ভোরবেলায় সূর্যকে পূর্বদিগন্তে উঠতে দেখা যায়। ধীরে ধীরে এটি আমাদের মাথার উপরের দিকে উঠে আসে। সন্ধ্যায় আবার সূর্য পশ্চিম দিগন্তে ডুবে যায়। রাত শেষে পরদিন ভোরে সূর্যকে আবার পূর্বদিকে উঠতে দেখা যায়। পৃথিবী থেকে মনে হয় সূর্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে পৃথিবীর চারপাশের ঘুরছে। এ কারণেই আগে মানুষ মনে করত যে, সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে।
বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটল ও টলেমী পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের কথা বলেছেন। তাঁদের এ মতবাদ দীর্ঘদিন মানুষ বিশ্বাস করেছিল।
সূর্যসহ অন্যান্য নক্ষত্রের নিজস্ব আলো ও তাপ আছে। সূর্যসহ অন্যান্য নক্ষত্র জ্বলন্ত এক-একটি গ্যাসপিন্ড। এ জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ডে রয়েছে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস। হাইড্রোজেন গ্যাসের পরমাণু পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে হিলিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়। এ শক্তি তাপ ও আলোকশক্তি হিসেবে সৌরজগতে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই সূর্যসহ অন্যান্য নক্ষত্র তাপ ও আলো উৎপন্ন করে চলেছে।
ধূমকেতু আমাদের সৌরজগতের অংশ। এরা সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এরা কঠিন পদার্থ দিয়ে তৈরি, তবে তাপ পেলে কিছু অংশ সহজেই গ্যাসে পরিণত হতে পারে।
লেজসৃষ্টি: যখন ধূমকেতুসমূহ সূর্যের কাছাকাছি যায় তখন সূর্যের তাপে গ্যাসীয় ও কঠিন পদার্থ নির্গত হয়ে আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন এটি ঝাটার মতো দর্শনীয় লেজে পরিণত হয়। পৃথিবী থেকে এদেরকে কখনো কখনো দেখা যায়। কোনো কোনো ধূমকেতু অনেক বছর পর পর পৃথিবীর আকাশে দেখা যায়।
আমাদের একটি পরিচিত ধূমকেতু হলো হ্যালির ধূমকেতু, যা গড়ে ৭৫ বছর পর পর পৃথিবী থেকে দেখা যায়।
পৃথিবীর দুই ধরনের গতিকে আমরা ঘূর্ণনরত লাটিমের গতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারি। ঘূর্ণনরত লাটিমটি তার সরু আল-এর উপর দাঁড়িয়ে নিজে নিজে পাক খায় বা আবর্তন করে। একই সাথে মাটির উপর বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার পথে একস্থান থেকে অন্য স্থান ঘুরে আসে। ফলে লাটিমটিতে দুই ধরনের গতি লক্ষ করা যায়। অনুরূপভাবে পৃথিবীরও দুই ধরনের গতি রয়েছে। একটি হলো পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর কেন্দ্র করে ২৪ ঘণ্টায় একবার পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে। এটিকে বলা হয় পৃথিবীর আহ্নিক গতি। দ্বিতীয়টি হলো পৃথিবী প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা সময়ে একবার সূর্যের চারপাশে ঘুরে আসে। একে পৃথিবীর বার্ষিক গতি বলা হয়।
দিন-রাত পরীক্ষণ :
উপকরণ: একটি ভূ-গোলক, একটি মোমবাতি অথবা কুপিবাতি অথবা চার্জ লাইট।
পরীক্ষার বর্ণনা: একটি কম আলোকিত বা অন্ধকার ঘরে টেবিলের উপর একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখি। বাতিটির সামনে একটি ভূ-গোলক বসাই। এখানে আলোর উৎসটিকে সূর্য এবং ভূ-গোলকটিকে পৃথিবী বোঝানো হয়েছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, ভূ-গোলকটির যে পাশে আলোকটি আছে সেদিক আলোকিত হয়েছে।

অপর পাশটি আলো পাচ্ছে না বিধায় অন্ধকার থেকে যাচ্ছে। আলোকিত অংশটিতে দিন এবং অপর অংশটিতে রাত। এবার ভূ-গোলকটি আস্তে আস্তে ঘোরাতে থাকলে দেখা যাবে, আলোকিত অংশ ধীরে ধীরে অন্ধকারে যাচ্ছে এবং অন্ধকার অংশ ক্রমশ আলোকিত হচ্ছে। এভাবে পৃথিবীর অর্ধেকাংশে দিন ও বাকি অর্ধেকাংশে রাত চলতে থাকে।
পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে দিন-রাত ছোট বা বড় হয় এবং ঋতুর পরিবর্তন হয়। মানুষের জীবনে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব অপরিসীম। যেমন- ঋতু পরিবর্তনের ফলে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত প্রভৃতি হয়। ঋতু পরিবর্তন না হলে সারা বছর একই রকম আবহাওয়া থাকত যার ফলে মানুষ অন্য ঋতুর উপকারী ও অপকারী দিকগুলো সম্পর্কে জানত না। তাছাড়া ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষকেও অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হয় যেমন শীত আসার সাথে সাথে মানুষকে গরম জামা কাপড় পরতে হয় আবার বর্ষার সময়ও মানুষের নানাবিধ সমস্যা হয়। এসবই ঋতু পরিবর্তনের ফলে হয়ে থাকে।
প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোর্তিবিজ্ঞানী টলেমী জোরালোভাবে বলেন যে, পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে।
প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে টলেমী বলেন যে, পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে। পরবর্তীতে কোপারনিকাস পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের বদলে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। তার মডেলের মূল কথা হলো পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে।
কোপারনিকাসের মডেলটি ছিলো পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, তা সমর্থন করেছিলো এমন দুইজন বিজ্ঞানীর নাম হলো-১. গ্যালিলিও, ২. কেপলার।
সূর্যকেন্দ্রিক মডেল ও পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| সূর্যকেন্দ্রিক মডেল | পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেল |
| ১. সূর্যকেন্দ্রিক মডেলটি প্রস্তাব করেন জ্যোর্তিবিদ টলেমী। | ১. পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলটি প্রস্তাব করেন জ্যোর্তিবিদ কোপারনিকাস। |
| ২. এই মডেলের মূল কথা ছিলো পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে। | ২. এই মডেলের মূল কথা ছিলো পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। |
সৌরজগতের কেন্দ্রে রয়েছে সূর্য, যা একটি নক্ষত্র। এই সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীসহ আরও সাতটি গ্রহ ও অন্যান্য জ্যোতিষ্ক ঘুরছে। সূর্য এবং একে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান সস্কল জ্যোতিষ্ক ও ফাঁকা জায়গা নিয়ে আমাদের সৌরজগত গঠিত। সৌরজগতের বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা।
সূর্যের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. সূর্য একটি জলন্ত গ্যাসপিন্ড যেখানে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস থাকে।
২. এটি পৃথিবীর তুলনায় লক্ষ লক্ষ গুণ বড়।
গ্রহের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. গ্রহসমূহ সাধারণত গোলাকৃতির হয়।
২. এরা নিজেরা কোনো শক্তি উৎপাদন করে না।
চারটি গ্রহের নাম হলো-
১. বুধ, ২. পৃথিবী, ৩. মঙ্গল ও ৪. বৃহস্পতি।
পৃথিবী থেকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরবেলায় শুকতারা দেখা যায়। এটি কোনো নক্ষত্র নয়। এটি আসলে সূর্যের একটি গ্রহ, যার নাম শুক্র। সূর্যের আলো এ
সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহ হলো মঙ্গল, যা দেখতে লাল রঙের। মঙ্গলকে কখনো কখনো লাল গ্রহ বলা হয় কারণ এর পৃষ্ঠ লাল রঙের। এর পৃষ্ঠ ধূলিময় এবং খুবই পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে।
বৃহস্পতি গ্রহের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. বৃহস্পতি সূর্যের সবচেয়ে বড় গ্রহ।
২. এটিতে শুধু গ্যাসই রয়েছে, কোনো কঠিন পৃষ্ঠ নেই।
পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ। এটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। চাঁদ নিজে তাপ বা আলো উৎপন্ন করতে পারে না। এটি সূর্যের আলো দ্বারা আলোকিত হয়। সূর্যের আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে প্রতিফলিত হয় বলে আমরা চাঁদকে আলোকিত দেখি।
চাঁদ ব্যাতীত অন্য কোনো উপগ্রহকে কৃত্রিম উপগ্রহ বলা হয়। এ কৃত্রিম উপগ্রহগুলো বেতার ও টেলিযোগাযোগ, আবহাওয়া এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করা হয়।
