ইলিয়ামেই সাধারণত পরিপাককৃত খাদ্য ব্যাপন পদ্ধতিতে শোষিত হয়। অর্থাৎ ইলিয়াম হলো ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশ। ইলিয়ামের প্রাচীরে শোষণ অঞ্চল থাকে। ব্যাপন পদ্ধতিতে শোষণকার্য সমাধার জন্য প্রাচীরগাত্রে আঙুলের মতো প্রক্ষেপিত অংশ থাকে। এদের ভিলাই (ভিলাস) বলে। হজমের পর খাদ্যের সারাংশ ভিলাসগাত্র দ্বারা শোষিত হয়।
দাঁত মানুষের একটি প্রয়োজনীয় অঙ্গ। বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য কর্তন, চর্বণ ও পেষণে দাঁতের ভূমিকাই মুখ্য। তাছাড়া সুস্থ ও সবল জীবনযাপনের জন্য দাঁত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। দাঁত অপরিষ্কার থাকলে অর্থাৎ দাঁত ব্রাশ না করলে দাঁতের ফাঁকে খাবারের কণা আটকে তা পচে মুখে দুর্গন্ধ হয়। এছাড়া এ থেকে দাঁতের ক্ষয়রোগ হয়। আবার দাঁতের ফাঁকের পচনকৃত খাদ্য অন্যান্য খাদ্যের সাথে পেটে যায়, ফলে বিভিন্ন রকম পেটের পীড়া দেখা দেয়। এ কারণে প্রতিবার খাবারের পর দাঁত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
খাদ্য অন্ননালির ভেতর দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। অন্ননালিতে আংটির মতো গোল পেশি রয়েছে। এ পেশিগুলো সংকোচন ও প্রসারণ করতে পারে। খাদ্য বস্তুর পেছনে অন্ননালির পেশি সংকুচিত হয় এবং সামনে অন্ননালির পেশি প্রসারিত হয়। অন্ননালির এরূপ সংকোচন ও প্রসারণকে ক্রমসংকোচন বলে। এভাবে সংকোচন ও প্রসারণের ফলে খাদ্যবস্তু অন্ননালির ভেতর দিয়ে গলবিল হয়ে পাকস্থলিতে পৌঁছায়।
আমার দেহে রক্তকণিকার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে। এগুলো আমাদের দেহে যেসব কাজ করে নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. লোহিত রক্তকণিকা: অক্সিজেন পরিবহন এবং আংশিকভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহন করে।
২. শ্বেত রক্তকণিকা: দেহে রোগ জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে। শ্বেত রক্তকণিকা দেহে প্রহরীর মতো কাজ করে। তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়।
৩. অণুচক্রিকা : দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। রক্তকণিকাগুলো যদি আমার দেহে অনুপস্থিত থাকে তাহলে আমার পক্ষে সুস্থ থাকা অসম্ভব। তাই উক্ত রক্তকণিকাগুলো আমার দেহে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আমাদের দেহে তিন ধরনের রক্তনালি আছে। এরা আমাদের দেহে যেসব কাজ করে তা নিম্নরূপ-
১. ধমনি : ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।
২. শিরা : কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া শিরা সাধারণত কার্বন ডাইঅক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত বহন করে।
৩. কৈশিক নালি: কৈশিক নালি দেহকোষের মাঝে খাদ্য সার ও বর্জ্য পদার্থের বিনিময় করে।
খাদ্য হলো সেই সমস্ত পদার্থ যা আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি সরবরাহ করে। এটি আমাদের শারীরিক বৃদ্ধির জন্য, জীবন ধারণের জন্য এবং শারীরিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য।
আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তাদের অধিকাংশই জটিল খাদ্য। এই জটিল খাদ্যদ্রব্যকে আমাদের শরীর শোষণ করে সরাসরি কাজে লাগাতে পারে না। অর্থাৎ যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় জটিল, অদ্রবণীয় খাদ্যবস্তু নির্দিষ্ট এনজাইমের সহায়তায় দেহের গ্রহণ উপযোগী দ্রবণীয় সরল ও তরল খাদ্য উপাদানে পরিণত হয় সেই প্রক্রিয়াই হলো পরিপাক।
যে তন্ত্র পরিপাকে অংশ নেয় তাকে পরিপাক তন্ত্র বলে। পরিপাকতন্ত্রের অংশগুলোর নাম নিম্নরূপ-
১. মুখছিদ্র,
২. মুখগহ্বর,
৩. গলবিল,
৪. অন্ননালি
৫. পাকস্থলি
৬. ক্ষুদ্রান্ত্র,
৭. বৃহদন্ত্র ও
৮. মলদ্বার বা পায়ু।
