তাপ এক ধরনের শক্তি
তাপের একক জুল
তাপের একক জুল
বস্তুর তাপীয় অবস্থা
তাপমাত্রার এস আই একক কেলভিন
উষ্ণতার পার্থক্যের যে শক্তি এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে প্রবাহিত হয় তাকে তাপ বলে
কোনো পদার্থের মোট তাপের পরিমাণ এর মধ্যস্থিত অণুগুলো মোট গতি শক্তির সাথে সমানুপাতিক
অণুর গতিশক্তি বৃদ্ধির কারণ তাপ শক্তি
পদার্থে তাপ প্রয়োগে এর অণুর গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়
1J সমান 0.24 ক্যালরি
ঠান্ডা বা গরমের অনুভূতি জাগে তাপ এর কারণে
তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্রের নাম থার্মোমিটার
যে বস্তুর তাপমাত্রা কম সে বস্তু তাপীয় সংস্পর্শে তাপ গ্রহণ করে
1 gm পানির তাপমাত্রা 1° C বৃদ্ধির জন্য 1 ক্যালরি তাপের প্রয়োজন
1 ক্যালরি সমান 4.2 J
নির্দিষ্ট খাবার খেয়ে মানুষ যে পরিমাণ শক্তি পায় তাকে ফুড ক্যালরি বলে
কোনো বস্তুতে তাপীয় শক্তি প্রদান করলে অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি পায়
তাপশক্তির প্রবাহ তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল
অণুগুলোর গড় গতিশক্তির পরিমাপকে তাপমাত্রা বলে
পদার্থের অণুগুলোর গতিশক্তি এবং বিভবশক্তির সমষ্টিকে অভ্যন্তরীণ শক্তি বলে
অভ্যন্তরীণ শক্তির গতিশক্তি অংশ তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটায়
পানির ত্রৈধবিন্দুর তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে পরমশূন্য তাপমাত্রা 0 K
থার্মোমিটারে পারদ স্তম্ভের দৈর্ঘ্যকে তাপমাত্রিক ধর্ম বলে
তাপমাত্রা মাপতে পদার্থের যে ধর্ম ব্যবহৃত হয় তা তাপমাত্রিক ধর্ম
পারদ তাপমাত্রিক পদার্থ
পারদের তাপমাত্রিক ধর্ম আয়তন প্রসারণ
অ্যালকোহল থার্মোমিটারে এলকোহল তাপমাত্রিক পদার্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়
থার্মোকাপল যন্ত্রে সর্বোচ্চ 1000° C তাপমাত্রা মাপা যায়
রোধ তাপমাত্রিক ধর্ম
থার্মোকাপলের সীমা 200° C থেকে 1000° C
থার্মোমিটারে তাপমাত্রিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়
বরফের গলনাঙ্ক 0° C
পানির স্ফুটনাঙ্ক 100° C বা 373.15° K
পানির ত্রৈধবিন্দুর তাপমাত্রা 273.15° K
পানির ত্রৈধবিন্দুর তাপমাত্রার কে এক কেলভিন বলে
574.59° তাপমাত্রায় কেলভিন এবং ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ সমান
সুস্থ দেহের তাপমাত্রা 98.4° F বা 36.89° C
-40° তাপমাত্রায় সেলসিয়াস এবং ফারেনহাইট স্কেল সমান
সেলসিয়াস এবং ফারেনহাইট স্কেলের সম্পর্কের গাণিতিক রূপ (TF-32)
তাপমাত্রা স্কেল তৈরির সময় ২টি তাপমাত্রা স্থির ধরতে হয়
দুটি স্থিরাঙ্কের মধ্যবর্তী তাপমাত্রার ব্যবধান মৌল্লিক ব্যবধান
কেলভিন স্কেলের নিম্ন স্থিরাঙ্ক 273.15 K
ত্রৈধ বিন্দুতে চাপ 0.0060373 atm
। °C তাপমাত্রা সমান 274 K
পরম শূন্য তাপমাত্রা -273.15° C
দুই রেলের মাঝে ফাঁকা রাখা হয় তাপে লোহার প্রসারণের জন্য
পাত্রের প্রসারণ বিবেচনায় না এনে তরলের যে প্রসারণ পাওয়া যায় তাকে তরলের আপাত প্রসারণ বলা হয়
গ্যাসীয় পদার্থকে চাপ দিয়ে খুব সহজেই সংকুচিত করা যায়
তাপ প্রয়োগে পদার্থের আয়তন বেড়ে যায়
চাপ প্রয়োগে বস্তুর গতিশক্তি বেড়ে যায়
দৈর্ঘ্য, আয়তন এবং ক্ষেত্র প্রসারণের সম্পর্ক
α β এবং γ তিনটি রাশির একক K-1
প্রসারণের মাত্রা T-1
পদার্থের প্রসারণ তিন প্রকার
তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়
সোনার দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগ
তামার দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগ
20° C তাপমাত্রায় একটি তারের দৈর্ঘ্য 10 m, 120° তাপমাত্রায় দৈর্ঘ্য 10.0167 m হলে দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগ 16.7 10-6
লোহার ক্ষেত্র প্রসারণ সহগ দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগের 2 গুণ
কোনো পদার্থের ক্ষেত্র প্রসারণ সহগ আয়তন প্রসারণ সহগের গুণ
দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগ দ্বিগুণ করতে আয়তন প্রসারণ সহগ 6 গুণ
তামার আয়তন প্রসারণ সহগ
কোনো পদার্থের আয়তন প্রসারণ সহগ হলে দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগ
সোনার গলনাঙ্ক 1064 °C
তরল পদার্থের আয়তন আছে
তরলের প্রসারণ বলতে আয়তন প্রসারণ বুঝায়
একই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সম আয়তনের ভিন্ন তরলে প্রসারণ ভিন্ন
তরলের প্রসারণ দুই প্রকার
আপাত প্রসারণ + পাত্রের প্রসারণ = প্রকৃত প্রসারণ
প্রকৃত প্রসারণকে V দ্বারা প্রকাশ করা হয়
আদর্শ গ্যাসের সূত্র PV=nRT
R এর মান 8.314 J kg
আকার এবং আয়তন অনির্দিষ্ট গ্যাসীয় পদার্থের
গ্যাস সহজে সংকুচিত হয়
গ্যাসের আয়তন প্রসারণ সহগ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ব্যস্তানুপাতিক
বায়বীয় অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়াকে ঘণীভবন বলে
স্ফুটনাঙ্কের মান চাপ এর উপর নির্ভর করে
চাপ বাড়লে স্ফুটনাঙ্কে বাড়ে
পদার্থের চতুর্থ অবস্থা প্লাজমা
কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করে তরলে পরিণত করাকে গলন বলে
০° C তাপমাত্রার নিচের বরফে তাপ দিলে প্রথমে 0° C তাপমাত্রার বরফ পাওয়া যাবে
যে তাপমাত্রায় তরলের স্ফুটন হয় তাকে স্ফুটনাঙ্ক বলে
তরলে স্ফুটনাঙ্ক তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল
নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক যে তাপে পুরো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয় তাকে গলনের সুপ্ততাপ বলে
বাষ্পীভবনের হার তরলের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল
গলনাঙ্কে তাপমাত্রার পরিবর্তন শূন্য
স্ফুটনাঙ্কে তাপমাত্রার পরিবর্তন শূন্য
তাপ সরিয়ে নিলে গ্যাস প্রথমে তরলে পরিণত হয়
সমুদ্র হতে পানি বাষ্পায়ন প্রক্রিয়ায় বাষ্পে পরিণত হয়
বায়ুশূন্য স্থানে বরফের গলনাঙ্ক 0.0078° C
বাষ্পায়ন উষ্ণতার উপর নির্ভর করে না
তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বাষ্পায়ন দ্রুত হয়
তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বাষ্পায়ন দ্রুত হয়
