পেশির কাজ হলো-
১. দেহের আকৃতি দান করে ও অস্থি সঞ্চালনে সহায়তা করে।
২. নড়াচড়া ও চলাচলে সাহায্য করে।
৩. দেহের ভিতরের অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে।
৪. হৃদপেশি দেহে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে।
আবরণী টিস্যুর বৈশিষ্ট্য হলো-
১. আবরণী টিস্যুগুলো এক বা একাধিক স্তরে সাজানো থাকে।
২. কোষগুলো একটি পাতলা ভিত্তি পর্দার উপর সাজানো থাকে।
৩. আবরণী টিস্যুতে কোনো আন্তঃকোষীয় ধাত্র থাকে না।
প্রোটোপ্লাজমে পর্দা দিয়ে বেষ্টিত সর্বাপেক্ষা ঘনবস্তুকে নিউক্লিয়াস বলে। প্রতিটি নিউক্লিয়াস, চারটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত হয়-
নিউক্লিয়াসের চারটি অংশ নিচে আলোচনা করা হলো-
১ . নিউক্লিয়ার পর্দা: সজীব ও দ্বিস্তরবিশিষ্ট যে পর্দা দিয়ে প্রতিটি নিউক্লিয়াস আবৃত থাকে, তাকে নিউক্লিয়ার পর্দা বলে। নিউক্লিয়ার পর্দা অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত। এসব ছিদ্রের নাম নিউক্লিয়ার রন্দ্র।
২. নিউক্লিওপ্লাজম : নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন দিয়ে আবৃত স্বচ্ছ, দানাদার ও জেলির মতো অর্ধতরল পদার্থটির নাম নিউক্লিওপ্লাজম বা ক্যারিওলিম্ফ।
৩. নিউক্লিওলাস: নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে অবস্থিত ক্ষুদ্র, গোলাকার, উজ্জ্বল ও অপেক্ষাকৃত ঘন বস্তুটি নিউক্লিওলাস নামে পরিচিত। সাধারণত প্রতিটি নিউক্লিয়াসে একটি নিউক্লিওলাস থাকে।
৪. নিউক্লিওজালিকা বা ক্রোমাটিন তন্তু: নিউক্লিওপ্লাজমে ভাসমান অবস্থায় প্যাঁচানো সুতার মতো গঠনটি নিউক্লিওজালিকা বা ক্রোমাটিন জালিকা নামে পরিচিত।
প্লাস্টিডের কাজ উল্লেখ করা হলো-
১. প্লাস্টিড উদ্ভিদের খাদ্য সংশ্লেষে, বর্ণ গঠনে এবং খাদ্য সঞ্চয়ে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে।
২. প্লাস্টিডের মধ্যে ক্লোরোপ্লাস্ট উদ্ভিদে সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ ধারণ করে। সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করা এর প্রধান কাজ।
৩. ক্রোমোপ্লাস্ট ফুলের পাপড়ি ও ফলের গায়ে বিভিন্ন বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
৪. সবুজ ফল পাকার সময় ক্লোরোপ্লাস্ট ক্রোমোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
৫. লিউকোপ্লাস্ট খাদ্য সঞ্চয় করে।
উদ্ভিদকোষের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. উদ্ভিদকোষে কোষপ্রাচীর বিদ্যামান।
২. এ কোষে প্লাস্টিড উপস্থিত থাকে।
উদ্ভিদকোষের প্রধান দুটি অংশের নাম হলো-
১. কোষপ্রাচীর ও
২. প্রোটোপ্লাজম।
উদ্ভিদকোষের বাইরে জড় পদার্থ দিয়ে তৈরি পুরু কোষপ্রাচীর থাকে। কোষের সজীব অংশকে বাহিরের আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য কোষপ্রাচীর প্রয়োজন। এছাড়াও কোষপ্রাচীর কোষের সীমারেখা নির্ধারণ করে।
কোষপ্রাচীরের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এটি সেলুলোজ দ্বারা গঠিত।
২. কোষের সজীব অংশকে রক্ষা করা এর প্রধান কাজ।
কোষপ্রাচীর ও প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| কোষপ্রাচীর | প্রোটোপ্লাজম |
| ১. জড় পদার্থ দিয়ে তৈরি পুরু প্রাচীর। | ১. কোষের অর্ধতরল, জেলির মতো আঠালো ও দানাদার বর্ণহীন সজীব অংশ। |
| ২. এটি সেলুলোজ দ্বারা গঠিত। | ২. এটি বিভিন্ন জৈব ও অজৈব যৌগ সমন্বয়ে গঠিত। |
প্রোটোপ্লাজমের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এটি কোষের অর্ধতরল, জেলির মতো আঠালো ও দানাদার বর্ণহীন সজীব অংশ।
২. এতে পানির পরিমাণ সাধারণত শতকরা ৬৭ থেকে ৯০ ভাগ।
