গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের শাসনব্যবস্থা। এটি বর্তমান বিশ্বের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সরকারব্যবস্থা। গণতন্ত্রের ধারণাকে এ পর্যন্ত যাঁরাই সংজ্ঞায়িত করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন। আমিও তাঁর সাথে একমত পোষণ করে এভাবে গণতন্ত্র সংজ্ঞায়িত করব যে, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা।"
নির্বাচনি আচরণবিধি বলতে নির্বাচনসংক্রান্ত আইনকানুন ও বিধিবিধানকে বোঝায় যা সকলকেই মেনে চলতে হয়। এ আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান রয়েছে। আর নির্বাচনি আচরণবিধি প্রণয়নকারী সংস্থা হলো নির্বাচন কমিশন।
যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকগণ প্রত্যক্ষ বা সরাসরিভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে। প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রগুলোতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চলে আংশিকভাবে এখনও প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু আছে।
গণতন্ত্র হলো এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যাতে প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকার থাকে। এ ব্যবস্থায় একাধিক রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ থাকে।
বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থানীয় পরিষদ ও এখানে জাতীয় সংসদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এজন্য সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে।
আমেরিকার প্রখ্যাত প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে- গণতন্ত্র হলো, 'জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকারব্যবস্থা।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন প্রদত্ত গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটি ইংরেজিতে এরূপ-(A Government of the people, by the people and for the people.)
সরকার ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা একটি, ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফল। গণতন্ত্র সর্বপ্রথম প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে প্রচলিত হয়। তবে এথেন্সে গণতন্ত্র পরবর্তীতে চলমান থাকেনি। মধ্যযুগে অনেকটা সময় গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু সপ্তদশ ও অষ্টদশ শতাব্দীতে ইউরোপে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটে এবং উনিশ ও বিশ শতকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রেই গণতন্ত্র লক্ষ করা যায়। এভাবেই গণতন্ত্র প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
গণতন্ত্র সর্বপ্রথম প্রচলিত হয় প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে। গ্রিসের নাগরিক সমাজ গণতন্ত্র বলতে বুঝত এমন একটি রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা যাতে গোটা নাগরিক সমাজ প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
অষ্টাদশ শতকের গণতান্ত্রিক ভাবধারার উৎসমূল হিসেবে ইংল্যান্ডকে চিহ্নিত করা হয়। বর্তমানে গণতন্ত্রের বিকাশ এতই সাফল্য লাভ করেছে যে, আধুনিক সভ্যতা গণতান্ত্রিক সভ্যতায় পরিণত হয়েছে।
গণতন্ত্র সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে কার্যকর হয়, যথা: ১. প্রত্যক্ষ বা বিশুদ্ধ গণতন্ত্র ও ২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকগণ প্রত্যক্ষ বা সরাসরিভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলা হয়ে থাকে। প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রগুলোতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল।
আধুনিক রাষ্ট্র আয়তনে বিশাল। এর জনসংখ্যাও বেশি। এ অবস্থায় প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ কম। তবে সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চলে আংশিকভাবে এখনও প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের ব্যবস্থা চালু আছে।
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে।
পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকেই বোঝায়। এ ধরনের গণতন্ত্রকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র বলা হয়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র পদ্ধতি চালু রয়েছে। পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।
গণতন্ত্রের সুন্দরতম দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গুণ হলো গণতন্ত্র হলো দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা। কারণ গণতন্ত্রে আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হলো জনমত দ্বারা পরিচালিত সরকার। এ শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয় এবং জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা থাকে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থায় জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত। এ ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা হারালে সরকার টিকে থাকতে পারে না।