শূন্যস্থানে বাষ্পায়ন সর্বোচ্চ
স্ফুটনাঙ্কের সাথে বাষ্পায়নের সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক
শুষ্ক বাতাসে বাষ্পায়ন দ্রুত
চাপের সাথে বাষ্পায়নের সম্পর্ক ব্যাস্তানুপাতিক
বস্তুর প্রতিএকক ভরের তাপধারণ ক্ষমতাকে আপেক্ষিক তাপ বলে
পাত্রে রক্ষিত কিছু পানির তাপধারণ ক্ষমতা 6090 JK -1 হলে পাত্রের ভর 1.45 Kg
আপেক্ষিক তাপের একক Jkg -1 K-1
আপেক্ষিক তাপ প্রকাশক প্রতীক s
পানির আপেক্ষিক তাপ ধাতব পদার্থ অপেক্ষা বেশি
1 kg পদার্থের তাপমাত্রা IK বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপকে আপেক্ষিক তাপ বলে
তাপধারণ ক্ষমতার গাণিতিক রূপ c = ms
পদার্থের আপেক্ষিক তাপ বেশি হলে পদার্থ ধীরে উত্তপ্ত হবে
তাপধারণ ক্ষমতার একক JK-1
এক কেজি পানির তাপধারণ ক্ষমতা 4200 JK-1
সমআয়তন পানির তাপধারণ ক্ষমতা সোনার তাপধারণ ক্ষমতার 20 গুন
সোনার তাপধারণ ক্ষমতা 230 J K-1
0° C তাপমাত্রার 1 kg বরফকে 0° C তাপমাত্রার পানিতে পরিণত করতে তাপ লাগবে
ভিন্ন তাপমাত্রার দুটি বস্তু তাপীয় সংস্পর্শে আনলে তাপের আদান-প্রদান ঘটে
তাপের আদান-প্রদানের নীতি ক্যালরিমিতির মূলনীতি
অসম তাপমাত্রার দুটি বস্তু তাপীয় সংস্পর্শে আনলে কম তাপমাত্রার বস্তু তাপ গ্রহণ করবে
বরফ গলনের সুপ্ত তাপ 334 kJ kg-1
120° C তাপমাত্রার 10 gm লোহাকে 30° C তাপমাত্রার 1 kg পানিতে ছেড়ে দিলে পানির তাপমাত্রা 30.1° C
দুই টুকরা বরফকে একত্রে চাপ দিলে সংযোগস্থলে গলনাঙ্ক 0° C এর নিচে
চাপ বাড়লে বরফের গলনাঙ্কে কমে
চাপ বাড়লে মোমের গলনাঙ্কের বাড়ে
গরমের দিনে মাটির কলস এ পানি ঠান্ডা থাকে
গ্যাসকে চাপ দিলে গলনাঙ্কে বাড়ে
প্রেসার কুকারে রান্না করা সহজতর
কাচের পাত্রে পারদ রেখে যদি গরম করা হয় তাহলে প্রথমে পারদের উচ্চতা কমে যাবে কারণ তাপ দেওয়ার পর পারদের তাপমাত্রা বাড়ার আগে কাচের পাত্রের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে এবং তার প্রসারণ হবে। অর্থাৎ কাচ পাত্রটি একটুখানি বড় হয়ে যাবে ফলে পারদের উচ্চতা কমে যাবে। যদি আমরা তারপরও তাপ দিতে থাকি তাহলে পারদের উচ্চতা বাড়তে থাকবে। যেহেতু, পারদের প্রসারণ বেশি তাই উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
উপরোক্ত কারণে প্রথমে, পারদের উচ্চতা কমে তারপর বাড়ে।
আমরা জানি, পদার্থের অণুগুলো সব সময় গতিশীল অবস্থায় থাকে। তাই এদের গতিশক্তি আছে। কোনো পদার্থের মোট তাপের পরিমাণ এর মধ্যস্থিত অণুগুলোর মোট গতিশক্তির সমানুপাতিক। যেহেতু মহাশূন্যে কোনো অণু-পরমাণু নেই, তাই সেখানে তাপের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অতএব, তাপমাত্রার অস্তিত্ব অকল্পনীয়।
আমরা নিঃশ্বাসের সাথে CO₂ ত্যাগ করি। এ CO₂ পরিবেশে তাপধারণ করে রাখে। ফলে, ভিড়ের ভিতরে সকলে নিঃশ্বাসের সাথে CO₂ ত্যাগ করে যা ঐ স্থানের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। খোলা জায়গায় গেলে CO₂ বায়ুতে ছড়িয়ে যায় বলে তা বেশি তাপধারণ করতে পারে না। তাই আমরা ভিড় হতে খোলা জায়গায় গেলে শীতল অনুভব করি।
তাছাড়া খোলা জায়গায় আসার পর শরীর থেকে ঘাম বাষ্পীভূত হওয়ার সময় বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
কাচের গ্লাসে পানিতে বরফ দিলে কাচের প্লাসের পানির তাপমাত্রা কমে যায় এবং পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে তারতম্যের সৃষ্টি হয়। কাচের প্লাসের বাইরের দিকে বায়ু গ্লাসের সংস্পর্শে অবস্থান করে। বাইরের তাপের সাথে ভিতরের তাপের আদান-প্রদান হয়। বায়ু তাপ হারিয়ে ভেতরের পানির তাপমাত্রার সমান হতে চায়। অর্থাৎ সাম্যাবস্থা সৃষ্টি করতে চায়। এমতাবস্থায় বায়ু তাপ হারিয়ে গ্লাসের গায়ে বিন্দু বিন্দু পানি জমে গ্লাসের গায়ে অবস্থান করে।
আমরা জানি, চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়। চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়। প্রেসার কুকার আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র। তাই রান্না করার সময় বাষ্প আবন্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় বলে বেশি তাপমাত্রায় ফুটে। তাপমাত্রা বেশি হলে রান্নাও করা যায় তাড়াতাড়ি।
এজন্যই প্রেসার কুকারে তাড়াতাড়ি রান্না হয়।
তাপ এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা বা গরমের অনুভূতি জন্মায়। তাপের পরিমাণ বস্তুর অণু ও পরমাণুর গতিশক্তির উপর নির্ভর করে। তাপ একটি বস্তু হতে অন্য বস্তুতে প্রবাহিত হতে পারে। তাপের S.I. একক জুল (J)।
তাপমাত্রা হচ্ছে বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা অন্য বস্তুর তাপীয় সংস্পর্শে আনলে তাপ গ্রহণ করবে না বর্জন করবে তা নির্ধারণ করে। তাপমাত্রার একক কেলভিন (K)। তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
অবস্থা পরিবর্তনের সময় বস্তু তাপ গ্রহণ করলে তাপ রস্তুর কণাগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক বন্ধন ভাঙতে কাজ করে। এজন্য অবস্থা পরিবর্তনের সময় বস্তু তাপ গ্রহণ করলেও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
তাপমাত্রা হচ্ছে বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা নির্ধারণ করে অন্য বস্তুর তাপীয় সংস্পর্শে আসলে বস্তুটি তাপ গ্রহণ করবে না বর্জন করবে। আর তাপ এক প্রকার শক্তি যা শুধু তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে না। বরং বস্তুর ভর ও আপেক্ষিক তাপের উপরও নির্ভরশীল। এজন্য দুটি বস্তুর তাপমাত্রা সমান হলেও তাপ ভিন্ন হতে পারে।
তাপ এক প্রকার শক্তি। কারণ তাপের কাজ করার সামর্থ্য আছে। বাষ্পীয় ইঞ্জিনে কয়লা পুড়ে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আবার তাপকে অন্য শক্তিতেও রূপান্তরিত করা যায়।
পদার্থের অণুগুলো সর্বদা গতিশীল অবস্থায় থাকে বলে এদের গতিশক্তি আছে। কোনো পদার্থের মোট তাপের পরিমাণ এর মধ্যস্থিত অণুগুলোর মোট গতিশক্তির সমানুপাতিক। যেহেতু মহাশূন্যে কোনো অণু-পরমাণু নেই। ফলে তাপের সৃষ্টি হয় না। অতএব, তাপমাত্রার অস্তিত্ব নেই।
