উন্নয়নের সুফল ভোগকারী গোষ্ঠীই হলো অংশীজন।
সার্বিক সক্ষমতা অর্জন বলতে দেশের সাধারণ মানুষের এবং সব ক্ষেত্রে সামগ্রিক উন্নয়নকে বোঝায়।
টেকসই উন্নয়নের প্রধান একটি অভীষ্ট হচ্ছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা। কাউকে পিছিয়ে রেখে অন্যরা এগিয়ে গেলে সেই উন্নয়ন জাতীয় ও বৈশ্বিকভাবে টেকসই হবে না। তাই যে দেশের যে ধরনের সক্ষমতা রয়েছে সে দেশ সেভাবে নিজেদের ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সামষ্টিক উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনে এগিয়ে আসবে। এ বিষয়টিই হলো সার্বিক সক্ষমতা অর্জন।
সোলারটেক এনার্জি লিমিডেট এবং টেকনাফবাসীর কাজ এসডিজির 'অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্ব' বাস্তবায়নে সহায়ক।
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের সমন্বয়ে 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট' অর্জনে জাতিসংঘ কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই কার্যক্রম সফল করা সরকার, জনগণ অথবা কোনো দেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এসডিজি অর্জনে সবার প্রচেষ্টাই হলো অংশীদারিত্ব। সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড ও টেকনাফবাসীর কাজে এ বিষয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে।
টেকনাফ তথা সারা দেশের মানুষ যাতে লোডশেডিংয়ের সমস্যা থেকে বাঁচতে পারে এ কারণে টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড 'সোলার পার্ক' নামের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করেছে। টেকনাফবাসী এখান থেকে অনেক বেশি বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েও এর সদ্ব্যবহারে সচেতন। আর এ বিষয়টিই হলো অংশীদারিত্ব। কারণ সরকার বা বেসরকারি যেকোনো উন্নয়ন উদ্যোগ সবার সুবিধার জন্য নেওয়া হলে সেখানে সুফল ভোগকারীদেরও কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য থাকে। অর্থাৎ কেবল ব্যক্তিগত লাভের কথা চিন্তা না করে সামষ্টিক উপকারিতা কীভাবে আসবে সেটি চিন্তা করে কাজ করতে হবে। এই দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিকমত পালন করলে উন্নয়নে প্রত্যেকের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকের সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড এবং টেকনাফবাসীর কাজে এ বিষয়টিই লক্ষণীয়। তাই বলা যায়, তাদের কাজ এসডিজির অংশীদারিত্ব অর্জনে সহায়ক।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উক্ত লক্ষ্য অর্থাৎ এসডিজি বাস্তবায়নে অংশীদারিত্ব অর্জনের যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে
উন্নয়নকর্মী বা সরকারের একার পক্ষে দেশের উন্নয়নের সার্বিক গতিধারাকে অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। কারণ একক বা বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত কোনো তৎপরতাই সফল হয় না। তাই জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনেও সকলের অংশীদায়িত্ব প্রয়োজন। উদ্দীপকে সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড ও টেকনাফবাসীর কাজেও অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্ব বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
এসডিজি অর্জনে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের জন্যও অংশীদারিত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাউকে পিছিয়ে রেখে অন্যরা এগিয়ে গেলে সেই উন্নয়ন জাতীয় ও বৈশ্বিকভাবে টেকসই হবে না। এক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পারস্পরিক অংশীদারিত্বের সূচনা করে। যে দেশের যে ধরনের সক্ষমতা রয়েছে সে দেশ সেভাবে নিজেদের ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সামষ্টিক উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনে এগিয়ে আসবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বাংলাদেশে সবক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য বিরাজ করছে। এ বৈষম্যের বিলোপ ঘটিয়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ আবশ্যক। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু বেসরকারি খাত বা সংগঠন নয়, তৃণমূল পর্যায় থেকে
শুরু করে ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও মিলিত প্রচেষ্টায় একযোগে কাজ করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, এসডিজি অর্জনে অংশীদারিত্ব একটি আবশ্যক বিষয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়নের জন্য এ বিষয়টি অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allজলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হলো জলবায়ু কার্যক্রম।
জলবায়ু কার্যক্রম হলো 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট' এর ১৩তম লক্ষ্যমাত্রা।
সবার অংশীদারিত্ব ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না বলে টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
অংশীদারিত্ব হলো কোনো উন্নয়ন কার্যক্রমে যার যা দায়িত্ব ও কর্তব্য তা পালন করা। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজের সর্বস্তরের অংশগ্রহণসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। কাউকে বাদ দিয়ে বা পিছিয়ে রেখে অন্যরা এগিয়ে গেলে সেই উন্নয়ন জাতীয় ও বৈশ্বিকভাবে টেকসই হবে না।
এজন্য টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!