মৌলিক পদার্থ: যেসব পদার্থ একটি মাত্র উপাদান দিয়ে তৈরি তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বলে। এসব পদার্থকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে ঐ পদার্থ ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না।
যেমন- লোহা একটি মৌলিক পদার্থ। একে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে লোহা ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না। যৌগিক পদার্থ: যেসব পদার্থ একের অধিক ভিন্নধর্মী উপাদান দিয়ে তৈরি তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলে। এসব পদার্থকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে একাধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়।
যেমন- খাবার লবণ (NaCl) একটি যৌগিক পদার্থ। একে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে একাধিক ভিন্নধর্মী মৌল তথা Na ধাতু ও CI গ্যাস পাওয়া যায়।
অণু ও পরমাণুর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ-
১. 'মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণাকে পরমাণু বলা হয়। অপরদিকে অণু হচ্ছে মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা। যেমন-অক্সিজেন গ্যাস (O2) একটি মৌলিক পদার্থ। দুটি অক্সিজেন পরমাণু মিলে অক্সিজেনের একটি অণু গঠন করেছে, যাকে অক্সিজেন গ্যাস বলা হয়।
২. ভিন্ন ভিন্ন পদার্থ দিয়ে একটি অণু গঠিত হতে পারে। কিন্তু পরমাণু একটি মাত্র পদার্থের অংশবিশেষ। যেমন- পানি (H2O) এর একটি অণু দুটি আলাদা পদার্থ (O ও H) দিয়ে গঠিত হয়েছে।
৩. পরমাণুকে প্রতীক এর সাহায্যে প্রকাশ করা হয় আর অণুকে প্রকাশ করা হয় সংকেতের সাহায্যে। যেমন- একটি হাইড্রোজেন পরমাণুকে 'H' প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং হাইড্রোজেন এর একটি অণুকে H2 সংকেতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
ডাল্টনের পরমাণুবাদের মূল বক্তব্যগুলো হচ্ছে-
১. মৌলিক পদার্থসমূহ পরমাণু নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দিয়ে গঠিত।
২. একটি মৌলের বা মৌলিক পদার্থের সকল পরমাণু একই রকম। একটি মৌলের সকল পরমাণুর আকার, ভর ও রাসায়নিক ধর্ম একই রকম।
৩. একটি মৌলের পরমাণুসমূহ অপর মৌলের পরমাণুসমূহ হতে ভিন্ন রকম। অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণুর আকার, ভর ও বিভিন্ন ধর্ম ভিন্ন ভিন্ন।
৪. যৌগিক পদার্থসমূহ একের অধিক মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ সরল অনুপাতে যুক্ত হয়ে যৌগিক পদার্থ বা যৌগ তৈরি করে।
৫. একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুসমূহের সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না। শুধু একে অপরের সাথে যুক্ত হয় বা একে অন্য থেকে আলাদা হয়।
পরমাণুকে ভেঙে তিনটি স্থায়ী মৌলিক কণা পাওয়া যায়। এগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
নিউট্রন ও প্রোটন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে আর ইলেকট্রন কেন্দ্রের চারদিকে বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে।
পদার্থের ভিন্নতার প্রধান কারণ হলো এর উপাদান (constituent) 1 এছাড়া পদার্থের গঠন (structure) এর উপরও এদের ধর্ম নির্ভর করে। একেক পদার্থের উপাদান এবং গঠন একেক রকম হয় বলে তারা দেখতে ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়। ফলে ধর্ম অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পদার্থ ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।