প্রোটোপ্লাজম প্রধানত তিনটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত। যথা-
১. কোষঝিল্লি, ২. সাইটোপ্লাজম ও ৩. নিউক্লিয়াস।
সাইটোপ্লাজম ও প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| সাইটোপ্লাজম | প্রোটোপ্লাজম |
| ১. এটি কোষের নিউক্লিয়াসের বাইরে থাকা জেলির মতো পদার্থ। | ১. নিউক্লিয়াসসহ কোষের সমস্ত জীবন্ত উপাদানের সমষ্টি। |
| ২. এতে অঙ্গাণু (যেমন-মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বডি) থাকে। | ২. এটি সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিওপ্লাজম উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। |
চারটি সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু হলো-
১. প্লাস্টিড, ২. মাইটোকন্ড্রিয়া, ৩. গলজি বডি ও ৪. রাইবোজোম।
উদ্ভিদকোষ ও প্রাণিকোষের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| উদ্ভিদকোষ | প্রাণিকোষ |
| ১. উদ্ভিদকোষে পুরু কোষ প্রাচীর থাকে। | ১. প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর নেই। |
| ২. বিভিন্ন প্রকার প্লাস্টিড থাকে। | ২. প্লাস্টিড থাকে না। |
প্লাস্টিডের দুটি কাজ হলো-
১. সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে উদ্ভিদের খাদ্য উৎপন্ন করা।
২. উদ্ভিদের বর্ণ গঠন করা।
রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্লাস্টিড মূলত দুই প্রকার। যেমন- ক্রোমোপ্লাস্টিড এবং লিউকোপ্লাস্টিড। ক্রোমোপ্লাস্টিড আবার দুই রকম- ক্লোরোপ্লাস্ট ও ক্রোমোপ্লাস্ট।
ক্রোমোপ্লাস্টের কারণে ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বক রঙ্গিন হয়। সবুজ ফল পাকার সময় ক্লোরোপ্লাস্ট ক্রোমোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি করে। টমেটোর যে লাল টকটকে রং দেখা যায় তা এই ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য হয়। ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা ও হলুদ বর্ণের ক্যারোটিনয়েড নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে, ফলে ফল রঙ্গিন হয়।
উদ্ভিদের যেসব অংশে আলো পৌছায় না, সেসব অংশের কোষে লিউকোপ্লাস্ট থাকে। যেমন মূলের কোষের প্লাস্টিড। সূর্যালোকের প্রভাবে এ প্লাস্টিডগুলো রূপান্তরিত হয়ে ক্লোরোপ্লাস্টে পরিণত হয়।
উদ্ভিদের যে অংশে সূর্যের আলো পৌছায় না সেখানে লিউকোপ্লাস্ট তৈরি হয়। সূর্যালোকের প্রভাবে এ প্লাস্টিডগুলো রূপান্তরিত হয়ে ক্লোরোপ্লাস্টে পরিণত হয়। যেমন সবুজ দুর্বাঘাস ইট দিয়ে কিছুদিন ঢাকা থাকলে ঘাসগুলো সাদা হয়ে যায়। কারণ ক্লোরোপ্লাস্টগুলো লিউকোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ইট সরিয়ে নিলে সূর্যের আলোয় ঘাসগুলো আবার সবুজ বর্ণের হয়ে যায়।
সজীব উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট দণ্ডাকার অঙ্গাণুগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ন দ্বিস্তর পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। এর বহিঃপর্দাটি মসৃণ। কিন্তু অন্তঃপর্দাটি আঙুলের মতো অনেক ভাঁজ সৃষ্টি করে। এদেরকে ক্রিস্টি বলে।
প্লাস্টিড ও মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| প্লাস্টিড | মাইটোকন্ড্রিয়া |
| ১. এর ভেতরে স্ট্রোমা এবং গ্রানা থাকে। | ১. এর ভেতরে ক্রিস্টি তৈরি করে। |
| ২. সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি করে। | ২. জীবের যাবতীয় বিপাকীয় কাজের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। |
প্রাণিকোষের নিউক্লিয়াসের কাছে দুটি ফাঁপা নলাকার বা দণ্ডাকার অঙ্গাণু দেখা যায়, তাদের সেন্ট্রিওল বলে। সেন্ট্রিওল সাধারণত একটি স্বচ্ছ দানাবিহীন সাইটোপ্লাজম দ্বারা আবৃত থাকে। এ অংশকে সেন্ট্রোজোম বলে।