দুটি রস্তুর তাপ সমান হলেও এদের তাপমাত্রা সমান নাও হতে পারে। যেমন, দুটি অসমান ভরের পানির পাত্রকে একই সময় ধরে সমপরিমাণ তাপ দিতে থাকলে দেখা যাবে বেশি ভরের পাত্রটির তাপমাত্রা কম হবে।
তীব্র জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রা অপেক্ষা বেশি থাকে। ফলে শরীরের থেকে তাপশক্তি পরিবেশে সঞ্চালিত হয় এবং ব্যক্তির নিজেকে ঠান্ডা লাগে।
বস্তুর মধ্যস্থ অণু-পরমাণুর গতিশক্তি এবং এদের মধ্যকার আন্তঃআণবিক বলের কারণে সৃষ্ট শক্তিকে অভ্যন্তরীণ শক্তি বলে। অন্যথায় বস্তুর মধ্যে যে শক্তি লুকায়িত বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে তাকে অভ্যন্তরীণ শক্তি বলে।
শীতকালে হাত গরম রাখার জন্য আমরা 'হাত ঘষি। এতে হাতের যান্ত্রিক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে আমাদের হাত ঠান্ডা থেকে রক্ষা পায়।
তাপমাত্রার তারতম্যের জন্য পদার্থের যে ধর্ম নিয়মিতভাবে পরিবর্তিত হয় এবং এই পরিবর্তন লক্ষ করে সহজ ও সূক্ষ্মভাবে তাপমাত্রা নিরূপণ করা যায় সেই ধর্মকে পদার্থের তাপমাত্রাতিক ধর্ম বলে। তাপমাত্রাতিক ধর্ম হচ্ছে পদার্থের আয়তন, রোধ, তাপ ইত্যাদি।
তাপমাত্রার তারতম্যের জন্য পদার্থের যে ধর্ম নিয়মিত পরিবর্তিত হয় এবং এই পরিবর্তন লক্ষ করে সহজে তাপমাত্রা নির্ণয় করা যায় সেই ধর্মই পদার্থের তাপমাত্রিক ধর্ম এবং ঐ পদার্থকে তাপমাত্রিক পদার্থ বলে। পারদকে তাপমাত্রিক পদার্থ বলা হয়। কারণ পারদ থার্মোমিটারে কৈশিক নলের ভেতর রক্ষিত পারদ নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য। নির্দেশ করে।
আয়তন একটি তাপমাত্রিক ধর্ম। কারণ তাপমাত্রার হ্রাস বৃদ্ধিতে পদার্থের আয়তনের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে এবং এ পরিবর্তন লক্ষ করে সহজে তাপমাত্রা নিরূপণ করা যায়।
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে পানি তিন অবস্থাতেই অর্থাৎ বরফ, পানি এবং জলীয় বাষ্পরূপে সহাবস্থান করে তাকে পানির ত্রৈধবিন্দু বলে। পানির ত্রৈধবিন্দুর তাপমাত্রাকে 0° C বা 273 K ধরা হয়।
তাপমাত্রার স্কেল তৈরির জন্য দুটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রাকে স্থির ধরে নেওয়া হয়। এই তাপমাত্রা দুটিকে স্থিরাঙ্ক বলে। স্থিরাঙ্ক দুটি নিম্নস্থিরাঙ্ক ও উর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক। স্থিরাঙ্ক দুটির মধ্যবর্তী ব্যবধানকে মৌলিক ব্যবধান বলে।
যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ, বরফ গলে পানিতে পরিণত হতে শুরু করে তাকে গলনাঙ্ক বলে।
পানির গলনাঙ্ক 273 K বা 0° C বলতে বুঝায় বরফ 273 K বা 0° C তাপমাত্রায় গলে পানিতে পরিণত হতে শুরু করে।
কোনো বস্তুর প্রতি এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পরিবর্তনে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন, প্রতি এক ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা পরিবর্তনে তার চেয়ে কম তাপের প্রয়োজন হয়। তাই এক ডিগ্রি সেলসিয়াস ও এক ডিগ্রি ফারেনহাইট এক নয়।
কোনো বস্তু এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হতে যে পরিমাণ তাপ লাগে তাকে সুপ্ততাপ বলে। সুপ্ততাপ বন্ধুর অভ্যন্তরীণ শক্তি হ্রাস বা বৃদ্ধি করে কিন্তু তাপমাত্রার হ্রাস বা বৃদ্ধি করে না।
কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বস্তুর মধ্যস্থিত অণুগুলো ছোটাছুটি করে। এর ফলে প্রত্যেক অণুর গড় সাম্যাবস্থান বাইরের দিকে সরে যায় এবং কঠিন পদার্থের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়।
1 m দৈর্ঘ্যের কোনো কঠিন পদার্থের দন্ডের তাপমাত্রা 1 K বৃদ্ধির ফলে এর দৈর্ঘ্য যতটুকু বৃদ্ধি পায় তাকে ঐ দন্ডের উপাদানের দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগ বলে। একে দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক K-1 এবং মাত্রা T-1
কঠিন পদার্থের দৈর্ঘ্য প্রসারণ / তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যথা-
১. আদি দৈর্ঘ্য (lo)
২. তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও
৩. পদার্থের দৈর্ঘ্য প্রসারণ-সহগ।
লোহার দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগ 11.3 10- 6 K-1 বলতে বুঝায় 1 m দৈর্ঘ্যের লোহার দন্ডের তাপমাত্রা 1K বৃদ্ধি করলে এর দৈর্ঘ্য 11.3 10- 6 K-1 বৃদ্ধি পায়।
দুটি বৈদ্যুতিক খুঁটির মাঝের তারকে টানটান করে সংযোগ দেওয়া হয় না। কারণ শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাস পেলে তার সংকুচিত হয়ে ছিঁড়ে যেতে পারে। এজন্য ঢিলা করে সংযোগ দেওয়া হয়।
1 m² ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট কোনো বস্তুর তাপমাত্রা 1K বৃদ্ধি করলে এর ক্ষেত্রফল যতটুকু বৃদ্ধি পায় তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের ক্ষেত্র প্রসারণ সহগ বলে। একে দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক K-1 এবং মাত্রা T-1
তামার ক্ষেত্র প্রসারণ সহগ 33.4 10 -6 K - 1 বলতে বুঝায় 1 m² ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট তামার কোনো বস্তুর তাপমাত্রা 1K বৃদ্ধি করলে এর ক্ষেত্রফল 33.4 10 -6 m2 বৃদ্ধি পায়।
পুরু কাচের গ্লাসে গরম পানি ঢালা হলে ভিতরের অংশ গরম পানির সংস্পর্শে এসে প্রসারিত হয় কিন্তু কাচ তাপের কুপরিবাহক বলে এ তাপ বাইরের অংশে সঞ্চালিত হতে পারে না। তাই গরম পানি ঢালা হলে পুরু কাচের গ্লাস ফেটে যায়।
রেল লাইনে দুটি পাতের সংযোগস্থল ফাঁক থাকে। চাকার সাথে রেল লাইনের পাতের ঘর্ষণের ফলে তাপশক্তি সৃষ্টি হয়। এ তাপ রেল লাইনকে প্রসারিত করে। দুটি লাইনের মধ্যে ফাঁক না থাকলে প্রসারণের জন্য যথেষ্ট জায়গার অভাবে রেল লাইন বেঁকে যেত এবং দুর্ঘটনা ঘটত।
1 m³ আয়তনবিশিষ্ট কোনো বস্তুর তাপমাত্রা 1K বৃদ্ধি করলে এর আয়তন যতটুকু বৃদ্ধি পায় তাকে আয়তন প্রসারণ সহগ বলে। একে দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক K-1 এবং মাত্রা T-1
ধাতুর প্রসারণ সহগ কাচের প্রসারণ সহগের চেয়ে বেশি বলে একই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বোতলের মুখের চেয়ে ধাতুর তৈরি ছিপি বেশি প্রসারিত হয়। ফলে তাপ দিয়ে সামান্য উত্তপ্ত করলে এটি সহজে খুলে যায়।
