শিল্পায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কৃষি ও হস্তশিল্পভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা, যান্ত্রিক শিল্পভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও সমাজে রূপান্তরিত হয়। বস্তুত শিল্পায়নের ফলেই শহর, বন্দর ও নগর গড়ে ওঠে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা-উত্তরকাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পের প্রসার ঘটেছে। পাশাপাশি নতুন নতুন শহর-বন্দরও গড়ে উঠেছে।
সমাজ বা রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা কিংবা সুযোগ সৃষ্টি করে নেওয়াই হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন।
একসময় নারীরা সর্বক্ষেত্রেই খুব অবহেলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা শিক্ষাদীক্ষায় সচেতন হয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।
সামাজিক পরিবর্তন হলো সমাজ কাঠামো ও এর কার্যাবলির পরিবর্তন। কোনো জাতির জীবনব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তনই হলো সামাজিক পরিবর্তন। সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেভিস বলেন, 'সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক সংগঠনের মধ্যকার পরিবর্তন।' অর্থাৎ সামাজিক পরিবর্তন হলো সমাজের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির পরিবর্তন।
সামাজিক পরিবর্তন বলতে সমাজ কাঠামো ও এর কার্যাবলির পরিবর্তনকে বোঝায়। প্রতিটি সমাজের মৌল কাঠামো গড়ে ওঠে সে সমাজের উৎপাদন ব্যবস্থা এবং উক্ত ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিভন্ন পেশার মানুষের সম্পর্কের মাধ্যমে। আবার এই কাঠামোর সাথে গড়ে ওঠে কতকগুলো উপরি কাঠামো, যেমন- আইন-কানুন, রাজনীতি, সংস্কৃতি প্রভৃতি। সুতরাং সমাজের মৌল ও উপরি কাঠামোর পরিবর্তনই সামাজিক পরিবর্তন।
সামাজিক পরিবর্তনের ধারণা সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেভিস বলেন, "সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক সংগঠনের মধ্যকার পরিবর্তন।" এবং ম্যাকাইভার বলেন, "মানবীয় সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন।' অর্থাৎ সামাজিক পরিবর্তন হলো সমাজে বসবাসকারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের আচার-আচরণের পরিবর্তন। মোট কথা, কোনো জাতির জীবন ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন।
সামাজিক পরিবর্তন সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাব অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এমনকি সনাতন জীবন ব্যবস্থাকেও গভীরভাবে স্পর্শ করে। সমাজের সৃজনশীল কর্মকান্ড লাভ করে নতুন গতি। উন্মুক্ত হয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন শাখা ও কলাকৌশল। সৃষ্টি হয় নতুন সৃষ্টির উন্মাদনা এবং শুরু হয় নতুন সমাজ গঠনের প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশের সমাজ পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কতকগুলো উপাদান রয়েছে। যথা- ১. প্রাকৃতিক উপাদান; ২. জৈবিক উপাদান; ৩. সাংস্কৃতিক উপাদান; ৪. শিক্ষা; ৫. প্রযুক্তি; ৬. যোগাযোগ এবং ৭. শিল্পায়ন ও নগরায়ণ।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে প্রাকৃতিক উপাদান একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। ধীর ও আকস্মিক ভৌগোলিক পরিবর্তন, জলবায়ু সংক্রান্ত পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রভৃতি বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে এবং সমাজের পরিবর্তন সাধন করে। নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অনাবৃষ্টি প্রভৃতি দুর্যোগ সমাজের মানুষের জীবনযাত্রাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। মানুষ এসব সমস্যা মোকাবিলায় নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করে সামাজিক পরিবর্তন সাধন করে।
হ্যা, নদীভাঙন শহরাঞ্চলে বস্তির সৃষ্টি করে। ধীর এবং আকস্মিক ভৌগোলিক পরিবর্তন, জলবায়ু সংক্রান্ত পরিবর্তন বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে। নানাবিধ দুর্যোগ বাংলাদেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটায়। যেমন- নদীভাঙন এদেশের শহরাঞ্চলে বৃস্তি সৃষ্টি করে। শহরাঞ্চলের এসব বস্তি নানারকম নেতিবাচক সমস্যার সৃষ্টি করে।
জৈবিক উপাদান হলো সামাজিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জন্ম ও মৃত্যুহার, গড় আয়ু, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জনসংখ্যার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রার মান প্রভৃতির সমন্বয়েই জৈবিক উপাদান। মানুষের জৈবিক অবস্থার পরিবর্তন যেমন- জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা হ্রাস, স্থানান্তর অথবা ঘনত্বের পরিবর্তন সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সংস্কৃতি সামাজিক পরিবর্তন সূচনা করে। যেকোনো সমাজের দিকে তাকালেই দেখা যাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, মানুষের মূল্যবোধের পার্থক্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শের ভিন্নতা প্রভৃতি। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সংস্কৃতি লালিত প্রতিষ্ঠান, যা সমাজের মধ্যে নানা রকমের পরিবর্তন সৃষ্টি করে। যেমন- ব্রিটিশ রাজত্বের সময় বাংলার সমাজব্যবস্থার ওপর বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব পরিদৃষ্ট হয়।
মহামানবদের জীবনী সমাজ পরিবর্তনে বিশ্লেষ ভূমিকা পালন করে।
