আকাইদ' কোন শব্দের বহুবচন আকিদা
আকিদা অর্থ বিশ্বাস
'আকাইদ' শব্দের অর্থ বিশ্বাসমালা
ইসলামি বিশ্বাসের মূলভিত্তি আকাইদ
ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসকে আকাইদ বলা হয়
আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র দ্বীন বা জীবনব্যবস্থাকে ইসলাম বলা হয়
আল্লাহ, নবি-রাসুল, ফেরেশতা ইত্যাদি বিষয়গুলো আকাইদের বিশ্বাসগত দিক
ইসলামের বিশ্বাসগত দিকের নামকে আকাইদ বলা হয়
ইসলাম শব্দের অর্থ আনুগত্য করা, আত্মসমর্পণ করা, শান্তির পথে চলা ইত্যাদি।
ইসলাম আল্লাহরআনুগত্যের কথা বলে
শরিয়তের সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ রূপ ইসলাম
মানবজাতির জন্য নির্দেশিত সর্বশেষ ও সর্বোত্তম জীবন বিধান ইসলাম
“নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ইসলামই একমাত্র মনোনীত জীবনব্যবস্থা।" কুরআনের সূরা আলে ইমরান সূরায় বর্ণিত আছে
যিনি ইসলাম অনুসারে জীবন পরিচালনা করেন তাকে মুসলিম বলা হয়
اليوم اكملتُ لَكُمْ دِينَكُمْ উক্তিটিতে ইসলাম জীবনব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে
ইসলাম শব্দটির মূলধাতু সিলমুন
সিলমুন শব্দের অর্থ শান্তি
ইসলামের বিধিবিধান মেনে চললে দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষ পরিপূর্ণ শান্তিময় জীবন লাভ করতে পারে
ইসলাম সর্বজনীন জীবনবিধান
ইসলাম সকল মানুষের জন্য
ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাকে ইসলাম শিক্ষা বলে
ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভের প্রধান মাধ্যম ইসলাম শিক্ষা।
ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি ও সফলতার দিকনির্দেশনা অর্জন করতে পারি।
'ইমান' শব্দটি এসেছে আমনুন ক্রিয়ামূল থেকে?
ইমান' শব্দের অর্থ বিশ্বাস করা, আস্থা স্থাপন, স্বীকৃতি দেওয়া, নির্ভর করা, মেনে নেওয়া ইত্যাদি।
ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি ও তদনুযায়ী আমলের নাম ইমান।
যিনি ইসলামের মৌলিক বিষয়ের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেন, তাকে মুমিন বলা হয়।
মুখ, অন্তর ও কর্মের মাধ্যমে শরিয়তের কার্য সম্পাদন করাকে ইমান বলা হয়।
মহান আল্লাহর যাবতীয় আদেশ-নিষেধ বিনা দ্বিধায় মেনে নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রতি পূর্ণাঙ্গরূপে আত্মসমর্পণ করাকে ইসলাম বলা হয়।
ইসলামের মাধ্যমে ইমানের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
ইমানের মূল বিষয় সাতটি।
ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় তাওহিদ বা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস।
ইমানের মূল তাওহিদ।
ফেরেশতারা নূরের তৈরি।
আসমানি কিতাবের সংখ্যা মোট ১০৪ খানা।
পথভ্রষ্ট মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আল্লাহ পাক যুগে যুগে নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন।
তাকদির শব্দের অর্থ নির্ধারিত পরিমাণ।
মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বকে সমুন্নত রাখা যায় উত্তম গুণাবলিও আদর্শ অনুশীলন করে।
কুফর, শিরক ও নিফাক ইমানের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ইমানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
'তাওহিদ' শব্দের অর্থ একত্ববাদ।
আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করে নেওয়াকে তাওহিদ বলে।
"কোনোকিছু তার সদৃশ নয়।"- বাণীটি দ্বারা তাওহিদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়- তাওহিদ
ইসলামের সকল শিক্ষা ও আদর্শ তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
নবি-রাসুলগণ সারাজীবন মানুষকে তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন।
তাওহিদ প্রচার করতে গিয়ে হযরত ইবরাহিম (আ.) নবি অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন।
তাওহিদে বিশ্বাস মানুষের মাঝে আত্মসচেতনতা ও আত্মমর্যাদা সৃষ্টি করে।
প্রতিশব্দ নেই
আল্লাহর একত্ববাদ আল ইখলাস সূরায় বর্ণিত হয়েছে।
"তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য, তিনিই গোপন এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।"--সূরা আল-হাদিদ
রাহিম্, জাব্বার, গাফফার এগুলো আল্লাহর গুণবাচক নাম।
জাব্বার শব্দের অর্থ প্রবল।
'কুফর' শব্দের অর্থ অস্বীকার করা।
যে ব্যক্তি কুফরি কাজে লিপ্ত থাকে, তাকে কাফির বলে।
মানুষ ৮ ভাবে কাফির বা অবিশ্বাসী হতে পারে।
ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ্যে কুফরের চিহ্ন ধারণ করা কুফরি কাজ।
কাফির ব্যক্তি হতাশাগ্রস্ত থাকে আল্লাহর প্রতি ভরসা নেই বলে।
কাফির জাহান্নামে কারা চিরকাল থাকবে
হরতালের সময় পাবলিক বাস ভাংচুরকারী মুনাফিক।
আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলে।
অংশীদার সাব্যস্ত করা একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা।
যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করে তাকে বলা হয় মুশরিক
শিরক-এর বিপরীত তাওহিদ।
আল্লাহর সাথে শিরক চার ধরনের হতে পারে।
পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় জুলুম শিরক
"নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।" লুকমান সূরার আয়াত।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না।" – আন্ নিসা সূরা
'নিফাক' শব্দটির অর্থ ভণ্ডামি।
নিফাক অর্থ কপটতা, দ্বিমুখীভাব, ধোঁকাবাজি।
অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন রেখে মুখে ইমানদারসুলভবাক্য উচ্চারণ এবং লোক দেখানো অনুষ্ঠান সম্পন্ন করাকে নিফাক বলে।
মুনাফিকরা বাহ্যিকভাবে ইসলাম ও ইমান স্বীকার করে মুসলমানদের মতো ইবাদত-বন্দেগি করে।
মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য ৩ টি।
যখন কথা বলে মিথ্যা বলে
অন্তরে কুফর লালন করে বাহ্যিকভাবে ইমান প্রকাশ করা
কুরআন মজিদে মুনাফিকদের মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেছে।
'রিসালাত' শব্দের অর্থ বার্তা।
রিসালাত অর্থ চিঠি পৌছানো, পয়গাম, সংবাদ
মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয়।
নবি-রাসুলগণের দায়িত্বের নাম রিসালাত।
হযরত মুহাম্মদ (স.) দেশ ত্যাগ করেছিলেন দীনের স্বার্থে।
সর্বপ্রথম নবি হযরত আদম (আ.)।
সর্বশেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)
রিসালাত বিষয়টির গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।
"তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম।" এখানে দ্বীন বলতে ইসলাম বোঝানো হয়েছে।
খাতামুন শব্দের অর্থ সমাপ্তি।
'খাতমে নবুয়ত' অর্থ নবুয়তের ধারার পরিসমাপ্তি
'খাতামুন নাবিয়িয়ন' মুহাম্মদ (স.)-এর উপাধি।
'তাওরাত' হযরত মুসা (আ.) নবির ওপর নাজিল হয়।
হযরত মুসা (আ.)-এর ওপর তাওরাত কিতাব নাজিল হয়।
হযরত দাউদ (আ.)-এর ওপর যাবুর কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল।
ইঞ্জিল কিতাব হযরত ঈসা (আ.) নবির ওপর নাজিল হয়।
সহিফা সংখ্যা ১০০
হযরত শিস (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ সহিফা সংখ্যা ৫০ টি।
সবচেয়ে বেশি সহিফা শিস (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।
সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাবের নাম কুরআন।
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর ৪০ বছর বয়সে প্রথম কুরআন অবতীর্ণ হয়।
সার্বজনীন
আল্লাহ পাকের
সফলতা ও সম্মানের মূল চাবিকাঠী নৈতিক জীবন।
ফিরাউন, নমরুদ ও কারুনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে কুরআন মজিদে।
আখিরাত শব্দের অর্থ পরকাল।
মৃত্যুর পরের জীবনকে আখিরাত বলে।
আখিরাতের জীবন শুরু হয় মৃত্যুর পর থেকে।
"তাঁরা আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে"- তাঁরা মুত্তাকি।
"আর তারা (মুত্তাকিগণ) আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে" - সূরা আল-বাকারা সূরার আয়াত।
আখিরাতের জীবনের প্রথম স্তর হলো মৃত্যু।
"প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।" — সূরা আলে ইমরান
বারযাখ জীবন শুরু হয় মৃত্যুর পরে
কবরে ফেরেশতারা মৃত ব্যক্তিকে ৩ টি প্রশ্ন করবেন।
কিয়ামত বলতে দুটি অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
হাশর শব্দের অর্থ মহাসমাবেশ।
পরকালে মানুষের আমলমানা হাশরের মাঠে হাতে দেওয়া হবে।
আখিরাতের জীবনের পঞ্চম স্তর মিযান।
মিযান শব্দের অর্থ দাঁড়িপাল্লা।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব।" এখানে কিয়ামতের দিন বলতে বোঝানো হয়েছে- বিচার দিবসকে।
সিরাত শব্দের অর্থ পুল, পথ, রাস্তা, সেতু।
"তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে, এটা তোমাদের প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।" এ বাণী দ্বারা সিরাত বোঝানো হয়েছে।
শাফাআত অর্থ অনুরোধ করা।
জান্নাতের একটি নাম মাওয়া।
(নার)-এর শাব্দিক অর্থ আগুন।
দোযখের স্তর ৭টি
'মাযরাআতুন' শব্দের অর্থ শস্যক্ষেত্র।
এটি প্রবাদ।
ব্যক্তি যদি সৎ কাজ করে, তাহলে তার প্রাপ্তি হবে পরকালে জান্নাত।
আকাইদ শব্দটি আকিদা শব্দের বহুবচন। আকিদা শব্দের অর্থ বিশ্বাস। সুতরাং আকাইদ শব্দের অর্থ বিশ্বাসমালা। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসকেই আকাইদ বলা হয়।
ইসলাম আল্লাহ তায়ালা মনোনীত একমাত্র দীন বা জীবনব্যবস্থা। এর দুটি দিক রয়েছে। যথা- বিশ্বাসগত দিক ও আচরণগত বা প্রায়োগিক দিক। ইসলামের বিশ্বাসগত দিকের নামই হলো আকাইদ।
আল্লাহ তায়ালা, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি আকাইদের অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়গুলো কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং প্রমাণিত। মুসলিম হতে হলে সবাইকে এ বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হয়।
ইসলামের দুটি দিক রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো বিশ্বাসগত দিক ও আচরণগত দিক বা প্রায়োগিক দিক। ইসলামের যেসব দিক বাস্তবায়ন অপরিহার্য তাকে প্রায়োগিক দিক বলা হয়। যেমন- নামায, রোযা, হজ, যাকাত ইত্যাদি প্রায়োগিক দিক।
শরিয়তের সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো ইসলাম। এটি হলো মানবজাতির জন্য নির্দেশিত সর্বশেষ ও সর্বোত্তম জীবন বিধান। ব্যহারিক অর্থে আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল (স.)-এর আনুগত্য করাকে ইসলাম বলে।
শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার প্রতি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর নিকট পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করা, বিনা দ্বিধায় তাঁর যাবতীয় আদেশ নিষেধের আনুগত্য করা এবং তাঁর দেওয়া বিধান ও হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দেখানো পথ অনুসারে জীবনযাপন করাকে ইসলাম বলা হয়।
মহানবি (স.) সুন্দরভাবে ইসলামের মূল পরিচয় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "ইসলাম হলো- তুমি এ কথার সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আর মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল, সালাত আদায় করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের রোযা পালন করবে এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ আদায় করবে।" (বুখারি ও মুসলিম)
আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে বহু আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান প্রেরণ করেছেন। এসব আদেশ-নিষেধ শরিয়ত হিসেবে প্রদান করেছেন। শরিয়তের সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো ইসলাম। এটি হলো মানবজাতির জন্য নির্দেশিত সর্বশেষ ও সর্বোত্তম জীবন বিধান।
ইসলাম শব্দটি (সিলমুন) মূলধাতু হতে নির্গত, সিলমুন অর্থ শান্তি। ইসলাম মানুষকে শান্তির পথে পরিচালনা করে। ইসলামি বিধিবিধান মেনে চললে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে পরিপূর্ণ শান্তিময় জীবন লাভ করতে পারে। এজন্য ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয়।
