জীবের জীবনীশক্তি যোগান দেয় পরিপোষক
পুষ্টির ইংরেজি শব্দ Nutrition
খাদ্যের উপাদান ৬ টি?
খাদ্যের মুখ্য উপাদান ৩টি
শক্তি উৎপাদক খাদ্য উপাদান শর্করা
দেহ গঠনের খাদ্য আমিষ।
দেহ গঠনমূলক একটি খাদ্যের নাম আলু।
দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান ৩ টি।
মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা।
কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে গঠিত খাদ্য উপাদান শর্করা।
দানা শস্যে স্টার্চ বা শ্বেতসার ধরনের শর্করা বিদ্যমান।
Fruit sugar বলা হয় ফ্রুকটোজকে।
সরিষা ফুলের মধুতে ফ্রুক্টোজ থাকে।
দুধের শর্করাকে ল্যাকটোজ বলা হয়।
অধিক পরিশ্রমের সময় প্রাণিদেহে শক্তি সরবরাহ করে গ্লাইকোজেন।
এক গ্রাম খাদ্য জারণের ফলে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয় তাকে খাদ্যের ক্যালরি বলে।
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ২৫০০ kcal পরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
১ g শর্করা থেকে ৮ kcal শক্তি পাওয়া যায়।
শরীরে আমিষ পরিপাক হয়ে অ্যামাইনো এসিড যৌগে পরিণত হয়।
অ্যামাইনো এসিডকে আমিষ গঠনের একক বলা হয়।
অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড ৮ টি
রক্তরসে খাদ্যসার হিসেবে উপস্থিত থাকে অ্যামিনো এসিড
উৎপত্তিগতভাবে আমিষ দুই প্রকার।
মানবদেহে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড রয়েছে ।
অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড ৮টি।
প্রাণিদেহের শুষ্ক ওজনের শতকরা ৫০ ভাগ প্রোটিন।
প্রাণিদেহের গঠনের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য।
ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে গঠিত স্নেহ পদার্থ।
কঠিন স্নেহ পদার্থকে চর্বি বলে।
লিপিড পদার্থটি ভবিষ্যতের জন্য খাদ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে।
প্রাণিদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও শরীর সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন।
ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাকসবজিতে ভিটামিন A পাওয়া যায়।
পুদিনা পাতায় ভিটামিন A বিদ্যমান ।
তেলসমৃদ্ধ মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A থাকে।
ভিটামিন A চোখের কর্নিয়া স্বাভাবিক ও সজীব রাখতে সাহায্য করে
ভিটামিন A অভাবে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে।
কর্নিয়া আলসার রোগের অপর নাম জের্যালমিয়া.
শুধুমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকে ভিটামিন D পাওয়া যায়।
ভিটামিন D শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে ।
শিশুদের রিকেট হতে পারে ভিটামিন D অভাবে।
ভিটামিন- D এর আধিক্যের কারণে কিডনি ও ধমনিতে ক্যালসিয়াম জমা হতে পারে।
ভিটামিন E এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
ভিটামিন ই প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব দূর করতে সহায়তা করে।
পাম তেল ভিটামিন ই এর উত্তম উৎস ।
পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন B ১২ টি।
রাইবোফ্ল্যাভিন অভাবে তীব্র আলোতে চোখ খুলতে অসুবিধা হয় ।
বেরিবেরি রোগের কারণ থায়ামিন।
ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয় পেলেগ্রা অভাবে।
পেলেগ্রা রোগের ফলে ত্বকে রঞ্জক পদার্থ, জমতে শুরু
করে
নিয়াসিন অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়।
ভিটামিন বি ,র অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ হতে পারে।
কোবালামিন ভিটামিনের অভাবে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়
টাটকা শাকসবজি ও টাটকা ফলে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
ভিটামিন C অভাবে স্কার্ভি রোগ হয় ।
প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ ৫০ gm ।
হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে লৌহ (Fe) ।
হিমোগ্লোবিন
আমাদের দেহে ক্যালসিয়াম (Ca) খনিজ পদার্থের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
প্রাণীদের হাড়ের প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম (Ca)।
মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা ২ ভাগ ক্যালসিয়াম।
হৎপিন্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে ক্যালসিয়াম।
দাঁতের গঠন শক্ত রাখার জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান ক্যালসিয়াম (Ca।
ক্যালসিয়াম (Ca) এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়।
আমাদের দৈহিক ওজনের ৫০%-৭৫% পানি।
পানি ব্যতীত শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া অসম্ভব ।
পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে ।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পরিমাণ পানি পান করা উচিত।
শরীর থেকে ১০% পানি কমে গেলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
রাফেজ অর্থ আঁশযুক্ত খাবার।
রাফেজের উৎস উদ্ভিদ।
রাফেজের মূল উপাদান সেলুলোজ।
রাফেজ পরিপাকে সহায়তা করে।
দৈনিক ২০-৩০ গ্রাম পরিমাণ আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
মানুষের দৈহিক বৃদ্ধি ২০-২৪ বছর বছর বয়স পর্যন্ত ঘটে।
দেহের উচ্চতার সাথে ওজনের সামঞ্জস্য রক্ষা করার সূচককে বি এম আই বলে।
একজন পূর্ণবয়সের শারীরিক পরিশ্রম করা মানুষের দৈহিক ২০০০-২৫০০ কিলোক্যালরি খাবার গ্রহণ করা উচিত।
একজনের দেহের ওজন ৮০ কেজি এবং উচ্চতা ১.৮ মিটার হলে তার বিএমআই ২৪.৭।
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের জন্য দৈনিক ২৫০০ কিলোক্যালরি পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন।
একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর জন্য দৈনিক ২০০০ কিলোক্যালরি পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন।
আমাদের খাদ্য তালিকায় শর্করা জাতীয় খাদ্য সবচেয়ে বেশি থাকে।
খাদ্য পিরামিডের স্নেহ খাদ্য সবচেয়ে কম পরিমাণে খেতে হয়।
সুষম খাদ্য তালিকায় শর্করা উপাদানটি সর্বাধিক থাকে ।
খাদ্য পিরামিডের সবচেয়ে উপরের স্তরে পনির থাকে।
সুষম খাদ্য পিরামিডের তালিকায় শর্করা ধরনের খাদ্য সবচেয়ে বেশি থাকে।
খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী পুষ্টি বিশারদগণ খাবারকে ৪ টি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
রাতের খাবার সহজপাচ্য হওয়া উচিত।
রাতে আমিষ ধরনের খাবার কম খাওয়া ভালো।
যে খাবার স্বাস্থ্যগত উপাদানের পরিবর্তে মুখরোচক স্বাদের জন্য তৈরি করা হয় তাকে ফাস্টফুড বলে।
ফাস্টফুডকে সুস্বাদু করার জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় ।
ফাস্টফুডে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রাণিজ চর্বি ও চিনি থাকে।
জীবাণু ও ছত্রাক এর ফলে খাদ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে ব্যাকটেরিয়া।
টক্সিন দ্বারা আক্রান্ত হওয়াকে ফুড পয়জনিং বলা হয়।
খাদ্য সংরক্ষণের সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতি শুষ্ককরণ ।
এসিটিক এসিডের ৫% দ্রবণকে ভিনেগার বলে।
সোডিয়াম বেনজয়েট বেনজয়িক এসিড এর লবণ।
ফলের রস, ফলের শাঁস ইত্যাদি সংরক্ষণের জন্য সোডিয়াম বেনজয়েট বেশি উপযোগী ।
লবণের দ্রবণকে ব্রাইন বলে।
চিনি প্রয়োগ করে ফলের জ্যাম জেলি ও মারমালেড তৈরি করা হয়।
ফল দ্রুত পাকাতে ইথিলিন ব্যবহৃত হয়।
ফল যাতে দ্রুত না পাকে এজন্য কালটার ব্যবহৃত হয়।
কালটার হরমোন জাতীয় পদার্থ।
তামাকে নিকোটিন নেশাজাতীয় পদার্থ থাকে।
আমাদের সমাজের পরিচিত মাদক ধূমপান।
ফুসফুসে ক্যান্সারের রোগী ৫ বছরের মধ্যে মারা যায়।
ড্রাগকে সাধারণ ভাষায় মাদক বলা হয়।
হেরোইন মারাত্মক ধরনের ড্রাগ।
এইডস সংক্রামক রোগ।
সর্বপ্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয়।
সারা বিশ্বে মরণব্যাধি হিসেবে পরিচিত রোগ AIDS ।
HIV ভাইরাস রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা উপাদানকে আক্রমণ করে ।
দেহের রোগ জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে ইমিউনিটি বলে।
AIDS রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় ।
AIDS রোগের জন্য দায়ী জীবাণুর নাম HIV
HIV ভাইরাস সংক্রমণের ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না?
