মানুষ জীবনযাপন, আত্মমর্যাদাবোধ, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মতৃপ্তি ইত্যাদির জন্য বিভিন্ন পেশা বা বৃত্তি বেছে নেয়। যেমন: কেউ শিক্ষকতা করেন, কেউ হন স্থপতি। একেক জন মানুষের পেশার ধরন একেক রকম। আর এজন্য প্রয়োজন হয় পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। তাই মানুষ জীবনধারণের জন্য পছন্দ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিভিন্ন পেশা বা বৃত্তি বেছে নেয়।
একটি নির্দিষ্ট পেশা বা বৃত্তির জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা, দক্ষতার দরকার হয়। কোনো বৃত্তি বা পেশায় সফল হওয়ার জন্য, সফলতা ধরে রাখার জন্য নতুন নতুন যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে এগুলো অর্জন করা যায়।
কোনো কাজে আগ্রহ না থাকলে তা নিষ্প্রাণ ও একঘেয়ে মনে হয়। তাই একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা শাখা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী তার আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে শাখা নির্বাচন করলে সফলতার সম্ভাবনা বেশি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো শিক্ষার্থী যদি ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় তাকে অবশ্যই মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শাখা নিয়ে পড়তে হবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী নিচে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর দেখানো হলো :

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার মাধ্যমিক স্তর নিচে উল্লেখ করা হলো :
শিক্ষায় শাখা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৩টি ধাপ বিবেচনা করা দরকার। যথা-
১. ধাপ-১: নিজেকে জানা: প্রথমেই নিজের আগ্রহ, পছন্দ, অপছন্দ, সবল ও দুর্বল দিক, অর্জনসমূহ, মূল্যবোধ, আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি বিষয়গুলো ভালোভাবে জানার চেষ্টা করতে হবে।
২. ধাপ-২: কর্ম বা পেশা ও শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয় জানা এ ধাপে শিক্ষাক্ষেত্রের সুযোগ সুবিধা ও শিক্ষা শেষে কর্ম বা পেশার সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করা উচিত।
৩. ধাপ-৩: কর্ম বা পেশাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সময়ের সাথে সম্ভাবনা বিবেচনা করে নমনীয়তা বজায় রেখে পেশার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- নিজের শেখা জ্ঞানকে প্রয়োগ করতে পারা।
- জটিল চিন্তন দক্ষতা (যেমন- তুলনা করা, মূল্যায়ন করা, বিশ্লেষণ করা ইত্যাদি।
- অন্যের সাথে সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারা।
- অন্যদের সাথে একত্রে কাজ করতে পারার ক্ষমতা।
- নিজেদের চিন্তাধারা, আচরণ, আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ।
- নতুন কিছু সৃষ্টি করার দক্ষতা।
- পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।
- নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা।
- সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারা।
- বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করতে পারা।
পেশাগত দক্ষতাগুলোর ভিত্তি মূলত ৩টি। সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. মৌলিক দক্ষতা শোনা, বলা, পড়া, লেখা ও হিসাব-নিকাশ করতে পারা।
২. চিন্তন দক্ষতা: সৃজনশীল চিন্তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা সমাধান, প্রয়োজন অনুযায়ী কল্পনা করা, শেখার প্রক্রিয়াটি আয়ত্তকরণ এবং যুক্তি প্রদান ইত্যাদি।
৩. ব্যক্তিগত গুণাবলি দায়িত্ববোধ, আত্মসম্মানবোধ, সামাজিকতা, আত্মব্যবস্থাপনা, সততা ইত্যাদি।
Related Question
View Allজন্ম থেকে শুরু করে সচেতন অবস্থায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষ যে জ্ঞান অর্জন করে এবং তার জন্য যে সময় ব্যয় করে সেই সময়কেই শিক্ষাজীবন বলে।
শিক্ষার্থীর শাখা নির্বাচনের আগে ভবিষ্যতে যে পেশা গ্রহণ করতে চায় সেই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
পেশার সাথে পড়ালেখার বিষয় জড়িত। যেমন, যদি কেউ ডাক্তার হতে চায় তাহলে তাকে বিজ্ঞান শাখায় পড়াশুনা করতে হবে। আর যদি কেউ ব্যাংকার অথবা বড় ব্যবসায়ী হতে চায় তাহলে তাকে ব্যবসায়শিক্ষা শাখায় পড়াশুনা করতে হবে। তাই শাখা নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই তার ভবিষ্যতের পেশা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
মিথুনের ভবিষ্যৎ পেশার কথা চিন্তা করলে তার জন্য ব্যবসায় শিক্ষা শাখা উপযুক্ত।
শিক্ষার্থীরা শাখা নির্বাচন করতে চাইলে তাকে তার ভবিষ্যৎ পেশা গ্রহণের বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। কারণ পেশার সাথে পড়ালেখা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উদ্দীপকে মিথুন একজন শিক্ষার্থী। সে পড়ালেখায় ভালো এবং তার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বের হওয়ার পর দেখল যে, সে বিজ্ঞান বিষয়ে সবচেয়ে ভালো করেছে। তার ইচ্ছা সে বড় হয়ে ব্যাংকার হবে। আর এই লক্ষ্য পূরণে তাকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা গ্রহণ করতে হবে। কারণ ব্যবসায় শিক্ষা শাখার সাথেই ব্যাংকিং বিষয়গুলো জড়িত যা ভবিষ্যতে সাফল্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন
মিথুন যদি বিজ্ঞান শাখা নির্বাচন করে তাহলে তার ব্যাংকার হওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধার তুলনায় অসুবিধাই বেশি হবে।
ব্যাংকার হতে হলে ব্যাংকিং বিষয়গুলো জানতে হয়। বিজ্ঞান শাখায় ব্যবসায় কিংবা ব্যাংকের কোনো বিষয়বস্তু আলোচনা করা হয় না।
সাধারণত বিজ্ঞান শাখার বিষয়গুলো হলো পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, রসায়ন বিজ্ঞান ইত্যাদি। আর এসব বিষয়ে ব্যবসায় ও ব্যাংকিংসংক্রান্ত কিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে না। বিজ্ঞান শাখায় শুধু বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা হয়। অপরদিকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিষয়গুলো হচ্ছে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ, পরিসংখ্যান, ব্যাংকিং, ফিন্যান্স ও বিমা। এসব বিষয়ে ব্যবসায় ও ব্যাংকিং বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ব্যাংকের ম্যানেজার হওয়ার জন্য মিথুনকে হিসাব ও ব্যাংকিং বিষয়বস্তু জানতে হবে। কিন্তু যদি সে বিজ্ঞান শাখায় পড়াশুনা করে তাহলে এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে না। তাই ব্যাংকের ব্যাংকার হতে হলে মিথুনকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়াশুনা করাই অধিকতর সুবিধাজনক।
কপড়া-লেখা, হিসাব-নিকাশ, শোনা ও বলার দক্ষতাকেই মৌলিক দক্ষতা বলে।
কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে গুণাবলি মুখ্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে থাকে। কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫টি গুণাবলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। যথা:
১. নিজের শেখা জ্ঞানকে প্রয়োগ করতে পারা।
২. অন্যের সাথে সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারা।
৩. নতুন কিছু সৃষ্টি করার দক্ষতা।
৪. বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করতে পারা।
৫. নিজের আচরণ, আবেগ ইত্যাদির ওপর নিয়ন্ত্রণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