ইসলাম সর্বজনীন জীবন বিধান। এটি কোনো কাল, অগল বা জাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয়। ইসলাম সর্বজনীন জীবন বিধান হওয়ার কারণে এর নামকরণ কারও নামে করা হয়নি। বরং মহান আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে শান্তির পথে জীবন পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে এর নামকরণ করা হয়েছে ইসলাম।
ইসলাম শিক্ষা হলো ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। কোনো কিছু বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হয়। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি ও সফলতা লাভের দিকনির্দেশনা অর্জন করতে পারি
ইমান শব্দটি আমনুন মূল ধাতু থেকে নির্গত। এর অর্থ বিশ্বাস করা, আস্থা স্থাপন, স্বীকৃতি দেওয়া, নির্ভর করা, মেনে নেওয়া ইত্যাদি।
ইমান অর্থ বিশ্বাস স্থাপন করা। ইসলামি শরিয়তের যাবতীয় বিধিবিধান অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং তদনুযায়ী আমল করাকে ইমান বলে।
একটি হাদিসে মহানবি (স.) সুন্দরভাবে ইমানের মূল পরিচয় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন ইমান হলো, "আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের (ভালো-মন্দ আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেই হয়) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।"
"আমি ইমান আনলাম আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবগুলোর প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, আখিরাতের প্রতি, তাকদিরের প্রতি যার ভালো-মন্দ আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকেই হয় এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।"
ইমান ও ইসলামের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। এদের একটি ব্যতীত অন্যটি কল্পনাও করা যায় না। এদের মধ্যে একটি অপরটির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। বলা যায়, ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক গাছের মূল ও শাখা-প্রশাখার মতো।
ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধাম বিষয় হলো আল্লাহর তায়ালার প্রতি বিশ্বাস। আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ বা মাবুদ নেই। তিনি সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। তিনি সকল গুণের আধার। তাঁর সত্তা ও গুণাবলি তুলনাহীন। সমস্ত প্রশংসা ও ইবাদত একমাত্র তারই জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ তায়ালার প্রতি এরূপ বিশ্বাস স্থাপন ইমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইমানের সর্বশেষ মূল বিষয়টি হলো মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের বিশ্বাস, মৃত্যুর সাথে সাথে মানবজীবন শেষ নয়। বরং মানবজীবন দুই ভাগে বিভক্ত। ইহকাল ও পরকাল। আল্লাহর তায়ালা মানুষকে মৃত্যুর পর আবার জীবত করবেন। সুতারং মৃত্যুর পর আমরা সবাই জীবিত হব এ বিশ্বাস রাখা ইমানের অপরিহার্য বিষয়।
ইমান মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালনা করে। নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। মুমিন ব্যক্তি সর্বদাই মানবিকতা ও নৈতিকতার ধারক হয়। অন্যায় অত্যাচার ও অনৈতিক কার্যকলাপ ইমানের সম্পূর্ণ বিপরীত। পূর্ণাঙ্গ মুমিন ব্যক্তি কখনোই মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের বিপরীত কাজ করতে পারে না।
ইমান মানুষকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। মন্দ অভ্যাস ও অশ্লীল কার্যাবলি থেকে বিরত রাখে। ইমান মানুষকে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির ব্যাপারে সতর্ক করে। অতএব আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয়ে মুমিন ব্যক্তি সব ধরনের অমানবিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকেন। এভাবে ইমান মানুষকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।
তাওহিদের মূল কথা হলো- আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি তাঁর সভা ও গুণাবলিতে অদ্বিতীয়। তিনিই প্রশংসা ও ইবাদাতের একমাত্র মালিক। তাঁর তুলনীয় কেউ নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
"কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।" (সূরা আশ-শুরা: ১১)
মানবজীবনে তাওহিদে বিশ্বাসের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশে সুযোগ করে দেয়। সচ্চরিত্রবান হওয়ার ক্ষেত্রেও মানবজীবনে তাওহিদের প্রভাব অপরিসীম। তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে ইবাদত ও সৎকর্মে উৎসাহিত করে।
তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে আত্মসচেতন ও আত্মমর্যাদাবান করে। মানুষ আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কারও নিকট মাথা নত করে না। ফলে জগতের সকল সৃষ্টির ওপর মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।
তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে ইবাদত ও সৎকর্মে উৎসাহিত করে। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য মানুষ সৎকর্মে ব্রতী হয়। অসৎ'। ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে। ফলে মানবসমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।
আল্লাহ তায়ালা এ বিশ্বজগতের অধিপতি ও মালিক। তিনি একক ও অদ্বিতীয় সত্তা। তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি অনন্য ও অতুলনীয়। এটা (আল্লাহ) আরবি শব্দ। পৃথিবীর কোনো ভাষাতেই এ শব্দের প্রতিশব্দ নেই। এর কোনো একবচন বহুবচন নেই। এ শব্দের কোনো স্ত্রীলিঙ্গ ও পুংলিঙ্গ নেই। এ শব্দটি এক ও অতুলনীয়। তদুপ আল্লাহ তায়ালাও তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে একক ও অদ্বিতীয়। তাঁর, সমতুল্য বা সমকক্ষ কিছুই নেই।
সূরা আল-ইখলাস এর বাংলা অর্থ: "বলুন (জেনরিা) তিনিই আল্লহস্য একক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর: মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।”
আল্লাহ তায়ালা সকল গুণের আধার। সকল গুণ তাঁর নিকট পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান। তিনি সৃষ্টিকর্তা। বিশ্বজগৎ ও এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর সৃষ্টি। তিনি রিযিকদাতা। সকল সৃষ্টিই রিযিকের জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনিই সর্বশক্তিমান সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। সকল কিছুই তাঁর পরিচালনায় সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এককথায় তিনি সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁর গুণের কোনো সীমা নেই।
মহান আল্লাহ তায়ালার কয়েকটি গুণবাচক নাম হলো-
১. রহিম (অসীম দয়ালু),
২. জাব্বার (প্রবল),
৩. গাফ্ফার (অতি ক্ষমাশীল),
৪. বাসির (সর্বদ্রষ্টা) ও
৫. সামিউ (সর্বশ্রোতা)।
কুফর শব্দের আভিধানিক অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি বিশ্বাস করাকে কুফর বলা হয়।
মানুষ নানাভাবে কাফির বা অবিশ্বাসী হতে পারে। কাফির হওয়ার দুটি দিক হলো-
১. আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব অবিশ্বাস বা অস্বীকার করা। অর্থাৎ 'আল্লাহ নেই' এমন কথা বললে সে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে।
২. আল্লাহ তায়ালার গুণাবলির অস্বীকার করা। যেমন- আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা বা রিজিকদাতা না মানা।
কাফির অর্থ অবিশ্বাসী, অস্বীকারকারী। যে ব্যক্তি কুফরে লিপ্ত হয় তাকে বলা হয় কাফির। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি ইসলামের কোনো মৌলিক বিষয়ে অবিশ্বাস করে তখন তাকে কাফির বলা হয়।
মানবজীবনে কুফরের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কুফরের ফলে দুনিয়াতেই নয় বরং আখিরাতেও মানুষকে শোচনীয় পরিণতি বরণ করতে হবে। কুফরের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর যারা কুফরি করবে এবং আমার নির্দশনগুলোকে অস্বীকার করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।"
হতাশা সৃষ্টির কারণ হলো কাফির ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাকদিরে অবিশ্বাস করে। ফলে সে যেকোনো বিপদে-আপদে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে ধৈর্যধারণ করতে পারে না। অন্যদিকে তাকদিরে বিশ্বাস না থাকায় যেকোনো ব্যর্থতায় সে চরম হতাশ হয়ে পড়ে।
কুফর মানবসমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটায়। আখিরাত, জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাস না থাকায় কাফির ব্যক্তি নৈতিকতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে না এবং দুনিয়ার স্বার্থে মিথ্যাচার, অনাচার, ব্যভিচার ইত্যাদি যেকোনো পাপ ও অনৈতিক কাজই সে বিনা দ্বিধায় করতে পারে। নবি-রাসুলগণকে বিশ্বাস না করায় তাঁদের নৈতিক চরিত্র এবং শিক্ষাও সে অনুসরণ করে না। এভাবে কুফরের মাধ্যমে সমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটে।
পরকালে কাফিররা জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে। তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে। মহান আল্লাহ বলেন- "যারা কুফরি করবে, এবং আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।"
(সূরা আল-বাকারা : ৩৯)
শিরক অর্থ একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। যে ব্যক্তি শিরক করে তাকে বলা হয় মুশরিক।
মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে অংশীদার সাব্যভকরা হলো শিরক। শিরক-চার ধরনের হতে পারে। যথা- ১. আল্লাহ তায়ালার সত্তা ও অস্তিত্বে শিরক করা, ২. আল্লাহর গুণাবলিতে শিরক করা, ৩. সৃষ্টিজগতের পরিচালনায় কাউকে আল্লাহর অংশীদান বানানো এবং ৪. ইবাদতে আল্লাহর সাথে শরিক করা।
শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমেন মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো শিরক। সূরা আন-নিসার ৪৮নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।"
প্রকৃতপক্ষে শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা আন-নিসা: ৪৮) সুতরাং শিরক থেকে সকলেরই সদাসর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। ভুলক্রমে আল্লাহ তায়ালার সাথে শিরক করে ফেললে সাথে সাথে পুনরায় ইমান আনতে হবে।
নিফাক শব্দের আভিধানিক অর্থ ভন্ডামি, কপটতা, দ্বিমুখীভাব, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা ইত্যাদি। এর ব্যবহারিক অর্থ হলো অন্তরে একরকম ভাব রেখে বাইরে এর বিপরীত অবস্থা প্রকাশ করা। অর্থাৎ অন্তরে বিরোধিতা গোপন রেখে বাইরে আনুগত্য প্রদর্শন করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন করে মুখে ইসলামকে স্বীকার করার নাম হলো নিফাক।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন করে মুখে ইসলামকে স্বীকার করার নাম হলো নিফাক। যে এরূপ কাজ করে তাকে বলা হয় মুনাফিক। মুনাফিকরা অন্তরের দিক থেকে কাফির ও অবাধ্য। কিন্তু বাহ্যিকভাবে তারা ইসলাম ও ইমান স্বীকার করে এবং মুসলিমদের ন্যায় ইবাদত পালন করে।
মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি। যথা-
১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে।
২.যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে।
৩. আমানতের খিয়ানত করে।
নিফাক মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা ধ্বংস করে দেয়। । এর ফলে মানুষ মিথ্যাচারের মতো ঘৃণ্য কাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মিথ্যার পাশাপাশি মুনাফিকরা অন্যান্য খারাপ ও অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। পার্থিব লোভ-লালসার মোহে তারা অন্ধ হয়ে যায়। ফলে যেকোনো ধরনের অন্যায় করতে তারা দ্বিধা বোধ করে না। এজন্য বলা হয় নিফাক মারাত্মক পাপ।
ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য মুনাফিকরা খুবই ক্ষতিকর। কেননা তারা মুসলমানদের সাথে মিশে ইসলামের শত্রুদের সাহায্য করে। মুসলমানদের গোপন তথ্য ও দুর্বলতার কথা শত্রুদের জানিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর যুগেও মদিনাতে মুনাফিকরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তারা ইসলাম ও মুসলমানগণের সাথে থেকেও আল্লাহর তায়ালার অবাধ্য ছিল।
