যে প্রক্রিয়ায় দেহকোষস্থ খাদ্য অক্সিজেনের সাহায্যে জারিত হয়ে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে পরিণত হয় তাকে অন্তঃশ্বসন বলে।
নিউমোনিয়া রোগের কারণ ও লক্ষণ নিম্নরূপ-
কারণ: এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে নিউমোনিয়া রোগ হয়।
লক্ষণ:
১. কাশি ও শ্বাস কষ্ট হয়।
২. শ্বাস নেওয়ার সময় নাকের ছিদ্র বড় হয়।
৩. বেশি জ্বর হয়।
৪. কাশির সময় রোগী বুকে ব্যথা অনুভব করে।
শ্বসন জীবের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া। নিচে শ্বসনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হলো-
১. অক্সিজেন সরবরাহ: শ্বসনের মাধ্যমে জীবদেহে অক্সিজেন প্রবেশ করে। এটি কোষের জন্য শক্তি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
২. শক্তি উৎপাদন: কোষে শ্বসনের মাধ্যমে গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। এ শক্তি জীব বিভিন্ন কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করে।
৩. কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন: শ্বসনের মাধ্যমে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ কার্বন ডাইঅক্সাইড দেহ থেকে বের হয়ে যায়।
এগুলো ছাড়াও জীবের কোষীয় কার্যক্রম বজায় রাখা, অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য ঠিক রাখা ইত্যাদির জন্য শ্বসনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
বায়ুথলির কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. বায়ুথলি মজুদ বাতাসের ভান্ডার হিসেবে কাজ করে।
২. বায়ুথলি দেহের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. বায়ুথলি শব্দ সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
৪. অক্সিজেন ফুসফুসের বায়ুথলি থেকে রক্ত জালিকায় প্রবেশ করে।
শ্বসন একটি অন্তঃকোষীয় বিপাক প্রক্রিয়া এবং উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের বিভিন্ন সজীব কোষে শ্বসন প্রক্রিয়াটি মূলত একই। কিন্তু বিভিন্ন জীবের অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন পদ্ধতিটি ভিন্নরূপ। উদ্ভিদদেহে শ্বসনকালে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময় অপেক্ষাকৃত সরল। উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ নাই। পাতার পত্ররন্ধ্র, কান্ডের লেন্টিসেল এবং অন্তঃকোষ স্থানের মাধ্যমে বায়ু দেহ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পানিতে নিমজ্জিত উদ্ভিদগুলো সমগ্র দেহতলের সাহায্যে অক্সিজেন শোষণ করে। প্রাণিদেহেও শ্বসন বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নানাভাবে সম্পন্ন হয়। নিম্ন শ্রেণির প্রাণীতে প্রধানত ত্বক ও ট্রাকিয়ার মাধ্যমে শ্বসন হয়। উন্নত প্রাণীদের শ্বসনে গ্যাসীয় বিনিময়ের জন্য বিশেষ ধরনের শ্বসন অঙ্গ আছে। যেমন- মাছ ও ব্যাঙাচি ফুলকার সাহায্যে এবং স্পলজ মেরুদণ্ডীরা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন সম্পন্ন করে।
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ সঞ্চিত খাদ্য বস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ রাসায়নিক শক্তিকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত করে এবং ফলশ্রুতিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয় তাকে শ্বসন বলে। শ্বসন একটি বিপাকীয় ক্রিয়া। উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রতিটি সজীব কোষে দিন রাত্রি-সব সময় শ্বসনকার্য ঘটে।
অক্সিজেনের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদ দেহে দুই ধরনের শ্বসন দেখা যায়। যথা-
১. সবাত শ্বসন, যা অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ঘটে এবং
২. অবাত শ্বসন, যা অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ঘটে থাকে।