মানুষ তার ব্যক্তিজীবনে মহামানবদের অনুসরণ ও অনুকরণ করে, থাকে, যা সমাজ পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেমন-হযরত মুহাম্মদ (সা.), গৌতম বুদ্ধ, যীশুখ্রিস্ট প্রমুখ মহামানব মানুষের সামনে তুলে ধরেছিল নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন মূল্যবোধ, নতুন আদর্শ, যা সে সময়ে সমাজে নানামুখী পরিবর্তন সূচনা করেছিল।
যেকোনো সমাজের দিকে তাকালেই দেখা যাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ - সংস্কৃতি, মানুষের মূল্যবোধের পার্থক্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শের ভিন্নতা প্রভৃতি। উপনিবেশবাদ, ভ্রমণকাহিনি, বিখ্যাত মনীষীর জীবনী প্রভৃতি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির মধ্যে মিশে গিয়ে ওই সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়। বাংলাদেশের শহরগুলোতেও একাধিক সংস্কৃতির মিশ্রণ দেখা যায়। প্রযুক্তি, মিডিয়া প্রভৃতির প্রভাবে শহর সমাজে সংস্কৃতির মধ্যে পরিবর্তন ও মিশ্রণ ঘটে।
সামাজিক পরিবর্তনে শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন 'প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার আগের অবস্থা থেকে অন্য ব্যবস্থায় নিয়ে যায়। যেমন- নারীশিক্ষা বৃদ্ধি পাওয়ায় নারীরা এখন অনেক বেশি সচেতন হয়েছে। নারী শিক্ষা নারীকে কর্মমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষা আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, কুসংস্কার, অজ্ঞতা প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। এছাড়া নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি করেছে, যা তাদের বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এজন্যই বলা হয়, শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি করেছে, যা তাদের সামাজিক আন্দোলন প্রক্রিয়ায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয়েছে বহু সামাজিক নীতি ও আইন। নারীরা শিক্ষা গ্রহণের ফলে যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন প্রভৃতি সম্পর্কে এখন অনেক সচেতন হয়েছে। এছাড়া নারীরা শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে, যা তাদেরকে ফ্রর্মমুখী করে তুলেছে।
সমাজ বা রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে জারীদের ভূমিকা রাখার সুযোগ করে নেওয়াই হলো নারীর ক্ষমতায়ন। একসময় অবহেলিত নারীরা শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন, নারী উন্নয়ন, নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা নারীকে কর্মমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে।
নারীকে কর্মমুখী করার মাধ্যমে শিক্ষা নারীর ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করে।
শিক্ষা নারীকে সামাজিক আন্দোলন পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করে। ফলে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয় সামাজিক নীতি ও আইন। এছাড়া শিক্ষার ফলে নারীরা স্বাবলম্বী ও কর্মমুখী হয়। ফলে নারীরা পরিবার ও সমাজে অধিক অবদান রাখতে পারে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটে।
প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক। প্রযুক্তির প্রচলন ও প্রসারের মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তিবর্গের মানসিক গঠন এবং সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন- বেতার আবিষ্কার সামাজিক জীবনে আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা, রাজনীতি এবং অন্যান্য আরও বহু ধরনের কাজকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। সর্বোপরি প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে।
প্রযুক্তির ক্রমোন্নতিতে সমাজ ব্যবস্থায় প্রযুক্তির দুই ধরনের প্রভাব দেখা যায়। একটি প্রত্যক্ষ এবং অপরটি পরোক্ষ। কতকগুলো সামাজিক পরিবর্তন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের অবশ্যম্ভাবী পরিণাম, যেমন- শ্রমিকের নতুন নতুন সংগঠন, সামাজিক যোগাযোগ পরিধির বিস্তৃতি, দক্ষতা অর্জন, গ্রামীণ জীবনে নাগরিক জীবনের প্রভাব ইত্যাদি। এগুলো প্রযুক্তির প্রত্যক্ষ প্রভাব। আর বেকারত্ব বৃদ্ধি, শ্রমিক-মালিকের মধ্যে ব্যবধান, প্রতিযোগিতার তীব্রতা বৃদ্ধি প্রভৃতি প্রযুক্তির পরোক্ষ প্রভাব।
প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক। প্রযুক্তির প্রচলন ও প্রসারের মাধ্যমে সমাজ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গের মানসিক গঠন এবং সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন সাধিত হয়। দৃষ্টান্ত হিসেরে বলা যায় যে, বেতারের আবিষ্কার সামাজিক জীবনে আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, রাজনীতি ও অন্যান্য সামাজিক কাজকে প্রভাবিত করে। মোট কথা, প্রযুক্তির ক্রমোন্নতিতে আমাদের সমাজব্যবস্থা সামনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
শ্রমিকের নতুন নতুন সংগঠন, সামাজিক যোগাযোগ পরিধির বিস্তৃতি দক্ষতা অর্জন, গ্রামীণ জীবনের ওপর নাগরিক জীবনের প্রভাব প্রভৃতি প্রযুক্তির প্রত্যক্ষ প্রভার। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিদ্যার কল্যাণে উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে গেছে। তাছাড়া এখন মৎস্য চাষে নতুন নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। চিংড়ি চাষে অভাবনীয় পরিবর্তন, সমন্বিত মাছ চাষ; গবাদি পশুর প্রজনন, গরু মোটাতাজাকরণ প্রভৃতি প্রযুক্তির প্রত্যক্ষ ফসল।
প্রযুক্তি কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির কল্যাণে উন্নত জাতের বীজ, সেচ, সার প্রয়োগের ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে গেছে। চিংড়ি চাষে অভাবনীয় পরিবর্তন, সমন্বিত মাছ চাষ, গরু মোটাতাজাকরণ প্রভৃতি প্রযুক্তির প্রত্যক্ষ ফসল। এছাড়া কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। যা সমাজ থেকে ক্ষুধার কষ্ট লাঘব করেছে।
কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।
প্রযুক্তির প্রচলন ও প্রসারের মাধ্যমে সমাজ ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত জাতের বীজ, সেচ, সার প্রভৃতি প্রয়োগ করা হয়। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পূর্বের তুলনায় অধিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, যা সমাজ থেকে ক্ষুধার কষ্ট লাঘব করেছে।
যোগাযোগ সামাজিক পরিবর্তনে বিশেষ প্রভাব রাখে। যে দেশের যোগাযোগ মাধ্যম যত উন্নত সে দেশের অর্থনীতিও তত উন্নত। জল, স্থল ও আকাশপথে যোগাযোগ, মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকা প্রভৃতি সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। আজকাল ঘরে বসে বিশ্বের যেকোনো দেশের সাথে যোগাযোগ করা যায়। যোগাযোগের এ অভাবনীয় পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগাযোগ করছে, পড়াশোনার জন্য বিদেশ যাচ্ছে।
যোগাযোগ শিক্ষাক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঠাগার ঘরে বসেই ব্যবহার করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় গ্রন্থ নির্বাচন করে পড়তে পারে। যোগাযোগের এ অভাবনীয় পরিবর্তনের ফলে ঘরে বসে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সব উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করছে, এবং পড়াশোনার জন্য বিদেশে যাচ্ছে।
শিল্পায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা শিল্পভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও সমাজে রূপান্তরিত হয়। শিল্পায়নের ফলে নগরায়ণ ঘটে। ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে গ্রামীণ জীবন ছেড়ে নগর জীবন পদ্ধতি গ্রহণের প্রক্রিয়াই নগরায়ণ। শিল্প প্রসারের ফলে বেকারত্ব ঘুচাতে গ্রামের অনেক দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক নগরমুখী হচ্ছে এবং নগর জীবন গ্রহণ করছে।
শিল্পায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা শিল্পভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও সমাজে রূপান্তরিত হয়। শিল্পায়নের ফলে দেশের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যান্ত্রিক উন্নতি ঘটে এবং বৃহৎ পরিসরে পণ্য উৎপাদন করা যায়। এছাড়া শিল্পায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নগরায়ণ ও জীবনমানের উন্নতি সাধিত হয়।
শিল্পায়নের অবশ্যম্ভাবী ফল হলো নগরায়ণ।
ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে গ্রামীণ জীবন ছেড়ে নগর জীবুন পদ্ধতি গ্রহণের প্রক্রিয়াই নগরায়ণ। শিল্পায়ন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে শিল্পভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং সমাজে রূপান্তরিত করে। শিল্পের প্রসারের ফলে বেকারত্ব ঘোচাতে গ্রামের অনেক দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক নগরমুখী হচ্ছে। ফলে নগরায়ণ ঘটছে।
শিল্পায়নের ফলে সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের উদ্ভব হয়। এদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অধিকহারে উৎপাদন বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির মূলে রয়েছে শিল্পায়ন। এর ফলে সমাজের সর্বক্ষেত্রেই অবহেলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা শিক্ষাদীক্ষায় সচেতন হয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে।
শিল্পায়নের ফলে নারী-পুরুষ একসাথে কাজ করছে। শিল্প শ্রমিকরা অধিকাংশ সময় সহকর্মীদের সাথে কাটায়। কর্মক্ষেত্রে প্রাত্যহিক জীবনের প্রভাব ব্যক্তির সমগ্র জীবনধারাকে প্রভাবিত করে। ব্যক্তির জীবনদর্শন, আচার-আচরণ, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতির পরিবর্তন শিল্পায়নের প্রত্যক্ষ ফল। তাই বলা যায়, শিল্পায়ন ব্যক্তির সমগ্র জীবনধারাকে প্রভাবিত করে।
যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো শিল্পায়ন। শিল্পায়ন মানুষের সামাজিক ও আর্থিক দূরত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে। শিল্পনগরীর বাসস্থান স্বল্পতা, স্বল্প মজুরি ইত্যাদি কারণে পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে একসাথে বসবাস করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে যাচ্ছে এবং একক পরিবারের উদ্ভব হচ্ছে।
শিল্পায়ন বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। যেমন-শিল্পনগরীর বাসস্থান স্বল্পতা, স্বল্প মজুরি প্রভৃতি যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার সৃষ্টি হয়েছে। আবার পারিবারিক সংগঠনে বিবাহবিচ্ছেদ, শিশু কিশোরদের সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ 'সমস্যা, প্রবীণদের নিরাপত্তাহীনতা, অপরাধ প্রবণতাসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্ম দিয়েছে। এছাড়া শিল্পায়নের কারণেই বস্তি নামক সামাজিক সমস্যার উদ্ভব হয়েছে।
শিল্পায়নের কারণে শহরে বস্তির উদ্ভব হয়েছে।
যেসব স্থানে পোশাক শিল্প, চামড়া শিল্প, চুড়ি শিল্প, তামাক-বিড়ি শিল্প গড়ে উঠেছে সেসব স্থানে বস্তির উদ্ভব হয়েছে। নদীভাঙন, দারিদ্রতা, বেকারত্ব প্রভৃতি কারণে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে কর্মের' খোঁজে। নতুন শহরে আসা এসব লোকজন শহরের নোংরা এবং পরিত্যক্ত জায়গাগুলোতে বস্তির সৃষ্টি করে থাকে। অপ্রতুল' নাগরিক সুবিধা, বৈষম্য বস্তিগুলো সামাজিক জীবনে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে গ্রামীণ জীবন ছেড়ে নগর জীবন পদ্ধতি গ্রহণের প্রক্রিয়াই নগরায়ণ। শিল্পায়নের ফলে নগরায়ণ ঘটে। শিল্প প্রসারের ফলে বেকারত্ব ঘুচাতে গ্রামের অনেক দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক নগরমুখী হচ্ছে এবং নগরজীবন গ্রহণ করছে। নগরায়ণের ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নগরে বসবাসরত জনগোষ্ঠী উন্নত নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে।
