নিচে শ্রাব্য ও অশ্রাব্য শব্দের মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো-
| শ্রাব্য শব্দ | অশ্রাব্য শব্দ |
| ১. যে শব্দ আমরা শুনতে পাই তাই শ্রাব্য শব্দ। | ১. যে শব্দ আমরা শুনতে পাই না তাই অশ্রাব্য শব্দ। |
| ২. শ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ থেকে ২০,০০০ হার্জের মধ্যে | ২. অশ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ হার্জ এর কম অথবা ২০,০০০ হার্জ এর বেশি। |
যে শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ২০টির কম কম্পন সৃষ্টি করে তাকে শ্রুতি-পূর্ব শব্দ বলা হয়। এ রকম শব্দ মানুষ শুনতে পায় না। যে শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০ টির বেশি কম্পন সৃষ্টি করে তাকে শ্রুতি-উত্তর শব্দ বলে। এরকম শব্দও মানুষ শুনতে পায় না।
নিচে নয়েজ ও সুশ্রাব্য শব্দের মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো-
| নয়েজ | সুশ্রাব্য শব্দ |
| ১. যেসব শব্দ শুনতে যন্ত্রণাদায়ক ও বিরক্তিকর তাদেরকে নয়েজ বলে। | ১. যে শব্দ শুনতে ভালো লাগে, সুখকর, মধুর ও আনন্দদায়ক তাদেরকে সুশ্রাব্য শব্দ বলে। |
| ২. এ ধরনের শব্দকে গোলমাল বলে। | ২. এ ধরনের শব্দকে সুরেলা শব্দ বলে। |
| ৩. বস্তুর অনিয়মিত বা অসম কম্পনের ফলে নয়েজ উৎপন্ন হয়। | ৩. বস্তুর নিয়মিত বা সুষম কম্পনের ফলে সুশ্রাব্য শব্দ উৎপন্ন হয়। |
| ৪. এ রকম শব্দ হলো পেরেক ঠোকার শব্দ, নির্মাণ কাজের শব্দ, বোর্ডে লেখার সময় চকের কিচ কিচ্ শব্দ ইত্যাদি। | ৪. এ রকম শব্দ হলো গানের সুর, বাঁশির সুর, হারমোনিয়ামের শব্দ, সেতারের বাজনা ইত্যাদি। |
সকল কম্পাঙ্কের শব্দ আমরা শুনতে পাই না। শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ এর মধ্যে থাকলেই কেবল সেই শব্দ আমরা শুনতে পাই। কম্পাঙ্কের এ সীমাকেই শ্রাব্যতার সীমা বলে।
আমাদের শ্রাব্যতার নিম্ন সীমা ২০ হার্জ এবং উচ্চ সীমা ২০,০০০ হার্জ।
শব্দ হলো এক ধরনের শক্তি যা আমাদের শ্রবণের অনুভূতি জোগায়। শব্দ কম্পনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। যেসব শব্দ আমাদের শুনতে ভালো লাগে সেগুলি সুরেলা শব্দ এবং যেগুলো ভালো লাগে না তাদেরকে বেসুরো শব্দ বলে।
সুরেলা বা শ্রুতিমধুর শব্দের বৈশিষ্ট্য হলো-
১. সুরেলা শব্দের সুর আছে।
২. এগুলো শুনতে ভালো লাগে।
৩. বিরক্তিকর নয় বরং আনন্দদায়ক।
৪. নির্দিষ্ট ছন্দে আন্দোলন করে।
অপ্রীতিকর শব্দ বা নয়েজ শব্দের তিনটি উদাহরণ হলো-
১. গাড়ির হর্ণের শব্দ,
'২. লোহা কাটার শব্দ,
৩. কুকুরের ঘেউ ঘেউ।
যেসব শব্দ গোলমেলে এবং নির্দিষ্ট সুর নেই তাদের সুরহীন শব্দ বলে। এ শব্দগুলো শুনতে ভালো লাগে না। এসব শব্দ বিরক্তি তৈরি করে। গাড়ির হর্ণের শব্দ, লোহা কাটার শব্দ, কুকুরের ঘেউ ঘেউ ইত্যাদি সুরহীন শব্দের উদাহরণ।
সুরযুক্ত ও সুরহীন শব্দের দুটি করে পার্থক্য হলো-