যে সকল পদার্থ ভাঙলে কেবল ঐ পদার্থেরই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যায়, অর্থাৎ যে সকল পদার্থ একটি মাত্র উপাদান দিয়ে গঠিত তাদেরকে বলা হয় মৌলিক পদার্থ। তদুপ লোহা একটি মৌলিক পদার্থ। তাই লোহাকে ভাঙলে কেবল লোহারই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যাবে।
তামাকে ভাঙলে তার মধ্যে শুধু তামারই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ তামা একটি মাত্র উপাদান দিয়ে তৈরি। আর যে সকল পদার্থ একটি মাত্র উপাদান দিয়ে তৈরি তাদেরকে বলা হয় মৌলিক পদার্থ। অন্যদিকে চিনিকে ভাঙলে তিনটি উপাদান (কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন) পাওয়া যাবে। যেসব পদার্থ একের অধিক ভিন্নধর্মী উপাদান বা মৌলিক পদার্থ দিয়ে তৈরি তাদেরকে বলা হয় যৌগিক পদার্থ। তাই তামা মৌলিক পদার্থ হলেও চিনি যৌগিক পদার্থ।
লোহা উন্মুক্ত স্থানে বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে অপর একটি মৌলিক পদার্থ অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3 3H2O) উৎপন্ন করে, যা আয়রন অক্সাইড নামে পরিচিত। অর্থাৎ মরিচা দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। এজন্যই বলা হয় মরিচা একটি যৌগিক পদার্থ।
যৌগিক ও মিশ্র পদার্থের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| যৌগিক পদার্থ | মিশ্র পদার্থ |
| ১. যৌগিক পদার্থের উপাদানগুলোকে সহজে ভৌত উপায়ে পৃথক করা যায় না; কেবল রাসায়নিক উপায়ে পৃথক করা যায়। | ১. মিশ্র পদার্থের উপাদানগুলোকে সহজে পৃথক করা যায়। |
| ২. বিশুদ্ধ যৌগের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক থাকে। | ২. মিশ্র পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক থাকে না। |
মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের মধ্যে দুইটি পার্থক্য নিম্নরূপ :
| মৌলিক পদার্থ | যৌগিক পদার্থ |
| ১. মৌলিক পদার্থের একক হলো পরমাণু। | ১. যৌগিক পদার্থের একক হলো অণু। |
| ২. মৌলিক পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন পাওয়া যায়। | ২. যৌগিক পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়। |
গ্রিক দার্শনিক ডেমক্রিটাস মনে করতেন সকল পদার্থই ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দিয়ে গঠিত। অর্থাৎ তিনি মনে করতেন পদার্থকে ভাঙতে ভাঙতে এমন এক অবস্থানে পৌঁছা সম্ভব যখন তাকে আর ভাঙা সম্ভব নয়। তিনি এই ক্ষুদ্র কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম।
অ্যারিস্টটল মনে করতেন পদার্থসমূহ অবিচ্ছিন্ন এবং ভাঙনের কোনো সীমা নেই। অর্থাৎ একটি পদার্থকে যতই ভাঙা হোক না কেন পদার্থের কণাগুলো ক্ষুদ্র থেকে আরো ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে।
একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুসমূহ একে অপরের সাথে যুক্ত হয় অথবা একে অন্য থেকে আলাদা হয়; যেখানে নতুন কোনো পরমাণুর সৃষ্টি হয় না এবং কোনো পরমাণুর বিনাশও হয় না। অর্থাৎ বিক্রিয়ার পূর্বে বিক্রিয়কের মোট পরমাণুর সংখ্যা এবং বিক্রিয়ার পর মোট পরমাণুর সংখ্যা অভিন্ন থাকে।
একটি মৌলের বা মৌলিক পদার্থের সকল পরমাণুর পারমাণবিক আকার, ভর এবং রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এক টুকরো সোডিয়াম (Na) নিলে তার মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যেকটি সোডিয়াম পরমাণুর আকার, ভর এবং রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হবে।
