যা দেওয়া হয় তা-ই দান। তবে তা নিঃস্বার্থ হতে হয়। অর্থাৎ শর্তহীনভাবে কাউকে কোনো কিছু দেওয়াকে বলা হয় দান। মানুষ। যেসব উত্তম ও কল্যাণকর কাজ করে তার মধ্যে দান অন্যতম। যেমন- ক্ষুধার্ত ব্যক্তি খাদ্য, কিংবা শীতার্ত ব্যক্তিকে বস্ত্র দান করা। - 'দান' একটি মহৎ গুণ।
বৌদ্ধরা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দান অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। লোভ-মোহ-দ্বেষ ক্ষয়, পুণ্য অর্জন এবং নির্বাণ লাভের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধরা দান করে থাকে। তাছাড়া পরলোকগত জ্ঞাতিদের সদ্গতি কামনায়ও এসব দান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেমন-সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান প্রভৃতি।
দান অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে সংঘদান ও অষ্ট পরিষ্কার দান যেকোনো সময় করা যায়। এজন্য নির্ধারিত কোনো দিন নেই। দাতা প্রয়োজন অনুসারে সাধ্যমতো যেকোনো সময় করতে পারেন। তবে কঠিন চীবরদান শুধু প্রতিবছর বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন হতে একমাস পর্যন্ত করা হয়।
বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে ভিক্ষুসংঘকে উদ্দেশ করে যে দান করা হয় তাকে সংঘদান বলা হয়। বৌদ্ধরা বিশ্বাস করেন, একজন ভিক্ষুকে দান করার চেয়ে সংঘকে দান করা খুবই ফলদায়ক। সংঘদান করতে হলে কমপক্ষে পাঁচ ভিক্ষু থাকা আবশ্যক, তবে বেশি হলেও ভালো।
বৌদ্ধরা যেকোনো শুভ কাজ শুরু করার আগে সংঘদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যেমন- বিবাহ, নতুন ঘর তৈরি, ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু, বিদেশ গমন, নবজাতকের অন্নপ্রাশন, প্রব্রজ্যা গ্রহণ প্রভৃতি শুভ কর্মের পূর্বে সংঘদান করা যায়। তবে পরিবারের কেউ মৃত্যুবরণ করলে অবশ্যই সংঘদানের অনুষ্ঠান করতে হয়।
সংঘদানে সাধারণত ভিক্ষুদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দান করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসমূহের মধ্যে- অন্ন, বস্ত্র, ওষুধ, সাবান, তেল, সুচ-সুতা প্রভৃতি। সাধারণত ভিক্ষুসংঘ আহার গ্রহণের পূর্বে তাদের আসনের সামনে দানসামগ্রী সাজিয়ে পরিবেশন করা হয় ভিক্ষু সভাপতির অনুমতিক্রমে।
দান দেওয়া মানুষের একটি মহৎ গুণ। দানানুষ্ঠানের মাধ্যমে দানের অভ্যাস গড়ে ওঠে। অহংকার, কৃপণতা, লোভ-দ্বেষ-মোহ প্রভৃতি দূর হয়। চিত্তের উদারতা বাড়ে। পরোপকারী মনোভাব সৃষ্টি হয়। দয়া, নিঃস্বার্থপরতা, মৈত্রী, প্রেম প্রভৃতি মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে। তাই দানকে মহৎ বলা হয়েছে।
অনাথপিণ্ডিক আঠারো কোটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে জেতবন ক্রয় করেন এবং আঠারো কোটি স্বর্ণমুদ্রা ব্যয়ে জেতবন বিহার নির্মাণ করেন। ভিক্ষুসংঘসহ বুদ্ধকে তিনমাসব্যাপী সেবার জন্য আরও আঠারো কোটি স্বর্ণমুদ্রা দান করেন। প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে পাঁচশ ভিক্ষুকে সেবা দানের ব্যবস্থা করেন। এই মহাদানের জন্য বুদ্ধ তাকে 'শ্রেষ্ঠ দায়ক' উপাধি দেন।
বৌদ্ধধর্মে দানের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। দানানুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী অংশগ্রহণ করেন। ফলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভাব বিনিময় হয়। এতে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়। ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে।
বৌদ্ধরা বিভিন্ন ধর্মীয় দান অনুষ্ঠান পালন করেন। যেমন-সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান, কঠিন চীবন দান ইত্যাদি। এসব দান অনুষ্ঠানে মূলত ভিক্ষুসঙ্ঘকে দান করা হয়। অনুষ্ঠানে অনেক লোক সমবেত হয়ে দানকার্য সম্পাদন করেন। লোভ-দ্বেষ-মোহ ক্ষয়, পুণ্য অর্জন এবং নির্বাণ লাভের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধরা দান করে থাকেন। পরলোকগত জ্ঞাতিদের সঙ্গতি কামনায়ও দান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বৌদ্ধরা বিভিন্ন ধর্মীয় দান অনুষ্ঠান পালন করেন। যেমন-সঙ্ঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান ইত্যাদি। এসব দানানুষ্ঠানে মূলত ভিক্ষুসঙ্ঘকে দান করা হয়। অনুষ্ঠানে অনেক লোক সমবেত হয়ে দানকার্য সম্পাদন করেন। লোভ-দ্বেষ-মোহ-ক্ষয়, পুণ্য অর্জন এবং নির্বাণ লাভের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধরা দান করে থাকেন।
দানানুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী অংশ নেয়। ফলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভাববিনিময় হয়। এতে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয় এবং পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়, সমাজে শান্তি বিরাজ করে। দনি দ্বারা সমাজে অনেক মহৎ কাজ সাধিত হয়। তাই বলা যায়, দানানুষ্ঠান নৈতিক ও সামাজিক গুণাবলির বিকাশ ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
'দান' একটি মহৎ গুণ। মানুষ যে সকল উত্তম ও কল্যাণকর কাজ করে, দান তার মধ্যে অন্যতম। বৌদ্ধধর্মে 'দান' অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। দান, শীল ও ভাবনা- এ তিন প্রকার কুশল কর্মের মধ্যেই বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠিত। পূর্ববর্তী শ্রেণিতে আমরা দান, দানের বৈশিষ্ট্য বা বিবেচ্য বিষয়, দানীয় বস্তু ও দানের সুফল সম্পর্কে জেনেছি। এ অধ্যায়ে আমরা বৌদ্ধধর্মীয় দান অনুষ্ঠান, দান কাহিনি ও দানানুষ্ঠানের গুরুত্ব সম্পর্কে পড়ব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা -
- বৌদ্ধধর্মীয় বিভিন্ন দানানুষ্ঠানের বর্ণনা দিতে পারব।
- বিভিন্ন দান কাহিনি বর্ণনা করতে পারব।
- দানানুষ্ঠানের সামাজিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allরৌদ্ধধর্ম তিন প্রকার কুশলকর্মের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত।
বৌদ্ধরা সাধারণত লোভ-দ্বেষ-মোহ ক্ষয়, 'পুণ্য অর্জন এবং নির্বাণ লাভের জন্য দান করে। পরলোকগত জ্ঞাতিদের সদৃগতি কামনায়ও দান করা হয়। মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশের জন্যও দান করা হয়।
উদ্দীপকে চম্পা যে দান করলেন তা সংঘদানের অন্তর্ভুক্ত। বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সংঘদান অন্যতম'। ভিক্ষুসংঘকে উদ্দেশ্য করে যে দান করা হয় তাই সঙ্ঘদান। বৌদ্ধরা যেকোনো শুভকাজ শুরু করার পূর্বে সংঘদান করে থাকেন। সংঘদান করতে হলে অন্যূন পাঁচজন ভিক্ষুর উপস্থিতি প্রয়োজন হয়। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যতবেশি হবে তত ভালো। সংঘদান অনুষ্ঠানের পূর্বে ভিক্ষুসংঘকে নিমন্ত্রণ করতে হয়। সাধারণত ভিক্ষুদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দান করা হয়। সংঘদানের সময় ভিক্ষুসংঘের আসনের সামনে দানসামগ্রী সুন্দরভাবে সাজাতে হয়। ভিক্ষুসংঘ পরিপাটি হয়ে আসনে উপবেশন করলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ভিক্ষুদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ একজন সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গাথা তিনবার আবৃত্তি করেন।
বৌদ্ধধর্মে দানের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। দান দেওয়া মানুষের মহৎ কর্ম। এ গুণটি বিকশিত করার ক্ষেত্রে দানানুষ্ঠান বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। দানানুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অভ্যাস গড়ে ওঠে। অহংকার, কৃপণতা, লোভ-দ্বেষ-মোহ প্রভৃতি ভুলে পরোপকারী মনোভাব সৃষ্টি হয়। অন্যের বিপদে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রেরণা সৃষ্টি হয়। দয়া, নিঃস্বার্থপরতা, মৈত্রী, প্রেম প্রভৃতি মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে। সৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ দান করলে অধিক ফল অর্জন হয়। সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। দান দ্বারা সমাজে অনেক মহৎ কাজ করা যায়। দানের ফলে চিত্তের উদারতার বৃদ্ধি এবং মানুষের মানবিক গুণাবলির বিকাশ প্রস্ফুটিত হয়। দান বা দানানুষ্ঠান নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বলা হয়, চম্পার দানের সামাজিক গুরুত্ব অনেক।
সংঘদানের জন্য অন্যূন পাঁচ জন ভিক্ষুর প্রয়োজন হয়।
ভিক্ষুসংঘকে দান করার কারণ বৌদ্ধরা বিশ্বাস করে একজন ভিক্ষুকে দান করার চেয়ে সঙ্ঘকে দান করা খুবই ফলদায়ক। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যত বেশি হয় ততই ভালো। এজন্য ভিক্ষুসঙ্ঘ দান করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!