বিয়ের সময় বর বা কনে বিপরীত পক্ষের কাছ থেকে যে অর্থ বা সম্পত্তি দাবি করে ও গ্রহণ করে তাকেই যৌতুক বলা হয়।
যৌতুক একটি প্রাচীন প্রথা। প্রাচীন চীনে বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে যৌতুক সঙ্গে নিয়ে যেত। এথেন্সেও বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে নিয়ে যেত অর্থসম্পদ। সেখানে যৌতুক গ্রহণকে সামাজিক মর্যাদা হিসেবে দেখা হতো।
বিবাহিত নারীর প্রতি অত্যাচার ও সহিংসতার মূল কারণ যৌতুক। যৌতুকের কারণে স্বামীর সংসারে স্ত্রীকে নিগ্রহ ভোগ করতে হয়। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারলে অনেকক্ষেত্রেই স্ত্রীকে সংসার ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
যৌতুক বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং ১৯৮৬ সালে যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী যৌতুক প্রদান ও গ্রহণ করলে অপরাধী সর্বনিম্ন একবছর এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
১৯৮৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান অনুযায়ী যৌতুকের কারণে নির্যাতন করে নারীর মৃত্যু ঘটালে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।
সামাজিক আন্দোলন হচ্ছে সংগঠিত সামাজিক প্রতিরোধ। সমাজের সব মানুষের মধ্যে সামাজিক কুপ্রথা ও অজ্ঞতা বিরোধী মনোভাব সৃষ্টি এবং সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠে।
আমাদের প্রতিবেশী এবং পাড়া-মহল্লা-গ্রামের মানুষকে যৌতুকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। এই কুপ্রথা প্রতিরোধ করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাতে হবে। সমাজের সব মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে যৌতুকবিরোধী মনোভাব ও সচেতনতা।
বাল্যবিবাহ বলতে বোঝায় যে বিয়েতে বর ও কনে উভয়ই শিশু বা বর ও কনের মধ্যে যেকোনো একজন শিশু। বিয়ের জন্য আইন অনুমোদিত বয়স তথা ছেলের বয়স ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছরের চেয়ে কম বয়সে বিবাহ হলে তাকে বাল্যবিবাহ বলে।।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ অনুযায়ী, শিশু বলতে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়সের ছেলেকে বোঝায়।
বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ হচ্ছে দারিদ্র্য। দরিদ্র পিতা তার কন্যা সন্তানের জীবনযাপনের ব্যয় ভার বহন করতে না পেরে মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুয়ায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এ অপরাধ করলে ২ বছর কারাদণ্ড বা ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ বাল্যবিবাহ করলে, ১ মাস কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
পিতা-মাতা, অভিভাবক বা অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো বাল্যবিবাহের অনুষ্ঠান সম্পাদন ও পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
শিশু কিশোরদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষিত হলে তারা সচেতন হবে এবং বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে।
বিয়ের সময় বর বা কনে বিপরীত পক্ষের কাছ থেকে যে অর্থ বা সম্পত্তি দাবি করে ও গ্রহণ করে তাকেই যৌতুক বলা হয়।
সামাজিক সমস্যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
যৌতুক প্রথা প্রাচীন প্রথা হিসেবে পরিচিত।
১৯৮০ সালে বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়।
১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করা হয়।
১৯৮৬ সালের সংশোধিত আইনে যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করলে অপরাধীর সর্বনিম্ন ১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড হবে।
এথেন্সে যৌতুক গ্রহণকে সামাজিক মর্যাদা হিসেবে দেখা হতো।
মুসলিম পারিবারিক আইনে মোহরানাকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা হয় না।
বাংলাদেশে ছেলের বিয়ের বয়স ২১ বছর এবং মেয়ের বিয়ের বয়স ১৮ বছর।
এথেন্সে বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে নিয়ে যেত অর্থসম্পত্তি।
প্রাচীন চীনে বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে যৌতুক সঙ্গে নিয়ে যেত।
মুসলিম পারিবারিক আইনে মোহরানাকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা হয় না।
বিবাহিত নারীর প্রতি অত্যাচার ও সহিংসতার মূল কারণ যৌতুক।
সামাজিক আন্দোলন হচ্ছে সংগঠিত সামাজিক প্রতিরোধ।
যে বিয়েতে বর কনে উভয়ই শিশু বা বর ও কনের মধ্যে যেকোনো একজন শিশু সে বিয়েকে বাল্যবিবাহ বলে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন হয় ১৯২৯ সালে।
কুসংস্কার বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা।
বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ দারিদ্র্য।
জীবনযাপনের ব্যয়ভার বহন করতে পারে না বলে।
যৌতুককে একটি প্রাচীন প্রথা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ প্রাচীন চীনে বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে যৌতুক সঙ্গে নিয়ে যেত। এথেন্সেও বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে নিয়ে যেত অর্থসম্পত্তি। সেখানে যৌতুক গ্রহণকে সামাজিক মর্যাদা থেকে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে যৌতুক আর প্রথা নয় বরং তা কুপ্রথায় পরিণত হয়েছে।
বিবাহিত নারীর প্রতি অত্যাচার ও সহিংসতার মূল কারণ হচ্ছে যৌতুক। যৌতুকের কারণে স্ত্রীকে নানামুখী নির্যাতন সহ্য করতে হয়। এমনকি কখনো কখনো যৌতুককে কেন্দ্র করে স্ত্রীর প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটে থাকে।
আমাদের প্রতিবেশী এবং পাড়া-মহল্লা-গ্রামের মানুষকে যৌতুকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। এ কুপ্রথা প্রতিরোধ করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাতে হবে। সমাজের সব মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে যৌতুকবিরোধী মনোভাব। এভাবে যৌতুক বিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যায়।
যথাযথ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে যৌতুক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ১৯৮০ সালে যৌতুক বন্ধ করার জন্য যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন। আবার ১৯৮৬ সালের যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করে বলা হয়েছে, যৌতুক গ্রহণ বা প্রদান করলে সর্বনিম্ন এক বছর ও সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
আমাদের দেশের নানা সামাজিক সমস্যার অন্যতম হচ্ছে যৌতুক প্রথা। এটি একটি অমানবিক ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক সমস্যা। এদেশের বিবাহসংক্রান্ত আইনে যৌতুক আদান প্রদান নিষিদ্ধ হলেও অধিকাংশ বিয়েতে বরপক্ষ কনেপক্ষের কাছ থেকে যৌতুক গ্রহণ করে। এর নানাবিধ নেতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও এ প্রথা বিলুপ্ত হচ্ছে না। এ কারণে তাই এটি একটি সামাজিক কুপ্রথায় পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন করে। এ আইন অনুযায়ী যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করলে সর্ব্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। বিচারক অপরাধীকে একসঙ্গে উভয় দণ্ড দিতে পারেন। যৌতুক আদান-প্রদানে সহায়তাকারীও একই শাস্তি পাবে।
ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী দেনমোহর হলো বিয়ের সময় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদেয় নগদ অর্থ কিংবা অলঙ্কার কিংবা অন্যকোনো সম্পদ। দেনমোহর বিয়ের সময় নির্ধারণ করে নিতে হয়। এটি সাধারণত কনের পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। দেনমোহর স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদ। এতে অন্য কারও কোনো অধিকার নেই।
যে ছেলেমেয়ের মধ্যে বিয়ে হয় তাদের মধ্যে যদি ছেলের বয়স ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হয় অর্থাৎ বিয়ের জন্য আইন অনুমোদিত বয়সের চেয়ে উভয়ই যদি কম বয়সী হয় তাহলে সে বিয়েকে বাল্যবিবাহ বলে। শুধু ছেলের বয়স ২১ বছরের কম বা শুধু মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে সে বিবাহ ও. বাল্যবিবাহ বলে গণ্য হবে।
সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয় অল্প বয়সে। বিশেষ করে সুন্দরী মেয়ে হলে চারদিকে বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্ট হয়ে অনেক বাবা-মা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন বখাটেদের উৎপাত থেকে রক্ষার জন্য। তাছাড়া অনেক বাবা-মা এ নিয়ে শঙ্কায় ভুগতে থাকেন। আবার ভালো পাত্র পেলে অনেক বাবা মা তা হাতছাড়া করতে চান না। যার কারণে তারা মেয়েকে অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। তাই বলা যায়, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা বাল্যবিবাহের একটি অন্যতম প্রধান কারণ।
বাল্যবিবাহের বহুবিধ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হচ্ছে দারিদ্র্য। দরিদ্র পিতা তার কন্যা সন্তানের জীবনযাপনের ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কারণে বাল্যবিবাহের প্রবণতা দেখা যায়। যেমন-বখাটেদের উৎপাত থেকে রক্ষা পেতেও কম বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। বাল্যবিবাহের অন্যতম আরেকটি কারণ যৌতুক। যৌতুকের লোভে ছেলের বাবারা কিশোরী মেয়েকে বউ হিসেবে গ্রহণ করে।
