সংখ্যাভিত্তিক কোনো তথ্য বা ঘটনা হচ্ছে একটি পরিসংখ্যান। আর তথ্য বা ঘটনা নির্দেশক সংখ্যাগুলো হচ্ছে পরিসংখ্যানের উপাত্ত। ধরা যাক একটি দলে ৭ জন সদস্যের বয়স হলো ১৮, ২০, ২৫, ১৯, ২৩, ২৬, ২৪। এখানে বয়স নির্দেশিত সংখ্যাসমূহ একটি পরিসংখ্যান। আর সংখ্যাগুলো হলো এ পরিসংখ্যানের' উপাত্ত।
সংগৃহীত উপাত্তগুলো যদি এলোমেলোভাবে সাজানো থাকে তবে তাকে অবিন্যস্ত উপাত্ত বলে।
যেমন- ১৫, ১০, ১১, ২৪, ১৮, ৯, ২২, ২৫, ১৩, ১৬, ৭
উপাত্ত যদি মানের কোনো ক্রমে সাজানো থাকে তবে তাকে বিন্যস্ত উপাত্ত বলে।
যেমন- ৭, ৯, ১০, ১১, ১০, ১৫, ১৬, ১৮, ২২, ২৪, ২৫
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উপাত্তের দুটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
| প্রাথমিক উপাত্ত | মাধ্যমিক উপাত্ত |
| প্রাথমিক উপাতে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হয়। | মাধ্যমিক উপাত্তে পরোক্ষ উৎস হতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। |
| প্রাথমিক উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা বেশি | মাধ্যমিক উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা কম। |
গণসংখ্যা: শ্রেণিসমূহের মধ্যে সংখ্যা সূচক তথ্যরাশির হ মানগুলো ট্যালি চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয় এবং এর মাধ্যমে গণসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। যে শ্রেণিতে যতগুলো ট্যালি চিহ্ন পড়বে তত হবে ঐ শ্রেণির গণসংখ্যা।
গণসংখ্যা নিবেশন সারণি: শ্রেণি বিন্যাসের মাধ্যমে অবিন্যস্ত উপাত্তসমূহ বিন্যস্ত উপাত্তে পরিণত করতে যে সারণিতে উপস্থাপন করা হয় তাই গণসংখ্যা নিবেশন সারণি।
যেকোনো শ্রেণির ঊর্ধ্বসীমা ও নিম্নসীমার ব্যবধান হলো সেই শ্রেণির শ্রেণিব্যাপ্তি। উদাহরণস্বরূপ: মনে করি, ২১-৪০ হলো একটি শ্রেণি। এর সর্বনিম্ন মান ২১ ও সর্বোচ্চ মান ৪০ এবং শ্রেণিব্যাপ্তি হবে (৪০-২১) + ১ = ২০।
উপাত্ত গণসংখ্যা সারণি তৈরি করার ধাপসমূহ-
১. পরিসর নির্ণয়;
২. শ্রেণিসংখ্যা নির্ণয়;
৩. শ্রেণিব্যাপ্তি নির্ণয়;
৪. ট্যালি চিহ্নের সাহায্যে গণসংখ্যা নির্ণয়
এখানে, সর্বনিম্ন সংখ্যা ৪১ ও সর্বোচ্চ সংখ্যা ৯০
পরিসর = (সর্বোচ্চ মান - সর্বনিম্ন মান) + ১
= (৯০ - ৪১) + ১ = ৫০ (উত্তর)
প্রদত্ত উপাত্তের সর্বনিম্ন সংখ্যা = ৯
এবং উপাত্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা = ৪৭
উপাত্তের পরিসর = (৪৭ - ৯) + ১ = ৩৯ (উত্তর)
এখানে উপাত্তসমূহ ঊর্ধ্বক্রমে সাজানো।
এখানে, উপাত্তের সর্বনিম্ন সংখ্যা = ক এবং উপাত্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা = ৭৮
উপাত্তের পরিসর = (৭৮ – ক) + ১ -বা ৬৩ = ৭৯ - ক
ক = ১৬ (উত্তর)
এখানে, উপাত্তের সর্বনিম্ন সংখ্যা = ১০ এবং উপাত্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা = ৩৯
.. উপাত্তের পরিসর = (৩৯ - ১০) + ১ = ৩০
শ্রেণিসংখ্যা = শ্রেণি পরিসর/শ্রেণি ব্যাপ্তি = = ৪.২৯ ৫
উপাত্তগুলোকে ৫টি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা যাবে। (উত্তর)
দেওয়া আছে, সর্বনিম্ন সংখ্যা ১৫, শ্রেণিব্যাপ্তি = ৫,
শ্রেণিসংখ্যা = ৮টি
![]()
বা , পরিসর = শ্রেণিসংখ্যা × শ্রেণিব্যাপ্তি
আবার, পরিসর = (সর্বোচ্চ সংখ্যা - সর্বনিম্ন সংখ্যা) + ১ = শ্রেণিসংখ্যা × শ্রেণি ব্যাপ্তি বা, সর্বোচ্চ সংখ্যা ১৫+১= ৮০৫
সর্বোচ্চ সংখ্যা ৪০+১৪= ৫৪ (উত্তর)
পরিসংখ্যানের উপাত্তসমূহ উপযুক্ত শ্রেণিতে বিভক্ত করে বৃত্তের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অংশে প্রকাশ করলে যে লেখচিত্র পাওয়া যায় তাই বৃত্তলেখ বা পাই চিত্র।
আয়তলেখ আঁকতে X অক্ষ বরাবর শ্রেণিব্যাপ্তি এবং অক্ষ বরাবর গণসংখ্যা নেওয়া হয়।
দেওয়া আছে, ৮০০ জনের মধ্যে বালিকা = ২০০ জন পাই চিত্রে ২০০ জনের জন্য অধিকৃত কোণ =
নির্ণেয় পাই চিত্র