দৈনিক ব্যায়াম করার মাধ্যমে শরীরের পরিপাক ক্ষমতা বাড়ে।
ঘুম শ্রেষ্ঠ বিশ্রাম।
দেহ-মনকে সুস্থ ও সতেজ রাখার জন্য দৈনিক ৬ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন ।
শিশুদের জন্য ১০-১২ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন ।
পুষ্টিবিজ্ঞান অনুসারে আমরা যা খাই তার সবই কিন্তু খাদ্য নয়। শুধু সেই সব আহার্য বন্ধুকেই খাদ্য বলা যাবে, যেগুলো জীবদেহে বৃদ্ধিসাধন, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষয়পূরণ করে, এক কথায় দেহের পুষ্টিসাধন করে। পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় - খাদ্যবন্ধু আহরণ করে তা পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ, রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা।
খাদ্যের প্রধান তিনটি কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে।
২. দেহে তাপ উৎপাদন করে, কর্মশক্তি প্রদান করে।
৩. রোগ প্রতিরোধ করে, দেহকে সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম রাখে।
তিনটি পরিপোষকের নাম হলো-
১. গ্লুকোজ
, ২. খনিজ লবণ ও ৩. ভিটামিন।
আত্তীকরণ হলো একটি জীবের পৃষ্টির অংশ হিসেবে খাদ্য থেকে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং অন্যান্য রাসায়নিক শোষণের প্রক্রিয়া।
খাদ্যের উপাদান ছয়টি। এগুলো হলো: শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি। স্নেহ এবং শর্করাকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য এবং আমিষযুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য, যদিও এর বাইরেও এসব উপাদানের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানি ও আঁশ দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান, যেগুলো দেহের অন্যান্য কাজে লাগে ।

খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে অন্যতম হলো শর্করা, যা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। শর্করা আমাদের শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্যদানা শর্করার প্রধান উৎস।
শর্করার দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
২. কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে গঠিত।
দুইটি উদ্ভিজ্জ শর্করা হচ্ছে-
১. শ্বেত সার বা স্টার্চ, ২. সেলুলোজ।
উৎসসহ দুইটি প্রাণিজ শর্করার নাম লিখ।
দুইটি প্রাণিজ শর্করা হচ্ছে ল্যাকটোজ এবং গ্লাইকোজেন। ল্যাকটোজ হলো দুধ শর্করা যা গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে থাকে। আর গ্লাইকোজেন পশু ও পাখিজাতীয় প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে থাকে।
ফ্রুক্টোজ পাওয়া যায় এমন দুইটি ফল হচ্ছে- ১. আম ও ২. কলা।
ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু বা কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
দুধ শর্করা হলো ল্যাকটোজ যা শর্করার একটি প্রাণিজ উৎস।
গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে।
শর্করা মানুষের প্রধান খাদ্য। শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয় সেটি শর্করাজাতীয় খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়। এছাড়াও প্রাণিদেহে খাদ্যঘাটতি বা অধিক পরিশ্রমের সময় গ্লাইকোজেন শর্করা শক্তি সরবরাহ করে।
শর্করা দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। কিন্তু খাদ্যে শর্করার পরিমাণ চাহিদার তুলনায় বেশি হলে অতিরিক্ত শর্করা শরীরে মেদ হিসেবে জমা হয়। তখন শরীর স্থূলকায় হতে পারে, কখনো কখনো বহুমূত্র রোগও দেখা দিতে পারে।
আমিষের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং সালফার সমন্বয়ে গঠিত।
২. আমিষ পরিপাক হওয়ার পর অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
উদ্ভিজ্জ আমিষের দুইটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না।
২. এদের পুষ্টিমূল্য কম।
মানবদেহে বিদ্যমান ২০টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮টি হলো অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড। এই আটটি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীর সংশ্লেষ করতে পারে। প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিডের সংখ্যা ৮টি। এগুলো হলো লাইসিন, ট্রিপটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও প্রিওনাইন।
আমিষ একটি অতি প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান। শরীরে আমিষ ∎ পরিপাক হওয়ার পর অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। এজন্য একটি নির্দিষ্ট আমিষের পরিচয় হয় অ্যামাইনো এসিড দিয়ে। মানুষের শরীরে - এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে, - যেগুলো আমিষ গঠনের একক।
উৎসের দিক বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার- প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ। প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি হলো প্রাণিজ আমিষ। অন্যদিকে উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি হচ্ছে উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ।
আমরা আমিষ জাতীয় খাদ্য খাই কারণ- প্রাণিদেহের গঠনে আমিষ অপরিহার্য। প্রাণিদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% আমিষ। কোষের গঠন এবং কার্যাবলি আমিষের সাহায্যেই নিয়ন্ত্রিত হয়। দেহের অস্থি, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং প্রভৃতি আমিষ দিয়ে তৈরি হয়।
প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। দেহকোষের বেশিরভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং ইত্যাদি প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। এছাড়াও প্রাণিদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। এসব কারণেই প্রোটিনকে দেহের গঠনমূলক উপাদান বলা হয়।
তেল হচ্ছে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড, যা সাধারণ তাপমাত্রায় ও চাপে তরল অবস্থায় থাকে। যেমন- সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি।
| প্রোটিন | লিপিড |
| ১. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং সালফার সমন্বয়ে গঠিত | ১. ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারল সমন্বয়ে গঠিত। |
| ২. দেহ গঠনকারী খাদ্য উপাদান। | ২. তাপশক্তি প্রদানকারী খাদ্য উপাদান। |
যে সকল ফ্যাটি এসিড সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায়' থাকে তাকে সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড বলা হয়। যেমন- মাছ কিংবা মাংসের চর্বি।
উৎস অনুযায়ী স্নেহ পদার্থ দুই প্রকার। যেমন- প্রাণিজ স্নেহ ও উদ্ভিজ্জ স্নেহ। তন্মধ্যে চর্বিসহ মাংস, মাখন, ঘি, পনির, ডিমের কুসুম ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহ পদার্থের উৎস। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রকারের তেল উদ্ভিজ্জ স্নেহ পদার্থের উৎস। সরিষা, সয়াবিন, তিল, তিসি, ভুট্টা, নারকেল, সূর্যমুখী, পাম প্রভৃতির তেলে প্রচুর পরিমাণে স্নেহ পদার্থ পাওয়া যায়।
| তেল | চর্বি |
| ১. সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে তরল অবস্থায় থাকে | ১. সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে কঠিন অবস্থায় থাকে। |
| ২. তেল অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড। | ২. চর্বি সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড। |
স্নেহ পদার্থের তিনটি কাজ নিম্নরূপ:
১. খাদ্যবস্তুর মধ্যে স্নেহ পদার্থ সবচেয়ে বেশি তাপ এবং অন্যান্য-প্রকার শক্তি উৎপন্ন করে।
২. স্নেহ পদার্থ দেহ থেকে তাপের অপচয় বন্ধ করে এবং ভবিষ্যতের জন্য খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে।
৩. ত্বকের মসৃণতা এবং সজীবতা বজায় রাখে এবং চর্মরোগ প্রতিরোধ করে
স্নেহ পদার্থের অভাবে ত্বক শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে সৌন্দর্য নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন স্নেহ পদার্থের অভাব হলে শরীরে সঞ্চিত প্রোটিন ক্ষয় হয় এবং দেহের ওজন কমে যায়। আবার শরীরে অতিরিক্ত স্নেহ পদার্থ জমা হলে দেহের রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। মেদবহুল দেহে সহজে রোগ আক্রমণ করে।