| সুরযুক্ত শব্দ | সুরহীন শব্দ |
| ১. সুরযুক্ত শব্দগুলো শ্রুতিমধুর এবং সুর আছে। | ১. সুরহীন শব্দগুলোর সুর নেই। |
| ২. এসব শব্দ শুনতে ভালো লাগে। যেমন- বাঁশির সুর | ২. এ সব শব্দ শুনতে বিরক্তি লাগে। যেমন কুকুরের ঘেউ ঘেউ। |
আমরা জানি, শব্দ এক প্রকার শক্তি যা শ্রবণের অনুভূতি জন্মায়। শব্দ কম্পনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। স্কুলের ঘণ্টায় আঘাত করলে ধাতব প্লেটে কম্পনের সৃষ্টি হয়। যার ফলে শব্দ তৈরি হয়।
আমরা জানি, কম্পনের ফলে শব্দ তৈরি হয়। সমুদ্রের পানির কণা প্রবাহিত হওয়ার সময় ঢেউ এর সৃষ্টি হয়। ফলে পানির কণার মধ্যে কম্পনের সৃষ্টি হয়, যা গর্জনের শব্দ তৈরি করে। তাই সমুদ্র হতে গর্জনের শব্দ পাওয়া যায়।
পুকুরে ঢিল ছুড়লে পানির অণুগুলো কাঁপতে থাকে যা কম্পন শুরু করে। পানির কম্পিত অণুগুলো এদের কম্পনকে পানির পার্শ্ববর্তী অণুগুলোতে স্থানান্তর করে দেয়। এভাবে কম্পিত অণুগুলো পানির মধ্যে একটি আন্দোলন বা ঢেউ সৃষ্টি করে। তাই পুকুরে ঢিল ছুড়লে ঢেউ সৃষ্টি হয়।
কঠিন মাধ্যমে অণুগুলো খুব কাছা-কাছি থাকে। তাদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি। ফলে কঠিন পদার্থে আঘাত করলে তারা কাঁপতে থাকে এবং দ্রুত কম্পন সৃষ্টি করে প্রবাহিত হয়। এজন্য কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ বায়ু বা তরল মাধ্যমের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ কঠিন মাধ্যমে শব্দ দ্রুত চলে।
বায়ু মাধ্যমে পদার্থের অণুগুলোর আন্তঃআণবিক দূরত্ব বেশি। ফলে তাদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কম। এ কারণে বায়ু মাধ্যমে শব্দের বেগ কম।
একটি পানি ভর্তি বেলুনে আঁচড় কাটলে তীব্র শব্দ তৈরি হয়। আমরা জানি, কম্পনের মাধ্যমে শব্দ তৈরি হয়। পানি ভর্তি বেলুনে পানি থাকায় বেলুনে আঁচড় কাটলে পানির অণুগুলো কম্পন সৃষ্টি করে। এই কম্পনের জন্য বেলুনে তীব্র শব্দ তৈরি হয়।
বায়ু মাধ্যমে শব্দের বেগ ৩৪৩ মিটার/সেকেন্ড, অ্যালুমিনিয়াম মাধ্যমে শব্দের বেগ ৬৪২০ মিটার/সেকেন্ড এবং পানি মাধ্যমে শব্দের বেগ ১৪৯৬ মিটার/সেকেন্ড।
পানি মাধ্যমের শব্দের বেগ ১৪৯৬ মিটার/সেকেন্ড এবং অ্যালুমিনিয়ামে শব্দের বেগ ৬৪২০ মিটার/সেকেন্ড। পানির চেয়ে অ্যালুমিনিয়াম পদার্থের কণার আন্তঃআণবিক বল বেশি। তাই অ্যালুমিনিয়ামে কম্পন দ্রুত হবে। যার জন্য শব্দের বেগও বেশি হয়।
মানুষের কানের ভিতরে একধরনের পর্দা থাকে। শব্দ যখন বায়ু মাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের কানের সরু ছিদ্রপথ দিয়ে ঐ পর্দায় আঘাত করে। পর্দা এই কম্পনকে কানের ভিতরের অংশে পৌছে দেয়। সেখান থেকে শব্দ মস্তিষ্কে যায়। এভাবেই আমরা শুনতে পাই।
আমরা জানি যে, কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। সকল কম্পনশীল বস্তুর শব্দ আমরা শুনতে পাই না। যে শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ২০টি কম কম্পন দিয়ে সৃষ্টি হয় তাদের শ্রুতিপূর্ব শব্দ বলে।
মানুষ শ্রাব্য শব্দ শুনতে পায়। মানুষের কানের শ্রাব্যতার সীমা হচ্ছে ২০ হার্জ হতে ২০,০০০ হার্জ পর্যন্ত। এই সীমার শব্দকে বলা হয় শ্রাব্য শব্দ। এই শব্দ শ্রবণ উপযোগী।
যে শব্দগুলো শ্রবণ উপযোগী এবং মানুষ শুনতে পায় তাদের শ্রাব্য শব্দ বলে। শ্রাব্য শব্দের সীমা ২০ হার্জ হতে ২০,০০০ হার্জ পর্যন্ত। এই সীমার বাইরের শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
আল্টাসনোগ্রাম চিকিৎসা বিজ্ঞানের শ্রুতি-উত্তর শব্দ ব্যবহারকারী যন্ত্র। এই যন্ত্র ২০,০০০ হার্জের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ ব্যবহার করে কাজ করে।
শ্রুতি উত্তর এবং শ্রুতিপূর্ব শব্দের পার্থক্য নিম্নরূপ :
| শ্রুতি উত্তর শব্দ | শ্রুতিপূর্ব শব্দ |
| ১. এসব শব্দের কম্পাঙ্ক ২০,০০০ হার্জের বেশি। | ১. এসব শব্দের কমাঙ্ক ২০ হার্জের কম। |
| ২. এসব শব্দ মানুষ শুনতে পায় না | ২. এসব শব্দ শ্রবণ উপযোগী নয় |
পরিবেশে অবাঞ্ছিত বা অতিরিক্ত শব্দকে শব্দ দূষণ বলে। যেমন বায়ুতে যে উপাদান থাকা উচিত, তা না থেকে যদি অন্য কিছু থাকে, তাহলে তাকে আমরা শব্দ দূষণ বলি। বায়ুতে অতিরিক্ত বা অবাঞ্ছিত শব্দ থাকলে বায়ু দূষণ ঘটে। পরিবেশে বিস্ফোরণের শব্দ, মাইকের শব্দ, গাড়িব হর্ন শব্দ দূষণ ঘটায়।
শব্দ দূষণের প্রধান কারণগুলো হলো-
১. গাড়ির শব্দ, ২. বিস্ফোরণের শব্দ, ৩. কোনো যন্ত্রের শব্দ,
৪. মাইকের শব্দ ও ৫. রেডিও বা টেলিভিশন জোরে বাজানোর শব্দ ইত্যাদি।
শব্দ দূষণের ফলে স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হয়। এসব সমস্য যেমন অনিদ্রা, মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, বিরক্তি ইত্যাদি সৃষ্টি হয়। কোনো মানুষ অনেক দিন অতিরিক্ত জোরালো শব্দ শুনলে কান ক্ষতিগ্রস্থ হয় এমনকি কম শুনতে পারে।
শব্দ দূষণ রোধের দুটি উপায় হলো-
১. রাস্তার পাশে, ঘর-বাড়ির চারদিকে গাছপালা লাগাতে হবে যাতে ঘর বাড়িতে শব্দ কম পৌঁছায়।
২. যানবাহনের হর্ন যতটা সম্ভব কম বাজাতে হবে।
সাইলেনসার হলো শব্দ দূষণ রোধে বিমানের ইঞ্জিন, যানবাহনের ইঞ্জিন, কলকারখানার মেশিন ইত্যাদিতে লাগানো এমন একটি সিস্টেম যা উৎপন্ন শব্দকে বাইরে যেতে দেয় না। তাই শব্দ দূষণ রোধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়।
চারটি সুরেলা যন্ত্রের নাম হলো-
১. বাঁশি, ২. হারমোনিয়াম, ৩. একতারা ও ৪. দোতারা।
যেসব যন্ত্র শ্রুতিমধুর সুরযুক্ত শব্দ উৎপন্ন করে তাদের সুরেলা যন্ত্র বলে। যেমন- বাঁশি, হারমোনিয়াম।
যেসব যন্ত্র বিরক্তিকর সুরহীন শব্দ উৎপন্ন করে তাদের বেসুরো যন্ত্র বলে। যেমন- গাড়ির হর্ন, সাইকেলের বেল।
বাঁশির দৈর্ঘ্য কম হলে তীক্ষ্ণতা বাড়ে এবং দৈর্ঘ্য বেশি হলে তীক্ষ্ণতা কমে। একটি বাঁশির দৈর্ঘ্য বাড়ালে শব্দের তীক্ষ্ণতা কমে যাবে।
আমরা রিকশার রেলের টুংটাং শব্দের সাথে পরিচিত। এই বেলে গোলাকার একটি ধাতব বাটি উপুড় করে রাখা হয়। বাটির নিচে একটি ধাতব হাতুড়ি লাগানো থাকে। একটি লম্বা হাতলের সাহায্যে হাতুড়ি নাড়াচাড়া করলে তা বাটিতে আঘাত করে। বাটির কম্পন্নে ফলে টুংটাং শব্দ তৈরি হয়।
শব্দের উৎস হলো বস্তুর কম্পন।
কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন মাধ্যমের মধ্যদিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয় তাই তরঙ্গ।
শব্দ সঞ্চালন হলো শব্দের এক স্থান হতে অন্য স্থানে যাতায়াত।
প্রতি সেকেন্ডে নির্দিষ্ট দিকে শব্দ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাই শব্দের বেগ।
বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৪৩ মিটার/সেকেন্ড।
শ্রুতি-পূর্ব শব্দ কাকে বলে?
২০০০০ হার্জের উপরের কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রুতি-উত্তর শব্দ বলে।
যে সীমার মধ্যে সৃষ্ট শব্দ আমরা শুনতে পাই তাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
প্রতি সেকেন্ডে কোনো বস্তু যতটা কম্পন দেয় তাই ঐ বস্তুর কম্পাঙ্ক।
কম্পাঙ্কের একক হলো Hz!
যে শব্দ আমরা শুনতে পাই তাই শ্রাব্য শব্দ।
যে শব্দ শুনতে ভালো লাগে, সুখকর ও আনন্দদায়ক সে শব্দই সুশ্রাব্য শব্দ।
প্রতিধ্বনি হচ্ছে প্রতিফলনের দরুন ধ্বনির পুনরাবৃত্তি।
আমরা জানি, শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন। মাধ্যম ছাড়া শব্দ চলাচল করতে পারে না। কিন্তু চাঁদে বায়ু নেই। ফলে চাঁদে শব্দ চলাচলের জন্য কোনো মাধ্যম নেই। এজন্য চাঁদে শব্দের বেগ শূন্য। তাই চাঁদে একজনের কথা অন্যজন শুনতে পায় না।
বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৪৩ মিটার/সেকেন্ড বলতে বোঝায় বায়ুতে শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ৩৪৩ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে।
সকল কম্পাঙ্কের শব্দ, আমরা শুনতে পাই না। শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ হার্জ থেকে ২০০০০ হার্জ এর মধ্যে থাকলেই কেবল সেই শব্দ আমরা শুনতে পাই। কম্পাঙ্কের এ সীমাকেই শ্রাব্যতার সীমা বলে। আমাদের শ্রাব্যতার নিম্ন সীমা ২০ হার্জ এবং উচ্চ সীমা ২০০০০ হার্জ।
যে সীমার মধ্যে সৃষ্ট শব্দ আমরা শুনতে পাই তাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে। মানুষের জন্য শ্রাব্যতার সীমা হলো ২০ হার্জ থেকে ২০০০০ হার্জ। অর্থাৎ ২০ হার্জের নিচে এবং ২০০০০ হার্জের উপরে সৃষ্ট শব্দ মানুষ শুনতে পায় না। এ ২০ হার্জ থেকে ২০০০০ হার্জ কম্পাঙ্ককে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
যে শব্দ শুনতে খারাপ লাগে, যন্ত্রণাদায়ক ও বিরক্তিকর তাদের নয়েজ বা গোলমাল বলে। বস্তুর অনিয়মিত বা অসম কম্পনের ফলে নয়েজের সৃষ্টি হয়। পেরেক ঠোকার শব্দ, নির্মাণ কাজের শব্দ, বোর্ডে লেখার সময় চকের কিচকিচ শব্দ ইত্যাদি অপ্রীতিকর শব্দ বা নয়েজের উদাহরণ।
