চক্রাকার আবর্তন মতবাদ অনুসারে মানুষের ইতিহাস কালচক্রে বিবর্তিত হচ্ছে।
উন্নয়ন হচ্ছে একটি সামাজিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া। সমাজকাঠামো, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তথা সার্বিকভাবে সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন। সামাজিক পরিবর্তন যখন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মুক্তির সম্প্রসারণ ঘটায় তখন তা সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হবে। আর এরূপ পরিবর্তন হলো মানুষের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা।
উদ্দীপকের তামান্নার মন্তব্যে সামাজিক পরিবর্তনের আদর্শবাদী নিয়ন্ত্রণবাদ উপাদানের প্রভাব বর্ণিত হয়েছে।
আদর্শবাদী নিয়ন্ত্রণবাদ মতবাদ অনুযায়ী সামাজিক পবির্তন মানুষের চিন্তা চেতনা, ধ্যান ধারণা, কর্ম ও পার্থিব উপাদান প্রসূত নয়। পার্থিব পরিবর্তন মূলত অপার্থিব উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার এ মতবাদকে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার মতে, ধর্মীয় আদর্শ বা মূল্যবোধ সমাজ পরিবর্তনের জন্যে দায়ী অর্থাৎ, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সমাজের অর্থব্যবস্থাসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করে এবং এগুলোতে পরিবর্তন সূচিত করে। এ মতবাদের সমর্থকদের মধ্যে জার্মান আদর্শবাদী লিবোঁ, ফ্রেজার, ওয়েবার অন্যতম। অনুরূপভাবে উদ্দীপকে তামান্না বলে, শিক্ষার প্রসার ঘটলে সমাজে জনগণের আদর্শ ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হবে যা আদর্শবাদী নিয়ন্ত্রণবাদ মতবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে তামান্নার মন্তব্যে সামাজিক পরিবর্তনের আদর্শবাদী নিয়ন্ত্রণবাদ উপাদানের প্রভাব বর্ণিত হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান উপাদান অর্থাৎ, অর্থনৈতিক উপাদানের প্রভাব ব্যক্ত করা হয়েছে। আমি এ বক্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি।
সমাজের মৌল বা অর্থনৈতিক শক্তিই সমাজের সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে এটাই আদর্শবাদী নিয়ন্ত্রণবাদের মূলকথা। এ মতবাদের সাথে কার্ল মার্কসের নাম বিশেষভাবে জড়িত। মার্কস সমাজের কাঠামোকে প্রধান দুটি ভাগে বিভক্ত করেন। এর একটি মৌল কাঠামো এবং অপরটি হলো উপরি কাঠামো। তিনি মৌল কাঠামো বলতে অর্থনৈতিক কাঠামো আর উপরি কাঠামো বলতে সমাজ, রাষ্ট্র, আইন কানুন, ধর্ম, শিল্পকলা, সাহিত্য ইত্যাদিকে বুঝিয়েছেন। মার্কসের মতে, সমাজের মৌল কাঠামোয় পরিবর্তন হলে তা সমাজের উপরি কাঠামোর পরিবর্তন সূচিত করে। তাই মার্কস জোর দিয়ে বলেন যে, অর্থনৈতিক শক্তি দ্বারাই সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং অর্থনৈতিক কারণই সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান বা মৌলিক কারণ।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, সমাজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নত হলে জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
Related Question
View Allবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জগতের বাস্তব অবস্থা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।
পারিবারিক পরিবেশেই শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
পরিবারের মধ্যে শিশু সমাজে প্রচলিত নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিক আদর্শ, আচার-আচরণ প্রভৃতির সাথে পরিচিত হয় এবং সেগুলোকে আয়ত্ত করে। যেসব পরিবারে বাবা-মা শিশুদের সঙ্গ দেন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন সেসব পরিবারের ছেলে- মেয়েরা পরবর্তী সময় সহজ জীবন যাপন করতে পারে। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে অন্যের সাথে সহজে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।
উদ্দীপকের জেলার পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা হয়।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো উন্নয়ন। উন্নয়ন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া। সাধারণ অর্থে পূর্বের সময়ের তুলনায় একটি সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অগ্রগতি হলে তাকে উন্নয়ন বলা যেতে পারে। এ অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা। এ পরিবর্তন যখন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায় তখন তা সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকের কৃষকরা মহাজনদের মাধ্যমে শোষিত হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর তামাক চাষ করবে না। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক নানা কর্মকাণ্ড শুরু করে। ফলে কৃষকরা এখন সচ্ছল এবং অভাবমুক্ত। তাদের এই সচ্ছলতা উন্নয়নকেই নির্দেশ করে। কারণ উন্নয়ন মানেই অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন, যা কৃষকদের বেলায় ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের পরিবর্তন তথা উক্ত অঞ্চলের পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা যায়।
'উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ যেন কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের প্রতিচ্ছবি'- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তার বর্ণিত দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদী সমাজকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। মার্কসের মতে প্রতিটি সমাজই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। তেমনিভাবে দাস সমাজও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। দাস এবং দাস মালিক। দাস সমাজের সবকিছু দাস মালিকের অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ দাস বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা মেনে নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে কয়েকশ বছর সংগ্রামের পর তারা বিদ্যমান সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।
দাস সমাজে যারা দাস ছিল সামন্ত সমাজে তারা ভূমিদাসে পরিণত হয়। এ সমাজে ব্যক্তি দাস সমাজ থেকে একটু বেশি স্বাধীনতা পায়, তবে পুরোপুরি স্বাধীনতা পায় না। ফলশ্রুতিতে এ সমাজের বিরুদ্ধেও তারা সংগ্রাম করে। মার্কসের মতানুসারে সামন্ত সমাজের অবসানের ফলে পুঁজিবাদী সমাজের আর্বিভাব ঘটে। এই পুঁজিবাদী সমাজে এসেই সবাই তাত্ত্বিকভাবে মুক্ত হয় এবং এ পর্যায়ে সমাজব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে লক্ষ করি।
উপরের আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, পুঁজিবাদী সমাজে পদার্পণের জন্য ব্যক্তিকে শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসতে হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি।
লোকরীতি হচ্ছে সমাজের আদর্শ বা মানসম্পন্ন আচরণ যা সমাজের সদস্যদের জন্যে অবশ্য পালনীয়।
সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি ।
মানুষের চিন্তাভাবনা, শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, রাজনীতি, নীতিবোধ প্রভৃতি হচ্ছে অবস্তুগত সংস্কৃতি। অগবার্নের মতে, ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, বিশ্বাস, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতি হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!