পানিপথের প্রথম যুদ্ধ হয় ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে। সম্রাট বাবর ও দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদীর সঙ্গে। এই যুদ্ধে মুঘলরা বিজয়ী হয় । আর বর্তমান ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের একটি স্থানের নাম ছিলো পানিপথ । এই পানিপথে তিনটি যুদ্ধ হয়।
যুক্তরাজ্যে প্রথম Covid-19 এর টিকা গ্রহণকারীর ব্যক্তি হলেন মার্কারেট কিনান। আর ভ্যাকসিনটি তৈরির দায়িত্বে ছিলো ফাইজার-বায়োএনটেক ফার্মা। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশে প্রয়োগ করতে দায়িত্ব দেয়া হয় বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড কোম্পানিকে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার হতে ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে মুক্তি লাভ করেন এবং ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে আসেন।
কবি কায়কোবাদের আসল নাম কাজেম আল কোরেশী। উল্লেখ্য, কায়কোবাদকে নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক ১৯৩২-এ 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ' এবং 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিগুলো দেয়া হয়। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোঃ কুসুমকানন, শিবমন্দির অমিয়ধারা ইত্যাদি।
১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাশের আহ্বান জানান। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ গভর্ণর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দেন। এ আইনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এই আইনের বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু করে। তিনটি অনুষদ (কলা, বিজ্ঞান ও আইন) ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়।
পদ্মা নদীর উপর নির্মীয়মাণ সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার। উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর মোট স্প্যান ৪১টি (প্রথম স্প্যানটি বসানো হয় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের উপরে আর ৪১তম বা সর্বশেষ স্প্যানটি বসানো হয় ১০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের উপরে) এবং ৪২টি পাইল । মোট ৪১ টি স্প্যান বসানো হয় ১,১৬৮ দিনে। রোডওয়ে স্যাব বসানো হবে ২,৯১৭টি আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে ২,৯৫৯টি।
সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বা লবণাক্ত বনাঞ্চল। সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার, যা যৌথভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার। খুলনা , সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের সুন্দরবন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২টি বিভাগ রয়েছে। এ দুটি হলোঃ জননিরাপত্তা বিভাগ এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগ। উল্লেখ্য, জননিরাপত্তা বিভাগের অধীনে রয়েছেঃ বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটিলিয়ন ।
আর সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে রয়েছেঃ বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের লেখক হলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, 'প্রাগৈতিহাসিক' (১৯৩৭) গল্পের পাত্র-পাত্রী হলো 'ভিখু ও পার্টি'। তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পসমূহঃ অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫), মিহি ও মোটা কাহিনী (১৯৩৮) সরীসৃপ (১৯৩৯), বৌ (১৯৪৩), সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩) ইত্যাদি।
মহাকবি কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মুসলমান কবি। বাংলা মহাকাব্যের অস্তোন্মুখ এবং গীতিকবিতার স্বর্ণযুগে তিনি মুসলমানদের গৌরবময় ইতিহাস থেকে কাহিনি নিয়ে 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য রচনা করে দুঃসাহস দেখিয়েছেন, যা তাঁকে গৌরবময় আসনে অলংকৃত করে। তিনি বাংলা মহাকাব্য ধারার কবি হিসেবে খ্যাত।
কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জের আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। প্রকৃত নাম মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী। [সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান।
তিনি বাঙালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম মহাকাব্য ও সনেট রচয়িতা। তাঁর কাব্য প্রতিভায় হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের প্রভাব ছিল।
তিনি ১৯৩২ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনের মূল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বাংলা কাব্য সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯২৫ সালে নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ', 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি প্রদান করেন।
তিনি ২১ জুলাই, ১৯৫১ সালে ঢাকায় মারা যান।
কায়কোবাদের মহাকাব্যের নাম 'মহাশ্মশান' (১৯০৪): এটি পানিপথের ৩য় যুদ্ধের কাহিনি (১৭৬১) অবলম্বনে রচিত।
মহাশ্মশান:
কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য 'মহাশ্মশান' (১৯০৪)। [অধিকাংশ বইয়ে 'মহাশ্মশান' এর প্রকাশসাল দেওয়া হয়েছে ১৯০৫, কিন্তু এটি হবে ১৯০৪ সাল। মোহাম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় মহাকাব্যটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এটি পানিপথের ৩য় যুদ্ধের কাহিনি (১৭৬১) অবলম্বনে রচিত। এ মহাকাব্য ৮৭০ পৃষ্ঠায় তিন খণ্ডে মোট ৬০টি সর্গে বিভক্ত। পানিপথের এ যুদ্ধে মারাঠাদের সাথে রোহিলা-অধিপতি নজিব-উদ্-দৌলা'র শক্তি পরীক্ষা হয়। কবির দৃষ্টিতে এটি উভয়ের শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস, এজন্য তিনি একে 'মহাশ্মশান' বলেছেন। এ কাব্যে ঐতিহাসিক-অনৈতিহাসিক দুই ধরনের চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে। প্রশিক্ষিত মুসলিম যোদ্ধা ইব্রাহীম কার্দি মুসলিম শিবিরে চাকরি না পেয়ে মারাঠা কর্তৃক চাকরি পায় এবং সমাদৃত হয়। যুদ্ধ শুরু হলে ইব্রাহীম কার্দির স্ত্রী জোহরা মন্ত্রবেগ ছদ্মনাম ধারণ করে এসে স্বামীকে মুসলিম শিবিরে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করে। ইব্রাহীম কার্দি বিশ্বাসঘাতকতা না করে মারাঠাদের জন্য যুদ্ধে জীবন দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। নায়ক ইব্রাহীম কার্দির মৃত্যু কাব্যটিকে ট্র্যাজিক করে তোলে। মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের কাহিনিও পানিপথের ৩য় যুদ্ধ। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা।
কায়কোবাদের কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম:
'বিরহবিলাপ' (১৮৭০): এটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা মাত্র বার বছর বয়সে রচনা করেন এবং তের বছর বয়সে প্রকাশিত হয়।
'অশ্রুমালা (১৮৯৫): এটি গীতিকাব্য। এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'প্রার্থনা'।
'মহরম শরীফ' (১৯৩২): এটি মহাকাব্যোচিত বড় আকারের একটি কাহিনিকাব্য।
ভানুসিংহ ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছদ্মনাম। তিনি এই ছদ্মনামে "ভানুসিংহের পদাবলী" নামক একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। এই কাব্যগ্রন্থটি মূলত বৈষ্ণব পদাবলীর ঢঙে লেখা একগুচ্ছ কবিতা নিয়ে গঠিত। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কৈশোরকালে বৈষ্ণব সাহিত্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই কবিতাগুলো লেখেন, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা, বিরহ ও মিলনকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। এটি বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রাথমিক কাব্যপ্রতিভার এক অনন্য নিদর্শন এবং একটি স্বতন্ত্র সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস হলো বৌ-ঠাকুরাণীর হাট। এটি ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের কাহিনি মূলত যশোহরের রাজা প্রতাপাদিত্যের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অবলম্বনে রচিত, যেখানে ক্ষমতা লিপ্সা, পারিবারিক সংঘাত এবং রাজদ্রোহের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হিসেবেও পরিচিত। তাঁর দ্বিতীয় ঐতিহাসিক উপন্যাস, রাজর্ষি, ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর বিষয় ত্রিপুরা রাজ্যের ইতিহাস ও ধর্মীয় গোঁড়ামি।