Family শব্দের অর্থ পরিবার।
সামাজিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সংহতি ও ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ধর্মের গুরুত্বপর্ণ অবদান রয়েছে।
ধর্ম বলতে অতিপ্রাকৃত মহাশক্তিতে বিশ্বাসকে বোঝায়। এ বিশ্বাস সমাজ ও মানুষের জীবনধারাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ধর্ম মানুষের মাঝে ন্যায়-অন্যায়বোধ জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে ন্যায়নিষ্ঠ করে তোলে। ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। তাই সমাজে মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন-যাপন, নৈতিকতা ও ন্যায়বোধের চর্চাকে চলমান রাখার জন্য ধর্মের প্রয়োজনীয়তা আছে।
উদ্দীপকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ সংস্থার সদস্যরা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োগের জন্য নিবেদিত প্রাণ।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলতে ঐসব সংস্থাকে বোঝায়, যারা দেশে বিদ্যমান আইনসমূহ নাগরিকদের কল্যাণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে। এর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী, পুলিশের বিভিন্ন বাহিনী ও র্যাব। বৃহৎ অর্থে বিচার বিভাগের কাজও এর আওতাভুক্ত বলে বিবেচিত হয়। তবে সাধারণত পুলিশ বিভাগই আইন প্রয়োগের মূল সংস্থার দাবিদার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জনগণের বন্ধু বা জনগণের সেবকও বলা হয়। জনগণ যাতে আইনের সুফল পায় এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে সে লক্ষ্যে এ সংস্থাগুলো ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের সখীপুর গ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পুলিশ ও আনসার বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্প স্থাপন করে। একইভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা প্রদান করে। এছাড়া নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমের তদন্তের মাধ্যমে সন্দেহভাজন অপরাধী খুঁজে বের করা, অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধ, অপরাধীর বিচার কাজ সম্পন্ন ও শাস্তি প্রদানসহ নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। উদ্দীপকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশ ও আনসার বাহিনী সখীপুরের জনগণের নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে। যেকোনো দেশের সমস্যা সমাধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রধান ভূমিকা পালন করে।
সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপরই নির্ভর করে বিভিন্ন সমস্যার সঠিক সমাধান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কারণেই নানারকম সামাজিক সমস্যা কমে যায়। যেমন- এসিড নিক্ষেপকারীকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হলে সাধারণ মানুষ এ ধরনের অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। ফলে সমাজ থেকে এসিড নামক সন্ত্রাস ধীরে ধীরে কমে আসবে। আবার পুলিশ যদি বাল্যবিবাহের সাথে যুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে যথাযথ শাস্তি দেয়; তাহলে সমাজের অন্যান্যরাও বাল্যবিবাহ দিতে বা করতে সাহস পাবে না। এর ফলে বাল্যবিবাহ হ্রাস পাবে। এছাড়া দুর্নীতি সমাজের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করে তাহলে সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে।
এছাড়া হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অপহরণ, চোরাচালান, নানারকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, হ্রাস এবং শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা যায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করলেই সমাজ থেকে বিভিন্ন সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।
Related Question
View Allরাজনৈতিক অস্থিরতা বেকারত্ব সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ।
রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হলে মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলে মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি প্রভৃতি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব হয় না। এর ফলে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে পুষ্টিহীনতা সমস্যার চিত্র পাওয়া যায়।
মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা থেকেই সৃষ্টি হয় পুষ্টিহীনতা। খাদ্য তালিকায় ছয়টি পুষ্টি উপাদানের যেকোনো একটি পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে স্বাভাবিক পুষ্টি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে অপুষ্টি দেখা দেয়। বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতার চিত্র উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' ইউনিয়নের অনুরূপ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ১১.৫ ভাগ শিশু স্বাভাবিক এবং ৮৮.৫ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৩৬ ভাগ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং ৯০ ভাগ শিশু রক্তশূন্যতার শিকার হয়। অপুষ্টির প্রভাবে শিশু মৃত্যু হার বৃদ্ধি, অন্ধত্ব, রাতকানা, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ইউনিয়নের শিশুদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো পাওয়া যায় তা পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যার লক্ষণ।
আমি মনে করি, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের উদ্যোগ পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশের একটি মৌলিক চাহিদার অপূরণজনিত সমস্যা। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলে। খাদ্যের আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন এর অভাব হলে অপুষ্টি জনিত সমস্যা শুরু হয়। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে শিশুর কম ওজন, অন্ধত্ব, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অপুষ্টি সমস্যা সমাধানে বাবা-মায়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে অভিভাবকদের সচেতনতা অপুষ্টি সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বাবা-মা শিশুর জন্য পুষ্টিকর বা সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করলে তারা কম ওজন, অন্ধত্ব প্রভৃতি সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে। গর্ভাবস্থায় মাকে পুষ্টিকর খাদ্য তথা আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। অপুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানে কমিউনিটি পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ও সন্তানের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে সচেতন হবে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাবা মার সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিহীনতা হ্রাসে চেয়ারম্যানের উদ্যোগ কার্যকর
হবে।
বিবাহের প্রধান ভূমিকা পরিবার গঠন।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।
সাম্প্রদায়িকতা, উগ্র ধর্মান্ধতা, মুক্ত চিন্তা-চেতনা ও সুষ্ঠু
সামাজিকীকরণের অভাব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্যতম কারণ। পরিবার মানুষকে সুষ্ঠু বিকাশ, ব্যক্তিত্ব গঠন, উদার আদর্শ, রীতি-নীতি, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণা প্রদান করে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে যা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রাখে। পরিবার দায়িত্ব-কর্তব্য, শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম, আইনের প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি গুণ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে। আবার সামাজিক নিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!