পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন যখন জীবের জন্য ক্ষতিকর হয়, তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে। বিভিন্ন ক্ষতিকর ও বিষাক্ত পদার্থ পরিবেশে মিশলে পরিবেশ দূষিত হয়। যেমন- শিল্প কারখানা সচল রাখতে বিভিন্ন ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন-তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে পরিবেশ দূষিত হয়।
পরিবেশ দূষণের তিনটি কারণ হলো-
১. শিল্পায়ন, ২. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও ৩. জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
পরিবেশ দূষণের তিনটি প্রভাব হলো-
১. মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।
২. জীবজন্তুর আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খল ধ্বংস হয়।
৩. অনেক জীব পরিবেশ থেকে বিলুপ্ত হয়।
পরিবেশ থেকে জীব বিলুপ্ত হওয়ার তিনটি কারণ হলো-
১. জীবের আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া,
২. খাদ্যশৃঙ্খল ধ্বংস হওয়া ও
৩. বনজঙ্গল কেটে ফেলার ফলে খাদ্যের অভাব।
বায়ু দূষণ হলো বায়ুতে বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস, ধূলিকণা, ধোঁয়া অথবা দুর্গন্ধ মিশ্রিত হওয়া। যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া বায়ু দূষণের প্রধান কারণ। বায়ু উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে
বায়ু দূষণের তিনটি কারণ হলো-
১. যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া।
২. গাছপালা ও ময়লা আবর্জনা পোড়ানো।
৩. যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা ও মলমূত্র ত্যাগ করা।
বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস ছড়ায়। এই সকল গ্যাস বায়ুতে বেড়ে যাওয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মেরু অঞ্চলের হিমবাহ গলে যাচ্ছে। এ হিমবাহ গলনের কারণেই সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বায়ু দূষণের তিনটি ক্ষতিকর দিক হলো-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়,
২. এসিড বৃষ্টি হয় ও
৩. মানুষ ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়।
পানিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ মিশ্রিত হয়ে পানির গুণগত মানের পরিবর্তন হওয়াই হলো পানি দূষণ। পয়ঃনিষ্কাশন, গৃহস্থালি ও হাসপাতালের বর্জ্য বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য পানিতে মিশে পানি দূষিত করে। পানি দূষণের ফলে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু ঘটে
পানি দূষণের তিনটি কারণ হলো-
১. পয়ঃনিষ্কাশন, গৃহস্থালি ও হাসপাতালের বর্জ্য পানিতে ফেলা।
২. কৃষি জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা।
৩. কল-কারখানার ক্ষতিকর বর্জ্য পানিতে ফেলা।
পানি দূষণের ফলে সৃষ্ট তিনটি রোগের নাম হলো-১. কলেরা, ২. আমাশয় ও ৩. চর্মরোগ।
পানি দূষণের তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব হলো-
১. জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী মারা যায়।
২. জলজ খাদ্য শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটে।
৩. মানুষ কলেরা বা ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়।
পানি দূষণ প্রতিরোধে তিনটি পদক্ষেপ হলো-
১. কলকারখানার বর্জ্য, রাসায়নিক পদার্থ, তেল পানিতে ফেলার পূর্বে পরিশোধন করা।
২. পুকুর বা নদীতে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকা।
৩. কৃষিকাজে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো।
বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর বস্তু মাটিতে মেশার ফলে যে দূষণ ঘটে তাই মাটি দূষণ। কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার, কীটনাশক, রাসায়নিক পদার্থ, বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ইত্যাদি মাটিতে মিশে মাটি দূষিত করে। মাটি দূষণের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়।
মাটি দূষণের তিনটি কারণ হলো-
১. কৃষিকাজে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার।
২. গৃহস্থালি ও হাসপাতালের বর্জ্যকে মাটিতে ফেলা।
৩. কলকারখানার বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও তেল মাটিতে ফেলা।
মাটি ও পানি উভয়কে দূষিত করে এমন তিনটি জিনিসের নাম হলো-
১. পয়ঃনিষ্কাশন বর্জ্য,
২. গৃহস্থালির বর্জ্য ও
৩. বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ।
মাটি দূষণের তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব হলো-
১. জমির উর্বরতা নষ্ট হয়,
২. গাছপালা ও পশুপাখি মারা যায় এবং
৩. মানুষের স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অধিক ব্যবহারে তিনটি ক্ষতিকর দিক হলো-
১. মাটি দূষিত হয়, ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়।
২. গাছপালা ও পশুপাখি মারা যায় ও তাদের বাসস্থান ধ্বংস হয়।
৩. দূষিত মাটিতে উৎপন্ন ফসল খাদ্য হিসেবে গ্রহণের ফলে মানুষ
শব্দ দূষণের তিনটি কারণ হলো-
১. বিনা প্রয়োজনে হর্ন বাজানো,
২. উচ্চস্বরে গান বাজানো ও
৩. কলকারখানায় বড় বড় যন্ত্রপাতির ব্যবহার।
শব্দ দূষণের তিনটি উৎস হলো-
১. বিনা প্রয়োজনে হর্ন বাজানো,
২. উচ্চস্বরে গান বাজানো ও
৩. মাইক বাজানো।
উচ্চস্বরে গান বাজানোর ফলে সৃষ্ট তিনটি সমস্যা হলো-
১. শ্রবণশক্তি হ্রাস,
২. ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি ও
৩. কর্মক্ষমতা হ্রাস।
বিয়ের অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোর ফলে শব্দ দূষণ হচ্ছে। এর তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব হলো-
১. শ্রবণশক্তি হ্রাস,
২. ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি ও
৩. কর্মক্ষমতা হ্রাস।
আমি যেভাবে শব্দ দূষণ রোধে ভূমিকা রাখতে পারি তার তিনটি উপায় হলো-
১. যখন তখন গাড়ির হর্ন না বাজানো।
২. উচ্চ শব্দ সৃষ্টি না করা।
৩. টেলিভিশন, রেডিও ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র উচ্চশব্দে না বাজানো।
প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং যথাযথ ব্যবহারই হচ্ছে পরিবেশ সংরক্ষণ। পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশে 1 ক্ষতিকর ও প্রখার পদার্থের মিশ্রণ রোধ করা যায়। পরিবেশ সংরক্ষণের অন্যতম উপায় হচ্ছে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
পরিবেশ সংরক্ষণে আমার তিনটি করণীয় হলো-
১. বিদ্যুৎ বা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো।
২. মাটি, পুকুর বা নদীতে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকা।
৩. বৃক্ষ রোপণ করা।
কলকারখানা এবং যানবাহন থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস দ্বারা বায়ু দূষণের ফলে নিম্নরূপ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে-
১. মানুষ ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসজনিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
২. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩. এসিড বৃষ্টি হচ্ছে।
Related Question
View Allপরিবেশ দূষণের প্রধান উৎস জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার।
। হিমবাহ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে
দূষণের ফলে জীবজন্তুর খাদ্য শৃঙ্খল ধ্বংস হচ্ছে।
চর্মরোগে আক্রান্ত হয় পানি দূষণের ফলে।
পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শিল্পায়ন ।
পরিবেশের বেশির ভাগ দূষণ মানুষের কর্মকান্ডের ফলেই হয়ে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!