শিল্পায়নের কারণে ভৌগোলিক দূরত্ব কমলেও সামাজিক ও আর্থিক দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। শিল্পায়নের কারণে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি এটির ফলে যৌথ পরিবারের ভাঙন, বস্তি সমস্যা 'প্রভৃতির সৃষ্টি হয়েছে। বস্তিগুলো সামাজিক জীবনে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, মাদক, কিশোর অপরাধের মতো সামাজিক সমস্যাগুলোর সৃষ্টি করে। তাই বলা যায়, শিল্পায়ন একদিকে যেমন আশীর্বাদ অন্যদিকে অভিশাপও।
নারীর ক্ষমতায়ন বলতে সমাজ বা রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করাকে বোঝায়। সমাজ বা রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা কিংবা সুযোগ সৃষ্টি করে নেওয়াই হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। একসময় নারীরা সর্বক্ষেত্রেই অবহেলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা শিক্ষাদীক্ষায় সচেতন হয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে।
নারী শিক্ষা অবৈতনিক হওয়ায় গ্রামীণ মেয়েরা আগের চেয়ে পড়াশোনার সুযোগ বেশি পাচ্ছে।
নারীশিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করেছে, যা গ্রামীণ নারী শিক্ষাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। ফলে গ্রামীণ সমাজের মানুষ ছেলে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি কন্যা শিশুর শিক্ষাকে সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলস্বরূপ বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় নারী শিক্ষার্থীরা ফলাফল অনেক এগিয়ে রয়েছে।
কর্মক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীর ভূমিকায় পরিবর্তন এসেছে। একসময় তারা শুধু গৃহস্থালি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আজ তারা সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এ কর্মসংস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, নার্সারি, গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল পালন, মৎস্যচাষ, হাঁস-মুরগি পালন, সেলাইকাজ প্রভৃতি। নারীরা এর পাশাপাশি বহু সামাজিক দায়িত্বও পালন করেছে।
নারীশিক্ষা প্রসারে সরকার কর্তৃক গৃহীত দুটি পদক্ষেপ হলো-
১. নারীশিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য নারীদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করা।
২. নারীশিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারের উপবৃত্তি প্রকল্প চালুকরণ।
শিল্পের প্রসারের কারণে নারীরা শিক্ষাক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রসর হয়েছে। নারী এখন শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় কিংবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্ডিতে আবদ্ধ নয়। নারীরা ব্যাপক সংখ্যায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।
সামাজিক পরিবর্তনে নারীর ভূমিকা অপরিসীম। পরিবর্তনশীল সমাজব্যবস্থায় নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একসময় নারী শুধু গৃহস্থালি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন নারী শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত হচ্ছে। শিক্ষিত নারীরা বিভিন্ন পেশা যেমন- চিকিৎসা, আইন, শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। নারীদের এসব কার্যক্রম সমাজকে পরিবর্তন করছে। এভাবেই, নারীরা সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে ঝঋণ গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এ কর্মসংস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, নার্সারি, গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল পালন, মৎস্য চাষ, হাস-মুরগি পালন, টেইলারিং, ফলমূলের ব্যবসায় প্রভৃতি। তাদের আয়ে সংসার চলছে, সন্তান পড়াশোনা করছে, পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। যা পরিবারের উন্নতিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
সমাজ কাঠামো ও এর কার্যাবলির পরিবর্তনকে সামাজিক পরিবর্তন বলে।
সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেভিস বলেন, জ্ঞসামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক সংগঠনের মধ্যকার পরিবর্তন।"
সামাজিক পরিবর্তন সংক্রান্ত ম্যাকাইভারের সংজ্ঞাটি হলো-'মানবীয় সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন।'
সমাজের মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক সহযোগিতা।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশে দীরিদ্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ।
সামাজিক পরিবর্তনের রূপ কখনও. মন্থর আবার কখনও দুতগতিসম্পন্ন।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন দেশের সামাজিকু, রাজনৈতিক, শিক্ষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি দ্বারা পরিবর্তিত হয়।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিগত অবস্থান সামাজিক পরিবর্তনের উল্লেখযোগ্য কারণ।
ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে গ্রামীণ জীবন ছেড়ে নগর জীবন পদ্ধতি গ্রহণের প্রক্রিয়াই নগরায়ণ।
শিল্পায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কৃষি ও হস্তশিল্পভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা যান্ত্রিক শিল্পভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও সমাজে রূপান্তরিত হয়।
