কোনো রোগে আক্রান্ত হলে তাড়াতাড়ি সেরে উঠার জন্য বা রোগকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা হয় তাকে পথ্য বলে। যেমন- ডায়রিয়া হলে যে বিশেষ নির্দেশনা মেনে খাদ্য গ্রহণ করা হয় তাকে ডায়রিয়ায় পথ্য বলা হয়।
যথাযথ পথ্য গ্রহণ ছাড়া শুধু ওষুধ সেবনে অধিকাংশ রোগ থেকেই স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ পথ্য ছাড়া রোগ নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রোগের জটিলতা ও তীব্রতা কমিয়ে আনার জন্য যথাযথ পথ্য গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগের কারণে শরীরে যে সকল পুষ্টি ও শক্তির ক্ষয় হয় সেই সকল ক্ষয় পূরণে সাহায্য করে।
না, জ্বর নিজে কোন রোগ নয়। তবে সাধারণত কোনো বাইরাস বা অন্য কোনো সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট রোগেরলক্ষণ হিসেবে জ্বর হয়। জ্বরে দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর সাথে মাথাব্যথা, মাথা ধরা, অরুচি, বমি বমি ভাব ও বমি ইত্যাদি লক্ষণ থাকতে পারে। জ্বরে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়। এছাড়া যথেষ্ট পরিমাণে শক্তির ক্ষয়।
উচ্চ শক্তিদায়ক, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত, কম ফ্যাটযুক্ত খাবার দিতে হবে। সব খাবারই খাওয়া যাবে। তবে হজমে সমস্যা হলে লঘুপাক খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য দুধ, ডিম, কম তেলযুক্ত মাছ, মুরগি ও ডাল দেওয়া যায়।
জ্বর হলে মাখন, ঘি ও বেশি তৈলাক্ত খাদ্য বাদ দেওয়া উচিত। এছাড়া ও ডিপ ফ্লায়ড খাবার যেমন সিঙাড়া, সমুচা, চিকেন ফ্রাই ইত্যাদি, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার ও আঁশযুক্ত খাদ্য, বেকারির খাবার, যেমন-পেস্ট্রি, ক্রিম কেক ইত্যাদি এবং সফট্ ড্রিংকস পরিহার করা উচিত।
খাবার ও পানির মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে জীবাণুর সংক্রমণের ফলে ডায়রিয়া ও আমাশয় হয়ে থাকে। ডায়রিয়া হলে প্রতিবার পায়খানার পর খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে। কাঁচা কলা ও পাকা কলা আমাশয়ের ও ডায়রিয়ার রোগীর জন্য ওষুধ সবজি ও ফল হিসেবে পরিচিত।
বেশি আঁশযুক্ত খাদ্য যেমন- ফল ও শাকসবজি বিশেষ করে টকজাতীয় ফল যেমন- লেবু, জাম্বুরা, কমলা, আনারস ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। কচি ডাবের পানি উপকারী। ভাত ও রুটি এবং চাল ও আটার তৈরি খাবার প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে বেশি খাওয়া যাবে না।
বেশি খাওয়া যাবে বা ইচ্ছামতো খাওয়া যাবে সব রকমের শাকসবজি। হিসাব করে খেতে হবে ভাত, রুটি, চিড়া, মুড়ি, ঘি, বিস্কুট, আলু, বিভিন্ন মিষ্টি ফল ইত্যাদি। পরিহার করতে হবে চিনি, গুড়, মিসরি, রস, শরবত, সফট ড্রিংকস, জুস, সব রকমের মিষ্টি, পায়েস, ক্ষীর, পেস্ট্রি, কেক ইত্যাদি।
বেশি লবণযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। লবণে সংরক্ষিত যেকোনো খাবার। মাখন, ঘি, ডালডা, নারকেল ও বেশি তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত ইত্যাদি। চর্বিযুক্ত মাংস ও এদের তৈরি খাদ্য। ফাস্টফুড যেমন চিকেন ফ্রাই, পিজ্জা, মাংসের তৈরি নাগোট ইত্যাদি। বেকারির খাবার, সফট ড্রিংকস ও এনার্জি ড্রিংকস, ডাই কফি ইত্যাদি, সালাদ লবণ ও সালাদ ড্রেসিং বাদ দিতে হবে।
লাল চালের ভাত ও ভুসিসহ আটার রুটি খাওয়ায় অভ্যস্ত হতে হবে। বেশি আঁশযুক্ত খাদ্য ও টকজাতীয় ফল খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। বিভিন্ন রঙিন সবজি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। ডাল, বাদাম পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। মাছ, চর্বিছাড়া মাংস, চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস, ডিম প্রয়োজনীয় পরিমাণ খেতে হবে।
মাখন, ঘি, ডালডা, ক্রিম সস, নারকেল ও বেশি তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাদ্য। আইসক্রিম, মিষ্টি জাতীয় খাদ্য, বেশি চর্বিযুক্ত মাংস, কলিজা, হাঁস-মুরগির চামড়া ও এদের তৈরি খাদ্য। বেশি লবণযুক্ত বা লবনে সংরক্ষিত যেকোনো খাবার।