তরল পদার্থের দৈর্ঘ্য বা ক্ষেত্রফল বলে কিছু নেই। তরল পদার্থের শুধু আয়তন আছে। কাজেই তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে তরলের আয়তন প্রসারণকেই বুঝায়।
পাত্রের প্রসারণ বিবেচনা করে কোনো তরলকে তাপ দিলে প্রকৃতই তরলের যতটুকু প্রসারণ ঘটে তাই প্রকৃত প্রসারণ। আবার পাত্রের প্রসারণ বিবেচনায় না এনে তরলের যে প্রসারণ পাওয়া যায় তাকে তরলের আপাত প্রসারণ বলে।
পাত্রের প্রসারণ বিবেচনায় না এনে তরলের যে প্রসারণ পাওয়া যায় তাকে আপাত প্রসারণ বলে। এ অবস্থায় তাপ দিলে প্রথমে পাত্রের প্রসারণ ঘটে এবং তারপর তরলের প্রসারণ ঘটে। পাত্রের উপাদানের ভিন্নতার জন্য আপাত প্রসারণ ভিন্ন হতে পারে। তাই আপাত প্রসারণ পাত্রের উপাদানের উপর নির্ভরশীল।
তাপ প্রয়োগ করলে তরল পদার্থের আয়তন বাড়ে। কোনো পাত্রে তরল রেখে তাপ প্রয়োগ করলে প্রথমে পাত্রটি প্রসারিত হয় এবং পরে আরও তাপ দিলে তরল প্রসারিত হয়। এজন্য প্রথমদিকে তরল স্তম্ভ কিছুটা নিচে নেমে আসে।
পারদের প্রকৃত প্রসারণ সহগ 13 10 ^ 5 * K - 1 বলতে বুঝায় যে, 1 m² আয়তনের পারদের তাপমাত্রা 1 K বৃদ্ধি করলে এর আয়তন 13 10-5 m3 বৃদ্ধি পায়।
এখানে, পাত্রের প্রসারণ, VB = 2cm3
আপাত প্রসারণ, Va = 19cm3
প্রকৃত প্রসারণ, V₁ =?
আমরা জানি, প্রকৃত প্রসারণ, VL = Vk + VR = (19 + 2) cm3
= 21 cm3
অতএব, তরলের প্রকৃত প্রসারণ 21 cm3
যখন গ্যাসকে তাপ প্রদান করা হয়, তখন তাদের অণুর গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় যা গ্যাসের প্রসারণের দিকে পরিচালিত হয়। এটি গ্যাসের তাপীয় সম্প্রসারণ নামে পরিচিত। আর এটিকে গ্যাসের প্রসারণ বলে।
গ্যাসীয় অণুর মধ্যে কোনো আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল নেই বললেই চলে। গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলো অসম গতিতে বিভিন্ন দিক বিন্যাসে গতিশীল থাকে। তাই এক্ষেত্রে অণুসমূহের মধ্যে শুধু গতিশক্তি থাকে। বিভবশক্তি থাকে না।
কোনো বস্তু এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হতে যে পরিমাণ তাপ লাগে তাকে সুপ্ততাপ বলে। সুপ্ততাপ বস্তুর অভ্যন্তরীণ শক্তি হ্রাস বা বৃদ্ধি করে কিন্তু তাপমাত্রার হ্রাস বা বৃদ্ধি করে না।
কোনো পদার্থকে কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তর করতে যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োগ করতে হয় কিংবা তরল থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তর করতে যে পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে গলনের সুপ্ততাপ বলে।
তরল পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করতে থাকলে যখন তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে চলে আসে তখন যতই তাপ প্রয়োগ করা হোক না কেন সম্পূর্ণ তরল বাষ্পে রূপান্তরিত হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে। যে পরিমাণ তাপ এক্ষেত্রে তরল পদার্থকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর করল সেই পরিমাণ তাপই হলো ঐ তরলের ক্ষেত্রে বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ।
বাষ্পীভবন: তাপ প্রয়োগ করে পদার্থের তরল অবস্থা থেকে বাষ্পে পরিণত করাকে বাষ্পীভবন বলে।
বাষ্পায়ন: যে তাপমাত্রায় তরলের শুধু উপরিতল থেকে বাষ্পে পরিণত হতে থাকে তাকে বাষ্পায়ন বলে।
স্ফুটন: তাপ প্রয়োগে যদি তরলের সকল কণা বাষ্পে পরিণত হতে থাকে তবে তাকে স্ফুটন বলে।
উষ্ণতার হ্রাস ঘটিয়ে কোনো পদার্থের বায়বীয় অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন এবং তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কঠিনীভবন বলে।
বাষ্পায়ন নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে-
১. বায়ু প্রবাহ,
২. তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল,
৩. তরলে প্রকৃতি এবং
৪. তরলের উপর চাপ।
বাষ্পায়নের সময় তরল তার আশেপাশের জায়গা থেকে সুপ্ততাপ গ্রহণ করে, বাষ্পে পরিণত হয়। বাষ্পায়নের সময় আশেপাশের জায়গা তাপ হারানোর কারণে আশেপাশে তাপমাত্রা হ্রাস পায়। তাই বাষ্পায়নে শীতলতার উদ্ভব হয়।
ফ্যান চালালে আশেপাশের বাতাস ভেজা মেঝের পানির স্পর্শে আসে এবং সেখান থেকে পানি জলীয়বাষ্প হিসেবে শোষণ করে, ফলে ভেজা মেঝে দ্রুত শুকায়।
কোনো পদার্থের কণাগুলো আন্তঃআণবিক আকর্ষণের দ্বারা একে অন্যের সাথে যুক্ত থাকে। পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পদার্থের অণুসমূহের মধ্যকার বিভবশক্তির পরিবর্তন ঘটাতে হয়। আর এজন্য সুপ্ততাপের প্রয়োজন হয়।
1 kg ভরের কোনো বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর আপেক্ষিক তাপ বলে।
পানির আপেক্ষিক তাপ 4200 Jkg-1 K-1 বলতে বুঝায় 1 kg ভরের পানির তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে 4200 J তাপের প্রয়োজন।
বরফের আপেক্ষিক তাপ 2100 J kg-1 K-1 অর্থাৎ 1 kg বরফের তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 2100J তাপ লাগবে।
আমরা জানি,
আপেক্ষিক তাপ,
আপেক্ষিক তাপের একক= তাপের একক/ ভরের একক তাপমাত্রার একক
কোনো বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে তাপধারণ ক্ষমতা বলে। তাপধারণ ক্ষমতাকে C দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর একক JK-1
কোনো বস্তুর তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপ প্রয়োজন তাকে তাপধারণ ক্ষমতা বলে। আবার 1 kg ভরের কোনো বস্তুর তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে যে তাপের প্রয়োজন হয় তাকে আপেক্ষিক তাপ বলে। সুতরাং, বলা যায় যে, একক ভরের তাপধারণ ক্ষমতাই আপেক্ষিক তাপ।
কোনো বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বস্তুর উপাদান এবং ভরের উপর নির্ভরশীল। নির্দিষ্ট বস্তুর উপাদান নির্দিষ্ট থাকে। তাই নির্দিষ্ট বস্তুর ভর বৃদ্ধি করলে বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ যত কম হবে, বাষ্পায়ন তত দ্রুত হবে। শীতকালে বায়ু শুষ্ক থাকে বলে বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে। ফলে ভিজা কাপড় থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায় এবং কাপড় দ্রুত শুকায়।