খাদ্য উপাদান প্রধানত ছয়টি। তার মধ্যে প্রধান তিন শ্রেণির। খাদ্য উপাদান হলো-
১. শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট ভাত, আলু, রুটি ইত্যাদি।
২. আমিষ বা প্রোটিন মাছ, মাংস, দুধ ইত্যাদি।
৩. স্নেহ বা চর্বি বা লিপিড ঘি, মাখন, তেল ইত্যাদি।
ভিটামিন ও খনিজ লবণ শরীরের নানা ধরনের প্রক্রিয়া যেমন-শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ, ত্বক ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখা এবং কোষের বৃদ্ধি এবং পুণর্গঠন রক্ষা করতে সাহায্য করে। এজন্য ভিটামিন ও খনিজ লবণ শরীরের জন্য অতি প্রয়োজন।
হজম হয় না এমন আঁশযুক্ত খাবারের প্রয়োজনীয়তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আঁশ মূলত দুই ধরনের হয় দ্রবণীয় এবং অদ্রবনীয়। এই আঁশ গুলি হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য বাজায় রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং পরিপাক ব্যবস্থার সঠিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।
আঁশ জাতীয় খাবার যেসব খাদ্যে পাওয়া যায় সেগুলো হলো-শস্য, শাকসবজি (গাজর, মটরশুঁটি, ফুলকপি, পালংশাক, ডাঁটা), ফলমূল (আপেল, কলা, কমলা, পেয়ারা), ডাল ও বাদাম (মটর, মুগ ডাল, চিনি, বাদাম) বীজ (চিয়া সিড, তিল) ইত্যাদি।
লালা হলো এক প্রকার বর্ণহীন তরল পদার্থ। মুখের পিছনে অবস্থিত লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসৃত হয়। লালা মুখগহ্বরকে ভিজা রাখে, খাদ্য বস্তুকে পিচ্ছিল করে এবং গিলতে সাহায্য করে।
লালার দুটি কাজ হলো-
১. লালা খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল করে ও গিলতে সাহায্য করে।
২. লালায় এক ধরনের এনজাইম থাকে, টায়লিন শর্করা জাতীয় খাদ্যকে পরিপাকে সাহায্য করে।
এনজাইমের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এটি এমন একটি বস্তু, যা খাদ্যবস্তুর সাথে মিশে রাসায়নিক ক্রিয়ায় সাহায্য করে, কিন্তু ক্রিয়া, বিক্রিয়া শেষে নিজে অপরিবর্তিত থাকে।
২. নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পর্যন্ত এনজাইম ভাল কাজ করে।
যেসব গ্রন্থির রস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয় তাদেরকে পরিপাক গ্রন্থি বা পৌষ্টিক গ্রন্থি বলে। মানবদেহে তিন ধরনের পৌষ্টিক গ্রন্থি দেখা যায়। যথা- ১. লালাগ্রন্থি, ২. যকৃৎ এবং ৩. অগ্ন্যাশয়।
মানুষের স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা ৩২টি। প্রতি চোয়ালে ১৬টি করে থাকে। মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। সেগুলো হচ্ছে-
১. কর্তন দাঁত (Incisor) – ৮টি।
২. ছেদন দাঁত (Canine) – ৪টি।
৩. অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar) – ৮টি।
৪. পেষণ দাঁত (Molar) – ৮টি। -
এ ছাড়া অন্যান্য দাঁতের অনেক পরে গজায় আক্কেল দাঁত যা পেষণ দাঁত নামে পরিচিত – ৪টি।
ক্ষুদ্রান্ত্র হলো পাকস্থলির পরবর্তী অংশ, এটা পরিপাক নালির সবচেয়ে দীর্ঘ অংশ। ক্ষুদ্রান্ত্র তিনটি ভাগে বিভক্ত। যথা-
১. ডিওডেনাম
২. জেজুনাম ও
৩. ইলিয়াম।
পরিপাক নালির 'ঢ' আকৃতির অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ ডিওডেনাম। পিত্তথলি থেকে পিওরস এবং অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সাথে মিশে। এ রসগুলোও পরিপাকে অংশ নেয়। এখানে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থের পরিপাক ঘটে।
ক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে আঙ্গুলের মতো প্রক্ষেপিত অংশ থাকে। এদের ভিলাই বা ভিলাস রলে। ভিলাইয়ের মূল কাজ হলো খাদ্য পদার্থের পুষ্টি উপাদান (যেমন- প্রোটিন, শর্করা, ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদি) রক্তে শোষণ করা।