গলজি বডি পর্দাঘেরা গোলাকার বা সূত্রাকার অঙ্গাণু। এটি নিউক্লিয়াসের কাছে অবস্থান করে। এর প্রধান কাজ উৎসেচক ও হরমোন ক্ষরণ করা।
প্রতিটি নিউক্লিয়াস চারটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত হয়। যথা-
১. নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বা নিউক্লিয়ার, পর্দা,
২. নিউক্লিওলাস,
৩. নিউক্লিওজালিকা ও
৪. নিউক্লিওপ্লাজম।
নিউক্লিওলাস ও ক্রোমাটিন তন্তুর মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| নিউক্লিওলাস | ক্রোমাটিন তন্তু |
| ১. গোলাকার, উজ্জ্বল ও অপেক্ষাকৃত ঘন। | ১. প্যাঁচানো সুতার মতো। |
| ২. সাধারণত প্রতি নিউক্লিয়াসে একটি নিউক্লিওলাস থাকে। | ২. প্রতিটি নিউক্লিয়াসে অনেক সংখ্যক ক্রোমাটিন তন্তু থাকে। |
নিউক্লিওপ্লাজম এর দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এটি নিউক্লিয়াসের ভেতরে স্বচ্ছ, দানাদার ও জেলির মতো অর্ধতরল পদার্থ।
২. এটি নিউক্লিয়াসের জৈবনিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
এককোষী ও বহুকোষী জীবের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| এককোষী জীব | বহুকোষী জীব |
| ১. জীবের দেহ একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। | ১. জীবের দেহ একের অধিক বা বহু কোষ দিয়ে গঠিত। |
| ২. একটি মাত্র কোষ দিয়ে এদের সকল জৈবিক কাজ সম্পন্ন হয়। | ২. ভিন্ন ভিন্ন জৈবিক কাজ ভিন্ন ভিন্ন কোষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। |
বহুকোষী জীবদেহ গঠনকারী টিস্যুগুলোর মধ্যে একদিকে যেমন শ্রেণিবিন্যাস ঘটে তেমনি অপর দিকে শ্রম বিভাজনও হয়ে থাকে। কারণ যদি সকল কোষ একই সাথে এবং একই রকমভাবে জৈবিক কার্য সম্পন্ন করত তাহলে জীবদেহের গঠন বৈচিত্র্য এবং শারীরবৃত্তীয় ও জৈবিক কাজগুলোতে নানা রকমের বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। এতে সুষ্ঠু জৈবিক ধারা বজায় থাকত না।
ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যুর মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| ভাজক টিস্যু | স্থায়ী টিস্যু |
| ১. এদের কোষের বিভাজন ক্ষমতা রয়েছে। | ১. এরা বিভাজন ক্ষমতাহীন। |
| ২. এরা উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে অবস্থান করে। | ২. উদ্ভিদের প্রায় সর্বত্র স্থায়ী টিস্যু দেখা যায়। |
ভাজক টিস্যুর দুটি কাজ হলো-
১.- নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করা।
২. উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বৃদ্ধি করা।
উদ্ভিদের প্রায় সর্বত্র স্থায়ী টিস্যু দেখা যায়, যা সাধারণত বিভাজন ক্ষমতাহীন। স্থায়ী টিস্যু উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করে থাকে। এছাড়াও এরা দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে থাকে।
যেসকল টিস্যু বিভাজনক্ষমতা সম্পন্ন তাদের ভাজক টিস্যু বলে। ভাজক টিস্যু থেকে নতুন টিস্যু তৈরি হয়। উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বৃদ্ধি করা ভাজক টিস্যুর প্রধান কাজ। ভাজক টিস্যু না থাকলে উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটতো না।
প্রাণিটিস্যু সাধারণত চার ধরনের হয়। যথা-
১. আবরণী টিস্যু,
২. যোজক টিস্যু,
৩. পেশি টিস্যু ও
৪. স্নায়ু টিস্যু।
আবরণী টিস্যুর দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. আবরণী টিস্যুগুলো এক বা একাধিক স্তরে সাজানো থাকে।
২. কোষগুলো একটি পাতলা ভিত্তি পর্দার উপর সাজানো থাকে।
