ব্রিটিশ শাসন থেকে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে পাকিস্তান ছিল পশ্চিম ও পূর্ব এই দুই ভাগে বিভক্ত, যা একে অপরের থেকে বহুদূরে। অবস্থিত। যার পূর্বাংশে ছিল বাঙালি মুসলমান ও হিন্দুদের আবাস।
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রদত্ত একটি মতবাদ হলো দ্বিজাতি তত্ত্ব। ভারতীয় উপমহাদেশের দুটি বৃহত্তর জাতি যথা: মুসলিম ও হিন্দু জনগোষ্ঠীর আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি রাজনৈতিক তত্ত্বই হলো দ্বিজাতি তত্ত্ব। এ তত্ত্বের ভিত্তিতেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী, দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাষাকে সংখ্যাগুরু বাঙালির ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। ফলে বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষা বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন গড়ে তোলে।
মাতৃভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় আপসহীন যে ছাত্র-জনতা ১৯৫২ সালের ২১ ও ২২শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে শহিদ হন, তারাই ভাষা শহিদ। উল্লেখযোগ্য ভাষা শহিদ ছিলেন- রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম, শফিউরসহ আরও অনেকে।
বাঙালি সম্পর্কে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন- 'আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব কথা। প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ দিয়েছেন যে, তা মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই।'
পুলিশের গুলিতে ঢাকা মেডিকেলের সামনে ভাষা শহিদরা শহিদ হলে মেডিকেলের ছাত্র-ছাত্রীরা সেখানেই একটি শহিদ মিনার তৈরি করে। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে অস্থায়ী মিনারটিকে বড়ো করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
বাঙালি বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার সম্মান রক্ষা করতে পেরেছিল। শেষ পর্যন্ত পূর্ববাংলার আইনসভা বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দানের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
ভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তাই এখন প্রতিবছর এ দিনটিতে পৃথিবীর সকল জাতি নিজ নিজ মাতৃভাষাকে বিশেষ সম্মান জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।
১৯৫৪ সালে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দ যে জোট গঠন করে তাই যুক্তফ্রন্ট। দলগুলো ছিল- আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম, গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফতে রব্বানী পার্টি।
যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন বাংলার তিন প্রবীণ নেতা শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ঘোষিত কর্মসূচি হলো ২১ দফা। এতে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি, জমিদারি প্রথা বাতিল, পাটশিল্প জাতীয়করণ, সমবায়ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা, মাতৃভাষার মাধ্যমে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাদান ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদ নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২৩৬টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। যুক্তফ্রন্টের এ বিজয়কে দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকাগুলো 'ব্যালট বিপ্লব' বলে আখ্যায়িত করে।
শরিফ কমিশন প্রণীত শিক্ষানীতিতে কয়েকটি বিতর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যেমন- বাংলার বদলে পাকিস্তানের দুই অংশের জন্য উর্দুভাষা চালু করা, অবৈতনিক শিক্ষা বাতিল করা প্রভৃতি। ফলে ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার এ শিক্ষানীতি বাতিল করতে বাধ্য হয়।
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালির সব ধরনের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষিত কর্মসূচিই ছয় দফা কর্মসূচি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত স্বায়ত্তশাসন দাবি করা হয়।
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি সম্পূর্ণ পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা প্রচলন করতে হবে। অথবা দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে পারবে না।
পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস ছিল পূর্ব পাকিস্তানে উৎপাদিত পাট বিক্রির টাকা। কিন্তু এর অধিকাংশই ব্যয় করা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে।
প্রকৃতপক্ষে ছয় দফা আন্দোলনকে নস্যাৎ করাই ছিল আগরতলা মামলার মুখ্য উদ্দেশ্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে সামরিক সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করে সকল বন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
এগারো দফা মূলত ছাত্রদের আন্দোলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ছয় দফার পাশাপাশি নতুন এগারো দফা এক দাবি নিয়ে আন্দোলনে মাঠে নামে, যা পরবর্তীতে গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
জেনারেল আইয়ুব খানের পতনের লক্ষ্যে গঠিত জোট বা শক্তি হলো ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ। ১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও জাতীয় ছাত্র ফেডারেশন ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ পরিষদ গঠন করে।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহিদরা হলেন- ক. শহিদ আসাদুজ্জামান, খ. শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক, গ. শহিদ ড. শামসুজ্জোহা।
পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা নির্মমভাবে নিহত হলে সারাদেশে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠে। আন্দোলনের তীব্রতায় ভীত হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ২৫শে মার্চ ১৯৬৯ সালে জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
১৯৭০-এর নির্বাচনে, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩টি। এরমধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬৯টি এবং বাকি আসন ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩১০টি আসন ছিল।
১৯৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আওয়ামী লীগ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মধ্যে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পায় ১৬৭টি আসন এবং পিপিপি লাভ করে ৮৮টি আসন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে আরও বেগবান করে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে বাঙালিরা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির দিক থেকে যে স্বাতন্ত্র্য দাবি করে আসছিল এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে যেন তা স্বীকৃতি পায়। বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি যে সঠিক ছিল তাও প্রমাণিত হয়।
পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যকার সম্পর্ক হয়ে যায় শোষক ও শোষিতের। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের কাছ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বৈষম্য ও শোষণের শিকার হতে থাকে। তাই তারা প্রতিবাদ করতে থাকে।
পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর স্বাধীনতা ও মুক্তির বদলে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক প্রভৃতি প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্যের মাধ্যম বাঙালিদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। ফলে বাঙালিরা এর প্রতিবাদের একপর্যায়ে মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনের ঐতিহাসিক পোস্টারের শিরোনাম ছিল- সোনার বাঙলা শ্মশান কেন? তৎকালীন আওয়ামী লীগের পক্ষে পোস্টারটি তৈরি করেন জনাব নুরুল ইসলাম এবং এঁকেছিলেন শিল্পী হাশেম খান।
১৯৪৭-৭১ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ২১১ জনের মধ্যে বাঙালি ছিলেন মাত্র ৯৫ জন। আইয়ুব খানের আমলে ৬২ জন মন্ত্রীর মধ্যে মাত্র ২২জন ছিলেন বাঙালি। এসব মন্ত্রীদের আবার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীতেও বৈষম্য ছিল। প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩টি সদর দপ্তর ও সমরাস্ত্র কারখানা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। সামরিক বাহিনীর অফিসার পদে মাত্র শতকরা ৫ ভাগ ছিল বাঙালি। সেনাবাহিনীতে বাঙালি ছিল মাত্র শতকরা ৪ ভাগ।
পূর্ব পাকিস্তান বৈদেশিক মুদ্রা বেশি আয় করলেও শতকরা ২১ ভাগের বেশি অর্থ পূর্ব পাকিস্তানে বরাদ্ধ দেওয়া হতো না। বৈদেশিক সাহায্যের শতকরা ৩৪ ভাগ পূর্ব পাকিস্তান পেতো। অথচ ঋণের বোঝা বাঙালিদের বহন করতে হতো। পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রচুর সম্পদ পাচার হতো। রপ্তানি আয়ের ২০০০ মিলিয়ন ডলার পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হয়েছিল।
১৯৬১ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটে। এবছরই 'ছায়ানট' নামের সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগীত চর্চা ও বিভিন্ন উৎসব পালনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার হতে থাকে।
১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, চালায় হত্যাযজ্ঞ। পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক রাজারবাগ পুলিশ লাইনস আক্রান্ত হয়। শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক আইন জারি করেন।
পাকিস্তানে ইস্কান্দার মির্জা সামরিক আইন জারি করেন।
আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্ররা প্রথম আন্দোলন গড়ে তোলে।
রাজনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সমন্বয়ে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়েছিল।
যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকা 'ব্যালট বিপ্লব' বলে আখ্যায়িত করে।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন।
নুরুল আমিন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
২১শে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা শহিদ মিনার তৈরি করেছিল।
পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩০৯টি।
যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালে গঠিত হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয় লাভ করে।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন পূর্ব বাংলার প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে প্রথম সর্বজনীন নির্বাচন ছিল।
এগার দফা আন্দোলন করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
১৯৬৬ সালে লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ছয় দফা কর্মসূচিতে দুই অঞ্চলের জন্য দুটি স্বতন্ত্র ব্যাংকের কথা বলা হয়েছিল।
১৯৬৬ সালে উত্থাপিত ৬ দফাভিত্তিক আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবসহ ৩৫ জনকে আসামী করে যে মামলা দায়ের করা হয় তাই আগরতলা মামলা।
আইয়ুব মোনায়েম চক্রের মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ৬ দফা আন্দোলনকে নস্যাৎ করা।
জেনারেল আইয়ুব খানের পতনের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে সর্বদলীয় 'ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়েছিল।