ক্ষুদ্রান্ত্রের পরেই বৃহদন্ত্রের অবস্থান। বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- ১. সিকাম ২. কোলন এবং ৩. মলাশয়। মলাশয় বৃহদন্ত্রের শেষ প্রান্ত। দেখতে অনেকটা থলির মতো। খাদ্যের অপাচ্য বা অহজমকৃত অংশ এখানে মলরূপে জমা হয়।
মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃৎ। যকৃৎ থেকে পিওরস তৈরি হয়। পিওরস পিওথলিতে জমা থাকে। হজমের সময় পিওনালি দিয়ে পিওরস ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। পিওরস স্নেহ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
বৃহদন্ত্রে খাদ্য হজম হয় না কারণ এখানে কোনো জারক রস বা এনজাইম তৈরি হয় না। বৃহদন্ত্র মূলত খাদ্যের জলীয় অংশ থেকে পানি শোষণ করে। বৃহদন্ত্রে E. coli নামক ব্যাকটেরিয়া আঁশ জাতীয় খাদ্যের গাঁজন ঘটায়।
অ্যামিবিক আমাশয়ের দুটি লক্ষণ হলো-
১. তলপেটে ব্যথা হওয়া ও
২. মলের সাথে রক্ত বা শ্লেষ্মা বের হওয়া।
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রকৃতপক্ষে কোনো রোগ নয়। বিভিন্ন কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যেমন- পৌষ্টিক নালির মধ্যদিয়ে খাদ্যবস্তুর চলন ধীর হওয়া, কাঁচা ফলমূল ও শাকসবজি না খাওয়া, পায়খানার বেগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে পায়খানায় না বসা ইত্যাদি।
রক্তের চারটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. রক্ত ঘন লাল বর্ণের তরল পদার্থ।
২. এটি এক ধরনের তরল যোজক কলা।
৩. রক্তের স্বাদ লবণাক্ত।
৪. এরা ক্ষারধর্মী।
লোহিত রক্তকণিকার দুটি বৈশিস্ট্য হলো-
১. লোহিত রক্তকণিকা উভঅবতল।
২. চাকতির মতো গোলাকার কোষ।
লোহিত রক্তকণিকায় এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে যার নাম হিমোগ্লোবিন। হিমোগ্লোবিনের কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে অস্থায়ী যৌগ অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি হয়, যা শরীরের সমস্ত অংশে অক্সিজেন পরিবহণে সহায়তা করে।
অণুচক্রিকার চারটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো।
২. আকারে ছোট হয়।
৩. নিউক্লিয়াস থাকে না।
৪. এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
যে নালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়, তাকে রক্তনালি বলে। আমাদের দেহে তিন ধরনের রক্তনালি আছে। যথা- ১. ধমনি, ২. শিরা এবং ৩. কৈশিক্নালি।
ধমনি ও শিরার মধ্যে চারটি পার্থক্য হলো-
| ধমনি | শিরা |
| ১. ধমনির প্রাচীর পুরু। | ১. শিরার প্রাচীর পাতলা। |
| ২. ধমনির গহ্বর ছোট। | ২. শিরার গহ্বর বড়। |
| ৩. কপাটিকা নাই। | ৩. কপাটিকা আছে। |
| ৪. ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহণ করে। | ৪. শিরা কার্বন ডাইঅক্সাইড যুক্ত রক্ত পরিবহণ করে। |
ধমনি : যেসকল রক্তবাহী নালি হৃৎপিণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে, তাকে ধমনি বলে। এরা দেহের ভিতরের দিকে অবস্থিত।
শিরা : যেসকল রক্তবাহী নালি দ্বারা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে তাকে শিরা বলে। এরা দেহের উপরিভাগে অবস্থিত।
ধমনি ক্রমান্বয়ে শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত অতিসূক্ষ্ম নালি তৈরি করে। এই সকল সূক্ষ্মনালিকে কৈশিক নালি বা কৈশিক জালিকা বলে। কৈশিক নালি থেকে শিরার উৎপত্তি হয়।
হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি মোচাকৃতির অঙ্গ। এটা পেরিকার্ডিয়াম নামে দুই স্তরবিশিস্ট একটি পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত। হৃৎপিণ্ড হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত।
হৃৎপিণ্ড তিন স্তরে গঠিত। যথা-
১. এপিকার্ডিয়াম বা বাইরের স্তর।
২. মায়োকার্ডিয়াম বা মাঝের স্তর এবং
৩. এন্ডোকার্ডিয়াম বা ভিতরের স্তর।