পানির অণুতে একট অক্সিজেন (O) পরমাণু এবং দুইটি হাইড্রোজেন (H) পরমাণু বিদ্যমান। নিচে পানির অণুর গঠন দেখানো হলো-

কার্বন (C) পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা ৬। তাই এর ইলেকট্রন সংখ্যা ৬ এবং নিউট্রন সংখ্যাও ৬। প্রোটন এবং নিউট্রন থাকে পরমাণুর কেন্দ্রে এবং ইলেকট্রনগুলো বাইরের কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে।

সোডিয়াম (Na) পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা ১২, প্রোটন এবং ইলেকট্রন সংখ্যা ১১টি করে। পরমাণুটির কেন্দ্রে ১২টি নিউট্রন এবং ১১টি প্রোটন থাকে'। আর কেন্দ্রের বাইরে ১১টি ইলেকট্রন ঘূর্ণায়মান থাকে।

একটি হাইড্রোজেন অণুতে দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণু বিদ্যমান। অন্যভাবে বলতে গেলে দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণু মিলিত হয়ে একটি হাইড্রোজেন অণু গঠন করে।

একটি মৌলিক পদার্থ গঠনের ক্ষুদ্রতম একক হলো পরমাণু। অর্থাৎ পদার্থটিকে ভেঙে ক্ষুদ্র থেকে আরো ক্ষুদ্রতম করলে পদার্থের স্বতন্ত্র রূপ বা অস্তিত্ব বজায় রাখার ক্ষুদ্রতম একক হলো পরমাণু। যদি একে আরও ভাঙা হয় তবে পদার্থের স্বতন্ত্র রূপ বা বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাবে। তাই মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম একক হলো পরমাণু।
সাধারণত পরমাণুর শেষ শক্তিস্তর ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে না। ফলে তারা অস্থিতিশীল হয়। সেক্ষেত্রে পরমাণুসমূহ অন্য পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন দান, গ্রহণ অথবা শেয়ারের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা অর্জন করে। এজন্যই সাধারণত পরমাণু মুক্ত বা স্বাধীন অবস্থায় থাকতে পারে না।
যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বলতে বুঝায়, ঐ পদার্থকে বিভাজন করলে যে ক্ষুদ্রতম অংশ, তা স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে ঐ পদার্থের সার্বিক বৈশিষ্ট্য বহন করে। একটি যৌগিক পদার্থকে ভাঙলে ঐ পদার্থের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু পাওয়া যায়। তবে তারা স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে ঐ পদার্থের বৈশিষ্ট্য বহন করবে। কিন্তু এই অণুকে যদি আরও ভাঙা হয় তবে ঐ পদার্থের বৈশিষ্ট্য লোপ পাবে। তাই বলা যায়, যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হলো অণু।
প্রতীক লেখার নিয়মগুলো হলো-
১. মৌলের ইংরেজি, ল্যাটিন বা গ্রিক নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে প্রতীক লিখতে হয় এবং ইংরেজি বর্ণমালার বড় হাতের অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
২. দুই বা ততোধিক মৌলের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর একই হলে একটি ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে দুই অক্ষরে লেখা হয়; যেখানে প্রথম অক্ষরটি বড় হাতের অক্ষর এবং অন্য অক্ষরটি ছোট হাতের অক্ষরে লেখা হয়।
দুই অক্ষরে প্রকাশিত প্রতীকের ক্ষেত্রে প্রথম অক্ষরটি বড় হাতের অক্ষর এবং পরেরটি ছোট হাতের অক্ষর ব্যবহার করতে হয়।
মূলত দুই বা ততোধিক মৌলের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর একই হলে একটিকে নামের প্রথম অক্ষর দ্বারা এবং অন্যগুলোকে দুই অক্ষরে লেখা হয়। যেমন: কার্বন (Carbon), ক্লোরিন (Chlorine), ক্যালসিয়াম (Calcium); এদের নামের প্রথম অক্ষর 'C' হলেও এদের প্রতীক যথাক্রমে C, CI, Ca