প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক।
সামাজিক পরিবর্তনের বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা।
বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক হলো প্রযুক্তি।
প্রযুক্তি হচ্ছে বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক।
জনসংখ্যার ঘনত্ব সামাজিক পরিবর্তনের জৈবিক উপাদান।
সমাজের ক্ষেত্রসমূহে পরিবর্তনের মূলে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কতকগুলো উপাদান।
জৈবিক উপাদান সামাজিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
জন্ম ও মৃত্যুহার হ্রাস সমাজ কাঠামো পরিবর্তনে অবদান রাখছে।
সংস্কৃতি সামাজিক পরিবর্তন সূচনা করে।
বাংলাদেশের শহরগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, একাধিক সংস্কৃতির মিশ্ররূপ।
শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন।
শিক্ষা একটি বিরামহীন প্রক্রিয়া।
প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক।
যোগাযোগ সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম উপাদান।
নগরায়ণ হলো শিল্পায়নের ফল।
সামাজিক পরিবর্তনের ফলে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়নসহ নানারূপ পরিবর্তন ঘটেছে।
নারী এখন শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত হচ্ছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে নারীরা আগের তুলনায় অনেক অগ্রসর হয়েছে।
বাংলাদেশে শিল্পের ক্রমোন্নতি 'নারীর সামাজিক জীবন ও মর্যাদার ক্ষেত্রকে প্রভৃত পরিবর্তন সাধন করেছে।
সমাজ কাঠামো ও এর কার্যাবলির পরিবর্তন হলো সামাজিক পরিবর্তন। সামাজিক পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- সামাজিক পরিবর্তন হলো বৈচিত্র্যময়। সামাজিক পরিবর্তন কখনো দ্রুতগতিতে কখনো মন্থরগতিতে সম্পন্ন হয়। সামাজিক পরিবর্তন অনিশ্চিত তাই আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। সামাজিক পরিবর্তন হলো সাবর্জনীন বিষয়। এটি যেকোনো সময় ঘটতে পারে। প্রকৃতির অন্যান্য পরিবর্তনের মতো সামাজিক পরিবর্তনও স্বাভাবিক পরিবর্তন।
ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে গ্রামীণ জীবন ছেড়ে নগর জীবন পদ্ধতি গ্রহণের প্রক্রিয়াই নগরায়ণ। শিল্পায়নের ফলে শিল্পের স্থানীয়করণ প্রক্রিয়া সূচিত হয়ে নগরায়ণের সৃষ্টি হয়। শিল্পায়নের মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা শিল্পভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক সমাজে রূপান্তরিত হয়। ফলে নগরায়ণ ঘটে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বিশেষ ঘটনাকে বোঝায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বর্তমান পৃথিবীতে পরিবেশগত প্রধান সমস্যাসমূহের মধ্য অন্যতম। পরিবেশ দূষণ, বৃক্ষ নিধন, গ্রিন হাউস ইফেক্ট প্রভৃতির ফলাফল হিসেবে পৃথিবীপৃষ্ঠের ভাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীব্যাপী এভাবে উষ্ণতা বৃদ্ধি ও এর প্রভাবগুলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নামে পরিচিত।
সামাজিক পরিবর্তনে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। জল, স্থল, আকাশপথে যোগাযোগ, টেলিফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট, ই-মেইল, ডিস এন্টেনা, মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকা প্রভৃতি সামাজিক পরিবর্তনে প্রত্যক্ষ' ভূমিকা রাখে। আজকাল ঘরে বসেই বিশ্বের সকল দেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঠাগার ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় গ্রন্থ নির্বাচন করে পড়াশুনা করা যায়। যোগাযোগ ব্যরস্থার অভাবনীয় উন্নতির ফলে বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয়।
শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন এবং বিরামহীন প্রক্রিয়া। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের আচরণিক পরিবর্তন ঘটে থাকে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত না হয়, শিক্ষকের কথা গুরুত্ব দিয়ে না শুনে কিংবা মেনে না চলে তখন তাদের আচরণিক পরিবর্তন ব্যাহত হয়।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। যা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনকে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে দেশের নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয়েছে বহু সামাজিক নীতি ও আইন। যৌতুক আইন, পারিবারিক আইস, নারী উন্নয়ন নীতি প্রভৃতি সামাজিক সচেতনতার ফসল। নারী-শিল্প নারীকে বহুমুখী কর্মগ্রহণ ও চাকরিমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে।
তাই বলা হয়, নারী শিক্ষা সামাজিক পরিবর্তনে সহায়ক।
সংস্কৃতি সামাজিক পরিবর্তন সূচনা করে। যেকোনো সমাজের দিকে তাকালেই দেখা যাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, মানুষের মূল্যবোধের পার্থক্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শের ভিন্নতা প্রভৃতি। এরই ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সংস্কৃতি লালিত প্রতিষ্ঠান, যা সমাজের মধ্যে নানা রকমের পরিবর্তন সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের শহরগুলোর দিকে তাকালেও বোঝা যায় একাধিক সংস্কৃতির মিশ্ররূপ।
