Related Question
View Allসম্প্রতি (মে-২৪) ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউরোপের তিন দেশ- স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে।
ফিলিস্তিনকে সর্বশেষ স্বীকৃতি প্রদানকারী রাষ্ট্রটি হলো ভুটান। ভুটান ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
গাজা উপত্যকা এবং সমস্ত ফিলিস্তিনের বৃহত্তম শহর হলেন গাজা শহর এবং পশ্চিম তীরে বৃহত্তম ফিলিস্তিনের শহর হেব্রন। কিছু শহর অন্যান্য শহর বা শহরগুলির সাথে মিলিত করে, যেমন বেইট জালাহা এবং বিট সাহুরের সাথে বেথলেহেম মহানগর অঞ্চল। রামাল্লাহ এবং আল-বীরহও একত্রিত হয় এবং প্রায়শই একটি শহর হিসাবে বিবেচিত হয়।
ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাত বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি মূলত ভূমি, ধর্ম, জাতীয়তাবাদ এবং আত্মপরিচয়ের অধিকার নিয়ে একটি বহুমুখী সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূখণ্ডটি মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি এই তিন ধর্মাবলম্বীদের কাছেই পবিত্র, যা এই সংকটকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকটের মূলে রয়েছে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে চলে আসা ভূমি ও জাতীয়তাবাদের লড়াই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার 'বেলফোর ঘোষণা'-র মাধ্যমে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলে এই সংকটের আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯২০ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ম্যান্ডেট চলাকালে ইউরোপ থেকে প্রচুর ইহুদি ফিলিস্তিনে অভিবাসিত হতে থাকে, যা স্থানীয় আরবদের মধ্যে অস্তিত্বের সংকট তৈরি করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রেক্ষাপটে ১৯৪৭সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদি এই দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব দেয়, যা ইহুদিরা মেনে নিলেও আরবরা প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরাইল স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে শুরু হয় প্রথম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ইসরাইল জয়লাভকরে এবং বিপুল পরিমাণ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়, যা ফিলিস্তিনিদের কাছে 'নাকবা' বা বিপর্যয় হিসেবে পরিচিত। সংকটের সবচেয়ে জটিল পর্যায়টি আসে ১৯৬৭ সালের 'ছয় দিনের যুদ্ধ'-এর মাধ্যমে। এই যুদ্ধে ইসরাইল জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম এবং মিশরের কাছ থেকে গাজা উপত্যকা দখল করে নেয়। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপন এবং জেরুজালেমের পবিত্র স্থানসমূহের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। ১৯৯৩ সালের ওসলো চুক্তি একটি আশার আলো দেখালেও সীমানা নির্ধারণ, উদ্বাস্তুদের অধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মতো মৌলিক বিষয়গুলো আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সুচিন্তিত মতামত:
এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধানের জন্য নিম্নলিলখিত পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে:
১. দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃত পথ হলো ১৯৬৭ সালের যুদ্ধপূর্ব সীমানা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে।
২. জেরুজালেমের মর্যাদা নির্ধারণ: জেরুজালেম উভয় পক্ষের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সমাধান হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী এবং পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে, অথবা শহরটিকে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে।
৩. অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধ: আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপন অবৈধ। শান্তি আলোচনার স্বার্থে ইসরাইলকে এই বসতি স্থাপন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে ক্রমান্বয়ে সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবর্তন: ১৯৪৮ এবং ১৯৬৭ সালে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার অথবা সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. বৈশ্বিক মধ্যস্থতা ও নিরাপত্তা পরিষদের সক্রিয়তা: জাতিসংঘ ও পরাশক্তিগুলোকে (যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইইউ) পক্ষপাতহীনভাবে একটি টেকসই শান্তি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে যাতে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!