সাধারণত যেখানে মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি অনেকে একত্রে বসবাস করে তাকে পরিবার বলে। আমরা প্রত্যেকেই পরিবারে বসবাস করি। পরিবার হলো সমাজের মূল একক
পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রত্যেকেরই কিছু চাহিদা থাকে। যেমন- খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক, শিক্ষা ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে ভালোবাসা, সঙ্গ লাভ, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার চাহিদা। পরিবারের ছোট সদস্যদের দরকার হয় উপযুক্ত যত্ন ও পরিচালনা। সর্বোপরি প্রয়োজন একটি নিরাপদ পরিবেশ।
পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বিরাজ করে। এটাই হলো পারিবারিক বন্ধন। পরিবারের একে অপরের প্রতি দায়িত্ব, কর্তব্য, আন্তরিকতা, স্নেহ-ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা-সম্মান, ভাব বিনিময় করা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা যায়।
একক পরিবার হলো ছোট পরিবার। এ ধরনের পরিবারে পৃথক একটি বাসগৃহে শুধুমাত্র মা-বাবা এবং তাদের অবিবাহিত সন্তান-সন্তানাদি থাকে। অপরদিকে যৌথ পরিবার হলো বড় পরিবার যেখানে দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, মা-বাবা ও সন্তানরা একসাথে বসবাস করে
যৌথ পরিবারের দুটি সুবিধা হলো-
১. যৌথ পরিবারের সদস্যরা একে-অপরের সহযোগিতায় আসতে পারে।
২. যৌথ পরিবারের শিশুদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কটা দৃঢ় হয়।
একক পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে-
১. একক পরিবারের সন্তানেরা তাদের দাদা-দাদি বা পরিবারের বয়ষ্ক সদস্যদের সহযোগিতা ছাড়াই বেড়ে ওঠে।
২. মা-বাবা উভয়েই কর্মজীবী হলে সন্তানদের এমন কেউ দেখাশোনা করে যারা তাদের আত্মীয় নয়।
জাতিসংঘে ঘোষিত ১৮ বছরের নিচে সকলকে শিশু বলে গণ্য করা হয়। তবে সকল শিশুর বৈশিষ্ট্য এক নয়। কারণ শিশুরা বয়সের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের হয়ে থাকে। যেমন- প্রথমে নবজাতক কাল, তারপর অতি শৈশব, তারপর প্রারম্ভিক শৈশব এবংতারপর আসে মধ্য শৈশব।
বিভিন্ন বয়সের শিশুর বৈশিষ্ট্য আমাদের জানা জরুরি। কারণ-
১. শিশুর সাথে সঠিক আচরণ করতে পারব।
২. বিভিন্ন বয়সের শিশুর চাহিদা পূরণ করতে পারব।
৩. শিশুর বেড়ে উঠার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে নতুন মা-বাবাকে সচেতন করতে পারব।
নবজাতক শিশু জন্মের সময় লালচে বা গোলাপি বর্ণের হয়, জন্ম মুহূর্তে কাঁদে, স্বাভাবিকভাবে দুধ খেতে পারে, তারাই নবজাতক শিশু। একটি নবজাতক শিশু দিনে প্রায় ১৮-২০ ঘণ্টা ঘুমায়। দু-তিন ঘণ্টা পর পর জেগে ওঠে. আহার করে, মলমূত্র ত্যাগের পর আবার ঘুমায়।
নবজাতকের সুস্থতার দুটি লক্ষণ হলো-
১. নবজাতকের প্রথম ভাষা হলো কান্না।
২. ঠোঁটের কাছে আঙুল রাখলে শিশু চুষে খেতে চায়।
নবজাতক সময়ের পর বা ২ সপ্তাহ থেকে ২ বছর পর্যন্ত কালকে অতি শৈশব কাল বলে। এ সময়ে শিশুর বিকাশ এত দ্রুত হয় যে, কিছুদিন পর পরই পরিচিতজনের কাছে শিশুকে অনেক বড় এবং অচেনা লাগে। জন্মের সময় যে বড় অসহায় ছিল সে এখন হাঁটতে পারে, লাফালাফি করতে পারে, কথা বলতে পারে, আরও কত কী!