উচ্চ শক্তিদায়ক, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত, কম চর্বি বা ফ্যাটযুক্ত খাবার দিতে হবে। জন্ডিসে সব খাবারই খাওয়া যাবে। হজমে সমস্যা হলে নরম ভাত, খিচুড়ি বা পিশপাশ, নরম ও অল্প আঁশযুক্ত সবজি, পেঁপে, আলু ইত্যাদি দেওয়া যায়। এছাড়া সুজি, নরম পুডিং এবং ফলের মধ্যে কলা, পেঁপে, কমলা, আপেল ইত্যাদি দেওয়া যায়।
মাখন, ঘি, চর্বি ও বেশি তৈলাক্ত খাদ্য। ডিপ ফ্রায়েড খাবার যেমন সিঙ্গাড়া, সমুচা, চিকেন ফ্রাই, বেকারির খাবার যেমন পেস্ট্রি ক্রিম কেক; সফট ড্রিংকস ও এনার্জি ড্রিংকস ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।
খাবার ও পানির মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে জীবাণুর সংক্রমণের ফলে ডায়রিয়া হয়। ডায়রিয়া হলে পাতলা মল নির্গত হয়, সাথে জ্বর, বমি বমি ভাব, পেচ ব্যথ্যা ও বমি থাকতে পারে। শিশুরাই আক্রান্ত হয় বেশি। তবে বড়রাও এই রোগে আক্রান্ত হয়।
জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয় তবে এটা লিভারের কোন রোগের লক্ষণ। এই লক্ষণ প্রকাশ পেলে সেই ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটনিযুক্ত এবং কম পরিমাণ ফ্যাটযুক্ত পথ্য দিতে হবে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allকোনো রোগে আক্রান্ত হলে তাড়াতাড়ি সেরে ওঠার জন্য যে বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা হয় তাই পথ্য।
পথ্য রোগের জটিলতা ও তীব্রতা কমিয়ে আনে। রোগের কারণে শরীরের যে সকল পুষ্টি ও শক্তির ক্ষয় হয় তা পূরণে পথ্য সাহায্য করে। পথ্য রোগীকে স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
পুষ্পার তৈরি করা খাবারটি তার শাশুড়ির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পুষ্পার শাশুড়ি ডায়বেটিসে আক্রান্ত। এ রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই গ্লুকোজ মূলত আসে খাবার থেকে। তাই এ রোগে যে খাবারগুলো শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ দ্রুত বাড়িয়ে দেয় সেগুলো পরিহার করতে হয়।
কিন্তু পুষ্পার শাশুড়ি প্রায়ই আবদার করে ক্ষীরের 'পাটিসাপটা পিঠা খাওয়ার জন্য। পুষ্পা তা তৈরিও করে দেন। ক্ষীরের পাটিসাপটা পিঠা মিষ্টি জাতীয় খাবার। এ ধরনের খাবার রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে রোগীকে আরো অসুস্থ করে তোলে। তখন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই পুষ্পার শাশুড়ির ওপর ক্ষীরের পাটিসাপটা পিঠা বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি।
উপযুক্ত পথ্য পুষ্পার শাশুড়ির রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। কারণ পথ্য রোগের জটিলতা ও তীব্রতা কমিয়ে আনে।
পুষ্পার শাশুড়ি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনোভাবেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় না। ডায়াবেটিসের ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে রোগীকে অবশ্যই পথ্যের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
পুষ্পার শাশুড়ি বেশি করে সব রকমের শাকসবজি, ফলের মধ্যে জাম, জামরুল, আমলকী, লেবু ইত্যাদি খেতে পারবে। হিসাব করে ভাত, রুটি, চিড়া, খৈ, মুড়ি, আলু, দুধ, ছানা, পনির, মাছ, মাংস, ডাল, ডিম, বাদাম এবং মিষ্টি ফল যেমন- কলা, পাকা পেঁপে, পাকা আম ইত্যাদি খেতে পারবে। সাদা চাল ও সাদা আটার চেয়ে লাল চালের ভাত ও ভুসিসহ আটার রুটি তার জন্য বেশি উপকারী। তাকে চিনি, গুড়, মিশরির রস, শরবত, সফ্ট ড্রিংকস, জুস, সবরকমের মিষ্টি, পায়েস, ক্ষীর, পেস্ট্রি, কেক ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। এতে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ঠিক থাকবে। এভাবে পথ্য নির্বাচন করলে পুষ্পা তার শাশুড়ির রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।
ডায়রিয়ায় পরিপাকতন্ত্র সরাসরি আক্রান্ত হয়।
ডেঙ্গু জ্বর হলে দেহের তাপমাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়। তখন দেহে পানি ও শক্তির চাহিদা বেড়ে যায়। সেই সাথে দেহে প্রোটিনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ডেঙ্গু জ্বরে ভিটামিন ও খনিজ লবণের চাহিদা বেড়ে যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!