এদের মধ্যে মায়োকার্ডিয়ামই সবচেয়ে পুরু এবং এর সংকোচনের কারণে হৃৎপিন্ড পাম্প করে রক্ত সঞ্চালন করে।
হৃৎপিণ্ড একটি চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফাঁপা অঙ্গ। এর উপরের দুটি প্রকোষ্ঠ হলো বাম অলিন্দ ও ডান অলিন্দ এবং নিচের দুটি প্রকোষ্ঠ হলো বাম নিলয় ও ডান নিলয়। অলিন্দের প্রাচীর পাতলা এবং নিলয়ের প্রাচীর পুরু থাকে।
বাম অলিন্দে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত থাকে এবং এটি শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করতে সাহায্য করে। অপরদিকে ডান অলিন্দে অক্সিজেনবিহীন রক্ত থাকে, যা ফুসফুসে ফিরে যায়।
ফুসফুসীয় ধমনি বা পালমোনারি ধমনি রক্তকে ডান নিলয় থেকে ফুসফুসে নিয়ে যায়, যেখানে রক্তে অক্সিজেন যোগ হয়।
হৃদরোগের কারণ উল্লেখ করা হলো-
১. অধিক তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করা।
২. সুষম খাদ্য গ্রহণ না করা।
৩. ধূমপান করা।
৪. অতিরিক্ত পরিশ্রম করা।
৫. খেলা, হাঁটাচলা, ব্যায়াম বা কোনো রকম শারীরিক পরিশ্রম না করা।
বিভিন্ন উপায়ে হৃদরোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যেমন-
১. অধিক শর্করা ও চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়া।
২. নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।
৩. ধূমপান ত্যাগ করা।
৪. দেহের ওজন বাড়তে না দেওয়া।
৫. শারীরিক পরিশ্রম যেমন- খেলাধুলা, হাঁটাচলা, ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তোলা।
রক্তের চারটি কাজ উল্লেখ করা হলো-
১. খাদ্য পরিবহণ করে।
২. অক্সিজেন পরিবহণ করে।
৩. কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহণ করে।
৪. বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সহায়তা করে।
ফুসফুসীয় শিরা: যে শিরার মধ্যে দিয়ে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবাহিত হয় তাকে ফুসফুসীয় শিরা বলে। এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিরা।
ফুসফুসীয় ধমনি : যে ধমনির মধ্যে দিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড যুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয় তাকে ফুসফুসীয় ধমনি বলে। এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী ধমনি।
লালা এক প্রকার বর্ণহীন তরল পদার্থ।
লালা গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত লালায় উপস্থিত এনজাইম হলো টায়ালিন।
মুখের পেছনে অবস্থিত লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালা খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল করে।
যে তন্ত্র পরিপাকে অংশ নেয় তাকে পরিপাকতন্ত্র বলে।
ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনাম ও ইলিয়ামের মাঝে অবস্থিত অংশটিই জেজুনাম।
ইলিয়াম হলো ক্ষুদ্রান্ত্রের সর্বশেষ অংশ।
মানুষের স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা ৩২টি।
যকৃৎ থেকে পিত্তরস তৈরি হয়।
রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা যা ঘন লাল রঙের।
রক্তের উপাদান ২টি।
লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে।
যে সকল রক্তবাহী নালি হৃৎপিণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে তাই ধমনি।
মহাশিরা বা মহাধমনি হলো প্রধান ধমনি যা বাম নিলয় থেকে বের হয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
যে সকল রক্তনালি দ্বারা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে তাকে শিরা বলে।
খাদ্য গ্রহণ করার পর দেহের ভিতর থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন এনজাইমের ক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। এনজাইম প্রথমে খাদ্যবস্তুর সাথে মিশে এবং পরিপাক শুরু করে। এসব ক্ষেত্রে এরা প্রভাবক হিসেবে কাজ করে এবং বিক্রিয়ার গতিকে ত্বরান্বিত করে। এতে করে গৃহীত জটিল খাদ্যদ্রব্য ভেঙে সরল হয় এবং পরিপাকের উপযোগী হয়ে উঠে। এভাবে এনজাইম খাদ্য পরিপাকের সময় কাজ করে থাকে।
