৬ দফা কর্মসূচির প্রধান দাবি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন। এ ৬ দফা শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৬টি দাবিসংবলিত একটি কর্মসূচি। এ দাবি ছিল অধিকার বঞ্চিত বাঙালির অধিকার আদায়ের দাবি। এ দাবির মূল বিষয় ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন।
Related Question
View Allব্রিটিশ শাসন থেকে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে পাকিস্তান ছিল পশ্চিম ও পূর্ব এই দুই ভাগে বিভক্ত, যা একে অপরের থেকে বহুদূরে। অবস্থিত। যার পূর্বাংশে ছিল বাঙালি মুসলমান ও হিন্দুদের আবাস।
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রদত্ত একটি মতবাদ হলো দ্বিজাতি তত্ত্ব। ভারতীয় উপমহাদেশের দুটি বৃহত্তর জাতি যথা: মুসলিম ও হিন্দু জনগোষ্ঠীর আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি রাজনৈতিক তত্ত্বই হলো দ্বিজাতি তত্ত্ব। এ তত্ত্বের ভিত্তিতেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী, দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাষাকে সংখ্যাগুরু বাঙালির ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। ফলে বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষা বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন গড়ে তোলে।
মাতৃভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় আপসহীন যে ছাত্র-জনতা ১৯৫২ সালের ২১ ও ২২শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে শহিদ হন, তারাই ভাষা শহিদ। উল্লেখযোগ্য ভাষা শহিদ ছিলেন- রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম, শফিউরসহ আরও অনেকে।
বাঙালি সম্পর্কে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন- 'আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব কথা। প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ দিয়েছেন যে, তা মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই।'
পুলিশের গুলিতে ঢাকা মেডিকেলের সামনে ভাষা শহিদরা শহিদ হলে মেডিকেলের ছাত্র-ছাত্রীরা সেখানেই একটি শহিদ মিনার তৈরি করে। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে অস্থায়ী মিনারটিকে বড়ো করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!