স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হচ্ছে- ভিটামিন A, ভিটামিন D, ভিটামিন E ও ভিটামিন KI
প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃৎ ও বিভিন্ন তেলসমূদ্ধ মাছে বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়। উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি যেমন- লালশাক, পুঁইশাক, কচুশাক, কলমি শাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন- আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A রয়েছে।
ভিটামিন A দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে। দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন- ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সতেজ রাখে। হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতকে সুস্থ রাখে। দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। এসব কারণে ভিটামিন A জাতীয় খাদ্য গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
ভিটামিন A-এর অভাবে জেরোদ্ধ্যালমিয়া রোগ হয়। শুরুতে রাতকানা হিসেবে দেখা দিলেও এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের আলসার হতে পারে। এই রোগ হলে আক্রান্ত মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। ভিটামিন A-এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, প্রস্রাবের সমস্যা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। এছাড়াও ভিটামিন A-এর অভাবে ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে।
ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে। এতে ব্যক্তি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়।
তাই অন্ধত্ব প্রতিরোধে ভিটামিন এ জরুরি।
ভিটামিন A ও ভিটামিন C এর মধ্যে ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
| ভিটামিন A | ভিটামিন C |
| ১. স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন। | ১. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। |
| ২. এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। | ২.. এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। |
একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন D পাওয়া যায়। যেমন- ডিমের কুসুম, দুধ, মাখন, যকৃৎ, মাছের তেল প্রভৃতি। দৈনিক চাহিদা থেকে অধিক পরিমাণে ভিটামিন D গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে বৃক্ক, হৃৎপিণ্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে।
ভিটামিন E-এর চারটি উৎসের নাম হলো-
১. শস্যদানার তেল,
২. সূর্যমুখী বীজের তেল ও
৩. তুলা বীজের তেল,
৪. লেটুস পাতা
মানবদেহে ভিটামিন E এর দুটি ভূমিকা হলো-
১. ভিটামিন E ধমনিতে চর্বি জমা রোধ করে।
২. এটি সুস্থ ত্বক বজায় রাখে।
পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিন B রয়েছে। ভিটামিনের এই গুচ্ছকে ভিটামিন B কমপ্লেক্স বলা হয়। দেহের স্বাভাবিক সুস্থতায় ভিটামিন B কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও দেহের বৃদ্ধি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ, দেহকোষে বিপাকীয় কাজ, প্রজনন ইত্যাদি সম্পন্ন করার জন্য খাদ্যে ভিটামিন B কমপ্লেক্সের উপস্থিতি অতি আবশ্যক।
ভিটামিন BI এর অপর নাম থায়ামিন। থায়ামিনের দুটি উদ্ভিজ্জ উৎস হলো- ১. ঢেঁকিছাঁটা চাল ও ২. আটা এবং প্রাণিজ উৎস হলো- ১. যকৃৎ ও ২. ডিম।
ভিটামিন B2 বা রাইবোফ্ল্যাভিনের অভাবজনিত দুটি লক্ষণ হলো-
১. ঠোঁটের দু'পাশে ফাটল দেখা দেয়।
২. মুখ ও জিভে ঘা হয়।
দেহে থায়ামিনের (BI) চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এছাড়াও এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিডের (B5) অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। পেলেগ্রা রোগের প্রধান উপসর্গ হলো ত্বকে প্রদাহ, ডায়রিয়া এবং স্মৃতিভ্রংশ হওয়া।
ভিটামিন 'B' কমপ্লেক্সভুক্ত রাইবোফ্ল্যাভিন (B2) ভিটামিনটির অভাবে মুখের কোনায় ঘা হয়। যকৃৎ, দুধ, ডিম, সবুজ শাক-সবজি, গাছের কচি ডগা, অঙ্কুরিত বীজ ইত্যাদি হচ্ছে B2 এর উৎস।
পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিনের গুচ্ছকে ভিটামিন B কমপ্লেক্স বলে। দেহের বৃদ্ধি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ, দেহকোষে বিপাকীয় কাজ, প্রজনন ইত্যাদি কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পাদন না হলে দেহের স্বাভাবিক সুস্থতা বজায় থাকে না। ভিটামিন B কমপ্লেক্স দেহের এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেহের স্বাভাবিক সুস্থতা বজায় রাখে। তাই দেহের স্বাভাবিক সুস্থতার জন্য ভিটামিন B কমপ্লেক্স অতি আবশ্যক।
ভিটামিন B12 এর নাম হলো কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন। এর অভাবে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় ঘটে।
টাটকা শাকসবজি এবং টাটকা ফলে ভিটামিন C পাওয়া যায়। শাক-সবজির মধ্যে মুলাশাক, লেটুস পাতা, ধনে পাতা, পুদিনা পাতা, কাঁচা মরিচ, ফুলকপি, করলা ইত্যাদিতে ভিটামিন C আছে। ফলের মধ্যে আমলকী, লেবু, কমলালেবু, টমেটো, আনারস, পেয়ারা ইত্যাদি ভিটামিন C-এর উৎস।
প্রতিদিন ভিটামিন 'সি' খাওয়া প্রয়োজন। কারণ এটি দাঁতের গোড়া বা মাড়ি এবং দাঁতকে শক্ত রাখে, শরীরের ক্ষত পুনর্গঠন করে, স্নেহ আমিষ ও অ্যামাইনো এসিডের বিপাকে সাহায্য করে। এছাড়া ত্বক মসৃণ রাখে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ করে।
ভিটামিন সি এর তীব্র অভাবে স্কার্ভি নামক রোগ হয়ে থাকে। এ সময় রোগীর ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে এর অভাব পূরণ হয়। যেহেতু আমলকী ভিটামিন সি এর উৎস, তাই আমলকিকে স্কার্ভি রোগের প্রতিরোধক বলা হয়।
ভিটামিন C শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি ত্বক, হাড়, দাঁত ইত্যাদির কোষসমূহকে পরস্পরের সাথে জোড়া লাগিয়ে মজবুত গাঁথুনি তৈরি করে। শরীরের ক্ষত পুনর্গঠনের কাজে সাহায্য করে, দাঁত ও মাড়ি শক্ত রাখে, ত্বক মসৃণ এবং উজ্জ্বল রাখে। এছাড়া স্নেহ, আমিষ ও অ্যামাইনো এসিডের বিপাকীয় কাজে ভিটামিন C গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন C এর অভাবে সৃষ্ট দুটি সমস্যা হলো-
১. অস্থির গঠন শক্ত ও মজবুত হতে পারে না।
২. দাঁতের এনামেল উঠে যায়।
স্কার্ভি হলো দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া। ভিটামিন C এর তীব্র অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। যেহেতু কমলালেবু একটি ভিটামিন C জাতীয় খাদ্য তাই স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে এটি খাওয়া উচিত।
লৌহ রক্তের একটি উপাদান। মানবদেহের যকৃৎ, প্লীহা, অস্থিমজ্জা এবং লাল রক্তকোষে লৌহ সঞ্চিত থাকে।
লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি। প্রাণিজ উৎস হচ্ছে মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি।
রক্তশূন্যতা রোগের দুটি লক্ষণ হলো –
১. চোখ ফ্যাকাশে হওয়া।
২. পা ফোলা।
লৌহের প্রধান কাজ হলো হিমোগ্লোবিন গঠন করা। লোহিত রক্তকণিকার প্রধান উপাদানের হিমোগ্লোবিনের হিম অংশটি লৌহ গঠিত। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে অর্থাৎ লৌহের অভাব হলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
লৌহ রক্তের একটি প্রধান উপাদান। খাদ্যের মাধ্যমে দেহে লৌহের চাহিদা পূরণ হয়। যদি খাদ্যে লৌহের ঘাটতি থাকে তবে রক্তের হিমোগ্লোবিনের গঠন ব্যাহত হয়ে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাবে। ফলে দেহে রক্তশূন্যতা দেখা দিবে।
পানি খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানবদেহের জন্য পানি অপরিহার্য। দেহের গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। আমাদের দৈহিক ওজনের ৬০-৭৫% পানি। আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানি প্রয়োজন।
হাড় এবং দাঁতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম অতি প্রয়োজনীয় একটি খনিজ পদার্থ। এটি দেহাভ্যন্তরে রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়, শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। এসব কারণেই আমাদের ক্যালসিয়ামযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
মানবদেহে থাকা খনিজ লবণের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত দুটি রোগ হচ্ছে-
