আমাদের চারপাশে এমন কিছু শিশু দেখা যায়, যারা স্বাভাবিক শিশুদের মতো নয়। তাদের দেহের গঠন আলাদা, তাদের আচরণ স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর বা সমস্যাগ্রস্ত। এদের মধ্যে চোখে ভালোভাবে দেখতে পায় না.। কারও হাঁটাচলায় আবার কেউ ভালোভাবে কথা বলতে পারে না।
যাদের দেহের গঠন স্বাভাবিক নয়, তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে। যাদের হাত কিংবা পা অসম্পূর্ণ, অবশ, দুর্বল থাকে, দেহের গঠন স্বাভাবিক নয় বা দেহের কোনো অংশ ব্যবহারে অক্ষমতা থাকে, যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপনে অসুবিধা হয়- তারাই শারীরিক প্রতিবন্ধী।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল নামক বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতি প্রচলিত। এই পদ্ধতিতে স্পর্শের মাধ্যমে উঁচু ফোঁটা দিয়ে বর্ণ ও সংখ্যা তৈরি করে লেখাপড়া করানো হয়। চোখে দেখতে পায় না বা চোখে দেখায় এমন ধরনের সমস্যা থাকে যার কারণে জীবনের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে অসুবিধা হয় এবং যারা চোখে আংশিক বা পুরোপুরি দেখতে পায় না তারাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।
যাদের শোনার ক্ষমতায় ঘাটতি, যার কারণে কথা শুনতে রা কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এদের ক্ষেত্রে বধির বা কালো এবং কানে খাটো ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়। একটি স্বাভাবিক শিশু শব্দ ও কথা শোনে, তারপর তারা কথা বলতে শেখে। যেহেতু শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা শব্দ বা কথা শুনতে পারে না। তাই তারা কথা বলতে শেখে না।
শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর সমস্যা ধরা পড়ে। যাদের বুদ্ধি বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম থাকে, যার ফলে শিশু তার সমবয়সীদের মতো আচরণ করতে পারে না। তাদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে। বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার বিভিন্ন মাত্রা থাকে। যেমন- মৃদু, মধ্যম, গুরুতর।
১৮ বা তদ্দর্ধ্ব বয়সে মধ্যম আচরণ করে। মাত্রার বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুরা ৬ থেকে ৮ বছরের শিশুর মতো আচরণ করে। এদের বাচন ত্রুটি ও নানা রকম শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। যেমন- ত্রুটিপূর্ণ উচ্চারণ, শিশুসুলভ ভাষা ইত্যাদি। এদের প্রশিক্ষণ দিলে কিছু শিখতে পারে।
গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের বুদ্ধির মাত্রা এত কম থাকে যে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মতো হয়। তারা খাওয়া, পরিচ্ছন্নতা, টয়লেট কাজ সম্পন্ন করতে অন্যের ও নির্ভরশীল থাকে। এদের অনেক ধরনের আচরণের সমস্যা দেখা যায়। অন্যের তত্ত্বাবধানে এদের জীবন ধারণ করতে হয়। বিশেষ যত্ন ও প্রশিক্ষণে তাদের দৈনন্দিন কাজের অভ্যাস তৈরি করা যায়।
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা কোন মানসিক রোগ নয়। এটি এক ধরনের মানসিক অবস্থা বা অক্ষমতা। এই অক্ষমতা চিকিৎসা দিয়ে সারানো যায় না। তবে যে যতটুকু মাত্রায় প্রতিবন্ধী, সে বিশেষ যত্ন পেলে তার ক্ষমতা অনুযায়ী আচরণ করতে পারে। আমাদের সমাজে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের অনেক সময় পাগল বলে মনে করা হয়।
উদ্দীপনা বলতে বোঝায় একটি শিশুকে তার চারপাশের বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে জানা ও দেখার সুযোগ করে দেওয়া। আর সেগুলো নিয়ে খেলা করার পরিবেশ সৃষ্টি করা। যেমন-শিশুকে সময় দেওয়া। শিশুর সাথে কথা বলা, গান করা, খেলাধুলা করা, কাজ করা, তাকে ভালোবাসা ইত্যাদি। অতি শৈশব থেকে এই উদ্দীপনার সুযোগ সৃষ্টি করাই হলো প্রারম্ভিক উদ্দীপনা।
সন্তানের প্রতিবন্ধিতা সম্পর্ক শোনার পর মা-বাবা বিষয়টি মেনে নিয়ে পারেন না। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে ছোটাছুটি করেন। প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম হওয়ার বিভিন্ন কারণে মায়ের মন ভেঙে যায়। মাকে এরকম সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য দোষারোপ করা হয়। প্রতিবন্ধী শিশুটির চিকিৎসা, বিশেষ যত্ন, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির জন্য অতিরিক্ত শ্রম, সময়, ধৈর্য এবং যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন হয়।
প্রতিবন্ধী শিশুটিকে অন্য স্বাভাবিক শিশুর মতোই ভালোবাসা দিতে হবে। শিশুর প্রতিবন্ধিতা বোঝার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী বিশেষ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুর জন্য বিশেষ যত্ন, চিকিৎসা সেবা ও সহায়ক উপকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেকোনো অনুষ্ঠানে পরিবারের সবার সাথে তাকে বেড়াতে নিতে হবে। সুষম খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতিবন্ধী শিশুরা কম বুঝতে পারে বলে অনেকেই এদেরকে বোকা, পাগল বলে। হাসি ঠাট্টা করে। সমবয়সীরা প্রকাশ্যে তাদের উত্ত্যক্ত করে। খেলায় নেয় না, তার সাথে মেশেনা। আত্মীয়স্বজন প্রায়ই বেড়ানোর প্রোগ্রামে এদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেন। এরা অসুস্থতার কথা ঠিকভাবে বোঝাতে পারে না।
যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুটিকে সঙ্গ দেওয়া, দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়া। প্রতিবন্ধীদের ধরন অনুযায়ী খেলাধুলার আয়োজন করা। এলাকায় কোনো প্রতিবন্ধী দরিদ্র হলে তার জন্য আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া।
আমাদের চারপাশে এমন কিছু শিশু দেখা যায় যারা স্বাভাবিক শিশুদের মতো নয়। তাদের দেহের গঠন আলাদা, তাদের আচরণ স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর বা সমস্যাগ্রস্ত। এদের মধ্যে কেউ চোখে ভালো দেখতে পায় না, কারও হাঁটাচলায় অসুবিধা, কারও অন্যের কথা বুঝতে দেরি হয়, কেউ বা বয়সে বড় হলেও শিশুদের মতো আচরণ করে। এসব শিশু কোনো না কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার। এরাই প্রতিবন্ধী শিশু। এদেরকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুও বলা হয়। কারণ এদের পূর্ণ বিকাশে বিশেষ যত্ন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। এসব প্রতিবন্ধীদের জীবন যাপনে সহায়তার জন্য এদের সম্বন্ধে আমাদের সবার সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এজন্য প্রতিবছর ৩রা ডিসেম্বর বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়।
কেউ জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে থাকে, কেউ জন্মের পর যেকোনো দুর্ঘটনা, অপুষ্টি বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ১৬ ভাগ প্রতিবন্ধী। এই হিসাবে আমাদের দেশে প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। দরিদ্র দেশ হিসেবে আমাদের দেশে এই সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Related Question
View Allআমাদের চারপাশের সকলকে নিয়ে সমাজ গড়ে উঠেছে।
উদ্দীপনা হলো একটি শিশুকে তার চারপাশের বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে জানা ও দেখার সুযোগ করে দেওয়া, আর সেগুলো নিয়ে খেলা করার পরিবেশ সৃষ্টি করা। যেমন- শিশুকে সময় দেওয়া, শিশুর সাথে কথা বলা, গান করা, খেলাধুলা করা, কাজ করা, তাকে ভালোবাসা ইত্যাদি।
অতি শৈশব থেকে এই উদ্দীপকের সুযোগ সৃষ্টি করাই হলো প্রারম্ভিক উদ্দীপনা। সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য শিশুকে প্রারম্ভিক উদ্দীপনা দেওয়া প্রয়োজন।
প্রান্তির আচরণে গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা লক্ষ করা যায়।
যেসব শিশুর বুদ্ধি বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম তাদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বলা হয়। বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা তাদের সমবয়সীদের মতো আচরণ করতে পারে না।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের মধ্যে তিন ধরনের মাত্রা লক্ষ করা যায়। যথা- মৃদু, মধ্যম ও গুরুতর। গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের বুদ্ধির মাত্রা এত কম থাকে যে তারা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মতো আচরণ করে। গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা বিভিন্ন কাজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। এ ধরনের প্রতিবন্ধীদের অন্যের তত্ত্বাবধানে জীবন ধারণ করতে হয়। প্রান্তি কিশোরী হলেও সে তার দু'বছর বয়সী ভাইয়ের মতো আচরণ করে। সে প্রায়ই অকারণে হাসতে থাকে। তার এ সকল আচরণ দেখে তাকে গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত করা যায়।
প্রান্তি একজন গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।
কিশোরী হলেও প্রান্তি তার দু'বছর বয়সী ভাই প্রত্যয়ের মতো আচরণ করে। তাই তার পরিবারের সদস্যরা প্রত্যয়ের মতোই তাকে গান শুনিয়ে, ছবি আঁকতে দিয়ে, গল্প শুনিয়ে ব্যস্ত রাখে। সবাই তার কথা মন দিয়ে শোনে। তার মা ধৈর্যের সাথে তার যত্ন নেন। এ ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সার্বক্ষণিক যত্নের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যত্ন পেলে এরা নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী আচরণ করতে পারে। এদের স্বাভাবিক শিশুর মতোই ভালোবাসা প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী শিশুকে সময় দেওয়া, তার সাথে কথা বলা, গান, খেলাধুলা করা ইত্যাদিতে অনুপ্রাণিত করতে হয়। তাহলে তাদের আচরণ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রাপ্তি পরিবার থেকে প্রারম্ভিক উদ্দীপনা পাচ্ছে। এর ফলে তার আচরণের উন্নতি ঘটবে ও পরনির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। সুতরাং, প্রান্তির পরিবারের সবার আচরণ তার সুস্থতার জন্য সহায়ক বলে আমি মনে করি।
প্রতিবন্ধীরা সমাজে অবহেলিত অবস্থায় থাকে।
গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুরা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মতো আচরণ করে থাকে। তাদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা দেখা যায়। অন্যের তত্ত্বাবধানে তাদের জীবনধারণ করতে হয়। বিশেষ যত্ন ও প্রশিক্ষণে তাদের দৈনন্দিন কাজের অভ্যাস তৈরি করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!