আমরা নিফাক থেকে বেঁচে থাকব। আমাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী সকলের নিকট নিফাকের কুফল ও পরিণতির কথা তুলে ধরব ও তাদের সতর্ক করব। রাসুলুল্লাহ (স.) মুনাফিকদের যে তিনটি চিহ্ন বা নিদর্শনের কথা বলেছেন এগুলো থেকে আমরা অবশ্যই বেঁচে থাকব এবং নিজ জীবনে উত্তম চরিত্র অনুশীলন করব
নিফাক একটি মারাত্মক পাপ। এটি মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা ধ্বংস করে দেয়। পার্থিব লোভ-লালসা ও স্বার্থরক্ষায় মুনাফিকরা মানুষের অকল্যাণ করতেও পিছপা হয় না। তারা পরনিন্দা ও পরচর্চা করে। ফলে সমাজে সন্দেহ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মুনাফিকরা ভিতরে এক আর বাইরে অন্য রকম হওয়ায় লোকজন তাদের বিশ্বাস করে না। বরং সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখে। সমাজের মানুষের নিকট তারা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে জীবন কাটায়। তাই আমরা নিফাক পরিহার করব।
অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন করে মুখে ইসলামকে স্বীকার করাই হলো নিফাক তথা মুনাফেকি। মুনাফিকদের পরিণতি অনেক ভয়াবহ। কারণ তারা সদাসর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য চেষ্টা করে। মিথ্যার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে।
ইসলামের মূলবাণী কালিমা তায়্যিবাহ দ্বারা দুটি বিষয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ কালিমার প্রথমাংশ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; অর্থ- আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই) দ্বারা তাওহিদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আর সাথে সাথে দ্বিতীয়াংশ (মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ; অর্থ- মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল) দ্বারা রিসালাতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অসংখ্য অগণিত নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্যহীনভাবে দুনিয়ার প্রেরণ করা হয়নি। বরং তাঁরা নবুয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব পালন করেছেন। নবুয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁদের বেশ কিছু কাজ করতে হতো। দুটি উদ্দেশ্য হলো-'
১. নবি-রাসুলগণ মানুষের নিকট আল্লাহ তায়ালার পরিচয় তুলে ধরতেন।
২. সত্য ও সুন্দর জীবনের দিকে আহ্বান করতেন
নবি-রাসুলগণ ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের 'অধিকারী। সকল সৎগুণ তাঁরা অনুশীলন করতেন। তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত সৎ সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ। দয়া, ক্ষমা, ধৈর্য ইত্যাদি সব ধরনের মানবিক গুণ তাঁদের চরিত্রে বিদ্যমান ছিল। মিথ্যা, প্রতারণা, পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি খারাপ স্বভাবের লেশমাত্র তাঁদের চরিত্রে কখনোই ছিল না। বরং তাঁরা ছিলেন সৎস্বভাবের জন্য মানবজাতির অনুপম আদর্শ।
দীন প্রচারে নবি-রাসুলগণ ছিলেন ত্যাগের মূর্ত প্রতীক। বিনা দ্বিধায় পার্থিব আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস, ধন-সম্পদ তাঁরা আল্লাহর নির্দেশে ত্যাগ করতেন। দীন প্রচারের স্বার্থে প্রিয়নবি (স.) ঘর আত্মীয়স্বজন, এমনকি নিজ দেশে মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করেছিলেন।
আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। সর্বপ্রথম নবি ছিলেন হযরত আদম (আ.)। আর সর্বশেষ নবি ও রাসুল হলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)। এঁদের মাঝখানে আল্লাহ তায়ালা আরও বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। হয়ত আদম (আ.) হতে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত নবি-রাসুলদের আগমনের এ ধারাবাহিকতাকেই নবুয়তের ক্রমধারা বলা হয়।
আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। দুনিয়াতে আগমনকারী সব নবি-রাসুলই কোনো বিশেষ গোত্র, বিশেষ দেশ, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সারা বিশ্বের সকল স্থানের সকল মানুষের নবি। তাই মহানবি (স.) কে বিশ্বনবি বলা হয়।
রাসুলুল্লাহ (স.) ছিলেন সর্বকালের নবি। কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আগমন করবে সকলের নবি তিনিই। তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও তাঁর ওপর অবতীর্ণ কিতাব আল-কুরআন সকলকেই অনুসরণ করতে হবে। তিনি রহমতের নবি। মানবজাতির জন্য তিনি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামত ও রহমতস্বরূপ। তায়ালা বলেন, "আর (হে নবি!) আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি কেবল রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।" (সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭।
খাতামুন শব্দের অন্যতম অর্থ সিলমোহর। কোনো কিছুতে সিলমোহর তখন অঙ্কিত করা হয় যখন তা পূর্ণ হয়ে যায়। সিলমোহর লাগানোর পর তাতে কোনো কিছু প্রবেশ করানো যায় না। নবুয়তের সিলমোহর হলো নবুয়তের পরিসমাপ্তির ঘোষণা। নবুয়তের দায়িত্বের পরিসমাপ্তি ঘোষণা। অর্থাৎ নতুনভাবে কোনো ব্যক্তি নবি হতে পারবে না এবং নবুয়তের ধারায় প্রবেশ করতে পাররে না। এটাই হলো খতমে নবুয়তের মূল কথা।
আমাদের প্রিয়নবি (সা.) হলেন খাতামুন নাবিয়ি্যন। তিনি সর্বশেষ নবি। তাঁর পরে আর কোনো নবি নেই। তাঁর পরে আজ পর্যন্ত কোনো নবি 'আসেননি। কিয়ামত পর্যন্ত আসবেনও না। তাঁর পরবর্তীতে যারা নবুয়ত দাবি করেছে তারা সবাই ভন্ড, মিথ্যাবাদী ও প্রতারক। সর্বোপরি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে খাতামুন নাবিয়ি্যন হিসেবে বিশ্বাস করা ইমানের অন্যতম অঙ্গ। তাই আমরা খতমে নবুয়তে বিশ্বাস করব।
নবুয়ত ও রিসালাতের চেতনা মানুষের মধ্যকার সমস্ত খারাপ অভ্যাস, অশ্লীলতা ও মন্দকর্মের চর্চা দূর করে দেয়। মানুষ সৎ ও সুন্দর জীবনযাপনে উৎসাহিত হয়। উত্তম চরিত্র ও নৈতিক আচার-আচরণে উদ্বুদ্ধ হয়। এভাবে নবুয়ত ও রিসালাতের শিক্ষায় মানুষ নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়।
নবুয়ত ও রিসালাত মানুষকে নবি-রাসুলগণের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে। নবি-রাসুলগণ ছিলেন নিষ্পাপ। তাঁরা ছিলেন সকল সৎগুণের অধিকারী। উত্তম চরিত্রের নমুনা ছিল তাঁদের জীবনচরিত। কোনোরূপ অন্যায়, অনৈতিক ও অশ্লীল কাজকর্ম তাদের চরিত্রে কখনোই ছিল না। বরং সর্বাবস্থায় নীতি ও নৈতিকতার আদর্শ রক্ষা করাই ছিল তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহযাব: ২১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানবতার মহান শিক্ষক। তিনি মানুষকে মানবতা ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সাহায্য-সহযোগিতা ইত্যাদির নির্দেশনা প্রদান করেছেন। অত্যাচার, অবিচার ও অনৈতিকতার বদলে সভ্য, ন্যায় ও মানবিতার কথা বলেছেন। মানুষকে উত্তম চরিত্রবান হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। নিজ জীবনে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ অনুশীলনের মাধ্যমে হাতে কলমে মানুষকে নৈতিকতা সমুন্নত রাখতে শিক্ষা দিয়েছেন।
নবুয়ত ও রিসালাতে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা ইসলামি জীবনদর্শনে প্রবেশ করি। অতঃপর নবি-রাসূলগণের জীবনী ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ কামনা করি। এভাবে আমাদের জীবন ও চরিত্র উত্তম হয়। নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকশিত হয়। মানবসমাজে পশুত্বের পরিবর্তে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে।
কিতাব শব্দের অর্থ লিপিবদ্ধ বা লিখিত বস্তু। এর প্রতিশব্দ হলো গ্রন্থ, পুস্তক, বই ইত্যাদি। আসমানি কিতাব হলো এমন গ্রন্থ যা আল্লাহ তায়ালা থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। ইসলামি পরিভাষায়, যেসব কিতাব আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য দিক নির্দেশনাস্বরূপ নাজিল করেছেন তাকে আসমানি কিতাব বলে।
আল্লাহ তায়ালা আসমানি কিতাবসমূহে নানা বিষয়ের আলোচনা উপস্থাপন করেছেন। যেমন-
ক. আল্লাহ তায়ালার সত্তাগত পরিচয়।
খ. আল্লাহ তায়ালার গুণাবলির বর্ণনা।
গ. নবি-রাসুলগণের বর্ণনা।
ঘ. পূর্ববর্তী জাতিসমূহের বিবরণ।
৬. অবাধ্য ও কাফিরদের পরিণতির বিবরণ।
আসমানি কিতাবসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করা ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসমানি কিতাবসমূহে বিশ্বাস স্থাপন না করলে ইমানের মূল বিষয়ই নড়বড়ে হয়ে যায়। কেননা আসমানি কিতাবগুলোর মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহ তায়ালা, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, পরকাল ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পেরেছে।
আল-কুরআন হলো সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী। মানবজাতির হিদায়াতের লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি। "আর হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এ কিতাব নাজিল করেন।
কুরআন অর্থ পঠিত। আল-কুরআন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পঠিত | গ্রন্থ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে বাধ্যতামূলকভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে এ মহাগ্রন্থকে কুরআন বলা হয়।
আল-কুরআনের বেশ কিছু নাম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রসিদ্ধ নাম-
১. আল-কিতাব - স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রন্থ।
২. আল-ফুরকান - সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।
৩. আল-হিকমাহ - জ্ঞান, প্রজ্ঞা।
৪. আল-বুরহান - সুস্পষ্ট প্রমাণ।
৫. আল-হক - সত্য।
সর্বজনীন কিতাব হিসেবেও আল-কুরআনের মর্যাদা অনন্য। এটি কোনো দেশ, কাল বা জাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয়। বরং সকল যুগের সব মানুষের জন্য এটি উপদেশ ও পথনির্দেশক। সুতরাং এটি সর্বজনীন কিতাব।
আসমানি কিতাব মূলত জ্ঞানের সর্বোত্তম উৎস। আসমানি কিতাব মানুষকে সবধরনের কল্যাণের পথনির্দেশ করে। আল-কুরআন প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি মুত্তাকিদের জন্য পথনির্দেশক।" (সূরা আল-বাকারা: ০২)
আল-কুরআন হলো সকল জ্ঞানের আধার। মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূলনীতি ও সারকথা এ গ্রন্থে নির্ভুলভাবে বর্ণিত হয়েছে। এভাবে আল-কুরআনের শিক্ষা মানুষকে সুশিক্ষিত করে তোলে ও নৈতিকতা বিকাশে সহায়তা করে।
আখিরাত অর্থ পরকাল। মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলা হয়। মানবজীবনের দুটি পর্যায় রয়েছে। ইহকাল ও পরকাল। ইহকাল হলো দুনিয়ার জীবন। আর মৃত্যুর পরে মানুষের যে নতুন জীবন শুরু হয় তার নাম পরকাল বা আখিরাত।
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যস্থ কাজ করতে উৎসাহ যোগায়। কেননা আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি জানে যে, পরকালে তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, দুনিয়ার সব কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। ফলে বিশ্বাসী ব্যক্তি দুনিয়াতে সৎকাজে উৎসাহিত হয় এবং অসৎকাজ থেকে বিরত থাকে।
আখিরাত বা পরকালীন জীবনের শুরু হয় মৃত্যুর মাধ্যমে। সুতরাং মৃত্যু হলো পরকালের প্রবেশদ্বার। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।" (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)
মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কে কবরের জীবন বলা হয়। এর অপর নাম বারযাখ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।" (সূরা আল-মুমিনুন: ১০০)
কবরে মৃত ব্যক্তিকে মুনকার-নাকির নামক দুজন ফেরেশতা তিনটি প্রশ্ন করেন। সেগুলো হলো-
১. মার রাব্বুকা? অর্থ: তোমার রব কে?
২. মা দীনুকা? অর্থ: তোমার দীন বা জীবনব্যবস্থা কী?
৩. মান হাযার রাজুলু? অর্থ: এই ব্যক্তি কে?
