বিভিন্ন ধারাকে কার্যকর করাই হলো নিয়ন্ত্রণ।
গৃহ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ ধাপটি হলো মূল্যায়ন এবং এর কাজ হলো কোনো কাজের ফলাফল ভালো, না মন্দ তা যাচাই করা। কোনো কাজের সফলতা বা ব্যর্থতার বিষয়টি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার পরেই বোঝা যায়। ফলে ভবিষ্যতে কাজটি সহজেই নির্ভুলভাবে করা যায়।
গৃহ ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। পরিকল্পনার মাধ্যমেই আমরা ঠিক করে নিই, কোন কাজের পর কোনটা করব; কখন, কীভাবে করব। পরিকল্পনা করে নিলে কাজটি সহজে করা যায়। কাজের পরিকল্পনাটা সবসময় লিখিতভাবে করতে হয়, যাতে মনে থাকে।
অপরিকল্পিতভাবে কাজ করলে যেমন অনেক সুবিধা পাওয়া যায়, তেমনি অপরিকল্পিতভাবে কাজ করলে অনেক অসুবিধায় পড়তে হয়। যেমন- কাজটি সময়মতো সম্পন্ন করা যায় না। কাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
কোনো কাজ করার অনেক পন্থা বা উপায় থেকে সবচেয়ে ভালো উপায়টিকে বেছে নেওয়াই হলো সিদ্ধান্ত। এটা কাজ শুরুর প্রথম পদক্ষেপ। সিদ্ধান্ত গ্রহণ সঠিক হলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছু ধারাবাহিক নিয়ম আছে। যেমন-
১. প্রথমে সমস্যাটা বুঝতে হবে এবং সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।
২. সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটা পন্থা খুঁজতে হবে।
৩. পন্থগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে।
একটি পরিবারের প্রতিদিনকার কাজের তালিকা:
১. মা: সকালের নাশতা তৈরি করা, দুপুরের খাবার রান্না এবং ঘর পরিষ্কার রাখা।
২. বাবা: বাজার করা, বিল পরিশোধ করা এবং অফিসের কাজ করা।
৩. দাদা: বাগানের গাছের পরিচর্যা এবং শিশুদের গল্প বলা।
৪. আমি: নিজের পড়াশোনা, ঘর গোছানো এবং বইপত্র ঠিক রাখা।
৫. বোন: নিজের জিনিসপত্র গুছানো, পড়ালেখা এবং মা-বাবাকে ছোট কাজে সাহায্য করা।
অপরিকল্পিত কাজের অসুবিধাগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. অপরিকল্পিত কাজের ফলে সময় অপচয় হয়।
২. কাজ সঠিক সময়ে সম্পন্ন হয় না।
৩. বিশৃঙ্খলা এবং অগোছালো অবস্থা তৈরি হয়।
৪. কাজের মান খারাপ হয় এবং সফলতা অর্জিত হয় না।
৫. কাজ সঠিকভাবে শেষ না হওয়ায় মন খারাপ হয়।
৬. অধিকন্তু অপরিকল্পিত কাজের ফলে বিষণ্ণতা ও হতাশা তৈরি হয়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allগৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ পরিকল্পনা করা।
কাজ নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়া যখন যা মনে আসে সে রকম কাজ করলে তাকে অপরিকল্পিত কাজ বলে। অর্থাৎ যেকোনো কাজ করার আগে কাজটি কেন করা হবে, কীভাবে করা হবে, কে বা কারা করবে ইত্যাদি ভাবনাচিন্তা না করে মনের খেয়ালখুশি অনুযায়ী কাজ করাকে অপরিকল্পিত কাজ বলে।
আলোচ্য উদ্দীপকে লামিয়ার স্বভাবে গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যায়। যেকোনো কাজ করতে গেলে প্রথমে কাজটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হয়। কাজটা কীভাবে করলে লক্ষ্যে পৌছানো যাবে, সে বিষয়ে সঠিক চিন্তা-ভাবনা করে নেওয়াকে পরিকল্পনা বলে। গৃহ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক কর্মসমন্টির প্রথম ধাপ পরিকল্পনা করা। যেকোনো কাজের মূলভিত্তি হচ্ছে পরিকল্পনা করা.। উদ্দীপকের লামিয়া পরিকল্পনার মাধ্যমে ঠিক করে নেয়, সে কোন কাজটার পর কোন কাজটা করবে, কখন করবে, কীভাবে করবে, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার আগে রুটিন অনুযায়ী সে তার বই, খাতা, কলম, পেন্সিল ঠিক করে ব্যাগে ভরে নেয়। ফলে তার ক্লাস করতে সুবিধা হয়। শিক্ষক ক্লাসে যে নির্দেশনা দেন তা সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারে।
উদ্দীপকের লতিফ চিন্তাভাবনা না করে অপরিকল্পিতভাবে কাজ করে। যখন মনে যা আসে সে রকম কাজ করে। প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী সে বই, খাতা, কলম, পেন্সিল কিছুই ঠিক করে নেয় না। ক্লাসের বই খাতা না নিয়ে যাওয়ার কারণে সে শিক্ষকের নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারে না। এর ফলে তার পড়ালেখা সঠিক সময়ে শেষ হয় না। অপরিকল্পিতভাবে লেখাপড়া করার কারণে লতিফ পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করে। এভাবে কাজ করার কারণে একদিকে যেমন তার সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে তার কাজের ধারা ঠিক থাকে না। অপরিকল্পিত কাজের কারণে কোনো কাজে সফলতা আসে না। লতিফ পরিকল্পনামাফিক কাজ না করার কারণে তার কাজ এলোমেলো হয়ে যায়। ক্লাসের পড়া ভালোভাবে বুঝতে পারে না।
সুতরাং বলা যায়, লতিফের স্বভাব তার সফলতা লাভের অন্তরায়।
আমাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা গৃহে প্রণ হয়।
যেকোনো কাজ করতে হলে আগে কাজটি কেন করা হবে, কীভাবে করা হবে, কে বা কারা করবে ইত্যাদি ভাবনাচিন্তা করার নামই পরিকল্পনা। এটি গৃহ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রথম ধাপ। পরিকল্পনা করে নিলে কোনো কাজ কখন করা হবে তা সহজে বোঝা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!