দেওয়া আছে, মোট নম্বর = ৯০০ এবং পাইচিত্রে নির্দেশিত কোণ = ১২০° আমরা জানি,
কেন্দ্রে সৃষ্ট মোট কোণ = ৩৬০° তাহলে,
৩৬০° এর জন্য ৯০০ নম্বর
১° এর জন্য নম্বর নম্বর
১২০° এর জন্য নম্বর নম্বর
= ৩০০নম্বর (উত্তর)
সর্বাধিক ১৭ জন ছাত্র ৭০-৮০ নম্বর পায়। উক্ত শ্রেণির উচ্চসীমা ৮০ ও নিম্নসীমা ৭০।

উপাত্তসমূহ মাঝামাঝি বা কেন্দ্রের মানের দিকে পুঞ্জিভূত হয়। মাঝামাঝি বা কেন্দ্রীয় মানের দিকে উপাত্তসমূহের পুঞ্জিভূত হওয়ার প্রবণতাকে কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলে।
ধরা যাক, কোনো একজন ছাত্রীর ৫ বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর হলো-১২, ২৬, ১০, ৩০, ২২
সে গড়ে = = ২০ নম্বর পেয়েছে। এই ২০ মানটিই হচ্ছে ৫ কেন্দ্রীয় প্রবণতা।
কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপ ৩টি। যথা:
(i) গাণিতিক গড় বা গড়
(ii) মধ্যক ও
(iii) প্রচুরক

প্রথম ৮টি ক্রমিক স্বাভাবিক জোড় সংখ্যাগুলো হচ্ছে: ২, ৪, ৬, ৮, ১০, ১২, ১৪, ১৬।
সংখ্যাগুলোর সমষ্টি = ২+৪+৬+৮+১০+১২+১৪ + ১৬ = ৭২
গড় = = ৯ (উত্তর)
এখানে, উপাত্ত সংখ্যা = ১২

বা, ২৬ = (ক+১০+১২+২৫+৪৫+২ক+২+৪০+১৮+৩৬+২ক+১৪+৩৫) ÷ ১২
বা, ৫ক + ২৩৭ = ৩১২
ক = = ১৫ (উত্তর)
এখানে, উপাত্ত সংখ্যা = ১৫

= (২৫ + ১৮ + ১৭+১৯+২১+৩৫+২৯+৭৫+৩৬+৪৫ + ৩৫+১২+৭০+৭২+৬৫) ÷ ১৫
= ৫৭৪ ÷ ১৫ = ৩৮.২৬৭ (প্রায়)
| xi | fi | fixi |
| ৩৫ | ২ | ৭০ |
| ৪৫ | ২ | ৯০ |
| ৫০ | ৫ | ২৫০ |
| n = ৯ | fixi = ৪১০ |