কঠিন মৌলিক পদার্থের ক্ষেত্রে পদার্থের পরমাণুগুলো একসাথে থাকে, কোনো অণু গঠন করে না, তাই এ ধরনের মৌলের ক্ষেত্রে অণুর সংকেত লেখা হয় না। যেমন সোডিয়াম, লোহা, কপার ইত্যাদি মৌলগুলো কঠিন। তাই এদেরকে প্রতীক (Na, Fe, Cu) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
গ্যাসীয় মৌলসমূহ সাধারণত দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে। অর্থাৎ, গ্যাসীয় মৌলিক পদার্থের ক্ষেত্রে অণুর সংকেত লেখা হয়। যেমন: অক্সিজেনের সংকেত O2, নাইট্রোজেনের N2, ক্লোরিনের Cl2 ইত্যাদি। এরা দ্বি-পরমাণুক গ্যাস।
রাসায়নিক সংকেত থেকে একটি যৌগের গঠন এবং এর উপাদানসমূহকে সহজে, চিহ্নিত করা যায়। যৌগে উপাদানগুলো কী অনুপাতে আছে এবং যৌগের ভর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এছাড়াও যৌগটির রাসায়নিক ধর্ম এবং বৈশিষ্ট্যগুলোর পূর্বাভাস পাওয়া যায়।
১. Na এবং CI এর মাধ্যমে গঠিত যৌগ: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)।
২. K এবং CI এর মাধ্যমে গঠিত যৌগ: পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI)।
১. H এবং C এর সাহায্যে গঠিত যৌগ: মিথেন (CH3)।
২. H এবং Cl এর সাহায্যে গঠিত যৌগ: হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)।
১. CaO – ক্যালসিয়াম অক্সাইড
২. SO2- সালফার ডাই-অক্সাইড।
১. CaSO4 এর সংকেত - ক্যালসিয়াম সালফেট।
২. KI এর সংকেত – পটাশিয়াম আয়োডাইড।
১. অক্সিজেন (O) অণুর সংকেত: O2
২. ব্রোমিন (Br) অণুর সংকেত: Br2
ধাতু এবং অধাতু মিলে গঠিত দুইটি যৌগের সংকেতসহ নাম হলো-
১. সোডিয়াম (Na) ধাতু এবং ক্লোরিন (CI) অধাতু মিলে গঠিত যৌগ : সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)।
২. পটাশিয়াম (K) ধাতু এবং আয়োডিন (1) অধাতু মিলে গঠিত যৌগ : পটাশিয়াম আয়োডাইড (KI)।
অধাতু-অধাতু মিলে গঠিত দুইটি যৌগের সংকেতসহ নাম হলো-
১. সালফার (S) অধাতু এবং অক্সিজেন (O) অধাতু মিলে গঠিত যৌগ : সালফার ডাই অক্সাইড (SO2)।
২. কার্বন (C) অধাতু এবং অক্সিজেন (O) অধাতু মিলে গঠিত যৌগ : কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)।
একটি পরমাণুকে ভাঙলে এর তিনটি কণা পাওয়া যায়। যথা : ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। প্রোটন এবং নিউট্রন থাকে পরমাণুর কেন্দ্রে। ইলেকট্রন এই কেন্দ্রের চারদিকে বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। একমাত্র হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে এটির ব্যতিক্রম দেখা যায়। হাইড্রোজেনের কেন্দ্রে একটি প্রোটন থাকলেও কোনো নিউট্রন থাকে না। তাই হাইড্রোজেন পরমাণুর গঠন সবার থেকে ব্যতিক্রম।
ডাল্টনের মতবাদ অনুযায়ী, পরমাণু অবিভাজ্য অর্থাৎ একে আর ভাঙা যায় না। কিন্তু বর্তমানে এটি প্রমাণিত যে, একটি পরমাণুকে ভাঙলে তিনটি স্থায়ী কণিকা (ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন) এবং অস্থায়ী আরো কিছু কণিকা পাওয়া যায়। সুতরাং বলা যায়, "পরমাণু অবিভাজ্য নয়।"
পানি জৈব ও অজৈব অনেক দ্রবকে দ্রবীভূত করে, যা অন্য দ্রাবকের পক্ষে সম্ভব নয়। পানি প্রায় সব আয়নিক পদার্থকে দ্রবীভূত করতে পারে। এছাড়াও বহু সমযোজী পদার্থও পানিতে দ্রবীভূত হয়। তাই পানিকে সার্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।
হ্যালোজেন গ্যাস ব্রোমিন (Br) অণুর সংকেত Br2.