সবাত শ্বসন: অক্সিজেনের উপস্থিতিতে যে শ্বসন সম্পন্ন হয় তাকে সবাত শ্বসন বলে। সকল উন্নত উদ্ভিদে সবাত শ্বসন ঘটে।
অবাত শ্বসন: অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে শ্বসন সম্পন্ন হয় তাকে অবাত শ্বসন বলে। ব্যাকটেরিয়া জাতীয় আদিকোষী জীব দেহে অবাত শ্বসন ঘটে।
সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসনের মধ্যে পার্থক্য হলো-
| সবাত শ্বসন | অবাত শ্বসন |
| ১. অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ঘটে। | ১. অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ঘটে। |
| ২. অধিকাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষে ঘটে। | ২. কিছু অণুজীব, পরজীবী প্রাণী প্রভৃতির ক্ষেত্রে ঘটে। |
| ৩. বেশি শক্তি উৎপন্ন হয়। | ৩. কম শক্তি উৎপন্ন হয়। |
| ৪. সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়া উভয় স্থানে ঘটে থাকে। | ৪. শুধুমাত্র সাইটোপ্লাজমে ঘটে থাকে। |
নিম্ন ও উচ্চ শ্রেণির প্রাণীর দেহে গ্যাসের আদান প্রদান ঘটে বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে। যেমন- ফুলকা ও ফুসফুস। যে অঙ্গগুলো শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একত্রে শ্বসনতন্ত্র বলে।
গলবিল ও শ্বাসনালির সংযোগস্থলে স্বরযন্ত্র অবস্থিত। স্বরযন্ত্রে স্বর সৃষ্টিকারী স্বররজ্জু বা ভোকাল কর্ড থাকে। তাই একে স্বরযন্ত্র বলে।
খাদ্যনালির সম্মুখে অবস্থিত স্বরযন্ত্র থেকে শুরু হয়ে ব্রঙ্কাস বা ক্লোম শাখা পর্যন্ত বিস্তৃত নালিকে শ্বাসনালি বলে। শ্বাসনালির মাধ্যমে বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে।
শ্বাসনালি ফুসফুসের কাছে এসে ডান ও বাম দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যথাক্রমে ডান ও বাম ফুসফুসে প্রবেশ করে। এদেরকে ডান ও বাম ক্লোম শাখা বা ব্রঙ্কাই বা ব্রঙ্কাস বলে। ফুসফুসে প্রবেশ করার পর এই শাখাদ্বয় অসংখ্য শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়। এদেরকে ব্রংকিওল বলে। ব্রঙ্কাইয়ের গঠন শ্বাসনালির মতো।
অ্যালভিওলাস হলো ফুসফুসের মধ্যে অবস্থিত পাতলা এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা আবৃত ও কৈশিক জালিকাসমৃদ্ধ অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকৃতির বুদবুদ সদৃশ্য বায়ুথলি বিশেষ। একে ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত এককও বলা হয়।
যে মাংসপেশি বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরকে পৃথক করে রাখে তাকে মধ্যচ্ছদা বলে। এটা দেখতে অনেকটা প্রসারিত ছাতার মতো। মধ্যচ্ছদা সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাস কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একককে অ্যালভিওলাস বলে। প্রত্যেকটি অ্যালভিওলাস বা বায়ুথলি পাতলা এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। এ কোষগুলো কৈশিক জালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। কোষগুলোতে বায়ু প্রবেশ করলে এগুলো বেলুনের মতো ফুলে উঠে ও পরে আপনা আপনি কুঞ্চিত হয়ে যায়। বায়ুথলি ও কৈশিক জালিকা উভয়ের প্রাচীর এত পাতলা যে, সহজেই এগুলোর মধ্যদিয়ে বায়ু 'আদান প্রদান করতে পারে।
ফুসফুসের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এটি স্পঞ্জের মতো নরম ও কোমল।
২. প্লুরা নামক একটি পর্দা বা ঝিল্লি দ্বারা আবৃত।
যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুসে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু ফুসফুস থেকে বের হয়ে যায় তাকে শ্বাসক্রিয়া বলে। এটি শ্বসনের একটি ধাপ।
শ্বসন প্রক্রিয়া দুই প্রকার। যথা-১. বহিঃশ্বসন ও ২. অন্তঃশ্বসন।
যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুসের মধ্যে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে তাকে বহিঃশ্বসন বলে। এ পর্যায়ে ফুসফুস ও রক্ত জালিকা বা কৈশিক নালির মধ্যে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বিনিময় ঘটে। বহিঃশ্বসন দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। যথা- (১) প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ ও (২) নিঃশ্বাস।
পরিবেশ থেকে আমরা যে অক্সিজেনযুক্ত বায়ু গ্রহণ করি একে শ্বাস গ্রহণ বা প্রশ্বাস বলে। প্রশ্বাসের সময় মধ্যচ্ছদা ও বক্ষপিঞ্জরাস্থির মাঝের পেশি সংকুচিত হয়।
বহিঃশ্বসন ও অন্তঃশ্বসনের মধ্যে পার্থক্য দুটি হলো-
| বহিঃশ্বসন | অন্তঃশ্বসন |
| ১. এটি হলো শ্বাস প্রশ্বাসের একটি প্রক্রিয়া যেখানে শ্বাসনালি ও ফুসফুস থেকে বায়ু বাইরে বের হয়ে আসে। | ১. এটি হলো শ্বাস প্রশ্বাসের অপর প্রক্রিয়া, যেখানে বায়ু ফুসফুসের মধ্যে প্রবাহিত হয়। |
| ২. এই প্রক্রিয়ায় শরীর থেকে অতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ বের হয়। | ২. এই প্রক্রিয়ায় শ্বাসনালির মাধ্যমে অক্সিজেন শরীরে প্রবেশ করে, যা রক্তে মিশে শরীরের কোষে পৌঁছায়। |
শ্বসনের যে পর্যায়ে কোষে খাদ্যবস্তুর জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং রক্ত দ্বারা শ্বসন গ্যাস (O₂ এবং CO₂) পরিবাহিত হয় তাকে অন্তঃশ্বসন বলে। এটি কোষের ভিতরের খাদ্যের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে শক্তি উৎপন্ন করে। এর ফলে তাপশক্তি ও কার্বন-ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়।
যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ। যারা অধিক পরিশ্রম করে, দুর্বল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে এবং অপুষ্টিতে ভোগে বা যক্ষ্মা রোগীর সাথে বাস করে তারা এ রোগের শিকার হয়ে থাকে। এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে।
যক্ষ্মা রোগের দুটি লক্ষণ হলো-
১. এ রোগে দেহের ওজন কমতে থাকে ও শরীর দুর্বল হতে থাকে।
২. খুসখুসে কাশি হয়, কখনো কখনো কাশির সাথে রক্ত পড়তে পারে।
যক্ষ্মারোগ নিম্নলিখিত উপায়ে প্রতিকার করা যায়-
১. রোগীকে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।
২. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী, সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না।
যক্ষ্মা রোগ হলে নিম্নলিখিত উপায়ে প্রতিরোধ করা যেতে পারে-
১. জন্মের পর থেকে এক বছরের মধ্যে শিশুকে বি.সি.জি টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. রোগীর কফ-থুতু মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
৩. হাঁচি-কাশির সময় মুখ রুমাল দিয়ে ঢেকে নিতে হবে।
৪. যক্ষ্মা রোগীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
আমরা জানি, সংক্রামক রোগ হলো সেই সব রোগ, যা একজন থেকে আরেক জনের শরীরে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। যক্ষ্মা একটি অতি পরিচিত বায়ু বাহিত সংক্রামক রোগ। এ রোগ সহজে যক্ষ্মা আক্রান্ত কোনো রোগীর সংস্পর্শে থাকলে অতি দ্রুত তার শরীরে সংক্রমিত হয়। এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে।
নিউমোনিয়া রোগ থেকে নিম্নলিখিত উপায়ে প্রতিকার পাওয়া যায়-
১. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে ঔষধ ও পথ্য খাওয়াতে হবে।
২. বেশি করে পানি ও তরল পদার্থ (স্যুপ, ফলের রস) খেতে দিতে হবে।
৩. রোগীকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে।
শ্বাসনালির সংক্রমণকে ব্রংকাইটিস বলে। সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ব্রংকাইটিস হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ধূলাবালি মিশ্রিত আবহাওয়া, ঠান্ডা লাগা এবং ধূমপান থেকে এ রোগ হতে পারে।
ব্রংকাইটিস হলে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়-
১. কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
২. কাশির সাথে কফ থাকে।
৩. জ্বর হয়।
৪. রোগী ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে থাকে।
ব্রংকাইটিস রোগ নিম্নলিখিত উপায়ে প্রতিকার করা যায়-
১. ধূমপান বন্ধ করে।
২. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
হাঁপানি ছোঁয়াচে বা জীবাণুবাহিত রোগ নয়। কারণ হাঁপানি মূলত শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত একটি রোগ। শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ হলে শ্বাসনালি ফুলে যায়। বিশেষ কোনো খাবার, বাতাসে উপস্থিত ধূলাবালি, অথবা ফুলের রেণু প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করলে হাঁপানি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণ সর্দি থেকে হাঁপানি হতে পারে।
হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগের চারটি লক্ষণ হলো-
১. কাশি, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হয়।
২. কাশির সময় বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করে।
৩. শক্ত খাবার খেতে পারে না।
৪. কখনো কখনো বমি হয়, রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিভিন্ন উপায়ে অ্যাজমা রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। যেমন-
১. আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা।
২. ধূমপান পরিহার করা।
৩. ধোঁয়া, ধূলাবালি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা।
৪. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলা।
হাঁপানি পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয়, তবে এটি নিয়ন্ত্রণ যোগ্য। চিকিৎসা, ইনহেলার বা ওষুধের মাধ্যমে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ফলে রোগীর জীবনমান উন্নত হয়।
হাঁপানি রোগীদের জন্য শীতল বা শুষ্ক আবহাওয়া উপকারী। অতিরিক্ত গরম, আর্দ্রতা এবং দূষিত বায়ু তাদের শ্বাসকষ্ট বাড়াতে পারে।
হাঁপানি সাধারণত জিনগত এবং পরিবেশগত কারণে হতে পারে। এর কারণগুলো হলো-
১. অ্যালার্জি, ২. বায়ু দূষণ, ৩. ধূমপান, ৪. আবহাওয়া পরিবর্তন ও ৫. শ্বাসনালির সংক্রমণ।
নিউমোনিয়া সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস থেকে বের হওয়া বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন- কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময়। এছাড়া সংক্রমিত পৃষ্ঠ বা বস্তুতেও জীবাণু থাকতে পারে, যা আক্রান্ত ব্যক্তি স্পর্শ করার মাধ্যমেও নিউমোনিয়া ছড়াতে পারে।
নিউমোনিয়া বিভিন্নভাবে প্রতিরোধ করা যায়। যেমন-
১. শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে।
২. হাত নিয়মিত ধুতে হবে।
৩. ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে।
৪. ধূমপান পরিহার করতে হবে।
নিউমোনিয়া রোগীর জন্য পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার (যেমন- ফল, শাকসবজি, পুষ্টিকর স্যুপ ইত্যাদি) শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই তাজা ফলমূল, স্যুপ, পানি এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।
যক্ষ্মার প্রতিষেধক টিকা হলো বি.সি.জি (BCG)। জন্মের পর থেকে এক বছরের মধ্যে শিশুদের এই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাই জন্মের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে এই টিকা দেওয়া উচিত।
যক্ষ্মা মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা সর্দি থেকে বাতাসে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়লে অন্যরা তা শ্বাসে টেনে নেয়। এটি বাতাসে সংক্রামিত হওয়ার মাধ্যমে ছড়ায়।
অক্সিজেন দ্বারা খাদ্য জারিত হয়ে শক্তি নির্গত হওয়াই দহন প্রক্রিয়া।
স্টোমাটা হলো পাতায় অবস্থিত এক প্রকার ছিদ্র পথ।