যোগাযোগ মাধ্যম সামাজিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জল, স্থল, আকাশপথে যোগাযোগ, টেলিফোন, রেডিও, পত্রপত্রিকা সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। দ্রুত ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে মানুষ খুব সহজেই যেকোনো স্থানে যেতে পারে এবং যে কারও সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে, যা তাকে পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়। এ কারণে যোগাযোগ মাধ্যম সামাজিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী বাহন।
শিল্পায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কৃষি ও হস্তশিল্পভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা যান্ত্রিক শিল্পভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতিও সমাজে রূপান্তরিত হয়। ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে মানুষ গ্রামীণ জীবন ছেড়ে নগরের দিকে ছুটেছে। শিল্পায়নের কারণে আমাদের সমাজ জীবনে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব হয়েছে। এসব ছাড়াও নানাভাবে শিল্পায়ন সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
টেলিভিশন এমন একটি গণমাধ্যম যা বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান প্রচারের, মাধ্যমে সম্রাজের পরিবর্তন সাধিত করে। টেলিভিশন দেশ-বিদেশের খবর, খেলাধুলা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান টক শোসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে। আর এসব অনুষ্ঠান দেখে জনগণ সচেতন হয় এবং তাদের আচার-আচরণ নির্ধারণ করে থাকে। সুতরাং দেখা যায় যে, সামাজিক পরিবর্তনে টেলিভিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ইতিবাচক প্রভাব থাকলেও এর বেশকিছু নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান। যেমন- মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বেড়ে গেছে। কর্মব্যস্ততার কারণে পেশাগত জীবনের প্রভাব' ব্যক্তি জীবনেও প্রতিফলিত হচ্ছে। শিল্প নগরীর বাসস্থান স্বল্পতার কারণে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে একক পরিবারের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রবীণদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের এ রকম বহু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেখা যায়।
সংস্কৃতি সামাজিক পরিবর্তন সূচনা করে। যেকোনো সমাজের দিকে তাকালেই দেখা যাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, মানুষের মূল্যবোধের পার্থক্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শের ভিন্নতা প্রভৃতি। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সংস্কৃতি লালিত প্রতিষ্ঠান। এসব সমাজের মধ্যে নানা রকমের পরিবর্তন সৃষ্টি করে। তাছাড়া ভ্রমণকাহিনী পাঠ, বিদেশ ভ্রমণ, অন্যান্য দেশের জনগণের সঙ্গে সাক্ষাৎকার এসবই সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে আসে।
প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক। প্রযুক্তির ক্রমোন্নতিতে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় দুধরনের ফলাফল দেখতে পাই। একটি প্রত্যক্ষ এবং অপরটি পরোক্ষ। বেকারত্ব বৃদ্ধি, শ্রমিক-মালিকের মধ্যে বাবধান, প্রতিযোগিতার তীব্রতা বৃদ্ধি প্রভৃতি প্রযুক্তি ক্রমোন্নতির পরোক্ষ ফলাফল।
আমার পাঠ্যবই অনুসারে সামাজিক পরিবর্তনের প্রথম উপাদান হলো প্রাকৃতিক উপাদান। ধীর এবং আকস্মিক ভৌগোলিক পরিবর্তন, জলবায়ু সংক্রান্ত পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রভৃতি বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে এবং সমাজের ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করে। নদীভাঙ্গন, জলোচ্ছাস, বন্যা টর্নোডো, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি প্রড়তি দুর্যোগ প্রতিনিয়ত বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হয়।
শিক্ষাকে আলোকবর্তিকার সাথে তুলনা করা যায়। শিক্ষার আলোয় মানুষ আলোকিত হয় এবং এর মাধ্যমে যাবতীয় অজ্ঞানতা, অন্ধকার ও কুসংস্কার দূর হয়। এটি মানবসমাজের সংস্কার সাধনের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী একটি মাধ্যম এবং সবসময় তা চলতে থাকে। তাই একে 'বিরামহীন প্রক্রিয়া' বলা হয়ে থাকে।
শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন এবং বিরামহীন প্রক্রিয়া। আর শিক্ষা, প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের আচরণিক পরিবর্তন ঘটে থাকে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত না হয়, শিক্ষকের কথা গুরুত্ব দিয়ে না শুনে কিংবা মেনে না চলে তখন তাদের আচরণিক পরিবর্তন ব্যাহত হয়।
প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক। প্রযুক্তির প্রচলন ও প্রসারের মাধ্যমে সমাজব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গের মানসিক গঠন এবং সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন- বেতারের আবিষ্কার সামাজিক জীবনে আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, রাজনীতি এবং অন্যান্য আরও বহু ধরনের সামাজিক কাজকে প্রভাবিত করেছে। মোটরগাড়ি আজ সামাজিক সম্পর্কের পরিধিকে বিস্তৃত করেছে। প্রযুক্তির ক্রমোন্নতিতে আমাদের সমাজব্যবস্থায় দু ধরনের ফলাফল দেখতে পাই। একটি প্রত্যক্ষ এবং অপরটি পরোক্ষ। কতকগুলো সামাজিক পরিবর্তন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের অবশ্যম্ভাবী পরিণাম। যেমন- শ্রমিকের নতুন নতুন সংগঠন, সামাজিক যোগাযোগ পরিধির বিস্তৃতি, বিশেষ কার্যে বিশেষ দক্ষতা অর্জন এবং গ্রাম্যজীবনের ওপর নাগরিক জীবনের প্রভাব প্রভৃতি।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন এবং বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষা আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে; যা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে উদ্দীপকের ঘরে ঘরে টেলিভিশন, বিদ্যালয়ে আইসিটির উদ্বুদ্ধ করেছে। তাই বলা যায়, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি মানে সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতি।