অমাবস্যার পরের রাতে সরু এক ফালি চাঁদ পশ্চিম আকাশে অল্প সময়ের জন্য দেখা যায়। এই সরু এক ফালি চাঁদ প্রতি রাতে বড় হতে থাকে। দুই সপ্তাহ পর চাঁদকে একটি থালার মতো দেখা যায়। একে আমরা পূর্ণিমা বলি।
রাতের আকাশে হঠাৎ আগুনের গোলকের মতো উল্কাপিন্ড ছুটে যায়। উল্কাপিন্ড পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে পৌছালে বায়ুর সংস্পর্শে এসে পুড়ে যায়। এ জন্য এদেরকে অগ্নিগোলকের মতো ছুটে বা পড়ে যেতে দেখা যায়। কখনো কখনো বড় উল্কাপিন্ড আধপোড়া অবস্থায় পৃথিবীপৃষ্ঠে পড়ে বড় গর্তের সৃষ্টি করে।
গ্রহের চেয়ে আকারে বেশ ছোট, কঠিন, শিলাময় বা ধাতব বস্তু- যাদের নাম গ্রহাণু। এরা ক্ষুদ্র গ্রহের মতো। সূর্যকে কেন্দ্র করে এরা ঘুরছে।
হ্যালির ধুমকেতু গড়ে ৭৬ বছর পর পর পৃথিবী থেকে দেখা যায়। এটিকে ১৯১০ সালে এবং ১৯৮৬ সালে দেখা গেছে। একে আবার ২০৬১ সালে দেখা যাওয়ার কথা।
পৃথিবী গোলাকার, তবে পুরোপুরি গোলাকার নয়। পৃথিবী কিছুটা কমলালেবুর মতো, উত্তর-দক্ষিণ দিকে কিছুটা চাপা।
পৃথিবীর দুই ধরনের ঘূর্ণন গতি হলো-
১. আহ্নিক গতি ও
২. বার্ষিক গতি।
আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবীতে দিন ও রাত হয়। পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর কেন্দ্র করে ২৪ ঘণ্টায় একবার পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে। এটিকে বলা হয় পৃথিবীর আহ্নিক গতি। এই নিজ অক্ষে আবর্তনের কারণে দিন-রাত হয়।
পৃথিবী সূর্যকে একবার ঘুরে আসতে যে সময় প্রয়োজন তাকে আমরা এক বছর সময় বলি। পৃথিবী প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা সময়ে একবার সূর্যের চারপাশে ঘুরে আসে। ফলে এক বছর সমান ৩৬৫ দিন হয় এবং ৬ ঘন্টা হিসেবে প্রতি চার বছর পর পর ৩৬৬ দিনে (লিপইয়ার) এক বছর হয়।
আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| আহ্নিক গতি | বার্ষিক গতি |
| ১. এটি পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর আবর্তন। | ১. এটি সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তন। |
| ২. এর ফলে দিন ও রাত হয় | ২. এর ফলে দিন-রাত ছোট বা বড় হয় এবং ঋতুর পরিবর্তন হয়। |
পৃথিবী সূর্যের চারপাশে কিছুটা হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। গ্রীষ্মকালে পৃথিবী সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট অংশ যখন সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, তখন সেই অংশটি বেশিক্ষণ ধরে এবং খাড়াভাবে সূর্যের তাপ পায়। ফলে গ্রীষ্মকালে গরম বেশি পড়ে।
বিষুব রেখার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। বিষুব রেখার উত্তর অংশকে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণ অংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ বলে।
পৃথিবীর বিষুব রেখার দুই পার্শ্বকে দুটি গোলার্ধে ভাগ করা হয়। উত্তর অংশকে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণ অংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ ধরা হয়। আমরা উত্তর গোলার্ধে বাস করি। ২১ জুন তারিখে বাংলাদেশ সূর্যের কিছুটা কাছে চলে আসে। তাই এসময়ে আমরা সূর্যকে আমাদের মাথার উপর দেখতে পাই। এই সময়ে আমরা সবচেয়ে লম্বা দিন ও ছোট রাত দেখতে পাই।
২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধের একটি অংশ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। আর তখন বাংলাদেশ সূর্য থেকে দূরে অবস্থান করে। তাই তখন বাংলাদেশে দিন ছোট হয় এবং রাত বড় হয়। সূর্যকে দেখা যায় দক্ষিণ দিকে হেলে কিরণ দিতে। কম সময় এবং তির্যকভাবে কিরণ পায় বলে বাংলাদেশে তখন শীত পড়ে।
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে না ঘুরলে পৃথিবীর কোন একটি জায়গায় সবসময় একটি ঋতুই থাকতো। একটি ঋতু থাকলে এক রকম ফসলই চাষ করতে হতো। রাশিয়া বা অন্যান্য শীতপ্রধান দেশে ঋতু পরিবর্তন না হলে মানুষ বাঁচতেই পারতো না। সেখানে বছরের বেশির ভাগ সময় বরফ ঢাকা থাকে। সেসময় ফসল ফলে না। অল্প সময় গ্রীষ্মকাল এলে বরফ গলে যায়। মানুষ তখন ফসল ফলায়। গ্রীষ্মকাল না এলে মানুষ ফসল ফলাতে পারতো না।