ছোট্ট শিশুর যত্নে আমাদের করণীয়-
১. ক্ষুধা লাগলেই তাকে খাবার দেওয়া।
২. মলমূত্র ত্যাগ করলে তাড়াতাড়ি পরিষ্কার করা।
৩. কান্নার সময় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার অসুবিধা দূর করা।
একটি শিশুর বেড়ে উঠতে পরিবারের সদস্যের ভূমিকা অপরিসীম। শিশুর যত্নে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। অতপর বাবা, ভাই বোনসহ সকলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন জন্মকালীন ওজনের দ্বিগুণ হয় ছয় মাসে। এক বছরে হয় তিনগুণ। দুই বছরে হয় চারগুণ। তিন বছরে হয় পাঁচগুণ। জন্মের সময় শিশুর যা দৈর্ঘ্য থাকে, চার-পাঁচ বছরে তা দ্বিগুণ হয়।
প্রারম্ভিক শৈশবে সময়টা শিশুর আনন্দের সময়। নিজেকে, অপরকে, আশপাশের সবকিছুকে নিয়ে থাকে হাজারো প্রশ্ন। প্রত্যেক বিষয়ে সে অনর্গল প্রশ্ন করে। সে সবকিছু শিখতে চায়। এ বয়সটা আগ্রহ ও কৌতূহলের।
প্রারম্ভিক শৈশব কালকে শিশুর খেলার বয়স বলা হয়। এটা এমন একটা বয়স যখন শিশু আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলে পড়াশোনা শুরু করে না কিন্তু স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। আবার কোনো শিশু এ বয়সে স্কুলে যায় এবং খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরুর প্রস্তুতি নেয়।
প্রাক বিদ্যালয় শিশুরা তার এ বয়সে কথা বলতে শেখে। তারা থাকে আত্মকেন্দ্রিক। এজন্য নিজ সম্পর্কে তারা বেশি কথা বলে। কোন কোন বিষয় তার কাছে আনন্দের, তার পরিবারে কে কে আছে, তার কী কী জিনিস আছে- সে সম্পর্কে বলতে আগ্রহী হয়।
প্রাক শৈশবকালে শিশুরা অনুকরণীয় হয়। এ বয়সে তাদের সামনে যে ধরনের কাজ করা হয়, সেভাবেই তারা অভিনয় করে খেলে। যেমন- বাবার মতো খবরের কাগজ পড়া, মায়ের মতো সকলকে পরামর্শ দেওয়া বাবা-মাকে দেখে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করা ইত্যাদি।
মধ্য শৈশবে শিশুর শারীরিক বিকাশ ধীরগতিতে চলে। কিন্তু সামাজিক জীবনে আসে বিস্ময়কর পরিবর্তন। এ বয়সটি দলীয়ভাবে খেলার বয়স। ছেলেরা ছেলেদের দলে এবং মেয়েরা মেয়েদের দলে খেলাধুলা করে। স্কুলে যাওয়া ও খেলাধুলার কারণে সমবয়সীদের সাথে তার ব্যাপক যোগাযোগ হয়।
মধ্য শৈশবে শিশুর হতাশা সৃষ্টির অন্যতম কারণ হলো, - ব্যর্থতা। ব্যর্থতাই সৃষ্টি করে হতাশা। এই হতাশা থেকে নানারকম আচরণগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন- অতিরিক্ত রাগ, জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলা বা ভাংচুর করা, কাউকে আঘাত করা, বিষণ্ণতা, সামান্য কারণে কেঁদে ফেলা, স্কুলে যেতে না চাওয়া ইত্যাদি।
ছোটদের ব্যর্থতায় বড়দের উৎসাহিত করা খুবই জরুরি। কেননা বড়দের নেতিবাচক উক্তি শিশুদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। এতে শিশুদের ভবিষ্যৎ সফলতায় বাধার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ব্যর্থতার ফলে হতাশ হয়ে নিজেকে বিভিন্ন খারাপ কাজে লিপ্ত করে ফেলে। তাই তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allএকক পরিবার বলতে ওই পরিবারকে বোঝায় যেখানে পৃথক একটি বাসগৃহে শুধু মা-বাবা এবং তাদের অবিবাহিত সন্তান সন্ততি থাকে।' একক পরিবার হলো ছোট পরিবার। বর্তমানে অধিকাংশ পরিবার একক পরিবার।
উদ্দীপকের আবিদ যৌথ পরিবারে বেড়ে উঠেছে।
যে পরিবারে দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, মা-বাবা ও সন্তানেরা একসাথে বসবাস করে তাকে যৌথ পরিবার বলে। এ ধরনের পরিবারে এক বা একাধিক কর্তা থাকে। সকলে একসাথে বসবাস করার কারণে একে অপরের বিপদে সাহায্য করে, পরামর্শ দেয়, সন্তান প্রতিপালনে একে অপরকে সাহায্য করে। যৌথ পরিবারে সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যৌথ পরিবারে দাদা-দাদি, চাচা-চাচি সকলে একসাথে বসবাস করে বলে এটি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবার। এরূপ পরিবারে পুরুষের আয় উপার্জনের ওপর তার স্ত্রী, সন্তানের সেবা ও সুযোগ-সুবিধার মান নির্ভর করে। সুতরাং যৌথ পরিবার বলতে আমরা এমন একটি পরিবারকে বুঝি যেখানে এক বা একাধিক উপার্জনক্ষম ব্যক্তি থাকে এবং দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, মা-বাবা, সন্তানেরা সকলে একসাথে বসবাস করে।
যৌথ পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বিরাজ করে। এটাই পারিবারিক বন্ধন। যখন যৌথ পরিবারের বন্ধন দৃঢ় থাকে, তখন তারা নানাভাবে একে অপরের সহযোগিতায় আসতে পারে। উদ্দীপকের পরিবারের বন্ধন দৃঢ় হওয়ার কারণেই আবিদের গোসল, খাওয়া ইত্যাদি কাজগুলো তার চাচি করে থাকেন। সারাদিন মা-বাবার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও দাদা-দাদির সাথে আনন্দ হৈচৈ করে আবিদের দিন কেটে যায়। তাদের সঙ্গ ও ভালোবাসা আবিদকে সুষ্ঠুভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।
পরিশেষে বলা যায়, আবিদের বয়সী শিশুদের বেড়ে উঠার পিছনে পরিবারের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ।
জন্মের পর নবজাতকের প্রথম ভাষা হলো কান্না।
যেসব শিশু জন্মের সময় লালচে বা গোলাপি বর্ণের হয়, জন্মের পর পরই কাঁদে, স্বাভাবিকভাবে দুধ খেতে পারে, তারাই সুস্থ নবজাতক। নবজাতক প্রায় ১৮-২০ ঘণ্টা ঘুমায়। সুস্থ নবজাতক দু-তিন ঘণ্টা পর পর জেগে ওঠে, আহার করে মলমূত্র ত্যাগের পর আবার ঘুমায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!