দেহে খাদ্যদ্রব্য শোষণের পর যে কাজগুলো সম্পন্ন হয়।
যেমন- ক্ষুধা বিবৃত্ত করে তাপ ও শক্তি উৎপাদন, দেহের বৃদ্ধির জন্য নতুন, কোষ তৈরি, দেহের ক্ষয়প্রাপ্ত কোষের পূনর্গঠন, রোগ প্রতিরোধ করে শরীর সুস্থ সবল ও কর্মক্ষম রাখা। এই প্রক্রিয়াটিই হচ্ছে পুন্টি।
স্বাস্থ্যেই সকল সুখের মূল বলতে একটা ভালো ও সুস্থ স্বাস্থ্যকে বোঝায়। কারণ একজন মানুষের স্বাস্থ্য যদি ভালো থাকে অর্থাৎ সুস্থ থাকে, কর্মক্ষম থাকে, রোগব্যাধি বা দুর্বল মুক্ত থাকে তাহলেই তিনি একজন সুখী মানুষ হতে পারে। আর স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে সুখী হওয়া যায় না। তাই বলা হয়েছে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।
অনেক সময় আমরা ভালো স্বাস্থ্য বলতে মোটা হওয়াকে এবং খারাপ স্বাস্থ্য বলতে পাতলা শরীরকে বুঝি। কিন্তু এই মোটা স্বাস্থ্যকেই সুস্থ স্বাস্থ্য বলা যায় না কারণ অনেক সময় দেখা যায় যে, শরীর মোটা কিন্তু তার স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা খুবই কম, অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠে, ঠিকমতো ঘুম হয় না, প্রায়ই
একজন স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির মধ্যে অনেকগুলো লক্ষণ দেখা যায় তার মধ্যে দুটি হলো-
১. শরীরের ওজন সঠিক থাকবে।
২. রোগ প্রতিরোধের স্বাভাবিক ক্ষমতা থাকবে।
খাদ্য গ্রহণের সাথে পুষ্টির সম্পর্ক গভীর। কারণ মানুষ যদি বেশ কিছুদিন ঠিকমতো খাদ্যগ্রহণ করতে না পারে তাহলে তাদের শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, শরীর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়, মেধা শক্তি কমে যায় এক কথায় অপুষ্টি দেখা যায় অতএব, খাদ্য গ্রহণের সাথে পুষ্টির সম্পর্ক গভীর।
প্রয়োজনের চাইতে বেশি খাদ্য গ্রহণ করলে অতিপুষ্টি দেখা যায়, যেমন- শরীরের ওজন বেশি বেড়ে যায়, বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। অন্যদিকে সঠিক পরিমাণে খাবার খেলে দেহের যথাযথ পুষ্টি অবস্থা বজায় থাকে। তাই প্রয়োজনের চাইতে বেশি খাবার গ্রহণ উচিত নয়।
দীর্ঘদিন খাবার না খেলে অপুষ্টি দেখা দেয়। আর এই অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। মানুষ দীর্ঘদিন খাবার না খাওয়ার ফলে শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, শরীর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়, মেধা শক্তি কমে যায়। এক কথায় অপুষ্টি দেখা যায়। আর দীর্ঘদিন ধরে এই অপুষ্টি মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়ায়।
যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে ও দেহের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা হয় তখন দেহ কাজ করার ক্ষমতা লাভ করে। রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সহজে রোগে আক্রান্ত হয় না, মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটে, দীর্ঘায়ু লাভ করা যায় ও দেহের স্বাভাবিক পুষ্টিগত অবস্থা বজায় থাকে। তাই সুস্থ থাকতে দেহের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।
পুষ্টির সাথে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ভালো স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য, গ্রহণের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না ও খাওয়া হলে দেহ রোগাক্রান্ত হয় ও পুষ্টিপ্রাপ্তি ব্যহত হয়। অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না ও খাওয়া হলে দেহে যথাযথ পুষ্টি প্রাপ্তি ঘটে।
পুষ্টির সাথে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ভালো স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য, গ্রহণের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না ও খাওয়া হলে দেহ রোগাক্রান্ত হয় ও পুষ্টিপ্রাপ্তি ব্যহত হয়। অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না ও খাওয়া হলে দেহে যথাযথ পুষ্টি প্রাপ্তি ঘটে।
বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর মূল উৎস হলো অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য বিভিন্ন ধরনের রোগ-জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। আর এই সংক্রমিত খাদ্য গ্রহণ করলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি হয়। ফলে আমাদের দেহের পুষ্টিগুণ কমে যায় এবং শরীর দূর্বল হয়ে যায়।
শরীর দুর্বল হয়ে গেলে এ অবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে শরীর পুনরায় বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি বেড়ে যায়। অর্থাৎ একবার অসুস্থ হওয়ায় শরীর দুর্বল থাকে ফলে পুনরায় জীবাণু দ্বারা আক্রমণের আশঙ্কা অনেক বেশি হয়।
একবার অসুস্থ হওয়ায় শরীর দুর্বল থাকে বলে পুনরায় জীবাণু দ্বারা আক্রমণের আশাঙ্কা অনেক বেশি হয় এবং এ সময় যথাযথ পুষ্টিকর খাদ্য ও. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে না পারলে বার বার অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। বিষয়টি অনেকটা চক্রাকারে ঘুরতে থাকে। একে অপুষ্টি ও অপরিচ্ছন্নতার ক্ষতিকর চক্র বলে।
জীবাণু দ্বারা রোগ সৃষ্টির আশঙ্কা কমাতে হলে খাদ্য প্রস্তুত থেকে শুরু করে খাদ্য গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এজন্য খাদ্য প্রস্তুত ও খাওয়ার আগে সকলেরই উচিত সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নেওয়া। তাতে জীবাণু দ্বারা রোগ সৃষ্টির আশংকা কমে যাবে।
খাদ্যের মধ্যে অবস্থিত পুষ্টি উপাদানগুলো দেহে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। যেমন- দেহের গঠন ও বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ, তাপ উৎপাদন ও কর্মশক্তি প্রদান, অভ্যন্তরীণ কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি ইত্যাদি।
খাদ্যের মধ্যে অবস্থিত পুষ্টি উপাদানগুলো দেহে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। যেমন- দেহের গঠন ও বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ, তাপ উৎপাদন ও কর্মশক্তি প্রদান, অভ্যন্তরীণ কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি ইত্যাদি।
শরীরের বিভিন্ন কাজ, রক্ত সঞ্চালন, শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্যের পরিপাক, মলমূত্র ত্যাগ এবং বিভিন্ন কাজ সম্পাদন এর জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। এমন কি যখন আমরা ঘুমাই তখনও শক্তি খরচ হয়। খাদ্য থেকে তাপ সৃষ্টি হয় ও শক্তি উৎপাদন হয়। এজন্য বেঁচে থাকার জন্য শক্তি উৎপাদন অপরিহার্য।
দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যাদি নিষ্ক্রয়নিত্রিত হয় খাদ্যের মাধ্যমে। আমাদের শরীরের ভিতরের বিভিন্ন ধরনের কাজ যেমন- খাদ্য পরিপাক, শক্তি উৎপাদন, পেশিয় সঞ্চালন কোষের গঠন ইত্যাদি। দেহের ভেতরে যে কাজগুলো ঘটছে সেগুলোর জন্যও খাদ্যের ভূমিকা।
খাদ্যকে ভাঙলে যে বিভিন্ন ধরনের উপাদান পাওয়া যায় তাদেরকে খাদ্য উপাদান বলে। এই খাদ্য উপাদানগুলো প্রধানত জৈব রাসায়নিক বস্তু। এই বস্তুগুলো আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে অর্থাৎ পুষ্টি সাধন করে তাই এদেরকে পুষ্টি উপাদানও বলে।
খাদ্যে পুষ্টি উপাদান প্রধানত ছয়টি। যথা- (১) কার্বোহাইড্রেট, (২) প্রোটিন, (৩) ফ্যাট, (৪) ভিটামিন, (৫) খনিজ লবণ ও (৬) পানি।