কোপারনিকাস একজন জ্যোতির্বিদ ছিলেন।
সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন জ্যোতির্বিদ কোপারনিকাস।
সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সূর্য এবং একে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান সকল জ্যোতিষ্ক ও ফাঁকা জায়গা নিয়ে যে জগৎ গঠিত হয় তাকে সৌরজগৎ বলে।
সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ হচ্ছে বুধ।
বুধ ৮৮ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে।
শুক্র ২২৫ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে।
পৃথিবী ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টায় সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে।
পৃথিবী নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ২৪ ঘণ্টায় একবার পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে।
সৌরজগতের সর্বশেষ গ্রহের নাম নেপচুন।
চাঁদের নিজস্ব আলো না থাকলেও সূর্য থেকে আলো প্রতিফলিত করে তা ছড়িয়ে দেয়। তাই চাঁদকে আলোকিত দেখি।
গ্রহাণু হলো গ্রহের চেয়ে আকারে বেশ ছোট, কঠিন শিলাময় বা ধাতব বস্তু।
পৃথিবীর দুটি গতি আছে।
পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর কেন্দ্র করে ২৪ ঘণ্টায় একবার পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করাকে বলে আহ্নিক গতি।
পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা সময়ে একবার ঘুরে আসে; এই সময়কে এক সৌরবছর বলে।
পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা সময়ে একবার ঘুরে আসে; এই সময়কে এক সৌরবছর বলে।
আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্রে রয়েছে সূর্য। সূর্য অন্যান্য নক্ষত্রের মতো জ্বলন্ত একটি গ্যাসপিন্ড। এই গ্যাসপিন্ডে রয়েছে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস। হাইড্রোজেন গ্যাসের পরমাণু পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে হিলিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়। তাই বলা যায় সূর্য একটি জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড।
সূর্য মাঝারি আকারের একটি নক্ষত্র। এটি পৃথিবীর তুলনায় লক্ষ লক্ষ গুণ বড়। সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই পৃথিবী থেকে আমরা সূর্যকে এত ছোট দেখি।
ধূমকেতুসমূহ আমাদের সৌরজগতের অংশ। এরা কঠিন (গ্যাস, বরফ, ধূলিকণা) পদার্থ দিয়ে তৈরি। তবে তাপ পেলে কিছু অংশ সহজেই গ্যাসে পরিণত হতে পারে। ধূমকেতু সূর্যের কাছাকাছি আসলে সূর্যের তাপে গ্যাসীয় ও কঠিন পদার্থ নির্গত হয়ে আকাশে ছড়িয়ে যাবে। তখন এটি ঝাঁটার মতো দর্শনীয় লেজে পরিণত হবে।
গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে পার্থক্য ২টি নিচে দেখানো হলো-
| গ্রহ | নক্ষত্র |
| ১. গ্রহের নিজস্ব কোনো আলো নেই। | ১. নক্ষত্রের নিজস্ব আলো আছে। |
| ২. গ্রহ নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরে। | ২. নক্ষত্র গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে না। |
মঙ্গলের দূরত্ব সূর্য থেকে তৃতীয় অবস্থানে। এর পৃষ্ঠ ধূলিময় এবং এর খুবই পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। এর পৃষ্ঠ লাল রঙের। এ কারণেই মঙ্গল গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয়।
পৃথিবীর সত্যিকার আকৃতি কমলালেবুর মতো হলেও একে গোলাকার বিবেচনা করা হয়। এই গোলাকার অংশের পৃষ্ঠে আমরা অবস্থান করছি। পৃথিবী অনেক বেশি দ্রুত ঘুরছে। তারপরও আমরা ছিটকে পড়ি না। এর কারণ পৃথিবীর অভিকর্ষ বল। পৃথিবী তার পৃষ্ঠের সব কিছুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টেনে ধরে এ বলের সাহায্যে। এর ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠে অবস্থানকারী কোনো কিছুই পৃষ্ঠ থেকে ছিটকে পড়ে না।