১. রিকেটস ও
২. অস্টিওম্যালেসিয়া।
ফসফরাসের অভাবজনিত দুটি রোগ হলো-
১. অম্বিক্ষরতা ও
২. দন্তক্ষয়
মানব শরীরে ফসফরাসের ২টি ভূমিকা নিম্নরূপ-
১. নিউক্লিক এসিড, নিউক্লিয় প্রোটিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
২. শর্করা বিপাকের দ্বারা শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
জীবদেহে পানি দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক 1 ও পরিশোষণে সাহায্য করে। বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। এছাড়া পানি শরীর থেকে ঘাম নিঃসরণ এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শরীরের ! তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।'
পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত। কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেক দিনই আমাদের শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
আমাদের শরীরে পানির উৎস হচ্ছে-
১. খাবার পানি, পানীয় যেমন- চা, দুধ, কফি, শরবত।
২. বিভিন্ন খাদ্য যেমন- শাকসবজি ও ফল।
গরম আবহাওয়ায় আমাদের শরীর থেকে মূত্র ত্যাগ ছাড়াও ঘামের মাধ্যমে অনেক বেশি পরিমাণ পানি বের হয়ে যায়। যার কারণে শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। আর পানির অভাবে দেহে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে, বিঘ্নিত হতে পারে শারীরবৃত্তীয় কিংবা বিপাকীয় কার্যাবলি। এজন্যই গরমকালে বা গরম আবহাওয়ায় আমাদের বেশি পরিমাণে পানি পান করা উচিত।
ডায়রিয়া হলে ঘন ঘন পাতলা পায়খানার কারণে আমাদের শরীর থেকে অনেক বেশি পরিমাণ পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। ফলে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয় যা মানবদেহের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য পানিস্বল্পতা পূরণ বা শরীরে পানির অভাব নিরসনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হয়। কারণ, শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি ও লবণ বের হয়ে যায় খাবার স্যালাইন তা পূরণ করে শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে।
শস্যদানা, ফলমূল ও সবজির অপাচ্য তত্ত্বময় অংশকে রাফেজ বা আঁশ বলা হয় যা মূলত সেলুলোজ নির্মিত উদ্ভিদ কোষপ্রাচীর।
রাফেজ প্রধানত উদ্ভিদ থেকে পাওয়া শস্যবীজ, ডাল, আলু,ivate ঘোসাসমেত টাটকা ফল এবং শাকসবজি রাফেজের প্রধান উৎস।
ফলমূলকে রাফেজ বলা হয়। কারণ, রাফেজ মূলত সেলুলোজ নির্মিত উদ্ভিদ কোষ প্রাচীর। শস্যদানা, ফলমূল এবং সবজির অপাচ্য তনুর অংশ রাফেজ নামে পরিচিত। যেমন- শস্যদানার বহিরাবরণ, শস্যবীজ, খোসাসমেত টাটকা ফল ইত্যাদি।
রাফেজের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. রাফেজ মূলত সেলুলোজ দিয়ে তৈরি উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর।
২. এটি সরাসরি খাদ্যনালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হতে পারে।
আঁশযুক্ত খাদ্য পরিপাক, শরীর থেকে অপাচ্য খাদ্য নিষ্কাশন, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং বারবার ক্ষুধার প্রবণতা কমায়। এছাড়াও ধারণা করা হয়, আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণে পিত্তথলির রোগ, খাদ্যনালি ও মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করে। এসব কারণেই আমাদের প্রতিদিন ২০-৩০ গ্রাম আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার বিভিন্ন কারণের একটি প্রধান কারণ হলো অপাচ্য খাদ্যাংশ থেকে কোলনের অতিমাত্রায় পানি শোষণ করা। রাফেজ জাতীয় খাদ্য এই অপাচ্য খাদ্য নিষ্কাশনে সাহায্য করে এবং সরাসরি খাদ্যনালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে।
একজন শিশু জন্মগ্রহণের পর তার দেহের বৃদ্ধি ঘটতে থাকে এবং পরবর্তীকালে শৈশব, কৈশোর পার হয়ে যৌবন ও প্রাপ্তবয়স্কে উপনীত হয়। মানবদেহের বৃদ্ধি ২০-২৪ বছর পর্যন্ত ঘটে এবং তারপর তার উচ্চতার বৃদ্ধি হয় না। তখন খাদ্যের কাজ হয় শুধু দেহের ক্ষয়পূরণ এবং দেহকে সুস্থ, সবল এবং নীরোগ রাখা। এ কারণেই প্রাপ্তবয়স্ক হলে মানুষের উচ্চতার বৃদ্ধি হয় না।

দেওয়া আছে, দেহের ওজন = ৫৫ কেজি
এবং উচ্চতা = ১.৫ মিটার

আমাদের দেহে চর্বির পরিমাণের নির্দেশক হচ্ছে বিএমআই।
সুস্থ এবং স্বাভাবিক বিএমআই মান হচ্ছে ২৫। বিএমআই মান এর কম হলো একজনকে কম ওজন এবং বেশি হলে তাকে স্থূলকায় বলে বিবেচনা করা যাবে।
সুষম খাদ্যের ৩টি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে।
২. খাদ্যে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে।
৩. একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকতে হবে।
যে খাবারে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ছয়টি খাদ্যোপাদানই গুণাগুণ অনুসারে পরিমিত পরিমাণে থাকে ঐ খাবারই হলো আদর্শ খাবার।
আমাদের শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য পরিমিত পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। কারণ, প্রয়োজন থেকে কম খেলে যে রকম আমাদের স্বাস্থ্যহানি হয়, ঠিক সেরকম প্রয়োজন থেকে বেশি খেলেও স্বাস্থ্যহানি হয়। বেশি খেয়ে স্থূলকায় হয়ে যাওয়া উন্নত বিশ্বের মানুষের একটি বড় সমস্যা। তাই আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য সব সময় সুষম খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
সুষম খাদ্য তালিকা তৈরির সময় মানুষের বয়স, লিঙ্গভেদ, - কী রকম কাজ করে ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করা দরকার।
সুষম খাদ্য তালিকায় বয়স ও লিঙ্গভেদে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে হবে। যেমন- শিশু ও বৃদ্ধদের খাদ্যতালিকায় সহজপাচ্য এবং চর্বিবর্জিত খাদ্যের প্রাধান্য থাকতে হবে। বাড়ন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য এবং হাড় ও দাঁত বৃদ্ধির জন্য ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসযুক্ত খাদ্য থাকতে হবে। গর্ভবতী নারীদের খাদ্যতালিকায় রক্ত উৎপাদনের জন্য এবং গর্ভের শিশুর বৃদ্ধির জন্য বাড়তি প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়োডিন থাকা খুবই প্রয়োজন।
সব মানুষের খাদ্যাভ্যাস এক রকম নয়। প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক কারণে খাদ্যদ্রব্যের প্রাপ্যতাও সব দেশে এক রকম নয়। শীত ও গ্রীষ্মের প্রকোপ অনুসারেও খাদ্যের প্রয়োজন এবং পার্থক্য রয়েছে। সকল পরিবেশে মানিয়ে চলাই হচ্ছে জীবনের লক্ষ্য। দেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে এবং শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে মূল খাদ্য উপাদানগুলো বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাই খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে মূল Act উপাদানগুলোর পরিমাণ এবং ক্যালরি ভ্যালু বিচার করে উন্নত te জীবনযাপনের জন্য খাদ্য উপাদান বাছাই করতে হয়।
সুষম খাদ্য পেতে হলে চার ধরনের খাবার খেতে হবে।
যথা-
১. মাংস, মাছ, ডিম ও ডাল (মটর, ছোলা কিংবা বাদাম)।
২. স্নেহ জাতীয় খাদ্য।
৩. সকল ভোজ্য ফল এবং খাওয়ার উপযোগী সবজি।
৪. শস্য ও শস্যদানা থেকে তৈরি খাবার যেমন- রুটি, ভাত।
রাতে খাওয়ার পর অনেকক্ষণ আমাদের পেট খালি থাকে। এ
কারণে সকালে নাশতা করলে গ্যাস্ট্রিক হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এছাড়াও সকালের নাশতা করার মাধ্যমে সারাদিনের কাজ করার শক্তি সঞ্চয় হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা, বাড়ে, মন ভালো থাকে। অন্যদিকে সকালে নাশতা না করলে হৃৎপিন্ডের ক্ষতি হয়, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে, স্মৃতিভ্রষ্টতা ও শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়, চুলির ক্ষতি হয়, হজমশক্তি কমে যায়। এসব কারণেই সকালের নাশতা করা জরুরি।
জাঙ্কফুড হচ্ছে এমন এক ধরনের খাদ্য যা এর স্বাস্থ্যগত মূল্যের চেয়ে বরং এর মুখরোচক স্বাদের জন্য উৎপাদন করা হয়। এর আরেক নাম ফাস্টফুড। বার্গার, ক্রিসপস, মিষ্টি, কোলা ও লেমন হচ্ছে জাঙ্কফুডের উদাহরণ। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ চর্বি ও চিনি থাকে।
ফাস্টফুডের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ চর্বি ও চিনি থাকে।
২. এতে দরকারি ভিটামিন ও খনিজ পাদর্থের অভাব রয়েছে।