কার্বোহাইড্রেট খাদ্যের উৎস- চাল, ভুট্টা, যব, গম, মিষ্টি আলু, চিনি, গুড়, মিছরি ইত্যাদি। এর কাজ হলো দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন। অন্যদিকে প্রোটিনের উৎস- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, বিচি জাতীয় খাদ্য ইত্যাদি। এর কাজ দেহের কোষ গঠন, বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণ করা।
ফ্যাট জাতীয় খাদ্যের মধ্যে রয়েছে উন্ডীজ্জ উৎস, সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, নারিকেল ইত্যাদি। প্রাণিজ উৎস- ঘি, মাখন, কড মাছের তেল, শার্ক মাছের তেল, পশু-পাখির চর্বি ইত্যাদি। এদের কাজ হলো দেহে তাপ ও শক্তি সরবরাহ করা।
ভিটামিনের প্রাণিজ উৎসগুলো হলো- সামুদ্রিক মাছ, ডিমের এ কুসুম, মাংস, যকৃত, পনির, দুধ ও দুধ জাতীয় খাদ্য। ভিটামিন ও 5 ধাতব লবণ জাতীয় খাদ্যের কাজ হলো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা । বৃদ্ধি করে শরীর সুস্থ ও সবল রাখা।
পানির উৎস হলো- সব ধরনের তরল খাবার, ডাবের পানি, রসাল ফল ইত্যাদি। এর কাজ হলো- খাদ্য পরিপাক ও শোষণে-সহায়তা করা। শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতেও সাহায্য করে।
খাদ্যের ছয়টি উপাদানই আমাদের শরীরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যদি আমরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করি তাহলে সহজেই পুষ্টি উপাদানগুলোর চাহিদা মেটানো সম্ভব।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপ্রতিদিনই আমাদের শরীর ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। আর এ ক্ষয়প্রাপ্ত দেহ পুনঃগঠন করার জন্য প্রয়োজন খাদ্যের। প্রতিদিন বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আমাদের শরীরের যে ক্ষয় হয় তা পূরণ করাই হচ্ছে দেহের ক্ষয়পূরণ।
উদ্দীপকে হেমার দেখা কান্তের শারীরিক অবস্থার কারণ হলো অতিরিক্ত ফ্যাটজাতীয় খাদ্য গ্রহণ। খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে 'স্নেহপদার্থ বা ফ্যাটই সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপন্ন করে। প্রায় সব প্রাকৃতিক খাদ্যবস্তুর মধ্যে এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। স্নেহজাতীয় পদার্থ পানিতে অদ্রবণীয় এবং পানির চেয়ে হালকা। কৈশোরে শক্তির চাহিদা বেশি থাকে। তাই এ বয়সীদের জন্য খাদ্যে ফ্যাটের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত ফ্যাটবহুল খাবারে শরীরের ওজন বেশি বেড়ে যেতে পারে। যেমনটি বেড়েছে উদ্দীপকের কান্তের। অতিরিক্ত ফ্যাটবহুল খাদ্যগ্রহণের ফলে কান্তের শরীর মোটা হয়ে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কাঁন্ত ও সুপ্তির শারীরিক অবস্থার জন্য খাদ্য উপাদান সম্পর্কে অজ্ঞতাই মূলত দায়ী। কারণ কান্ত ফ্যাটজাতীয় খাদ্য গ্রহণের ফলে মোটা হয়ে যাচ্ছে আর সুপ্তি ভিটামিন 'এ' জাতীয় খাদ্য গ্রহণ না করার কারণে সন্ধ্যার পর চোখে ঝাপসা দেখছে। তারা জানে না মানুষের শরীর সুস্থ রাখার জন্য বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ না করলে স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায় না। কেউ যখন প্রয়োজনের চেয়ে কম খাদ্য গ্রহণ করে তখন তার অপুষ্টির কারণে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। যেমনটি হয়েছে সুপ্তির ক্ষেত্রে। আবার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য গ্রহণ করলে অতিপুষ্টি দেখা দেয়। যেমনটি হয়েছে কান্তের ক্ষেত্রে। অতএব সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহের যথাযথ পুষ্টি অবস্থা বজায় থাকে। সুতরাং বলা যায়, খাদ্য উপাদান সম্পর্কে অজ্ঞতাই কান্ত ও সুপ্তির শারীরিক সমস্যার জন্য দায়ী কথাটি যথাযথ ও সঠিক।
আমরা কেবল বেঁচে থাকার জন্যই খাদ্য গ্রহণ করি না। খাদ্য গ্রহণের আরেকটা উদ্দেশ্য হচ্ছে দেহের যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!