হ্যালোজেন গ্যাস আয়োডিন (I) অণুর সংকেত I2
অ্যালুমিনিয়াম কার্বনেটের সংকেত হলো- Al2(CO3)3।
পটাশিয়াম আয়োডাইডের সংকেত হলো : KI
ক্যালসিয়াম সালফাইডের সংকেত হলো : CaS
খাবার লবণের রাসায়নিক সংকেত হলো : NaCl
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, যা ঐ পদার্থের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখে তাকে অণু বলে।
পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম, যার অর্থ হলো অবিভাজ্য বা যা ভাঙা যায় না।
ক্যালসিয়াম অক্সাইডের সংকেত হলো : CaO
মৌলিক পদার্থের ল্যাটিন, গ্রিক বা ইংরেজি নামের একটি বা দুইটি আদ্যক্ষর দ্বারা প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত রূপকে প্রতীক বলে।
সোডিয়াম কার্বনেটের সংকেত হলো: Na2CO3।
সোডিয়ামের ল্যাটিন নাম হলো ন্যাট্রিয়াম (Natrium)।
লোহা জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিতে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে লালচে বাদামি বর্ণের যে আর্দ্র আয়রন অক্সাইডের আস্তরণ তৈরি করে তাকে মরিচা বলে।
অক্সিজেন (O) মৌলের প্রোটন সংখ্যা ৮।
মরিচার সংকেত হলো: Fe2O3 3H2O |
একই মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে যে অণু গঠন করে তাকে মৌলিক অণু বলে।
দুই বা ততোধিক ভিন্নধর্মী মৌলিক পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে যে অণু গঠন করে তাকে যৌগিক অণু বলে।
যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
জন ডাল্টনকে আধুনিক পরমাণুবাদের জনক বলা হয়।
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের অণুর সংক্ষিপ্ত প্রকাশকে সংকেত বলা হয়।
চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত হলো: CaCO3।
এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা হলো ১১৮টি।
নাইট্রোজেনের সংকেত হলো : N2।
লোহার ল্যাটিন নাম হলো: Ferrum ।
যে দ্রাবক জৈব ও অজৈব অনেক দ্রবকে দ্রবীভূত করে, যা অন্য কোনো দ্রাবক করতে পারে না তাকে সার্বজনীন দ্রাবক বলে।
ভিনিগারের রাসায়নিক নাম হলো: এসিটিক এসিড।
খাবার সোডার সংকেত হলো: NaHCO3 |
খাবার লবণের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)।
১টি জৈব দ্রাবকের নাম হলো স্পিরিট।
চকের রাসায়নিক সংকেত হলো CaCO3।
জানা আছে, যে সকল পদার্থ একটি মাত্র উপাদান দ্বারা তৈরি, তাদেরকে বলা হয় মৌলিক পদার্থ। এক টুকরা তামা (Cu) মূলত ছোটো ছোটো তামার কণা দ্বারা তৈরি। তামাকে ভাঙলে শুধু তামারই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যায়। অর্থাৎ তামাতে একটি মাত্র উপাদান বিদ্যমান। তামার টুকরোতে তামা (Cu) এর ক্ষুদ্র কণাসমূহ নিয়মিত সজ্জায় থাকে, তাতে অন্য কোনো মৌল থাকে না। তাই বলা যায় তামা একটি মৌলিক পদার্থ।
জানা আছে, যেসব পদার্থ একের অধিক ভিন্নধর্মী উপাদান বা মৌলিক পদার্থ দিয়ে তৈরি তাদেরকে বলা হয় যৌগিক পদার্থ। আয়রন অক্সাইড (F2O3) যৌগটি জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে মৌলিক পদার্থ লোহার সাথে বায়ুর মৌলিক উপাদান অক্সিজেন এর বিক্রিয়ায় আয়রন অক্সাইড (Fe2O3) যৌগটি সৃষ্টি হয়েছে। একে বলা হয় মরিচা। যেহেতু একাধিক মৌলিক পদার্থ (Fe ও O2) মিলে যৌগটি সৃস্টি হয়েছে। তাই বলা যায়, এটি যৌগিক পদার্থ।
পরমাণুর দুইটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. পরমাণু সাধারণত স্বাধীন বা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না।
২. পরমাণু একে অন্যের সাথে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।