প্রাচীনকালের প্রখ্যাত মনীষী ও দার্শনিকগণ, যেমন- প্লেটো ও অ্যারিস্টটল গণতন্ত্রকে মূর্খ বা অযোগ্যের শাসনব্যবস্থা বলে অভিহিত করেছেন। কেননা, সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হিসেবে গণতন্ত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে অজ্ঞ, অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিও শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংখ্যালঘুরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে না। ফলে তাদের অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে সরকার উদাসীন থাকতে পারে। ফলে অনেক সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে জাতি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে এবং গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। অনুন্নত দেশগুলোতে সরকারি দল নিজ দলের স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে। ফলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়।
আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক দল ব্যতীত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথা কল্পনা করা যায় না। আধুনিক গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। আর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক দল।
অধ্যাপক গেটেল রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, 'রাজনৈতিক দল বলতে কমবেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিক এককরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার, প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেছেন, 'যারা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে, সেই জনসমস্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম দুটি উদ্দেশ্য হলো- ১. রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে আদর্শগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কর্মসূচি ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা; ২. রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কিছু নীতিমালা ও পরিকল্পনা জনগণের নিকট পেশ করে জনসমর্থন সৃষ্টি করা।
দলের নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণকে জানানোর জন্য রাজনৈতিক দল সভাসমিতি, টকশো আয়োজনসহ পত্রপত্রিকায় মতামত ব্যক্ত করে তাদের নীতি ও কর্মসূচি প্রচার করে এবং জনসমর্থন সৃষ্টি করে।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করা। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজনৈতিক দল তার দলীয় নীতিমালা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে যেসব দল বা দলসমূহ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না তারাই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল পার্লামেন্টে বিতর্ক, সরকারের নীতির সমালোচনা, মুলতবি প্রস্তাব উপস্থাপন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করে সংসদকে কার্যকর রাখে।
সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দল হলো বিকল্প সরকার। কারণ সরকার সমর্থন হারালে বা কোনো কারণে পতন হলে বিরোধী দলের ক্ষমতা লাভ বা সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চিন্তা করা যায় না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন পরিচালনার জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
'জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস' বলতে বোঝায় যেকোনো রাষ্ট্র বা সরকারের প্রকৃত ক্ষমতার উৎস হলো সাধারণ জনগণ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং সেই প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করে। ফলে সরকারের বৈধতা ও কর্তৃত্ব জনগণের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল। জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের এবং জনগণই সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখার ক্ষমতা রাখে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই জনগণ তাদের। এই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের দৃষ্টিতে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে।
গণতন্ত্রে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটে নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জনগণ চাইলে পূর্ববর্তী সরকার ও দলকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। যে সরকার বা দল জনগণের স্বার্থ বা জনমতের বিরোধিতা করে তার বা তাদের প্রতি জনগণের আস্থা থাকে না। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের জবাব প্রদান করে।
সকল রাষ্ট্রেই গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যারা প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা অর্থাৎ ভোটদার্নের অধিকার ভোগ করেন তাদের ভোটার বা নির্বাচক বলে।
প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য সারাদেশকে কতকগুলো নির্বাচনি এলাকায় (constituency) ভাগ করা হয়। এভাবে প্রতিটি এলাকা থেকে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে পার্লামেন্ট বা আইনসভা গঠিত হয়।
গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চিন্তা করা যায় না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন পরিচালনার জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাই গণতন্ত্র ও নির্বাচন অবিচ্ছেদ্য।
যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটারগণ সরাসরি ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি বলা হয়। বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু রয়েছে।
পরোক্ষ নির্বাচন বলতে সাধারণত ঐ নির্বাচন পদ্ধতিকে বোঝায় যেখানে ভোটারগণ ভোট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা গঠন করে। এ নির্বাচনি সংস্থা ইলেক্টোরাল কলেজ (electoral college) নামে পরিচিত।
পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিই ইলেক্টোরাল কলেজ নামে পরিচিত। ইলেক্টোরাল কলেজ চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি এ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করেন।
নির্বাচন কমিশনারদের মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে কমিশনাররা রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র পেশ করতে পারেন। অসদাচরণ ও অসামর্থ্যের কারণে কমিশনাররা দায়িত্ব থেকে অপসারিত হতে পারেন।
নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করে। এছাড়াও সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থাও নির্বাচন কমিশনের কাজ।
নির্বাচনি প্রচারণা সংক্রান্ত দুটি আচরণবিধি হলো- ১. রাস্তা বা সড়কের ওপর নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে না। ২. সরকারি ডাকবাংলো, সার্কিট হাউস, রেস্টহাউস ও সরকারি কার্যালয়কে কোনো দল বা প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
কেবল নির্বাচনি কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট এবং ভোটারগণ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। কোনো প্রার্থীর বা দলের কর্মীগণ ভোটকেন্দ্রে ঘোরাফেরা করতে পারবে না।
আচরণ বিধিমালার যেকোনো বিধানের লঙ্ঘন নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে। কোনো প্রার্থী বা দল এর প্রতিকার পেতে চাইলে নির্বাচনি এলাকাধীন 'ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি' বা নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন করতে হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী দুটি নির্বাচনি অপরাধ হলো- ১. জাল ভোট দেওয়া বা ছদ্মনামে ভোট দেওয়া; ২. নির্বাচনে প্রভাব খাটানো, জোরজবরদস্তি করে ভোট আদায় করা বা ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করা।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনসংক্রান্ত অপরাধের দন্ড হলো- জরিমানাসহ ক্ষেত্র বিশেষ সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং কমপক্ষে ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড হতে পারে।
নির্বাচনসংক্রান্ত অপরাদের জন্য উপযুক্ত আদালতে মামলা করা যায়। তবে নির্বাচন কমিশনের লিখিত অনুমোদন নিয়ে নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা যায়।
গণতন্ত্র সম্পর্কে আব্রাহাম লিঙ্কন বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকারব্যবস্থা।"
গণতন্ত্র হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থে গঠিত ও পরিচালিত সরকার।
অধ্যাপক গেটেলের মতে, "যে শাসনব্যবস্থায় জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োগে অংশ নেওয়ার অধিকারী তাই গণতন্ত্র।"
প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে সর্বপ্রথম গণতন্ত্র প্রচলিত হয়।
অষ্টাদশ শতকের গণতান্ত্রিক ভাবধারার উৎসমূল হিসেবে ইংল্যান্ডকে চিহ্নিত করা হয়।
যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকগণ প্রত্যক্ষ বা সরাসরিভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে।
গণতন্ত্র প্রধানত দু প্রকার। যথা- ক. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এবং খ. পরোক্ষ গণতন্ত্র।
প্রাচীন গ্রিসে নগররাষ্ট্রগুলোতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল।
পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়।
প্লেটো গণতন্ত্রকে মূর্খ ও অযোগ্যের শাসন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গণতন্ত্রের সুন্দর দিকগুলো হলো গণতন্ত্র আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়।
গণতন্ত্র তুলনামূলক ব্যয়বহুল শাসনব্যবস্থা।
রাজনৈতিক দল বলতে, একটি সংগঠিত নাগরিক সমষ্টিকে বোঝায়, যারা দলীয় আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে বৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, 'যারা কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে এক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে, সেই জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।'
রাজনৈতিক দল সম্পর্কে অধ্যাপক, ফাইনার বলেছেন, "আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।"
অধ্যাপক গেটেল রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, "রাজনৈতিক দল বলতে কমবেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিক এককরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়। সংগঠন, কর্মসূচি প্রদান ও ক্ষমতা অর্জন রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য।"
আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
রাজনৈতিক দল সৃজনশীল নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।
রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য ৪টি।
গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাফল্যের প্রধান শর্ত হলো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করা।
যে রাজনৈতিক দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে।
ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজনৈতিক দল তার দলীয় নীতিমালা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় সে দলই বিরোধী দল।
বিরোধী দল সরকারের দোষত্রুটিগুলো তুলে ধরে।
গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন।
জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রয়োগ ঘটে নির্বাচনের মাধ্যমে।
নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চিন্তা করা যায় না।
আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণই ক্ষমতার উৎস।
গণতন্ত্র জনগণের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়।
যে প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকগণ সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দ অনুযায়ী প্রতিনিধি বাছাই করে তাকে নির্বাচন বলে।
নির্বাচকের সমষ্টিকে নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়।
সকল ভোটারকে একত্রে নির্বাচকমন্ডলী বলা হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ৩০০ জন।
সংসদ নির্বাচনের সুবিধার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দু ধরনের নির্বাচন ব্যবস্থা চালু আছে।
প্রাচীন গ্রিসের নগর রাষ্ট্রগুলোতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৫ বছর মেয়াদান্তে অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন কমিশনের সভাপতি হচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে।
বাংলাদেশে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাই করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
কোনো প্রার্থীর বা দলের কর্মীগণ ভোটকেন্দ্রে ঘোরাফেরা করতে পারবে না।
আচরণ বিধিমালায় যে কোনো বিধানের লঙ্ঘন নির্বাচনপূর্বক অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে।
কোনো প্রার্থী বা দল নির্বাচনী অনিয়মের জন্য 'ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এর নিকট আবেদন করবে।
গণতপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ ও এর দন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাল ভোট দেওয়া বা ছদ্মনাম ভোট দেওয়া নির্বাচনি অপরাধ।
নির্বাচনি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের লিখিত অনুমোদন ব্যতীত নির্বাচনে দায়িত্বপ্রান্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা যাবে না।
গণতন্ত্র হলো বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনকার্য পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ থাকে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি জনগণের পক্ষ থেকে শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে। এটি হলো জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসনব্যবস্থা। গণতন্ত্রে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ গণতন্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র সর্বত্র দেখা যায়। নির্বাচন, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
আধুনিক গণপ্তান্ত্রিক দেশের আয়তন ও জনসংখ্যার কারণে এখানে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র চর্চা করা কঠিন। আধুনিক রাষ্ট্র আয়তনে বিশাল। এর জনসংখ্যাও বেশি। তাই আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র চর্চা করা কঠিন।
পরোক্ষ নির্বাচন বলতে সাধারণত ঐ নির্বাচন পদ্ধতিকে বোঝায় যেখানে ভোটারগণ ভোট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা তৈরি করে, যা ইলেক্টরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী নামে পরিচিত। আর সেই নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রতি এ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেশকিছু সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি রয়েছে। অর্থাৎ গণতন্ত্রের খারাপ দিক রয়েছে। কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হিসেবে গণতন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমে অজ্ঞ, অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিও শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে। এছাড়া সংখ্যালঘুরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে না। ফলে তাদের অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে সরকার উদাসীন থাকতে পারে। এছাড়া গণতন্ত্রের অন্যতম একটি খারাপ দিক হলো এই ব্যবস্থায় ঘন ঘন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে জনমত ও প্রচারকার্য ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে সরকার, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়।
যে শাসন ব্যবস্থায় জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগে অংশ নেওয়ার অধিকারী তাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের চারটি গুণ হলো-
১. গণতন্ত্র হচ্ছে কল্যাণকামী সরকার।
২. গণতন্ত্রে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা থাকে।
৩. গণতন্ত্রের জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত।
৪. গণতন্ত্রে স্বৈরাচারী পন্থায় শাসন গ্রহণযোগ্য নয়।
গণতন্ত্রে জনগণের শাসন নিশ্চিত হয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে।
গণতন্ত্র হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থে গঠিত ও পরিচালিত সরকার ব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণই দেশের প্রকৃত ক্ষমতার উৎস। এ ব্যবস্থায় জনগণের ভোট ও মতামতের মাধ্যমে সরকার গঠিত ও পরিচালিত হয়। এ ব্যবস্থায় সরকার যেকোনো কর্মকান্ডের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের মতামত, অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার পরিচালিত হয়, যা জনগণের শাসন নিশ্চিত করে।