ফেরেশতা ইসরাফিল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে যেদিন প্রথম শিঙায় ফুঁক দিবেন সেদিন সারাবিশ্ব প্রলয় হয়ে যাবে। এ প্রলয়ের পর তিনি দ্বিতীয়বার ফুঁক দিবেন তখন সকল মানুষ যে যেখানে থাকুক | সেখান থেকে উঠে দাঁড়াবে। এ অবস্থাকেই কিয়ামত বলে।
ফেরেশতা ইসরাফিল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে যেদিন প্রথম শিঙায় ফুঁক দিবেন সেদিন সারাবিশ্ব প্রলয় হয়ে যাবে। এ প্রলয়ের পর তিনি দ্বিতীয়বার ফুঁক দিবেন তখন সকল মানুষ যে যেখানে থাকুক | সেখান থেকে উঠে দাঁড়াবে। এ অবস্থাকেই কিয়ামত বলে।
মিযান অর্থ পরিমাপক যন্ত্র বা দাঁড়িপাল্লা। হাশরের ময়দানে মানুষের আমলসমূহ ওজন করার জন্য আল্লাহ তায়ালা যে পাল্লা প্রতিষ্ঠা করবেন তাকে মিযান বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব।" (সূরা আল-আম্বিয়া: ৪৭)
সিরাত এর শাব্দিক অর্থ পথ, রাজা, পুল, সেতু ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের ভাষায় সিরাত হলো হাশরের ময়দান হতে জান্নাত পর্যন্ত জাহান্নামের উপর দিয়ে চলমান একটি উড়াল সেতু। (তিরমিযি)। এ সেতু পার হয়ে নেক আমলকারী বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
শাফাআত শব্দের অর্থ সুপারিশ করা, অনুরোধ করা ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণের সুপারিশ করাকে শাফাআত বলে।
কিয়ামতের দিন নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণ আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তায়ালা এসব শাফাআত কবুল করবেন এবং বহু মানুষকে জান্নাত দান করবেন। তবে শাআফাতের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা থাকবে আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর অধিকারে। তিনি নিজেই বলেছেন, "আমাকে শাফাআহ (করার অধিকার) দেওয়া হয়েছে।" (বুঝারি মুসলিম)
রাহিম শব্দের অর্থ পরম করুণাময়।
জান্নাত অর্থ উদ্যান, বাগান, সুশোভিত কানন। ইসলামি পরিভাষায়, পরকালীন জীবনে পুণ্যবানগণের জন্য পুরুষ্কারস্বরূপ যে আরামদায়ক স্থান তৈরি করে রাখা হয়েছে তাকে বলা হয় জান্নাত।
আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্য আটটি জান্নাত তৈরি করে রেখেছেন। এগুলো হলো- (১) জান্নাতুল ফিরদাউস, (২) দারুল মাকাম, (৩) দারুল কারার, (৪) দারুস্সালাম, (৫) জান্নাতুল মাওয়া, (৬) জান্নাতুল আদন, (৭) দারুন নাইম ও (৮) দারুল খুলদ।
জাহান্নাম হলো শাস্তির স্থান বা চিরদুঃখের জায়গা। পরকালে মুমিনগণের জন্য যেমন জান্নাতের ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি পাপীদের জন্য রয়েছে শাস্তির স্থান। আর জাহান্নামই হলো সে শান্তির জায়গা। জাহান্নাম চিরশান্তির স্থান। এর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষের পাপের পরিমাণ অনুসারে শান্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
পাপীদের শান্তিদানের জন্য আল্লাহ তায়ালা ৭টি দোযখ তৈরি করে রেখেছেন। এগুলো হলো- (১) জাহান্নাম, (২) হাবিয়া, (৩) জাহিম, (৪) সাকার, (৫) সাইর, (৬) হুতামাহ এবং (৭) লাযা।
নৈতিক জীবন গঠনের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস অভ্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে জীবন পরিচালনায় নীতি ও আদর্শের অনুসরণ করতে বাধ্য করে। যে ব্যক্তি আখিরাতে বিশ্বাস করে, সে প্রত্যহ তার প্রতিটি কাজের হিসাব নিজেই নিয়ে থাকে। এভাবে দৈনন্দিন আত্মসমালোচনার মাধ্যমে মানুষ তার ভুল-
ত্রুটি শুধরে সচ্চরিত্রবান হিসেবে গড়ে ওঠে।
আখিরাতে পুণ্যবানকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করানো হবে। জান্নাত হলো চিরশান্তির স্থান। জান্নাত লাভের আশা মানুষকে দুনিয়ার জীবনে সৎকর্মশীল করে তোলে। মানুষ জান্নাত ও তার নিয়ামত প্রাপ্তির আশায় নেক আমল করে, ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হয়। কেননা, আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা ও সৎকর্ম ব্যতীত জান্নাত লাভ করা যায় না।
জাহান্নামের শাস্তির ভয় মানুষকে অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে। দুনিয়াতে আল্লাহ তায়ালার আদেশ না মানা, পার্থিব লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে অন্যায় অনৈতিক কাজ করা ইত্যাদি জাহান্নামিদের কাজ। সুতরাং জাহান্নামের ভয়ে মানুষ এসব কাজ থেকে বেঁচে থাকে।
আকাইদ শব্দটি আকিদা শব্দের বহুবচন।
আকাইদ শব্দটি আকিদাহ শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো-বিশ্বাসমালা।
ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসকে আকাইদ বলা হয়।
ইসলামের দুটি দিক রয়েছে- বিশ্বাসগত দিক ও আচরণগত বা প্রায়োগিক দিক।
আল্লাহ তায়ালা, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি আকাইদের অন্তর্ভুক্ত।
বস্তুত আকাইদের বিষয়গুলোর ওপর বিশ্বাসের মাধ্যমেই মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে।
আল্লাহর প্রতি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর নিকট পূর্ণ আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ করা, তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর দেওয়া বিধান অনুসারে জীবনযাপন করাকে ইসলাম বলে।
ব্যবহারিক অর্থে আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল (স.)-এর আনুগত্য করাকে ইসলাম বলে।
উক্তিটি সূরা আলে ইমরান-এর ১৯ নম্বর আয়াত।
সূরা মায়িদার ৩নং আয়াতে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
যিনি ইসলাম অনুসারে জীবন পরিচালনা করেন তাকে বলা হয় মুসলিম বা মুসলমান।
আরবি ইসলাম শব্দটি (সিলমুন) মূলধাতু হতে নির্গত, সিলমুন অর্থ শান্তি।
ইসলাম শিক্ষা হলো- ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
ইমান শব্দটি 'আমনুন' ধাতু হতে নির্গত।
ইমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস করা, আস্থা স্থাপন, স্বীকৃতি দেওয়া, নির্ভর করা, মেনে নেওয়া ইত্যাদি।
শরিয়তের যাবতীয় বিধিবিধান অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং তদনুযায়ী আমল করাকে ইমান বলে।
প্রকৃতপক্ষে ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসকেই বলা হয় ইমান।
ইমানে মুফাসালে ইমানের সাতটি মৌলিক বিষয়ের কথা বলা হয়েছে।
ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক গাছের মূল ও শাখা-প্রশাখার মতো।
ফেরেশতাগণ নূরের তৈরি।
দুনিয়াতে সর্বমোট ১০৪ খানা আসমানি কিতাব নাজিল করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা মানুষের তাকদিরের নিয়ন্ত্রক
যেসব বিষয় একমাত্র মানুষের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি হওয়ার যোগ্য তাই মানবিক মূল্যবোধ।
মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব।
মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ইমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ইমানের মূলকথা হলো- ( লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ)। অর্থ: "আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলায় নেই, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল।"
তাওহিদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ।
আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করে নেওয়াকে তাওহিদ বলা হয়।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকেই সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, বিধানদাতা এবং ইবাদতের মালিক একক সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করা ও মেনে নেওয়াকে তাওহিদ বলে।
আয়াতটি সূরা আশ-শূরার আয়াত নং ১১।
মুমিন বা মুসলিম হতে হলে একজন মানুষকে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদে বিশ্বাস করতে হবে।
ইসলামের সকল শিক্ষা ও আদর্শ তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
দুনিয়াতে যত নবি-রাসুল এসেছেন সকলেই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন।
সকল নবি-রাসুলের দাওয়াতের মূলকথা ছিল- (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বা আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই।
তাওহিদের দাওয়াত দিতে গিয়ে হযরত ইবরাহিম (আ.) অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন।
তাওহিদ হলো ইমানের মূল।
আল্লাহ তায়ালা এ বিশ্বজগতের অধিপতি ও মালিক। তিনি একক ও অদ্বিতীয় সত্তা। তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি অনন্য ও অতুলনীয়।
আল্লাহ আরবি শব্দ।
সূরা ইখলাসে ভাওহিদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা সকল গুণের আধার। সকল গুণ তাঁর নিকট পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান।
রাহিম শব্দের অর্থ পরম করুণাময়
জাব্বার শব্দের অর্থ প্রবল।
গাফ্ফার শব্দের অর্থ অতি ক্ষমাশীল।
বাসির শব্দের অর্থ সর্বদ্রষ্টা।
সামিউন শব্দের অর্থ সর্বশ্রোতা।
সামিউন শব্দের অর্থ সর্বশ্রোতা।
হাফিয শব্দের অর্থ মহারক্ষক।
কুফর শব্দের আভিধানিক অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি।
উত্তর: আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলা হয়।
ইমানের বিপরীত হলো কুফর
যে ব্যক্তি কুফরে লিপ্ত হয় সে কাফির।
কোনো ব্যক্তি যদি ইসলামের কোনো মৌলিক বিষয়ে অবিশ্বাস করে তখন তাকে কাফির বলা যাবে।
কাফির অর্থ অবিশ্বাসী, অস্বীকারকারী।
ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো অস্বীকার করা কুফরির শামিল।
ইচ্ছাকৃতভাবে কাফিরদের অনুকরণকারী ব্যক্তি কাফির হিসেবে গণ্য হবে।
মহানবি (স.) কিংবা কুরআনকে নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করা কুফরি।
অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতা কুফরের পরিণতি।
আয়াতটি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ৩৯নং আয়াত।
অংশীদার শব্দের আরবি প্রতিশব্দ হলো শিরক
মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বন্ধুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়।
যে ব্যক্তি শিরক করে সে মুশরিক।
শিরক শব্দের বিপরীত শব্দ তাওহিদ।
তাওহিদের বিপরীত শব্দ শিরক।
ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সেজদা করা, কারও নামে পশু জবেহ করা ইত্যাদি শিরকের উদাহরণ।
শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুলুম হলো শিরক করা।
আল্লাহ তায়ালা শিরকের গুনাহ ক্ষমা করবেন না।
উদ্ধৃতিটি সূরা আন-নিসা থেকে নেওয়া। এটি সূরার ৪৮ নং আয়াত।
নিফাক শব্দের অর্থ ভন্ডামি, কপটতা।
অন্তরে কুফর ও অরাধ্যতা গোপন করে মুখে ইসলামকে স্বীকার করার নাম হলো নিফাক।
অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন করে মুখে ইসলামকে স্বীকার করার নাম হলো নিফাক। যে এরূপ কাজ করে তাকে বলা হয় মুনাফিক।
মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত হাদিসটি সহিহ বুখারি শরিফের।
আল্লাহর বাণী
আয়াতটি সূরা মুনাফিকুন-এর।
রিসালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ বার্তা, চিঠি পৌঁছানো, পয়গাম, সংবাদ বা কোনো ভালো কাজের দ্বায়িত্ব বহন করা।
কালিমার প্রথমাংশ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ;) অর্থ আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই দ্বারা তাওহিদের তথা আল্লাহর একত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আয়াতটি সূরা হাজ্জ-এর।
হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন একজন প্রসি নবি।
সর্বপ্রথম নবি ছিলেন হযরত আদম (আ.)।
সর্বশেষ নবি ও রাসুল হলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)।
আয়াতটি সূরা আর-রাদ-এর। আয়াত নং ৭।
সব নবি-রাসুলের দীনের মৌলিক কাঠামো ছিল এক ও অভিন্ন।
আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ বা তাওহিদ ছিল সকল নবি- রাসুলদের প্রচারিত দীনের মুলুকথা।
সূরা মায়িদায় দীনের পূর্ণাঙ্গতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সারা, বিশ্বের সকল স্থানের সকল মানুষের নবি।
আয়াতটি সূরা আম্বিয়ার। আয়াত নং ১০৭।
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে দীনের পূর্ণতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
খাতামুন' শব্দের অর্থ হলো শেষ, সমাপ্তি, সিলমোহর।
নবুয়ত হলো নবিগণের দায়িত্ব
খতমে নবুয়ত হলো নবুয়তের পরিসমাপ্তি।
যার মাধ্যমে নবুয়তের ধারার সমাপ্তি ঘটে তিনি হলেন খাতামুন নাবিয়িান।
আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে 'খাতামুন নাবিয়ি্যন' তথা সর্বশেষ নবি বলে অভিহিত করেছেন।