প্রাকৃতিক কারণে সব ধরনের খাদ্য সময়ের সাথে নষ্ট বা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। খাদ্য নষ্ট হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে জীবাণু ও ছত্রাক দ্বারা খাদ্য আক্রান্ত হওয়া এবং পরিবেশের কারণে সেগুলোর দ্রুত বৃদ্ধি, খাদ্যের মধ্যে উৎসেচকের বৃদ্ধি, পরিবেশের আর্দ্রতা, তাপে অম্লের পরিমাণ বৃদ্ধি ইত্যাদি অন্যতম। তবে এ কারণগুলো এককভাবে খাদ্যকে নষ্ট করে না। কয়েকটি কারণ একত্রে সংঘটিত হয়ে খাদ্য নষ্ট করে।
নির্দিষ্ট কিছু অণুজীব দ্বারা দূষিত খাবার খাওয়ার পর বা তাদের দ্বারা সৃষ্ট উৎপন্ন টক্সিন খাওয়ার পর যে অসুস্থতা দেখা দেয় তাকে ফুড পয়জনিং বলা হয়।
মোলড জাতীয় দুটি ছত্রাকের নাম হলো-
১. মিউকর ও ২. এসপারজিলাস।
খাদ্য নষ্ট হয় জীবাণু বৃদ্ধি ও জীবাণু দ্বারা নিঃসৃত উৎসেচকের ক্রিয়ার কারণে। পানি ও উষ্ণতা জীবাণু বৃদ্ধি ও উৎসেচকের ক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য খুবই উপযোগী অবস্থা। ফলে এ অবস্থা খাদ্যকে দ্রুত পচনে প্রভাবিত করে। পচনে সাহায্যকারী এসব বিষয়কে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে খাদ্য বহুদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।
রেফ্রিজারেশন পদ্ধতিতে কাঁচা শাকসবজি, ফল, রান্না করা খাদ্য, মিষ্টি জাতীয় খাবার কিছুদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
যে সকল রাসায়নিক পদার্থের দ্বারা খাদ্যের পচন রোধ করা যায় তাদেরকে সংরক্ষক দ্রব্য বলা হয়। যেমন- ভিনেগার, সোডিয়াম বেনজয়েট, সালফেটের লবণ ইত্যাদি এগুলোর কোনো পুষ্টিগুণ নেই। সঠিক পরিমাণ ও মাত্রা জেনে খাদ্যে সংরক্ষক দ্রব্য প্রয়োগ করা উচিত।
সংরক্ষক দ্রব্যের ২টি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এগুলোর কোনো পুষ্টিগুণ নেই।
২. খাদ্যে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মানো প্রতিহত করে।
দুটি সংরক্ষক দ্রব্য হলো-
১. ভিনেগার ও
২. সোডিয়াম বেনজোয়েট।
খাদ্যে যাতে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব বৃদ্ধি না পেতে পারে সেজন্য Sodium bisulfite ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ ক্ষতিকর অণুজীব প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়।
সোডিয়াম বেনজোয়েট একটি সংরক্ষক দ্রব্য, যা বেনজোয়িক এসিডের লবণ। এটি বিশেষ করে ছত্রাক ইস্ট এর বৃদ্ধিকে প্রতিহত করে। যার ফলে সংরক্ষিত খাদ্যদ্রব্যে ইস্ট জমাতে পারে না এবং খাদ্যে পচনও ঘটে না। এ কারণেই ফলের রস সংরক্ষণের জন্য সোডিয়াম বেনজোয়েট ব্যবহার করা হয়।
ফ্রিজিং পদ্ধতিতে খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্যকে ০° ফারেনহাইট তথা মাইনাস ১৮০ সেলসিয়াস অথবা তার নিচের তাপমাত্রায় রাখা হয়। এই অতি নিম্ন তাপমাত্রা জীবাণু জন্মানো ও বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল নয়। যার কারণে খাদ্যদ্রব্যে কোনো জীবাণু আক্রমণ ঘটিয়ে তার পচনে ভূমিকা রাখতে পারে না। ফলে খাদ্যদ্রব্য দীর্ঘদিন ভালো থাকে। এ কারণেই খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ফ্রিজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের জন্য ফরমালিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু অসাধু ও বিবেকবর্জিত ব্যবসায়ী তারপরও ফরমালিনকে খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহার করছে। এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে বদহজম, পাতলা পায়খানা, পেটের নানা পীড়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়াসহ ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি হতে পারে। এমনকি ফরমালিনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে মেয়েদের গর্ভজাত সন্তান বিকলাঙ্গ হতে পারে।
দ্রুত ফল পাকানোর জন্য ব্যবহৃত দুটি রাসায়নিক পদার্থ হলো- ১. Ripen ও ২. Ethylene
ক্যালসিয়াম কার্বাইড এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা ফল পাকানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ, এটি এমন এক ধরনের যৌগ যা বাতাসের জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে এসেই উৎপন্ন করে অ্যাসিটিলিন গ্যাস যা পরবর্তীকালে অ্যাসিটিলিন ইথানল নামক বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থে রূপান্তরিত হয়।
শুকনা তামাকপাতা কুচি কুচি করে কেটে তাকে বিশেষ কাগজে মুড়িয়ে সিগারেট এবং পাতায় মুড়িয়ে বিড়ি ও চুরুট বানানো হয়। এগুলোকে পুড়িয়ে তার ধোঁয়া ও বাষ্প সেবনকে ধূমপান বলে
আমাদের সবচেয়ে পরিচিত মাদক হচ্ছে ধূমপান। ধূমপানের ফলে মানবদেহে যেসব ক্ষতিকারক অবস্থা ও রোগ দেখা দেয় তন্মধ্যে ২টি নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. ধূমপায়ীরা কোনো না কোনো রোগে ভোগে; যেমন- ফুসফুসের ক্যান্সার, ঠোঁট, মুখ, ল্যারিংক্স, গলা ও মূত্রথলির ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস, পাকস্থলীতে ক্ষত এবং হৃদযন্ত্র ও রক্তঘটিত রোগ।
২. সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা বেশি ধূমপান করে তাদের আয়ু কমে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সংজ্ঞানুযায়ী, ড্রাগ এমন কিছু পদার্থ যা জীবিত প্রাণী গ্রহণ করলে তার এক বা একাধিক স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তন ঘটে।
ক্রমাগত ড্রাগ বা মাদক সেবনের কারণে যখন এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে সেই ড্রাগের সাথে মানুষের এক ধরনের দৈহিক ও মানসিক সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং নিয়মিতভাবে ড্রাগ গ্রহণ না করলে শারীরিক এবং মানসিক সমস্যায় পড়ে তখন তাকে বলে মাদকাসক্তি বা ড্রাগ নির্ভরতা।
মাদকাসক্তির ৩টি লক্ষণ নিম্নরূপ-
১. খাওয়ার প্রতি আকর্ষণ কমে যাওয়া।
২. সব সময় অগোছালোভাবে থাকা।
৩. কর্মবিমুখতা ও হতাশা।
মাদকাসক্তির পরিবেশগত ৪টি কারণ হলো-
১. মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা,
২. বেকারত্ব,
৩. অসামাজিক পরিবেশ ও
৪. অল্প বয়সে স্কুল থেকে বিদায়।
HIV এর পূর্ণরূপ হলো Human Immuno Deficiency
Virus। এটি দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর রক্তের শ্বেত কণিকার T-লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে। এ কারণে এগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে, শরীরে নানারকম বিরল রোগের সংক্রমণ ঘটে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের রোগ এবং টিউমার। এভাবেই HIV. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে এবং বিভিন্ন রোগের সূত্রপাত ঘটায়।
প্রধানত যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়। সমকামী কিংবা নারী-পুরুষের মধ্যে অনিরাপদ ও অনিয়ন্ত্রিত যৌন সংযোগের মাধ্যমে এই 'ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। গর্ভবতী নারী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার সন্তানদের মধ্যেও এ রোগ দেখা দিতে পারে। এমনকি মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে আক্রান্ত নারীর দেহ থেকে খাদ্যোজাত শিশুর দেখেti HIV সঞ্চারিত হতে পারে।
HIV এক ধরনের ভাইরাস যা দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T-লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে। এতে এগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, একই সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত সঞ্চালন করলে AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সঞ্চারিত হতে পারে। এমনকি একই সিরিঞ্জের ব্যবহারের ফলে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসও সঞ্চারিত হতে পারে। তাই রক্ত সঞ্চালনের সময় শারীরিক জটিলতা প্রতিরোধে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির জন্য ভিন্ন সিরিঞ্জ ব্যবহার করা উচিত।
স্নায়ুতন্ত্র আমাদের মাংসপেশি নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য নিয়মিত মাংসপেশির ব্যায়াম সহজেই স্নায়ুতন্ত্রকে সতেজ এবং সক্রিয় করে তোলে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত শরীর চর্চার মধ্য দিয়ে যদি শরীরের বিভিন্ন দেহতন্ত্র বা জৈব তন্ত্রগুলোকে সক্রিয় করে তোলা যায়, তাহলে সেগুলোরও পর্যাপ্ত বিকাশ ঘটবে। যার ফলে আমাদের দৈনিক কাজকর্ম সম্পাদন করার ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। এজন্য দেহকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত শরীর চর্চার ফলে-