যে টিস্যু দেহের খোলা অংশ ঢেকে রাখে এবং দেহের ভিতরের আবরণ তৈরি করে তাকে আবরণী টিস্যু বলে। আবরণী টিস্যু দেহের ভিতরের ও বাইরের অঙ্গগুলোকে আঘাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও পাকস্থলি ও অন্ত্রের আবরণী কলা পাচক রস ক্ষরণ করে। তাই প্রাণিদেহে আবরণী টিস্যু থাকা প্রয়োজন।
মাসকুলার টিস্যুর দুইটি কাজ হলো-
১. দেহের আকৃতি দান করে ও অস্থি সঞ্চালনে সহায়তা করে।
২. নড়াচড়া ও চলাচলে সাহায্য করে।
অনৈচ্ছিক পেশির দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. অনৈচ্ছিক পেশি প্রাণীর ইচ্ছামতো সংকুচিত বা প্রসারিত হয় না।
২. এ পেশি হাড়ের সাথে লেগে থাকেনা।
অস্থি ও তরুণাস্থির মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| অস্থি | তরুণাস্থি |
| ১. এটি শক্ত, দৃঢ়। | ১. এটি নরম, নমনীয়। |
| ২. দেহের কাঠামো গঠন করে। | ২. অস্থির সংযোজক অংশকে দৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক করতে সহায়তা করে। |
যোজক টিস্যু প্রাণিদেহের বিভিন্ন টিস্যু এবং অঙ্গের মধ্যে সংযোগ সাধন করে। যেমন হাড় দেহের কাঠামো গঠন করে, দেহের ভার বহন করে ও দৃঢ়তা দান করে। তন্তুময় যোজক টিস্যু ফুসফুস ও রক্তনালির প্রাচীর সংকোচন ও প্রসারণে সাহায্য করে। রক্ত বিভিন্ন দ্রব্যাদি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করে।
যোজক টিস্যু প্রাণিদেহের বিভিন্ন টিস্যু এবং অঙ্গের মধ্যে সংযোগ সাধন করে। এখানে রক্ত বিভিন্ন দ্রব্যাদি (অক্সিজেন, খাদ্য, রেচন পদার্থ) দেহের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করে। এছাড়া রক্ত রোগ জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করে। ফলে রক্তকে তরল যোজক কলা বলা হয়।
নিউরন তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
১. কোষদেহ,
২. ডেনড্রন এবং
৩. অ্যাক্সন।
স্নায়ুটিস্যু দেহের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও সংবেদন গ্রহণকারী অঙ্গ থেকে গৃহীত উদ্দীপনা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। দেহের কার্যকর অংশ এ উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। উদ্দীপনা বা ঘটনাকে স্মৃতিতে ধারণ করে। দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এ কারণে মানবদেহে স্নায়ুটিস্যু গুরুত্বপূর্ণ।
ঐচ্ছিক পেশি ও অনৈচ্ছিক পেশির মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| ঐচ্ছিক পেশি | অনৈচ্ছিক পেশি |
| ১. এ পেশি প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। | ১. এ পেশি টিস্যুর সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। |
| ২. এ পেশি হাড়ের সাথে লেগে থাকে। | ২. এ পেশি হাড়ের সাথে লেগে থাকে না। |
স্থায়ী টিস্যুর দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো পূর্ণভাবে বিকশিত এবং সঠিক আকৃতিপ্রাপ্ত।
২. এ টিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাহীন।
ভাজক টিস্যুর দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. ভাজক টিস্যুর কোষগুলো সাধারণত আয়তাকার বা ডিম্বাকার।
২. কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন।
জীবদেহের গঠন ও কাজের একককে কোষ বলে।
কোষের অর্ধতরল জেলির মতো আঠালো ও দানাদার বর্ণহীন সজীব অংশই প্রোটোপ্লাজম।
প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ সাধারণত শতকরা ৬৭ থেকে ৯০ ভাগ।
সজীব উদ্ভিদকোষের সাইটোপ্লাজমে বর্তমান বর্ণহীন অথবা বর্ণযুক্ত গোলাকার বা ডিম্বাকার অঙ্গাণুই প্লাস্টিড।
টমেটোর লাল টকটকে রঙের জন্য দায়ী রঞ্জক পদার্থই হচ্ছে লাইকোপেন।
ঘাসের মূলের প্লাস্টিডের নাম লিউকোপ্লাস্ট।