সূরা আল-আহযাব: আয়াত নং ৪০।
নবুয়তের সিলমোহর হলো নবুয়তের পরিসমাপ্তির ঘোষণা। নবুয়তের দায়িত্বের পরিসমাপ্তি যোষণা।
নতুনভাবে কোনো ব্যক্তি নবি হতে পারবে না এবং নবুয়তের ধারার প্রবেশ করতে পারবে না। এটাই হলো খতমে নবুয়তের মূলকথা।
রাসুল (স.) এ পবিত্র বাণীটি সহিহ মুসলিম শরীফের।
নবুয়ত ও রিসালাত হলো নবি-রাসুলগণের দায়িত্ব।
আল্লাহ তায়ালার নির্বাচিত মহান মানুষদের দ্বারা তাঁর বাণী ও শিক্ষা মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়াকে নবুয়ত ও রিসালাত বলা হয়।
মানবজীবনে নৈতিক মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসারে নবুয়ত ও রিসালাত প্রধানত দুভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়াতটি সূরা আল-আহযাব-এর। আয়াত নং ২১।
রাসুলুল্লাহ (স.) ছিলেন মানবতার মহান শিক্ষক।
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণী। বায়হাকি প্রন্থে এ হাদিসটি সংকলন করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে অধিকাংশ সময় তাঁর বাণী রাসুলগণের নিকট প্রেরণ করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা সর্বমোট ১০৪ খানা আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন।
বড় আসমানি কিতাবের সংখ্যা ৪ খানা।
আল্লাহ তায়ালা সর্বমোট ১০৪ খানা আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন। এর মধ্যে ৪ খানা বড় ও প্রসিদ্ধ এবং ১০০ খানা ছোট কিতাব। এ ছোট কিভাবগুলোকে সহিফা বলা হয়।
তাওরাত হযরত মুসা (আ.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে।
যাবুর হযরত দাউদ (আ.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে।
ইনজিল হযরত ঈসা (আ.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে।
হযরত আদম (আ.)-এর ওপর ১০ খানা সহিফা নাজিল হয়েছে।
হযরত শিস (আ.)-এর ওপর ৫০ খানা সহিফা নাজিল হয়েছে।
হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর ওপর ১০ খানা সহিফা নাজিল হয়েছে।
হযরত ইদরিস (আ.)-এর ওপর ৩০ খানা সহিফা নাজিল হয়েছে।
৪০ বছর বয়সে হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়ত লাভ করেন।
নবুয়ত লাভকালে হযরত মুহাম্মদ (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন ছিলেন।
নবি করিম (স.)-এর ৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন ধাকাবস্থায় সর্বপ্রথম সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত নাজিল হয়
রাসুল (স.)-এর নবুয়তের ২৩ বছরে অল্প অল্প করে প্রয়োজনমাফিক সম্পূর্ণ কুরআন নাজিল হয়েছিল।
আল-ফুরকান অর্থ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।
আল-হিকমা অর্থ জ্ঞান
আল-বুরহান অর্থ সুস্পষ্ট প্রমাণ বা দলিল।
আল-বুরহান অর্থ সুস্পষ্ট প্রমাণ বা দলিল।
আন-নূর অর্থ জ্যোতি।
আয-যিকর অর্থ উপদেশ।
আশ-শিফা অর্থ নিরাময়
আল-মাজিদ অর্থ সম্মানিত, মহিমান্বিত।
আর-রাহমাহ অর্থ অনুগ্রহ, দয়া ইত্যাদি।
আয়াতটি সূরা আল-আনআম-এর।
সূরা আল-হিজর: আয়াত নং ৯
রাসুল (স.)-এর নবুয়তের ২৩ বছরে অল্প অল্প করে প্রয়োজনমাফিক সম্পূর্ণ কুরআন নাজিল হয়েছিল।
আল কুরআন ৩০টি খন্ডে বিভক্ত।
আল কুরআন ৩০টি খন্ডে বিভক্ত। এগুলোর প্রত্যেকটিকে এক একটি পারা বলা হয়।
পবিত্র কুরআনে সূরা সংখ্যা ১১৪টি।
পবিত্র কুরআনে বুকু সংখ্যা ৫৫৮টি।
কুরআন অর্থ পঠিত।
আল-কুরআন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পঠিত গ্রন্থ।
আল-কুরআন শব্দের অর্থ গঠিত। যেহেতু এ গ্রন্থ সর্বাধিক পাঠ করা হয় তাই একে আল-কুরআন নামকরণ করা হয়েছে।
সূরা আল-হিজর: আয়াত নং ৯।
জ্ঞান বা শিক্ষ্য হলো এক প্রকার আলো। এটি মানুষের অন্তর চক্ষুকে খুলে দেয়। অজানাকে জানতে সাহায্য করে।
আসমানি কিতাব মূলত নির্ভুল ও সঠিক জ্ঞানের সর্বোত্তম উৎস।
আল্লাহর বাণী।
আয়াতটি সূরা আল-বাকারার। আয়াত নং ২।
মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূলনীতি ও সারকথা আল-কুরআনে নির্ভুলভাবে বর্ণিত হয়েছে।
আখিরাত শব্দের অর্থ পরকাল।
মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলে।
আখিরাতে ভালো কাজের জন্য মানুয় জান্নাত লাভ করবে।
আখিরাতে মন্দকাজের জন্য মানুষ জাহান্নাম লাভ করবে।
আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া, মুমিন ও মুত্তাকি হওয়া যায় না।
সূরা আল-বাকারা: আয়াত নং ৪।
আখিরাত বা পরকালীন জীবনের শুরু হয় মৃত্যুর মাধ্যমে।
মৃত্যুকে পরকালের প্রবেশদ্বার বলা হয়।
মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়ে যেখানে অবস্থান করা হয় তাই কবর।
মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কে কবরের জীবন বলা হয়। এর অপর নাম বারযাখ।
দুনিয়াতে মানুষকে মৃত্যুর পর কবরস্থ করা হয়। এসময় মুনকার-নাকির নামক দুজন ফেরেশতা কবরে আসেন।
মুনকার-নাকির নামক দুজন ফেরেশতা কবরে তিনটি প্রশ্ন করবেন।
কবরের 'দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো- তোমার দীন বা জীবনদর্শন কী?
কিয়ামত অর্থ মহাপ্রলয়।
আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইসরাফিল (আ.) শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন।
কিয়ামতের দ্বিতীয় অবস্থা তথা পুনরুত্থান দিবসকে 'ইয়াওমুল' বা 'আছ' বলে।
আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) সেদিন তাঁর খাঁটি উম্মতগণকে হাউজে কাউছার থেকে পানি পান করাবেন।
মিযান অর্থ পরিমাপক যন্ত্র বা দাঁড়িপাল্লা।
হাশরের ময়দানে মানুষের আমলসমূহ ওজন করার জন্য আল্লাহ তায়ালা যে মানদন্ড বা পাল্লা প্রতিষ্ঠা করবেন তাই হলো মিযান।
আয়াতটি সূরা আল-আম্বিয়া-এর। আয়াত নং ৪৭।
সিরাত-এর শাব্দিক অর্থ পথ, রাস্তা, পুল, পদ্ধতি ইত্যাদি।
সিরাত হলো হাশরের ময়দান হতে জান্নাত পর্যন্ত জাহান্নামের উপর দিয়ে চলমান একটি উড়াল সেতু।
আখিরাতে সকল মানুষকেই সিরাত আরোহণ করে তা অতিক্রম করতে হবে।
কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণের সুপারিশ করাকে শাফাআত বলে।
নবি-রাসুল, ফেরেশতা, শহিদ, আলিম, হাফিযগণ শাফাআতের সুযোগ পাবেন।
জান্নাত অর্থ উদ্যান, বাগান, সুশোভিত কানন।
পরকালীন জীবনে ইমানদার এবং পুণ্যবানগণের পুরস্কারস্বরূপ যে আরামদায়ক স্থান তৈরি করে রাখা হয়েছে তাকে বলা হয় জান্নাত।
আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্য আটটি জান্নাত তৈরি করে রেখেছেন।
দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্র বলা হয়।
আয়াতটি সূরা বুরুজ-এর।
আন-নাযিআত আয়াত নং ৩৭-৩৯।
কবরের 'দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো তোমার দীন বা জীবনদর্শন কী?
সাত শ্রেণির লোক হাশরের দিন আরশের ছায়াতলে স্থান পাবে।
ইসলামের পরিচয় সম্পর্কে মহানবি (স.)-এর একটি হাদিস বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিসটিতে ইসলামের পাঁচটি ভদ্ধের কথা বলা হয়েছে। তা হলো- ১. ইমান (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল) ২. সালাত আদায় করা, ৩. সামর্থ্যবানদের যাকাত আদায় করা, ৪. রমযান মাসের রোযা পালন করা এবং ৫. সামর্থ্যবানদের হজ পালন করা।
আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে বহু আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান প্রেরণ করেছেন। এসব আদেশ-নিষেধ শরিয়ত হিসেবে প্রদান করেছেন। শরিয়তের সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো ইসলাম। এটি হলো মানবজাতির জন্য নির্দেশিত সর্বশেষ ও সর্বোত্তম জীবন বিধান। আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ইসলামই একমাত্র মনোনীত জীবনব্যস্থা।" (সূরা আলে ইমরান: ১৯) সুতরাং বলা যায়, ইসলামই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র জীবন ব্যবস্থা।
আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে বন্ধু আদেশ-নিষেধ বিধিবিধান প্রেরণ করেছেন। এসব আদেশ-নিষেধ শরিয়ত হিসেবে প্রদান করেছেন। শরিয়তের সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো ইসলাম। এটি হলো মানবজাতির জন্য নির্দেশিত সর্বশেষ ও সর্বোত্তম এবং চূড়ান্ত জীবন বিধান। আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে বলেন, অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ইসলামই একমাত্র মনোনীত জীবনব্যবস্থা।
(সূরা আলে-ইমরান: ১৯)
এছাড়া পবিত্র কুরআনের সূরা মায়িদার ৩নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম; আর তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।" এর দ্বারা ইসলামের পূর্ণাঙ্গতার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
সুতরাং ইসলাম হলো আল্লাহ তায়ালার নিকট গ্রহণযোগ্য জীবনবিধান, যা শরিয়তের সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ রূপ।
ইসলাম হলো আল্লাহ তায়ালার প্রবর্তিত ধর্ম বা পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। কারণ মানবজীবনের সকল বিষয় ও সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানের দিকনির্দেশনা এতে দেওয়া হয়েছে। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কাজকর্মের যথাযথ দিকনির্দেশনা ইসলামে বিদ্যমান। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সকল বিষয়ই ইসলামে যথাযথভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবন বা ইসলামে রয়েছে। এজন্য ইসলামকে বলা হয়।
মানুষ তথা বিশ্বজগতের স্রষ্টা আল্লাহ। আর পৃথিবীতে মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য প্রদত্ত জীবন বিধানও আল্লাহর দেওয়া। যার নাম ইসলাম। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কাজকর্মের যথাযথ দিকনির্দেশনা এ ইসলামে বিদ্যমান। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সকল বিষয়ই ইসলামে যথাযথভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবন বা পরকালের অবস্থার বর্ণনাও ইসলামে রয়েছে। সুতরাং সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনার জন্য ইসলামের বিকল্প নেই।
ইসলাম শব্দটি (সিলমুন) মূল ধাতু হতে নির্গত, সিলমুন অর্থ শান্তি। ইসলাম মানুষকে শান্তির পথে পরিচালনা করে। ইসলামি বিধিবিধান মেনে চললে দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষ পরিপূর্ণ শান্তিময় জীবন লাভ করতে পারে। এজন্য ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয়।
ইসলাম সর্বজনীন ধর্ম। এটি কোনো কাল, অঞ্চল বা জাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি সার্বজনীন পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ধর্মেরই তাদের প্রবর্তক, প্রচারক, অনুসারী কিংবা জাতির নামে নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম সর্বজনীন ধর্ম হওয়ার কারণে এর নামকরণ কারও নামে করা হয়নি। বরং মহান আল্লাহর, আনুগত্যের মাধ্যমে শান্তির পথে জীবন পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে এর নামকরণ করা হয়েছে ইসলাম।
ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ইসলাম শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কিছু বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হয়। যেমন সাঁতার কাটতে হলে প্রথমে সাঁতার কী, কীভাবে সাঁতার কাটতে হয় ইত্যাদি শিখতে হয়। গাড়ি চালাতে হলে গাড়ি ও গাড়ি চালনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। ঠিক তেমনি ইসলাম অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্য ইসলাম সম্পর্কে প্রথমে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। আর ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমেই ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হয়। এ কারণে ইসলাম শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত ও আনুগত্য, শিখতে পারি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চলাফেরা, ওঠাবসা কীভাবে করতে হবে তা জানতে পারি। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া, ক্ষমা, বিনয়, নম্রতা ইত্যাদি গুণের অনুশীলন করতে পারি। লোভ, হিংসা, মিথ্যাচার, অহংকার, পরনিন্দা ইত্যাদি খারাপ অভ্যাস পরিহার করে উত্তম চরিত্রবান হতে পারি। সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব, সহিষ্ণুতা, ধৈর্য, সহনশীলতী পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি ইত্যাদির মাধ্যমে সুন্দর এ সমাজ সমাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজনীয় আনার্জন করতে পারি।