১. শরীরের পরিপাক করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
২. রক্ত চলাচলের ক্ষমতা ভালো করা যাবে।
৩. পাচন ক্ষমতা ভালো হবে।
৪. শ্বাস প্রশ্বাস ভালো হবে।
৫।শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ আরও সুষ্ঠু হবে।
অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে মানুষ যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং শরীরের পেশিগুলো অবশ হয়ে আসে, তখন সারা শরীরকে কিছুক্ষণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রেখে আরাম করাকে বিশ্রাম বলা হয়।
ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত ঘুমের বিকল্প নেই। ঘুম সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে। এটি শরীরের ক্ষতিপূরণ ও শক্তি সঞ্চয়ের একটি পন্থা। ঘুমের সময় হৃৎপিন্ড ও রক্তনালি বিশ্রাম পায়। ঘুম স্মৃতিশক্তি ভালো বাখে, আবেগগত সমস্যা দূর করে, দেহের হরমোন মাত্রা স্বাভাবিক রাখে, মানসিক চাপ কমায়, সৃজনশীলতা বাড়ায়। এছাড়াও ঘুম আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেহকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে। এসব কারণেই ঘুমকে শ্রেষ্ঠ বিশ্রাম বলা হয়।
এক কাজ থেকে অন্য কাজে মনোনিবেশ করে শরীর ও মনকে বিশ্রাম দেওয়াই হলো কমান্তরের মাধ্যমে বিশ্রাম। অনেকে ছবি আঁকেন, অনেকে বাগান পরিচর্যা, পশুপাখি পালন কিংবা শৌখিন সবজি বাগান তৈরি করে বিশ্রাম গ্রহণ করেন। এ সমস্ত কাজকেই বলা হয় কমান্তরের মাধ্যমে বিশ্রাম গ্রহণ।
সেসব আহার্য বস্তুই খাদ্য যা জীবদেহে বৃদ্ধিসাধন, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ তথা পুষ্টি, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে।
খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের বেঁচে থাকার জন্য দরকারি শক্তির যোগান দেয় তাদেরকে একসঙ্গে পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্টস বলে।
চর্বি হচ্ছে সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড, সাধারণ তাপমাত্রায় ও চাপে য়া কঠিন অবস্থায় থাকে।
পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্তু আহরণ করে তা পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ, রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা।
জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং পুষ্টির জন্য যে বিশেষ এক ধরনের খাদ্য উপাদানের প্রয়োজন হয়, তাকে ভিটামিন বলে।
খাদ্যের সহায়ক উপাদান ৪টি। যথা- ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানি ও আঁশ ।
আমলকীতে ভিটামিন 'সি' পাওয়া যায়।
আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু, প্রভৃতি মিষ্টি ফলে ও ফুলের মধুতে ফ্রুকটোজ থাকে। এ ফ্রুকটোজকে Fruit Sugar বলে।
সাধারণ তাপমাত্রায় ও চাপে যেসব পদার্থ তরল থাকে সেগুলোকে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড বলে। যেমন- তেল, সয়াবিন ইত্যাদি।
প্রাকৃতিক নিয়মে মানুষের দেহের রোগজীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে ইমিউনিটি বলে
পেলেগ্রা একটি রোগ, যার ফলে ত্বকে রঞ্জক পদার্থ জমতে শুরু করে এবং সূর্যের আলোয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
আমিষের মৌলিক উপাদান হলো- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং কিছু ক্ষেত্রে সালফার।
জেরস্থ্যালমিয়া হলো চোখের রোগ। শুরুতে রাতকানা হিসেবে দেখা দিলেও ভিটামিন A এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে। এ অবস্থাকে জেরঙ্গ্যালমিয়া বলে।
অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।
খাদ্যে ২০ ধরনের ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়।
কো-এনজাইম হলো নন প্রোটিন।
একটি অপাচ্য প্রকৃতির শর্করা, যা আঁশযুক্ত খাদ্য এবং দৈনন্দিন মলত্যাগে সাহায্য করে ও কোষ্ঠ্যকাঠিন্য রোধ করে তাকে সেলুলোজ বলে।
রাফেজ মূলত সেলুলোজ নির্মিত উদ্ভিদ কোষ প্রাচীর। শস্যদানা ফলমূল এবং সবজির অপাচ্য তনুর অংশ রাফেজ নামে পরিচিত।
যেসব খাবারে সেলুলোজ নির্মিত দীর্ঘ অনুময় অংশ থাকে, সেসব খাবারই হলো আঁশযুক্ত খাবার।
দেহের উচ্চতার সাথে ওজনের সামঞ্জস্য রক্ষা করার সূচকই হলো ভরসূচি।
এক গ্রাম খাদ্য জারণের ফলে যে পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয় তাকে খাদ্যের ক্যালরি বলে।
BMI এর পূর্ণ নাম Body Mass Index.
BMI হলো Body Mass Index, যা মূলত দেহের উচ্চতার সাথে ওজনের সামঞ্জস্য রক্ষা করার সূচক।
যে খাদ্যে ছয়টি উপাদানই গুণাগুণ অনুসারে উপযুক্ত পরিমাণে থাকে এবং যে খাদ্য গ্রহণ করলে দেহে স্বাভাবিক কাজ-কর্মের জন্য উপযুক্ত পরিমাণ ক্যালরি ও আঁশ পাওয়া যায়, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
শর্করা জাতীয় খাদ্যকে নিচু স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে সুষম খাদ্য পিরামিড বলে।
জাঙ্ক ফুড হচ্ছে এমন এক ধরনের খাদ্য যা এর স্বাস্থ্যগত মূল্যের চেয়ে বরং এর মুখরোচক স্বাদের জন্য উৎপাদন করা হয়। এর আরেক নাম ফাস্টফুড।
এসিটিক এসিডের ৫% দ্রবণকে ভিনেগার বলে।
জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া খাদ্য নষ্ট করে যে বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে, তাকে টক্সিন বলে।
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) এর গাঢ় জলীয় দ্রবণকে ব্রাইন বলে।
তামাক থেকে নির্গত এক ধরনের বিষাক্ত মাদককে নিকোটিন বলে।
WHO (World Health Organization) হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
HIV এর পূর্ণরূপ হলো- Human Immuno Deficiency Virus..
প্রাকৃতিক নিয়মে মানুষের দেহে রোগজীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাই হলো ইমিউনিটি।
কেবল শরীরেরই নয়, মনেরও বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। শরীর ও মন থেকে সমস্ত রকম উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, অশান্তি, একেবারে দূর করে দিয়ে দেহ-মনকে একান্তভাবে নিদ্রার কোলে সঁপে দিতে পারলে তখন Act ! তাকে বলা হয় মনের বিশ্রাম।
খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের বেঁচে থাকার জন্য দরকারি শক্তির যোগান দেয় তাদেরকে একসঙ্গে পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্টস বলে। যেমন- গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ইত্যাদি হচ্ছে নিউট্রিয়েন্টস। নিউট্রিয়েন্টসের পরিপাকের প্রয়োজন হয় না, প্রাণীরা খাদ্যের মাধ্যমে নিউট্রিয়েন্টস গ্রহণ করে। নিউট্রিয়েন্টস রোগ প্রতিরোধ করে দেহকে সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।
আমরা জানি, ঘি একটি দুগ্ধজাত খাদ্য। ঘি একটি স্নেহ পদার্থ যা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডে ভরপুর।' এটি ওজন ঝরাতে কার্যকর, ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। এতে রয়েছে একটি সুপারফুডের সমপরিমাণ পুষ্টিগুণ। এই ধরনের বেশি পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত খেলে তা উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি করে। যাই হোক, ঘি একটি উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার।
উৎসগত দিক বিবেচনা করা হলে আমিষ দুই প্রকার: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ। প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তাকে প্রাণিজ আমিষ বলে। যেহেতু ডিম আমিষের একটি অন্যতম উৎস এবং এটি প্রাণী থেকে পাওয়া যায় তাই বলা যায় ডিম একটি প্রাণিজ আমিষ।
পেলেগ্রা রোগটি ভিটামিন B5 বা নিয়াসিনের অভাবে হয়। পেলেগ্রা রোগে ত্বকে রঞ্জক পদার্থ জমতে শুরু হয় এবং সূর্যের আলোয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে ত্বকে লালচে দাগ পড়ে এবং ত্বক খসখসে হয়ে যায়। এ কারণে পেলেগ্রা রোগটি সূর্যের আলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত।
শরীরে ঘা ও মাড়ি ফুলে যাওয়া রোধে ভিটামিন-C সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। ভিটামিন-C শরীরের ক্ষত পুনর্গঠনের কাজে সাহায্য করে, দাঁত ও মাড়ি শক্ত করে, ত্বক মসৃণ এবং উজ্জ্বল করে।
