Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে সমন্বিত চাষ বলে।

উত্তরঃ

সমন্বিত চাষে একই ভূমিতে একই সার্থে অনেকগুলো ফসল একত্রে পরিকল্পনামাফিক চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সমন্বিত চাষের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ফসলের জন্য পৃথক কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। যেমন- পুকুরে মাছ ও হাঁস চাষ। এতে অপচয় কম হওয়ায় জমির ব্যবহার সর্বোচ্চ হয়। কেননা জমির পতিত অংশ বা ফাঁকা অংশ কম থাকে বলে এ ধরনের চাষে ভূমির ব্যবহার দ্বিগুণ হয়।

উত্তরঃ

চিত্র ক ও খ- এ উল্লিখিত পদ্ধতির মধ্যে চিত্র-খ এর উৎপাদন খরচ কম। চিত্র-ক দ্বারা শুধু মাছ ও চিত্র-খ দ্বারা মাছ ও হাঁসের সমন্বিত চাষ বোঝানো হয়েছে। সমন্বিত চাষে খরচ কম হয়।
খ-পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ার কারণ-
i. বাড়তি জায়গার প্রয়োজন হয় না। তাই জমি ক্রয় বাবদ খরচ কম হয়।
ii. সার ব্যবহারে খরচ কমে। কারণ, হাঁসের বিষ্ঠা জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপন্ন করে।
iii. বাড়তি শ্রমিক লাগে না, তাই শ্রমিক খরচ কম হয়।
iv. খাদ্য বাবদ খরচ কম হয়। যেমন- হাঁস তার কিছু খাবার পানিতে ফেলে দেয়। আবার অনেক মাছ হাঁসের বিষ্ঠা সরাসরি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
V. হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষের মাধ্যমে সম্পদের অপচয় রোধ হয়, ফলে খরচ কমে।
vi. হাঁস ডুব দিয়ে খাবার সংগ্রহ করার সময় মাটি নাড়াচাড়া করার ফলে পানির গুণাগুণ বৃদ্ধি পায় এবং তলদেশের বিষাক্ত গ্যাস বের হয়ে যায়। পোকামাকড় ও ব্যাঙাচি খেয়ে হাঁস পুকুরের পরিবেশ ভালো রাখে।
vii. হাঁস পুকুরে সাঁতার কাটে ফলে পুকুরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয় না। তাই বাইরে থেকে অক্সিজেন সরবরাহজনিত খরচ কমে।
viii. একই স্থান থেকে মাছ, মাংস ও ডিম পাওয়া যায়, কিন্তু বিনিয়োগকৃত সম্পদের ব্যবহার কম হয় বিধায় খরচ কম হয়।
অন্যদিকে চিত্র- ক তে শুধুমাত্র মাছ চাষ করা হয়। ফলে উপরিউক্ত সব ধরনের খরচই করতে হয়। যে কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বৃদ্ধি পায়। ফলন হিসেবে শুধু মাছ পাওয়া যায় কিন্তু মাংস বা ডিম পাওয়া যায় না। উপরের আলোচনা হতে বলা যায় যে, সমন্বিত পদ্ধতিতে চাষ করলে জমির দ্বিগুণ ব্যবহার এবং উৎপাদনের তুলনায় খরচ কম হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের চিত্র-ক তে মাছ চাষ এবং চিত্র-খ তে সমন্বিত পদ্ধতিতে হাঁস ও মাছ চাষ দেখানো হয়েছে।
চিত্র-ক তে শুধুমাত্র মাছ চাষ পদ্ধতি দেখানো হয়েছে, যেখান থেকে মাংস কিংবা ডিম কোনোটাই পাওয়া যায় না। ফলে বাড়তি আয় করা সম্ভব না। আবার মাংস ও ডিম না পাওয়াতে প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় পুষ্টির যোগানও সম্ভব নয়। একক মাছ চাষ প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা মেটাতে পারবে না।
অপরদিকে, চিত্র-খ তে মাছ ও হাঁসের সমন্বিতভাবে চাষ দেখানো
হয়েছে। একই সময়ে একই জমিতে একাধিক ফসল পাওয়া যায়। ফলে বাড়তি খাদ্য উৎপাদিত হয়। এক ফসল অন্য ফসলের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। এতে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। মাছ আমিষের অভাব মিটায়। হাঁস মাংস ও ডিম দেয়। মাংস ও ডিম পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। অতিরিক্ত মাছ, মাংস ও ডিম বিক্রি করে পরিবারে বাড়তি আয় করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, পরিবারের আয় ও পুষ্টি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত হাঁস ও মাছ চাষ পদ্ধতিটি উত্তম।

144

কৃষিজ উৎপাদন বলতে বিভিন্ন প্রকার মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, ঔষধি গাছপালা, মাছ চাষ ও গৃহপালিত পশুপাখি পালন প্রভৃতির উৎপাদনকে বোঝায় । মানুষের জীবনযাত্রা চলমান রাখতে কৃষিজ উৎপাদন বাড়ানো দরকার। বাংলাদেশে পতিত ও অব্যবহৃত জায়গাতেও পরিকল্পিতভাবে ফুলফল ও শাকসবজি চাষ করা যায় । এছাড়া শস্যপর্যায় অবলম্বন করে দানা জাতীয় ফসলের পরে সরিষা বা মাসকলাই চাষ, আঁশ জাতীয় ফসলের পরে দানা জাতীয় ফসল চাষ করা যায়। এছাড়া এ দেশে বাঁশ, বেত, পাটকাঠি, খড়, নারিকেলের ছোবড়া ইত্যাদি শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে । কাজেই কৃষিজ উৎপাদন সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি । এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