ইমান ও ইসলামের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক গাছের মূল ও শাখা-প্রশাখার মতো। ইমান হলো গাছের শিকড় বা মূল আর ইসলাম তার শাখা-প্রশাখা। ইমান ও ইসলাম একটি অন্যটি ব্যতীত পূর্ণাঙ্গ হয় না। ইমান মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, অনুরাগ ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের বাসনা সৃষ্টি করে। আর তাতে ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে সজীব ও সতেজ হয়ে পরিপূর্ণ সৌন্দর্যে বিকশিত হয় ইসলাম।
ইমান ও ইসলামের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। বিদামান। এদের একটি ব্যতীত অন্যটি কল্পনাও করা যায় না। ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক গাছের মূল ও শাখা-প্রশাখার মতো। ইমান হলো গাছের শিকড় বা মূল, আর ইসলাম তার শাখা-প্রশাখা। মূল না। থাকলে শাখা-প্রশাখা হয় না। আর শাখা-প্রশাখা না থাকলে মূল বা শিকড় মূল্যহীন। ইমান হলো অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত। আর ইসলাম বাহ্যিক আচার-আচরণ ও কার্যাবলির সাথে সম্পৃক্ত। প্রকৃতপক্ষে, ইমান ও ইসলাম একটি অপরটির পরিপূরক।
ইসলাম হলো ইমানের বহিঃপ্রকাশ- মন্তব্যটি যথার্থ। ইমানের তিনটি দিক রয়েছে; যথা- ১. অন্তরে বিশ্বাস, ২. মৌখিক স্বীকৃতি ও ৩. শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করা। অর্থাৎ একজন মুমিন অন্তরে যে বিশ্বাস পোষণ করে এবং সে অনুযায়ী মুখে যে স্বীকৃতি দেয়, এ দুটির সমন্বয় ঘটানো হয় আমলের মাধ্যমে। যেমন- মুমিন বিশ্বাস করে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ফরজ। যখন সে এ সালাত আদায় করল তখনই সে তার বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটালো। এজন্যই বলা হয়েছে। ইসলাম হলো, ইমানের বহিঃপ্রকাশ।
ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলো আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস। আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ বা মাবুদ নেই। তিনি সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। তিনি সকল গুণের আধার। তিনি তাঁর সভা ও গুণাবলিতে তুলনাহীন। সমন্ত প্রশংসা ও ইবাদত একমাত্র তাঁরই জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ তায়ালার প্রতি এরূপ বিশ্বাস স্থাপন ইমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তাকদিরে বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাকদিরে বিশ্বাস ইমানের অন্যতম অঙ্গ।
আল্লাহ তায়ালা মানুষের তাকদিরের নিয়ন্ত্রক। তিনিই তাকদিরের। ভালোমন্দ নির্ধারণকারী। মানুষ যা চায় তা-ই সে করতে পারবে না। বরং মানুষ শুধু তার কাজের ফলাফলের জন্য আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করবে। কারণ, তাকদিরের ভালোমন্দ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতে। মনে-প্রাণে এরূপ বিশ্বাস স্থাপন না করলে ইমান থাকে না। ইমানের মৌলিক সাতটি বিষয়ের মধ্যে তাকদির অন্যতম। তাই তাকদিরে বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একজন মুমিন হতে হলে যে সাতটি মৌলিক বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় তাকদিরে বিশ্বাস তার মধ্যে অন্যতম। তাকদিরে বিশ্বাসের অর্থ হলো মানবজীবনে যেসব ভালো ও মন্দ সংঘটিত হয় তা সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। মানুষ ভালোর জন্য শুধু চেস্টা করতে পারে। কিন্তু ফলাফল আল্লাহর ওপর নির্ভর করে। কেউ যদি তাকদিরে বিশ্বাস না করে তাহলে সে মুমিন থাকবে না। এজন্য তাকদিরে বিশ্বাস ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ইমানের সর্বশেষ মূল বিষয়টি হলো মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস, মৃত্যুর সাথে সাথে মানবজীবন শেষ নয়। বরং আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করবেন। সে সময় সকল মানুষ হাশরের ময়দানে একত্রিত হবে। আল্লাহ তায়ালা সেদিন বিচারক হিসেবে মানুষের সকল কাজের হিসাব নিবেন এবং ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও মন্দ কাজের জন্য শান্তি প্রদান করবেন। এ বিশ্বাস স্থাপন করা প্রতিটি মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক।
মানবিক বলতে মানব সম্বন্ধীয় বোঝায়। আর মূল্যবোধ বলতে বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলিকে বোঝায়। যেসব বিষয় একমাত্র মানুষের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি হওয়ার যোগ্য তাই হল্যে মানবিক মূল্যবোধ। অন্যভাবে বলা যায়, যেসব কর্মকান্ড, চিন্তাচেতনা মানুষ ও মানবসভ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাকেই মানবিক মূল্যবোধ বলা হয়।
মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ইমানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমান নানাভাবে মানুষের মানবিকতার বিকাশ সাধন করে থাকে। ইমানের মূলকথা হলো- "আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।" এ কালিমার তাৎপর্য হলো আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, প্রতিপালক ও মাবুদ। তিনি ব্যতীত প্রশংসা ও ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই। তিনি ব্যতীত আর কারও সামনে মাথানত করা যাবে না। এ কালিমা মানুষকে আত্মমর্যাদাশীল করে। এ কালিমায় বিশ্বাসী মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সচেষ্ট হয়। সমাজে বিরাজিত বৈষম্য, হিংসা, বিদ্বেষ, পাপাচার, ব্যভিচার, পশুবৃত্তি দূর করে সেখানে সুন্দর পরিবেশ গড়তে প্রয়াসী হয়। তাই মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ইমানের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইমান মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করে। নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। মুমিন বাক্তি সর্বদাই মানবিকতা ও নৈতিকতার ধারক হয়। অন্যায়, অত্যাচার ও অনৈতিক কার্যকলাপ। ইমানের সম্পূর্ণ বিপরীত। পূর্ণাঙ্গ মুমিন ব্যক্তি কখনোই মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের বিপরীত কাজ করতে পারে না। বরং মুমিন ব্যক্তি সবসময়ই নীতি-নৈতিকতা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে। সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি সৎগুণাবলির চর্চা করে।
ইমান মানুষকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। মন্দ অভ্যাস ও অগ্নীল কার্যাবলি হতে বিরত রাখে। ইমান মানুষকে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির ব্যাপারে সতর্ক করে। মুমিন ব্যক্তি সবসময় মনে রাখেন যে, তাকে একদিন আল্লাহ তায়ালার সামনে হাজির হতে হবে। সেদিন আল্লাহ তায়ালা সব কাজকর্মের হিসাব চাইবেন। আর কাজ অনুসারে শাড়ি বা শান্তি পাওয়া যাবে। অতএব এ জবাবদিহির ভয়ে মুমিন ব্যক্তি সব ধরনের অমানবিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ হতে দূরে থাকে।
তাওহিদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করে নেওয়াকে তাওহিদ বলা হয়। তাওহিদের মূলকথা হলো, আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে অদ্বিতীয়। তিনিই প্রশংসা ও ইবাদতের একমাত্র মালিক। তাঁর তুলনীয় কেউ নেই। এককথায়, আল্লাহ ভায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা ও ইবাদতের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সভা হিসেবে বিশ্বাসের নামই তাওহিদ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।" (সূরা আশ্-শূরা: ১১) এ আয়াত দ্বারা মহান আল্লাহ তাঁর একত্ববাদ তথা তাওহিদের কথা উল্লেখ করেছেন। তাওহিদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করে নেওয়াকে তাওহিদ বলা হয়। তাওহিদের মূল কথা হলো- আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে অদ্বিতীয়। তিনিই প্রশংসা ও ইবাদতের একমাত্র মালিক। তাঁর তুলনীয় কেউ নেই।
শরিয়তের পরিভাষার আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করে নেওয়াকে তাওহিদ বলা হয়। তাওহিদের মূলকথা হলো- আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে অদ্বিতীয়। তিনিই প্রশংসা ও ইবাদতের একমাত্র মালিক। তাঁর তুলনীয় কেউ নেই। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "কোনোকিছুই তাঁর সদৃশ নয়।" (সূরা আশ-শুরা: ১১) এটি ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়।
ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলো তাওহিদ। অর্থাৎ মুমিন বা মুসলিম হতে হলে একজন মানুষকে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদে বিশ্বাস করতে হবে। তাওহিদে বিশ্বাস ব্যতীত কোনো ব্যক্তিই ইমান বা ইসলামে প্রবেশ করতে পারে না। ইসলামের সকল শিক্ষা ও আদর্শই তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই তাওহিদে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।
মানবজীবনে তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। কেননা আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। তাওহিদে বিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষ' এ সত্যকে স্বীকার করে নেয়। মানুষ এর যারা আল্লাহ তায়ালার কৃতজ্ঞতা আদায় করে। তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে আত্মত্মসচেতন ও আত্মমর্যাদাবান করে। মানুষ আল্লাহ তায়ালা বাড়ীত অন্য কারও নিকট মাথা নত করে না। ফলে জগতের সকল সৃষ্টির ওপর মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।
মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। কারণ তাওহিদে বিশ্বাসী মানুষ আল্লাহ তায়ালার কৃতজ্ঞতা আদায় করে। তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে আত্মসচেতন ও আত্মমর্যাদাবান করে। মানুষ আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কারও নিকট মাথা নত করে না। ফলে জগতের সকল সৃষ্টির ওপর মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।
তাওহিদ হলো আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস। মানবজীবনে এ বিশ্বাসের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। তাওহিদের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ তায়ালার গুণাবলি ও পরিচয় লাভ করে এবং সেসব গুণে গুণান্বিত হওয়ার অনুশীলন করে। মানবসমাজে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায়ও তাওহিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা তাওহিদে বিশ্বাস মানবসমাজে এ ধারণা প্রতিষ্ঠা করে যে, সকল মানুষই আল্লাহর বান্দ্য ও সমান মর্যাদার অধিকারী। এভাবে মানুষের মধ্যে ঐক্যের চেতনা জাগ্রত হয়।
মানবজীবনে তাওহিদে বিশ্বাসের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। । তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। কেননা আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। তাওহিদে বিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষ এ সত্যকে স্বীকার করে নেয়। মানুষ এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালার কৃতজ্ঞতা আদায় করে। তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে আত্মসচেতন ও আত্মমর্যাদাবান করে। মানুষ আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কারও নিকট মাথানত করে না। ফলে জগতের সকল সৃষ্টির ওপর মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।
আল্লাহ তায়ালা সকল গুণের আধার। সকল গুণ তাঁর নিকট পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান। তিনি সৃষ্টিকর্তা। বিশ্বজগৎ ও এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর সৃষ্টি। তিনি রিযিকদাতা। সকল সৃষ্টিই রিযিকের জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনিই সর্বশক্তিমান সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। সকল কিছুই তাঁর পরিচালনায় সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এককথায় তিনি সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁর গুণের কোনো সীমা নেই। সুন্দর ও পবিত্র নামসমূহ একমাত্র তাঁরই জন্য নির্ধারিত।
কুফরের কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়। কেননা স্বভাবগতভাবেই মানুষ ভরসা করতে পছন্দ করে। কাফির ব্যক্তি তাকদিরে অরিশ্বাস করে। ফলে যেকোনো বিপদে-আপদে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে। আল্লাহর ওপর ভরসা করে ধৈর্যধারণ করতে পারে না। তাকদিরে বিশ্বাস না থাকায় যেকোনো ব্যর্থতায় সে চরম হতাশ হয়ে পড়ে। এজন্য বলা যায়, কুফর মানুষের মাঝে হতাশার সৃষ্টি করে।
ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো অস্বীকারকারী অনৈতিক কাজ সম্পাদনে দ্বিধা করে না'- উক্তিটি যথার্থ। ইসলামের মৌলিক বিষয় ৭টি। এ সাতটি বিষয়ে বিশ্বাস না থাকায় ব্যক্তির কাছে দুনিয়াই প্রাধান্য পায়। পরকালীন জীবনে তার কোনো বিশ্বাস থাকে না। আর এ বিশ্বাস না থাকায় সে ব্যক্তি নৈতিকতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে না এবং দুনিয়ার স্বার্থে মিথ্যাচার, অনাচার, ব্যভিচার, দুর্নীতি ইত্যাদি। যেকোনো পাপ ও অনৈতিক কাজই সে বিনা দ্বিধায় করতে পারে।
কুফরের নানাবিধ কুফল রয়েছে। তন্মধ্যে একটি কুফল হলো কূফর মানবসমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটায়। আখিরাত, জান্নাত, ও জাহান্নামে বিশ্বাস না থাকায় কাফির ব্যক্তি নৈতিকতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে না এবং দুনিয়ার স্বার্থে মিথ্যাচার, অনাচার, ব্যভিচার, দুর্নীতি ইত্যাদি যেকোনো পাপ ও অনৈতিক কাজই বিনা দ্বিধায় করতে পারে। নবি-রাসুলগণকে বিশ্বাস না করায় তাদের নৈতিক চরিত্র এবং শিক্ষাও সে অনুসরণ করে না। এভাবে কুফরের মাধ্যমে সমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটে।
শিরক হলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। শিরককে চরম জুলুম বলা হয়েছে। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো শিরক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।" (সূরা লুকমান: ১৩) বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তার প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও যদি কেউ আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করে তবে তা অপেক্ষা বড়। জুলুম আর কি হতে পারে। তাই শিরককে চরম জুলুম বলা হয়েছে।
বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও কেউ যদি আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করে তবে তা অপেক্ষা বড় জুলুম আর কী হতে পারে? আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা আন-নিসা; ৪৮)
প্রকৃতপক্ষে শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তাই আমাদের শিরক পরিহার করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন নায় এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা আন-নিসা: ৪৮) সুতরাং শিরক থেকে সকলেরই সদাসর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।। ভুলক্রমে আল্লাহ তায়ালার সাথে শিরক করে ফেললে সাথে সাথে পুনরায় ইমান আনতে হবে।
নিফাক্ একটি মারাত্মক পাপ। এটি মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা ফাসে করে দেয়। পার্থিব লোভ-লালসা ও দার্থরক্ষায় মুনাফিকরা মানুষের অকল্যাশ করতেও পিছপা হয় না। তারা পরনিন্দা ও পরচর্চা করে। ফলে সমাজে সন্দেহ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মুনাফিকরা ভিতরে এক আর। বাইরে অন্য রকম হওয়ায় লোকজন তাদের বিশ্বাস করে না। বরং সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখে। সমাজের মানুষের নিকট তারা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে জীবন কাটায়। তাই আমরা নিফাক পরিহার করব।
ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য মুনাফিকরা খুবই ক্ষতিকর। কেননা তারা মুসলমানদের সাথে মিশে ইসলামের শত্রুদের সাহায্য করে। মুসলমানদের গোপন তথ্য ও দুর্বলতার কথা শত্রুদের জানিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর যুগেও মদিনাতে মুনাফিকরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তারা ইসলাম ও মুসলমানগণের সাথে থেকেও আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য ছিল তাই তারা কাফিরদের চেয়েও ইসলামের জন্য ক্ষতিকর।
ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য মুনাফিকরা ক্ষতিকর। কারণ মুনাফিকরা দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে। তারা প্রকাশ্যে ইমানের ঘোষণা দেয় এবং অন্তরে কুফরি লুকিয়ে রাখে। তারা মুসলমানদের সাথে মিশে থেকে মুসলমানদের গোপন তথ্য কাফিরদের নিকট পাচার করে। মুসলমানদের দুর্বলতার কথা শত্রুদের জানিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে মদিনার মুনাফিকরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। উদ্বুদ যুদ্ধের সময় মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ৩০০ সহচর নিয়ে মাঝপথ থেকে, মদিনায় ফিরে আসে। অর্থাৎ মুনাফিকদের বর্ণচোরা চরিত্রের কারণে তারা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে।
অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন করে মুখে ইসলামকে স্বীকার করাই হলো নিফাক তথা মুনাফেকি। মুনাফিকদের পরিণতি অনেক ভয়াবহ কারণ তারা সদাসর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য চেষ্টা করে। মিথ্যার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে।
রিসালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ বার্তা, চিঠি পৌছানো, । পয়গাম, সংবাদ বা কোনো ভালো কাজের দায়িত্ব বহন করা। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয়।
রিসালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ বার্তা, চিঠি পৌছানো, পয়গাম, সংবাদ বা কোনো ভালো কাজের দায়িত্ব বহন করা। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী মানুষের নিকট পৌছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয়। আর যিনি এ দায়িত্ব পালন করেন তাকে বলা হয় রাসুল। অন্য কথায় রাসুল হলেন মহান আল্লাহ কর্তৃক বাছাইকৃত সে সকল বান্দা যারা তাঁর বাণীসমূহকে মানুষের কাছে পৌছে দিতে আমৃত্যু সচেষ্ট ছিলেন।
ইসলামি জীবন দর্শনে রিসালাতে বিশ্বাস স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাওহিদে বিশ্বাসের সাথে প্রত্যেক মুমিন ও মুসলিমকেই রিসালাতে বিশ্বাস করতে হয়। রিসালাতে বিশ্বাস না করলে কেউ মুমিন হতে পারে না। ইসলামের মূল বাণী কালিমা তায়্যিবাতে এ বিষয়টি সুন্দরভাবে বিবৃত হয়েছে। এ কালিমার প্রথম অংশ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ; (অর্থ আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই) দ্বারা তাওহিদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আর সাথে সাথে দ্বিতীয়াংশ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ; অর্থ মুহম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল দ্বারা রিসালাতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তাওহিদে বিশ্বাস স্থাপনের ন্যায় রিসালাতেও বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। রিসালাতে বিশ্বাস না করলে ইমানদার হওয়া যাবে না। তাই রিসালাতে বিশ্বাস স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। নবি-রাসুলগণ ছিলেন আল্লাহ তায়ালার মনোনীত বান্দা। সকল সৃষ্টির মধ্যে তাঁরাই সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাঁরা ছিলেন নিষ্পাপ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তাঁরা মানবজাতিকে মহান আল্লাহর পথে ডেকেছেন, সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখিয়েছেন, ইহ ও পরকালীন শান্তি ও মুক্তির দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। নবি-রাসুলগণের প্রতি এরূপ বিশ্বাস রাখা ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই নিজেদেরকে মুমিন হিসেবে দাবি করার জন্য আমরা নবি ও রাসুলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব।
মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। নবি-রাসুলগণ ছিলেন আল্লাহ তায়ালার মনোনীত বান্দা। সকল সৃষ্টির মধ্যে তাঁরাই সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাঁরা ছিলেন নিষ্পাপ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তাঁরা মানবজাতিকে মহান আল্লাহর পথে ডেকেছেন, সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখিয়েছেন, ইহ ও পরকালীন শান্তি ও মুক্তির দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। নবি-রাসুলগণের প্রতি এরূপ বিশ্বাস রাখা ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই নিজেদেরকে মুমিন হিসেবে দাবি করার জন্য আমরা নবি ও রাসুলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব।
নবি-রাসুল প্রেরণের অন্যতম একটি কারণ হলো মানুষের নিকট মহান আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরা।
মহান আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল এ পৃথিবীতে প্রেরণ। করেছেন। এর উদ্দেশ্য বা কারণ হলো- মানুষের নিকট আল্লাহ বাণী পৌছে দেওয়া, আল্লাহর ইবাদত ও ধর্মীয় নানা বিধিবিধান শিক্ষা দেওয়া, পরকাল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।
আল্লাহ আয়ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। এঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম ছিলেন হযরত আদম (আ.)। আর সর্বশেষ ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)। হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে নবি-রাসুলগণের আগমণের ধারা শেষ বা বন্ধ হয়ে যায়। সুতরা। তিনিই সর্বশেষ বনি বা খাতামুন নাবিধিান। তাঁর মাধ্যমে পূর্ণতা ঘোষিত হয় এবং নবুয়তের ধায়া সমাজ হয়।
রাসূলুল্লাহ (স.) ছিলেন জনবতার মহান শিক্ষক। তিনি মানুষকে মানবতা ও নৈতিক মূল্যবোষের শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সাহাজ-সহযোগিতা ইআদির নির্দেশনা প্রদান করেছেন। ভূত্যাচার, অবিচার ও অনৈতিকতার বদলে গড়া, ন্যায় ও মানবিকতার কথা বলেছেন। মানুষকে উত্তম চরিত্রবান হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। নিজ জীবনে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ অনুশীলনের আধ্যমে হাতে-কলমে মানুষকে নৈতিকতা সমুন্নত রাখতে শিক্ষা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রাসুল (স.) বলেন, 'উত্তম গুণাবলির পরিপূর্ণতাগণের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি।
মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। এ হিসেবে মানুগের চক্তিত্র, বৈশিস্টন ও কর্মবাণ্ড পরই উন্নত ও পর্বোত্তম দथय উচিত্র। পশুর ন্যাপ্ত কাজকর্ম, লোভ-লালসা ইত্যাদি মানবিকতার আদর্শ নয়। যদি কোনো মানুষ এ আদর্শ হতে দূরে সরে গিয়ে পশ্চর ন্যায় আচরণ করে তবে যে মানবিক মূল্যবোধকে বিনন্ট করে। সুতরাং আমরা মানুষের মর্যাদা ও প্রেষ্টত্বকে সমুন্নত রাখার জন্য উত্তম গুণাবলি ও আদর্শ অনুশীলন করব।
নবি-রাসুলগণ ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। সকল সং গুণাবলি তাঁরা অনুশীলন করতেন। তাঁরা ছিলেন আয়ান্ত সৎ, সত্যবাদী এবং ন্যায়পরায়ণ। দয়া, ক্ষমা, ধৈর্য ইত্যাদি সধদ্বয়ানর মানবিক গুণাবলি তাঁদের চরিত্রে বিদ্যমান ছিল। মিথ্যা, প্রতারণা, পরনিন্দ্য, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি খারাপ স্বভাবের লেশমাত্র উদ্দের চরিত্রে কখনোই ছিল না। বরং তাঁরা ছিলেন সৎম্বভাবের জন্য মানবজাতির অনুপম আদর্শ। তাই আমাদের জীবনকে তাঁদের জীবনের আলোকে গড়তে হলে তাঁদের চরিত্রের অনুসরণ করতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (স.) মানবতার মহান শিক্ষক। কারণ তিনি মানুষকে মানসতা ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়েছেন। অনুষ্যের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, জাভুত্ব, সাচাঘা-সহযোগিতা ইত্যাদির নির্দেশনা প্রণবান করেছেন। অতয়ার, অবিসয় ও অনৈতিকতার বদলে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার কথা বলেছেন। মানুষকে উত্তম চরিত্রবান হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। নিজ জীবনে গৈজিক ও মানবিক মূল্যবোনের অনুশীলনের মাধ্যমে হাতে-কলমে মানুষকে নৈতিকতা সমুন্নত রাখতে শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁয় শিক্ষার ছোঁয়ায় আহিনি যুগের অমানুষগুলো শোনার মানুষে পরিণত হয়। বর্বরতায় অবসান ঘটিয়ে সভ্যতার সুবাতাস সরালিত হয়। যা মার কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই তিনি মানবতার মহান শিক্ষক।
আসমানি কিতাবসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করা ইমানের, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা আসমানি কিতাবগুলোর মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, পরকাল ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারে। যদি কেউ আসমানি কিতাবসমূহ ও তাতে বর্ণিত বিষয়সমূহে অবিশ্বাস করে, তবে স্বভাবতই সে ইমানের অন্যান্য বিষয়গুলোও অস্বীকার করে। সুতরাং ইমান আনার জন্য আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য। অন্যথায় পূর্ণ মুমিন হওয়া যায় না।