ভিটামিন- C সমৃদ্ধ খাবার যেমন- শাক-সবজি, লেটুসপাতা, লেবু কাঁচা মরিচ, আমলকি, টমেটু, পেয়ারা, ফুলকপি ইতাদি খাবার খেলে শরীরের ঘা ও মাড়ি ফুলে যাওয়া রোধ হবে। একইসাথে ভিটামিন-C এর অভাবজনিত অন্যান্য রোগগুলো দূর হবে।
ভিটামিনসমূহ প্রত্যক্ষভাবে দেহ গঠনে অংশগ্রহণ না করলেও এদের অভাবে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন বা দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্রিয়াগুলো সুসম্পন্ন হতে পারে না। জীবদেহের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকলাপ এদের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে ভিটামিনসমূহকে জৈবিক প্রভাবক বলে।
জেরস্থ্যালমিয়া হলো চোখের রোগ। শুরুতে রাতকানা হিসেবে দেখা দিলেও এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার সৃষ্টি হয় আর এ অবস্থাকেই জেরস্থ্যালমিয়া রোগ বলে। এতে ব্যক্তি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায় এবং দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। শর্করা আমাদের শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সেটি শর্করা জাতীয় খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়। এছাড়া গ্লাইকোজেন জাতীয় শর্করা প্রাণিদেহে খাদ্যঘাটতিতে বা অধিক পরিশ্রমের সময় শক্তি সরবরাহ করে। এসব কারণেই আমরা শর্করা জাতীয় খাদ্য খাই।
ভিটামিন হলো খাদ্যে নিহিত এমন কতকগুলো সূক্ষ্ম উপাদান যার অভাবে শরীর সহজেই বেরিবেরি, স্কার্ভি, রিকেটস, রাতকানা প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হয় অথবা বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রবণতা দেখা দেয়। এছাড়া ভিটামিনের অভাবে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন বা দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্রিয়াগুলো সুসম্পন্ন হতে পারে না। সুতরাং ভিটামিন দেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান।
মানুষের দৈহিক ওজনের ৬০-৭০% পদার্থটি হচ্ছে পানি। পানি খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানবদেহের জন্য পানি অপরিহার্য।" দেহের গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। এটি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত 'পদার্থগুলো পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়।
শুকনো ফল হলো রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাবার। রাফেজ মূলত সেলুলোজ দিয়ে তৈরি উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর। রাফেজ কোষ্ঠকাঠিন্য, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়া রাফেজযুক্ত খাদ্য গ্রহণে পিত্তথলির রোগ, খাদ্যনালি ও মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, অ্যাপেন্ডিকস ও স্থূলতা অনেকাংশে হ্রাস পায়। তাই রাফেজযুক্ত খাবার শুকনো ফল শরীরের জন্য অধিক উপকারী।
রাফেজ হলো আঁশযুক্ত খাবার। আঁশযুক্ত এই খাবারে বা রাফেজ গ্রহণ করার কারণে শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। এই ব্যাকটেরিয়া রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।
ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় এবং দাঁতের একটি প্রধান
উপাদান। হাড় এবং দাঁতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিন্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। এজন্যই ক্যালসিয়াম মানুষের দেহের জন্য প্রয়োজনীয়।
রাফেজ শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ- এটি পরিপাকে সহায়তা করে, পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। শরীর থেকে অপাচ্য খাদ্য নিষ্কাশনে সাহায্য করে। রাফেজযুক্ত খাবার শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতেও সাহায্য করে।' বারবার ক্ষুধার প্রবণতা কমাতেও. এটি কাজ করে। ধারণা করা হয়, রাফেজযুক্ত খাদ্য গ্রহণে পিত্তথলির রোগ, খাদ্যনালি ও মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, অ্যাপেন্ডিকস, হৃদরোগ ও স্থলতা অনেকাংশে হ্রাস করে।
Body Mass Index বা BMI দেহের ওজনের সাথে উচ্চতা সামঞ্জস্য নির্দেশ করে থাকে। আমাদের দেহের চর্বির পরিমাণের নির্দেশক হলো BMI। সুস্বাস্থ্যের জন্য BMI এর আদর্শ মান হলো ১৮.৫-২৪.৯। মান এর বেশি হলে দেহের ওজন বেশি ধরা হয়, যা শরীরের বিভিন্ন রোগ যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক প্রভৃতি রোগের কারণ। আবার BMI মান ১৮.৫ এর কম হলে দেহ অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে বলে ধরা হয়। দেহকে সুস্থ রাখতেই BMI-এর মান জানা উচিত এবং সেই মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা
সুষম খাদ্য হলো বিভিন্ন খাদ্যবস্তুর এমন সমাহার যার মধ্যে খাদ্য উপাদানের সবগুলোই পরিমাণমতো থাকে এবং যা থেকে স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য উপযুক্ত ক্যালরি ও আঁশ পাওয়া যায়। একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ কর্মশীল পুরুষের জন্য প্রত্যহ প্রায় ২৫০০-৩০০০ কিলোক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। আর এ শক্তি পাওয়া যায় আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার সুষম খাদ্যের ছয়টি উপাদান থেকে।
শর্করা জাতীয় খাদ্যকে' নিচু স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসবজি, ফল মূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে সুষম খাদ্য পিরামিড বলে। এ পিরামিডের শীর্ষে রয়েছে স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্য আর সর্বনিম্ন স্তরে আছে শর্করা
যেসব খাদ্যে পরিমিত পরিমাণে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি এই ছয়টি উপাদান উপস্থিত থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে। শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখার জন্য সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সুষম খাদ্য প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। এ কারণেই সুষম খাদ্য তৈরি করে নিতে হয়।
সুষম খাদ্য হচ্ছে এমন খাদ্যবস্তুর সমাহার যেখানে খাদ্য উপাদানের সবগুলোই পরিমাণ মতো থাকে। কিন্তু ফাস্টফুডে সাধারণত 'প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ চর্বি ও চিনি থাকে। এছাড়াও ফাস্টফুডে অতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এতে শরীরের জন্য দরকারি ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের অভাব রয়েছে, অর্থাৎ খাবারটিতে সুষম খাদ্য উপাদানের ঘাটতি রয়েছে। এজন্য ফাস্টফুডকে সুষম খাদ্যের মধ্যে ধরা হয় না।
ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড শরীরের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার কারণ হলো- এতে থাকে অতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ, প্রাণিজ চর্বি ও চিনি। অতিরিক্ত চর্বি পরবর্তীতে দেহে চর্বিকলায় রূপান্তরিত হয়। ফলে দেহ স্থূলকায় হয়ে পড়ে এবং নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। এছাড়াও জাঙ্কফুডে বিদ্যমান অতিরিক্ত চিনি দাঁত ও ত্বক নষ্ট করে দেয়।
চিকেন রোল ফাস্টফুড জাতীয় খাদ্য। এটা মূলত স্বাস্থ্যগত মূল্যের চেয়ে মুখরোচক স্বাদের জন্য উৎপাদন করা হয়। এতে উচ্চমাত্রায় প্রাণিজ চর্বি থাকে। অধিক মাত্রায় চিকেন রোল খেলে এতে থাকা চর্বিকে আমাদের দেহ চর্বিকলায় রূপান্তরিত করে। ফলে আমরা স্থূলকায় হয়ে যাই। এ কারণেই চিকেন রোল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
বার্গার হচ্ছে এমন এক ধরনের খাবার, যা এর স্বাস্থ্যগত মূল্যের চেয়ে বরং এর মুখরোচক স্বাদের জন্য উৎপাদন করা হয়। বার্গারে রয়েছে অতি উচ্চমাত্রায় প্রাণিজ চর্বি, যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। অন্যদিকে বার্গার তৈরিও করা হয়ে থাকে মুখরোচক স্বাদের জন্যই। তাই বার্গারকে জাঙ্কফুড
কোনো খাদ্যের গুণাগুণ ও পুষ্টিমান ঠিক রেখে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য খাদ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে রেখে দেওয়াকে খাদ্য সংরক্ষণ বলে। বাণিজ্যিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা হয় বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বন করে। গৃহে সাধারণ সংরক্ষক দ্রব্যের ও যন্ত্রপাতির ব্যবহারে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়।