জৈবিক উপাদান সামাজিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জনসংখ্যার ঘনত্ব, জন্ম ও মৃত্যুহার, জনসংখ্যার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রার মান নিয়েই জৈব উপাদান। সমাজস্থ মানুষের জৈবিক অবস্থার পরিবর্তন যেমন- জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা হ্রাস, স্থানান্তর অথবা ঘনত্বের পরিবর্তন সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রতিরোধে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। জন্ম ও মৃত্যুহার হ্রাস সমাজকাঠামো পরিবর্তনে অবদান রাখছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বেকারত্ব, শিশুশ্রম ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতার মতো নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষিভিত্তিক ও গ্রামীণ সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থারকাঠামো শিল্পভিত্তিক ও শহর রূপান্তর প্রক্রিয়াকে শিল্পায়ন ও নগরায়ণ বলা হয়। শিল্পায়নের ফলে নগরায়ণ হয়। উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার, যান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা, জটিল সামাজিক জীবন, উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এর উদাহরণ।
যোগাযোগ মাধ্যম সামাজিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জল, স্থল, আকাশপথে যোগাযোগ, টেলিফোন, রেডিও, পত্রপত্রিকা সামাজিক 'পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। দ্রুত ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে মানুষ খুব সহজেই যেকোনো স্থানে যেতে পারে এবং যে কারও সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে, যা তাকে পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়। এ কারণে যোগাযোগ মাধ্যম সামাজিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী বাহন।
সামাজিক পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কতকগুলো উপাদান রয়েছে। সেগুলো হলো-
১.প্রাকৃতিক উপাদান : ভৌগোলিক পরিবর্তন, জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো প্রাকৃতিক উপাদান।
২. জৈবিক উপাদান: জন্ম ও মৃত্যুহার, গড় আয়ু, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রভৃতি নিয়েই জৈবিক উপাদান।
৩. সাংস্কৃতিক উপাদান: সংস্কৃতি সামাজিক পরিবর্তন সূচনা করে। মূল্যবোধ আদর্শ, উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত।
৪ . শিক্ষা: সামাজিক পরিবর্তনের শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া।
৫. প্রযুক্তি: বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক হলো প্রযুক্তি, যা জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে।
৬. যোগাযোগ: যোগাযোগ সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম একটি উপাদান।
৭. শিল্পায়ন ও নগরায়ণ : শিল্পায়ন হলো একটি রূপান্তরিত প্রক্রিয়া। শিল্পায়নের ফলে নগরায়ণ ঘটে।
প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের সেই প্রায়োগিক দিক, যেখানে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত তত্ত্বগুলোকে ব্যবহার করে বিভিন্ন কার্যকরী পদ্ধতি, সরঞ্জাম এবং যন্ত্র তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ, দ্রুততর এবং আরও উন্নত করা সম্ভব হয়। প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা মানুষের জীবনকে। সহজ ও গতিশীল করে।
সংস্কৃতি সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা করে। যেকোনো সমাজেই বৈচিত্রাপূর্ণ সংস্কৃতি, মানুষের মূল্যবোধের পার্থক্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শের ভিন্নতা রয়েছে। ফলে বিভিন্ন সংস্কৃতি লালিত প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমাজের মধ্যে নানা রকমের পরিবর্তন সৃষ্টি করে। যেমন- ব্রিটিশ রাজত্বের সময় বাংলার সমাজব্যবস্থার ওপরে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বিশেষভাবে পরিদৃষ্ট হয়। তাছাড়া বিভিন্ন মনীষীর দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ, নতুন নতুন আদর্শ ও সমাজে নানামুখী পরিবর্তন। সূচনা করে।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিগত অবস্থান সামাজিক পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। ধীর এবং আকস্মিক ভৌগোলিক পরিবর্তন, জলবায়ু সংক্রান্ত পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রভৃতি বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাষ ফেলে এবং সমাজের ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করে। এদেশে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, টর্নেডো, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন প্রতিদিনের ঘটনা। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য নতুন পদ্ধতি অবলম্বনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এর ফলে মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে থাকে। যেমন- নদীভাঙন এদেশের শহরাণালে রস্তি সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ।
বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। যা 'তাদের বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বহু সামাজিক নীতি ও আইন সৃষ্টি হয়েছে। যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন, নারী উন্নয়ন নীতি প্রভৃতি সামাজিক সচেতনতার ফসল। নারী-শিক্ষা নারীকে কর্মমুখী করেছে। এভাবে শিক্ষা নারীর 'ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করেছে।