প্রাণিকোষের নিউক্লিয়াসের কাছে দুটি ফাঁপা নলাকার বা দণ্ডাকার অঙ্গাণু দেখা যায়, এগুলোকেই সেন্ট্রিওল বলে।
নিউক্লিয়াস যে সজীব ও দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে তাই নিউক্লিয়ার পর্দা।
নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে অবস্থিত ক্ষুদ্র, গোলাকার, উজ্জ্বল ও অপেক্ষাকৃত ঘন বস্তুটি হলো নিউক্লিওলাস।
যে পেশির সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয় তাই অনৈচ্ছিক পেশি।
তরুণাস্থি হলো এক ধরনের যোজক টিস্যু, যা হাড়ের চেয়ে নরম ও অন্যান্য টিস্যুর চেয়ে বেশি চাপ ও টান সহ্য করতে পারে।
যে কলা প্রাণিদেহের বিভিন্ন টিস্যু এবং অঙ্গের মধ্যে সংযোগ সাধন করে তাকে যোজক কলা বলে।
অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের মিলনস্থলই সাইন্যান্স।
কোষগহ্বরে পানি, জৈব এসিড, শর্করা ইত্যাদি জমা থাকে। তাই একে কোষের সঞ্চিত খাদ্যের ভাণ্ডার বলে।
প্লাস্টিড উদ্ভিদের এমন একটি উপাদান যা শুধু উদ্ভিদকে বেঁচে থাকার জন্য সাহায্য করে না এটি সব উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই প্লাস্টিডকে উদ্ভিদের অনন্য বৈশিষ্ট্য বলা হয়।
প্লাস্টিড উদ্ভিদকোষের অনন্য বৈশিষ্ট্য। প্লাস্টিডের প্রকারভেদের মধ্যে ক্রোমোপ্লাস্টিডে সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জকবিশিষ্ট ক্লোরোপ্লাস্ট এবং অসবুজ বর্ণবিশিষ্ট ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এসব রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে উদ্ভিদের পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদি বিভিন্ন রঙের হয়। রঞ্জক পদার্থগুলো ধারণ করে বলেই প্লাস্টিডকে কোষের বর্ণাধার বলে।
সবুজ দূর্বাঘাস ইট দিয়ে কিছুদিন ঢেকে রাখার পর ঘাসগুলো সাদা দেখায়। কারণ ক্লোরোপ্লাস্টগুলো লিউকোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
লিউকোপ্লাস্ট হলো বর্ণহীন প্লাস্টিড। উদ্ভিদের যেসব অংশে আলো পৌঁছায় না, সেসব অংশের কোষে লিউকোপ্লাস্ট থাকে যেমন-মূলের কোষের প্লাস্টিড। এছাড়াও সবুজ দূর্বাঘাস ইট দিয়ে কিছুদিন ঢেকে রাখলে ঘাসগুলো সাদা হয়ে যায়। কারণ বর্ণযুক্ত ক্লোরোপ্লাস্টগুলো বর্ণহীন লিউকোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
নিউক্লিওপ্লাজমে ভাসমান অবস্থায় প্যাঁচানো সুতার মতো গঠনটি নিউক্লিওজালিকা বা ক্রোমাটিন জালিকা নামে পরিচিত। কোষ বিভাজনের সময় তন্তুময় গঠনটি কতকগুলো টুকরায় পৃথক হয়ে যায়। এ প্রতিটি টুকরাকে ক্রোমোজোম বলা হয়।
যে পেশি আমাদের ইচ্ছামতো সংকুচিত হয় না তাদের অনৈচ্ছিক পেশি বলে। হৃৎপেশি নামে বিশেষ এক ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি আছে। এ পেশি নিজ ছন্দে পর্যায়ক্রমে সংকুচিত ও স্বাভাবিক হয়ে দেহের রক্ত সঞ্চালন করছে। শুধু হৃৎপিন্ড এ পেশি দ্বারা গঠিত।
ঐচ্ছিক পেশির কারণে আমরা কনুই সোজা বা বাঁকা করতে পারি। আমরা যখন কনুই সোজা করি তখন ঊর্ধ্ববাহুর পেছনের পেশি সংকুচিত হয়ে নিম্নবাহু টেনে সোজা করে। আবার আমরা যখন কনুই বাঁকা করি তখন ঊর্ধ্ববাহুর সামনের দিকের পেশি সংকুচিত হয়ে বাহুকে টেনে বাঁকা করে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবদেহ থেকে শুরু করে অতি বৃহদাকার ও উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের সাংগঠনিক এবং কার্যপ্রণালিতে প্রচুর মিল-অমিল রয়েছে। সকল জীবদেহের মধ্যে সাধারণ মিল বা সাদৃশ্যটি হলো যে, জীবদেহ মাত্রই কোষ দ্বারা গঠিত। বিগত কয়েকশ বছর ধরে বিজ্ঞানীগণ নিরলস প্রচেষ্টায় কোষের গঠন, আকৃতি, প্রকৃতি ও অন্যান্য বিষয়ে প্রচুর গবেষণামূলক কাজ করেছেন। একটি জীবদেহের সব কোষের গঠন প্রকৃতি এক রকম