জানা আছে, প্রতীক সাধারণত মৌলের ল্যাটিন, গ্রিক বা ইংরেজি নামের একটি বা দুটি আদ্যক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। একটি অক্ষর দ্বারা প্রকাশিত প্রতীকের ক্ষেত্রে সর্বদাই বড় হাতের অক্ষর আর দুটি অক্ষর দিয়ে প্রকাশিত প্রতীকের ক্সেত্রে প্রথমটি বড় হাতের অক্ষর এবং পরেরটি ছোট হাতের অক্ষরের হয়। বেরিলিয়ামের ইংরেজি নাম Berylium। তাই এর প্রতীক হিসেবে দুটি আদ্যক্ষর, যার ১মটি বড় হাতের অক্ষর এবং পরেরটি ছোট হাতের অক্ষর নিয়ে গৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ বেরিলিয়ামের প্রতীক Be।
কঠিন বা তরল মৌলিক পদার্থের ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়, অনেক পরমাণু একসাথে থাকে, কোনো অণু গঠন করে না। তাই এ ধরনের মৌলের ক্ষেত্রে অণুর সংকেত লেখাও হয় না। এদের শুধু প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যেমন সোডিয়াম, লোহা, কার্বন, কপার ইত্যাদির সংকেত হয় না; এদের প্রতীক হচ্ছে সোডিয়াম- Na, লোহা -Fe, কার্বন – C। তবে গ্যাসীয় মৌলসমূহের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি পরমাণু যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে। এজন্য এদের প্রতীকের ডানপাশে পরমাণুর সংখ্যা উল্লেখ করে সংকেত লেখা হয়। যেমন নাইট্রোজেন গ্যাসের সংকেত = N2 অক্সিজেন এর সংকেত O2।
জানা আছে, ভিন্নধর্মী মৌলের দুটি বা তার বেশি পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে যে অণু গঠন করে তাকে যৌগিক অণু বলে। নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO2) এর অণু একটি নাইট্রোজেন (N) পরমাণু ও দুইটি অক্সিজেন (O) পরমাণু দ্বারা গঠিত। অর্থাৎ NO2 এর অণু দুইটি ভিন্নধর্মী মৌলের পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে বলে একে যৌগিক অণু বলা হয়।
যে সকল পদার্থে একাধিক যৌগিক ও মৌলিক পদার্থ বিদ্যমান তাদেরকে মিশ্র পদার্থ বলে। বায়ুতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জলীয় বাষ্পসহ বিভিন্ন মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ থাকে। অর্থাৎ বায়ুতে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন ইত্যাদি মৌলিক পদার্থ এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জলীয় বাষ্প ইত্যাদি যৌগিক পদার্থ বিদ্যমান থাকায় একে মিশ্র পদার্থ বলা হয়।
জানা আছে, দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ মিলে যৌগিক পদার্থ উৎপন্ন করে। NH3 (অ্যামোনিয়া) পদার্থটি দুটি মৌলিক পদার্থ নাইট্রোজেন (N) ও হাইড্রোজেন (H) মিলে গঠিত। অর্থাৎ অ্যামোনিয়াকে বিশ্লেষণ করলেও দুটি মৌল অর্থাৎ N ও H পাওয়া যায়।
সুতরাং, NH3 (অ্যামোনিয়া) একটি যৌগিক পদার্থ।
অণু ও পরমাণুর মধ্যে দুইটি পার্থক্য নিম্নরূপ :
| অণু | পরমাণু |
| ১. অণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। | ১. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। |
| ২. অণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। | ২. পরমাণু স্লাধীন অবস্থায় থাকতে পারে না। |
F ও এর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ-
| F | |
| ১. F দ্বারা ফ্লোরিনের প্রতীক বুঝায়। | ১. দ্বারা ফ্লোরিনের সংকেত বুঝায়। |
| ২. F প্রতীক, একটি পরমাণু নির্দেশ করে। | ২. সংকেত একটি অণু নির্দেশ করে। |
| ৩. F রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে। | ৩. সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায়' অংশগ্রহণ করতে পারে না। |
কয়লা হচ্ছে কার্বনের একটি রূপ। আর কার্বন একটি মৌলিক পদার্থ। যেহেতু কয়লা শুধু কার্বন দিয়ে তৈরি এবং কয়লাকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে কার্বন ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না, তাই কয়লা একটি মৌলিক পদার্থ।
পদার্থের ভিন্নতার প্রধান কারণ হলো এর উপাদান (constituent)। এছাড়া পদার্থের গঠন (structure) এর উপরও এদের ধর্ম নির্ভর করে। একেক পদার্থের উপাদান ও গঠন একেক রকম বলে তারা দেখতে ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়। ধর্ম অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পদার্থ ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।