যেসব রাসায়নিক পদার্থের দ্বারা খাদ্যের পচন রোধ করা হয় তাদেরকে সংরক্ষক বলে। খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় সংরক্ষক ব্যবহার করা প্রয়োজন। কারণ বেশিরভাগ সংরক্ষকই রাসায়নিক পদার্থ। এ রাসায়নিক পদার্থগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণে ব্যবহার না করে যদি অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয় তাহলে সেগুলো মানবদেহে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
এসিটিক এসিডের ৫% দ্রবণকে ভিনেগার বলে। এটির কোনো পুষ্টিগুণ নেই কিন্তু খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার আচার, চাটনি, সস প্রভৃতিতে ব্যবহার করে জীবাণুর বৃদ্ধি রোধ করা হয়। খাদ্যকে পচন থেকে রক্ষা করা এবং খাদ্যে যেন ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে না পারে সেজন্য সঠিক পরিমাণের মাত্রা জেনে খাদ্যে ভিনেগার প্রয়োগ করে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়।
এসিটিক এসিডের ৫% দ্রবণকে ভিনেগার বলে। ভিনেগারের কোনো পুষ্টিগুণ নেই কিন্তু এটি সংরক্ষক দ্রব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। খাদ্যকে পচন থেকে রক্ষা করা এবং খাদ্যে যেন ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো জীবাণু জন্মাতে না পারে সেজন্য সঠিক পরিমাণের মাত্রা জেনে খাদ্যে ভিনেগার প্রয়োগ করে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। তাই উপরোক্ত কারণে আচারে জীবাণুর বৃদ্ধি রোধ করার | জন্য আচার সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহার করা হয়।
তামাক গাছের পাতা ও ডাল শুকিয়ে তামাক তৈরি করা হয়। শুকনা তামাকপাতা কুচিকুচি করে কেটে তাকে বিশেষ কাগজে মুড়িয়ে সিগারেট এবং পাতায় মুড়িয়ে বিড়ি ও চুরুট বানানো হয়। তামাক থেকে নিকোটিন বের হয় যা মাদকদ্রব্য হিসেবে যেমন সাময়িকভাবে উত্তেজিত করে, তেমনি নানাভাবে শরীরের ক্ষতি করে। এ কারণে তামাককে মাদক দ্রব্য বলা হয়।
আমাদের সবচেয়ে পরিচিত মাদক হচ্ছে ধূমপান। ধূমপানের
ফলে মানবদেহে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। ধূমপায়ীরা অন্যদের থেকে বেশি রোগাক্রান্ত হয়। ধূমপায়ীরা কোন না কোন রোগে ভোগে যেমন-ফুসফুস ক্যান্সার, ঠোঁট, মুখ, ল্যারিংক্স, গলা ও মূত্রথলির ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস, পাকস্থলীতে ক্ষত এবং হৃদযন্ত্র ও রক্তঘটিত রোগ। ফুসফুসে ক্যান্সার দেখা দিলে রোগী প্রায় ৫ বছরের মধ্যে মৃত্যুবরণtivat করে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা বেশি ধূমপান করে, তাদের আয়াত Sel কমে যায়।
প্রাকৃতিক নিয়মে মানুষের দেহে রোগজীবাণু আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে। AIDS এ আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে নানারকম রোগ যেমন- শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের রোগ, টিউমার প্রভৃতির সংক্রমণ ঘটে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। তাই AIDS কে মরণব্যাধি বলা হয়।
কেবল শরীরেরই নয়, মনেরও বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। শরীর ও মন থেকে সমস্ত রকম উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, অশান্তি, একেবারে দূর করে দিয়ে দেহ-মনকে একান্তভাবে নিদ্রার কোলে সঁপে দিতে পারলে তখন তাকে বলা হয় মনের বিশ্রাম।
খাদ্য ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। দেহের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, দেহের টিস্যুগুলোর ক্ষতি পূরণ কিংবা শক্তি উৎপাদন-এ ধরনের কাজের জন্য নিয়মিতভাবে আমাদের বিশেষ কয়েক ধরনের খাদ্যের প্রয়োজন হয়। আমাদের স্বাস্থ্য বহুলাংশে নির্ভর করে, যে খাদ্য আমরা খাই তার গুণগত মানের ওপর। খাদ্য আমাদের চেহারার, কাজকর্মে, আচরণে ও জীবনের মানে পার্থক্য ঘটাতে পারে। শ্বসন ক্রিয়ার সময় খাদ্যের ভেতরকার রাসায়নিক শক্তি তাপশক্তি হিসেবে যুক্ত হয়ে জীবদেহের জৈবিক ক্রিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রত্যেকটা জীব তার পরিবেশ থেকে প্রয়োজনমতো এবং পরিমাণমতো গ্রহণ করে। প্রতিটি খাদ্যই আসলে এক ধরনের জটিল রাসায়নিক যৌগ। এই জটিল খাদ্যগুলো বিভিন্ন উৎসেচকের সাহায্যে আমাদের পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে ভেঙে সরল খাদ্যে পরিণত হয়, এই প্রক্রিয়াকে পরিপাক বলে। পরিপাক হওয়া খাদ্য শোষিত হয়ে দেহকোষের প্রোটোপ্লাজমে সংযোজিত হয়, যাকে আস্তীকরণ বলে। পরিপাকের পর অপাচ্য খাদ্য বিশেষ প্রক্রিয়ার দেহ থেকে নির্গত হয়ে যায়।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:
- খাদ্য উপাদান ও আদর্শ খাদ্য পিরামিড ব্যাখ্যা করতে পারব।
- খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব।
- স্বাস্থ্য রক্ষার প্রাকৃতিক খাদ্য এবং ফাস্ট ফুডের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- ভিটামিনের উৎস এবং এর অভাবজনিত প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- খনিজ লবণের উৎস এবং এর অভাবজনিত প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পানি ও আঁশযুক্ত খাবারের উপকারিতা বর্ণনা করতে পারব।
- বডি মাস ইনডেক্সের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- খাদ্যে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার এবং এর শারীরিক প্রতিক্রিয়া বলতে পারব।
- শরীরে তামাক ও ড্রাগসের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- এইডস কী ব্যাখ্যা করতে পারব।
- শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখার কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allকীভাবে ভর সূচি বা BMI নির্ণয় করা হয়?
ভর সূচি নির্ণয়ের সূত্র হলো: ভর সূচি = ওজন (কেজি) / (উচ্চতা (মি) x উচ্চতা (মি))।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির ওজন ৭০ কেজি এবং উচ্চতা ১.৭৫ মিটার হয়, তাহলে তার ভর সূচি হবে: ভর সূচি = ৭০ / (১.৭৫ x ১.৭৫) = ৭০ / ৩.০৬২৫ ≈ ২২.৮৬।
ভর সূচির ব্যবহার
প্রাপ্ত ভর সূচির মান ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর ওজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সাধারণত এই মান ব্যবহার করে ওজন-সম্পর্কিত রোগ বা স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে থাকে।
জেরোফথ্যালমিয়া ভিটামিন 'এ' এর অভাব জনিত একটি রোগ। জেরোফথ্যালমিয়ায়, বিটোটের দাগগুলি কনজাংটিভাল জেরোসিসের পরে দেখা দেয়। ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরােফথ্যালমিয়া নামক রােগ হয়। যখন ভিটামিন এ-এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়,তখন চোখের কর্নিয়ায় আলসার সৃষ্টি হয় সে অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া বলে।
ফল, শাকসবজি, শস্যদানা ইত্যাদি উপস্থিত সেলুলোজ নির্মিত আঁশ বা তন্তুর ন্যায় অপাচ্য অংশই হলো রাফেজ।
খাদ্যপ্রাণ বলতে সাধারণত জীবিত প্রাণী বোঝায়। অর্থাৎ, যে সকল প্রাণী খাদ্য গ্রহণ করে, বৃদ্ধি পায়, প্রজনন করে এবং পরিবেশের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে খাদ্যপ্রাণ বলা হয়।
খাদ্যপ্রাণের কিছু উদাহরণ:
- মানুষ: আমরা খাদ্য গ্রহণ করে শক্তি পাই এবং বেঁচে থাকি।
- প্রাণী: সকল প্রাণী, যেমন সিংহ, হাতি, পাখি, মাছ ইত্যাদি।
- পোকামাকড়: মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি।
- উদ্ভিদ: উদ্ভিদ সূর্যের আলো, পানি এবং মাটি থেকে খাদ্য তৈরি করে।
খাদ্যপ্রাণের মূল বৈশিষ্ট্য:
- জীবন: খাদ্যপ্রাণের মধ্যে জীবনের উপস্থিতি থাকে।
- বৃদ্ধি: খাদ্য গ্রহণ করে খাদ্যপ্রাণ বৃদ্ধি পায়।
- প্রজনন: খাদ্যপ্রাণ নিজের প্রজাতির বংশ বিস্তার করে।
- পরিবেশের সাথে যোগাযোগ: খাদ্যপ্রাণ পরিবেশের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে।
খাদ্যপ্রাণের শ্রেণিবিন্যাস:
খাদ্যপ্রাণকে বিভিন্ন ভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। যেমন:
- খাদ্যের ধরনের উপর ভিত্তি করে: শাকসভী, মাংসাশী, সর্বভুক ইত্যাদি।
- বাসস্থানের উপর ভিত্তি করে: স্থলচর, জলচর, উড়ুচর ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!