হিন্দুধর্মীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতির প্রতিটি চৈতন্যময় সত্তাকে দেবতাজ্ঞানে পূজা করা হয়। পূজার উপচারেও প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের সাথে নিবিড় সংযোগ রয়েছে। ধর্মীয় এই বিশেষ দর্শনের কারণেই হিন্দুরা প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে অধিক যত্নশীল হয়ে থাকেন।
ভক্ত ও সংবেদনশীল মানুষেরা সকল সৃষ্টির মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে পারেন। যারা ভক্তিযুক্ত মনে স্রষ্টার সৃষ্টির দিকে দৃষ্টিপাত করেন, তারাই ঈশ্বরের স্বরূপ দর্শন করেন। ফলে তাদের হৃদয়ে প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টির জন্য আনন্দ ও ভালোবাসা জাগ্রত হয়।
ঈশ্বর তাঁর প্রতিটি সৃষ্টির সাথে মিশে আছেন এবং প্রতিটি জীবে তিনি আত্মারূপে বিরাজমান। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে দেবত্ব অনুভব করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে এবং তাঁর প্রতি ভক্তি প্রকাশ করতেই আমরা তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসব।
মানুষ প্রকৃতির কোলেই জন্ম নেয়, বেড়ে ওঠে ও জীবনধারণ করে। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান সবই প্রকৃতি থেকে আসে। প্রকৃতি ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না। তাই মানুষকে প্রকৃতির সন্তান বলা হয়।
মানুষ তার জীবন ধারণের মৌলিক চাহিদার জন্য প্রকৃতির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। প্রকৃতিই মানুষকে অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের সংস্থান করে দেয়। এছাড়া প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ওপরই মানুষের অস্তিত্ব টিকে থাকে।
ঈশ্বর তাঁর প্রতিটি সৃষ্টির সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে আছেন এবং প্রতিটি জীবের মধ্যে তিনি 'আত্মারূপে' অবস্থান করেন। যদিও আমরা ঈশ্বরকে সরাসরি দেখতে পাই না, তবে তাঁর সৃষ্টিকে ভক্তিযুক্ত মনে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁকে উপলব্ধি করা যায়।
হিন্দুধর্মীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতির প্রতিটি চৈতন্যময় সত্তাকে দেবতাজ্ঞানে পূজা করা হয়। পূজার বিভিন্ন উপচারেও প্রকৃতির নানা উপাদানের নিবিড় সংযোগ থাকায় পরোক্ষভাবে প্রকৃতি সংরক্ষণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।
বৃক্ষটি শুকিয়ে যাওয়ায় শুকপাখিটি মারাত্মক খাদ্যাভাবে পড়ে ১- এবং দিন দিন মরণাপন্ন হতে থাকে। তা সত্ত্বেও শুকপাখিটি তার দীর্ঘদিনের আশ্রয়স্থল সেই বৃক্ষটিকে ত্যাগ করার কথা চিন্তা করেনি।
ইন্দ্র যখন শুককে মৃত গাছটি ত্যাগের পরামর্শ দেন, তখন শুক উত্তরে বলে যে, সে আজীবন এই বৃক্ষের আশ্রয়ে সুখে জীবন কাটিয়েছে। তাই আজ এর বিপদের দিনে তাকে ছেড়ে চলে যাওয়া তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
শুকপাখির এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও বৃক্ষপ্রেম দেখে দেবরাজ ইন্দ্র অত্যন্ত মুগ্ধ ও সন্তুষ্ট হন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর দৈববল বা ঐশ্বরিক শক্তির মাধ্যমে মৃতপ্রায় বৃক্ষটিকে পুনরায় সজীর ও প্রাণবন্ত করে তোলেন।
একজন সংবেদনশীল মানুষ সৃষ্টির প্রতিটি উপাদানের মধ্যে ঈশ্বরের স্বরূপ বা রূপ দর্শন করতে পারেন। যখন তিনি প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি ভক্তি ও' মমতা অনুভব করেন, তখন তাঁর হৃদয়ে এক অপার্থিব আনন্দ লাভ হয়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View All১।প্রকৃতির কোলেই মানুষ বাঁচে-বাড়ে।
২। মানুষ জীবন ধারণের জন্য প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল।
৩।হিন্দুদের ভাবনায় প্রকৃতি ও মানুষ একীভূত হয়ে গেছে।
৪।হিন্দুর দেবতা অনেক উপরে আসীন দণ্ডধারী কেউ নয়।
১. মানুষ প্রকৃতির সন্তান।
২. কাশিরাজ্যে ছিল বিশাল অরণ্য।
৩. হিন্দুর দেবতা আছে চাঁদের স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নায়
৪. ঈশ্বর, প্রকৃতি ও মানুষসহ সবকিছুর স্রষ্টা।
৫. প্রতিটি জীবে ঈশ্বর আত্মারূপে বিরাজমান।
১. প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যেই ঈশ্বর প্রকাশিত।
২. প্রকৃতির প্রতিটি চৈতন্যময় সত্তায় আছে দেবতা।
৩. হিন্দুর দেবতা আছে সূর্যের আলোয় আলোয়।
৪. ঈশ্বরকে দেখা যায় না কিন্তু উপলব্ধি করা যায়।
৫. ভক্তিভাবে সৃষ্টির দিকে তাকালে ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনুভব করা যায়।
হিন্দুধর্মীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতির প্রতিটি চৈতন্যময় সত্তাকে দেবতাজ্ঞানে পূজা করা হয়। পূজার উপচারেও প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের সাথে নিবিড় সংযোগ রয়েছে। ধর্মীয় এই বিশেষ দর্শনের কারণেই হিন্দুরা প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে অধিক যত্নশীল হয়ে থাকেন।
ভক্ত ও সংবেদনশীল মানুষেরা সকল সৃষ্টির মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে পারেন। যারা ভক্তিযুক্ত মনে স্রষ্টার সৃষ্টির দিকে দৃষ্টিপাত করেন, তারাই ঈশ্বরের স্বরূপ দর্শন করেন। ফলে তাদের হৃদয়ে প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টির জন্য আনন্দ ও ভালোবাসা জাগ্রত হয়।
ঈশ্বর তাঁর প্রতিটি সৃষ্টির সাথে মিশে আছেন এবং প্রতিটি জীবে তিনি আত্মারূপে বিরাজমান। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে দেবত্ব অনুভব করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে এবং তাঁর প্রতি ভক্তি প্রকাশ করতেই আমরা তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!