সরকারব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফল। গণতন্ত্র সর্বপ্রথম প্রচলিত হয় প্রাচীন গ্রিসের এথেলে। গ্রিসের নাগরিক সমাজ গণতন্ত্র বলতে বুঝত এমন একটি রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা যাতে গোটা নাগরিক সমাজ প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। এথেনীয় গণতন্ত্র পরবর্তীতে চলমান থাকে নি। মধ্যযুগে ধর্ম ও রাজার দ্বৈত শাসন, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অনেকটা সময় কেটে গেছে। দীর্ঘকাল পরে ইউরোপে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে। উনিশ ও বিশ শতকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রচলন দেখা যায়। অষ্টাদশ শতকের গণতান্ত্রিক ভাবধারার উৎসমূল হিসেবে ইংল্যান্ডকে চিহ্নিত করা হয়। যাহোক বর্তমানে গণতন্ত্রের বিকাশ এতোই সাফল্যজনক পরিণতি লাভ করেছে যে, আধুনিক সভ্যতা গণতান্ত্রিক সভ্যতায় পরিণত হয়েছে।
Related Question
View Allরাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেছেন, “যারা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে, সেই জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।”
বাংলাদেশে নির্বাচনসমূহ পরিচালনার জন্য যে সাংবিধানিক সংস্থা রয়েছে তার নাম নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করেন। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি আমার পঠিত পরোক্ষ গণতন্ত্রের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়। যেমনটি মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। মিতুলদের ক্লাবে অধিকাংশ সদস্যই সাধারণ সম্পাদক হতে চায়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে না চাওয়ায় অবশেষে সবাই মিলে কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে একজন সম্পাদক বাছাই করার জন্য। উক্ত ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পরবর্তীতে তাদের ক্লাবের একজন সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এখানে সবাই মিলে সাধারণ সম্পাদক বাছাই না করে তারা কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে। আর সেই ক্ষমতাপ্রাপ্তরা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এটি পরোক্ষ গণতন্ত্রের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
"বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে।" উক্তিটি যথার্থই সঠিক।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা হয়েছে পরোক্ষ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশ নেয়। কিন্তু মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়ায় যে দুর্বলতা কাজ করেছে তা হলো সততা ও নৈতিকতা বিচার না করে সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা। বাছাইকৃত সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সততা ও নৈতিকতা থাকলে তাকে কিছু ব্যক্তির স্বার্থের জন্য বিতর্কিত হতে হতো না। অতএব, বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিজ স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এবং এতে করে গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। নির্বাচিত প্রার্থী যদি সততা ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজ স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হয় তবে তিনি জনসমর্থন হারিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।
প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে- 'গণতন্ত্র হলো, জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা।'
যে নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটারগণ ভোেট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা তৈরি করে তাকে ইলেক্টোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী বলে। এ নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!