আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক সংখ্যা ১৫ জন।
ভেটো (Veto) একটি ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ আমি মানি না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী রাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের Veto ক্ষমতা রয়েছে। Veto ক্ষমতা হচ্ছে এমন একটি শক্তি প্রয়োগ যেখানে এই ৫টি রাষ্ট্রের যেকোনো একটি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত কোনো প্রস্তাবে অনাস্থা ভোট দিয়ে প্রস্তাব বাতিল করে দিতে পারে। এই শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতাকেই Veto বলে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে Veto দিয়ে তা বাতিল করে দিয়েছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের জাতিসংঘের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বে ত্রাস সৃষ্টি হয়। তাই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্ব নেতৃবর্গ একটি সংগঠন গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। এ লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডিলানো রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে প্রিন্স অব ওয়েলস রণতরীতে মিলিত হন। সেখানে তারা 'আটলান্টিক সনদ' ঘোষণা দেন যার মধ্যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত রয়েছে। এরপর ১৯৪২ সালে ওয়াশিংটন সম্মেলন, ১৯৪৩ সালে মস্কো সম্মেলন, ১৯৪১ সালে ইয়াল্টা সম্মেলন এবং ১৯৪৫ সালে সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সকল সম্মেলনে পর্যায়ক্রমে জাতিসংঘ গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সংঘর্ষে লিপ্ত দুটি রাষ্ট্র আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে থাকলে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিকারের জন্য প্রচেষ্টা চালায়। অবশেষে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্থতায় এই সংঘর্ষের পরিসমাপ্তি ঘটে। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এই সংস্থার উদ্দেশ্য প্রশংসনীয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির সাথে উপরে আলোচিত জাতিসংঘের মিল আছে।
উক্ত সংগঠনের সাফল্য তথা জাতিসংঘের সাফল্য প্রশংসনীয়।
যেসব মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং আদর্শ নিয়ে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার সব বাস্তবায়িত না হলেও সামগ্রিকভাবে জাতিসংঘ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশ্বশান্তি নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের অবদান প্রশংসনীয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে তোলা এ সংগঠনটি দীর্ঘ সাত দশক ধরে নানা ঘাত প্রতিঘাত ও প্রতিকুলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকভাবে টিকে আছে তা এর সাফল্যের পরিচয় বহন করে। এই সাত দশক ধরে বিশ্ববাসী বহু বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সমস্যার মুখোমুখি হলেও জাতিসংঘ স্বার্থকভাবে হস্তক্ষেপের ফলে বিশ্ব এখনও জাতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্মুখীন হয়নি। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো মূলত জাতিসংঘের দিকেই তাকিয়ে থাকে। এগুলো এ সংস্থার বড় সাফল্য।
ইন্দোনেশিয়া, লিবিয়া, নামিবিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্র জাতিসংঘের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার ফলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করছে। ১৯৪৮ সালে আরব ইসরাইল বিরোধী মোকাবিলা, ১৯৫০ সালে কোরীয় সংকট দূরীকরণ, ১৯৬৭ সালের আরব ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি, আফ্রিকার দেশে দেশে সংঘাতের অবসান; ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান ১৮৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের অবসানে জাতিসংঘের অন্যতম সফল প্রয়াস। এছাড়াও গণতন্ত্রের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন, মানবাধিকার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ, বর্ণ বৈষম্যের অবসান প্রভৃতি ক্ষেত্রে জাতিসংঘের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে।
Related Question
View All১৯৪৭ সালের ৫ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ সি. মার্শাল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন সম্পর্কে মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা করেন। মার্শালের এ নীতি ক্ষুধা, দারিদ্রদ্র্য, হতাশা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কোনো দেশ বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, ইউরোপকে অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। মার্শালের এ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা বিশ্ব ইতিহাসে 'মার্শাল পরিকল্পনা' নামে অভিহিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো জাতিসংঘ।
বিশ্ব ইতিহাসে এক দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার আশার আলো প্রজ্বলিত করে জাতিসংঘ জন্মলাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য ১৯১৯ সালে লীগ অব নেশনস গঠিত হয়। কিন্তু ১৯৩৮ সালের মধ্যেই লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এক প্রকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। একদিকে জাপান, ইতালি ও জার্মানির আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ এবং অপরদিকে যৌথ নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা পালনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ব্যর্থতা, যুক্তরাষ্ট্রর বিচ্ছিন্ন থাকার নীতি এবং সোভিয়েত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে বাইরে থাকার নীতি প্রভৃতি কারণে লীগের সমাধি হয়। ১৯৩৯ সালের মধ্যে বৃহৎ শক্তিবর্গ বিভিন্ন জোট গঠন করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। স্বাভাবিকভাবেই এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অধিকতর ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করে মানুষ আরও বেশি শঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে। ফলে বিশ্ববাসী একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই মিত্রশক্তির নেতারা একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ভাবতে থাকেন। তারা ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াল্টায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও তার ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে এক বিশ্ব সম্মেলনে জাতিসংঘের সনদ উত্থাপিত হয়। পরিশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫১টি দেশ জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষর করে এবং এ চার্টার স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথে জাতিসংঘ কার্যকরী রূপ লাভ করে। উদ্দীপকে এমন ঘটনারই ইঙ্গিত রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠনটির অর্থাৎ জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল নীরব বা নেতিবাচক।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্য মুজিবনগর সরকার তার ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তৎপর হয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের এই স্বীকৃতির দাবি অযৌক্তিক ছিল না। কেননা, একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, তার সবই বাংলাদেশ পূরণ করেছিল। তবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি। বাংলাদেশের জনগণকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমেই তার স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হয়েছিল। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সামনে যে সমস্যাটি ছিল তা - হলো এর সনদের ২/৭ ধারা। এই ধারায় কোনো রাষ্ট্রের জনগণের মানবাধিকার বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার নীতির মধ্যে সীমারেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম দেশগুলোর পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বীকৃতির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, পোল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র পাকিস্তানি বর্বরতা ও গণহত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু জাতিসংঘ রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার যুক্তির প্রশ্নে বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদসা হিসেবে যোগদান করে।
১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালে যখন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার আক্রমণ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধ জাহাজে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। উভয় নেতা একটি সনদে স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে আর্টলান্টিক সনদ বা আটলান্টিক চার্টার নামে পরিচিত। যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হলেও যুদ্ধ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পায়, যা পরবর্তী পর্যায়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!