১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
১৯৬৯ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি 'পাকিস্তানি সৈন্যরা ড. শামসুজ্জোহাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ জেনারেল আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩টি।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ১৬৯টি আসন বরাদ্দ ছিল।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে।
পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩১০টি।
১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসন লাভ করে।
পাকিস্তানের দুই অংশের ব্যবধান ছিল এক হাজার মাইল।
পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজধানী করাচিকে করা হয়।
ছায়ানট একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন।
বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো 'স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম'।
তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে মাত্র শতকরা ৫ ভাগ বাঙালি অফিসার ছিল।
বাঙালি জাতির জীবনে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এ আন্দোলনের সিঁড়ি বেড়ে বাঙালির জীবনে আসে ৫৪-এর নির্বাচন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সর্বোপরি আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ। এ আন্দোলন বাঙালিদের এক নবজাগরণে দীক্ষিত করে এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জোগায়।
২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলা হয়। পৃথিবীতে ৭০০০-এর বেশি ভাষা রয়েছে। এদিন পৃথিবীর সব ভাষার মানুষ যেন অন্য ভাষা বা সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানায় সেই সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষার জন্য জনগণের আন্দোলন ও রক্তদানের ইতিহাসে পৃথিবীর জাতিসমূহের নিকট উপস্থাপিত হওয়ার সুযোগ হয়। পৃথিবীর সকল জাতি ২১শে ফেব্রুয়ারি নিজ নিজ ভাষার গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পেয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব অনেক।
২০শে ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ, মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে। আন্দোলনে নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা নিয়ে অনেক আলোচনা শেষে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১০ জন করে মিছিল শুরু করা হবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে।
নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের জন্য ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে 'ব্যালট বিপ্লব' বলে আখ্যায়িত করা হয়।
১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদ নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২৩৬টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অপরদিকে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন পায়। এ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে 'ব্যালট বিপ্লব' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
মুসলিম লীগের দুঃশাসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শোষণ, দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, দুর্নীতি, পাকিস্তানের দুই অংশে বৈষম্য ইত্যাদি মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা অনেক হ্রাস করে। এ দলের ওপর জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলে। পক্ষান্তরে যুক্তফ্রন্টের ওপর মানুষের আস্থা জন্মাতে শুরু হয়। এ দলের কর্মসূচিতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। ফলে যুক্তফ্রন্টের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং মুসলিম লীগের পরাজয় ঘটে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৬ সালের সংবিধানের মাধ্যমে বাংলা মাতৃভাষার স্বীকৃতি পায় এবং সর্বোপরি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ন্যায্য দাবি আদায়ে বাঙালি জাতি সফল হয়। আর সেজন্যই বাঙালির মনে জাতীয় চেতনা জোরদার হয়।
ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দ মিলে নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৫৪ সালে একটি জোট গঠন করেন, যা যুক্তফ্রন্ট নামে পরিচিত। বস্তুত ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে গোটা বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সেদিন যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল ।
৬ দফা কর্মসূচির প্রধান দাবি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন। এ ৬ দফা শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৬টি দাবিসংবলিত একটি কর্মসূচি। এ দাবি ছিল অধিকার বঞ্চিত বাঙালির অধিকার আদায়ের দাবি। এ দাবির মূল বিষয় ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন।
বাঙালিরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছিল। জন্মের পর থেকেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা চলে যায় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের হাতে। তারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা না করে বাঙালিদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বৈষম্যের পাহাড় গড়ে তোলে। এ রকম নানা ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা প্রতিবাদ ও আন্দোলন করতে বাধ্য হয়।
১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের দুটি অংশের শেষ নির্বাচন। এ নির্বাচনের বিজয় ছিল ৬ দফাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়। আর এ নির্বাচনের ফলেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়। কাজেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম।