মধ্যক: উপাত্তসমূহকে মানের ক্রমানুসারে সাজালে যে মানগুলি উপাত্তকে সমান ভাগে ভাগ করে তাকে মধ্যক বলে।
যেমন: ১, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮, ৯ ঊর্ধ্বক্রমে সাজানো ৭টি উপাত্তের মধ্যে মধ্যক হচ্ছে ৫,কারণ ৫ উপাত্তসমূহকে সমান দুইভাগে বিভক্ত করেছে।
| শ্রেণিব্যাপ্তি | গণসংখ্যা | ক্রমযোজিত গণসংখ্যা |
| ১১-২০ | ৬ | ৬ |
| ২১-৩০ | ৮ | ১৪ |
| ৩১-৪০ | ২ | ১৬ |
| ৪১-৫০ | 8 | ২০ |
এখানে, n = ২০
মধ্যক = তম পদ = ১০ তম পদ
১০তম পদ আছে (২১-৩০) শ্রেণিতে।
মধ্যক শ্রেণি (২১-৩০) (উত্তর)
উপাত্তসমূহকে মানের ঊর্ধ্বক্রমে সাজিয়ে পাই, ৯, ১৩, ১৮, ২২, ২৫, ৫৩, ৫৪, ৫৬, ৫৮, ৫৮, ৬৫, ৬৮, ৭৭, ৭৮ এখানে, মোট উপাত্ত ১৪টি অর্থাৎ জোড়
সংখ্যক।
মধ্যক হবে তম পদ বা ৭ম পদ এবং তম বা ৮ম পদের গড়
মধ্যক = =৫৫ (উত্তর)
এখানে, মোট উপাত্ত ১০টি অর্থাৎ, জোড় সংখ্যক।
মধ্যক হবে তম বা ৫ম এবং তম বা ৬ষ্ঠ পদের গড়
মধ্যক = বা, ৪৬ =
বা, ২ক = (৪৬
× ২)+ ৮ বা, ক = = ৫০ (উত্তর)
কোনো তথ্যসারিতে যে মানটি সর্বাধিক সংখ্যকবার থাকে তাকে ঐ তথ্যসারির প্রচুরক বলে।
যেমন, কোনো তথ্যসারির মানগুলো ১. ৫. ৪, ৪, ৬, ৭, ৫, ৬, ৫, ৪ হলে তথ্যসারিতে ৪ ও ৫ সংখ্যা দুইটি সর্বাধিক সংখ্যকবার রয়েছে। সুতরাং উপাত্তের প্রচুরক ৪ এবং ৫।
সারণি হতে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি গণসংখ্যা আছে (৩১-৪০) শ্রেণিতে। অতএব, প্রচুরক শ্রেণি (৩১ – ৪০)
শ্রেণি মধ্যমান = = ৩৫.৫ (উত্তর)
উপাত্তসমূহকে মানের ঊর্ধ্বক্রমে সাজিয়ে পাই,
৪৮, ৫৩, ৫৪, ৫৬, ৫৮, ৫৮, ৬৩, ৬৪, ৬৪, ৬৪, ৬৫, ৬৮, ৭৭, ৭৮, ৮২ এখানে, ৬৪ সর্বাধিক সংখ্যক ৩ বার আছে।
প্রচুরক ৬৪। (উত্তর)
Related Question
View Allসংখ্যাভিত্তিক কোনো তথ্য বা ঘটনা হচ্ছে একটি পরিসংখ্যান। আর তথ্য বা ঘটনা নির্দেশক সংখ্যাগুলো হচ্ছে পরিসংখ্যানের উপাত্ত। ধরা যাক একটি দলে ৭ জন সদস্যের বয়স হলো ১৮, ২০, ২৫, ১৯, ২৩, ২৬, ২৪। এখানে বয়স নির্দেশিত সংখ্যাসমূহ একটি পরিসংখ্যান। আর সংখ্যাগুলো হলো এ পরিসংখ্যানের' উপাত্ত।
সংগৃহীত উপাত্তগুলো যদি এলোমেলোভাবে সাজানো থাকে তবে তাকে অবিন্যস্ত উপাত্ত বলে।
যেমন- ১৫, ১০, ১১, ২৪, ১৮, ৯, ২২, ২৫, ১৩, ১৬, ৭
উপাত্ত যদি মানের কোনো ক্রমে সাজানো থাকে তবে তাকে বিন্যস্ত উপাত্ত বলে।
যেমন- ৭, ৯, ১০, ১১, ১০, ১৫, ১৬, ১৮, ২২, ২৪, ২৫
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উপাত্তের দুটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
| প্রাথমিক উপাত্ত | মাধ্যমিক উপাত্ত |
| প্রাথমিক উপাতে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হয়। | মাধ্যমিক উপাত্তে পরোক্ষ উৎস হতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। |
| প্রাথমিক উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা বেশি | মাধ্যমিক উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা কম। |
গণসংখ্যা: শ্রেণিসমূহের মধ্যে সংখ্যা সূচক তথ্যরাশির হ মানগুলো ট্যালি চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয় এবং এর মাধ্যমে গণসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। যে শ্রেণিতে যতগুলো ট্যালি চিহ্ন পড়বে তত হবে ঐ শ্রেণির গণসংখ্যা।
গণসংখ্যা নিবেশন সারণি: শ্রেণি বিন্যাসের মাধ্যমে অবিন্যস্ত উপাত্তসমূহ বিন্যস্ত উপাত্তে পরিণত করতে যে সারণিতে উপস্থাপন করা হয় তাই গণসংখ্যা নিবেশন সারণি।
যেকোনো শ্রেণির ঊর্ধ্বসীমা ও নিম্নসীমার ব্যবধান হলো সেই শ্রেণির শ্রেণিব্যাপ্তি। উদাহরণস্বরূপ: মনে করি, ২১-৪০ হলো একটি শ্রেণি। এর সর্বনিম্ন মান ২১ ও সর্বোচ্চ মান ৪০ এবং শ্রেণিব্যাপ্তি হবে (৪০-২১) + ১ = ২০।
উপাত্ত গণসংখ্যা সারণি তৈরি করার ধাপসমূহ-
১. পরিসর নির্ণয়;
২. শ্রেণিসংখ্যা নির্ণয়;
৩. শ্রেণিব্যাপ্তি নির্ণয়;
৪. ট্যালি চিহ্নের সাহায্যে গণসংখ্যা নির্ণয়
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