পত্ররন্দ্রের যে কোষগুলো পত্ররন্ধ্রকে খোলা বা বন্ধ রাখতে সাহায্য করে তাকে রক্ষীকোষ বলে।
শ্বসন প্রক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- বহিঃশ্বসন ও অন্তঃশ্বসন।
গলবিল ও শ্বাসনালীর সংযোগস্থলে স্বরযন্ত্র অবস্থিত।
স্বরযন্ত্রে স্বর সৃষ্টিকারী স্বররজুই হলো ভোকাল কর্ড।
বক্ষ গহ্বরের ভেতর দুটি ফুসফুস হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত।
মুরা হলো দুই ভাজবিশিষ্ট একটি ঝিল্লি বা পর্দা, যা ফুসফুসকে আবৃত করে রাখে।
ফুসফুস আবৃতকারী পর্দার নাম প্লুরা।
বক্ষগহ্বরের ভেতর স্পঞ্জের মতো নরম ও কোমল অংশকে ফুসফুস বলে।
যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুসের মধ্যে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে তাকে বহিঃশ্বসন বলে।
অবিরত অক্সিজেন নেওয়া এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিত্যাগ করাই হলো শ্বাসক্রিয়া।
বায়ুথলি পাতলা এ্যাপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত।
যক্ষ্মা একটি অতি পরিচিত সংক্রামক রোগ।
যক্ষ্মা প্রতিষেধক টিকার নাম হলো বি.সি.জি।
জীবের জন্য শ্বসনের প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ-
১. জীবের দেহে শক্তি সরবরাহ করতে,
২. খাদ্য প্রস্তুত করতে,
৩. বায়ুমণ্ডলে O2 ও CO2 এর ভারসাম্য রক্ষায়,
৪. গ্যাসের বিনিময়ে,
৫. পানির সাম্যতা বজায় রাখতে,
৬. শক্তি উৎপাদনে।
মানব শ্বসনতন্ত্র নিম্নলিখিত অঙ্গগুলো নিয়ে গঠিত-
১. নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ,
২. নাসা গলবিল,
৩. স্বরযন্ত্র,
৪. শ্বাসনালী বা ট্রাকিয়া,
৫. ক্লোম শাখা বা ব্রঙ্কাস,
৬. অনুক্লোম শাখা বা ব্রঙ্কিওল এবং
৭. বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাস।
ফুসফুসের চারদিকে একটি পাতলা, স্বচ্ছ, দুই ভাঁজবিশিষ্ট ঝিল্লিকে প্লুরা বলে। দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার পিচ্ছিল পদার্থ থাকে। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস কাজে, ফুসফুস ও বক্ষগাত্রের সাথে কোনো ঘর্ষণ লাগে না।
ফুসফুসের বায়ুথলি থেকে অক্সিজেন কৈশিক নালীর রক্তে প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড রক্ত থেকে বায়ুথলিতে আসে। ফুসফুসের এ গ্যাসীয় আদান-প্রদানকে বহিঃশ্বসন বলে।
প্রশ্বাসের পরপরই নিঃশ্বাস পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে মধ্যচ্ছদা ও. পিঞ্জরাস্থির পেশিগুলো শিথিল ও প্রসারিত হয় এবং ফুসফুস আয়তনে ছোট ও সংকুচিত হয়। ফলে বায়ুথলির ভিতরের বায়ু, কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ফুসফুস থেকে ব্রঙ্কাস ও ট্রাকিয়ার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে নাসারন্ধ্র দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।
কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতর কতকগুলো এনজাইমের নিয়ন্ত্রণাধীন খাদ্যের সাথে অক্সিজেনের বিক্রিয়া ঘটে। এভাবে অন্তঃশ্বসনের ক্রিয়া ঘটে। তাই বলা যায় অন্তঃশ্বসন কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে ঘটে।
জন্মের পর এক বছরের মধ্যে শিশুকে যক্ষ্মা প্রতিষেধক বি.সি.জি. টিকা দিতে হবে। কারণ যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ। এ রোগ সহজেই শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে। এ কারণে জন্মের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে রোগীর কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় নাকের ছিদ্র বড় হয়। বেশি জ্বর হয়। কাশির সময় রোগী বুকে ব্যথা অনুভব করে। নিউমোনিয়া রোগে প্রতিবছর অনেক শিশু মারা যায়। তাই এটি একটি মারাত্মক রোগ।
নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ। অতিরিক্ত ঠান্ডায় নিউমোনিয়া রোগ হতে পারে। এ রোগে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় নাকের ছিদ্র বড় হয়। বেশি জ্বর হয় কাশির সময় রোগী ব্যথা অনুভব করে। এসব কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
শ্বাসনালীর সংক্রমণকে ব্রঙ্কাইটিস বলে। এর প্রধান কারণ ধূমপান তাই ব্রঙ্কাইটিস হলে ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
Related Question
View Allপুরা হলো দুই ভাজবিশিষ্ট একটি ঝিল্লি বা পর্দা, যা ফুসফুসকে আবৃত করে রাখে।
নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে রোগীর কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় নাকের ছিদ্র বড় হয়। বেশি জ্বর হয়। কাশির সময় রোগী বুকে ব্যথা অনুভব করে। নিউমোনিয়া রোগে প্রতিবছর অনেক শিশু মারা যায়। তাই এটি একটি মারাত্মক রোগ।
উদ্দীপকের চিত্রে সংঘটিত প্রক্রিয়াটি হলো বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়া।
বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়ায় ফুসফুসের মধ্যে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে। এ পর্যায়ে ফুসফুস ও রক্তজালিকা বা কৈশিক নালির মধ্যে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময় ঘটে। বহিঃশ্বসন দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। যথা-
১. প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ: পরিবেশ থেকে আমরা যে অক্সিজেনযুক্ত বায়ু গ্রহণ করি একে শ্বাস গ্রহণ বা প্রশ্বাস বলে। প্রশ্বাসের সময় মধ্যচ্ছদা ও বক্ষপিঞ্জরাস্থির মাঝের পেশি সংকুচিত হয়।
২. নিঃশ্বাস: প্রশ্বাসের পর পরই নিঃশ্বাস পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে মধ্যচ্ছদা ও পিঞ্জরাস্থির পেশিগুলো শিথিল ও প্রসারিত হয় বলে ফুসফুস আয়তনে ছোট ও সংকুচিত হয়। ফলে বায়ুথলির ভেতরের বায়ু, কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ফুসফুস থেকে ব্রঙ্কাস, ট্রাকিয়ার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে নাসারন্ধ্র দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।
উদ্দীপকের চিত্রের F উপাদানটি অর্থাৎ বাতাসে উপস্থিত ধুলাবালি E অংশে, অর্থাৎ ফুসফুসে প্রবেশের ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন- শ্বাসনালীর সংক্রমণে ব্রংকাইটিস হয়। বাতাসে উপস্থিত ধুলাবালি প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করলে হাঁপানি হতে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত সর্দি থেকে হাঁপানি হতে পারে। উক্ত সমস্যাগুলো প্রতিরোধের জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে হবে-
১. আলো ও বিশুদ্ধ বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করতে হবে।
২. যেসব জিনিসের সংস্পর্শে আসলে বা খেলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন- পশমি কাপড়।
৩. ধোঁয়া, ধুলাবালি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে।
৪. ধূমপান পরিহার করতে হবে।
৫. বেশি করে পানি ও তরল পদার্থ পান করতে হবে।
৬. বাহিরে চলাফেরার সময় অবশ্যই মুখে রুমাল বা মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ খাদ্যবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ রাসায়নিক শক্তিকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয় তাই শ্বসন।
উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ নেই। পাতার পত্ররন্ধ্র, কান্ডের লেন্টিসেল এবং অন্তঃকোষের মাধ্যমে বায়ু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পত্ররন্দ্রের রক্ষীকোষগুলো পত্ররন্দ্রকে খোলা ও বন্ধ রাখতে সাহায্য করে। খোলা পত্ররন্দ্র দিয়ে বাতাস, O2 ও CO2 গ্যাস চলাচল করে। আর এ গ্যাস চলাচলের মাধ্যমেই পত্ররন্ধ্র শ্বসনে সহায়তা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!