সরকারব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফল। গণতন্ত্র সর্বপ্রথম প্রচলিত হয় প্রাচীন গ্রিসের এথেলে। গ্রিসের নাগরিক সমাজ গণতন্ত্র বলতে বুঝত এমন একটি রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা যাতে গোটা নাগরিক সমাজ প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। এথেনীয় গণতন্ত্র পরবর্তীতে চলমান থাকে নি। মধ্যযুগে ধর্ম ও রাজার দ্বৈত শাসন, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অনেকটা সময় কেটে গেছে। দীর্ঘকাল পরে ইউরোপে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে। উনিশ ও বিশ শতকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রচলন দেখা যায়। অষ্টাদশ শতকের গণতান্ত্রিক ভাবধারার উৎসমূল হিসেবে ইংল্যান্ডকে চিহ্নিত করা হয়। যাহোক বর্তমানে গণতন্ত্রের বিকাশ এতোই সাফল্যজনক পরিণতি লাভ করেছে যে, আধুনিক সভ্যতা গণতান্ত্রিক সভ্যতায় পরিণত হয়েছে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সাফল্যের জন্য রাজনৈতিক দল আবশ্যকীয়। রাজনৈতিক দল দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সমস্যা চিহ্নিত করে তার আলোকে নীতিমালা তৈরি করে ও কর্মসূচি গ্রহণ করে। এছাড়া রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দস গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হলো নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করা। সাধারণত নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দল জয়লাভ করে সে দলই সরকার গঠন করে। আর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে নির্বাচিত রাজনৈতিক দল তার দলীয় কর্মসূচির ভিত্তিতে শাসনকার্য পচিালনা করে থাকে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে যে সকল দল বা দসসমূহ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না তারাই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল পার্লামেন্টে বিতর্ক, সরকারের নীতির সমালোচনা, মুলতবি, প্রস্তাব উপস্থাপন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করে সংসদকে কার্যকর করে। সংসদের বাইরেও বক্তব্য, বিবৃতি ও সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে আইনের মধ্যে রাখতে বাধ্য করে। এছাড়া বিরোধী দল জনগণের
আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হচ্ছে-
১. রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে আদর্শগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কর্মসূচি ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা।
২. রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কিছু নীতিমালা ও পরিকল্পনা জনগণের নিকট পেশ করে জনসমর্থন সৃষ্টি করা।
৩. দলীয় নীতি ও দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নতি ও সমৃদ্ধি অর্জন করা এবং জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা।
৪. বৈধ ও নিয়মমাফিক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করা এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই জনগণ তার এ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের দৃষ্টিতে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে। নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে বৈধ কর্তৃপক্ষ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যে নির্বাচন, পদ্ধতিতে ভোটারগণ ভোট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা তৈরি করে তাকে ইলেক্ট্রোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী বলে। এ নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। তাই নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র কল্পনা করা যায় না। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ভোট দানের মাধ্যমে জনগণ তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের দৃষ্টিতে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে! নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে বৈধ কর্তৃপক্ষ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন ব্যবস্থা আবশ্যক।
গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই জনগণ তার এ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের দৃষ্টিতে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে। নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে বৈধ কর্তৃপক্ষ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন হলো দেশ পরিচালনার জন্য নাগরিকবৃন্দ কর্তৃক বিভিন্ন দেশীয় প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি বাছাই প্রক্রিয়া। প্রায় সকল রাষ্ট্রেই গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যারা প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা অর্থাৎ ভোটদানের অধিকার ভোগ করেন তাদের ভোটার বা নির্বাচক বলে। সকল ভোটারকে নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নির্বাচকমণ্ডলী তাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও তত্ত্বাবধান করে, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করে, মনোনয়ন পত্র বাছাই করে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রিটার্নিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করে। এছাড়াও সংবিধান অনুযায়ী কমিশন সংসদ সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে উপ-নির্বাচনের দায়িত্বও কমিশন পালন করে।
বাংলাদেশে নির্বাচনসমূহ পরিচালনার জন্য যে সাংবিধানিক সংস্থা রয়েছে তার নাম নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য 'কমিশনারদের নিয়োগদান করেন। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।
একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলা উচিত। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সঠিক আচরণের জন্য নির্বাচন কমিশন যে সুনির্দিস্ট আচরণবিধি প্রণয়ন করে তাই নির্বাচনি আচরণবিধি। নির্বাচনি আচরণবিধি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম পূর্বশর্ত। এ আচরণবিধি অমান্য করলে নির্বাচন কমিশন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সঠিক আচরণের জন্য নির্বাচন কমিশন যে সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি প্রণয়ন করে তাই নির্বাচনি আচরণবিধি। নির্বাচনি আচরণবিধি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম পূর্বশর্ত। এ আচরণবিধি অমান্য করলে নির্বাচন কমিশন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
নির্বাচনে যেকোনো অপরাধের জন্য জরিমানাসহ ক্ষেত্র বিশেষ সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং কমপক্ষে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। এ সকল নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধের জন্য উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করা যায়। তবে নির্বাচন কমিশনের লিখিত অনুমোদন ব্যতীত নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না।
৩০০টি
গণতন্ত্র
আব্রাহাম লিংকন
প্রাচীন গ্রিসে
সপ্তদশ
অষ্টাদশ
সুইজারল্যান্ডে
গণতন্ত্র প্রধানত ২টি পদ্ধতিতে কার্যকর ।
শাসন কাজে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র
সুইজারল্যান্ডে
আইনের শাসন
জনগণ
জনগণের স্বার্থ
ব্যক্তিস্বাধীনতা
গণতান্ত্রিক
জনকল্যাণ সাধন করা
এরিস্টটল
প্রতিনিধিত্বমূক গণতন্ত্র
রাজনৈতিক দল।
দলীয় সরকার
অধ্যাপক গেটেল
রাজনৈতিক দল
সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল
অধ্যাপক ফাইনার
নীতিমালা জনগণকে জানিয়ে
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে
বিরোধী দল
নির্বাচন
জনপ্রতিনিধি নির্বাচন
ভোট দিয়ে
গণতন্ত্র
নির্বাচন
দুই
গোপন ব্যালট
প্রত্যক্ষ
পরোক্ষ
রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে
৫০টি
নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা
রাষ্ট্রপতি
নির্বাচন কমিশন
সংবিধান ও আইন অনুযায়ী
নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ ৫ বছর
রাষ্ট্রপতি
নির্বাচন কমিশনের
নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন পরিচালনা
১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী
২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
১৯৭২ সালে
নির্বাচন কমিশনের
Related Question
View Allরাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেছেন, “যারা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে, সেই জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।”
বাংলাদেশে নির্বাচনসমূহ পরিচালনার জন্য যে সাংবিধানিক সংস্থা রয়েছে তার নাম নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করেন। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি আমার পঠিত পরোক্ষ গণতন্ত্রের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়। যেমনটি মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। মিতুলদের ক্লাবে অধিকাংশ সদস্যই সাধারণ সম্পাদক হতে চায়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে না চাওয়ায় অবশেষে সবাই মিলে কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে একজন সম্পাদক বাছাই করার জন্য। উক্ত ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পরবর্তীতে তাদের ক্লাবের একজন সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এখানে সবাই মিলে সাধারণ সম্পাদক বাছাই না করে তারা কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে। আর সেই ক্ষমতাপ্রাপ্তরা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এটি পরোক্ষ গণতন্ত্রের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
"বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে।" উক্তিটি যথার্থই সঠিক।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা হয়েছে পরোক্ষ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশ নেয়। কিন্তু মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়ায় যে দুর্বলতা কাজ করেছে তা হলো সততা ও নৈতিকতা বিচার না করে সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা। বাছাইকৃত সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সততা ও নৈতিকতা থাকলে তাকে কিছু ব্যক্তির স্বার্থের জন্য বিতর্কিত হতে হতো না। অতএব, বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিজ স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এবং এতে করে গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। নির্বাচিত প্রার্থী যদি সততা ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজ স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হয় তবে তিনি জনসমর্থন হারিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।
প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে- 'গণতন্ত্র হলো, জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা।'
যে নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটারগণ ভোেট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা তৈরি করে তাকে ইলেক্টোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী বলে। এ নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!