পানির বাষ্পীভবনের সুপ্ত তাপ 2.268 106Jkg' বলতে বুঝায় যে, 100° C তাপমাত্রার 1 kg পানিকে তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তরের জন্য 2.268106 J তাপের প্রয়োজন হয়।
বরফ গলনের আপেক্ষিক সুপ্ততাপ বলতে বুঝায় ০° C তাপমাত্রার 1 kg বরফকে ০° C তাপমাত্রার পানিতে পরিণত করতে প্রয়োজন হয়।
ভিন্ন উষ্ণতার দুটি বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে রাখলে তাপীয় সাম্যাবস্থায় আসার জন্য তাদের মধ্যে তাপের আদান-প্রদান হয়। উষ্ণ বস্তুটি যতটুকু তাপ বর্জন করে, শীতল বস্তুটি সেই পরিমাণ তাপ গ্রহণ করে। অর্থাৎ, গৃহীত তাপ = বর্জিত তাপ। এটিই ক্যালরিমিতির মূলনীতি।
জ্বর গায়ে জলপট্টি দিলে তাপমাত্রা হ্রাস পায়। কারণ জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় অপরপক্ষে জলপট্টির তাপমাত্রা কম থাকে ফলে জলপট্টি দিলে শরীর তাপ হারায় এবং জলপট্টি এই তাপ গ্রহণ করে।
চাপ প্রয়োগের ফলে কঠিন বস্তুর গলে যাওয়া এবং চাপ প্রত্যাহারে আবার এর কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হওয়াকে পুনঃশিলীভবন বলে। পুনঃশিলীভবনের জন্যই দুটি বরফ টুকরা একত্রে চাপ দিলে জোড়া লাগে।
স্ফুটনের ফলে তরল বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। এর ফলে আয়তন বৃদ্ধি পায়। আবার, চাপ আয়তনের ব্যস্তানুপাতিক। এ কারণে চাপ বৃদ্ধি করলে যেহেতু আয়তন হ্রাস পায় তাই তরল থেকে বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তরও কঠিন হয়। তাই চাপ বৃদ্ধি করলে তরলের স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। চাপ হ্রাসে স্ফুটনাও হ্রাস পায়।
যেসব কঠিন পদার্থ তরলে রূপান্তরের সময় আয়তনে হ্রাস পায়, চাপ বৃদ্ধিতে তাদের গলনাঙ্ক কমে যায়। বরফ গলে পানিতে পরিণত হলে এর আয়তন হ্রাস পায়। তাই চাপ বাড়লে বরফের গলনাঙ্ক কমে যায়।
চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়। এজন্য পাহাড়ের উপর তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে। ফলে পাহাড়ের ওপর রান্না করা কষ্টকর। কারণ কম তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে বলে মাংসসহ অন্যান্য খাবার সিদ্ধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট তাপ পায় না।
পানি ও বরফ গলা পানির তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের আদান-প্রদান চলবে। দুটি বস্তু পরস্পর তাপীয় সংস্পর্শে আনলে উষ্ণতর বস্তু থেকে শীতলতর বস্তুতে তাপ প্রবাহিত হয় যতক্ষণ না উভয়ের তাপমাত্রা সমান হয়। একখন্ড বরফ ফুটন্ত পানিতে ছেড়ে দিলে বরফ গলে যাওয়ার পরেও বরফ গলা পানির তাপমাত্রা ফুটন্ত পানির তাপমাত্রার সমান না হওয়া পর্যন্ত ফুটন্ত পানি থেকে তাপ বরফ গলা শীতল পানিতে প্রবাহিত হবে এবং পানি ও বরফ গলা পানির তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের আদান-প্রদান চলবে।
তাপ হলো এক প্রকার শক্তি, যা ঠান্ডা বা গরমের অনুভূতি জাগায়।
তাপমাত্রা হচ্ছে সেই তাপীয় অবস্থা যা নির্ধারণ করে ঐ বস্তুটি অন্য বস্তুর তাপীয় সংস্পর্শে এলে সেটি কি তাপ হারাবে না গ্রহণ করবে।
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রার একক কেলভিন (K)।
দুটি বস্তুর মধ্যে তাপের আদান-প্রদান বস্তুদ্বয়ের তাপমাত্রার পার্থক্যের উপর নির্ভর করে।
পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার ভাগকে এক কেলভিন (1K) বলে।
বস্তুর অভ্যন্তরস্থ অণু, পরমাণু ও মৌলিক কণাসমূহের রৈখিক গতি, স্পন্দন গতি ও ঘূর্ণন গতি এবং তাদের মধ্যকার বলের কারণে যে শক্তির উদ্ভব হয় তাই অভ্যন্তরীণ শক্তি।
তাপমাত্রার তারতম্যের জন্য পদার্থের যে ধর্ম নিয়মিতভাবে পরিবর্তিত হয় এবং এ পরিবর্তন লক্ষ করে সহজ ও সূক্ষ্মভাবে তাপমাত্রা নিরূপণ করা যায় সেই ধর্মই পদার্থের তাপমাত্রিক ধর্ম।
তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্যাসের যে ধর্ম মিতভাবে পরিবর্তিত হয় তাই গ্যাসের তাপমাত্রিক ধর্ম। গ্যাসের ক্ষেত্রে তাপমাত্রিক ধর্ম হলো গ্যাসের চাপ।
প্রমাণ চাপে যে তাপমাত্রায় বরফ গলে পানি হয় অথবা বিশুদ্ধ পানি জমে বরফ হয়, তাকে নিম্নস্থিরাঙ্ক বা বরফ বিন্দু বলে
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে পানি তিন অবস্থাতেই অর্থাৎ বরফ, তরল ও জলীয়বাষ্পরূপে অবস্থান করে তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
তাপমাত্রার স্কেল তৈরির জন্য যে দুটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রাকে স্থির ধরে নেওয়া হয় তাদেরকে স্থিরাঙ্ক বলে।
যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্নস্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।
1 m দৈর্ঘ্যের কোনো কঠিন পদার্থের দন্ডের তাপমাত্রা 1 K বৃদ্ধির ফলে যতটুকু দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় তাকে ঐ দণ্ডের উপাদানের দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগ বলে।
তামার দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগ 16.7 10-6 K-1
1 m² ক্ষেত্রফলের কোনো কঠিন পদার্থের তাপমাত্রা 1 K বৃদ্ধির ফলে যতটুকু ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি পায় তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের ক্ষেত্র প্রসারণ সহগ বলে।
1 m3 আয়তনের কোনো কঠিন পদার্থের তাপমাত্রা 1K বৃদ্ধির ফলে যতটুকু আয়তন বৃদ্ধি পায় তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আয়তন প্রসারণ সহগ বলে।
আয়তন প্রসারণ সহগের অপর নাম হলো সংনম্যতা।
তরলকে কোনো পাত্রে না রেখে (যদি সম্ভব হয়) তাপ দিলে তার যে আয়তন প্রসারণ হতো তাকে তরলের প্রকৃত প্রসারণ বলে
কোনো পাত্রে তরল রেখে তাপ দিলে পাত্রের প্রসারণ বিবেচনায় না এনে তরলের যে প্রসারণ পাওয়া যায় তাকে তরলের আপাত প্রসারণ বলে।