শিল্পায়ন নারীর জীবন ও মর্যাদার ক্ষেত্রকে প্রভৃত পরিবর্তন সাধন করেছে। শিল্পের প্রসার আজ নারীকে গৃহের সীমিত পরিবেশ থেকে বাইরের কর্মমুখর জগতে টেনে এনেছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও আগের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রসর হয়েছে। তাছাড়া নারী সমাজের চাকরি পরিবারে বাড়তি অর্থোপার্জনের সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। আর এভাবেই শিল্পায়ন নারীর মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
নারীকে সমাজে মর্যাদার আসনে আসীন করার ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর ক্ষমতায়ন বলতে সমাজ বা রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করাকে বোঝায়। সমাজ বা রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা কিংবা সুযোগ সৃষ্টি করে নেওয়াই হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। একসময় নারীরা সর্বক্ষেত্রেই অবহেলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা শিক্ষাদীক্ষায় সচেতন হয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। তাই নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নারী এখন শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত হচ্ছে। একসময় নারী শুধু গৃহস্থালি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তারা এখন পোশাক শিল্প, ওষুধ তৈরির কারখানা, টেলিফোন ও টেলিযোগাযোগ শিল্প, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি শিল্পে চাকরি করছে। তাছাড়া তারা পাট, চা, চিকিৎসা, স্থাপত্য শিল্প, আইন পেশা, কাগজ শিল্প, শিক্ষকতা, পুলিশ, ডাক্তার, বিচারকসহ বিভিন্ন পেশার চাকরি করছে। আজ বাংলাদেশের শহর এলাকায় শিক্ষিত নারীরা সরকারি ও বেসরকারি, প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়
শিল্পায়ন ও নগরায়ন
সামাজিক পরিবর্তন
উৎপাদন ব্যবস্থা
সামাজিক পরিবর্তন
কিংসলে ডেভিস
ম্যাকাইভার
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
নদীভাঙন
শহরাঞ্চলে
শিক্ষার প্রসার
দুই ধরনের
প্রযুক্তির
প্রত্যক্ষ
পল্লী উন্নয়ন সংস্থা
জৈবিক
ব্রিটিশ রাজত্বকালে
শিক্ষা
সামাজিক সচেতনতা
শিক্ষা
প্রযুক্তি
প্রযুক্তির ক্রমোন্নতিতে সমাজ ব্যবস্থায় ২ ধরনের ফলাফল পরিলক্ষিত হয়
নগরায়ণ
লক্ষাধিক
শিল্পায়ন
শিল্পায়ন
নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ
গৃহস্থালি কাজের মধ্যে
সামাজিক দায়িত্ব
নারীর ক্ষমতায়ন
Related Question
View Allসমাজ কাঠামো ঞ্চাশ্রয় কার্যাবলির পরিবর্তনই হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম একটি কারণ হলো। শিল্পায়ন। শিল্পায়নের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজে অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামীণ যৌথ পরিবার ভেঙে শহরে একক পরিবার গঠিত হচ্ছে। মেয়েরা ঘরে ও বাইরে সমানতালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সর্বদয়া ও শ্রমদানা' কার্যক্রমের প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক পরিবর্তনের শিক্ষা উপাদানের সাথে মিল রয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন এবং বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। যেমন- বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে; যা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে দেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয়েছে বহু সামাজিক নীতি ও আইন। যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন, নারী উন্নয়ন নীতি প্রভৃতি সামাজিক সচেতনতার ফসল। নারী শিক্ষা নারীকে বহির্মুখী কর্মগ্রহণ ও চাকরিমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে। এভাবে বিজ্ঞান শিক্ষা, বাণিজ্য শিক্ষা প্রভৃতি সমাজ জীবনে বহু কিছু সৃষ্টি করেছে; যা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নারীর ভূমিকার পরিবর্তনে সমাজজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উদ্দীপকে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে বহু নারীর ব্যাপক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে নারীরা সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। যার ফলে নারীরা এখন আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজেরা আয় করতে পারছে। নারীরা উপার্জিত টাকা পরিবারের অর্থনীতিতে ভূমিকা পালন করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সামাজিক বহুবিধ দায়িত্ব পালন করছে। নারীর ভূমিকার এই পরিবর্তন নারীকে ক্ষমতায়নে ও মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বেসরকারি সংস্থা বগুড়ার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। যা নারী উন্নয়ন সংঘ এখন জনসংখ্যারোধ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক নারী তাদের অবস্থার উন্নয়নে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধন করেছে।
তাই বলা যায়, ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় এসে নারীরা সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
'মানবীয় সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন'- উক্তিটি প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। শিক্ষা এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া। যা আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনা করার ক্ষমতা জাগ্রত করে সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!