নয় বরং ভিন্ন। আমরা এ পরিচ্ছেদে কোষের গঠন বর্ণনা করব কিন্তু নিম্নে বর্ণিত সকল অঙ্গাণু এক সাথে এক কোষে পাওয়া যায় না। তাই মোটামুটি সব ধরনের কোষে যেসব ক্ষুদ্র অঙ্গাণু পরিলক্ষিত হয় সেগুলোকে বর্ণনার জন্য একটি কোষের আওতায় এনে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম দিকে যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে জীববিজ্ঞানীরা কোষের যে ধারণা পেয়েছিলেন তা ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর আরও সুষ্পষ্ট ও বিস্তারিত হয়েছে। সেই আলোকে আদর্শ কোষ আলোচনা করা হলো।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- উদ্ভিদ এবং প্রাণিকোষের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে পারব।
- প্রাণী এবং উদ্ভিদকোষের তুলনা করতে পারব।
- কোষের বিভিন্ন অঙ্গাণুর গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন প্রকার টিস্যুর কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন প্রকার টিস্যুর কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allরক্ত এক ধরনের তরল যোজক টিস্যু, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দ্রব্যাদি (অক্সিজেন, খাদ্য, রেচন পদার্থ) দেহের একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবাহিত হয়।
যে টিস্যু দেহের খোলা অংশ ঢেকে রাখে এবং দেহের ভিতরের আবরণ তৈরি করে তাকে আবরণী টিস্যু বলে। আমাদের ত্বকের বাইরের আবরণ, মুখগহ্বরের ভিতরের আবরণ ইত্যাদি আবরণী টিস্যু দিয়ে গঠিত। দেহের বিভিন্ন গ্রন্থিগুলোও আবরণী টিস্যু দিয়ে তৈরি।
উদ্দীপকের P চিত্রটি হলো মানুষের হাত। হাতের জন্য, অস্থির গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. অস্থি দ্বারাই হাতের কাঠামো গঠিত হয়।
২. অস্থির কারণেই হাত নির্দিষ্ট আকৃতি লাভ করে।
৩. অস্থির মাধ্যমেই হাত দেহের সাথে সংযুক্ত থাকে।
৪. হাতের পেশিগুলো অস্থির সাথে যুক্ত থেকে হাত সঞ্চালনে সহায়তা করে।
৫. অস্থি হাতের ভার বহন করে।
সুতরাং P চিত্রে অর্থাৎ হাতের জন্য অস্থির গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে P চিত্র দ্বারা ঐচ্ছিক পেশি এবং Q চিত্র দ্বারা অনৈচ্ছিক পেশিকে বুঝানো হয়েছে। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
১. ঐচ্ছিক পেশি আমরা ইচ্ছামতো সংকুচিত ও প্রসারিত করতে পারি। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশি আমরা ইচ্ছামতো সংকুচিত করতে পারি না।
২. ঐচ্ছিক পেশির সাহায্যে আমরা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারি। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশির সাহায্যে আমরা কোনো অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারি না।
৩. ঐচ্ছিক পেশি হাড়ের সাথে লেগে থেকে আমাদের অঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশি হাড়ের সাথে লেগে থাকে না।
৪. বহিঃত্বক, হাত, পা ইত্যাদি ঐচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত। অন্যদিকে পাকস্থলী, হৃৎপিন্ড, যকৃৎ ইত্যাদি অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
উদ্ভিদকোষের ক্ষেত্রে কোষঝিল্লির বাইরে জড় পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি পুরু প্রাচীরই হলো কোষপ্রাচীর।
মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গাণু। এখানেই শ্বসনের সকল কাজ সম্পন্ন হয়। আর এ শ্বসনের মাধ্যমেই জীবদেহে শক্তি উৎপন্ন হয়ে থাকে। জীবের যাবতীয় বিপাকীয় কাজের জন্য যে শক্তি প্রয়োজন তার একমাত্র উৎস মাইটোকন্ড্রিয়া। এ জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!