বার্ষিক গতির ফল নিম্নরূপ-
১. দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
২. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে।
৩. তাপের তারতম্য ঘটে।
৪. সূর্য ঠিক পূর্ব দিকে উদিত হয় না। বছরে দুদিন ব্যতীত অন্যান্য সময়ে এটি পূর্ব-উত্তরে বা পূর্ব-দক্ষিণে উদিত হয়।
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে কিছুটা হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। পৃথিবী বছরের বিভিন্ন সময়ে তার হেলানো অবস্থার পরিবর্তন করে। ২১ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সূর্য থেকে সমান দূরত্বে থাকে। এজন্য ২১ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে দিন-রাত্রি সমান হয়।
Related Question
View Allপৃথিবী নিজ অক্ষের উপর কেন্দ্র করে ২৪ ঘণ্টায় একবার পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করাই আহ্নিক গতি।
জুনের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সূর্যের কিছুটা কাছে চলে আসে। তাই এ সময়ে সূর্যকে আমরা মাথার উপরে দেখতে পাই। এই সময়ে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়। খাড়াভাবে এবং দীর্ঘ সময় সূর্যের তাপ পাওয়ার কারণে এই সময়টিতে এবং এর কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশে বেশ গরম পড়ে। তবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই সময়ে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে রাত সবচেয়ে ছোট এবং দিন সবচেয়ে বড় হয়। উদ্দীপকের চিত্রে আমরা দেখি যে, ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধের একটি অংশ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। ফলে সূর্য তখন দক্ষিণ গোলার্ধে খাড়াভাবে কিরণ দেয়। অতএব ২১ জুন ও এর কাছাকাছি সময়ে উত্তর গোলার্ধে যেরূপ সর্বাপেক্ষা অধিক উষ্ণ হয় ২১ ডিসেম্বরও এর কাছাকাছি সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে সেইরূপ সর্বাপেক্ষা অধিক উষ্ণ হয়। অতএব ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং এর বিপরীত কারণে উত্তর গোলার্ধে শীতকাল থাকে। তাই বলা যায়, ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে রাত সবচেয়ে ছোট এবং দিন সবচেয়ে বড় হয়।
উত্তর গোলার্ধে ৩০ ডিসেম্বর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য কেমন হবে তা যুক্তিসহ নিচে উপস্থাপন করা হলো-
পৃথিবীর বিষুব রেখার দুই পার্শ্বকে দুটি গোলার্ধে ভাগ করা হয়। উত্তর অংশকে বলে উত্তর গোলার্ধ। পৃথিবী সূর্যের চারপাশে কিছুটা হেলে প্রদক্ষিণ করে। তবে পৃথিবী বছরের বিভিন্ন সময়ে তার হেলানো অবস্থার পরিবর্তন করে। ২৩ সেপ্টেম্বরের পর উত্তর মেরু সূর্য থেকে দূরে সরে যেতে থাকে আর দক্ষিণ মেরু তখন নিকটবর্তী হয়। এমতাবস্থায় উত্তর গোলার্ধে দিনের পরিমাণ কমতে থাকে এবং রাত্রি বড় হতে থাকে। ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধের একটি অংশ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে আর তখন বাংলাদেশ সূর্য থেকে দূরে অবস্থান করে। তাই তখন বাংলাদেশে দিন ছোট হয় এবং রাত বড় হয়। অর্থাৎ ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী এমন এক অবস্থানে পৌঁছে যখন উত্তর গোলার্ধে সূর্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলস্বরূপ বলা যায়, উত্তর গোলার্ধে ৩০ ডিসেম্বর দিনের দৈর্ঘ্য ছোট হয় এবং রাতের দৈর্ঘ্য বড় হয়।
চাঁদ ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায় পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে।
প্লুটো নামক জ্যোতিষ্কটিকে পূর্বে গ্রহ বলা হতো। কিন্তু এটি একটি ক্ষুদ্র ও অসম্পূর্ণ গ্রহ। গ্রহের নিজস্ব কক্ষপথ থাকে। কিন্তু প্লুটোর নিজস্ব কোনো কক্ষপথ নেই। তাই ২০০৯ সালে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে প্লুটো সৌরজগতের সদস্য নয়। তাই প্লুটোকে সৌরজগতের সদস্য ধরা হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
