মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য করা উচিত নয়। সকলকে; সকল মত ও পথের মানুষকে সমতার দৃষ্টিতে দেখা উচিত। একেই বলে ধর্মীয় সাম্য। আর ধর্মীয় সাম্য বজায় রাখার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সম্প্রীতি। ধর্মীয় সাম্য রক্ষার জন্য আমি যা করি তা নিচে তুলে ধরা হলো- ১. সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করি। ২. সকল মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করি। ৩. ধর্ম, জাতি, বর্ণের বিচার না করে তাদের সাথে মেলামেশা করি। ৪. আপদে-বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াই/সাহায্য করি। ৫. অন্য ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করি না। ৬. সকল মত ও পথের মানুষকে সমতার দৃষ্টিতে দেখি।
পৃথিবীর মানুষের মধ্যে নানা দিক থেকে মিল যেমন আছে, তেমনি আবার অনেক অমিল ও আছে।
মিলের দিক থেকে যদি দেখি, তাহলে দেখব, সবাই মানুষ। সকলের মধ্যে রয়েছে একই মনুষ্যত্ব।
আবার বেশভূষা, চাল-চলন, গায়ের রং, ভাষা প্রভৃতি দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে।
ধর্মের দিক থেকেও পার্থক্য আছে। হিন্দুধর্মের পাশাপাশি, ইসলাম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্ট প্ৰভৃতি ধর্মের অনুসারীরা রয়েছেন। বিভিন্ন ধর্মের মত ও পথের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য রয়েছে উপাসনার পদ্ধতিতে।
হিন্দুরা সৃষ্টিকর্তাকে ঈশ্বর বলেন। মুসলমানেরা বলেন আল্লাহ, খ্রিষ্টানেরা বলেন গড। হিন্দুরা উপাসনালয়কে বলেন মন্দির, মুসলমানেরা বলেন মসজিদ, খ্রিষ্টানেরা বলেন গির্জা। কিন্তু সবাই একই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন। তাই ধর্মমত ও উপাসনা পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। সকল ধর্মই নিজের মুক্তি এবং জীব ও জগতের মঙ্গল চায় ৷
অর্থাৎ যে আমাকে যেভাবে উপাসনা করে, আমি সেভাবেই তাকে সন্তুষ্ট করি। হে পার্থ (অর্জুন), মানুষ সকল প্রকারে আমার পথই অনুসরণ করে।
সুতরাং সাধনার পথ একটি নয়, বহু। এদিকে লক্ষ করে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছেন, ‘যত মত, তত পথ'। উপাসনার পথ বিভিন্ন হলেও উপাস্য এক এবং অদ্বিতীয়।
নিচের ছকটি পূরণ করি :
১। উপাসনালয়কে হিন্দুরা বলেন
২। উপাসনালয়কে খ্রিষ্টানেরা বলেন
৩। যত মত
মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য করা উচিত নয়। সকলকে -সকল মত ও পথের মানুষকে সমতার দৃষ্টিতে দেখা উচিত। একেই বলে ধর্মীয় সাম্য।
ধর্মীয় সাম্য বজায় রাখলে তার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সম্প্রীতি।
এ কথা মনে রেখে আমরা সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করব। সকল মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করব।
কে কোন ধর্মের, কোন জাতির, কোন বর্ণের আমরা তা বিচার করব না। আপদে-বিপদে, আনন্দ-উৎসবে আমরা সকলের সঙ্গে সম্প্রীতিপূর্ণ আচরণ করব। সকল ধর্মের মানুষকে আপন বলে ভাবব।
এভাবে ধর্মীয় সাম্য রক্ষা করে চলব। তাহলে সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে আমরা সকলে শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারব। তবেই মানুষে-মানুষে জেগে উঠবে মমত্ববোধ ।
ঈশ্বরের একত্ব ও ধর্মীয় সাম্যে গভীর বিশ্বাস রেখে আমরা বলব-
‘সবার উপরে মানুষ সত্য,
তাহার উপরে নাই। '
আমরা বলব, সকল ধর্মের মানুষ একে অপরের ভাই।
হিন্দুধর্ম বিশ্বাস করে যে, সকল জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর অবস্থান করেন। আর এ বিশ্বাস ধর্মীয় সাম্যবোধ জাগ্রত করার প্রধান সহায়ক।