যেসব কর্মচারী সরকারের আদেশ পালন ও বাস্তবায়ন করে তাদের আমলা বলে।
লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে পূর্ববর্তী নিয়মকে অন্ধভাবে অনুসরণ ও অনুকরণ করাকে বোঝায়। 'Red Tapism' বা 'লালফিতা' প্রত্যয়টি সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে প্রচলিত হয়। সে সময় ফাইলপত্র লাল রঙের ফিতায় বেঁধে রাখা হতো। তখন থেকেই আমলাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিকতা, দীর্ঘসূত্রতা, নিয়মকানুনের কড়াকড়ি ও বাড়াবাড়ি বোঝাতে লালফিতার দৌরাত্ম্য শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়। লালফিতার দৌরাত্ম্যের ফলে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বিভিন্ন বিষয় ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে থাকে।
উদীপকে সজীব আমলাতন্ত্রের বিরোধী। কারণ আমলাদের কারণেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটে। জনগণের চাওয়া-পাওয়া, আবেদন-নিবেদন আমলাতন্ত্রের ফাইলে লালফিতার বন্ধনে আটকা পড়ে। তারা নিজেদের স্বতন্ত্র শ্রেণি হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা নিজেদের পদ সম্পর্কে ভাবেন যে, বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা বিচার করে সরকার তাদেরকে নিয়োগ দিয়েছে। এজন্য তাদের মর্যাদা সমাজের অন্যদের চেয়ে অনেক উচ্চে। তারা নিজেদের জনগণের সেবক মনে না করে প্রভু মনে করেন। আমলারা খুব বেশি আনুষ্ঠানিক।
সবকিছুই তারা প্রশাসনের নিয়মনীতি ও বিধিবিধানের আলোকে করতে চান। এর ফলে সমস্যার মানবিক দিকটি উপেক্ষিত হয়। সমস্যা সমাধানে বিধি মোতাবেক যথাযোগ্য নিয়মে অগ্রসর হতে গিয়ে সময় নষ্ট হয় এবং সমস্যা আরও জটিল হয়ে পড়ে। এতে জনগণের হয়রানি বেড়ে যায়। আমলাতন্ত্রের লালফিতার দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব ইত্যাদি কারণে সজীব আমলাতন্ত্রের বিরোধী।
সিমন মনে করে, আমলাতন্ত্র আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার একতি অপরিহার্য অঙ্গ। সব আমলাই নিজেদের জনগণের প্রভু মনে করেন না, সকলেই দুর্নীতিপরায়ণ নন। আমলাতন্ত্রের মাধ্যমেই সরকার তাদের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করে থাকে। আমলারাই আইনকে বাস্তবে কার্যকরী করে। বর্তমানে আইনসভায় উপস্থাপিত খসড়া বিলের অধিকাংশই আমলাই প্রস্তুত করে থাকেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বিষয়, ব্যাংক-বীমা সম্পর্কিত বিষয়ে খসড়া বিল প্রশাসনিক বিভাগই তৈরি করে থাকে। যদিও এগুলো আইনসভায় উপস্থাপন করতে হয় এবং কিছুটা সংশোধিত ও পরিবর্তিত হয়ে থাকে। আমলাদের মূল কাজ হচ্ছে নীতি বাস্তবায়ন, নীতি প্রণয়ন নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাজনৈতিক প্রশাসকরা নীতিনির্ধারণের সময় আমলাদের পরামর্শ গ্রহণ করে করেন। কেননা আমলারা এসব বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী। সরকারের নিকট জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়াগুলো আমলারাই তোলে ধরেন। তারা আইনসভার সদস্য ও মন্ত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও পরিসংখ্যান প্রদান করে থাকে। তাদের পরিবেশিত তথ্যাদিই সরকার দেশবাসীর নিকট প্রকাশ করে থাকে। এজন্যই সিমন মনে করে, সব আমলাই নিজেদের প্রভু মনে করেন না, সকলেই দুর্নীতিপরায়ণ নন। যদি এমনটাই হতো প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ত। সিমনের মতে, আমলাতন্ত্র আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ।
Related Question
View AllBureaucracy' শব্দের প্রতিশব্দ 'আমলাতন্ত্র'।
আমলাতন্ত্রের এক বড় ত্রুটি হলো লালফিতায় দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। পদসোপান ভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়।
আমলাতন্ত্র একটি পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বাহিনী। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তারা এই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের মমতাজ আলীর কার্যক্রমেও এরূপ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়। মমতাজ আলী তার কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসারে তার কাজ করেন। এটি আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মমতাজ আলী সাহেব তার। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি তার কর্মকাণ্ডে যে সক্ষমতা প্রদর্শন। করেছেন, তা আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রের পদের ধারাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে আমলাতন্ত্রের কার্যপ্রণালি এবং প্রক্রিয়া দেখা যায়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাদেরকে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। উন্নয়মূলক কাজেও মমতাজ আলীদের মতো আমলারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অনেক সময় তাদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহকের ন্যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে।
আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি অবস্থাগত ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অ-পেশাদারি আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু এটি আমলাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। আমলাতন্ত্রে কখনো এরূপ প্রত্যাশা করা হয় না। কিন্তু জনাব আলী সাহেবের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ আমলারাই দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অধ্যাপক অগ আমলাতন্ত্রকে পেশাদার দক্ষ বাহিনী বলে অভিহিত করেন।
কোনো সংগঠন পরিচালনার জন্য স্থায়ী বেতনভুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আমলা বলা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনীকে বোঝায়। আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর পদের ক্রম অনুযায়ী সংযুক্ত এবং রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!