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে পাকিস্তান ছিল পশ্চিম ও পূর্ব এই দুই ভাগে বিভক্ত, যা একে অপরের থেকে বহুদূরে অবস্থিত ছিল। পূর্ব পাকিস্তান ছিল মূলত বাঙালি মুসলমান ও হিন্দুদের আবাস। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঙালিরা শোষণ, অত্যাচার ও বৈষম্যের শিকার হয়। এর বিরুদ্ধে তাঁরা ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম ও আন্দোলন শুরু করে। এর মধ্যে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন অন্যতম। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, সাংস্কৃতিক স্বাধিকার আন্দোলন, ১১ দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালির জাতীয় জাগরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এসব আন্দোলন ও ঘটনার মধ্য দিয়েই পাকিস্তানবিরোধী চেতনা বেগবান হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে মানুষ। ফলে ১৯৭১ সালে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এ অধ্যায়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলন ও সংগ্রামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করা হলো।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
১. রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করতে পারব;
২. ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব;
৩. যুক্তফ্রন্টের মাধ্যমে বাঙালির অর্জনসমূহ বর্ণনা করতে পারব;
৪. ছয় দফা আন্দোলন সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
৫. ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারব;
৬. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
৭. ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ বিজয় সম্পর্কে জানতে পারব;
৮. পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বৈষম্য ছিল তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View All১৯৫৮ সালে তদানীন্তন পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন ইস্কান্দার মির্জা।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগ রাজনৈতিক দুর্বলতা ও দুঃশাসনের কারণে পরাজিত হন। এছাড়া মুসলিম লীগের অপশাসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শোষণ, দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, দুর্নীতি, পাকিস্তানের দুই অংশে বৈষম্য ইত্যাদি মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা অনেক হ্রাস করে। ফলে যুক্তফ্রন্টের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং মুসলিম লীগের পরাজয় ঘটে।
কাশিমপুরের মানুষের আন্দোলনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপায়ে তাদের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকে এবং স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। তাদের কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে বাঙালি জনগোষ্ঠী বারবার রাজপথে নেমেছে। যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি ঘোষণার পর থেকে। সরকার এ আন্দোলনকে দমন করার জন্য পুলিশি নির্যাতন শুরু করে। এ সময় ঢাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান (আসাদ) নিহত হয়। আসাদ নিহত হওয়ার পর এ আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। জনগণের ঐক্য, জাগরণ যে স্বৈরাচারী শাসকদের বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী তা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের উল্লিখিত তথ্যসমূহের সাথে কাশিমপুরের মানুষের আন্দোলনের মিল পাওয়া যায়।
তাই বলা যায়, কাশিমপুর অঞ্চলের মানুষের আন্দোলনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
কাশিমপুরের চেয়ারম্যানের পরিণতি যেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পরিণতিরই প্রতিচ্ছবি- উক্তিটি যথার্থ।
তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খানের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তার স্বৈরাচারী মনোভাব ও কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে পূর্ব-পাকিস্তানের সুবিধাবঞ্চিত জনগণ দুর্বার গণআন্দোলন শুরু করে। জেনারেল আইয়ুব খান এ আন্দোলন দমন করার জন্য পুলিশি নির্যাতন শুরু করেন। পুলিশের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদ শহিদ হওয়ার পর এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। আন্দোলনের তীব্রতায় ভীত হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ জেনারেল আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। একইভাবে কাশিমপুর অঞ্চলের মানুষ তাদের চেয়ারম্যানের স্বৈরাচারী মনোভাব ও কার্যকলাপে অতিষ্ট হয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। চেয়ারম্যান পেশিশক্তি ও রক্তপাত ঘটিয়েও এ আন্দোলন স্তিমিত করতে পারেনি। এক পর্যায়ে উক্ত 'চেয়ারম্যান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যেমনটি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
সুতরাং বলা যায়, কাশিমপুরের চেয়ারম্যানের পরিণতি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পরিণতিরই প্রতিচ্ছবি।
শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য) দায়ের করা হয়।
৬ দফা পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এ ছয় দফার পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। তাই ছয় দফাকে বাংলার মানুষের মুক্তির দলিল বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!