  • চাষ উপযোগী বিভিন্ন জাতের ফসলের নাম, উৎপাদন পদ্ধতি, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা ও ফসলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • শাকসবজি চাষ পদ্ধতি, রোগবালাই ও দমন পদ্ধতি এবং শাকসবজি চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  •  বিভিন্ন প্রকার ফুল-ফল চাষ পদ্ধতি, রোগবালাই ও দমন পদ্ধতি এবং ফুল-ফল চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • মাছ পালন পদ্ধতি, মাছের রোগ শনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনা এবং মাছ চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • গৃহপালিত পশুপাখির আবাসন ও পালন পদ্ধতি, রোগ শনাক্তকরণ, ব্যবস্থাপনা, পরিচর্যা এবং গৃহপালিত পশুপাখি পালনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • সমন্বিত চাষ সম্পর্কে ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন সমন্বিত চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  • সমন্বিত চাষ পদ্ধতির মাছের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব এবং সমন্বিত চাষ পদ্ধতির ব্যবস্থা বর্ণনা করতে পারব;
  • শিল্পে ব্যবহৃত হয় এরূপ কৃষিজ দ্রব্যাদির বৈশিষ্ট্য, ব্যবহার এবং ব্যবহারের গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • ঔষধি উদ্ভিদ শনাক্তকরণ এবং ঔষধি উদ্ভিদের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

ইউরিয়া নাইট্রোজেনঘটিত রাসায়নিক সার যা পালংশাক চাষে ব্যবহৃত হয়।
ইউরিয়া সার গাছকে সবল, সতেজ ও ঘন সবুজ করে। এমনকি সালোকসংশ্লেষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান তৈরি করে। চারা গজানোর ৮-১০ দিন পর থেকে শুরু করে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ কিস্তিতে ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করলে গাছ রসালো হয় এবং দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এতে বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়। তাই পালংশাক চাষে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হয়।

1.2k
উত্তরঃ

আয়শা বেগম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বাড়ির আঙিনায় পালংশাক চাষ করেন।
জৈব সারকে মাটির প্রাণ বলা হয়। সাধারণত পচা গোবর, হাঁস মুরগির বিষ্ঠা, কম্পোস্ট, কচুরিপানা, খড়কুটা, আবর্জনা পচা ইত্যাদি জৈব সার হিসেবে জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়া ছাড়া সকল সার জমি প্রস্তুতির শেষে দিতে হয়। শুধুমাত্র জৈব সার জমি তৈরির প্রথমে প্রয়োগ করতে হয়। আয়শা বেগম ৫ শতক জমিতে পালংশাক চাষ করেছিলেন। পালংশাকে শতক প্রতি ৪০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। সে অনুযায়ী আয়শা বেগমের জমিতে ৪০×৫=২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োজন।
অর্থাৎ, আয়শা বেগম তার জমিতে ২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করেছিলেন।

863
উত্তরঃ

আয়শা বেগম তার বিলে অবস্থিত জমিগুলোর উঁচু আইলে পালংশাক চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। তার এই পরিকল্পনা কৃষি কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।
কৃষি প্রধান এ বাংলাদেশে জনসংখ্যার আধিক্যে ফসলি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কৃষি জমি খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার কারণে জমির মাঝখান দিয়ে আইল উঠছে। আইলগুলো ফসলহীন থাকার কারণে কৃষি জমির একটা সিংহভাগ অব্যবহৃত থাকছে।
আয়শা বেগমের বাড়ি বিল অঞ্চলে। এ সব অঞ্চলে সাধারণত শাক- সবজি করার মতো উঁচু জমির যথেষ্ট অভাব। এ ক্ষেত্রে জমির উঁচু আইল সহায়ক ভূমিকা পালন করে। উঁচু আইলে আগাম পালংশাকের বীজ বপন করা যায়। জমির আইলে পালংশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করলে তা একদিকে যেমন আয়শার পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে অন্যদিকে দেশের শাকসবজির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপরন্তু আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন আয়েশা বেগম।
পরিশেষে বলা যায়, আয়শা বেগমের পরিকল্পনা কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।

649
উত্তরঃ

একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে সমন্বিত চাষ বলে।

2.2k
উত্তরঃ

সমন্বিত চাষে একই ভূমিতে একই সার্থে অনেকগুলো ফসল একত্রে পরিকল্পনামাফিক চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সমন্বিত চাষের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ফসলের জন্য পৃথক কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। যেমন- পুকুরে মাছ ও হাঁস চাষ। এতে অপচয় কম হওয়ায় জমির ব্যবহার সর্বোচ্চ হয়। কেননা জমির পতিত অংশ বা ফাঁকা অংশ কম থাকে বলে এ ধরনের চাষে ভূমির ব্যবহার দ্বিগুণ হয়।

1.7k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews