প্রতিটি মানুষ জন্মভূমি বা দেশের আলো-বাতাস, অন্ন-জলে লালিত-পালিত হয়ে বেড়ে ওঠে। এ কারণে জন্মভূমি, বা দেশের প্রতি এক ধরনের আবেগময় অনুরাগ জন্মায়। এ অনুরাগ ও ভালোবাসাই দেশপ্রেম।
দেশপ্রেমিক দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেন। এমনকি প্রয়োজনে দেশের জন্য হাসিমুখে জীবন দিতেও দ্বীধাবোধ করেন না।
প্রশ্ন ৩। দেশপ্রেম মানুষের মধ্যে কী সৃষ্টি করে?
দেশপ্রেম মানুষের মধ্যে আবেগ, উদ্যম ও কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। দেশ ও জাতির অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রেরণাময় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
সিন্ধুদেশের রাজা সৌবীররাজ্য আক্রমণ করে সঞ্জয়কে পরাজিত করে রাজ্য অধিকার করে। রাজ্য হারিয়ে সঞ্জয় কোনো চেষ্টা না করাতে মা বিদুলা সঞ্জয়কে ভর্ৎসনা করলেন।
আলোচ্য উক্তিটি সঞ্জয়ের মা রানি বিদুলা তার ছেলে সঞ্জয়কে উদ্দেশ্য করে করেছিলেন।'
রানি বিদুলা তার এ পরাধীনতা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই তিনি সঞ্জয়কে যুদ্ধ করতে বলেছিলেন।
বিদুলা যুদ্ধ করতে বললে সঞ্জয় বলেছিলেন, "আমি যদি যুদ্ধে মারা যাই তাহলে সমস্ত পৃথিবী পেয়ে তোমার কী হবে মা।”
দেশপ্রেম প্রকাশ পায় মানুষের কাজে, মানুষের আচরণে। দেশপ্রেম প্রকাশ পায় দেশের মঙ্গলের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগে। দেশ শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হলে দেশপ্রেমিক শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেন। দেশের উন্নতির জন্য কাজ করেন, এমনকি প্রয়োজনে দেশের জন্য হাসিমুখে জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেন।
দেশপ্রেম মানুষকে স্বার্থপরতা, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগত সংকীর্ণতা, রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভেদাভেদ থেকে ঊর্ধ্বে উঠতে সহায়তা করে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একই চেতনায় একপ্রাণ হয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। উদ্বুদ্ধ করে দেশের কল্যাণে। দেশের কল্যাণে আত্মনিবেদনে উদ্বুদ্ধ করে। মানুষের মধ্যে আবেগ, উদ্যম ও কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। দেশ ও জাতির অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রেরণাময় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। তাই দেশ ও জাতির উন্নয়নে দেশপ্রেমের গুরুত্ব অপরিসীম।
দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদার উৎস। মনুষ্যত্বের অঙ্গ। দেশপ্রেম মানুষকে স্বার্থপরতা, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগত সংকীর্ণতা, রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভেদাভেদ থেকে ঊর্ধ্বে উঠতে সহায়তা করে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একই চেতনায় একপ্রাণ হয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। উদ্বুদ্ধ করে দেশের কল্যাণে আত্মনিবেদনে। তখন সে বীরের মতো দেশের জন্য যুদ্ধ করে জীবন বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। ফলে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে থাকে ইতিহাসের পাতায়।
যারা নিজের দেশকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে, নিজের দেশের রক্ষার চিন্তা করে, যারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক তারা সর্বদা দেশকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার চেষ্টা করে। কোনো কোনো সময় নিজের দেশের রক্ষার জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দেয়। তারা চিরকাল সকলের শ্রদ্ধেয় ও পূজনীয় হয়ে থাকে এবং মরেও চিরকাল অমর হয়ে থাকে।
প্রতিটি মানুষ জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে, যা তার কাছে তার দেশ হিসেবে গণ্য হয়। মানুষ তখন তার নিজের জন্মভূমি বা দেশের আলো-বাতাসে, অন্ন-জলে লালিত-পালিত হয়ে বেড়ে ওঠে। এ কারণে নিজের দেশ বা জন্মভূমির সাথে থাকে নাড়ির সম্পর্ক। যার ফলে সৃষ্টি হয় এক ধরনের আবেগময় অনুরাগ। দেশের জন্য জন্ম নেয় নিবিড় ভালোবাসা। এ নিবিড় ভালোবাসা ও অনুরাগের জন্য আমরা আমাদের দেশকে প্রাণপণে ভালোবাসব।
সৌবীর রাজ্যের মহারানি ছিলেন বিদুলা। সৌবীররাজ আর বিদুলার এক পুত্র ছিল। তাঁর নাম সঞ্জয়। সঞ্জয় যখন যুবক তখন, হঠাৎ সৌবীররাজ মারা গেলে সিন্ধু দেশের রাজা সৌবীর রাজ্য আক্রমণ করে। সঞ্জয় সহজেই পরাজিত হয়ে রাজ্য হারিয়ে ম্লানমুখে শুয়ে আছেন। এদিকে বিদুলা পরাধীনতা সহ্য করতে না পেরে পুত্র সঞ্জয়ের কাছে গিয়ে তাকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে উৎসাহ দিলেন। সঞ্জয়কে ভর্ৎসনা করে বললেন, তোর বাবার কী তেজ, সাহস ছিল, পরাধীনতাকে তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারতেন না। নির্ভীক হও। শত্রুকে পরাজিত করে হারানো রাজ্য উদ্ধার কর।
তখন সঞ্জয় বললেন, আমি যদি যুদ্ধে মারা যাই তাহলে. সমস্ত পৃথিবী পেয়ে তোমার কী হবে? বিদুলা ক্রোধে জ্বলে উঠলেন আর বললেন, স্বাধীনতার জন্য মৃত্যু সে তো বীরের মৃত্যু। স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে যদি প্রাণ যায়, যাক। বীরের মতো 'হয় স্বাধীনতা, নয় মৃত্যু' এ পণ করে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও। বিদুলার কথায় সঞ্জয় উৎসাহিত হয়ে যুদ্ধ করলেন। সিন্ধুরাজ পরাজিত হলে সঞ্জয় হারানো রাজ্য ফিরে পেলেন। বিদুলা এমন গভীর দেশপ্রেমের অধিকারিণী ছিলেন।
সঞ্জয় ছিলেন সৌন্টীররাজ আর বিদুলার একমাত্র পুত্র। রানি বিদুলা রাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য সঞ্জয়কে যা বলেছিলেন তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. নির্ভীক হও।
২. শত্রুকে পরাজিত করে হারানো রাজ্য উদ্ধার কর।
৩. 'দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মৃত্যু, সে তো বীরের মৃত্যু।
৪. হারানো রাজ্য শত্রুমুক্ত করার জন্য যুদ্ধ করে যদি প্রাণ যায়, যাক।
১৫. হয় স্বাধীনতা না হয় মৃত্যু- বীরের মতো এই পণ করে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও।
দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ, তাই আমি দেশকে ভালোবাসব। নিজের দেশকে ভালোবাসা আমাদের পরম কর্তব্য। আমি যেভাবে দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করি তা হলো-
১. জাতীয় সংগীতের প্রতি এবং আমাদের জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করি।
২. দেশের জন্য অকল্যাণকর যেকোনো কাজ থেকে নিজে বিরত থাকি এবং অন্যকেও বিরত রাখি।
৩. দেশাত্মবোধকে হৃদয়ে লালন করে দেশের মানুষকে বিপদে-আপদে সাহায্য করি।
৪. নিজের দেশকে বিশ্বের মানচিত্রে বিশেষ মর্যাদা দান করতে পারার মতো প্রশংসাসূচক কাজে নিজেকে যুক্ত করতে চেষ্টা করি
সৌবীর রাজ্য যেভাবে শত্রুমুক্ত হলো তা নিচে তুলে ধরা হলো-
১. বিদুলার উৎসাহে পুত্র সঞ্জয় সৌবীর রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।
২. বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে সঞ্জয় সিন্ধুরাজকে পরাজিত করে।
৩. বিদুলার মতো দেশপ্রেমিক মাতার কথায় পুত্র সঞ্জয়ের ভ্রান্তি দূর হয় এবং সে সাহসিকতার সাথে শত্রুর মোকাবিলা করে।
৪. ফলে সঞ্জয় নিজ রাজ্য সৌবীরকে পুনরুদ্ধার করে এবং শত্রুমুক্ত করে প্রিয় স্বদেশকে।
দেশপ্রেম
প্রতিটি মানুষ জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে, যা তার জন্মভূমি বা নিজ দেশ মানুষ জন্মভূমি বা দেশের আলো-বাতাস, অন্ন-জলে লালিত-পালিত হয়ে বেড়ে ওঠে। এ কারণে জন্মভূমি বা দেশের প্রতি মানুষের থাকে এক ধরনের আবেগময় অনুরাগ। দেশের ভাষা, সাহিত্য এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে গড়ে ওঠে তার নাড়ির সম্পর্ক। দেশের জন্য জন্ম নেয় নিবিড় ভালোবাসা। দেশের প্রতি মানুষের এই অনুরাগ ও ভালোবাসাই দেশপ্রেম।
এই দেশপ্রেম কীভাবে প্রকাশ পায় ? দেশপ্রেম প্রকাশ পায় মানুষের কাজে, মানুষের আচরণে। দেশপ্রেম প্রকাশ পায় দেশের মঙ্গলের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগে। দেশ শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হলে দেশপ্রেমিক শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেন। দেশের উন্নতির জন্য কাজ করেন। এমনকি প্রয়োজনে দেশের জন্য হাসিমুখে জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেন।
দেশপ্রেম আত্মমর্যাদার উৎস। মনুষ্যত্বের অঙ্গ। দেশপ্রেম মানুষকে স্বার্থপরতা, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগত সংকীর্ণতা, রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভেদাভেদ থেকে ঊর্ধ্বে উঠতে সহায়তা করে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একই চেতনায় একপ্রাণ হয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। উদ্বুদ্ধ করে দেশের কল্যাণে আত্মনিবেদনে।
দেশপ্রেম মানুষের মধ্যে আবেগ, উদ্যম ও কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। দেশ ও জাতির অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রেরণাময় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। তাই দেশ ও জাতির উন্নয়নে দেশপ্রেমের গুরুত্ব অপরিসীম।
দেশে দেশে যাঁরা দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখছেন বা রেখেছেন, তাঁরা সকলের শ্রদ্ধেয় ও পূজনীয়। তাঁরা সারা বিশ্বের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত। দেশপ্রেমের জন্য তাঁরা চির স্মরণীয় এবং বরণীয়।
প্রাচীনকালেও অনেকে দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে অমর হয়ে আছেন। মহাভারত থেকে এমন একজন দেশপ্রেমিক রানির কাহিনী বলছি।
বিদুলার দেশপ্রেম
প্রাচীনকালে সৌবীর নামে একটি রাজ্য ছিল। বিদুলা ছিলেন সৌবীর রাজ্যের রানি। সৌবীররাজ আর বিদুলার একটি মাত্র পুত্র ছিলেন। তাঁর নাম সঞ্জয়। সঞ্জয় যখন যুবক, তখন হঠাৎ সৌবীররাজ মারা যান। এ সময় সুযোগ বুঝে সিন্ধুদেশের রাজা সৌবীর রাজ্য আক্রমণ করেন। সঞ্জয় সহজেই পরাজিত হলেন। সিন্ধুরাজ সৌবীর রাজ্য অধিকার করলেন। রাজ্য হারিয়ে ম্লান মুখে শুয়ে আছেন সঞ্জয়। হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারের কোনো চেষ্টাই তিনি করছেন না। এদিকে রানি বিদুলা পরাধীনতা সহ্য করতে পারছেন না। তিনি পুত্র সঞ্জয়ের কাছে গিয়ে তাঁকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে উৎসাহ দিলেন। সঞ্জয়কে ভর্ৎসনা করে তিনি বললেন, "মনে হচ্ছে তুমি আমার পুত্র নও। আমার পুত্র এমন কাপুরুষ হতে পারে না। তুমি তোমার পিতা সৌবীররাজের কথা স্মরণ কর। কী তেজ আর সাহস ছিল তাঁর। এ পরাধীনতা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারতেন না। নির্ভীক হও। শত্রুকে পরাজিত করে হারানো রাজ্য উদ্ধার কর।"
Related Question
View Allমানুষ জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো ভূখন্ডে।
দেশের প্রতি ভালোবাসাকে বলে দেশপ্রেম।
দেশপ্রেমিক যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেন।
দেশপ্রেমিক হাসিমুখে জীবন উৎসর্গ করেন।
দেশপ্রেমের গৌরবে বিদুলা স্মরণীয় হয়ে রইলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!