বাল্যবিবাহের ফলে ছেলেমেয়েদের মানসিক ও শারীরিক পরিপক্বতা আসার পূর্বেই বাবা-মা হয়ে যায়। এতে দেখা যায় কিশোরী মেয়েটি শারীরিক পুষ্টিহীনতার স্বীকার হয়ে দুর্বল ও পুষ্টিহীন শিশুর জন্ম দেয়। মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে।
বাল্যবিবাহ রোধের জন্য অন্যতম প্রধান উপায় হলো সচেতনতা। সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কিশোর-কিশোরীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ- এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। ছেলেমেয়ে প্রত্যেককেই আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশের সমাজজীবনে নানারকম সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে দারিদ্র্য, জনসংখ্যা স্ফীতি, নিরক্ষরতা, কুসংস্কার, যৌতুক প্রথা ও বাল্যবিবাহ। এসব সামাজিক সমস্যা ব্যক্তি ও সমাজের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। এই ধরনের সামাজিক সমস্যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যার প্রতিরোধ ও প্রতিকার প্রয়োজন। এজন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
১. যৌতুকের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
২. যৌতুকের কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
৩. যৌতুক নিরোধ আইনের ব্যাখ্যা করতে পারব;
8. যৌতুক প্রতিরোধ ও সমাধানে সামাজিক আন্দোলনের পদক্ষেপ বর্ণনা করতে পারব;
৫. বাল্যবিবাহের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
৬. বাল্যবিবাহের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
৭. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব;
৮. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ব্যাখ্যা করতে পারব;
Related Question
View Allএথেন্সে বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে অর্থসম্পদ নিয়ে যেত।
কন্যা সন্তানকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কন্যাসন্তান শিক্ষিত হলে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার মাধ্যমে তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে। নারীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক এমনকি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।
জাহিদের বাবা-মায়ের প্রস্তাবটি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা যৌতুক প্রথাকে ইঙ্গিত করে।
যৌতুক একটি প্রাচীন প্রথা। প্রাচীন চীন ও এথেন্সে এ প্রথা চালু ছিল। খৌতুক হচ্ছে বিয়ের সময় বরকে প্রদত্ত অর্থ, সম্পত্তি ও নানা ধরনের মূল্যবান আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম। বাংলাদেশের বিবাহ আইনে যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দুটোই নিষিদ্ধ।
উদ্দীপকের জাহিদের বাবা-মা তার বিয়েতে নানা উপহারসামগ্রী ও টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এখানে ছেলেপক্ষকে উপহার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটি পরোক্ষভাবে যৌতুক প্রথাকেই সমর্থন করে।
যৌতুক বাংলাদেশে প্রচলিত সামাজিক সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম একটি প্রথা। আমরা এ জঘন্যতম সামাজিক প্রথা রোধে যেসব পদক্ষেপ নিতে পারি তা হলো-
প্রথমত, পরিবারের কন্যা সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শিক্ষিত হয়ে মেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হলে যৌতুকের অভিশাপ তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নারীসমাজ এ জঘন্য প্রথার কারণে প্রতিনিয়ত অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এমনকি তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে বা তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। তাই এ প্রথার বিরুদ্ধে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মনে যৌতুকবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
তৃতীয়ত, যৌতুক নিরোধ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। আইন শুধু কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না। এর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন হয় ১৯২৯ সালে।
যৌতুক নিরোধের জন্য বাংলাদেশে ফৌজদারি আইন প্রচলিত আছে।
যৌতুক বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে 'যৌতুক নিরোধ আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৮৬ সালে যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া যৌতুক প্রথা দমনের জন্য ১৯৮৩ সালে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। সবগুলো আইনেই অপরাধীর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!