আমিষ জাতীয় খাদ্য আমাদের শরীরের গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয় পূরণে সাহায্য করে। ক্ষতিগ্রস্ত কোষ এর মেরামত করতে সাহায্য করে। শরীরকে শক্তি দেয় এবং কাজ করার ক্ষমতা বাড়ায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, এতে শরীর সুস্থ থাকে। এসব কারণে আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা অতি প্রয়োজন।
সুষম খাদ্য গ্রহণের উপকারিতা হলো-
১. দেহের সঠিক বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও সুরক্ষা প্রদান করা।
২. তাপ উৎপাদন ও কাজ করার শক্তি প্রদান করা।
৩. শারীরবৃত্তীয় কর্মশক্তি প্রদান করা।
৪. দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা।
৫. দেহে পুষ্টির ভারসাম্যতা বজায় রাখা।
উপরোক্ত কাজগুলো ছাড়াও সুষম খাদ্য আমাদের শরীরের আরো বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকে।
আমাদের সুস্থ ও সবল থাকার জন্য সুষম খাদ্যের সকল পুষ্টি উপাদান যেমন- শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ প্রয়োজন। এসব পুষ্টি উপাদানের কোনো একটির অভাবে আরেকটি উপাদান শোষিত হয় না অথবা যথাযথভাবে কাজ করে না। এর ফলে পুষ্টিকর খাবার খেলেও পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে। আমিষ ও তেল সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে শরীরে আমিষ ও তেলের পুষ্টি উপাদান পূরণ হয়। কিন্তু অন্য সব উপাদান যেমন-শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ লবণের চাহিদা পূরণ হয় না। এতে করে শরীর পুষ্টিহীনতায় ভুগে।
যেসব খাবারে পরিমিত পরিমাণে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ ও পানি উপস্থিত থাকে তাই সুষম খাদ্য। দেহকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য।
সুষম খাদ্যের তিনটি কাজ হলো-
১. দেহের বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও সুরক্ষা প্রদান করে।
২. তাপ উৎপাদন করে কাজ করার শক্তি প্রদান করে।
৩. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।
যে সকল খাদ্যে পরিমিত পরিমাণে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ এবং পানি এই ছয়টি উপাদান বিদ্যমান তাই সুষম খাদ্য। দুধ একটি সুষম খাদ্য কারণ দুধের মধ্যে আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ও পানি থাকে। অর্থাৎ সুষম খাদ্যের সকল গুণাগুণ বা বৈশিষ্ট্য দুধের মধ্যে বিদ্যমান থাকায় দুধ একটি সুষম খাদ্য।
তিনটি শর্করা জাতীয় খাদ্য হলো- ১. আলু, ২. রুটি ও ৩. ভাত।
তিনটি আমিষ জাতীয় খাদ্য হলো- ১. মাছ, ২. মাংস ও ৩. ডিম।
সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণের তিনটি উপকারিতা হলো-
১. শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকে।
২.. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৩. শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে হয়।
অনিয়মিত খাবার খাওয়ার তিনটি কুফল হলো-
১. বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
২. পাকস্থলীতে আলসার সৃষ্টি হয়।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
গর্ভবতী মায়ের শরীরে আরেকটি শিশুর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হয়। এ কারণে শরীর গঠনকারী, শক্তি প্রদানকারী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন সুষম খাদ্য প্রয়োজন। বাড়তি পুষ্টির অভাবে মায়ের গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরিক গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাবে। এতে করে মা এবং শিশু উভয়ের সমস্যা হতে পারে। এ কারণেই গর্ভবতী মায়েদের বাড়তি পুষ্টি প্রয়োজন।
শিশুদের খাদ্য সুষম না হলে যে সকল সমস্যা হতে পারে-
১. স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
২. সঠিক মানসিক বিকাশ হয় না।
৩. শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
৫. শরীরের গঠন অস্বাভাবিক হয়।
আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের সকল উপাদান যেমন- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ও পানির প্রয়োজন। ভাত শর্করা জাতীয় খাদ্য। মাছ-মাংস আমিষ জাতীয় খাদ্য। শুধু ভাত, মাছ, মাংস খেলে আমাদের শরীরে শর্করা এবং আমিষের চাহিদা পূরণ হয়। কিন্তু স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ইত্যাদি চাহিদা পূরণ হয় না। এতে করে আমাদের শরীর পুষ্টিহীনতায় ভোগে এবং আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হই।
জীবাণুর সংক্রমণ এবং পচন রোধ করে খাদ্যের স্বাদ ও গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখার প্রক্রিয়াই হলো খাদ্য সংরক্ষণ। সারাবছর পর্যাপ্ত ও নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার জন্য খাদ্য সংরক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্য সংরক্ষণের তিনটি উপকারিতা হলো-
১. দ্রুত পচনশীল খাদ্যকে পচন থেকে রক্ষা করা যায়।
২. খাদ্যকে সারা বছরব্যাপী পাওয়া যায়।
৩. প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা সময়মতো পূরণ করা যায়।
খাদ্য সংরক্ষণ না করার তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব হলো-
১. খাদ্য জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে।
২. খাদ্যের সতেজতা ও গুণগতমান অক্ষুণ্ণ থাকবে না।
৩. আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।
রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায় এমন তিনটি খাদ্য হলো- ১. ধান, ২. ডাল ও ৩. বরই।
কোনো খাদ্যকে খাবার লবণ বা এর দ্রবণ দ্বারা সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়াকে কিউরিং বলে। এই পদ্ধতিতে মাংস, বিভিন্ন ফলমূল ও সবজি সংরক্ষণ করা যায়।
যখন কোনো খাদ্যকে (ফল ও সবজি) সাধারণত লবণ বা চিনি, সরিষার তেল, ভিনেগার এবং মসলা ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা হয় তখন প্রস্তুতকৃত খাদ্যকে আচার বলে। যেমন- আম, জলপাই, আমড়া, রসুন, তেঁতুল ইত্যাদির আচার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
হিমাগারে বছরব্যাপী সংরক্ষণ করা যায় এমন তিনটি খাদ্যের নাম হলো- ১. আলু, ২. গাজর ও ৩. মটরশুঁটি।
খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয় এমন তিনটি উপাদান হলো-১. খাবার লবণ, ২. ভিনেগার ও ৪. সরিষার তেল।
ফ্রিজে খাদ্য সংরক্ষণের তিনটি সুবিধা হলো-
১. খাদ্যকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করা যায়।
২. খাদ্যের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
৩. দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
বাড়িতে সাধারণত ৪° সে. থেকে- সে. তাপমাত্রায় রেফ্রিজারেটরে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। এই তাপমাত্রায় খাদ্য পচনকারী অণুজীবগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে। ফলে খাদ্য দ্রব্য সহজে পচে না এবং কয়েক মাস সংরক্ষণ করা যায়।
আচার তৈরি করা যায় এমন পাঁচটি ফলের নাম- আম, তেঁতুল, বরই, জলপাই, রসুন।
কিউরিং পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায় এমন তিনটি খাদ্যের নাম হলো- ১. আমের আচার, ২. মাংস ও ৩. শাকসবজি।
খাদ্যের ছয়টি উপাদানের নাম হলো- শর্করা, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ও পানি।
ভিটামিন ও খনিজ লবণসমৃদ্ধ দুটি খাদ্যের নাম হলো-১. কলা ও ২. পুঁইশাক।.
পাকস্থলীর দুটি রোগের নাম হলো-.১. আলসার বা ক্ষত ও ২. বদ হজম।
নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে খাদ্য গ্রহণের দুটি উপকারিতা হলো-১. হজম ভালো হয় ও ২. পরিপাকতন্ত্র সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকে।
আচার তৈরি করা যায় এমন দুটি ফলের নাম হলো-১. আম ও ২. জলপাই।
বিভিন্ন ফল বা ফলের রস চিনির সাথে মিশিয়ে যে খাদ্য তৈরি করা হয় তাই জ্যাম-জেলি।
খাদ্য অণুজীব দ্বারা আক্রান্ত হলে নষ্ট বা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়।
Related Question
View Allখাদ্য আমাদের দেহে শক্তি উৎপাদন করে।
শরীরে খাদ্য পরিপাকের জন্য নানা ধরনের উপাদান কাজ করে।
সুষম খাদ্যে খাদ্যের ছয়টি উপাদান থাকে।
সুস্থ্যতার জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ জরুরি।
বয়সভেদে খাদ্য তালিকা ভিন্ন হয়।
আমাদের সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!