কোনো পাত্রে তরল রেখে তাপ দিলে পাত্রের প্রসারণ বিবেচনায় না এনে তরলের যে প্রসারণ পাওয়া যায় তাকে তরলের আপাত প্রসারণ বলে।
তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থকে তরলে পরিণত করাকে গলন বলে।
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলে।
তাপ প্রয়োগে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তরলের সকল স্থান থেকে দ্রুত বাষ্পে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে স্ফুটন বলে।
প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ ফুটন্ত পানি যে তাপমাত্রায় জলীয়বাষ্পে পরিণত হয় তাই স্ফুটনাঙ্ক।
যে প্রক্রিয়ায় তরল পদার্থ কঠিন পদার্থে পরিণত হয় তাই কঠিনীভবন।
যেকোনো তাপমাত্রায় তরলের শুধুমাত্র উপরিতল থেকে ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাম্পায়ন বলে।
কোনো পদার্থের তরল অবস্থা থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় পরিণত হওয়ার ঘটনাকে বাষ্পীভবন বলে।
উষ্ণতার হ্রাস ঘটিয়ে কোনো পদার্থের বায়বীয় অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলে।
একক ভরের কোনো বস্তুর তাপমাত্রা এক একক বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাই ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ।
যে তাপ পদার্থের তাপমাত্রার পরিবর্তন না ঘটিয়ে অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় তাকে সুপ্ততাপ বলে।
যে পরিমাণ তাপ কঠিন পদার্থকে তরলে রূপান্তরিত করে তাই গলনের আপেক্ষিক সুপ্ততাপ।
যে পরিমাণ তাপ তরল পদার্থকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তরে প্রয়োজন তাকেই বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ বলে।
কোনো বস্তুর তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বলে।
দুটি ভিন্ন ধাতব পদার্থের সংযোগস্থলে তাপ প্রদান করে সরাসরি তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়াই হলো থার্মোকাপুল।
যদি গ্রহণ ও বর্জনের সময় কোনো তাপ নষ্ট না হয় তবে বেশি তাপমাত্রার বন্ধু যে পরিমাণ তাপ বর্জন করবে কম তাপমাত্রার বস্তু সেই পরিমাণ তাপ গ্রহণ করবে অর্থাৎ মোট বর্জিত তাপ = মোট গৃহীত তাপ।
ক্যালরিমিতির মূলনীতি হলো- মোট বর্জিত তাপ = মোট গৃহীত তাপ।
চাপ প্রয়োগে কঠিন বস্তুকে তরলে অথবা চাপ হ্রাসে তরলকে। কঠিন অবস্থায় আনাকে পুনঃশিলীভবন বলে।
তাপ ও তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
১. পদার্থের অণুগুলোর কম্পন বা গতির কারণে যে শক্তি উৎপন্ন হয় তাকে তাপ বলে। অন্যদিকে তাপমাত্রা হলো সেই তাপীয় অবস্থা যা নির্ধারণ করে একটি বস্তু অন্য বস্তুর সংস্পর্শে আসলে বস্তুটি তাপ গ্রহণ করবে না বর্জন করবে।
২. অণুর মধ্যকার তাপশক্তির প্রবাহ তাপের উপর নির্ভর করে না কিন্তু তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
অবস্থা পরিবর্তনের সময় বস্তু তাপ গ্রহণ করলে তাপ বস্তুর কণাগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক বন্ধন ভাঙতে কাজ করে। বন্ধন ভেঙে গেলে তখন বস্তু এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। এজন্য অবস্থা পরিবর্তনের সময় বন্ধু তাপ গ্রহণ করলেও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না অর্থাৎ, তাপমাত্রা স্থির হয়ে যায়।
তাপমাত্রা হচ্ছে বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা নির্ধারণ করে অন্য বস্তুর তাপীয় সংস্পর্শে আসলে বস্তুটি তাপ গ্রহণ করবে না বর্জন করবে। আর তাপ হচ্ছে বস্তুর একপ্রকার শক্তি। তাপ বস্তুর ভর, আপেক্ষিক তাপ এবং তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ তাপ কেবল তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে না বিধায় দুটি বস্তুর তাপমাত্রা সমান হলেও তাপ সমান নাও হতে পারে।
তীব্র জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রা অপেক্ষা বেশি থাকে। ফলে শরীরের থেকে তাপশক্তিপরিবেশে সঞ্চারিত হয় এবং ব্যক্তির নিজেকে ঠান্ডা লাগে। কিন্তু অন্য কেউ জ্বর আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে তার শরীরের তাপ প্রবাহিত হয়। ফলে তীব্র জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির নিজেকে ঠাণ্ডা লাগলেও অন্যের কাছে গরম অনুভূত হয়।
পদার্থের অণুসমূহ সর্বদা কম্পনশীল। কঠিন পদার্থের অণুগুলো একস্থান থেকে এদিক ওদিক স্পন্দিত হয়। অণুগুলোর এ গতির জন্য গতিশক্তির সঞ্চার হয়। আবার কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ বল আছে বলে বিভবশক্তি আছে। পদার্থের অণুগুলোর গতিশক্তি ও বিভবশক্তির সমষ্টি হলো অভ্যন্তরীণ শক্তি। অভ্যন্তরীণ শক্তির গতিশক্তি অংশটুকু শুধুমাত্র তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটায়।
তাপমাত্রার তারতম্যের জন্য পদার্থের যে ধর্ম নিয়মিতভাবে পরিবর্তিত হয় এবং এ পরিবর্তন লক্ষ করে সহজ ও সূক্ষ্মভাবে তাপমাত্রা নিরূপণ করা যায় সেই ধর্মই পদার্থের তাপমাত্রিক ধর্ম। চাপ পদার্থের তাপমাত্রিক ধর্ম। কারণ তাপমাত্রার হ্রাস বৃদ্ধিতে গ্যাসীয় পদার্থের চাপের হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে।
যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ জমে কঠিনে তাকে ঐ পদার্থের হিমাঙ্ক বলে। অর্থাৎ হিমাঙ্ক হচ্ছে একটি বিশেষ তাপমাত্রা যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থের মধ্যস্থিত তাপ অপসারিত হতে থাকে এবং তরল পদার্থটি কঠিনে পরিণত হতে থাকে। 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় পৌছানোর পর পানি হতে আরও তাপ নিয়ে নিলে পানি জমে বরফে পরিণত হতে থাকে। এ কারণে পানির হিমাঙ্ক 273 K
সেন্টিগ্রেড স্কেলের নিম্ন স্থিরাঙ্ক 0° C এবং ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক 100° C অন্যদিকে কেলভিন স্কেলের নিম্ন স্থিরাঙ্ক 273 K এবং ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক 373 K অর্থাৎ সেন্টিগ্রেড স্কেলের মৌলিক ব্যবধান 100 এবং কেলভিন স্কেলের মৌলিক ব্যবধানও 100। উভয় স্কেলের মৌলিক ব্যবধান সমান হওয়ায় তাপমাত্রার পার্থক্যের মানও একই হয়।