শব্দের আধিক্য আমাদের দেহ ও মনের যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তাকে শব্দ দূষণ বলে। গাড়ি চলাচলের শব্দ, রেডিও টিভির শব্দ, জাহাজ ও হাইড্রোলিকের হর্ন কিংবা কলকারখানার তীব্র শব্দে মানুষের মানসিক উত্তেজনার সৃষ্টি করে ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়।
Related Question
View Allযে শক্তি আমাদের কানে প্রবেশ করে শ্রবণের অনুভূতি জাগায় তাই শব্দ।
আমরা জানি, শব্দ মাধ্যম ছাড়া চলাচল করতে পারে না। আবার বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগও বিভিন্ন। যেমন- শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে কঠিন মাধ্যমে, তারপর তরল মাধ্যমে, এরপর বায়ুমাধ্যমে। রেলপাত লোহার তৈরি অর্থাৎ রেলপাত একটি কঠিন মাধ্যম। সুতরাং রেলপাতের মধ্য দিয়ে শব্দ খুব দ্রুত চলাচল করে। তাই রেলপাতে কান রাখলে দূর থেকে রেলগাড়ি চলার শব্দ রেল পাতের মধ্য দিয়ে খুব দ্রুত কানে পৌছায় বলে ঐ শব্দ শোনা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত,
বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মি./সে.
শব্দ শোনার সময় = ?
বোমা ফাটার স্থান ও তীরে অবস্থিত লোকটির দূরত্ব ৩৩০০ মিটার
আমরা জানি,
শব্দের বেগ = দূরত্ব / সময়
বা, সময় = দূরত্ব / শব্দের বেগ = ৩৩০০ মিটার / ৩৩০ মি./সে. = ১০ সেকেন্ড
অতএব, বোমা ফাটার স্থান থেকে তীরে অবস্থিত 'লোকটি ১০ সেকেন্ড পর শব্দ শুনবে।
উদ্দীপক অনুযায়ী, ডুবুরি বোমা ফাটার স্থান থেকে ৩৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
সমুদ্রের পানিতে শব্দের বেগ ১৫০০ মি./সে.
শব্দ শোনার সময় = ?
আমরা জানি,
শব্দের বেগ = দূরত্ব / সময়
বা, সময় = দূরত্ব / শব্দের বেগ = ৩৩০০ মিটার / ১৫০০ মি./সে. = ২.২ সেকেন্ড
'গ' হতে পাই, তীরে অবস্থিত লোকটি বোমা ফাটার শব্দ শুনে ১০ সেকেন্ড পর।
অতএব, ডুবুরি ও লোকটি একই সময়ে বোমা ফাটার শব্দ শুনতে পাবে না, ডুবুরি আগে শুনতে পাবে।
যে শব্দ শুনতে ভালো লাগে, সুখকর, মধুর ও আনন্দদায়ক সে শব্দই সুশ্রাব্য শব্দ।
শব্দের যে বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোন সুর চড়া ও কোন সুর মোটা বুঝা যায় তাকে তীক্ষ্ণতা বলে। শব্দের তীক্ষ্ণতা শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পাঙ্ক ও দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে। দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলে তীক্ষ্ণতা কমে এবং দৈর্ঘ্য কমলে তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। 'কাজেই বাঁশের বাঁশির দৈর্ঘ্য কম হলে শব্দের তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পাবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
