বৈদিক যুগের ঋষি-কবিরা তাদের মন্ত্রের মাধ্যমে দেব-দেবীদের রূপের ধারণা দিয়েছেন।
পূজা-পার্বণ উপলক্ষে যে আলপনা আঁকা হয় তার সৌন্দর্য
আমাদেরকে অবাক করে দেয়।
দেবীপক্ষের অর্থাৎ আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ঠিক আগের কৃষ্ণপক্ষকে বলা হয় অপরপক্ষ।
মহালয়া প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে, তাঁদের শ্রদ্ধা জানানোর তিথি। এ তিথিতে আনুষ্ঠানিকভাবে' প্রয়াত পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।
দোলযাত্রায় শুক্লা পূর্ণিমাতে রাধাকৃষ্ণের প্রতিমা দোলায় রেখে আবির কুমকুমে রাঙানো-হয়।
হিন্দুধর্মকে কেন্দ্র করে এ সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে গড়ে উঠেছে। যুগের পর যুগ ধরে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। কালের ছোবলে অনেক কিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও যা কিছু রয়েছে, তার মূল্য অপরিসীম। অতীতের কৃতি, অতীতের প্রজন্মের এ অবদানকে বলা হয় ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যকে অবলম্বন করে নতুন সাংস্কৃতিক উপকরণ নির্মিত হয়। পূজা-পার্বণ, উৎসব-অনুষ্ঠান ও মঠ-মন্দির প্রভৃতির স্থাপত্য-নকশা কিংবা প্রতিমা নির্মাণের ঐতিহ্য গর্ব করার মতো।
দেবীপক্ষের অর্থাৎ 'আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ঠিক আগের কৃষ্ণপক্ষকে বলা হয় অপরপক্ষ। এ' অপরপক্ষের অমাবস্যা তিথিকে বলা হয় মহালয়া। মহালয়া হচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী উৎসব। অন্যদিকে, এ তিথিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রখ্যাত পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। মহালয়া উপলক্ষে সংগীতানুষ্ঠান, আলোচনা সভা প্রভৃতির আয়োজন করা হয়। মোটকথা অকৃতজ্ঞচিত্তে পূর্বপুরুষদের, স্মরণ এবং দেবী দুর্গার আগমনী ঘোষণাই মহালয়ার মূল উদ্দেশ্য।
হিন্দুদের নানা উপকরণে আছে নানা ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য। পূজা-পার্বণ উপলক্ষে যে আলপনা আঁকা হয়, তার সৌন্দর্য কীর্তনের সুর-তাল-লয়, বিভিন্ন প্রকার বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার, নৃত্য, নাট্য প্রভৃতির মধ্য দিয়ে শিল্পচর্চা ও ঐতিহ্যের প্রকাশ পেয়েছে।
বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে এমন একটি হিন্দুধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের নাম হচ্ছে দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির। এ মন্দিরগাত্রে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি, বিবাহ, যুদ্ধযাত্রা, নৌবিহার প্রভৃতি পোড়ামাটির ফলকে খোদাই করা হয়েছে। যা থেকে 'প্রাচীন সাহিত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন পাওয়া যায়। তাছাড়াও পোড়ামাটির ফলকে খোদাই করা এসব চিত্রে ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে। তাই এ মন্দিরকে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে গ্রহণ করা হয়েছে।
ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে দোলযাত্রা উৎসব শুরু হয়। এদিন রাধাকৃষ্ণের পূজা করা হয়। পরের দিন শুক্লা পূর্ণিমাতে রাধাকৃষ্ণের প্রতিমা দোলায় রেখে আবির কুমকুমে রাঙানো হয়। পরের দিন আনুষ্ঠিত হয় হোলি খেলা। একে অন্যের গায়ে রং ছিটিয়ে আনন্দ করা হয়। তারপর রাধাকৃষ্ণের প্রতিমাসহ মন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। আরেক জায়গায় প্রতিমাকে নিয়ে দোলায় চড়ানো হয়। এজন্য এ উৎসবটিকে বলে দোলযাত্রা। দোলযাত্রা উপলক্ষে একজনকে 'সঙ' বা হোলির রাজা সাজানো হয়। তারপর তাকে নিয়ে দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি ঘুরে আনন্দ করা হয়। দোলযাত্রার মধ্য দিয়ে সামাজিক মিলন, সংহতি ও সৌহার্দ প্রকাশ পায়। দোলযাত্রা
হিন্দুদের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব।
চৈত্রসংক্রান্তি বাংলা বছরের শেষ দিন। এদিন পুরাতন বছরকে বিদায় দেওয়ার এক উৎসবমুখর দিন। ধর্মীয়ভাবে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতির মধ্য দিয়ে চৈত্রসংক্রান্তি উদ্যাপিত হয়। এ উৎসবে শিবের গাজন এবং গাজনের মেলার পাশাপাশি চড়ক পূজা হয়। এতে সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সকল গোত্রের মানুষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়। তাই চৈত্রসংক্রান্তি কেবল ধর্মীয় . অনুষ্ঠান নয় তা সকলের এক মিলন মেলা।
হিন্দুধর্ম তার অনুসারীদের মধ্যে যেসব নৈতিক গুণের বিকাশ ঘটিয়েছে তা হলো-
১. সকল ধর্মকে সত্য বলে ভাবতে শিখিয়েছে।
২. জীবকে ঈশ্বর জ্ঞানে সেবা করতে অনুপ্রাণিত করেছে।
৩. মন্ত্র, শ্লোক, উপখ্যান প্রভৃতির মধ্য দিয়ে নেতিক আদর্শ প্রচার করেছে।
৪. ভালো মানুষ হওযার প্রেরণা যুগিয়েছে।
ঐতিহ্য বলতে বোঝায় অতীতের কৃতি ও অতীতের প্রজন্মের অবদানকে। আর এ ঐতিহ্যকে অবলম্বন করেই নতুন সাংস্কৃতিক উপকরণ নির্মিত হয়। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অনুসরণে আমি যা করব তা হলো-
১. আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করব।
২. সংস্কৃতির অনুসরণে জীবন পরিচালনা করব।
৩. আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিবাসীর সামনে তুলে ধরব।
৪. আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ববোধ করব।.
দুর্গাপূজার আগমনী উৎসব মহালয়া সম্পর্কে বলা যায়-
১. মহালয়া প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের শ্রদ্ধা জানানোর তিথি।
২. এটি দুর্গাপূজার আগমনী উৎসব।
৩. মহালয়া ঘোষণা দেয় মা আসছেন।
৪. মহালয়া উপলক্ষে পূর্বপুরুষদের স্মৃতি তর্পণ করা
৫. এর মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়।
ধর্মক্ষেত্র, মন্দির পূজা-পার্বন প্রভৃতির মধ্যে ধর্ম ও জীবনের বিভিন্ন উপকরণ রয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দুধর্মের যেসব উপকরণ রয়েছে তার মধ্যে কান্তজির মন্দির অন্যতম। দিনাজপুরের কান্তজি মন্দিরগাত্রের কারুকাজ অপূর্ব। রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি, বিবাহ, যুদ্ধযাত্রা, নৌ-বিহার প্রভৃতি বিষয়ের চিত্র পোড়ামাটির ফলকে মন্দিরগাত্রে খোদাই করা আছে। অপূর্ব কারুকাজের জন্য এটি আমাদের ঐতিহ্যের একটি নিদর্শন।
বাংলা বছরের শেষ দিনকে চৈত্রসংক্রান্তি বলা হয়। বাংলা বছরের শেষ দিন আমি করি এমন কাজ হলো-
১. ধর্মীয়ভাবে স্নান ও দান করি।
২. ব্রত ও উপবাস করি।
৩. গাজনের মেলায় অংশ নেই।
৪. বাড়িতে চড়ক পূজার আয়োজন করি।
৫. শিবের গাজন করি।
Related Question
View Allহিন্দুধর্ম তার অনুসারীদের মধ্যে নৈতিক গুণের বিকাশ ঘটিয়েছে। গুণের।
দেব-দেবীদের রূপের ধারণা দিয়েছেন ঋষি-কবিরা।
ধর্মসংগীতের মধ্য দিয়ে শিল্পচর্চার পরিচয় পাওয়া যায়।.
মহালয়া ঘোষণা দেয় দেবী দুর্গার আগমনী।
এ-সকল ঐতিহ্যকে আমরা সংরক্ষণ করে রাখব।
মহালয়ায় প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!