মুখগহ্বরের পরেই গলবিলের অবস্থান। গলবিলের মাধ্যমেই খাদ্যবস্তু মুখগহ্বর থেকে অন্ননালি বা গ্রাসনালিতে যায়। গলবিলে কোনো এনজাইম নিঃসৃত হয় না। একারণেই গলবিলে কোনো খাদ্য পরিপাক হয় না।
ডিওডেনামের ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
এটা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ। পাকস্থলির পরের অংশ, দেখতে 'ট' আকৃতির। পিত্তথলি থেকে পিত্তরস এবং অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নালীর মাধ্যমে এখানে এসে খাদ্যের সাথে মিশে। এ রসগুলোও পরিপাকে অংশ নেয়। এখানে আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থের পরিপাক ঘটে।
অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত এনজাইমসমূহের নাম ও কাজ নিম্নরূপ-
| এনজাইমের নাম | কাজ |
| ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন | আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। |
| অ্যামাইলেজ | শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। |
| লাইপেজ | স্নেহ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। |
নিম্নলিখিত উপায়ে আমাশয় রোগ প্রতিরোধ করা যায়-
১. নলকূপের পানি বা ফুটানো পানি পান করে।
২. পানি ও শাকসবজি যাতে দূষিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।
৩. মাছি, আরশোলা থেকে খাদ্যবস্তু রক্ষা করার মাধ্যমে।
সিগেলা নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রকে আক্রমণ করলে ব্যাসিলারি আমাশয় হয়। ফলে বারবার পায়খানা হয় এবং পায়খানার সাথে শ্লেষ্মা বের হয়। অনেক সময় এর সাথে রক্তও যায়। এ কারণে এ রোগকে রক্ত আমাশয় বলে।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হলো পৌস্টিক নালির মধ্য দিয়ে খাদ্যবস্তুর চলন ধীর হওয়া। কাঁচা ফলমূল ও শাকসবজি না খাওয়া, পায়খানার বেগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে পায়খানায় না বসা ইত্যাদি।
যে তন্ত্র পরিপাকে অংশ নেয় তাকে পরিপাকতন্ত্র বলে। পরিপাকতন্ত্রের যত্ন নেওয়া আমাদের উচিত কারণ আমরা যদি পরিপাকতন্ত্রের যত্ন না নেই তাহলে আমাদের অনেক রোগ দেখা দিতে পারে। যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য, ব্যাসিলারি আমাশয় ইত্যাদি। তাই পরিপাকতন্ত্রের যত্ন নেওয়া অতীব জরুরি।
রক্তরস রক্তের তরল অংশ। সাধারণত রক্তের শতকরা ৫৫ ভাগ রক্তরস। এতে আমিষ, লবণ ও অন্ত্র থেকে শোষিত খাদ্য উপাদান থাকে। রক্তরসে রক্তকণিকা ভাসমান অবস্থায় থাকে। এতে ফাইব্রিনোজেন নামে একটি উপাদান থাকে যা রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে।
দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে এবং শ্বেত রক্তকণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ' করে। এ কারণেই শ্বেত রক্তকণিকাকে সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়।
শ্বেত রক্তকণিকা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড় ও অনিয়মিত আকারের হয়। এদের নিউক্লিয়াস আছে। প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম। দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। এ কারণেই শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।
মানুষের রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ শতকরা ৪৫ ভাগ এবং লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক এক ধরনের লৌহ জাতীয় রঞ্জক পদার্থ থাকে। রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির কারণেই রক্তের রং লাল হয়।
অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার ও বৃত্তের মতো। এরা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে ছোট হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না। এরা গুচ্ছাকারে থাকে। অর্থাৎ দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে বলেই অণুচক্রিকাকে প্লেটলেট বলে।
Related Question
View Allক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে আঙুলের মতো যে প্রবর্ধক বা অভিক্ষেপ থাকে তাই ভিলাই।
খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করা উচিত। কারণ, খাওয়ার পর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খাদ্য কণা দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে আটকে থাকে। আটকে থাকা খাদ্যকণা পচে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে এবং দাঁতের ক্ষয় প্রাপ্তিতে সহায়তা করে। তাই এ ধরনের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে প্রতিবার খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করা উচিত।
উদ্দীপকের চিত্রে Y-চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলি। নিচে পাকস্থলির কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করা হলো-
অন্ননালি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যবর্তী স্থানে পাকস্থলির অবস্থান। এর আকৃতি থলের মতো। এর প্রাচীর বেশ পুরু ও পেশিবহুল, গলবিল ও অন্ননালির ক্রমসংকোচনের ফলে পিচ্ছিল খাদ্যবস্তু এখানে এসে জমা হয়। পাকস্থলি নিম্নরূপ কাজগুলো করে থাকে-
১. পাকস্থলিতে সাময়িকভাবে খাদ্যবস্তু জমা থাকে।
২. গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্বারা খাদ্য জীবাণুমুক্ত হয়।
৩. পাকস্থলি গৃহীত খাদ্যবস্তুর সাথে গ্যাস্ট্রিক রসের মিশ্রণ ঘটিয়ে 'খাদ্যকে কাইমে পরিণত করে।
৪. গ্যাস্ট্রিক রসের সাহায্যে কিছু খাদ্যের আংশিক পরিপাক সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকের চিত্রে নির্দেশিত Z অংশটি হলো যকৃৎ। এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। যকৃৎ মানবদেহে নানা কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-
১. পরিপাক: যকৃৎ পিত্তরস ক্ষরণ করে। পিত্তের পিত্তলবণ ফ্যাটজাতীয় খাদ্যের পরিপাক ও শোষণে সাহায্য করে।
২. শর্করা বিপাক: যকৃতে প্রোটিন ও ফ্যাট থেকে শর্করা উৎপন্ন হয়।
৩. রক্ত সংক্রান্ত কার্যাবলি ভ্রূণ অবস্থায় যকৃতে লোহিত রক্তকণিকা সৃষ্টি হয় এবং পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয়।
৪. সঞ্চয়মূলক কাজ: যকৃতে গ্লাইকোজেন, ভিটামিন A ও D সঞ্চিত থাকে।
৫. রক্ষণমূলক কাজ: যকৃতে বিভিন্ন প্রকার অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয়।
৬. তাপ নিয়ন্ত্রণ: যকৃৎ রাসায়নিক ক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ শোষণ করে দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৭. রেচন: যকৃৎ বিভিন্ন রকমের ধাতব পদার্থ, অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ওষুধ পিত্তের মাধ্যমে দেহের বাইরে নির্গত করে।
উপরের বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, যকৃৎ মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। যদি কোনো কারণে এ অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে উপরোক্ত কাজগুলো সম্পন্ন হতে ব্যাঘাত ঘটবে। এতে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
হৃৎপিন্ড দুই স্তরবিশিষ্ট যে পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে তাই পেরিকার্ডিয়াম।
লাইপেজ হলো অগ্ন্যাশয় নিঃসৃত স্নেহ পদার্থ হজমকারী একপ্রকার উৎসেচক। অর্থাৎ এরা চর্বিজাতীয় খাদ্য পরিপাককারী বা লাইপোলাইটিক উৎসেচক। এটি চর্বিকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