কুরআন অর্থ পঠিত। আল-কুরআন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পঠিত গ্রন্থ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে বাধ্যতামূলকভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। এ কারণে কুরআনকে কুরআন বলা হয়। অন্যভাবে বললে, কুরআন যার এক অর্থ জমা করা বা একত্র করা। যেহেতু পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোর একত্রিত রূপ হলো আল-কুরআন তাই এর নাম কুরআন।
আল-কুরআন পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ কিতাব। এ গ্রন্থ সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার। সব বিষয়ের মূলনীতি এ গ্রন্থে বিদ্যমান। আল্লাহ বলেন, "আমি এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি।" (সূরা আল-আনআম: ৩৮) সুতরাং আল-কুরআন হলো পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ। মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের যথাযথ নির্দেশনা এ কিতাবে বিদ্যমান।
আল-কুরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি সন্দেহমুক্ত কিতাব। দুনিয়ার কোনো গ্রন্থই নির্ভুল বা অকাট্য নয়। কিন্তু কুরআন নির্ভুল এবং এটি সন্দেহেরও বাইরে। সন্দেহের উদ্রেক হতে পারে এমন কোনো বিষয়ই এতে নেই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "এটি (কুরআন) সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই।" (সূরা আল-বাকারা: ২)
আখিরাত অর্থ পরকাল। মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলা হয়। মানবজীবনের দুটি পর্যায় রয়েছে- ইহকাল ও পরকাল। ইহকাল হলো দুনিয়ার জীবন। আর মৃত্যুর পরে মানুষের যে নতুন জীবন শুরু হয় তার নাম পরকাল বা আখিরাত। আখিরাত অনন্তকালের জীবন। এ জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। এটি মানুষের চিরস্থায়ী আবাস। আখিরাতে মানুষের দুনিয়ার কাজকর্মের - হিসাব নেওয়া হবে। অতঃপর ভালো কাজের জন্য জান্নাত এবং মন্দকাজের জন্য জাহান্নামের শাস্তি দেওয়া হবে।
মৃত্যুর পরের কবরের জীবনকে বারযাখ বলা হয়। যার স্থায়িত্ব মৃত্যু-পরবর্তী সময় থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত হবে। তাই আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলে বলেছেন, "আর তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।" (সূরা আল-মুমিনুন: ১০০) অর্থাৎ আয়াতটির মাধ্যমে কবরের জীবনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা এ গোটা বিশ্ব মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষকে তাঁর ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু এমন একদিন আসবে যখন গোটা বিশ্বে মহান আল্লাহর ইবাদত করার মতো কেউ থাকবে না। এমনকি আল্লাহর নাম নেওয়ার মতোও কাউকে পাওয়া যাবে না। সকল মানুষ গোমরাহি ও নাফরমানিতে লিপ্ত হয়ে পড়বে। সেসময় আল্লাহ তায়ালা এ পৃথিবী ধ্বংস করে দেবেন।
হাশর হলো মহাসমাবেশ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে সকল মানুষ ও প্রাণিকুল মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে। সকলেই সেদিন একজন আহ্বানকারী ফেরেশতার ডাকে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। এ ময়দান বিশাল ও সুবিন্যস্ত। পৃথিবীর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষই সেদিন এ মাঠে একত্রিত হবে। তাই হাশরের নামকরণ যথার্থ হয়েছে।
রাসুল (স.)-এর হাদিস-"জাহান্নামের উপর সিরাত স্থাপিত হবে"- এটি মহাসত্য বাণী। পুণ্যবানরা এ সিরাত অনায়াসে পার হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। অন্যদিকে পাপীরা এ সিরাত কোনোভাবেই পার হতে পারবে না। আর পার না হতে পেরে জাহান্নামে পতিত হবে। মূলত সিরাতের স্থানটি জাহান্নামের ওপরে। যা উক্ত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
‘সিরাত অতিক্রম না করে কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না’- উক্তিটি যথার্থ। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সিরাত হলো জাহান্নামের উপর স্থাপিত একটি অন্ধকার পুল। এ পুল পার হয়ে নেক আমলকারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। সিরাত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, "এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে, এটা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।" (সূরা মারইয়াম: ৭১) নেক আমলকারী বান্দাগণকে মহান আল্লাহ জান্নাতে যাওয়ার অনুমতি দিবেন।
শাফায়াত শব্দের অর্থ হলো সুপারিশ করা, অনুরোধ করা ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণের সুপারিশ করাকে শাফায়াত বলে। কিয়ামতের দিন নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণ আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তায়ালা এসব সুপারিশ কবুল করবেন এবং অনেক মানুষকে জান্নাত দিবেন।
কিয়ামত দিবসে সূর্য খুব নিকটবর্তী হবে। মানুষ অসহনীয় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত থাকবে। তাঁরা সকলেই আদম (আ.), নূহ (আ.) সহ সকল নবিকে আল্লাহর বিচার শুরু করার জন্য সুপারিশ করতে অনুরোধ করবে। তখন সকলে অপরাগতা জানাবেন। তখন সকল মানুষ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নিকট উপস্থিত হবে। তখন মহানবি (স.) আল্লাহ তায়ালার নিকট সুপারিশ করবেন। তার এ সুপারিশকে শাফাআতে উযমা বলে অভিহিত করা হয়। শাফাআতে উযমার অপর নাম শাফাআতে কুবরা।
"আমাকে শাফাআত (করার অধিকার) দেওয়া হয়েছে।" -উক্তিটি মহানবি (স.)-এর। কিয়ামতের দিন নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণ আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তায়ালা এসব শাফাআত কবুল করবেন এবং বহু মানুষকে জান্নাত দান করবেন। তবে শাফাআতের সবচেয়ে বেশি। ক্ষমতা থাকবে আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর অধিকারে। এ প্রসঙ্গেই মহানবি (স.) প্রশ্নোল্লিখিত উত্তিটি করেছেন।
জাহান্নাম হলো শাস্তির স্থান বা চির দুঃখের জায়গা-। পরকালে মুমিনগণের জন্য যেমন জান্নাতের ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি পাপীদের জন্য রয়েছে শান্তির স্থান। আর জাহান্নামই হলো সে শাস্তির জায়গা। জাহান্নামকে (নার) বা আগুনও বলা হয়। জাহান্নামের সাতটি স্তর। যথা- ১. জাহান্নাম; ২. হাবিয়া; ৩. জাহিম; ৪. সাকার; ৫. সাইর; ৬. জুতামাহ ও ৭. লাযা।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে বোঝানো হয়েছে যে, দুনিয়ার জীবন হলো আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্র। মানুষ শস্যক্ষেত্রে যেরূপ চাষাবাদ করে। বীজ বপন করে, যেভাবে পরিচর্যা করে; ঠিক সেরূপই ফল লাভ করে। যদি কোনো ব্যক্তি তার শস্যক্ষেত্রের পরিচর্যা না করে তবে সে ভালো ফল লাভ করে না। তদ্রুপ দুনিয়ার কাজকর্মের প্রতিদান আখিরাতে দেওয়া হবে। দুনিয়াতে ভালো কাজ করলে আখিরাতে মানুষ পুরষ্কৃত হবে। আর মন্দ কাজ করলে শাস্তি ভোগ করবে। তাই আখিরাত জীবনে সফলতা লাভের জন্যই বলা হয়েছে, "দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।"
'ক্ষণস্থায়ী জীবনের চাষাবাদ অনুযায়ী অনন্ত জীবনে সকলে ফল ভোগ করবে' উক্তিটি সত্য ও বাস্তবসম্মত। মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী। এ জীবনে যে যেরকম কাজ করবে, পরকালে সে সেরকম ফল ভোগ করবে। এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে কেউ যদি অণু পরিমাণ পাপ কাজ করে থাকে তাহলে সে তার ফল ভোগ করবে এবং অণু পরিমাণ নেক আমল করলে সে তার প্রতিদান পাবে। মুমিন ব্যক্তি ভালো কাজ করলে পরকালে জান্নাত লাভকরবে এবং মন্দ কাজ করলে জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করবে।
Related Question
View Allইসলামের ব্যবহারিক অর্থ হলো আল্লাহর দেওয়া বিধান এবং রাসুল (স.)-এর দেখানো পথে জীবন পরিচালনার জন্য নিজেকে আল্লাহর দরবারে সমর্পণ করা।
ইমানের সাতটি মৌলিক বিষয়ের মধ্যে আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করা অন্যতম। তাই মুমিন হওয়ার জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। এছাড়া মুমিনের নিকট পরকালীন কল্যাণই মুখ্য বিষয়। পরকালীন শাস্তি হতে মুক্তি ও শান্তি লাভের আশায় মুমিন ব্যক্তি ইহকালে সুন্দর জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়। আর আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন না করলে দুনিয়ার জীবন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করার কোনো সুযোগ নেই। সেজন্যও আখিরাতে বিশ্বাসী হওয়া অত্যাবশ্যক।
ফরিদের আচরণে শিরক প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে মাটির তৈরি মূর্তি ও পাথরের কারুকার্যের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সিজদাহ করার মতো মাথানত করে সম্মান প্রদর্শন করে।
শিরক (الف) শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। যে ব্যক্তি শিরক করে তাকে বলা হয় মুশরিক। শিরক হলো তাওহিদের বিপরীত।
শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো শিরক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।" (সূরা লুকমান: ১৩)
বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও কেউ যদি আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করে তবে তা অপেক্ষা বড় জুলুম আর কি হতে পারে?
আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা আন-নিসা: ৪৮)
বস্তুত আল্লাহ তায়ালার দয়া, ক্ষমা ও রহমত ব্যতীত দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। পরকালে মুশরিকদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।" (সূরা আল-মায়িদা: ৭২)
প্রকৃতপক্ষে শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এরূপ কাজ থেকে সকলেরই সদাসর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। ভুলক্রমে আল্লাহ তায়ালার সাথে শিরক করে ফেললে সাথে সাথে পুনরায় ইমান আনতে হবে। অতঃপর বিশুদ্ধ অন্তরে তওবা করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। সাথে সাথে ভবিষ্যতে এরূপ পাপ না করার শপথ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহ তায়ালা স্বীয় দয়া ও করুণার মাধ্যমে পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন। সুতরাং ফরিদের উচিত খালেস মনে তওবা করা।
নবি-রাসুলগণের আগমনের ব্যাপারে সেলিমের বক্তব্য যথার্থ নয়। বরং তা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের পরিপন্থি।
সেলিম মন্তব্য করে, নবি-রাসুলগণের আগমনের ধারা অব্যাহত থাকাই যুক্তিযুক্ত। সেলিমের এ মন্তব্য তার নিজস্ব খেয়ালপ্রসূত। তার এ বক্তব্যের সাথে কুরআন ও সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা মতে, নবুয়তের ধারা হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আগমনের মাধ্যমে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
যুগে যুগে মানুষের নিকট মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য নবি-রাসুল আগমন করেছেন। রাসুল (স.)- এর মাধ্যমে রিসালাতের এ ধারার পরিসমাপ্তি ঘটেছে। নবুয়তের এ ধারা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে খতমে নবুয়ত বলে। খতমে নবুয়তে বিশ্বাস ইমানের অন্যতম অঙ্গ। খতমে নবুয়তে অবিশ্বাসী ইমানদার হতে পারে না। যেমনটি আমরা দেখতে পাই উদ্দীপকের সেলিমের মনোভাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "মুহাম্মদ (স.) তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং শেষ নবি।” (সূরা আল-আহ্যাব : ৪০)
আমাদের প্রিয়নবি (স.) হলেন খাতামুন নাবিয়ি্যন। তিনি সর্বশেষ নবি। তাঁর পরে আর কোনো নবি নেই। কিয়ামত পর্যন্ত আসবেনও না। তাঁর পরবর্তীতে যারা নবুয়ত দাবি করেছে তারা সবাই ভন্ড, মিথ্যাবাদী ও প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কেননা মহানবি (স.) বলেছেন, "আমিই শেষ নবি। আমার পরে কোনো নবি নেই।” (সহিহ মুসলিম)
উপরিউক্ত আলোচনায় এটাই প্রমাণিত হয়, সেলিমের মন্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট এবং কল্পনাপ্রসূত।
আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম।
তাওহিদ হলো আল্লাহর একত্বের স্বীকৃতি দেওয়া। অর্থাৎ এ ঘোষণা দেওয়া যে, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তার কোনো শরীক নেই। তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিযিকদাতা, একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে স্বাধীন সার্বভৌম অদ্বিতীয় সত্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
