একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতিবছর উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলে।
শ্রমশক্তি সম্পন্ন মানুষই দেশের মানব সম্পদ। প্রতিটি অদক্ষ মানুষকে শ্রমশক্তি সম্পন্ন মানুষে পরিণত করাই মানব সম্পদ উন্নয়ন। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য মানব সম্পদের উন্নয়ন প্রয়োজন। কেননা কোনো অদক্ষ মানুষ নয়, কেবলমাত্র দক্ষ মানুষই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্দীপকে সজল সাহেবের কাজটি জাতীয় আয়ের শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা সজল সাহেব তার ছেলের প্রেরিত অর্থে গার্মেন্টস স্থাপন করেন। আর গার্মেন্টস খাত শিল্পখাতের অন্তর্গত।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিল্প খাতের ভূমিকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধির হার ৬.৬৬ শতাংশ। মূলত পোশাক শিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, খনিজ সম্পদ ও নির্মাণ শিল্প প্রভৃতি শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জাতীয় উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান ছিল ৩৩.৮৫ শতাংশ, যা ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ৩৭.৯৫ শতাংশ।
যেহেতু সজল সাহেবের গার্মেন্টস স্থাপনা শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত। সেহেতু বলা যায়, সজল সাহেবের কাজটি আমাদের জাতীয় আয়ের শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে সৃজনের প্রেরিত অর্থ জাতীয় আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
সৃজন সৌদিতে কাজ করেন। কাজের বিনিময়ে সে অর্থ আয় করেন। তার অর্জিত অর্থের একটা অংশ ব্যাংকের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে পাঠান। এ অর্থকে আমরা রেমিটেন্স বলি। তার রেমিটেন্স দিয়ে তার বাবা সজল সাহেব গার্মেন্টস তৈরি করেছেন। সেখানে বহুলোকের কর্মসংস্থান হয়। আবার এখান থেকে বেশ মুনাফাও অর্জন করেন। সৃজনের টাকা দেশে আসার দ্বারা তা একদিকে বহু লোকের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের আয় বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে তার টাকায় স্থাপিত গার্মেন্টস শিল্প দ্বারা জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করছে। ফলে দারিদ্র্য অবস্থার পরিবর্তনে তার অর্থ প্রভাব রাখছে। জনগণের আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতেও তার টাকা ভূমিকা রাখছে। ফলে এসব কিছু আমাদের জাতীয় আয়কে প্রভাবিত করছে। যেহেতু জাতীয় আয়টি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম সূচক।
তাই বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নে সৃজনের প্রেরিত অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আর কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। তাই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়ে থাকে।
একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতিবছরে উৎপাদিত সকল চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মোট অর্থমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলা হয়। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বা সামগ্রিক আয় বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়।
মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) হলো একটি দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার অর্থমূল্যের যোগফল। এতে দেশের নাগরিকদের বিদেশে করা আয়ের যোগ হয় এবং বিদেশিদের দেশে করা আয় বাদ দেওয়া হয়।
মাথাপিছু আয় হলো একটি দেশের মোট জাতীয় আয়ের সাথে সে দেশের জনসংখ্যার ভাগফল। এটি দেশের নাগরিকদের গড় আয় বোঝায়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে সাধারণত দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পরিচায়ক হয়।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে শিল্প, সেবা এবং কৃষিখাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়াও দারিদ্র্য দূরীকরণ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) সাধারণত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি ও আয়ের পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ এবং দেশের অর্থনীতির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!