এক ডিগ্রি সেলসিয়াস ও এক ডিগ্রি ফারেনহাইট এক নয়। কারণ, ডিগ্রি সেলসিয়াসে এক একক ফারেনহাইট স্কেলে এক এককের 1.8 গুণ। অন্যভাবে বলা যায়, বস্তুর প্রতি এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পরিবর্তনে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, প্রতি এক ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা পরিবর্তনে তারচেয়ে কম তাপের প্রয়োজন হয়। তাই এক ডিগ্রি সেলসিয়াস ও এক ডিগ্রি ফারেনহাইট এক নয়।
তাপ প্রয়োগে যেকোনো পদার্থ প্রসারিত হয় এবং তাপ অপসারিত হলে সংকুচিত হয়। গুরুর গাড়ির কাঠের চাকার উপর যখন লোহার বেড় লাগানো হয় তখন এই লোহার বেড় তাপ দিয়ে প্রসারিত করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় লোহার বেড় চাকার চেয়ে সামান্য ছোট থাকে। তাপ দিয়ে প্রসারিত করে এটিকে চাকার উপর পরিয়ে দেওয়া হয়। এবং তাপ অপসারিত হলে যখন এটি ঠাণ্ডা হয় তখন সংকুচিত হয়ে ঢাকার গায়ে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে কোনো বস্তুর অণুগুলো যখন কাঁপতে থাকে তখন অণুগুলো একই শক্তি নিয়ে ভিতর দিকে যতটা সরে আসতে পারে বাইরের দিকে তার চেয়ে বেশি সরে যেতে পারে। ফলে প্রত্যেক অণু গড় সাম্যাবস্থান থেকে বাইরের দিকে সরে যায়। এ কারণেই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পদার্থের প্রসারণ ঘটে।
আমরা জানি, ঘর্ষণের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় এবং তাপ প্রয়োগে কঠিন, তরল ও বায়বীয় সবধরনের পদার্থ প্রসারিত হয়। অতএব, ট্রেন চলার সময় ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপে বা সূর্যের তাপে রেললাইন প্রসারিত হয়। রেল লাইনে যেখানে দুটি লোহার বার মিলিত হয় সেখানে তাই ফাঁক রাখা হয় যাতে রেললাইন প্রসারণের জন্য জায়গা পায়। এরূপ ফাঁক না রাখলে রেল লাইন বেঁকে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
পুরু কাচের গ্লাসে গরম চা ঢালা হলে অনেক সময় গ্লাসটি ফেটে যায়। প্লাসে গরম চা ঢালা হলে ভিতরের অংশ গরম চায়ের সংস্পর্শে এসে প্রসারিত হয় কিন্তু কাচ তাপের কুপরিবাহক বলে এ তাপ বাইরের অংশে সঞ্চালিত হতে পারে না। তাই ভেতরের অংশ প্রসারিত হলে বাইরের অংশ প্রসারিত হতে না পেরে প্রসারণ বলের জন্য কাচ ফেটে যায়। তাই পরম চা চালা হলে পুরু কাচের গ্লাস ফেটে যায়।
প্রকৃত প্রসারণ ও আপাত প্রসারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-তরলকে কোনো পাত্রে না রেখে (যদি সম্ভব হয়) তাপ দিলে তার যে আয়তন প্রসারণ হতো তাকে তরলের প্রকৃত প্রসারণ বলে। তবে তা সম্ভব নয় ফলে পাত্রের প্রসারণ বিবেচনা করে প্রকৃতই তরলের যেটুকু প্রসারণ ঘটে তাই প্রকৃত প্রসারণ। একে V, দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কোনো পাত্রে তরল রেখে তাপ দিলে তরলের যে আয়তন প্রসারণ দেখতে পাওয়া যায়, অর্থাৎ পাত্রের প্রসারণ বিবেচনায় না এনে তরলের যে প্রসারণ পাওয়া যায় তাকে তরলের আপাত প্রসারণ বলে। একে V. দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
গ্রীষ্মকালে পুকুরের উপরের পানি উষ্ণ হলেও নিচের পানি শীতল থাকে। কারণ গ্রীষ্মে সূর্যের তাপে পুকুরের পানি গরম হয়ে পানির ঘনত্ব কমে যায়। ফলে পানি তুলনামূলকভাবে হালকা হয়ে 1 যায় এবং উপরেই থেকে যায়। আর নিচের পানি তুলনামূলকভাবে শীতল থাকে বলে এর ঘনত্ব বেশি থাকে এবং ভারী থাকে বলে নিচেই থেকে যায়।
তরলের ন্যায় বায়বীয় পদার্থকে কোনো না কোনো পাত্রে রেখে তাপ দিতে হয়। কিন্তু তাপমাত্রার এই পরিবর্তনের জন্য বায়বীয় পদার্থের প্রসারণ, প্রাত্রের প্রসারণের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় পাত্রের প্রসারণকে উপেক্ষা করা যায়। ফলে বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রকৃত ও আপাত প্রসারণের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য থাকে না।
গ্যাসীয় অণুসমূহের মধ্যে কোনো আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল নেই বললেই চলে। গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলো অক্রম গতিতে গতিশীল থাকে ফলে অণুসমূহ নির্দিষ্ট বিন্যাসে সজ্জিত না থেকে বিভিন্ন দিক বিন্যাসে গতিশীল থাকে। তাই এক্ষেত্রে অণুসমূহের মধ্যকার গতিশক্তি থাকে শুধু বিভবশক্তি থাকে না।
ভেজা কাপড়ের পানি কণাগুলো জলীয় বাষ্প হিসাবে বাতাস শোষণ করে। সেজন্য বাতাসকে ঐ পানি কণাগুলোর সংস্পর্শে আসতে হয়। বাতাস যেনো ভেজা কাপড়ের সমস্ত জায়গায় যেতে পারে সেজন্য শুকানোর সময় এটিকে যথাসম্ভব ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
যেকোনো তাপমাত্রায় তরলকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পায়ন বলে। বাষ্পায়নের সময় তরল তার আশেপাশের জায়গা থেকে সুপ্ততাপ গ্রহণ করে বাষ্পে পরিণত হয়। বাষ্পায়নের সময় আশে পাশের জায়গা তাপ হারানোর কারণে আশেপাশে তাপমাত্রা হ্রাস পায় অর্থাৎ আশপাশ শীতল হয়। অতএব, বলা যায় বাষ্পায়নে শীতলতার উদ্ভব হয়।
যেকোনো তাপমাত্রায় তরলের শুধুমাত্র উপরিতল থেকে ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পায়ন বলে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি যত বেশি হয়, বাষ্পায়ন তত কম হয় এবং জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি কম থাকলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। এভাবেই বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাষ্পায়ন নিয়ন্ত্রণ করে।
বাষ্পায়নের সময় পদার্থ তরল হতে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। এ রূপান্তরের জন্য যে পরিমাণ সুপ্ততাপের প্রয়োজন হয় তরল পদার্থ তা ঐ তরল সংলগ্ন বস্তু থেকে সংগ্রহ করে। মাটির কলসির মধ্যে অতি সূক্ষ্মা ছিদ্র থাকে। এ ছিদ্র দিয়ে পানি বাষ্পায়নের সময় মাটির কলসি তার প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ ভিতরের পানি থেকে গ্রহণ করে। ফলে পানির তাপমাত্রা কমে যায়। অন্যদিকে পিতলের কলসিতে অতি সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে না। তাই বাষ্পায়নের সময় পিতলের কলসি প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ গ্রহণ করতে পারে না। তাই পিতলের কলসি অপেক্ষা মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকে।