অক্সিজেন (O) পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা ৮ । তাই এর ইলেকট্রন সংখ্যাও ৮ এবং নিউট্রন সংখ্যাও ৮ । O পরমাণুটির কেন্দ্রে ৮টি প্রোটন ও ৮ টি নিউট্রন থাকে আর বাইরে ৮ টি ইলেকট্রন ঘূর্ণায়মান থাকে।

CaCO3 সংকেতটির ২টি তাৎপর্য হলো-
১. CaCO3 যৌগটি দ্বারা ক্যালসিয়াম কার্বনেট বা চুনাপাথরকে বুঝায়।
২. CO3 পরমাণুগুচ্ছ বা যৌগমূলকটি ক্যালসিয়াম (Ca) ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) গঠন করে।
Na2SO4 সংকেতটির ২টি তাৎপর্য হলো-
(i) Na2SO4 যৌগটি দ্বারা সোডিয়াম সালফেট নামক একটি লবণকে বুঝায়।
(ii) Na2SO4 যৌগটিতে ২টি সোডিয়াম (Na) পরমাণু, ১টি সালফার
(S) পরমাণু ও ৪টি অক্সিজেন (O) পরমাণু রয়েছে।
পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। জানা আছে, পরমাণুতে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন থাকে। ইলেকট্রন ঋণাত্মক এবং প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত। অন্যদিকে নিউট্রন আধান নিরপেক্ষ। একটি পরমাণু তখনই আধান নিরপেক্ষ হবে যখন এতে সমান সংখ্যক ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধান থাকবে। এজন্যই পরমাণুতে সমান সংখ্যক ইলেকট্রন ও প্রোটন থাকে।
Related Question
View Allকার্বন একটি মৌলিক পদার্থ। যেহেতু কার্বনকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে কার্বন ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না, তাই কার্বন একটি মৌলিক পদার্থ।
উদ্দীপকের ১ নং পদার্থটির রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড। এটি খাবার লবণ নামেও পরিচিত। এর সংকেত: NaCl.
গঠন প্রক্রিয়া: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি যৌগিক পদার্থ। এটি দুটি মৌলিক পদার্থ সোডিয়াম (Na) ও ক্লোরিন (CI) দ্বারা গঠিত। সংকেত থেকে দেখা যায় যে, সোডিয়াম ক্লোরাইড যৌগটি একটি Na ও একটি CI পরমাণু দ্বারা গঠিত। অর্থাৎ NaCl কে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে একটি সোডিয়াম ও একটি ক্লোরিন পরমাণু পাওয়া যাবে। আবার বলা যায় যে, একটি সোডিয়াম পরমাণু ও একটি ক্লোরিন পরমাণু মিলে একটি সোডিয়াম ক্লোরাইড অণু গঠন করে। অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি অণুতে মোট দুটি পরমাণু রয়েছে।

ছকের ২নং পদার্থটি (ফ্লোরিন) মৌলিক অণু। অর্থাৎ ফ্লোরিন মৌলিক পদার্থ। কারণ ফ্লোরিন কে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে ফ্লোরিন ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না।
এক্ষেত্রে ২টি ফ্লোরিন পরমাণু মিলে ফ্লোরিন অণু গঠিত হয়।

আবার ছকের ৩নং পদার্থটি ১টি C (কার্বন) ও ২টি O (অক্সিজেন) পরমাণু দ্বারা গঠিত একটি যৌগিক পদার্থ (কার্বন ডাইঅক্সাইড)। উৎপন্ন এর ধর্ম C ও O পরমাণু থেকে ভিন্ন। আবার যৌগটিকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে দুটি অক্সিজেন পরমাণু এবং একটি কার্বন পরমাণু পাওয়া যায়। জানা আছে, যে পদার্থকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে একাধিক ভিন্নধর্মী মৌল পাওয়া যায় সেই পদার্থটি যৌগিক পদার্থ। তাই (কার্বন ডাইঅক্সাইড) একটি যৌগিক পদার্থ।
পরমাণু হলো ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন মৌলিক কণিকা দ্বারা গঠিত অতি ক্ষুদ্র কণা।
O এবং O2 এর মধ্যে পার্থক্য নিচে দেখানো হলো-
| O2 | |
| ১. O হচ্ছে অক্সিজেনের একটি পরমাণু। | ১. O2 হচ্ছে অক্সিজেনের একটি অণু, যা দুটি পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। |
| ২. O সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। | ২. O2 সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