ঘর্মাক্ত অবস্থায় চলন্ত ফ্যানের নিচে বসলে ঠান্ডা লাগে। এর কারণ হলো ফ্যানের বাতাসে শরীরের ঘাম বাষ্পে পরিণত হওয়া শুরু করে। এজন্য প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ শরীরের মধ্য থেকে সরবরাহ হয় বলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং ঠান্ডা অনুভূত হয়।
ভেজা অবস্থায় চলন্ত ফ্যানের নিচে বসলে ঠান্ডা লাগে। এর কারণ হলো ফ্যানের নিচে বসলে ফ্যানের বাতাসে শরীরের পানি বাষ্পে পরিণত হওয়া শুরু করে। এজন্য প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ শরীরের মধ্য থেকে সরবরাহ হয় বলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং ঠান্ডা অনুভূত হয়।
পানির বাষ্পায়ন এর উষ্ণতা, এর উপর বায়ুর চাপ, বায়ুর শুষ্কতা, পানির উপরিতলের ক্ষেত্রফল ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। একই পরিমাণ পানি গ্লাসে ও বালতিতে রাখলে বালতির পানির উপরিতলের ক্ষেত্রফল বেশি হয় বলে বালতির পানির বাষ্পায়ন দ্রুত হবে।
পানির আপেক্ষিক তাপ 4200 Jkg-3 K-1 যা অন্যান্য পদার্থের তুলনায় অনেক বেশি। গাড়ির ইঞ্জিন যখন গরম হয়ে যায় তখন গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের তাপ পানির তাপমাত্রা বাড়াতে ব্যয় হয়। পানির তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে 4200 J তাপের প্রয়োজন হয়। ফলে পানির তাপমাত্রা অল্প বাড়াতেই প্রচুর তাপ ব্যয় হয়ে যায়। আর তাপ হারানোর কারণে গাড়ির ইঞ্জিন ঠান্ডা হয়ে যায়। অর্থাৎ পানির উচ্চ আপেক্ষিক তাঁপের কারণেই গাড়ির ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখার জন্য পানি ব্যবহার করা হয়।
জ্বর গায়ে জলপট্টি দিলে তাপমাত্রা হ্রাস পায় কারণ- জ্বর-এ শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় অপরপক্ষে জলপট্টির তাপমাত্রা কম থাকে ফলে জলপট্টি দিলে শরীর তাপ হারায় এবং জলপট্টি তাপ গ্রহণ করে। শরীর তাপ হারায় বলে তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
ভিন্ন তাপমাত্রার দুটি বস্তুকে তাপীয় সংস্পর্শে আনা হলে তাদের মধ্যে তাপের আদান-প্রদান হয়। যে বস্তুর তাপমাত্রা বেশি সে তাপ বর্জন করবে আর যে বস্তুর তাপমাত্রা কম সে তাপ গ্রহণ করবে। অর্থাৎ যদি গ্রহণ ও বর্জনের সময় তাপের কোনো অংশ পরিবহন, পরিচলন বা বিকিরণ প্রক্রিয়ায় পরিবেশে চলে না যায় তবে বেশি তাপমাত্রার বস্তু যে পরিমাণ তাপ বর্জন করবে কম তাপমাত্রার বস্তু সেই পরিমাণ তাপ গ্রহণ করবে। অর্থাৎ, মোট বর্জিত তাপ = মোট গৃহিত তাপ
এটাই তাপ পরিমাপের মূলনীতি।
যেসব কঠিন পদার্থ তরলে রূপান্তরের সময় আয়তনে হ্রাস পায়, চাপ বৃদ্ধিতে তাদের গলনাঙ্ক কমে যায়। কারণ বর্ধিত চাপ আয়তন সঙ্কোচনে সুবিধা করে দেয়। বরফ গলে পানিতে পরিণত হলে এর আয়তন হ্রাস পায়। তাই চাপ বাড়ালে বরফের গলনাঙ্ক কমে যায়। অপরদিকে গ্যাসকে চাপ দিলে গ্যাস অণুসমূহে আন্তঃআনবিক দূরত্ব হ্রাস পায় এবং তরলে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে তাপমাত্রার তেমন পরিবর্তন হয় না। তাই ধর্মের কারণে গ্যাসকে খুব বেশি শীতল না করে চাপ দিয়ে গ্যাসকে তরল করা হয়।
আমরা জানি, চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়। চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়। প্রেসার কুকার আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র। তাই প্রেসার কুকারে রান্না করার সময় বাষ্প আবদ্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধির কারণে খাদ্য সামগ্রী বেশি তাপমাত্রায় ফুটে। এজন্যই প্রেসার কুকারে রান্না করলে সময় কম লাগে।
স্ফুটন ও বাষ্পায়নের একটি ব্যাখ্যামূলক পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
১. তাপ প্রয়োগে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তরলের সকল স্থান থেকে দ্রুত বাষ্পে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে স্ফুটন বলে। আবার, যেকোনো তাপমাত্রায় তরলের শুধুমাত্র উপরিতল থেকে ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পায়ন বলে।
২. স্ফুটনের জন্য চাপ অত্যাবশ্যক হলেও বাষ্পায়নে বাষ্পকে শীতল করে তরলে পরিণত করা হয়।
৩. স্ফুটনের ক্ষেত্রে অণুসমূহ পৃষ্ঠতল ত্যাগ করে না কিন্তু বাষ্পায়নের ক্ষেত্রে অণুসমূহ পৃষ্ঠতল ত্যাগ করে।
আমরা জানি, চাপ কমলে-বাম্পায়ন দ্রুত হয়। তাই চাপ কমালে তরলের স্ফুটনাঙ্কও হ্রাস পায়। অর্থাৎ পদার্থ কম তাপমাত্রায় ফুটতে আরম্ভ করে। পানি সাধারণ চাপে 373 K তাপমাত্রায় ফুটে বাষ্পে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে চাপ বৃদ্ধি করলে স্ফুটনাঙ্ক হ্রাস পাবে।
ফলে তা 371 K তাপমাত্রায়ও ফুটানো সম্ভব হবে।
তাপ হচ্ছে এক ধরনের শক্তি। শান্তির ধারণা থেকে আমাদের মনে হতে পারে বেশি তাপশক্তি থেকে বুঝি সব সময়েই তাপ কম তাপশক্তির দিকে যায়, কিন্তু সেটি সত্যি নয়। তাপশক্তি কোন দিকে যাবে সেটি নির্ভর করে তাপমাত্রার উপর। এই অধ্যায়ে আমরা তাপ কিংবা তাপমাত্রা কীভাবে পরিমাণ করতে পারি এবং দুইয়ের মাঝে কী সম্পর্ক সেটি দেখব।
তাপশক্তিটুকু আসলে বস্তুর অণু-পরমাণুর গতি বা কম্পন থেকে এসেছে। তাপ দিয়ে কোনো কঠিন বস্তুর অণুগুলোর কম্পন যদি অনেক বাড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে একটি অণু অন্য অণু থেকে সরে যেতে পারে, অর্থাৎ অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। এই অধ্যায়ে আমরা কঠিন, তরল এবং গ্যাসের উপর তাপের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব।
Related Question
View Allউষ্ণতার পার্থক্যের যে শক্তি এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে প্রবাহিত হয় তাকে তাপ বলে
কোনো পদার্থের মোট তাপের পরিমাণ এর মধ্যস্থিত অণুগুলো মোট গতি শক্তির সাথে সমানুপাতিক
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!